BDBOYS...
BDBOYS...
সবচেয়ে সাম্প্রতিক খবর ও পোস্টসমূহ
১৯৯৬ সাল। ঘনকুয়াশার ধবল চাদর সরিয়ে প্রকৃতির ওপর সূর্যের নির্মল আলো ছড়িয়ে পড়েছে। কাচের জানালার পর্দা সরাতেই এক টুকরো মিষ্টি পেলব রোদ্দুর পদ্মজার সুন্দর মুখশ্রীতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। নিচতলা থেকে মনার কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, ‘আপামনি।’মিষ্টি রোদের কোমল ছোঁয়া ত্যাগ করে ঘুরে দাঁড়াল পদ্মজা। আমির আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে লেপের ওম ছেড়ে উঠে বসেই দরজার বাইরে দেখতে পেল পদ্মজাকে। ধনুকের মতো বাঁকা শরীরে সবুজ সুতি শাড়ি মাথায় লম্বা বেনুনি চওড়া পিঠের ওপরে সাপের মতন দুলছে। পাতলা কোমর উন্মুক্ত।আমির চমৎকার করে হেসে ডাকল, ‘পদ্মবতী।’পদ্মজা না তাকিয়েই জবাব দিল, ‘অপেক্ষা করুন, আসছি।’আমির মুখ গুমট করে বলল, ‘ইদানীং আমাকে একদমই পাত্তা দিচ্ছো না তুমি। বুড়ো হয়ে গেছি তো।’ওপাশ থেকে আর সাড়া এলো না। আমির অলস শরীর টেনে নিয়ে বারান্দায় গেল। পদ্মজা বৈঠকখানায় এসে দেখে, মনা সোফায় পানের কৌটা নিয়ে বসে আছে। তাকে দেখেই দ্রুত উঠে দাঁড়াল। নয় বছরের মনা এখন চৌদ্ধ বছরের ছটফটে কিশোরী। পদ্মজা গম্ভীর স্বরে বলল, ‘পান খাওয়ার অনুমতির জন্য ডেকেছিস?’মনা নতজানু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে মাথা নত অবস্থায় রেখেই চোখ উলটে তাকিয়ে পদ্মজাকে দেখল একবার। এরপর চোখ নামিয়ে নিয়ে বলল, ‘অনেকদিন খাই না। আপামণি, একটা খেতে দাও না?’মনা চাইলে লুকিয়ে খেতে পারত। কিন্তু সে পদ্মজাকে ডেকে অনুমতি চাইছে। পদ্মজা মনে মনে সন্তুষ্ট হলেও প্রকাশ করল না। সোফায় বসে প্রশ্ন করল, ‘পান কে দিয়েছে? সঙ্গে পানের কৌটাও আছে দেখছি!’‘আব্বা আসছিল।’ ভীতু কণ্ঠে বলল মনা।‘কখন?’‘ভোরবেলা।’‘বাসায় আসেনি কেন?’‘কাজে যাচ্ছে তাই।’‘উনি এমনি এমনি কেন পানের কৌটা নিয়ে আসবেন? তুই স্কুল থেকে ফেরার পথে বস্তিতে গিয়েছিলি?’মনা জবাব দিল না। তার চুপ থাকা প্রমাণ করছে, পদ্মজার ধারণা সত্য। পদ্মজা আর কথা বাড়াল না। বলল, ‘একটা পান খাবি। কৌটাসহ বাকি পান, সুপারি রহমত চাচাকে দিয়ে তোদের বস্তিতে পাঠিয়ে দে।’পদ্মজা চলে যেতে গিয়ে আবার দাঁড়িয়ে পড়ল। তীক্ষ্ণ কণ্ঠে প্রশ্ন করল, ‘তুই নাকি গণিতে ফেল করেছিস?’পদ্মজার প্রশ্নে মনা দৃষ্টি চোরের মতো এদিক-ওদিক চোখের দৌড়াতে থাকল। পদ্মজা ধমকে উঠল, ‘বলছিস না কেন? আমি প্রতিদিন রাতে সময় নিয়ে তোকে গণিত বুঝিয়েছি। তবুও ফেল করলি কী করে?’মনা কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, ‘পরীক্ষার আগের দিন পড়িনি। পরীক্ষায় গিয়ে সব ঝাপসা ঝাপসা মনে পড়ছিল।’‘কেন পড়িসনি?’ প্রশ্নটি করে থামল পদ্মজা। পরক্ষণেই বলল, ‘সেদিন আমি অসুস্থ ছিলাম। নিচে একবারও আসতে পারিনি। এই সুযোগে পড়া রেখে টিভি দেখেছিলি তাই তো?’মনা বাধ্যের মতো মাথা নাড়াল। পদ্মজা হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না। বেহায়ার মতো আবার স্বীকারও করছে, পড়া রেখে টিভি দেখেছে! ঢাকা আসার পরের বছরই মনাকে স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিল সে। এখন মনা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। মাথায় বুদ্ধি বলতে নেই। সারাক্ষণ টিভি, টিভি আর টিভি! এত পড়ানোর পরও কিছু মাথায় রাখতে পারে না। পদ্মজা বিরক্তি নিয়ে জায়গা ছাড়ল।শোবার ঘরে ঢুকতেই আমির আক্রমণ করে বসে। পদ্মজার কোমরের খোলা অংশে হাত রাখতেই পদ্মজা, ‘ঠান্ডা!’ বলে ছিটকে সরে যায়। আমির হতভম্ব হয়ে গেল। দুই পা এগোতেই তার ব্যক্তিগত প্রাপ্তবয়স্ক নারীটির রিনরিনে কণ্ঠে ধমক বেরিয়ে এলো, ‘একদম এগোবেন না। এই শীতের মধ্যে ভেজা হাতে ছুঁলেন কীভাবে? আপনি আমার কালো সোয়েটারটা দেখেছেন? পাচ্ছি না। শীতে জমে যাচ্ছি একদম।’আমির কিছু বলল না। সে পদ্মজার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আছে। পদ্মজা এদিক-ওদিক চোখ ঘুরিয়ে তার কালো সোয়েটারটা খুঁজল। হঠাৎ আমিরের দিকে চোখ পড়তেই হেসে বলল, ‘এভাবে সঙের মতো খালি গায়ে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?আমির কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, তখনই বেজে উঠল টেলিফোন। এই সুযোগে পদ্মজা পাশের ঘরে চলে গেল। কালো সোয়েটারটা যে কোথায় হারাল! এটা খুঁজে বের করতেই হবে। এ সোয়েটারটা পরে সে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আমির টেলিফোন রেখে পদ্মজাকে ডেকে জানাল, সে বের হবে। জরুরি দরকার। পদ্মজা সোয়েটার খোঁজা রেখে তাড়াতাড়ি করে খাবার পরিবেশন করে। আমির খাওয়াদাওয়া শেষ করে প্রতিদিনের মতো পদ্মজার কপালে চুমু দিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়! পদ্মজা তৈরি হয় রোকেয়া হলে যাওয়ার জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে রোকেয়া হলের অনেক মেয়েকেই চিনে। আজ মনার স্কুল নেই। সে একাই বাসায় থাকবে। এক ছোটো বোনের সঙ্গে দেখা করার জন্য হলে যেতে হবে। আমিরের তো কখনোই ছুটি নেই, নিজের ব্যাবসা। যখন তখন কাজ পড়ে যায়।রোকেয়া হলের চারপাশ সবুজ গাছে আবৃত। পদ্মজা গেটের বাইরে গাড়ি রেখে এসেছে। হিম শীতল বাতাসে চোখজোড়া ঠান্ডায় জ্বলছে। তার পরনে বোরকা, মুখে নিকাব। রোকেয়া হলের ‘ক’ ভবনে এসে জানতে পারল যার খুঁজে সে এসেছে সে নেই। চারিদিক নিরিবিলি। প্রায় সবাই ক্যাম্পাসে। নির্জন পরিবেশে এমন ঠান্ডা বাতাস রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেয়। রোকেয়া হলে এ নিয়ে অনেকবার এসেছে সে। পদ্মজা ‘ক’ ভবনের নিচ তলার শেষ মাথার কাছাকাছি গিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ফিরে যাওয়ার জন্য। তখন অতি সূক্ষ্ম একটা শব্দ কানে ভেসে এলো। পদ্মজা থমকে দাঁড়াল। দুই পা পিছিয়ে চোখ বুজে শোনার চেষ্টা করল, শব্দটা কীসের! আওয়াজ তীব্র হয়েছে! কাছে কোথাও ধস্তাধস্তি হচ্ছে। পদ্মজার মস্তিষ্ক সচল হয়ে ওঠে। অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিয়ে ফিরে তাকাল। একটা মেয়ের চাপা কান্নার শব্দ কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই পদ্মজা দ্রুতগামী ঘোড়ার মতো ছুটে এলো শেষ কক্ষের দরজার সামনে। পৌঁছেই দেখতে পেল অর্জুন এবং রাজু একটা মেয়েকে টেনে হিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করতে চাইছে। ক্যাম্পাসের ছাত্রসংগঠনের নেতা এরা। ছয় মাস হলো ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে এসেছে। আর এখনই ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেছে!পদ্মজার উপস্থিতি টের পেয়ে অর্জুন, রাজু ঘুরে তাকাল। মেয়েটা ভয়ে কাঁপছে। পদ্মজাকে দেখে মেয়েটা ছুটে আসতে চাইলে অর্জুন ধরে ফেলে। পদ্মজা বেশ শান্তভাবেই বলল, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করতে নেই। ছেড়ে দাও মেয়েটাকে।’পদ্মজার কণ্ঠ মেয়েটি চিনতে পেরে অস্ফুটভাবে ডাকল, ‘পদ্ম আপা।’ এরপর বলল, ‘পদ্ম আপা, আমি মিঠি। ওরা আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে বাঁচাও।’পদ্মজা ভালো করে খেয়াল করে চিনতে পারল মিঠিকে। অর্জুন মিঠির গালে শরীরের সব শক্তি দিয়ে থাপ্পড় মেরে রাজুকে বলল, ‘এরে ঘাড়ে উঠা। এই আপনি সরেন। মাঝে হাত ঢুকাবেন না। বিরক্ত করা একদম পছন্দ না আমার।’পদ্মজা বাধা হয়ে দাঁড়াল, দেখো, মা জাতিকে এভাবে অপমান করতে নেই। হাতে ক্ষমতা পেয়েছো সৎভাবে চলো। সবার ভালোবাসা পাবে। এভাবে অন্যের ইজ্জত নষ্ট করছো সেই সঙ্গে নিজেদের পাপী করছো।’‘এই ফুট এখান থেকে। নীতি কথা শোনাতে আসছে!’ অর্জুন পদ্মজাকে ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইল।পদ্মজা জায়গায় অটল থেকে বলল, ‘ভালোভাবে বলছি, ভেজাল না করে ছেড়ে দাও। নারীকে নারীরূপে থাকতে দাও। শক্ত হতে বাধ্য করো না।’অর্জুন রাগে দাঁতে দাঁত কামড়ে বলল, ‘আর একটা কথা বললে জামাকাপড় খুলে মাঠে ছেড়ে দেব।’কথাটা শেষ করে চোখের পলক ফেলতে পারল না। তার আগেই পদ্মজার পাঁচ আঙুলের দাগ বসে যায় অর্জনের ফরসা গালে। অর্জুন রক্তিম চোখে কিড়মিড় করে তাকাল। মিঠিকে ছেড়ে চেপে ধরল পদ্মজার গলা। পদ্মজা সঙ্গে সঙ্গে লাথি বসিয়ে দিল অর্জুনের অণ্ডকোষ বরাবর। কোঁকিয়ে উঠে অণ্ডকোষে দুই হাত রেখে বসে পড়ে অর্জুন। রাজু গালিগালাজ করে পদ্মজার দিকে তেড়ে আসে। পদ্মজা মেঝে থেকে ইট তুলে ছুঁড়ে মারে রাজুর মাথা লক্ষ্য করে। ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল মিঠি।রাজুর কপাল ফেটে রক্তের ধারা নামছে। অর্জুন আকস্মিক তেড়ে এসে পদ্মজার নিকাব টেনে খুলল; পদ্মজার ঘোলা চোখের ভয়ংকর চাহনি, রক্তজবার মতো ঠোঁটের কাঁপুনি অর্জুনের অন্তর কাঁপিয়ে তুলে। কিন্তু সে থামল না, প্রস্তুত হলো হামলা করতে। পদ্মজা তার কাঁধের ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে টান বসাল অর্জুনের গলায়। এই দৃশ্য দেখে মিঠির শরীর কাঁপতে থাকে। অর্জুন চিৎকার করে বসে পড়ে। গলায় হাত দিয়ে দেখে গলাটা তখনো শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়নি! চামড়া ছিঁড়েছে শুধু। তার হৃৎপিণ্ড মাত্রই যেন মৃত্যুর সাক্ষাৎ পেল। পদ্মজার অভিজ্ঞ হাত তার কলিজা শুকিয়ে দিয়েছে। মেঝেতে বসে হাঁপাচ্ছে সে। পদ্মজা ছুরির রক্ত অর্জুনের গেঞ্জিতে মুছে বলল, ‘তোমাদের ভাগ্য ভালো পদ্মজার হাতে পড়েছো। হেমলতার হাতে পড়োনি।মিঠিকে প্রশ্ন করল, ‘আমার জানামতে তুমি প্রথম বর্ষে আছো। তোমার অন্য ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকার কথা। এখানে আসলে কী করে?মিঠির ভয় এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সে ঠোঁট ভিজিয়ে নিয়ে বলল, ‘আমি গত কয়দিন অসুস্থ ছিলাম। ক্যাম্পাসে যেতে পারিনি। অর্জুন দাদা নাজমাকে দিয়ে আমাকে ডেকেছিল।’‘অমনি চলে এসেছো? কয়দিন আগে তৃতীয় বর্ষের একটা মেয়ের কী হাল হয়েছে দেখোনি, শুনোনি? এরপরও এদের ডাকে সাড়া দিলে কেন?’