BDBOYS...
BDBOYS...
গল্পঃ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকেলেখিকাঃ সালমা চৌধুরী..................................................................................................................................................................খান বাড়িতে খনিকের নিস্তব্ধতা বিরাজমান। সবাই এতক্ষণ আশ্চর্য নয়নে তাকিয়ে মোজাম্মেল খানের কথাগুলো শুনছিল৷ মেঘ আবিরের মুখের পানে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে আছে, কিন্তু আবিরের অভিব্যক্তি ঠিক বুঝা যাচ্ছে না। ইকবাল খান আর মোজাম্মেল খান টুকটাক কথা বলছেন বাকিরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। ডেকোরেশনের জন্য আসা ৩-৪ জন ছেলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ছাদে যাচ্ছে, সিঁড়ির কাছাকাছি যেতেই আলী আহমদ খান হুঙ্কার দিলেন,” তোমাদের আর কতক্ষণ লাগবে? বাসায় মেহমান আসার সময় হয়ে গেছে অথচ তোমাদের কাজ ই শেষ হচ্ছে না।”“বেশিক্ষণ লাগবে না আংকেল।”” এই কথা সকাল থেকে শুনে আসছি। এমন তাড়াহুড়োতে কাজ করেছো যে বিয়ে বাড়িকে পুরো স্বাধীনতা দিবসের সাজে সাজিয়ে ফেলছো। শুধু লাল সবুজ দিয়ে কেউ বিয়ে বাড়ি সাজায়?”“সরি, আংকেল। সত্যি বলতে, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আগে চেক করতে মনে ছিল না। এখন আর ভুল হবে না।”” শুনো, আমার একমাত্র ছেলের বিয়ে বলে কথা৷ এমনভাবে সাজাবে যেন বাড়ির সাজ দেখেই এলাকার মানুষ তাক লেগে যায়। টাকা নিয়ে একদম ভেবো না।’” জ্বি আংকেল। ”ছেলেগুলো ছাদে চলে যাচ্ছে। মোজাম্মেল খান আচমকা ধীর কন্ঠে বললেন,“ভাইজান, একটা কথা বলি?”“হ্যাঁ”মোজাম্মেল খান শীতল কন্ঠে বললেন,“আমি একবছর যাবৎ ওদের বিয়ের কথা বলতেছি তবুও তুমি রাজি হলে না। হঠাৎ কি এমন হলো যে হুট করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে তাও আবার আগামীকালই বিয়ে।”আলী আহমদ খান মলিন হেসে বললেন,“তোর ছেলের জন্য।”“মানে?”“তানভির বলছে, মেঘকে আবিরের কাছে বিয়ে না দিলে আবির নাকি ম* রে যাবে।”সবাই অতর্কিতে আবিরের দিকে তাকালো। অথচ আবির রুষ্ট চোখে তানভিরের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে রাগান্বিত কন্ঠে বলল,“শালা, ম*রে যাওয়ার কথা বলতে বলছি তোকে?”তানভির ঠোঁট চেপে ডানহাতের দু আঙুলে কান ধরে বিড়বিড় করে বলল,“সরি, মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেছিলো।”“দূর, শালা।”তানভির কপট রাগী স্বরে বলল,“শালা না সম্বন্ধী।”আবির ঠোঁট বেঁকিয়ে রাগী স্বরে বলল,“তোকে আমি দেখে নিব।”মাহমুদা খান বললেন,“আবির, রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া করে নে। রেডি হতে হবে তো। ”আবির ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল,“এই ভরদুপুরে রেডি হয়ে কি করবো?”আলী আহমদ খান মেঘকে ইশারা করে গম্ভীর কন্ঠে বললেন,“আমার বৌমার শহর ঘুরে গায়ে হলুদের ফটোশুট করার ইচ্ছে। যাও শাওয়ার নিয়ে ঝটপট রেডি হও।”আবির মেঘের দিকে একবার তাকালো পরপর সবার দিকে এক নজর তাকিয়ে আচমকা মেঘকে কোলে তুলে নিল। আলী আহমদ খান সহ উপস্থিত সবাই আঁতকে উঠল। মেঘ অস্পষ্ট গলায় আর্তনাদ করে উঠল। আলী আহমদ খান তপ্ত স্বরে বললেন,“তোমাকে রুমে গিয়ে শাওয়ার নিতে বলছি। তুমি ও কে কোলে নিয়েছো কেনো?”আবির রাশভারি কন্ঠে বলল,“আমি আপনাদের কাউকে বিশ্বাস করি না। কোন ভরসায় রেখে যাব এখানে? যদি আবার লুকিয়ে ফেলেন? আমি আর কোনো রিস্ক নিতে পারব না, সরি।”আবির মেঘকে কোলে নিয়ে নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে সিঁড়ি দিয়ে উঠছে। তানভির হাত দিয়ে মুখ চেপে হাসছে। আলী আহমদ খান, মোজাম্মেল খান, ইকবাল খান স্তব্ধ চোখে সেদিকে তাকিয়ে আছে। বাড়ির মহিলারাও থম মেরে দাঁড়িয়ে আছেন।তিনদিন আগে-সন্ধ্যার অনেক পরেও আলী আহমদ খান অফিসে নিজের কেবিনে বসে কাজ করছিলেন। মোজাম্মেল খান আজ অফিসে আসেন নি, আবির সিফাতের উপর রাগ করে দুপুরের দিকেই অফিস থেকে চলে গেছে। ইকবাল খান সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিলেন হঠাৎ বাসা থেকে কল আসছে, বাজার নিয়ে যেতে হবে তাই ওনিও সন্ধ্যার দিকে চলে গেছেন। সিফাত কাজ শেষ করে অনেকক্ষণ এমনিতেই বসে বসে আলী আহমদ খানের সাথে গল্প করছিলো। রাত বেশি হওয়ায় সিফাত কেও ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। সিফাত অফিস থেকে বের হবার ১০ মিনিটের মধ্যে রাকিব আর রাসেল আলী আহমদ খানের কেবিনের সামনে উপস্থিত হলো।।রাকিব সালাম দিয়ে মৃদুস্বরে বলল,“আংকেল ভেতরে আসতে পারি?”আলী আহমদ খান কপালে ভাজ ফেলে বললেন,” আরে রাকিব যে, আসো ভেতরে আসো।”রাসেলকে খানিক দেখে কিছুটা চিন্তিত স্বরে জানতে চাইলেন,“কি ব্যাপার, তোমরা হঠাৎ আমার কাছে কি মনে করে?”রাকিব পেছনে ঘুরে কিছুটা তপ্ত স্বরে ডাকল,“এই তানভির, ভেতরে আয়।”তানভির গুটি গুটি পায়ে রুমে এসে মাথা নিচু করে দাঁড়ালো। রাকিবদের সাথে তানভিরকে দেখে আলী আহমদ খান একটু বেশিই অবাক হলেন। তানভিরের দিকে তাকিয়ে গুরুগম্ভীর কন্ঠে শুধালেন,“কি হয়েছে?”রাকিব শ্বাস ছেড়ে বুকে সাহস নিয়ে বলল,” আংকেল, আপনার কাছে একটা রিকুয়েষ্ট ছিল।”“বলো।”“প্লিজ, না করবেন না।”“ঠিক আছে, বলো।”রাসেল এবার সাহস করে বলল,” আংকেল আবির একজনকে খুব বেশি পছন্দ করে। তাকে বিয়ে করতে চাই, এখন আপনার সমর্থন প্রয়োজন। প্লিজ, না করবেন না।”আলী আহমদ খান রাগী স্বরে বললেন,” আবির তোমাদের পাঠিয়েছে?”তানভির চটজলদি উত্তর দিল,” না না। ভাইয়া কিছু জানে না। আমরা নিজে থেকে আসছি।”