‘না দিয়েও উপায় নাই।’পদ্মজা আর কথা বাড়াল না। মিঠিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে কামরা থেকে। নিকাব পরতে পরতে বলল, ‘এসব বেশিদিন সহ্য করা যায় না। মেয়েরা হলে এসে থাকে পড়াশোনার জন্য। এসব নির্যাতনের স্বীকার হওয়ার জন্য নয়! তোমার চেনাজানা যারা এদের নির্যাতনের ভুক্তভোগী তাদের সবার নামের তালিকা আমাকে দিতে পারবে?’মিঠি জানতে চাইল, ‘কেন?‘সবাইকে নিয়ে প্রশাসনের কাছে যাব। তাদের নীরবতা আর মেনে নেব না। ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে নেতাদের অপকর্ম দেখছি। থামানোর চেষ্টা করেছি। একজন, দুজন থামে আরো দশজন বাড়ে। এইবার আমাদের আন্দোলন করতে হবে।’মিঠি মিনমিনিয়ে বলল, ‘কেউ ভয়ে আন্দোলন করতে চায় না। শুনেছি, অনেকবার দিন তারিখ ঠিক হয়েছে। এরপর যাদের আসার কথা ছিল তাদের মধ্যে আশি ভাগই আসত না। অনেককেই বাসায় আক্রমণ করা হয়েছে।’পদ্মজার বুক ফুঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। সমাজে মেয়েরা এত দুর্বল! তাদের দেহের লুকায়িত আকর্ষণীয় ছন্দগুলো না থাকলে হয়তো তারাও সাহসী হতো। ছন্দ হারানোর ভয় থাকত না। কাউকে ভয় পেতে হতো না।পদ্মজা মিঠিকে বলল, ‘তুমি বরং কয়দিন বাড়ি থেকে ঘুরে আসো। এখানে থাকা তোমার জন্য এখন বিপজ্জনক। আমি আগামীকাল গ্রামে যাচ্ছি। আমার আম্মার মৃত্যুবার্ষিকী। ছোটো বোনের মেট্রিক পরীক্ষা দেড় মাস পর। আরেক বোনের বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছি। দেড়-দুই মাসের মতো গ্রামে থাকব। এরপর এসে এই নেতাদের ব্যবস্থা করব। তোমাদের বর্ষের শিখা আছে না? মেয়েটা বেশ সাহসী। ওর মতো আরো কয়টা মেয়ে পাশে থাকলেই হবে। তুমি যাও এখন। দ্রুত বাড়ি ফেরার চেষ্টা করো। যতক্ষণ এখানে আছো একা চলাফেরা কোরো না। শিখাও তো মনে হয় হলেই থাকে?‘জি।’‘ওর সঙ্গে থেকো।’‘কখনো কথা হয়নি।’‘এখন তো ক্যাম্পাসে বোধহয়। আচ্ছা বিকেলে আমি আবার আসব। ওর সঙ্গে কথা বলব। আমি আসছি এখন।‘পদ্ম আপা?’পদ্মজা তাকাল। মিঠি পদ্মজাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল। ভেজাকণ্ঠে বলল, ‘অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম।’‘বাঁচার সংগ্রামে ভীতু হলে চলে না, মিঠি।’‘ভেবেছিলাম জীবনটা শেষ হয়েই গেল বুঝি।‘কখনো এমন ভাববে না। বিপদে সামর্থ্য মতো যা পারো করবে। শরীরের শক্তি নিশ্চয় কম নয়। মনের জোরটা কম। সেই জোরটা বাড়াবে। মনের জোর বাড়াতে টাকা লাগে না। কঠিন জীবন সহজ করে তোলার দায়িত্ব নিজেরই নিতে হয়।মিঠি মাথা তুলে তাকাল। একটু সরে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছে বলল, দ্রুত ফিরবে, পদ্ম আপা। আমরা আমাদের নিরাপত্তার যুদ্ধে নামব।’পদ্মজা হেসে বলল, ‘ফিরব। দ্রুত ফিরব।’.গাড়ি বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুটছে। বাড়ির নাম আগে ছিল, আমির ভিলা। বছর ঘুরতেই আমির বাড়ির নাম পালটে দিল—পদ্ম নীড়। পদ্মজা জানালার কাচ তুলে বাইরে তাকাল। রাস্তাঘাটে মানুষজন কম। ঠান্ডা বাতাস। সূর্যের আলোয় একদমই তেজ নেই। যেন থুড়থুড়ে বুড়ো হয়ে গেছে। পদ্মজা আকাশপানে তাকিয়ে তিনটা প্রিয় মুখকে খোঁজে। চোখ দুটি টলমল করে ওঠে। কোথায় আছে তারা? আবার কবে হবে দেখা? পদ্মজা কাচ নামিয়ে দিল। রুমাল দিয়ে চোখের জল মুছে সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজল।.নিস্তব্ধ বিকেল ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে অলন্দপুরের আটপাড়া। সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে যায় নূপুরধ্বনিতে। পূর্ণার চঞ্চল কাদামাখা দুটি পা দৌড়ে ঢুকে মোড়ল বাড়ি। পায়ের নূপুরজোড়া রিনঝিন রিনঝিন সুর তুলে ছন্দে মেতেছে। পরনে লাল টুকটুকে শাড়ি। আঁচল কোমরে গোঁজা। শাড়ি গোড়ালির অনেক ওপরে পরেছে।.বাড়িতে ঢুকেই চেঁচিয়ে ডেকে উঠল, ‘বড়ো আম্মা। ও বড়ো আম্মা।’বাসন্তী রান্নাঘর ছেড়ে দৌড়ে আসেন। হাতের চুড়িগুলো ঝনঝন করে ওঠে। মুখে বয়সের কিঞ্চিৎ ছাপ পড়েছে। পূর্ণাকে এভাবে হাঁপাতে দেখে প্ৰশ্ন করলেন, ‘বাড়িতে ডাকাত পড়ছে?’‘আপার চিঠি।’ পূর্ণা হাতের খামটা দেখিয়ে বলল।আপার চিঠি শুনে পড়া রেখে প্রেমা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। ওড়না দিয়ে ঘোমটা টানা। ষোড়শী মনে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। সবার চেয়ে আলাদা হয়েছে। খুব ভীতু এবং লাজুক সে। পূর্ণা বড়ো বোন হয়ে সারাদিন বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। আর সে ঘরে বসে পড়ে, বাড়ির কাজ করে। স্কুলে যায়। পদ্মজার কথামতো প্রতিদিনের রুটিন অনুসরণ করে। সে বলল, ‘কী বলেছে আপা? চিঠিটা দাও।’পূর্ণা কপাল কুঁচকে বলল, ‘তোর পড়তে হবে না। বলছে, মাঘ মাসের ১৯ তারিখ আসছে। অনেকদিন থেকে যাবে।’‘আজ কত তারিখ?’ প্রশ্ন করলেন বাসন্তী।পূর্ণা কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, ‘১৯ মাঘ।’বাসন্তীর চোখ দুটি যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইল।বিস্ফোরিত কণ্ঠে বললেন, ‘আজই! বিকেল তো হয়ে গেছে।’পূর্ণা অস্থির হয়ে বাসন্তীর কাছে দৌড়ে আসে। দুই হাতে ধরে করুণ স্বরে বলল, ‘তাড়াতাড়ি সালোয়ার কামিজ বের করো। এভাবে দেখলে একদম মেরে ফেলবে আপা।’বাসন্তী আরোও করুণ স্বরে বললেন, ‘মা, আমি আগে আমার রূপ পালটাই। তুমি তোমারটা খুঁজে নাও।’কথা শেষ করেই বাসন্তী ঘরের দিকে চলে যান। বুক দুরুদুরু কাঁপছে। পরনে ঝিলমিল, ঝিলমিল করছে টিয়া রঙের শাড়ি। দুই হাতে তিন ডজন চুড়ি। কপালে টিপ, ঠোঁটে লিপস্টিক। এ অবস্থায় পদ্মজা দেখলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। তিনি সাজগোজ পূর্ণার কথায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরপর পূর্ণার কথাতেই দুজন মিলে আবার শুরু করেছেন। পদ্মজা এক-দুই দিনের জন্য প্রতি শীতে বাড়ি আসে তখন সব রং-বেরঙের জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়। পূর্ণা চিঠি প্রেমার হাতে দিয়ে ঘরে গেল। ট্রাঙ্ক খুলে সাদা-কালো রঙের সালোয়ার কামিজ বের করে পরে নিলো দ্রুত। হাতের চুড়ি খুলতে গিয়ে ভেঙে গেল কয়েকটা। অন্যবার দুই-তিন দিন আগে চিঠি আসে। আর আজ যেদিন পদ্মজা আসছে সেদিনই চিঠি আসতে হলো! দশ দিন আগে চিঠি পাঠিয়েছে পদ্মজা। ডাকঘর থেকেই দেরি করেছে। পূর্ণা মনে মনে ডাকঘরের কর্মচারীদের গালি দিয়ে চোদ্দোগুষ্ঠি উদ্ধার করে দিচ্ছে। সে দ্রুত জুতা পরে বারান্দায় এসে প্রেমাকে তাড়া দিল, ‘জলদি পানি নিয়ে আয়।’প্রেমার বেশ লাগছে। সে মনেপ্রাণে দোয়া করছে, বড়ো আপা এখুনি এসে যাক আর দেখুক ছোটো আপার সাজগোজ। কিন্তু প্রকাশ্যে পূর্ণার আদেশ রক্ষার্থে কলসি নিয়ে কলপাড়ের দিকে গেল সে। পূর্ণা মনে মনে আয়তুল কুরসি পড়ছে! এই বুঝি পদ্মজা এসে গেল! গতবার মার তো খেয়েছেই, তার সঙ্গে পদ্মজা রাগ করে তিন মাস চিঠি লেখেনি। বাতাসের বেগে পাতায় মড়মড় আওয়াজ হচ্ছে। আর পূর্ণার মনে হচ্ছে, এই তো তার রাগী আপা হেঁটে আসছে। নাহ, পানির জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। পূর্ণা কলপাড়ে ছুটে যায়। কলসি থেকে পানি নিয়ে পায়ের কাদা, ঠোঁটের লিপস্টিক ধুয়ে ফেলে। কপালের টিপ খুলে লাগিয়ে রাখল কলপাড়ের দেয়ালে। হাতের চুড়ি, গলার হার, কানের বড়ো বড়ো দুল ট্রাঙ্কের ভেতর রেখে এসেছে। পায়ের দিকে আবার চোখ পড়তেই আঁতকে উঠল নূপুরজোড়া হাঁটার সময় অনেক আওয়াজ তোলে। এ রকম নূপুর পরা নাকি ইসলামে নিষেধ। আবার দৌড়ে গেল ঘরে। দৌড়াবার সময় বার বার হুমড়ি খেয়ে পড়তে গিয়েও নিজেকে সামলে নিচ্ছে। নূপুর দুটো খুলে ট্রাঙ্কের ভেতর রেখে ধপ করে মাটিতে বসে লম্বা করে শ্বাস নিলো। বিড়বিড় করে বলল, ‘বাঁচা গেল!’পরমুহূর্তেই হাঁটুতে থুতনি রেখে মিষ্টি করে হাসল একবার, আজ তার আপা আসবে। তার জীবনের সবচেয়ে দামি এবং ভালোবাসার মানুষটা আসবে। ঈদের আনন্দের চেয়েও বেশি এই আনন্দ।পূর্ণা মাথায় ঘোমটা টেনে রান্নাঘরে গেল। প্রায় বছরখানেক পর আবার রান্নাঘরে ঢুকেছে সে। বাসন্তী সাদা রঙের শাড়ি পরেছেন। তাড়াহুড়ো করে এটা ওটা রাঁধছেন। পূর্ণা সাহায্য করার জন্য হাত বাড়ালে বাসন্তী বললেন, ‘প্রান্তরে বলো, লাল রঙের দাগ দেয়া রাজহাঁসটা ধরে জবাই করতে।’পূর্ণা চুলায় লাকড়ি আরেকটা দিয়ে লাহাড়ি ঘরের দিকে এগোয়। প্রান্তকে লাহাড়ি ঘরেই বেশি পাওয়া যায়। প্রেমা বড়ো বোনের জন্য মায়ের ঘরটা গুছাচ্ছে।
ইট-পাথরের শহরের সবই কৃত্রিম। কৃত্রিমতা ছেড়ে ছায়ায় ঘেরা মায়ায় ভরা গ্রাম, আঁকা-বাঁকা বয়ে চলা নদীনালা, খাল-বিল, সবুজ শ্যামল মাঠের প্রাকৃতিক রূপ দেখে তৃষ্ণার্ত নয়নের পিপাসা মিটাতে গিয়ে পদ্মজা আবিষ্কার করল, তার চোখে খুশির জল! সবেমাত্র অলন্দপুরের গঞ্জের সামনে ট্রলার পৌঁছেছে। ট্রলারটি হাওলাদার বাড়ির। আলমগীর ও মগা ট্রলার নিয়ে রেলষ্টেশনের ঘাটে অপেক্ষা করছিল। আমির পদ্মজার পাশ ঘেঁষে দাঁড়াতেই পদ্মজা বলল, ‘ইচ্ছে হচ্ছে জলে ঝাঁপ দেই।’আমির আঁতকে উঠল, ‘কেন?’পদ্মজা আমিরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। বলল, ‘অল্পতে ভয় পেয়ে যান কেন? বলতে চেয়েছি, অনেকদিন পর চেনা নদীর জল দেখে ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। ডুব দিতে ইচ্ছে হচ্ছে।’আমির এক হাতে পদ্মজার বাহু চেপে ধরে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে বলল, ‘তাই বলো!’পদ্মজা চোখ তুলে আমিরের দিকে তাকাল। আমিরের গাল ভরতি দাড়ি ঘন হয়েছে। চোখের দৃষ্টি গাঢ়, তীক্ষ্ণ। পঁয়ত্রিশ বছরের পুরুষ! অথচ একটা সন্তান নেই। বাবা ডাক শুনতে পারে না। মানুষটার জন্য দুঃখ হয়। পদ্মজা গোপনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে। ট্রলার মোড়ল বাড়ির ঘাটে এসে ভিড়ল। বাড়ির দিকে তাকাতেই প্রথমে চোখে পড়ে রাজহাঁসের ছুটে চলা। ঝাঁক ঝাঁক রাজহাঁস দৌড়ে বাড়ির ভেতর ঢুকছে।হাঁসের প্যাক প্যাক শব্দে চারিদিক মুখরিত। ট্রলারের শব্দ শুনে পূৰ্ণা- প্রেমা-প্রান্ত ছুটে এলো ঘাটে। প্রথমে এলো পূর্ণা। পদ্মজা প্রথম সিঁড়িতে পা রাখতেই পূর্ণা জান ছেড়ে ডেকে উঠল, ‘আপা।’পূর্ণাকে এভাবে ছুটে আসতে দেখে পদ্মজা ভয় পেয়ে গেল। সাবধান করতে বলল, ‘আস্তে পূৰ্ণা।বলতে বলতে সিঁড়িতে পা পিছলে গেল পূর্ণার। পদ্মজা দ্রুত তাকে আঁকড়ে ধরে। এখনই অঘটন ঘটে যেত! পদ্মজা পূর্ণাকে ধমক দিতে প্রস্তুত হয়, তখনই পূর্ণা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল পদ্মজাকে। বুকে মাথা রেখে হাঁপাতে হাঁপাতে উচ্চারণ করল, ‘আপা! আমার আপা!’বুক বিশুদ্ধ ভালোলাগায় ছেয়ে গেল পদ্মজার। মৃদু হেসে পূর্ণাকে কিছু বলার জন্য উদ্যত হতেই প্রেমা-প্রান্ত এসে জড়িয়ে ধরল তাকে। পদ্মজা তিনজনের ভার সামলাতে না পেরে শেষ সিঁড়ি থেকে নদীর জলে পড়েই যাচ্ছিল, ট্রলারের শীর্ষভাগে দাঁড়িয়ে থাকা আমির দুই হাতে দ্রুত পদ্মজাকে আঁকড়ে ধরে তার খুঁটি হলো। পদ্মজা চোখ বন্ধ করে ফেলেছিল। যখন বুঝতে পারল সে পড়েনি, তার ভাইবোনেরাও পড়ে যায়নি—তখন চোখ খুলল। ঘাড় ঘুরিয়ে স্বামীর মুখ দেখে হাসল। আমির পদ্মজাকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে। পূর্ণা-প্রেমা হেঁচকি তুলে কাঁদছে! খুশিতে কেউ এভাবে কাঁদতে পারে? পদ্মজার ভালো লাগছে। বাসন্তীকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পদ্মজা তার ভাই-বোনদের বলল, ‘তোরা কী বাড়িতে ঢুকতে দিবি না?’পূর্ণা চোখের জল মুছতে মুছতে বলল, ‘চলো।’পদ্মজা সিঁড়ি ভেঙে বাসন্তীর সামনে এসে দাঁড়াল। সাদা রঙের শাড়ি পরে ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকা এই মানুষটার প্রতি পদ্মজার অনেক ঋণ। মোর্শেদ স্ত্রী হারানোর শোকে খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। হেমলতা মারা যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় তিনিও পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। ফেলে যান দুটি কিশোরী মেয়ে, বউ এবং একমাত্র ছেলেকে। অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দিল, সংসার চলে না। আমির সাহায্য করতে চেয়েছিল। পদ্মজার আত্মসম্মানে লাগে। সে কিছুতেই স্বামীর টাকা বাবার বাড়ির সংসারে ঢালবে না। নিজেরও কাজ করার উপায় ছিল না। এমতাবস্থায় বাসন্তী চাইলে ফেলে চলে যেতে পারতেন। তিনি যাননি। এক পড়ন্ত বিকেলে পদ্মজাকে বললেন, ‘নকশিকাঁথা সেলাই করতে পারি আমি। শখে সেলাই করতাম। দুই তিনজন পয়সা দিয়ে কিনতে চাইত। টাকার দরকার ছিল না, তাই বিক্রি করিনি। তুমি বললে আমি নকশিকাঁথা গঞ্জে বেঁচার চেষ্টা করতাম।’পদ্মজা সেদিন অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। সায় পেয়ে বাসন্তী ছুটে ঘরে যান। একটা নকশিকাঁথা এনে পদ্মজাকে দেখান। অসম্ভব সুন্দর হাতের কাজ! আমির নকশিকাঁথাটি দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘বড়ো ভাইয়া যতবার ঢাকা যাবে নকশিকাঁথা দিয়ে দিবেন। শহরে নকশিকাঁথার অনেক চাহিদা রয়েছে। আপনাদের সমস্যা কিছুটা হলেও ঘুচবে। এক কাজ করলেই তো পারেন আরো দুই-তিনজনকে নিয়ে নকশিকাঁথা বানানো শুরু করেন। তাহলে অনেকগুলি হবে। তাদের পারিশ্রমিক দিয়ে দিবেন। ঢাকা বিক্রির পর দ্বিগুণ টাকা আসবে।’এ প্রস্তাবে পদ্মজা অমত করল না। সেদিন থেকে বাসন্তী দুই হাতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। পূর্ণাকে মেট্রিক অবধি পড়ালেন। প্রেমা-প্রান্তকে এখনও পড়াচ্ছেন। পূর্ণার যেকোনো আবদার পূরণ করে চলেছেন। বাসন্তীর পা ছুঁয়ে পদ্মজা সালাম করল। বলল, ‘কেমন আছেন আপনি?’‘ভালো আছি মা। তুমি, জামাইবাবা সবাই ভালো আছোতো?’‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আগের চেয়ে শুকিয়েছেন। ত্বক ময়লা হয়েছে। নিজের যত্ন নেওয়া কি ভুলে গিয়েছেন?’বাসন্তী চোখ নামিয়ে হাসলেন। এক হাতে নিজের মুখশ্রী ছুঁয়ে বললেন, ‘সেই বয়স কী আর আছে? বিধবা মানুষ! ‘‘পূর্ণা খুব জ্বালায় তাই না? বাধ্য করে রঙিন শাড়ি পরতে, সাজতে!’ বাসন্তী চমকে তাকালেন। পদ্মজা হাসছে। পূর্ণা মাথায় ব্যাগ নিয়ে পদ্মজার পাশে এসে দাঁড়াল। আহ্লাদী কণ্ঠে অভিযোগ করল, ‘আপা, তুমি নাকি মুচির সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে এসেছো?’পদ্মজা হাসি প্রশস্ত হয়। আমিরকে এক পলক দেখে পূর্ণার দিকে তাকাল। বলল, ‘কে বলেছে? তোর ভাইয়া?’পূর্ণা আমিরকে ভেংচি কেটে পদ্মজাকে বলল, ‘আর কে বলবে? আপা আমি মুচি বিয়ে করব না। আমার ফরসা, চকচকে জামাই চাই।’মগা পূর্ণাকে রাগানোর জন্য বলল, ‘মেট্রিক ফেল করা ছেড়িরে ধলা জামাই হাঙ্গা করব না।’পূর্ণা কিড়মিড় করে উঠে। পদ্মজা পূর্ণার গাল টেনে দিয়ে বলল, আচ্ছা, এসব নিয়ে পরে আলোচনা হবে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। বাড়িতে চল।দুই হাতে দুই ভাই-বোনকে জড়িয়ে ধরে বাড়ির উঠানে পা রাখে সে। সতেজ হয়ে জামাকাপড় পালটে নেয়। রাজহাঁস ভুনা আর গরম গরম ভাতের ভোজন হয়। সঙ্গে আলমগীর ও মগা ছিল। আলমগীর বাড়ি ফেরার আগে আমির-পদ্মজাকে বলে যায়, ‘আগের স্মৃতি আর কতদিন বুকে রাখবি? দাদু মরার পথে। চাচি আম্মা আত্মগ্লানি আর তোদের না দেখার শোকে শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গেছে। এবার অন্তত বাড়িতে আসিস। অনুরোধ রইল আমার। পদ্মজা তুমি আমিরকে বোঝোও।’পদ্মজা আশ্বস্ত করে বলল, ‘এবার বাড়ির সবাইকে গিয়ে দেখে আসব। আপনি নিশ্চিন্তে যান।’‘অপেক্ষায় থাকব।’আলমগীর, মগা চলে যেতেই আমির পদ্মজাকে বলল, ‘তুমি গেলে যাও, আমি যাব না।’‘এবার যাওয়া উচিত। অনেক তো হলো। চার বছর কেটেছে। ওই রাতটা আজীবন বুকে তাজা হয়ে থাকবে। তাই বলে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারি না। ইসলামে সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম।’‘ওই বাড়িতে গেলে আমার দমবন্ধকর কষ্ট হয়, পদ্মজা।’‘সে তো আমারও হয়। কিন্তু আম্মার কথা খুব মনে পড়ে। আম্মার তো কোনো দোষ ছিল না। তবুও শাস্তি পাচ্ছেন।’‘ছিল দোষ।’‘যে আসল দোষী তার দেখা আজও পেলাম না। যিনি দোষী না তিনি সবার চোখে দোষী।’‘আম্মা সেদিন কেন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন? এটাই আম্মার দোষ।’‘জোর করে ঘুম আটকে রাখা যায়? আমরা আগামীকাল যাচ্ছি, এটাই শেষ কথা।’‘পদ্ম…’আমিরের বাকি কথা শুনল না পদ্মজা। সে দ্রুত হেঁটে হেমলতার ঘরের দিকে এগোল। হেমলতার ঘরের দরজা খুলতেই অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়, বুকের ভেতর বয়ে যায় শিহরণ। ছয় বছর আগের মতোই সব। নেই শুধু আম্মা! পদ্মজা ধীর পায়ে ঘরে ঢুকল। হেমলতার শাড়ি বের করে ঘ্রাণ শুঁকল আলমারি খুলে। বুকের সঙ্গে জড়িয়ে রাখল অনেকক্ষণ। গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে মাটিতে, হাউমাউ করে কান্নাটা অনেকদিন ধরে আসে না। কষ্টগুলো চেপে থাকে বুকের ভেতর। পূর্ণা দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে, দেখছে তার আপাকে। পদ্মজা বার বার নাক টানছে। অজস্র চুমুতে ভরিয়ে দিচ্ছে মায়ের শাড়ি। যেন সে শাড়ি না, তার মাকেই চুমু দিচ্ছে! পূর্ণার মন ব্যথায় ভরে ওঠে। তার কী মায়ের জন্য কষ্ট হচ্ছে, নাকি আপার কান্না দেখে?জানে না পূর্ণা। শুধু উপলব্ধি করছে, তার কান্না পাচ্ছে।কান্নার শব্দ শুনে পদ্মজা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। পূর্ণাকে কাঁদতে দেখে দ্রুত চোখের জল মুছে হাতের শাড়িটা রেখে দিল আলমারিতে। ডাকল, ‘এদিকে আয়।’পূর্ণা ফোঁপাতে ফোঁপাতে এগিয়ে আসে। পদ্মজা বিছানায় বসলে, পূর্ণা তার কোলে মাথা রেখে কাঁচুমাচু হয়ে শুয়ে পড়ল। পদ্মজা বলল, ‘বয়স একুশের ঘরে। মনটা তো সেই চৌদ্ধ-পনেরো বছরেই পড়ে আছে।’পূর্ণা পদ্মজার এক হাত মুঠোয় নিয়ে বলল, ‘আমার খুব কান্না পাচ্ছে।’‘কাঁদিস না।’‘ঠেলেঠুলে বেরিয়ে আসছে।’‘থামানোর চেষ্টা কর।’‘থামছে না।’তুই তো আরো কাঁদছিস।’‘বেড়ে যাচ্ছে তো।’পদ্মজা ঠাস করে পূর্ণার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল পূর্ণার কান্না। সে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকাল। পদ্মজা আওয়াজ করে হেসে উঠে। পূর্ণা উঠে হাত ঝাড়তে ঝাড়তে হেসে এমনভাবে, ‘থেমে গেছে বলল যেন বিশ্বজয় করেছে!আরো বেড়ে গেল পদ্মজার হাসি। মুখে হাত চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে। হাসতে হাসতে চোখের কার্নিশে জল জমে টইটুম্বুর অবস্থা। পূর্ণা কখনোই কান্না নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। থামাতে বললে, আরো বেড়ে যায়। ব্যাপারটা যে কেউ উপভোগ করে।প্রেমা ঘরে ঢুকে অভিমানী কণ্ঠে শুধাল, ‘আমাকে ছাড়া কী কথা নিয়ে হাসা হচ্ছে?’পদ্মজা হাসতে হাসতে বলল, ‘পূর্ণা কাঁদছিল। থামাতে পারছিল না।’প্রেমা হেসে বিছানায় উঠে দুই পা ভাঁজ করে বসে বলল, ‘বড়ো আপা, ছোটো আপা কিন্তু নামাজ পড়ে না।’পদ্মজা হাসি থামিয়ে পূর্ণার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুই নামাজ পড়িস না কেন? চিঠিতে তো বলিস অন্য কথা।’পূর্ণার ইচ্ছে হচ্ছে প্রেমাকে লবণ-মরিচ দিয়ে ক্যাচ ক্যাচ করে কাঁচা আমের মতো কামড়ে খেতে। ভালো সময়টা কীভাবে নষ্ট করে দিল বজ্জাত মেয়েটা! কিন্তু এখন পরিস্থিতি সামলাতে হবে। সে পদ্মজাকে বোঝানোর চেষ্টা করল, ‘আপা, বিশ্বাস করো শুধু এক ওয়াক্ত পড়িনি। আর…আর প্রেমাকে আমি আমার…হ্যাঁ আমার চুড়ি দেইনি বলে…’৩০২ ॥ পদ্মজাপদ্মজা কথার মাঝে ধমকে উঠল, ‘মিথ্যে বলবি না। কতবার বলেছি, মিথ্যা কথা ছাড়তে। সত্য স্বীকার কর। কীসের কাজ তোর? পড়ালেখা ছেড়েছিস চার বছর হলো। মেট্রিকটা দ্বিতীয় বার দিলি না। বিয়ে করতে চাস না বলে বিয়ের জন্যও জোর করিনি। তার মূল্য কী এভাবে কথা না শুনে দিবি? এমন না এটা আমার আদেশ। যিনি সৃষ্টি করেছেন উনার আদেশ।’পূর্ণা মাথা নত করে রেখেছে। প্রত্যুত্তরে বলার মতো কিছু নেই। পদ্মজা বিছানা থেকে নামতে নামতে বলল, ‘তোদের সঙ্গে আমি ঘুমাব না।’