রাকিব ঠান্ডা কন্ঠে বলতে শুরু করল,” আংকেল এখানে আসার ব্যাপারে আবিরকে আমরা কিছুই জানায় নি। আবির জানলে কখনো আসতে দিতো না। কিন্তু চোখের সামনে আবিরের এত কষ্ট দেখে আমাদের সহ্য করতেও কষ্ট হয়। আবির আপনাকে খুব সম্মান করে, শুধুমাত্র আপনাদের কথা ভেবে নিজের মনের আবেগ প্রকাশ করতে পারে না। সত্যি বলতে আবির মেঘকে অনেক বেশি ভালোবাসে, মেঘকে বিয়ে করতে চায় কিন্তু আপনারা রাজি হবেন কি না সেই ভয়ে এতদিন আপনাদের কিছু করতে পারছিল না, আর না মেঘকে কিছু বলছে। এখন মেঘও আবিরকে খুব পছন্দ করে। আপনি ওদের সম্পর্কটা প্লিজ মেনে নিন।”“এখন আমার কি করতে হবে?”” আবির আজ বাসায় নিজের মনের কথা জানাবে মানে মেঘকে বিয়ে করার কথা বলবে। আপনি প্লিজ রাজি হয়ে যাবেন। একমাত্র আপনি বললে বাসার সবাই মেনে নিবে। ”” যদি আমিই মেনে না নেয়। তখন?”রাকিব আঁতকে উঠে বলল,” আংকেল এমন কিছু করবেন না, প্লিজ।”“কেনো করব না? আমার ছেলের জন্য বউ খোঁজার অধিকার কি আমার নেই? সে নিজে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না বলে তোমাদের পাঠিয়েছে, আর তোমরাও আমাকে মানাতে চলে আসছো। শুনো তোমাদের বন্ধুকে বলে দিও আমি ওর সম্পর্ক মানবো না।”তানভির ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,” কেনো মানবেন না, বড় আব্বু?”“আমার ইচ্ছে আমি ছেলেকে দেখেশুনে বিয়ে করাবো।তোমার কোনো আপত্তি আছে?”“জ্বি।”“কি ? ”” বনু আর ভাইয়া দু’জন দু’জনকে ভালোবাসে সেখানে অন্য কাউকে দেখার প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া আপনি ভাইয়ার জন্য অন্য কোনো মেয়ে দেখলেও বিশেষ কোনো লাভ হবে না কারণ ভাইয়া আমার বোন ছাড়া কারো দিকে তাকিয়েও দেখবে না।”আলী আহমদ খান গম্ভীর কন্ঠে বললেন,” তানভির তুমি কি জানো না, খান বাড়িতে প্রেম নিষিদ্ধ? ”” প্রেম নিষিদ্ধ বলেই ভাইয়া বনুর সাথে প্রেম করার চিন্তাও করে নি । সরাসরি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনি কি চান না ভাইয়া ভালো থাকুক?”“হ্যাঁ চাই কিন্তু আমার নিয়মনীতি ভেঙে নয়।”তানভির রাগে ফোঁস করে বলে ফেললো,” কোন নিয়মনীতি ভাঙার কথা বলছেন? যেই নিয়মনীতি সন্তানের খুশি সহ্য করতে পারে না সেই নিয়মনীতি চিরতরে ভেঙে দেয়া উচিত। আপনাদের নিয়মনীতি কি সন্তানের জীবনের থেকেও বেশি দামী?”” মানে?”তানভির চুপ হয়ে গেছে।আলী আহমদ খান পুনরায় বললেন,‘কি বলতে চাচ্ছো?’তানভির গম্ভীর কন্ঠে বলল,” মেঘকে না পেলে ভাইয়া সুসা*ইড করবে। ”আলী আহমদ খান বসা থেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠলেন,“হোয়াট?”রাকিব শীতল কন্ঠে বলল,“জ্বি আংকেল। আর বিষয়টা এখন মজার জায়গাতেও নেই। আবিরের সাথে আমি পার্সোনাললি অনেকবার কথা বলেছি তার ঘুরেফিরে এই এক কথায়। ”প্রায় ৩০ মিনিটের মতো তানভির, রাসেল, রাকিব আর আলী আহমদ খানের আলাপচারিতা চলল। একদম শেষ পর্যায়ে আলী আহমদ খান শর্ত সাপেক্ষে আবিরদের সম্পর্কটা মোটামুটি ভাবে মেনে নিয়েছেন৷ রাকিবদের বিদায় দিয়ে তানভিরের সাথে আরও প্রায় ৪০ মিনিটের মতো কথা বলেছেন। সেখানে বসেই আবিরকে রাজশাহী পাঠানোর পরিকল্পনা করেন। আবিরকে একেবারে বাসে উঠিয়ে তারপর মাহমুদা খানের সাথে দেখা করতে যান। ওনার সাথে আলোচনা শেষ করে আলী আহমদ খান বাসায় ফিরে সরাসরি মেঘের রুমে যান। মেঘ তখন বিছানার বসে বসে আবিরের দেয়া আংটি টা দেখছিল আর আনমনে কত কি ভাবছিল। হঠাৎ আলী আহমদ খান রুমে ঢুকতেই মেঘ থতমত খেতে হাত পেছনে লুকানোর চেষ্টা করল কিন্তু আলী আহমদ খানের হুঙ্কারে সঙ্গে সঙ্গে হাত সামনে এনে আংটি দেখাতে বাধ্য হলো।আলী আহমদ খান গুরুভার কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,” তুমি আবিরকে ভালোবাসো?”মেঘ অবাক লোচনে তাকিয়ে আবিরের শিখিয়ে দেয়া কথাগুলো মনে করার চেষ্টা করলো কিন্তু আলী আহমদ খানের সামনে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলার মতো সাহস মেঘের নেই তাই বাধ্য হয়ে বলল,“জ্বি ”“বিয়ে করতে চাও?”মেঘ আঁতকে উঠে শীতল চোখে তাকালো। কিছুক্ষণ নীরব থেকে ধীর কন্ঠে বলল,“আপনারা রাজি থাকলে….”আলী আহমদ খান গুরুভার কন্ঠে বলে উঠলেন,” তুমি সত্যি সত্যি আবিরকে ভালোবাসলে আর বিয়ে করতে চাইলে আমি যা বলব তা মানতে হবে। যদি রাজি থাকো তাহলে তিনদিন পর ই তোমাদের বিয়ে দিয়ে দিব। বলো রাজি আছো?”মেঘ আশ্চর্য নয়নে তাকিয়ে রইলো। আলী আহমদ পুনরায় বললেন,” আবারও বলছি যদি আবিরকে নিজের করে পেতে চাও তাহলে আমার শর্ত মানতে হবে। আবিরকে চাও কি না?”মেঘ কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,“চাই।”“ঠিক আছে৷ তোমার ফোনটা আগামী তিন-চারদিন আমার কাছে জমা থাকবে। আর তুমি কোনো ভাবে আবিরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টাও করবে না। আমার সিদ্ধান্ত ছাড়া বাসার বাহিরে পাও রাখবে না।”মেঘ শক্ত কন্ঠে জানতে চাইল,” এগুলো কোনো করতে হবে, বড় আব্বু?”আলী আহমদ খান মেঘের মাথায় হাত বুলিয়ে মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করলেন,” তুমি আবিরের বউ হলে সম্পর্কে আমি তোমার কি হবো?”আলী আহমদ খানের মুখে এমন প্রশ্ন শুনে মেঘ বিস্ময় সমেত তাকিয়ে রইলো। মনের ভেতর উত্তর থাকা সত্ত্বেও দেয়ার মতো শক্তি পাচ্ছে না।আলী আহমদ খান ভারী কন্ঠে বললেন,” শ্বশুর আব্বু হবো তো নাকি?”