প্রেমা আর্তনাদ করে উঠল, ‘আপা, আমার দোষ কী?পূর্ণা জলদি করে পদ্মজার কোমর জড়িয়ে ধরে। কিছুতেই বোনকে যেতে দিবে না।পদ্মজা বলল, ‘ছাড় বলছি।’পূর্ণা আকুতি করে বলল, ‘যেয়ো না। এখন থেকে প্রতিদিন পড়ব। সত্যি বলছি।’পদ্মজা নরম হলো, ‘সত্যি তো?’‘সত্যি।’পদ্মজা এবারের মতো ছেড়ে দেয়। পূর্ণা আড়চোখে প্রেমাকে দেখল। দৃষ্টি দিয়ে যেন হুমকি দিল: আমারও দিন আসবে! সেদিন তোকে বুঝাব মজা!গ্রামে এলেই আমির প্রান্তর সঙ্গে ঘুমায়। পদ্মজাকে তার বোনদের সঙ্গে ছেড়ে দেয়। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। দুই বোনকে নিয়ে শুয়ে পড়ে পদ্মজা। কত কত গল্প তাদের! পদ্মজা শুধু শুনছে আর হাসছে। প্রেমার মুখ দিয়ে সহজে কথা আসে না, কিন্তু পদ্মজা এলে কথার ঝুড়ি নিয়ে বসে। পূর্ণা নিজের বিয়ে নিয়ে বেশি কথা বলছে, পরিকল্পনা করছে।তখন প্রেমা ব্যঙ্গ করে বলল, ‘ছোটো আপার লজ্জার লেশমাত্র নেই।’পূর্ণা খেপে গিয়ে জবাব দিল, ‘তুই যে প্রান্তকে বলছিলি, শহরে গিয়ে সাহসী পুলিশ বিয়ে করবি। আমি কাউকে বলেছি? বলেছি, তোর লজ্জা নাই?’গোপন কথা ফাঁস হয়ে যাওয়াতে প্রেমা লজ্জায় জবুথবু হয়ে যায়! তার বড়ো আপার সামনে ছোটো আপা কী বলছে! লজ্জায় কান দিয়ে ধোঁয়া বেরোতে থাকে। পদ্মজা হাসল। প্রেমাকে বলল, লজ্জার কিছু নেই। অভিভাবকদের নিজের পছন্দ জানানো উচিত। তোর বিয়ে পুলিশের সঙ্গেই হবে। আর পূর্ণার বিয়ে হবে পূর্ণার পছন্দমতো।’পদ্মজার কথায় পূর্ণা ভারি খুশি হলো। সে আবেগে আপ্লুত হয়ে বলল, ‘নায়কের মতো জামাই চাই। একদম লিখন ভাইয়ার মতো। আপা, জানো লিখন ভাইয়া এক সপ্তাহ হলো এখানে শুটিং করতে এসেছে।’পদ্মজা জানতে চাইল, ‘কার বাড়ি?’‘সাতগাঁয়ের হান্নান চাচার বাড়ি। বিশাল বড়ো টিনের বাড়ি।’পদ্মজা চুপ হয়ে গেল। এই মানুষটা শুধুমাত্র তার স্মৃতি। কিন্তু মানুষটার জীবনের পুরোটা জুড়ে সে। এই তো মাস চারেক আগে, পদ্মজা পত্রিকা পড়তে বসেছিল। তৃতীয় পৃষ্ঠায় লিখন শাহর ছবির সঙ্গে ওপরের শিরোনাম দেখে বেশ অবাক হয়। শিরোনামে লেখা ছিল, লিখন শাহর পদ্ম ফুল। পদ্মজা আগ্রহ নিয়ে প্রতিটি লাইন পড়েছিল। সাংবাদিক লিখনকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ত্রিশ তো পার হয়েছে। বিয়ে করবেন কবে?’লিখন তখন জানাল, ‘সে যখন আসবে।’‘আমরা কী জানতে পারি, কে সে? যদি দ্বিধা না থাকে।’‘জানাতে আমার বাধা নেই। সে পদ্ম ফুল। আমার সাতাশ বছরের কঠিন মনে তোলপাড় তুলে দিয়েছিল। সেই তোলপাড়ের তাণ্ডব বুকের ভেতর আজও হয়। সেই ফুলের সুবাস নাকে আজও লেগে আছে। শুধু আমি তাকে জয় করতে পারিনি।’লিখন শাহর সাক্ষাৎকারের কথোপকথন বেশ আলোড়ন তুলে দেশে। এরকম একজন সুদর্শন পুরুষকে কোন নারী অবহেলা করেছে? তা নিয়ে মানুষের কত কল্পনা-জল্পনা, আলোচনা-সমালোচনা। পদ্মজার অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়।পূর্ণা পদ্মজাকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে ডাকল, ‘ঘুমিয়ে গেলে, আপা?’‘না। তারপর বল।’ নিস্তরঙ্গ গলায় বলল পদ্মজা।ঝিঁঝিপোকার ডাক, শিয়ালের হাঁক ভেসে আসছে কানে। রাত গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। তবুও কথা শেষ হচ্ছে না পূর্ণা-প্রেমার। পদ্মজাও মানা করছে না। বরং অবাক হচ্ছে, তার বোনেরা কত কথা লুকিয়ে রেখেছে তার জন্য!কাক ডাকা ভোর। ঘন কুয়াশায় চারপাশ ডুবে আছে। বাতাসের বেগ বেশি। ঠান্ডায় ঠোঁট কাঁপছে। পদ্মজার পরনে দামি, গরম সোয়েটার। ওপরে আবার শালও পরেছে। বাসন্তী সুতি সাদা শাড়ি পরে রান্না করছেন। মাঝে মাঝে কাঁপছেন। পদ্মজা দ্রুত পায়ে রান্না ঘরে ঢুকল। বাসন্তী পদ্মজাকে দেখে হেসে বললেন, ‘কিছু লাগবে?’পদ্মজা খেয়াল করে দেখল বাসন্তীর মুখটা ফ্যাকাসে। ঠান্ডায় এমন হয়েছে। সে শক্ত করে প্রশ্ন করল, ‘আপনার শীতের কাপড় নেই?’বাসন্তী হেসে বলল, ‘আছে তো।’‘তাহলে এভাবে শীতে কাঁপছেন কেন? নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়তেন। বয়স হয়েছে তো। যান ঘরে যান।’‘ভাত বসিয়েছি।’‘আমি দেখব।’‘সারারাত তো সজাগ ছিলে, আম্মা। তুমি ঘুমাও। আমি রাতে ঘুমিয়েছি।’‘তাহলে সোয়েটার পরে আসেন।’বাসন্তী মাথা নত করে বসে রইলেন। পদ্মজা বেশ অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে। এরপর নিজের গায়ের শাল বাসন্তীর গায়ে দিয়ে বলল, ‘নিজের জন্যও কিছু কেনা উচিত। পূর্ণা বয়সে বেড়েছে, বুদ্ধিতে না। ও পারে না কিছু সামলাতে। শুধু আবদার করতে পারে। যতদিন বেঁচে আছেন নিজের যত্ন নিন। আমি ঘরে যাচ্ছি।’পদ্মজা রান্নাঘর ছেড়ে বারান্দার গ্রিলে ধরে বাইরে তাকাল। কুয়াশার জন্য বাড়ির গেটও দেখা যাচ্ছে না। সে ঘুরে দাঁড়াল ঘরে ঢোকার জন্য। তখন মনে হলো, উঠানে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। পদ্মজা আবার ঘুরে তাকাল। দেখতে পেল তার শাশুড়ি ফরিনাকে। তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছেন। শুকিয়েছে খুব বেশি। গায়ে লাল-সাদা রঙের মিশ্রণে শাড়ি। ফরিনার চারপাশে উড়ো কুয়াশা। কুয়াশার দেয়াল ভেদ করে যেন তিনিই শুধু আসতে পেরেছেন। পদ্মজা হন্তদন্ত হয়ে বের হলো। কাছে এসে দাঁড়াতেই বুকটা হু হু করে উঠল। ফরিনা পদ্মজাকে দেখেই কাঁদতে শুরু করলেন। পদ্মজা ফরিনার খুব কাছে এসে দাঁড়াল, সালাম করল পা ছুঁয়ে। ফরিনার ঠান্ডা দুই হাত ধরে বলল, ‘এত সকালে কেন আসতে গেলেন? আমরা তো যেতামই।’‘এত রাগ তোমার?’‘না, আম্মা। আপনার প্রতি কোনো রাগ নেই আমার। আট মাস আপনি আমার যে যত্ন নিয়েছেন মায়ের অভাববোধ করিনি। মনে হয়েছিল, আমার মা ছিল আমার পাশে।’‘তাইলে কেরে যাও না আমার কাছে? আমার ছেড়ায় কেন মুখ ফিরায়া নিছে আমার থাইকা?’‘উনি পাগল। আম্মা, আপনি কেমন আছেন? দেখে বোঝা যাচ্ছে, ভালো নেই। আম্মা বিশ্বাস করুন, আপনার প্রতি আমাদের রাগ নেই। ওই বাড়িটা দেখলে খুব কষ্ট হয়, আম্মা। খুব যন্ত্রণা হয়। এজন্য যাই না। আপনাকে অনেকবার চিঠি লিখেছি, ঢাকা গিয়ে কয়দিন থেকে আসার জন্য। গেলেন না কেন?’ফরিনা অবাক হয়ে বললেন, ‘আমার কাছে তো কুনু চিডি আহে নাই।’‘সে কী! আমি তো এই চার বছরে ছয়টি চিঠি লিখেছি। পাঠিয়েছিও।’‘আমি তো পাই নাই।’ফরিনা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পদ্মজা বলল, ‘আচ্ছা এ ব্যাপারে কথা বলব উনার সঙ্গে। আমি যখন আম্মার কবর জিয়ারত করতে আসি তখনো তো এসে আমাকে আর উনাকে দেখে যেতে পারেন।’‘তোমরা বাড়িত যাও না বইলা, আমি ভাবছি আমারে ঘেন্না করো তোমরা তাই সামনে আইতে পারি নাই। আমার জন্য আমার নাতনিডা… ‘ফরিনা হু হু করে কেঁদে উঠলেন। পদ্মজার চোখ ছলছল করে উঠল। সে ফরিনাকে বলল, ‘আপনার জন্য কিছু হয়নি। আপনি এভাবে ভাববেন না। কান্না থামান।যতই বলো মা, কান্না থামাবে না। চার বছর ধরে এভাবেই কাঁদছে।’ মজিদের কণ্ঠস্বর শুনে পদ্মজা দ্রুত ঘোমটা টেনে নিলো। মজিদকে সালাম করে বলল, ‘ভালো আছেন, আব্বা?’‘এই তো আছি কোনোমতে।’‘আম্মা, আপনি কান্না থামান। আমার খারাপ লাগছে।’ফরিনা আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছে বললেন, ‘আমার বাবু কই?’‘ভেতরের ঘরে ঘুমাচ্ছে। ডেকে দিচ্ছি।’‘না, থাকুক। ঘুমাক। ‘পদ্মজা শ্বশুর, শাশুড়িকে সদর ঘরে নিয়ে আসে। আস্তে আস্তে ঘুম ভাঙে সবার। আমির যত যাই বলুক, মাকে দেখেই নরম হয়ে যায়। জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে শুরু করে। মজিদ ছেলে আর ছেলের বউকে ছাড়া কিছুতেই বাড়ি যাবেন না। কম হলেও চার-পাঁচ দিন থেকে আসতে হবে। অবশেষে আমির রাজি হলো। প্রেমার সামনে পরীক্ষা তাই প্রেমাকে সঙ্গে নিলো না। বাসন্তী, প্রেমা, প্রান্ত বাড়িতে রয়ে গেল। পদ্মজাদের সঙ্গে গেল পূর্ণা।.হাওলাদার বাড়ির গেট পেরিয়ে ভেতরে পা দিতেই পদ্মজার সর্বাঙ্গ অদ্ভুত ভাবে কেঁপে উঠল। সূর্য ওঠেনি, দমকা বাতাস হচ্ছে। সেই বাতাসে শোঁ শোঁ শব্দ হচ্ছে। মাথার ওপর দিয়ে বাজপাখি উড়ে গেল একটা, সেই পাখির ডাক অদ্ভুত হাহাকারের মতো। যেন মনের চেপে রাখা কষ্ট ও ক্ষোভ নিয়ে কেউ আর্তচিৎকার করছে। নাকি এটা নিছকই পদ্মজার ভাবনা? চারদিকে চোখ বুলাতে বুলাতে আলগ ঘর পেরিয়ে অন্দরমহলের সামনে এসে দাঁড়াল সে। চার বছর পূর্বে তো এখানে, এই জায়গাটায় তার আদরের তিন মাসের কন্যা পারিজার রক্তাক্ত লাশ পড়ে ছিল! পদ্মজার বুক কেমন করে উঠল! ভীষণ ব্যথা হচ্ছে!বুকে হাত রেখে সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়ল পদ্মজা। আমির উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করল, ‘খারাপ লাগছে?’পদ্মজা স্বাভাবিক হয়ে বলল, ‘না।’ থেমে নিশ্বাস নিলো। বলল, ‘পূর্ণাকে দেখুন, কেমন পাগল।’আমির সামনে তাকাল। পূর্ণা মাথার উপর ব্যাগ নিয়ে সবার আগে বরই খেয়ে খেয়ে কোমর দুলিয়ে হেঁটে যাচ্ছে! অন্দরমহলের সামনে এবং আলগ ঘরের পেছনে টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। হেমন্তকালে ধান কাটা হয়েছে, তখন কৃষকরা আলগ ঘরে থেকেছে। তাদের জন্যই এই টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল। টিউবওয়েলের চারপাশে গোল করে সিমেন্ট দিয়ে মেঝেও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে একটি কলপাড়ের রূপ নিয়েছে।পূর্ণা নারিকেল গাছের সামনে এসে থমকে দাঁড়াল। কলপাড়ে এক সুদর্শন যুবক পিঁড়িতে বসে গোসল করছে। পরনে লুঙ্গি। রানি গামছা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কী যেন বলছে। পূর্ণা ব্যাগ রেখে হাঁ করে সেই যুবককে পরখ করে। সুঠাম, সুগঠিত শরীর, মায়াবী, ফরসা স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক। প্রশস্ত বুকে ঘন পশম। চওড়া পিঠ। শক্তপোক্ত দেখতে দুই হাত। ডান হাতে ছোটো কলস নিয়ে মাথায় পানি ঢালছে। সেই জল চুল থেকে কপাল, কপাল থেক ঠোঁট, ঠোঁট থেকে বুক বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। হঠাৎ চুল ঝাঁকি দিয়ে উঠল, জলের ছিটে ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। রানি যুবকটিকে বকতে বকতে দূরে সরে দাঁড়াল। যুবকটি আবারও মাথায় পানি ঢেলে চুল ঝাঁকায়। উদ্দেশ্য, রানিকে ভিজিয়ে দেয়া। পূর্ণা মুগ্ধ হয়ে গেল। সে দ্রুত মাটিতে ব্যাগ রেখে ওড়না ঠিক করে, চুলের খোঁপা খুলে দিল। ঠোঁট জুড়ে হাসি ফুটিয়ে কলপাড়ের দিকে হেঁটে গেল। তার চোখের দৃষ্টি দেখলে যে কারো মনে হবে, পূর্ণা অপরিচিত এই যুবকটিকে চোখ দিয়ে পিষে ফেলছে। কলপাড়ের পাশে ভেজা কাদা ছিল। পূর্ণা পা রাখতেই পিছলে পড়ে গেল।ধপাস শব্দ শুনে যুবকটি লাফিয়ে উঠে ভরাট কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল, ‘বোয়াল মাছ! বোয়াল মাছ!
ঘটনাটি পদ্মজার চোখে পড়তেই সে দৌড়ে আসে। রানি আকস্মিক ঘটনায় হতভম্ব। সে পূর্ণাকে তুলতে দৌড়ে আসতে গিয়ে শাড়ির সঙ্গে পা প্যাঁচ লাগিয়ে পূর্ণার চেয়ে ঠিক এক হাত দূরে আছাড় খেল! এ যেন ধপাস করে পড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যুবকটি হাসবে, নাকি সাহায্য করবে বুঝে উঠতে পারছে না। সেকেন্ড দুয়েক ভেবে মনস্থির করল, হাসা ঠিক হবে না। সাহায্য করা উচিত। কলপাড় থেকে এক পা নামাতেই পদ্মজা চলে এসে পূর্ণাকে তোলার চেষ্টা করতে লাগল। যুবকটি রানিকে সাহায্য করে ওঠার জন্য। পদ্মজা উৎকণ্ঠা নিয়ে পূর্ণাকে প্রশ্ন করে, ‘খুব ব্যথা পেয়েছিস?’পূর্ণার মুখ ঢেকে আছে রেশমি ঘন চুলে। আড়চোখে একবার যুবকটিকে দেখল। মিনমিনিয়ে বলল, ‘না।’ফরিনা ছুটে এসে বললেন, ‘এইডা কেমনে হইল? এই ছেড়ি এমনে আইলো কেন? ও ছেড়ি, কোনহানে দুঃখ পাইছো?’পূর্ণা নরম কণ্ঠে বলল, ‘ব্যথা পাইনি।’‘পাওনি মানে কী? সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছো না। পদ্মজা, ওকে নিয়ে যাও। কাদা মেখে কী অবস্থা!’ বলল আমির।পদ্মজা আর আমিরকে দেখে রানি প্রচণ্ড অবাক হয়েছে! খুশিতে তার কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে।আমিরের পা ছুঁয়ে সালাম করে বলল, ‘দাভাই? তুমি আইছো! পদ্মজা, এতদিনে আমরারে মনে পড়ছে?’পদ্মজা মৃদু হেসে বলল, ‘তোমাকে সবসময়ই মনে পড়ে, আপা। আমরা পরে অনেক গল্প করব। পূর্ণাকে নিয়ে এখন ভেতরে যাই।’পদ্মজা আর ফরিনা পূর্ণাকে ধরে ধরে অন্দরমহলে নিয়ে যায়। পিছু পিছু রানিও গেল। যুবকটি আমিরের সামনে এসে দাঁড়াল। হেসে বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম আমির ভাই। চিনতে পারতাছেন?’আমির যুবকটিকে চেনার চেষ্টা করল। বলল, ‘মৃদুল না?’‘জি ভাই।’আমিরের হাসি চওড়া হলো। মৃদুলের সঙ্গে করমর্দন করে বলল, ছোটোবেলায় দেখেছি। কত্ত বড়ো হয়ে গেছিস! চেনাই যাচ্ছে না।’‘আমার ঠিকই আপনারে মনে আছে।’‘সেইমৃদুলের বাহুতে আলতো করে থাপ্পড় দিয়ে আমির বলল, ‘ছোটোবেলা তো তুমি করে বলতি। এখন আপনি আপনি বলছিস কেন?’মৃদুল এক হাতে ঘাড় ম্যাসাজ করে হাসল। এরপর বলল, ‘ষোলো- সতেরো বছর পর দেখা হইছে তো।’‘তো কী হয়েছে? তুমি বলে সম্বোধন করবি। গোসল করছিলি নাকি?’‘জি।’‘কাপড় পালটে আয়, অনেক আলাপ হবে।’‘আচ্ছা ভাই।’নারিকেল গাছের পাশে ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখে, এগিয়ে গিয়ে সেটা নিয়ে অন্দরমহলের দিকে গেল আমির।.বৈঠকখানায় বসে আছে পদ্মজা। পূর্ণার কোমরে, পায়ে গরম সরিষা তেল মালিশ করে দিয়ে বিশ্রাম নিতে বলেছে। হুমকি দিয়ে এসেছে, ঘর থেকে বের হলে একটা মারও মাটিতে পড়বে না। পূর্ণার মুখ দেখে মনে হয়েছে, আর বের হওয়ার সাহস করবে না। বেশ জোরেই পড়েছে। পা, কোমর লাল হয়ে গেছে। এই বাড়িটা মৃতপ্রায়। আগে তাও মানুষ আছে বলে মনে হতো। এখন মনেই হয় না এই বাড়িতে কেউ থাকে। নির্জীব, স্তব্ধ। রান্নাঘর থেকে বেশ কিছুক্ষণ পর পর টুংটাং শব্দ আসছে। ফরিনা ও আমিনা তাড়াহুড়ো করে রান্না করছেন। আমির বের হয়েছে। বাড়িতে মাত্রই এলো, আর কীসের কাজে বেরিয়েও পড়ল! স্তব্ধতা ভেঙে একটা ছোটো বাচ্চা দৌড়ে আসে পদ্মজার কাছে। বাচ্চাটার কোমরে, গলায় তাবিজ। তাবিজের সঙ্গে ঝনঝন শব্দ তোলা জাতীয় কিছু গলায় ঝুলানো। পদ্মজা বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নিলো। রানি বৈঠকখানায় এসে বাচ্চাটিকে বলল, ‘আলো আম্মা, এদিকে আয়। তোর গায়ে ময়লা। পদ্ম মামির কাপড়ে লাগব।পদ্মজা আলোর গাল টেনে বলল, ‘কিছু হবে না। থাকুক।’আলোর গালে চুমু দিল পদ্মজা। আলোর বয়স দুই বছর। রানির মেয়ে হয়েছে শুনেছিল পদ্মজা। কিন্তু দেখতে আসতে পারেনি। এবারই প্রথম দেখা। পদ্মজা বলল, ‘আলো ভাগ্যবতী হবে। দেখতে বাপের মতো হয়েছে।’বাপের মতো হয়েছে কথাটি শুনে রানির মুখ কালো হয়ে যায়। তার প্রথম বাচ্চা মারা যাওয়ার এক বছরের মাথায় সমাজের নিন্দা থেকে বাঁচাতে খলিল হাওলাদার রানির জন্য পাত্র খুঁজতে থাকলেন। কিন্তু কেউই রানিকে বিয়ে করতে চায়নি। সবাই জেনে গিয়েছিল রানি অবৈধ সন্তান জন্ম দিয়েছে, বাচ্চাটিও মারা গেছে। কোনো পরিবার রানিকে ঘরের বউ করতে চাইছিল না। এদিকে বিয়ে দিতে না পেরে সমাজের তোপে আরো বেশি করে পড়তে হচ্ছিল। খলিল হাওলাদার পিতা হয়ে রানিকে ফাঁস লাগিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। তখন মজিদ হাওলাদার মদনকে ধরে আনলেন। মদন, মগার বাবা-মা নেই। দুই ভাই এই বাড়িতেই ছোটো থেকে আছে। এই বাড়ির সেবার কাজে নিযুক্ত। বাধ্য হয়ে মদনের সঙ্গে বাড়ির মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়। মদন কামলা থেকে ঘরজামাই হয়। রানি মন থেকে মদনকে আজও মানতে পারেনি। কখনোও পারবেও না। ঘৃণা হয় তার। মাঝে মাঝে আলোকেও তার সহ্য হয় না। আলোর মুখটা দেখলেই মনে হয়, এই মেয়ে মদনের মেয়ে।কামলার মেয়ে!আলো আধোআধো স্বরে বলল, ‘নান্না, নান্না।’পদ্মজা আদুরে কণ্ঠে বলল, ‘নানুর কাছে যাবে?’আলো পদ্মজার কোল থেকে নামতে চাইলে পদ্মজা নামিয়ে দিল। আলো দৌড়ে গেল রান্নাঘরে। রানি বলল, ‘আম্মার জন্য পাগল এই ছেড়ি। সারাবেলা আম্মার লগে লেপটায়া থাকে।’‘তুমি নাকি আলোকে মারধোর করো?’রানি চমকাল। প্রশ্ন করল, ‘কেলা কইছে?’‘শুনেছি। আলো একটা নিষ্পাপ পবিত্র ফুল। ওর কী দোষ?’রানি চুপ করে রইল। পদ্মজা বলল, ‘সব রাগ এইটুকু বাচ্চার ওপর ঝাড়া ঠিক না, আপা।’‘আমার কষ্টডা বুঝবা না, পদ্মজা।’‘বুঝি। এতটা অবুঝ না আমি। আলো মদন ভাইয়ার মেয়ে এটা ঠিক কিন্তু তোমারও তো মেয়ে। তোমার গর্ভে ছিল। দশ মাস তোমার রক্ত খেয়েছে।’‘আমি কী আমার ছেড়িরে ভালোবাসি না? বাসি। মাঝে মাঝে খুব রাগ হয়। জানো পদ্মজা, আবদুল ভাইয়ের কথা মনে হইলে আমার সব অসহ্য লাগে। একলা একলা কাঁনদি। তহন আলো কানলে…আমি ওরে এক দুইডা থাপ্পড় মারি। পরে আফসোস হয় কেন মানলাম ছেড়িডারে। ও তো আমারই অংশ।’‘নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করো। নিয়তির উপর কারো হাত নেই। অতীত ভুলতে বলব না। কিছু অতীত ভোলা যায় না। কিন্তু চাইলেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে বাঁচা যায়। নিজেকে মানিয়ে নাও। আলোর প্রতি যত্নশীল হও। মানুষের মতো মানুষ করো। একটা মেয়েকে নিয়ে সমাজে বাঁচা যুদ্ধের মতো। গোড়া থেকে খেয়াল দাও।’‘তোমার কথা হুনলে বাঁচার শক্তি পাই, পদ্মজা।’পদ্মজা হাসল। বৈঠকখানায় আমির প্রবেশ করে। তার পেছনে দেখা যায় মৃদুলকে, ছেলেটাকে দেখে হাসল রানি। পদ্মজাকে দেখিয়ে বলল, ‘এই যে এইডা হইছে, পদ্মজা। তোর ভাবি।’মৃদুল পদ্মজাকে সালাম করার জন্য ঝুঁকতেই পদ্মজা বলল, ‘না, না। কোনো দরকার নেই। বসুন আপনি।’মৃদুল বসল। বলল, ‘আপনের কথা কথা অনেক শুনছি। আজ দেখার সৌভাগ্য হইলো।’আমির পদ্মজাকে বলল, ‘ওর নাম মৃদুল। রানির মামাতো ভাই। ছোটোবেলা আমাদের বাড়িতে কয়দিন পর পর আসত। যখন আট-নয় বছর তখন দূরে চলে যায়। আর দেখা হয়নি। চাইলেই দেখা হতো। কেউ চায়নি। তাই দেখাও হয়নি।‘কোথায় থাকেন?’ জানতে চাইল পদ্মজা।‘জি ভাবি, রামপুরা।’রামপুরার কথা পদ্মজা শুনেছে। তাদের জেলার শহর এলাকার নাম রামপুরা। সবাই চেনে। ছেলেটার চেহারা উজ্জ্বল, চকচকে। হাসিখুশি! আলাপে আলাপে জানতে পারল, মৃদুল পদ্মজার চেয়ে দুই বছরের বড়ো। মেট্রিক ফেল করার পর আর পড়েনি। মিয়া বংশের ছেলে।কথাবার্তায় শুদ্ধ-অশুদ্ধ দুই রূপই আছে। ভীষণ রসিক মানুষও বটে!খাওয়া-দাওয়া শেষ হওয়ার পর পদ্মজা দোতলায় গেল, সঙ্গে রয়েছে আমির। নুরজাহান বেশ কয়েক মাস ধরে অসুস্থ। শরীরের জায়গায় জায়গায় ঘা। চামড়া থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। সারাক্ষণ যন্ত্রণায় আর্তনাদ করেন নুরজাহানের ঘরে ঢুকতেই নাকে দুর্গন্ধ লাগল, নাকে রুমাল চেপে ধরল পদ্মজা। নুরজাহান বিছানার ওপর শুয়ে আছেন। সময়ের ব্যবধানে একেবারে নেতিয়ে গিয়েছেন তিনি। বয়সটা যেন কয়েক গুণ বেড়েছে, হাড় দেখা যাচ্ছে। লজ্জাস্থান ছাড়া পুরো শরীর উন্মুক্ত। এক পাশে লতিফা দাঁড়িয়ে, আর মাথার কাছে বসে আছেন একজন কবিরাজ। একটা কৌটা থেকে সবুজ তরল কিছু নুরজাহানের ক্ষত স্থানগুলোতে লাগাচ্ছেন। পদ্মজা নুরজাহানের বাঁ-পাশে গিয়ে দাঁড়াল। নাক থেকে রুমাল সরিয়ে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করল দুর্গন্ধের সঙ্গে। ডাকল, ‘দাদু? দাদু…শুনছেন।’নুরজাহান ধীরে ধীরে চোখ খুললেন। পদ্মজা প্রশ্ন করল, ‘দাদু, খুব কি কষ্ট হয়? কোথায় বেশি যন্ত্রণা?’নুরজাহান শুধু তাকিয়ে রইলেন। চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। পদ্মজার বুকটা হাহাকার করে উঠল। বয়স্ক মানুষটা কত কষ্ট করছে! লতিফা বলল, ‘দাদু কথা কইতে পারে না। খালি কান্দে’নুরজাহানের অসহায় চাহনি দেখে পদ্মজার চোখ দুটি ছলছল করে উঠল। সে নুরজাহানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, ‘আল্লাহর নাম স্মরণ করেন। ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে। ধৈর্য ধরুন।’ তারপর লতিফাকে বলল, ‘ভালো করে খেয়াল রেখো।’আমির বেশ অনেকক্ষণ কথা বলল নুরজাহানের সঙ্গে। নুরজাহান জবাব দিলেন না, শুধু উ-আ করলেন। আমিরের দুই চোখ বেয়ে জল পড়ে। পদ্মজার ভালো লাগে না দেখতে। সে আমিরকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে বাইরে নিয়ে আসে। বারান্দা পেরোনোর পথে রুম্পার ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়। যাওয়ার সময় তো বন্ধই ছিল। পদ্মজা ঘরের ভেতর উঁকি দেয়। কেউ নেই। পালঙ্কও নেই।