শ্বশুর আব্বু কথাটা শুনেই মেঘ লজ্জায় নুইয়ে পড়েছে। কান দিয়ে অনবরত উষ্ণ ভাপ বের হচ্ছে। আলী আহমদ খান মুচকি হেসে বললেন,” আমার তো মেয়ে নেই তাই আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল, আমার ছেলের বউ মানে আবিরের বউ আমাকে আব্বাজান বলে ডাকবে। আজ আমি আমার ছেলের বউকে পেয়েছি তাই আজ থেকে তুমি আমায় আব্বাজান ডাকবে। ”এই অনীস্পিত, শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে মেঘ কি করবে বুঝতে পারছে না। হঠাৎ কি ভেবে, ওড়না টেনে মাথায় দিয়ে তৎক্ষনাৎ পায়ে হাত দিয়ে সালাম করল। আলী আহমদ খান সালামি দিতে দিতে বললেন,” আব্বাজান বলো শুনি একটু। ”মেঘের বুকের ভেতর উতালপাতাল ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। ইদানীং আবিরের সামনেও এতটা লজ্জা পায় না যতটা লজ্জা বড় আব্বুকে সামনে পাচ্ছে। মেঘ নিজের সাথে যুদ্ধ করে বুকে সাহস নিয়ে আস্তে করে বলল,” আব্বাজান। ”“মাশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। আমার মনের আশা আজ পূরণ হলো। এখন বলো, তুমি কি তোমার আব্বাজানের জিত দেখতে চাও না? তোমার আব্বু প্রতিনিয়ত আমার সাথে খোঁচাখুঁচি করে অথচ আমি কিছুই বলি না। তুমি যদি আমার কথা মানো তাহলে এবার আমিই জিতবো। তুমি কি চাও না আমি জিতি?”“জ্বি চাই। ”“ঠিক আছে, আমাদের মধ্যকার আলোচনা যেন তোমার আব্বুর কানে না যায়। এখন বলো তুমি কি আমার শর্তে রাজি আছো?”“জ্বি। আমি সব শর্তে রাজি কিন্তু…. ”আলী আহমদ খান জিজ্ঞেস করলেন,“কিন্তু কি? কিছু লাগবে?”মেঘ মাথা নিচু করে শক্ত কন্ঠে বলল,” আমার শুধু আবির ভাইকেই লাগবে।”“তোমার আবির ভাইকে তুমি ঠিক সময় পেয়ে যাবে, চিন্তা করো না।”সেদিনের পর থেকে তানভির আর মেঘ দু’জনকে আলী আহমদ খান যা বলেন তারা তাই করে। মেঘকে নিয়ে শপিং এ যাওয়া, ফেসিয়াল করতে পার্লারে নিয়ে যাওয়া। এমনকি তানভির এলাকার স্পাইগুলোকে পর্যন্ত আবিরের কল ধরতে নিষেধ করে দিয়েছে।সবই আলী আহমদ খানের কথায় করেছে। ওনার কথা না মানলে ওনি মেঘ আবিরের বিয়ে মানবে না এই আতঙ্কে তানভির সব মেনে নিয়েছে।প্রথম দু’দিন বাসার কেউ ই কিছু জানতে পারে নি। কিন্তু একদিন সিফাত কাউকে না জানিয়ে বাসায় চলে আসায় কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছিলো। সিফাতের চালচলন খুব একটা সুবিধাজনক মনে হয় নি তাই আলী আহমদ খান পরিকল্পনা করে তানভিরকে দিয়ে মেঘকে বাহিরে পাঠিয়ে দিয়েছিল। সিফাত বাসা থেকে যাওয়ার পর থেকে বাসায় সিফাতকে নিয়ে টুকটাক আলোচনা শুরু হচ্ছিলো। মেঘের কানে এসব গেলে মেঘ কষ্ট পাবে তাই ওনি একদিনের মধ্যে সবকিছু রেডি করে বাসার সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে। মোজাম্মেল খান আগে থেকেই রাজি ছিলেন তাছাড়া মেঘদের ব্যাপারে ওনার সিদ্ধান্ত তেমন কার্যকর নয় সেজন্য আলী আহমদ খানের কথায় শেষ কথা ছিল।
গল্পঃ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকেলেখিকাঃ সালমা চৌধুরী..................................................................................................................................................................” চোখ বেয়ে যদি এক ফোঁটা পানি পরে আর কিঞ্চিৎ মেকআপও নষ্ট হয় তাহলে তোর খবর ই আছে। দুই ঘন্টা রাস্তায় বসে থেকে তোকে সাজিয়ে নিয়ে আসছি, আমি কিন্তু আর পার্লারে নিয়ে যেতে পারব না। ”মেঘ তানভিরের মুখের পানে চেয়ে মৃদু হাসার চেষ্টা করল। তানভির সামনে গিয়ে যেই ফ্লোর থেকে রি*ভ*ল*বার উঠাতে যাবে ওমনি আলী আহমদ খান হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন,“এটা আমায় দাও, এইটুকু ছেলের হাতে এসব থাকতে হয় না। আজ থেকে এটা আমার কাছেই থাকবে।”তানভির রি*ভ*লবা*র উঠিয়ে আবিরকে একপলক দেখে নিল। তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সে এখন এই জগতে নেই। বড় আব্বুর কথামতো তানভির রি*ভল*বার বড় আব্বুর হাতে দিয়ে দিল।মোজাম্মেল খান কপট দুষ্টামির স্বরে বললেন,” ভাইজান, তুমি যেন কেন কিনছিলা? আর কত বছর বয়সে কিনছিলা?”” আমি রাজনীতি করতাম অনেকের সাথে শত্রুতা ছিল তাই নিজের নিরাপত্তার জন্য কিনেছিলাম। বয়স যতই হোক সেটা বড় বিষয় না।”মোজাম্মেল খান হেসে বললেন,” তোমার নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে আর আমার মেয়ের জামাইয়ের কি নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই? আমার একমাত্র মেয়েকে দিয়ে দিচ্ছি, নিরাপদে রাখতে না পারলে বুঝাবো পরে।”তানভির দুই ভাইয়ের কথা শুনে মুখ চেপে হাসছে। আবির তখনও মেঘকে জড়িয়েই বসে আছে। মোজাম্মেল খানের কন্ঠে আমার জামাই শব্দটা কানে বাজতেই আবিরের কান্না কমে এসেছে। আলী আহমদ খান চাপা স্বরে বললেন,” আজ ই আমার ছেলেকে নিজের জামাই বলতে শুরু করে দিয়েছিস! ”মোজাম্মেল খান স্ব শব্দে হেসে বললেন,” আমার আরও আগে থেকেই জামাই ডাকা উচিত ছিল। শুধুমাত্র তোমার মন খারাপ হবে ভেবে এতদিন ডাকি নি। চ্যালেঞ্জে তো সেই কবেই জিতে গেছি আমি। ”আলী আহমদ খান গুরুগম্ভীর কন্ঠে বললেন,” চ্যালেঞ্জে জিতেছিস বলেই তো এতদিন এত খোঁচা দিয়েছিস আমায় আর আমি চুপচাপ সহ্য করেছি। কিন্তু তোকে আমি আগেই বলেছিলাম, চ্যালেঞ্জে তুই জিতলেও আমি হার মানবো না।দেখলি তো, আমি হার মানি নি আর মানবোও না। আর একটা কথা, খুশি হইতেছিস হ, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই কিন্তু আমাকে আর খোঁচাতে আসিস না। দোয়া কর যেন তোর জিত হারে পরিণত না হয়। ”আলী আহমদ খান পুনরায় গিয়ে সোফায় বসলেন, মোজাম্মেল খান পেছন পেছন যেতে যেতে শুধালেন,” তুমি কি বলতেছো ভাইজান? বুঝিয়ে বলো।”তানভির কিছু বলতে যাবে তখনি মীম, আদি, আইরিন, আরিফ, জান্নাত, আসিফদের হৈচৈ শুনতে পেল। আকলিমা খান, মাহমুদা খান, ইকবাল খান একসঙ্গে বাসায় ঢুকেন। ইকবাল খান প্রথমে ঢুকে আবির মেঘকে দেখেই গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,” আবির, আশেপাশে ছোট ভাই বোনেরা আছে। ”মীমদের হৈ-হুল্লোড়ের শব্দ কানে ঢুকতেই আবির মেঘকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। জান্নাত, আসিফ, আরিফ মিটিমিটি হাসছে। তারাও যে দেখেছে চোখ মুখের ইশারায় সেটায় বুঝাচ্ছে। ওদের সবার হাতে বেশ কয়েকটা করে শপিং ব্যাগ। মালিহা খান সবার পেছনে ছিলেন, ওনি ভেতরে এসে আবিরের চোখে পানি দেখে এগিয়ে গেলেন, ছেলের চোখ মুছতে মুছতে ঠান্ডা কন্ঠে বললেন,” কাঁদছিস কেনো?”আলী আহমদ খান সবাইকে একপলক দেখে মালিহা খানকে উদ্দেশ্য করে বললেন,” তোমরা এত দেরি করে আসলে কেনো? আর কিছুক্ষণ আগে আসলেই ছেলের করুণ পরিণতি দেখতে পারতে। তখন তুমিও ছেলের মতো বসে বসে কান্না করতে।”আবির শীতল কন্ঠে বলল,” আম্মু, তুমিও কি জানতে? ”“জানতাম, তবে এতকিছু জানতাম না। গতকাল সন্ধ্যার পর তোর আব্বু সবাইকে ডেকে হুট করে তোর আর মেঘের বিয়ের কথা বলে বসলেন। কারো কোনো আপত্তি আছে কি না জিজ্ঞেস করলেন, যেখানে তোর আব্বু নিজে থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর ঘরের মেয়ে ঘরে থাকবে এতে আমাদের তো খুশিই হওয়ার কথা। তারপরও আমার তোকে নিয়ে একটু ভয় ছিল, তুই রাজি হবি কি না! তখন তোর আব্বু বললো তোর মতামত জেনেই ওনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই আমিও রাজি হয়ে যায়। তোর আব্বু সবাইকে শর্ত দেন, যেন তুই আসার আগ পর্যন্ত বাসার কেউ কোনোভাবে তোকে কিছু না জানায়। তুই তো জানিস, ওনার কথা অমান্য করা আমার পক্ষে সম্ভব না, তাই তোকে কিছু জানাতে পারি নি।”মালিহা খান শ্বাস ছেড়ে নিজেকে ধাতস্থ করে আবিরকে আবারও জিজ্ঞেস করলেন,” তুই মেঘকে বিয়ে করতে রাজি তো? নাকি অন্য কাউকে পছন্দ করিস?”আবির শীতল চোখে মালিহা খানের মুখের পানে তাকিয়ে রইলো। মালিহা খান যে এসবের কিছুই জানেন না এটা বুঝতে সময় লাগল না। আবির কিছু বলার আগেই আলী আহমদ খান পকেট থেকে একটা ফোন বের করে টেবিলের উপর রাখতে রাখতে মেকি স্বরে বলে উঠলেন,” যে ছেলে ৫১৪৬ মিনিটে ৫৭৩৮ বার কাউকে কল দিতে পারে তাকে তুমি জিজ্ঞেস করছ সে বিয়ে করতে রাজি আছে কি না! কি সুন্দর দৃশ্য! ”মালিহা খান কপাল গুটালেন। মোজাম্মেল খানও আশ্চর্য নয়নে তাকালেন। আবির ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে গেল সোফার কাছে, পিছু পিছু মেঘও এগিয়ে গেল। মালিহা খান চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,” কিসের ৫ হাজার কত মিনিট আর ৫ হাজার কত কলের কথা বলছেন। কি হয়েছে?”আলী আহমদ খান ফোনটা হাতে নিয়ে সবাইকে দেখিয়ে বললেন,” এই যে ফোনটা, এটা মেঘ মামনির ফোন। গত তিন-চারদিন যাবৎ আমার কাছে রেখেছিলাম। একবার ভেবেছিলাম বন্ধ করে রাখব কিন্তু ছেলেকে পরীক্ষা করতে ফোনটা ইচ্ছে করেই খুলে রেখেছিলাম। বিশ্বাস করবা না, মিনিটে ২-৩ বার করে কল দেয়। আর আমি ফোনের দিকে তাকিয়ে কেবল ভাবছিলাম, এই পাগল ছেলে আমার হতে পারে না। ”সবার নজর আবিরের দিকে। আবির কিছুটা লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নিয়েছে। মেঘ ফিসফিস করে বলল,” আমি ভাবতেও পারি নি, আপনি এত কম কল দিবেন। অন্ততপক্ষে ১০ হাজার কল আশা করেছিলাম।”আবির ভ্রু কুঁচকে ভারী কন্ঠে বলল,” মুখ টা বন্ধ রাখুন নয়তো আপনার কপালে দুঃখ আছে।”মালিহা খান উত্তেজিত কন্ঠে বললেন,” আবির তাহলে মেঘকে আগে থেকেই পছন্দ করে।”মোজাম্মেল খান ঠাট্টার স্বরে বললেন,“ভাবি, আমি এই কথাটায় ভাইজানকে গত এক বছর যাবৎ বুঝাচ্ছিলাম। কিন্তু ওনি কিছুতেই বুঝতে চাইছিলেন না, ওনার একটায় কথা ওনার ছেলে এমন কাজ করতেই পারে না। ভাইজান কেমন মানুষ এটা তো আপনার অজানা নয়।”আবির-মেঘ দুজনেই আশ্চর্য নয়নে তাকিয়ে আছে। বাকিরা সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন। মালিহা খান অবাক চোখে তাকিয়ে বলে উঠলেন,“এক বছর?”মোজাম্মেল খান তপ্ত স্বরে বলতে শুরু করলেন,” আমি এক বছরের আরও ৩-৪ মাস আগে জানতে পেরেছি। আমার এক বন্ধু একদিন আমাকে আবির আর মেঘের একটা ছবি পাঠিয়েছিল, সে আবিরকে চিনতে পারে নি। মেঘকে এক ছেলের সাথে দেখে আমাকে জানানোর জন্য ছবিটা পাঠিয়েছিল। ছবিটা দেখে আমার অবশ্য ঐরকম কিছু মনে হয় নি। কিন্তু মেয়ের বাবা যেহেতু তাই মনে একটু সন্দেহ ঢুকেছিল।যেখানে আবির বাসায় মেঘের সাথে ঠিকমতো কথা বলে না, যতটুকু বলে সেটাও বড় ভাইয়ের মতো, ফরমাল কথাবার্তা সেখানে আড়ালে সে আমার মেয়েকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই থেকে আমি পর্যবেক্ষণ শুরু করলাম, আবিরের হালচাল বুঝতে বেশি সময় লাগলো না। মেঘ, মীম দুজনের প্রতি আবির যথেষ্ট পসেসিভ কিন্তু মেঘের প্রতি একটু বেশিই। সারা দুনিয়ার খবরেও তার বিশেষ মনোযোগ নেই যেই মেঘের বিষয়ে কথা উঠে ওমনি সে মনোযোগী শ্রোতা হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত আবির হাতে গুনা দু একদিন মেঘকে বাসা থেকে বাইকে নিয়ে বেড়িয়েছে অথচ সে প্রায় ই মেঘকে নিয়ে শহরে ঘুরে। দু-একবার আমি নিজের চোখে দেখেছি। তাদের রাস্তায় দেখে, আমি বাসায় এসে তাদের জন্য অপেক্ষা করতাম কিন্তু মেঘ আসলেও সাথে আবির থাকতো না। আমার বন্ধু, ছোট ভাই, বড় ভাই যারা আমার মেয়েকে চিনে তাদের সাথে দেখা হলেই বলতো, তোর মেয়েকে এখানে দেখেছি, ওখানে দেখেছি সাথে তোর ভাইপো ছিল। ভাইজানকে বলায় ওনি বিষয়টা পাত্তায় দেন নি উল্টো আমায় যা খুশি বলেছেন। ঐরকম শক্ত প্রমাণ ছিল না বলে আমিও অনেকদিন ভাইজানকে কিছু বলতে যায় নি। হঠাৎ একদিন আমি অফিস থেকে ফিরছিলাম, সন্ধ্যার পর হয়ে গেছিল। দেখলাম আমাদের বাসা থেকে কিছুটা দূরে মেঘ আবিরের বাইক থেকে নামছে। আমি আনমনেই সেখানে দাঁড়িয়ে পড়লাম। সামনেই বাসা এখানে নামার কারণ খোঁজে পেলাম না তবুও তাকিয়ে রইলাম। মেঘ বাসার গেইট পর্যন্ত ঢুকতেই আবির বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে গেছে৷ আমাকে দেখেছে কি না জানি না কিন্তু সেদিন আমি আমার সন্দেহের সত্যি প্রমাণ পেয়ে গিয়েছিলাম । বাধ্য হয়ে ভাইজানকে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বললাম কিন্তু ওনি পূর্বের ন্যায় একই আচরণ করলেন। ওনার চোখে ওনার ছেলে নিষ্পাপ। ওনার