সে অবাক হয়ে আমিরকে প্রশ্ন করল, ‘রুম্পা ভাবি কোথায়?’আমিরও এসে উঁকি দিল। শূন্য ঘর। সে অবাক স্বরে বলল, ‘জানি না তো।’পদ্মজা চিন্তায় পড়ে গেল। হেমলতা মারা যাওয়ার পর গ্রামে আর থাকেনি। শহরে ফিরে যায়। এক মাসের মাথায় জানতে পারল, সে গর্ভবতী। গর্ভাবস্থার প্রথম পাঁচ মাস খুব খারাপ যায়। প্রতি রাতে হেমলতাকে স্বপ্নে দেখত। ছয় মাস পড়তেই ফরিনা গ্রামে নিয়ে আসেন। এ সময় পদ্মজার একজন মানুষ দরকার। কাছের মানুষদের দরকার। তাই আমিরও নিষেধ করেনি। তার মধ্যে আবার মোর্শেদ মারা গেলেন। পদ্মজা আরো ভেঙে পড়ে। কাছের মানুষদের সহযোগিতায় বাচ্চার কথা ভেবে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করে। তখন পদ্মজা অনেকবার চেষ্টা করেছে রুম্পার সঙ্গে দেখা করার। কিন্তু মদন আর নুরজাহানের নজরের বাইরে গিয়ে কিছুতেই সম্ভব হয়নি।এরপর কোল আলো করে এলো ফুটফুটে কন্যা। পদ্মজা তারপরও চেষ্টা চালিয়ে গেল। সারাক্ষণ রুম্পাকে নজরবন্দি করে রাখার ব্যাপারটা তার খটকা বাড়িয়ে তোলে। একদিন সুযোগ পেল।সেদিন রাতে নুরজাহান, মদন, আমির, রিদওয়ান, আলমগীর সবাই যাত্রাপালা দেখতে গিয়েছিল। দুই তলায় ছিল শুধু পদ্মজা, তার মেয়ে পারিজা আর ফরিনা। ফরিনার দায়িত্বে পারিজাকে রেখে রুম্পার ঘরে যায় পদ্মজা। রুম্পা তখন অচেতন হয়ে পড়ে ছিল নিজের প্রস্রাব-পায়খানার ওপর। পদ্মজা নাকে আঁচল চেপে ধরে সব পরিষ্কার করে রুম্পার জ্ঞান ফেরায়। জানতে পারে: তিন দিন ধরে রুম্পাকে খাবার দেয়া হচ্ছে না। পদ্মজা খাবার নিয়ে আসে। রুম্পাকে খাইয়ে দেয়।তবে কথা বলার সুযোগ হওয়ার আগেই ফরিনার চিৎকার ভেসে আসে কানে। ফরিনার কাছে পারিজা! পদ্মজার বুক ধক করে উঠে। ছুটে বেরিয়ে যায় সে, ঘরে এসে দেখে ফরিনা নেই। তার আর্তনাদ ভেসে আসছে কানে। পদ্মজা সেই আর্তনাদের সঙ্গে দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। তড়িঘড়ি করে সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে উলটে পড়ে। তবুও ছুটে যায়। ফরিনার কান্নার চিৎকার অনুসরণ করে অন্দরমহলের বাইরে বেরিয়ে আসে। চাঁদের আলোয় ভেসে উঠে তার তিন মাসের কন্যার রক্তাক্ত দেহ। ফুটফুটে কন্যা! ছোটো ছোটো হাত, পাগুলো নিথর হয়ে পড়ে আছে। সময় থেমে যায়। মনে হতে থাকে, নিশুতি রাতের প্রেতাত্মারা একসঙ্গে, একই স্বরে চিৎকার করে কাঁদছে। পদ্মজার মস্তিষ্ক ফাঁকা হয়ে যায়। কোন পাষাণ মানব তিন মাসের বাচ্চার গলায় ছুরি চালিয়েছে? তার কী হৃদয় নেই? পদ্মজা মেয়ের নাম ধরে ডেকে চিৎকার দিয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়ে।পুলিশ আসে, তদন্ত হয়। সেদিন ফরিনা দরজা খোলা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে যায়। তিনি হাত বাড়িয়ে বুঝতে পারেন পাশে পারিজা নেই। দ্রুত উঠে বসেন। পদ্মজা নিয়ে গেল নাকি? ভাবতে ভাবতে নাতনিকে খুঁজতে থাকেন। বারান্দা থেকে বাইরে চোখ পড়তেই দেখতে পেলেন, একজন মোটা, কালো লম্বা চুলের লোক দৌড়ে পালাচ্ছে। খালি জায়গায় কাঁথায় মোড়ানো কিছু একটা পড়ে আছে। ফরিনা ছুটে বাইরে বেরিয়ে আসেন। নাতনির রক্তাক্ত দেহ দেখে চিৎকার শুরু করেন। পুলিশ কোনো কিনারা খুঁজে পায়নি।পরের দিনগুলো বিষাক্ত হয়ে উঠে। পদ্মজা মাঝরাতে চিৎকার করে কেঁদে উঠত। খাওয়া-দাওয়া একদমই করত না। মাঝরাতে মেয়ের কবরে ছুটে যেত। আমির পদ্মজাকে নিয়ে হাওলাদার বাড়ি থেকে দূরে সরে আসে। প্রায় এক বছর পদ্মজা মানসিকভাবে বিপর্যন্ত ছিল। তারপর বুকে ব্যথা নিয়েই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, একদিন ফিরবে অলন্দপুর। সেই নিষ্ঠুর খুনিকে খুঁজে বের করে শাস্তি দিবেই। জানতে চাইবে, কীসের দোষে তার তিন মাসের কন্যা বলি হলো? ছোট্ট শিশুটি কী ক্ষতি করেছিল?কেউ জানুক আর নাই বা জানুক, পদ্মজা জানে হাওলাদার বাড়িতে আসার প্রধান উদ্দেশ্য, পারিজার খুনিকে বের করা। সে শতভাগ নিশ্চিত এই বাড়ির কেউ না কেউ জড়িত এই খুনের সঙ্গে। শুধু বের করার পালা। পুরনো কথা মনে হতেই পদ্মজা দুই চোখ বেয়ে জল গড়াতে থাকল। আমির জল মুছে দিয়ে বলল, ‘বোধহয় তিন তলায় রাখা হয়েছে। ‘পদ্মজা তিন তলার সিঁড়ির দিকে তাকাল। শুনেছে, তিন তলার কাজ নাকি সম্পূর্ণ হয়েছে। নতুন অনেকগুলো ঘর হয়েছে। তবে আর কথা বাড়াল না। এখন গোসল করতে হবে। আজান পড়বে। আজ রাত থেকেই সে নিশাচর হবে। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে সব রহস্যের জাল কাটতে হবে। এটাই তার নিজের সঙ্গে নিজের প্রতিজ্ঞা। আমির ডাকল, ‘কী হলো? কী ভাবো?’পদ্মজা আমিরের দিকে একবার তাকাল। চাহনি অস্থির করে বলল, ‘কিছু না। ঘরে চলুন।’‘কিছু তো ভাবছিলে।’‘এতদিনের জন্য গ্রামে এসেছি। চাকরিটা থাকবে তো?’‘থাকবে না কেন? রফিক কতটা সম্মান করে আমাকে দেখোনি? আর তোমার যোগ্যতার কী কমতি আছে? যেখানে ইচ্ছে সেখানেই চাকরি হবে।’পদ্মজা থমকে দাঁড়াল। আমিরের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, ‘আপনি যেখানে ইচ্ছে সেখানে চাকরি করতে দিবেন?’আমির হেসে ফেলল। বলল, ‘তা অবশ্য দেব না।’
আজ ১ এপ্রিল ২০২৬ ইং, বুধবার। আজকের তারিখে জন্মগ্রহণ করায় রাশিচক্রে আপনি মেষ রাশির জাতক-জাতিকা। চলুন জেনে নেয়া যাক আপনার রাশিতে আজকের পূর্বাভাস:মেষ রাশি: পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিদের রুটিন মেডিকেল টেস্ট করিয়ে নিন। কর্মক্ষেত্রে বিচক্ষণতার সঙ্গে কার্য সম্পাদন করা জরুরি, না হলে সমস্যায় পড়তে পারেন। আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে। সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে। প্রেমের সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা বাড়বে।বৃষ রাশি: আজ কর্মব্যস্ততা থাকলেও সব দায়িত্ব আপনি যথাযথ ভাবে পালন করবেন। বৃষ রাশির জাতকদের মিষ্টি কথায় জটিল সমস্যার সমাধান হতে পারে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সবার মতামত নিলে আপনিই লাভবান হবেন। ঋণ সংক্রান্ত আর্থিক চিন্তা বাড়তে পারে।মিথুন রাশি: গতানুগতিক নিয়ম নীতি মেনে কাজ করলে আজ খ্যাতি লাভ হবে মিথুন রাশির জাতকদের। ভুল সিদ্ধান্তে ক্ষতি হতে পারে। বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি হবে। সন্তানকে নিয়ে চিন্তা বাড়বে। পড়াশোনার কারণে জন্মস্থান থেকে দূরে যেতে হবে। বিয়েতে বাধা আসতে পারে। আজ সহকর্মীর সঙ্গে মতান্তর হতে পারে।কর্কট রাশি: দাম্পত্য জীবনে কিছুটা মানসিক অশান্তি থাকবে। ছোট অস্ত্রোপচার বা রক্তপাতের যোগ রয়েছে। আইনি কাজকর্মের ক্ষেত্রে আজ কিছুটা বাধা পেতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বকেয়া টাকা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে অর্থব্যয় হতে পারে।সিংহ রাশি: আজ শারীরিক রোগ-ব্যাধি অনেকটাই কমবে। সাংসারিক বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে। চাকরি পরিবর্তন হতে পারে বা কর্মসূত্রে অন্যত্র যেতে হতে পারে। নিজের শরীর-স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন। বিষয় সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের কারণে খরচ বাড়তে পারে। উচ্চশিক্ষার কারণে বিদেশ যাত্রা হতে পারে।কন্যা রাশি: আজ অবিবাহিতদের বিয়ের সম্বন্ধ পাকা হতে পারে। শারীরিক কষ্ট ভোগের সম্ভাবনা রয়েছে। বয়স্ক ব্যক্তিদের শারীরিক সমস্যা বাড়তে পারে। সঞ্চিত অর্থ খরচ হয়ে যেতে পারে। কর্মস্থানে অধস্তন কর্মীর সঙ্গে বচসায় জড়াতে পারেন। অনিশ্চিত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে লোকসান হতে পারে।তুলা রাশি: কোনো বহুজাতিক কোম্পানিতে আজ আপনার চাকরি পাকা হতে পারে। দাম্পত্যে মতপার্থক্য আসবে। প্রলোভনে পড়ে প্রতারিত হতে পারেন। নতুন করে কোনো যৌথ ব্যবসা আজ না করাই ভালো। মায়ের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা বাড়বে। নতুন গাড়ি কেনার যোগ রয়েছে।বৃশ্চিক রাশি: ব্যবসায় আজ মুনাফা বাড়বে বৃশ্চিক রাশির জাতকদের। আজ নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করুন, না হলে বড় বিপদে পড়তে পারেন। হাড়ে আঘাত পাওয়ার যোগ রয়েছে। আইনি সমস্যা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। কাছের বন্ধুর সাহায্য পেতে পারেন।ধনু রাশি: আজ অপ্রত্যাশিত আর্থিক লাভ হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিন। ঋণ সংক্রান্ত সমস্যায় জড়াতে পারেন। রেস্তোঁরা, জামাকাপড়ের ব্যবসা লাভজনক হবে। নতুন সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা আসতে পারে। চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ বাড়তে পারে।মকর রাশি: আজ আয় মন্দ হবে না মকর রাশির জাতকদের। প্রতিবেশীর কারণে সমস্যায় পড়তে পারেন। আগের আটকে থাকা টাকা ফিরে পেতে পারেন। কাউকে বিশ্বাস করে আর্থিক সাহায্য করলে ক্ষতি হতে পারে। দাম্পত্যে মতভেদ বাড়বে। কমিশন ভিত্তিক কাজে আয় বাড়বে।কুম্ভ রাশি: কর্মক্ষেত্রে কৌশলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারবেন। আত্মীয়দের শত্রুতার কারণে আপনার ক্ষতি হতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় অমনোযোগ বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে ট্রান্সফারের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা বাড়বে। ঝুঁকিবহুল কাজ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।মীন রাশি: সময়োচিত তৎপরতায় হঠাৎ আসা বিপদ থেকে রক্ষা পাবেন। একাধিক আয়ের উৎস সামনে আসবে। শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে ছোটখাটো সমস্যা হলেও বিশেষ কোনো উদ্বেগের কারণ নেই। ব্যবসায় উপযুক্ত পরিশ্রমের মূল্য পাবেন। নতুন বাড়ি বা অন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন।
অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ শুরু আজ। প্রথম দিনে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের মুখোমুখি বাংলাদেশের মেয়েরা। আছে আইপিএল ও পিএসএলের ম্যাচ।বিশ্বকাপ বাছাই: প্লে-অফইরাক-বলিভিয়াসকাল ৯টা, ফিফা প্লাসঅ-২০ নারী এশিয়ান কাপচীন-ভিয়েতনামবেলা ৩টা, টি স্পোর্টসবাংলাদেশ-থাইল্যান্ডসন্ধ্যা ৭টা, টি স্পোর্টসসাফ অ-২০ ফুটবল: সেমিফাইনালবাংলাদেশ-নেপালবিকেল ৪-৪৫ মি., ইউটিউব@sportzworkzভারত-ভুটানরাত ৯-৩০ মি., ইউটিউব@sportzworkzপিএসএলহায়দরাবাদ-মুলতানরাত ৮টা, টি স্পোর্টসআইপিএললক্ষ্ণৌ-দিল্লিরাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ৭২ দিন আগে জাতীয় দলের প্রধান কোচ অটো আদ্দোকে ছাঁটাই করেছে ঘানা। গতকাল রাতে জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে হারের অল্প সময় পরই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে কোচ ছাঁটাই করায় এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়ল আফ্রিকার দেশটি।জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য ভালোই খেলেছে ঘানা। ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে ১-১ গোলে সমতায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি, দেনিজ উনদাভের গোলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দলটিকে।জার্মানির বিপক্ষে হার ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ঘানার। গতকাল রাতের ম্যাচটিসহ এ নিয়ে টানা ৪ ম্যাচ হারল তারা। চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে উড়ে গিয়েছিল ৫-১ গোলে। এর আগে গত নভেম্বরে দুই এশিয়ান প্রতিপক্ষ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরেছিল তারা। আর এসব হারের জেরেই শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে হলো আদ্দোকে।ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (জিএফএ) বিবৃতিতে জানায়, ‘দলের জন্য অবদান রাখায় আমরা আন্তরিকভাবে অটো আদ্দোকে ধন্যবাদ জানাই এবং তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য শুভকামনা রইল। ব্ল্যাক স্টারসের নতুন টেকনিক্যাল পরিকল্পনা বা দিকনির্দেশনা যথাসময়ে জানানো হবে।’ ৫০ বছর বয়সী আদ্দো ঘানার জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন ২০২৪ সালের মার্চ থেকে। এর আগে ২০২২ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রথম মেয়াদে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অধীনে ঘানা ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও অংশ নেয়।যেখানে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারলেও পরের ম্যাচে একই ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। যদিও শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার দেশটিকে। এই বিশ্বকাপেই প্রথম ঘানাইয়ান হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ—দুই দায়িত্বেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কীর্তি গড়েন আদ্দো।এরপর ২০২৪ সালের মার্চে দায়িত্ব নিয়ে ঘানাকে আরও একটি বিশ্বকাপে পৌঁছে দেওয়ায় ভূমিকা রাখেন এই কোচ। যদিও তাঁর অধীনে ঘানা গত বছরের আফ্রিকা কাপ নেশনসে অংশ নিতে ব্যর্থ হয়।পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ঘানা জায়গা পেয়েছে ‘এল’ গ্রুপে। যেখানে আছে ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড ও পানামাও। ঘানা তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ জুন টরন্টোতে পানামার বিপক্ষে। যদিও সেই ম্যাচে আদ্দো নন, ডাগআউটে দাঁড়াবেন অন্য কেউ।
এশিয়ান কাপ ফুটবল বাছাইপর্বে আজ নিজেদের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। রাতে ও আগামীকাল ভোরে আছে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ ফাইনাল।এশিয়ান কাপ ফুটবল: বাছাইবাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরসন্ধ্যা ৬টা, টি স্পোর্টসআন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচক্যামেরুন-চীনদুপুর ১২টা, ফিফা প্লাসঅস্ট্রেলিয়া-কুরাসাওবেলা ৩-১০ মি., ফিফা প্লাসপিএসএলইসলামাবাদ-পেশোয়াররাত ৮টা, টি স্পোর্টসআইপিএলপাঞ্জাব-গুজরাটরাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২ইউরোপিয়ান প্লে-অফ: ফাইনালকসোভো-তুরস্করাত ১২-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ১বসনিয়া-ইতালিরাত ১২-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ২চেক প্রজাতন্ত্র-ডেনমার্করাত ১২-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ৩সুইডেন-পোল্যান্ডরাত ১২-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ৫আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ: ফাইনালকঙ্গো ডিআর-জ্যামাইকারাত ৩টা, ফিফা প্লাসইরাক-বলিভিয়াআগামীকাল সকাল ৯টা, ফিফা প্লাস
আইপিএলে আজ মুখোমুখি রাজস্থান ও চেন্নাই। ফুটবলে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের ভিড়ে চোখ রাখতে পারেন জার্মানি-ঘানা ম্যাচে।আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবলকেপভার্দে-ফিনল্যান্ডসকাল ৯টা, ফিফা প্লাসনিউজিল্যান্ড-চিলিদুপুর ১২-১৫ মি., ফিফা প্লাসবুলগেরিয়া-ইন্দোনেশিয়াসন্ধ্যা ৭টা, ফিফা প্লাসউজবেকিস্তান-ভেনেজুয়েলারাত ৮টা, ফিফা প্লাসআজারবাইজান-সিয়েরা লিওনরাত ৯টা, সনি স্পোর্টস ২জার্মানি-ঘানারাত ১২-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ২আইপিএলরাজস্থান-চেন্নাইরাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২
পাকিস্তানে পিএসএল আর ভারতে আইপিএলের ম্যাচ আছে আজ। রাতে আছে ফ্রান্সের ম্যাচ, সকালে খেলবে পর্তুগালও।পিএসএলহায়দরাবাদ-কোয়েটাবিকেল ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টস, পিটিভি স্পোর্টসলাহোর-করাচিরাত ৮টা, টি স্পোর্টস, পিটিভি স্পোর্টসআইপিএলমুম্বাই-কলকাতা রাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবলমেক্সিকো-পর্তুগালসকাল ৭টা, সনি লিভ ও সনি ২, ৫লিথুয়ানিয়া-জর্জিয়াসন্ধ্যা ৭টা, সনি লিভ ও সনি ২, ৫আর্মেনিয়া–বেলারুশসন্ধ্যা ৭টা, সনি লিভ ও সনি ২, ৫ কলম্বিয়া–ফ্রান্সসন্ধ্যা ৭টা, সনি লিভ ও সনি ২, ৫
👻 Bhoot.Com – রহস্য, ভয় আর অজানা জগতের এক অসাধারণ যাত্রাবর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ভৌতিক ওয়েব সিরিজগুলোর মধ্যে **Bhoot.com** একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। যারা রহস্য, থ্রিলার এবং ভূতের গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একেবারে পারফেক্ট একটি বিনোদনের মাধ্যম।🔍 Bhoot.Com কী?**Bhoot.Com** হলো একটি বাংলা হরর-ভিত্তিক ওয়েব সিরিজ বা গল্পের সংগ্রহ, যেখানে প্রতিটি পর্বে নতুন নতুন ভৌতিক ঘটনা, অদ্ভুত রহস্য এবং অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এই সিরিজটি মূলত এমন কিছু ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্কিত হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে অজানা ও ভয়ঙ্কর দিক।🎬 গল্পের বৈশিষ্ট্যBhoot.Com-এর প্রতিটি এপিসোডে আপনি পাবেন—* 👁️🗨️ রহস্যময় ঘটনা* 🕯️ অতিপ্রাকৃত শক্তির উপস্থিতি* 🧠 মনস্তাত্ত্বিক টানটান উত্তেজনা* 💀 হঠাৎ চমকে দেওয়ার মতো দৃশ্যএই সিরিজের গল্পগুলো এমনভাবে সাজানো হয়, যা দর্শককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে।😱 কেন Bhoot.Com এত জনপ্রিয়?Bhoot.Com জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—* বাস্তবতার সাথে মিল রেখে গল্প তৈরি* সহজ ভাষায় উপস্থাপন* কম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ গল্প* ভয় এবং থ্রিলের নিখুঁত মিশ্রণবিশেষ করে রাতের নিরিবিলি পরিবেশে এই সিরিজ দেখলে এর আসল মজা পাওয়া যায়।🎯 উপসংহারসব মিলিয়ে, **Bhoot.com** শুধু একটি ভৌতিক সিরিজ নয়, বরং এটি একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। যারা অজানা জগতের গল্প শুনতে বা দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি সিরিজ। Download Now
“Bhoot.com” হলো একটি জনপ্রিয় বাংলা হরর/ভৌতিক অডিও পডকাস্ট সিরিজ, যেখানে বিভিন্ন ভৌতিক ঘটনা, ভূতের অভিজ্ঞতা, কালো জাদু বা অদ্ভুত ঘটনার গল্পগুলোকে অডিও আকারে উপস্থাপন করা হয়। সিরিজটি মূলত RJ Russell এর ভয়ানক গল্প‑সংগ্রহ ও শ্রোতা পাঠানো অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তৈরি।Episode 311 এর বিস্তারিত (সারসংক্ষেপ)বিষয় বা গল্পের সংক্ষিপ্ত তথ্য:স্পেসিফিকলি এপিসোড 311‑এর গল্প শিরোনাম বা কাহিনীর বিষয়টি ওয়েবসাইটে আলাদা করে লেখা নেই, তাই আমরা শুধু জানি এটি সেই সিরিজের ধারাবাহিক এপিসোড যেখানে একটি হরর/ভৌতিক গল্প শোনানো হয় RJ Russell এর মাধ্যমে। সাধারণত এই সিরিজে মানুষের অভিজ্ঞতা, অদ্ভুত ঘটনা বা ভূতের গল্প থাকে।Download Link