একটায় কথা আবির এমন ছেলে ই না। ”আলী আহমদ খান এবার ঠান্ডা কন্ঠে বলতে শুরু করলেন,” কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। আমি আবিরকে চিনতে বা বুঝতে ভুল করেছিলাম। আবিরের এত বছর বয়সে আমি কোনোদিনও কোনো বিষয়ে তাকে নিষেধাজ্ঞা দেয় নি। রাজনীতি করতে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু সেটা আমার নিষেধাজ্ঞা ছিল না, আমি আবিরকে সবটা বুঝিয়ে বলেছিলাম তারপর সে নিজেই ছেড়ে দিয়েছিল। দেশের বাহিরে গেছে তার ইচ্ছায়, দেশে আসছে তার ইচ্ছায়, বাইক কিনা, বিজনেস স্টার্ট করা, ব্যাংক থেকে টাকা তুলা এছাড়াও বাকি যা কিছু করেছে তার কোনোকিছুতেই আমি আবিরকে নিষেধাজ্ঞা দেয় নি। আমি শুধু কারণ জানতে চেয়েছি। কোনো কিছু করতে বারণ করলেও কেনো বারণ করি সবসময় সেটায় বুঝাতে চাইতাম। হঠাৎ কোনো কারণে রাগ দেখালেও অফিসে বসে চা খেতে খেতে ছেলেকে ঠান্ডা মাথায় সব বুঝিয়ে বলতাম, এগুলো তোমরা জানো? না, জানো না।ছেলেদের বয়স ২০-২৫ বা তার উপরে গেলেই বাবা ছেলের সম্পর্কে বিশাল ফাটল ধরে যায়। সেই ফাটলের কেন হয় তা জানা নেই। আমাদের সম্পর্কে আমি সেই ফাটলটা ধরাতে চায় নি। আমি সবসময় একজন দায়িত্বশীল, নিষ্ঠাবান আর ভালো বাবা হবার চেষ্টা করতাম। আমি নিজের নীতি নৈতিকতায় যতই কঠোর থাকি না কেন, আবিরের জন্য সবসময় নিজের বেস্টটায় করেছি। আমার ছেলে আমাকে তার বন্ধু ভাববে, তার মনের কথা বলবে, কাউকে ভালো লাগার কথা আমাকে জানাবে। আমি কি সেটা আশা করতে পারি না? আবিরের যখন যা প্রয়োজন ছিল সে নির্দ্বিধায় চেয়েছে, তাহলে মেঘকে কেনো চাইতে পারল না? আমার ছেলের ভালোবাসার কথা অন্য কারো মুখে কেনো শুনতে হলো আমায়? আমার বার বার মনে হতো আবির মেঘকে পছন্দ করলে নির্দ্বিধায় আমাকে বলবে। আমি আমার জায়গায় কনফিডেন্ট ছিলাম। ওটায় কি আমার ভুল ছিল?”মাহমুদা খান, মালিহা খান, হালিমা খান সবাই নিশ্চুপ। মেঘ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আবির কন্ঠ দ্বিগুণ ভারি করে বলতে শুরু করল,” সরি আব্বু। আপনি আপনার জায়গাতে ঠিক থাকলেও আমার মনে ভয় ছিল। একটা সময় পর্যন্ত আপনি সত্যি আমার বন্ধুর মতো ছিলেন, কখনো কিছু চাইতে গেলে বা বলতে গেলে দ্বিধা বোধ করি নি। এমনকি আম্মুর সাথেও এত কথা শেয়ার করি নি যত কথা আপনার সাথে শেয়ার করেছি। কিন্তু ধীরে ধীরে বড় হচ্ছিলাম আর না চাইতেও দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছিল। ছোটখাটো কোনো বিষয় নিয়ে আপনাদের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি টা মনে প্রতিনিয়ত দাগ কাটছিল। আপনাদের ব্যবসা, সমাজ আর পরিবারের মানসম্মান আপনাদের কাছে এটায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে বাড়ির সন্তানদের সঠিক মূল্যায়ন দিতে ভুলে যাচ্ছিলেন। আশেপাশের মানুষ কি বলল, সমাজ আপনাদের কতটা মূল্যায়ন করলো, কোথায় আপনাদের স্ট্যাটাস ভালো সেসব নিয়ে এতটায় ব্যস্ত হয়ে পরেছিলেন যে বাসায় কোন ছেলেটার মন খারাপ, কোন মেয়েটার মন খারাপ, ঠিক কি কারণে মন খারাপ সেটা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করতেন না। ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়লো, মনের টান কমলো। তবুও বলব আপনি সত্যি একজন দায়িত্বশীল বাবা ছিলেন এবং আছেন৷ আমার পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে আপনি সব ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন আমায় কল দিয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন। আপনার আশেপাশে মানুষের ভিড় থাকলেও আমার কলটা রিসিভ করে বাবার দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনি বাবা হিসেবে বেস্ট ছিলেন আছেন এবং থাকবেন। কিন্তু ঐ যে বললাম বন্ধুর মতো, ঐ বন্ধুর মতো সম্পর্কটা হারিয়ে ফেলেছিলাম। মন খুলে কিছু বলতে ভয় পেতাম। তবুও সাহস নিয়ে নিজেকে গোছাচ্ছিলাম, বাসায় মেঘেকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার জন্য যতটা সম্ভব মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেশে ফেরার এক বছর আগে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফুপ্পির সাথে আমার পরিচয় হলো। ফুপ্পির সম্পর্কে, এই বাসার নিয়ম নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আমি দিশা হারিয়ে ফেলেছিলাম। কি করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। যেখানে একমাত্র বোনের ভালোবাসার সম্পর্ক মেনে না নিয়ে ২৭ বছর সম্পর্ক ছিন্ন রাখতে পারেন সেখানে আমি কে? আপনার নিয়মনীতি আর মানসম্মানের জন্য আপনি সব করতে পারেন৷ মেঘকে না জোর করে আমার থেকে আলাদা করে দেন সেই ভয়ে বাসায় ফিরে মেঘের কথা আপনাদের বলা তো দূর মেঘের সাথেইঠিকমতো কথা বলতে সাহস পেতাম না। মেঘের থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতাম, ওর চোখে চোখ রাখতে পারতাম না৷ প্রতিনিয়ত ভয় হতো,আপনাদের নিয়মনীতির ভিড়ে এই বুঝি আমি ও কে হারিয়ে ফেলব।”আলী আহমদ খান গম্ভীর কন্ঠে বললেন,” তারমানে তোমার ফুপ্পির সাথে তোমার আগে থেকেই পরিচয় ছিল? অবশ্য এটা আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম। রাকিব তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড, তার বোনকে তানভিরের মাধ্যমে বাসায় আনিয়েছো। রাকিবের বোনের বিয়ের খবর তোমার অজানা থাকার কথা না আর সেখানে তার শ্বশুর শ্বাশুড়ির সাথে পরিচিত হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু তুমি যেসব ভেবে ভয় পেয়েছিলে সেটা নিতান্তই তোমার ভুল ধারণা ছিল। তোমার ফুপ্পির ঘটনা আজ থেকে বহু বছর আগে, তখনকার পরিস্থিতি বর্তমানের মতো ছিল না। তখন সমাজ প্রেমের বিয়েকে এত সহজ ভাবে মেনে নিতোও না। কোনো বাড়ির মেয়ে পালিয়ে গেলে বা নিজের মতো বিয়ে করলে ঐ এলাকায় সেই মেয়ের আর তার পরিবারের নামে দুর্নাম ছড়িয়ে পড়তো। সমাজের চোখে সেই পরিবার বিষাক্ত হয়ে যেত। বর্তমানে যুগ পাল্টে গেছে, প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পরিবার আর আগের মতো দ্বিধা করে না। ”ইকবাল খান শান্ত স্বরে বললেন,” সব ই বুঝলাম কিন্তু তোমরা যেহেতু সব জানতে আর মেনেই নিয়েছিলে তাহলে এতদিন কেন কিছু বললে না।”মোজাম্মেল খান ধীর কন্ঠে বললেন,” বললাম না, আমি মানলেও ভাইজান মানতে চান নি।”“তারপর কি হয়েছে? কাল ই বা হঠাৎ ভাইজান মেনে নিলেন কিভাবে?”“কাল হঠাৎ মানলেন কেন এটা আমিও জানি না। কিন্তু ভাইজান এমনিতেই মেনে নেন নি এটা সিউর। একবছর আগে আমি যখন ভাইজানকে বিস্তারিত বলেছিলাম তখন ভাইজান বিশ্বাস করেন নি, তখন আমি বলেছিলাম যেন আবিরকে ওনি পরীক্ষা করেন। আবিরকে বিয়ের কথা বললে আবির কিভাবে রিয়েক্ট করে সেটায় বুঝতে চাইছিলাম। আবির স্পষ্টবাদী ছেলে তাই ভেবেছিলাম সে মেঘের কথা বলে দিবে কিন্তু সে বলল না। ভাইজান খাবার টেবিলে বসে আমার দিকে তখন অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। তাই আমিও আবিরকে রাগানোর জন্য অন্য মেয়ের কথা বলেছিলাম, যেন মনের কথা বলে দেয়। আবির এমনভাবে রিয়েক্ট করল, সাথে ১ বছরের জন্য বিয়ে স্থগিত করে দিল। সবার সামনে কিছু না বললেও ভাইজান আড়ালে আমায় যাচ্ছেতাই কথা শুনিয়েছে। আবির মেঘকে ঐ নজরে দেখে না, পছন্দ করে না হেনতেন আরও অনেক কিছু। তখন আমার ভেতরেও জেদ ঢুকে। আমিও ভাইজানের সাথে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আবির মেঘকে পছন্দ করে এটা আমি প্রমাণ করেই ছাড়বো। তারপর শুরু হলো মেঘের জন্য ছেলে দেখা। আমার খুব কাছের বন্ধু দেশে ফেরায় এমনিতেই তাকে আর তার বিবাহিত ছেলেকে বাসায় দাওয়াত দিলাম। আবিরকে শুনিয়ে বললাম মেঘকে দেখতে আসবে। ভেবেছিলাম আবির রিয়েক্ট করবে। কিন্তু না, আবির কোনো প্রকার রিয়েক্ট করল না, মুখ ফুটে কিছু বললও না। তানভির একায় রাগারাগি করল। ভাইজানের সামনে আবারও প্রমাণ হয়ে গেল আমি ভুল ওনি ঠিক। ভাইজানের কাছে ভুল প্রমাণিত হলেও বিকেলে যখন বন্ধু আর তার ছেলে বাসায় না আসায় আমি আমার সত্যতার প্রমাণ পেয়েছিলাম। দ্বিতীয়বার তানভির, আবিরকে না জানিয়ে ছেলে আনার সিদ্ধান্ত নেয়, সেবারও আবির কোনো না কোনোভাবে খবর পেয়ে গেছিল হয়তো খবর টা বাসা থেকেই কেউ দিয়েছিল। তখন ভাইজান আমাকে বলছিলেন, আমি ছেলে বাসায় এনে তারপর যেন ওনাকে জানায়। ওনার কথার আসল মিনিং এটায় ছিল, মেঘের বিয়ে ভাঙার ব্যাপারে আমি শুধু শুধু আবিরকে সন্দেহ করছি, আবির এসবের কিছুই জানে না, পারলে ওনার সামনে প্রমাণ করতাম নয়তো আবিরকে দোষারোপ না করতে। আমিও সেই কথা মাথায় রেখে ছেলে নিয়ে বাসায় আসলাম। হুট করে আবির বাসায় এসে চিৎকার করলো, নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ না করে উল্টো ছয়মাস বিয়ে বন্ধের হুঙ্কার দিল। আমি মেনে নিয়েছিলাম, কারণ আমি সেদিন জিতে গিয়েছিলাম। ভাইজানের সামনে প্রমাণ করে দিয়েছিলাম মেঘের প্রতি আবিরের অন্যরকম টান আছে। কিন্তু ভাইজান মানতে পারলেন না। ওনি আমার কাছে হেরে গেছেন এটা ওনি মানতেই পারছিলেন না৷ আমার জেতার খুশি সহ্য করতে না পেরে ভাইজান আবিরের উপর ইচ্ছেমতো রাগ ঝাড়লেন, আবিরও রাগ করে বাসা ছেড়ে চলে গেল। দুতিনদিন পর ভাইজানের রাগ কিছুটা কমেছে, তখন নিজের হার মেনে নিয়ে আবিরকে বাসায় আনার চেষ্টা করেছেন। তবে এটা ঠিক ভাইজান বহুবার চেষ্টা করেছেন, আবির যেন মেঘের কথা ভাইজানকে জানায় তারজন্য ভাবি কে দিয়েও চেষ্টা করিয়েছেন৷ আবির বাহিরে যাওয়ার আগের দিন সকালেও ভাইজান আবিরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আবির কিছু বলতে চায় কি না! কিন্তু আবির কিছু না বলেই চলে গিয়েছিল, এদিকে ভাইজান নিজের হার মন থেকে মানতে পারছিলেন না তাই প্রতিনিয়ত আমার সাথে ফোঁস ফোঁস করতেন৷”
গল্পঃ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকেলেখিকাঃ সালমা চৌধুরী..................................................................................................................................................................বন্যা ভ্রু গুটিয়ে শক্ত কন্ঠে বলল,“আপনার কোনো দোষ নেই। আপনি তো অপাপবিদ্ধ। সব দোষ আমার, আমি কেন এত ভাবি?”“তুমি দায়িত্বশীল, বিনম্র একটা মেয়ে। তুমি ভাববে না তো কে ভাববে বলো। তাছাড়া তুমি সেদিন বনুকে কথাগুলো না বললে বনু আর ভাইয়ার অসাধারণ মোমেন্টগুলো মিস হয়ে যেত আর সবাইকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য ভাইয়াকে যেকোনো পর্যায়ে যেতে হতো। এখন আলহামদুলিল্লাহ সবকিছু আমি সামলে নিয়েছি, যা ঝড় গিয়েছে সব আমার উপর দিয়েই গিয়েছে। ভাইয়ার খুব বেশি ফাইট করতে হয় নি। আর বনুর কথা কি বলল, ও তো গত তিনদিন সারাটাক্ষন শুধু বন্যা আর বন্যায় করে যাচ্ছিল। আজ সকালে আমাকে রীতিমতো থ্রেট দিয়েছে, বিকেলের মধ্যে তোমাকে যেভাবেই হোক বাসায় নিয়ে যেতে হবে। বনুর ভাইয়াকে পাওয়ার খুশির থেকেও বেশি কষ্ট লাগছিল তোমাকে ওর মনের কথাগুলো বলতে না পারাতে। বাসায় তো সেভাবে কথা বলতে পারতাম না, কিন্তু বনুকে নিয়ে বের হলেই তোমার সাথে দেখা করতে পাগলা হয়ে যেতো। কিন্তু কি করতাম বলো, বড় আব্বু একদম সময় বেঁধে কোনো কাজে পাঠাতেন। তুমি তো জানোই ওনি এক কথার মানুষ, কাজে এদিক সেদিক হলে খবর আছে। বাই চান্স আমার কারণে ভাইয়ার বিয়ে আঁটকে গেলে আমি সারাজীবনেও নিজেকে মাফ করতে পারতাম না। ভাইয়ার সামনে দাঁড়ানোর যোগ্যতা হারিয়ে ফেলতাম। আমার মুখের সামান্য একটা কথাতে ভাইয়া যে মস্ত বড় ভুল সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল আমি চাই নি সেই সিদ্ধান্তের জন্য বর্তমানে ওদের উপর কোনো প্রভাব পড়ুক। তাই ভাইয়াকে সারপ্রাইজ দিতে নিজেকেই বলির কুমড়ো হতে হয়েছে। সেই সাথে ভাইয়ার সারপ্রাইজের কিছুটা প্রভাব তোমার উপরও পড়ে গেছে। তারজন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। এখন কি কানে ধরতে হবে?”