"আস-সালামু আলাইকুম" আশা করি সকলেই ভালো আছেন।আজ আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি একটি সুন্দর ও কার্যকরী টাইম, ডেট এবং নামাজের সময়ের সিস্টেম, যা আপনার ওয়েবসাইটকে করবে আরও আকর্ষণীয় ও ব্যবহারবান্ধব।লাইভ টাইম ও ডেট – সবসময় আপডেট...এই সিস্টেমের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে রিয়েল-টাইমে বর্তমান সময় ও তারিখ দেখা যাবে। ব্যবহারকারীরা সহজেই জানতে পারবে বর্তমান সময় এবং দিন, যা তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য খুবই সহায়ক।বিশেষ সুবিধা...বাংলা ফরম্যাটে তারিখ ও সময়স্বয়ংক্রিয় আপডেটসুন্দর ডিজাইননামাজের সময় – প্রতিদিনের ইবাদতে সহায়ক...একজন মুসলিম হিসেবে নামাজের সময় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফিচারের মাধ্যমে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় সহজেই দেখা যাবে।এতে থাকছে....ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার সময়সহজ ও পরিষ্কার প্রদর্শনআপনি মাউস টাইমের উপরে রাখলে নামাজের সময় দেখাবে আবার মাউস সরালে আবার নরমাল সময় চলে আসবে।আকর্ষণীয় ডিজাইন...শুধু তথ্য নয়, এই সিস্টেমটি দেখতে খুবই সুন্দর। ক্লিন UI, আধুনিক ফন্ট এবং স্মার্ট লেআউট আপনার ওয়েবসাইটকে আরও প্রফেশনাল করে তুলবে।কেন এটি ব্যবহার করবেন?✔ আপনার ওয়েবসাইটকে আরও ইনফরমেটিভ করে✔ ভিজিটরদের জন্য উপকারী ফিচার✔ ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ✔ সম্পূর্ণ ফ্রি এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য..চলেন এইটা কিবাবে আপনার সাইটে বসাবেন।যদি তোমার Php সাইট থাকে...ধাপ ১: CPanel-এ লগইন করুনআপনার হোস্টিং প্রোভাইডারের CPanel-এ লগইন করুন।Dashboard-এ যান।ধাপ ২: File Manager এ যানFile Manager অপশন ক্লিক করুন।আপনার ওয়েবসাইটের public_html ফোল্ডারে প্রবেশ করুন।যদি এটি একটি সাবডোমেইন বা সাবফোল্ডারে থাকে, সেখানেও যেতে হবে।ধাপ 3: Header.php ফাইলে যাও তার পর কোড বসানোর স্থান খুঁজো। পরে যেখানে তুমি সময় দেখাতে চাও সেখানে কোড বসাও এবং Save দাও।আর যদি তোমার ওয়ার্ডপ্রেস থাক...ধাপ ১: Appearance → Theme Editor → header.phpheader.php ফাইল ওপেন করো।এখন যেখানে তুমি সময় দেখাতে চাও সেখানে কোড Paste করে Save করে দাও।Demo......Download Link....কোড ১ Download Link
অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য একই সময়ে দুটি বড় সূচি—ইংল্যান্ডে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড, আর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। দ্য হানড্রেডে খেললে এক মাসেই প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ, বিপরীতে দেশের হয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ।টাকা বনাম টেস্ট, আর ফ্র্যাঞ্চাইজি বনাম দেশের প্রতিনিধিত্ব—এই দ্বিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটারদের। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, তাঁর দলের ক্রিকেটাররা টাকার লোভ ছেড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজই বেছে নিয়েছেন। তবে ক্লাব বনাম দেশ বিতর্কে ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রাধান্য পেতে পারে বলে সতর্কও করে দিয়েছেন তিনি।পিঠের চোট সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা কামিন্স এখন আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। মে মাসে আইপিএল শেষ করে জুন–জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে সানফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের হয়েও খেলার কথা।অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে কামিন্সের পরের ব্যস্ততা আগস্টের বাংলাদেশ সিরিজ ঘিরে। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই ব্যস্ততার ভারসাম্যের বিষয়ে তাঁকে বিজনেস অব স্পোর্ট পডকাস্টে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল।জবাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর আর্থিক আকর্ষণ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে টেস্ট ক্রিকেট খুব ভালো সমর্থন পায়, টেস্টে গ্রীষ্মে প্রচুর দর্শক হয় এবং অনেক মনোযোগ থাকে। কিন্তু অন্য সব আন্তর্জাতিক দলের ক্ষেত্রে বিষয়টি এক নয়। প্রতিটি দেশের চ্যালেঞ্জ কিছুটা ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ায় আমরা যখন টেস্ট বা ওয়ানডে দল নির্বাচন করি, তখন দেখি যে কীভাবে সেরা খেলোয়াড়দের দলে পাওয়া যায়, কারণ অন্য জায়গায়ও তাদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’উদাহরণ হিসেবে কামিন্স বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ও দ্য হানড্রেডের সূচির সংঘাতের প্রসঙ্গ টানেন।অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের ব্যস্ততা শুরু হবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে। তার আগে ২১ জুলাই ইংল্যান্ডে শুরু হবে এক শ বল ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার জন্য টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা হানড্রেডের নিলামে নাম দেননি বলে জানান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক, ‘উদাহরণস্বরূপ, এই মৌসুমের দ্য হানড্রেডের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে। আমাদের যারা ওই টেস্ট সিরিজে খেলবে, তারা সবাই দ্য হানড্রেডের নিলাম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এটি চিরকাল এমন থাকবে না।’দ্য হানড্রেডে না খেলায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আট কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে কামিন্স বলেন, ক্লাব বনাম দেশ দ্বন্দ্বের বিষয়টি এখন ‘টেনশনের’ পর্যায়ে আছে, ‘আমাদের কিছু খেলোয়াড় ২০ দিনের কাজের বিনিময়ে পাঁচ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ ফিরিয়ে দিচ্ছে স্রেফ বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য। তাই আমি মনে করি এটি (ক্লাব বনাম দেশ দ্বন্দ্ব) একটি দুশ্চিন্তার জায়গা।’তবে এই মুহূর্তে দেশের খেলাকে প্রাধান্য দিলেও আর্থিক কারণে বিষয়টি ভবিষ্যতে অন্য রকমও হতে পারে বলে মনে করেন কামিন্স, ‘আমাদের ছেলেরা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার জন্য এতটাই উদ্গ্রীব যে তারা সানন্দে সেটি ছেড়ে দিচ্ছে, তবে এমনটা সব সময় চলবে, এটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি অনন্য সম্মান প্রদর্শন করতে যাচ্ছে তাঁর ক্লাব ইন্টার মায়ামি। ক্লাবের নতুন ‘নু স্টেডিয়াম’–এর একটি গ্যালারির নামকরণ করা হচ্ছে এই তারকার নামে। এখন থেকে স্টেডিয়ামটির একটি গ্যালারি ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।সাধারণত অবসরের পর বা অতীতে অবদানের কথা মাথায় রেখে কোনো খেলোয়াড়ের নামে গ্যালারি বা স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়। তবে ৩৮ বছর বয়সী ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক মেসির ক্ষেত্রে সেই প্রথা ভেঙেছে ক্লাবটি।এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘ঐতিহ্যগতভাবে সম্মাননা দেওয়া হয় অতীতের অবদানকে মাথায় রেখে। এগুলো তৈরি হয় নস্টালজিয়া থেকে। স্মৃতি থেকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি বর্তমানের কথা ভেবে নেওয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে যা ঘটছে, তা থেকে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবার লিও যখন মাঠে নামে, আমরা যা অনুভব করি, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।’বিবৃতিতে আরও লেখা হয়েছে, ‘কাউকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ সব সময় কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি টানা নয়। কখনো কখনো এটি হলো আপনি যে অনন্য কিছুর সাক্ষী হচ্ছেন, সেটি উপলব্ধি করা।’এর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন মেসি। নিজের নামাঙ্কিত গ্যালারির সামনেই নিয়মিত ম্যাচ খেলবেন এই কিংবদন্তি। স্টেডিয়ামের লোয়ার বোলের ১১৭-১২১ নম্বর সেকশন এবং আপার বোলের ২১৭-২৩৩ নম্বর সেকশন নিয়ে গঠিত হবে এই ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’।আগামী ৪ এপ্রিল মেজর লিগ সকারে অস্টিন এফসির বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে নতুন এই স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করবে ইন্টার মায়ামি। উদ্বোধনী ম্যাচে যাঁরা ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’–এ বসে খেলা দেখবেন, তাঁদের জন্য বিশেষ কিছু চমক এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।২০২৩ সালের গ্রীষ্মে যোগ দেওয়ার পর থেকে ইন্টার মায়ামিকে বদলে দিয়েছেন মেসি। তাঁর নেতৃত্বে ক্লাবটি এ পর্যন্ত লিগস কাপ (২০২৩), সাপোর্টার্স শিল্ড (২০২৪) এবং এমএলএস কাপ (২০২৫) জিতেছে। পাশাপাশি এক মৌসুমে এমএলএসে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়ার রেকর্ডও গড়েছে তাঁর দল।নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে মেসির নামে স্ট্যান্ড।নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে মেসির নামে স্ট্যান্ড।এক্স/নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজএখন পর্যন্ত মায়ামির হয়ে ৯৪ ম্যাচ খেলে ৮২ গোল করেছেন মেসি। গোলে সহায়তা করেছেন ৫৩টি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুবার এমএলএসে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।মেসির জন্য যদিও এই সম্মান নতুন নয়। এর আগে গত বছরের জুনে তাঁর শৈশবের ক্লাব নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজও তাদের স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছিল মেসির নামে।
সাফ অ-২০ ফুটবলে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। পিএসএলে আজ দুটি ম্যাচ। আইপিএল শুরু হচ্ছে আজ।সাফ অ-২০ ফুটবলবাংলাদেশ-ভারতবিকেল ৪-৪৫ মি., ইউটিউব@sportzworkzপিএসএলপেশোয়ার-রাওয়ালপিন্ডিবেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টসইসলামাবাদ-মুলতানরাত ৮টা, টি স্পোর্টসআইপিএলবেঙ্গালুরু-হায়দরাবাদরাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবলস্কটল্যান্ড-জাপানরাত ১১টা, সনি স্পোর্টস ১হাঙ্গেরি-স্লোভেনিয়ারাত ১১টা, সনি স্পোর্টস ২যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়ামরাত ১-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ২মেক্সিকো-পর্তুগালআগামীকাল সকাল ৭টা, সনি স্পোর্টস ১