বন্যা থতমত খেয়ে বলল,” না, কানে ধরতে হবে না। আপনি একটু অপেক্ষা করুন আমি রেডি হয়ে আসছি।”“আচ্ছা। ”তানভির নিচে চলে আসছে। বন্যার বোন চা নাস্তা দিয়ে মেঘের বিয়ের বিষয়ে কথা বলছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে বন্যা নিচে এসে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,“আব্বু আম্মু আসে নি এখনও?”“না। আমি আব্বুকে আগেই বলে রাখছি, তুই যা সমস্যা নেই।”তানভির ধীর কন্ঠে বলল,” আমি ভাবছিলাম রিদকে নিয়ে যাব।”” রিদ যাবে না। বিয়েতে ওর ইন্টারেস্টি কম, ও শুধু ঘুরতে পছন্দ করে। এখন যদি বলা হয় চল সিলেট যায়, দু মিনিটও লাগবে না সে ব্যাগ নিয়ে হাজির। আর যদি মুখ ফস্কেও বলে ফেলি বিয়েতে যেতে হবে। তাহলে ওর তালবাহানা শুরু হয়ে যাবে। ওর আশা করে লাভ নেই তার থেকে বরং বন্যাকে নিয়ে যাও।”“আচ্ছা আপু। কাল- পরশু দু’দিনের ই দাওয়াত রইলো। অবশ্যই আসবেন, প্লিজ।”“আচ্ছা, ঠিক আছে। সাবধানে যেও।”“বন্যা, তুই ও সাবধানে থাকিস।”“আচ্ছা।”তানভির বন্যাকে নিয়ে বেড়িয়ে মোখলেস মিয়ার দোকান পর্যন্ত আসতেই মোখলেস মিয়াকে নজরে পড়লো। ওনি ওদের দেখে বসা থেকে দাঁড়িয়ে পরেছেন। তানভির একটু সামনে গিয়ে বাইক থামিয়ে ঠান্ডা কন্ঠে বলল,“আমি আসছি এখুনি। ”তানভির মোখলেস মিয়ার সামনে এসে ভ্রু নাচাতেই, মোখলেস মিয়া ভারী কন্ঠে বললেন,” কি হইতাছে?”তানভির তপ্ত স্বরে বলল,” আপনার বউরে আমার বাড়িত লইয়া যাইতাছি।”“কেরে?”“আর কত বাপের বাড়িত থাকবো। শ্বশুরবাড়ির হাওয়া-বাতাসেরও তো দরকার আছে নাকি?”“আমার বউয়ের কিছু হইলে আমি কিন্তু তোমারে ছাইড়া দিতাম না।”“অ্যাহ! আসছে। নিজের দুইটাকে সামলান আমার টা আমি বুঝে নিব। আপনাকে শুধু জানাতে আসছিলাম, এখন আসি।”বন্যাকে নিয়ে বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যার পর হয়ে গেছে। আবিরদের পুরো বাড়ি লাল, গোল্ডেন, বেগুনি, সবুজ, নীল রঙের আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে।বাসার সামনে বিশালাকৃতির গেইটে বড় করে আবির-মেঘের নাম লেখা। বন্যা মন্ত্রমুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে। মেঘের দুই বছরের অনাবিল ভালোবাসার পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে। গেইট পার হতেই মোজাম্মেল খান আর আলী আহমদ খানের সাথে দেখা। বন্যা সালাম দিতেই ওনারা একসঙ্গে সালামের উত্তর দিলেন। বন্যার ব্যাগের দিকে এক নজর তাকিয়ে মোজাম্মেল খান ঠান্ডা কন্ঠে হুঙ্কার দিলেন,“তানভির, ব্যাগ টা কি তুমি নিতে পারো না?”তানভির মাথা নিচু করে হাত বাড়িয়ে ব্যাগ টা নিতে নিতে বিড়বিড় করল,“আমি আগেই নিতে চেয়েছিলাম, দেয় নি৷”মোজাম্মেল খান শুনলো কি না কে জানে। বন্যা ওনাদের সাথে অল্পস্বল্প কথা বলে ভেতর চলে গেছে। ড্রয়িংরুম ভর্তি আত্মীয়স্বজন। মেঘের মামা বাড়ির মানুষজনও ততক্ষণে চলে আসছে। মীমের মামা বাড়ি, খালার বাড়ি থেকেও অনেকেই আসছে। তাছাড়া এলাকার মানুষ তো আছেই। এত এত মেহমান দেখে বন্যা মাথা নিচু করে দ্রুত মেঘের রুমে চলে আসছে। মেঘ লেহেঙ্গা পড়ে পুরোপুরি রেডি হয়ে বিছানায় বসে বসে বন্যাকে একের পর এক মেসেজ দিচ্ছে, বার বার কল দিচ্ছে। অকস্মাৎ বন্যা কোমল কন্ঠে ডাকল,“ননদীনি”মেঘ চোখ তুলে তাকিয়ে বন্যাকে দেখেই ছুটে গিয়ে বন্যাকে জড়িয়ে ধরে আবেগ জড়িত কন্ঠে বলতে শুরু করল,“আমার খুব কান্না পাচ্ছিলো, তোকে বার বার কল দিচ্ছি, মেসেজ করছিলাম তুই রেসপন্স করছিলি না। আমি ভাবছিলাম তুই বোধহয় আসবিই না। এই আনন্দের দিনে তুই আমার পাশে না থাকলে আমার সব আনন্দ মাটি হয়ে যেতো। তুই বিশ্বাস করবি না, বড় আব্বু আমার ফোন নেয়ার পর থেকে তোর সাথে একটু কথা বলার জন্য আমি কি পরিমাণ ছটফট করেছি৷ অন্য কারো ফোন দিয়ে কল দেয়ার মতোও অবস্থা ছিল না। বড় আব্বু এই তিনদিন অফিসেও যান নি, সারাক্ষণ বাড়িতে ছিলেন। ফেসিয়াল করতে পাঠানো, শপিং এ পাঠানো থেকে শুরু করে আমার খাওয়া, রেস্ট সবেতেই ওনি নজরদারি করেছেন। আমি সুযোগ পেলেই ভাইয়াকে তোর কথা জিজ্ঞেস করতাম। ভাইয়া কবে নিজের মনের কথা আমাকে বলবে আমি সেই আশা পর্যন্ত করি নি। সকালে ভাইয়াকে বলেছি, যদি তোকে আনতে না পারে তাহলে যেন আজ বাসায় না আসে।”বন্যা মোলায়েম কন্ঠে বলল,” আমি সবই বুঝতে পেরেছি। কোনো সমস্যা নেই। তুই যে বিপদে ছিলি এটা ঠিকই বুঝতে পারছিলাম কিন্তু আমার রাগ উঠেছিল তোর ভাইয়ের উপর৷ ওনি মেসেজের রিপ্লাই করে না, ফোন নাম্বার ব্লক করে রেখেছিল হুট করে আজ কল দিয়ে বলল আগামীকাল বনুর বিয়ে। এই কথা শুনামাত্র আমার মেজাজ মাত্রাতিরিক্ত খারাপ হয়ে গেছিলো সেই যে ফোন সাইলেন্ট করেছিলাম এখনও ওভাবেই আছে।সেসব ভেবে এখন মন খারাপ করে সাজ নষ্ট করতে হবে না, বেবি।”মেঘ বন্যাকে ছেড়ে আদুরে কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,” আমাকে কেমন লাগছে বেবি?”” আমি আর উত্তর দিব না। আজ থেকে যত কমপ্লিমেন্ট দেয়ার সব আমার ভাসুর দিবে। ”” ওনার নির্লজ্জ মার্কা কমপ্লিমেন্ট শোনার কোনো ইচ্ছে নেই আমার। ওনি এখন আর আগের মতো নেই। ”তানভির গলা খাঁকারি দিয়ে আস্তে করে বলল,“এইযে ব্যাগ টা। মামা মামীদের সাথে কথা বলতে বলতে দেরি হয়ে গেছে।”মেঘ আহ্লাদী কন্ঠে বলল,“ধন্যবাদ ভাইয়া, লাভ ইউ।”” থাক, এখন আর ভালোবাসা দেখাতে হবে না৷ দিছিলি তো বাসা থেকে বের করে, তোর বান্ধবীর রাগ না কমলে আমি এখন মোখলেস দাদার দোকানে সিঙ্গারা বেঁচতাম।”মেঘ ফিক করে হেসে উঠল। তানভির বন্যার দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,” শাড়ি পড়ে তাড়াতাড়ি রেডি হও।”যেতে যেতে আবার থামলো, ঘাড় ঘুরিয়ে হাসিমুখে বলল,“লাভ ইউ টু। ”মেঘ চাপা স্বরে বলে উঠল,” কাকে বলছো?”বন্যা মেঘের দিকে তাকিয়ে রাগে কটমট করছে। তানভির ভারী কন্ঠে জানতে চাইল,” কিছু বলছিস?”“না। ”বন্যা শাড়ি পড়ে মেঘের রুমেই সাজুগুজু করছে। ধীরে ধীরে মেঘের মামীরাও মেঘকে দেখতে আসছে। জান্নাত আর আইরিন মিলে মীমকে জোর করে শাড়ি পড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে মোটামুটি ৮-১০ জন মেঘের রুমে উপস্থিত। লেহেঙ্গা পড়ার কারণে মেঘ ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারছে না তাই চুপচাপ বিছানায় বসে বসে সবার সাজগোছ দেখছে। আবির মেঘকে দেখতে মেঘের রুমের দরজায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। রুম ভর্তি এত মানুষ দেখে সঙ্গে সঙ্গে কপাল কুঁচকালো। ঘাড় কাত করে মেঘকে দেখার চেষ্টা করবো। লেহেঙ্গা পড়ে রাজরানী সেজে বিছানার ঠিক মাঝ বরাবর বসে আছে মেঘ৷ মেঘকে দেখেই আবিরের হৃৎস্পন্দন জোরালো হচ্ছে, কেউ দেখার আগে আবির দরজা থেকে সরে কিছুটা দূরে গিয়ে উচ্চস্বরে ডাকল,“মেঘ..”মেঘ বিছানা থেকে নামতে নামতে উত্তর দিল,“জ্বি”আবির পুনরায় ডাকল,“মেঘ..”মেঘ দু’হাতে লেহেঙ্গা কিছুটা উঠিয়ে দরজা পর্যন্ত ছুটে গেল। দরজার সামনে আবিরকে না পেয়ে ভ্রু কুঁচকে আবির কোথায় আছে দেখার জন্য বেলকনির দিকে ঝুঁকল৷ আচমকা মেঘের স্নিগ্ধ গালে ঠোঁট ছোঁয়াল আবির। মেঘ পূর্ণব্যাদিত আঁখিতে তাকানোর পূর্বেই আবির দ্রুত স্থান ত্যাগ করল। মেঘ গালে হাত রেখে থম মেরে দাঁড়িয়ে আছে। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা পিটপিট করছে৷ আবিরের অযাচিত কর্মকাণ্ড গুলো মেঘকে নাজেহাল করে দিচ্ছে। মেঘ পুনরায় রুমে চলে গেছে। আবির সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ব্যস্ত কন্ঠে বলল,“প্রোগ্রাম কখন শুরু হবে?”আলী আহমদ খান ছেলের দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বললেন,” একটু ধৈর্য রাখো।”” ১৪ মিনিট ২৩ সেকেন্ড যাবৎ ধৈর্য ধরে বসে আছি আর কত? আপনাদের বেশি দেরি হলে আমি কি মেঘকে নিয়ে পোগ্রাম শুরু করে দিব?”আলী আহমদ খান গুরুগম্ভীর কন্ঠে বললেন,” ১০ মিনিটের মধ্যে পোগ্রাম শুরু হবে যাও এখন।”আবির বিড়বিড় করতে করতে যাচ্ছে,” ৫ মিনিট হলে ভালো হতো।”আলী আহমদ খান আবিরের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে হঠাৎ তপ্ত স্বরে মোজাম্মেল খানকে ডাকলেন। মোটামুটি ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যেই পোগ্রাম শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ ছাঁদ জুড়ে লাইটিং, বিশালাকৃতির স্টেজ করা হয়েছে। ক্যামেরাম্যানরা আবির মেঘের ছবি তোলায় ব্যস্ত। আইরিন, মীম নাচের প্রিপারেশন নিচ্ছে। তানভির, সাকিব সবাইকে ঠিকঠাক মতো বসাচ্ছে, গানের লিস্ট ঠিক করছে।নিচে মেইনগেইটের বাহিরে বিরিয়ানি রান্না হচ্ছে। মোজাম্মেল খান নিচ থেকে তানভিরকে কল দিচ্ছেন। তানভির কল রিসিভ করে ‘আসছি’ বলে দ্রুত নামতে গেল। আচমকা বন্যাকে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখে থামার চেষ্টা করলো। বন্যার পড়নে waterworld রঙের শাড়ি, প্রথমবারের মতো চুল ছেড়ে গর্জিয়াছ লুকে সেজেছে। অনাড়ম্বর মেয়েটার এই চোখ ধাঁধানো সাড়ম্বর সাজে বিমোহিত তানভির । বন্যার দিকে তাকিয়ে থেকেই উদাসভাবে সিঁড়ির প্বার্শ ঘেঁষে পা রাখতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়তে নিলো। আপতিত ঘটনায় তানভিরকে থামাতে উপায় না পেয়ে বন্যা দু’হাতে তানভিরের বুক বরাবর হাত রেখে আটকানোর চেষ্টা করলো। তানভির নিজের উপর বল প্রয়োগ করে থামতে পারলেও বন্যার হাতের কব্জিতে চাপ খেয়েছে। তানভিরের ভেজা গাত্র সেই সাথে ত্রৈমাত্রিক উদ্ধত হৃৎস্পন্দন উপলব্ধি করতেই বন্যা উদ্বেগপূর্ণ কন্ঠে জানতে চাইল,“আপনি ঠিক আছেন?”তানভির সহসা এক সিঁড়ি পেছাতেই বুকের উপর থাকা বন্যার হাতগুলোর অচিরেই সরে গেল। বন্যা আস্তে করে নিজের হাত ঝেড়ে পুনরায় জিজ্ঞেস করল,” আপনি ব্যথা পান নি তো?”তানভির মুচকি হেসে উত্তর না দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। বন্যা কর্কশ কন্ঠে ডাকল,” এইযে ভিলেন ”তানভির আড়চোখে তাকিয়ে মুচকি হেসে শম্বুকগতিতে বলল,” ব্যথা তো পেয়েছি কিন্তু এই ব্যথা যে… ”বন্যার ভ্রু কুঁচকানো দেখে তানভির থমথমে কন্ঠে“সরি সরি সরি সরি” বলতে বলতে দৌড়ে নিচে চলে যাচ্ছে। তানভির চলে যেতেই বন্যা শব্দহীন হাসলো।স্টেজে আবির-মেঘ পাশাপাশি বসা। আবির মেঘের দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে ডাকল,“শুন।”“বলুন।”“তোকে আজ লাবণ্যময়ী লাগছে, আমার কি ইচ্ছে করছে জানিস?”মেঘ সূক্ষ্ম নেত্রে তাকিয়ে বিড়বিড় করল,” না, আমি কিছু জানতে চাই না।”আবির মুচকি হেসে বলল,” কিন্তু আমি তো জানাতে চাই। ”মেঘ আড়চোখে তাকাতেই আবির ভ্রু নাচালো। বরাবরের ন্যায় আজও আবিরের হাসিতেই ঘায়েল হলো মেঘ। মুগ্ধ চোখে আবিরকে দেখছে, গত দুই বছর যার চিন্তায় দিন-রাত ভুলে থাকতো সেই মানুষটার সাথে তার বিয়ে হতে যাচ্ছে। হৃদয়ে অধৃষ্য হাওয়ারা তোলপাড় চালাচ্ছে। রাকিব গলা খাঁকারি দিতেই মেঘ দৃষ্টি সরালো সাথে আবিরও। রাকিব অনেকক্ষণ আগে আসলেও আবিরের সামনে আসার সাহস পাচ্ছিলো না এতক্ষণ। এখন সবার উপস্থিতিতে বুকে সাহস নিয়ে সামনে আসছে। আবিরের কানে কানে ফিসফিস করে কিছু বলে আবারও সরে গেছে। এদিকে আইরিন, মীম আর আরিফের অনবদ্য নাচ দেখে সবার চোখ কপালে উঠে গেছে। তানভির কিছুক্ষণের মধ্যেই উপরে আসছে। বন্যা কিছুটা পেছন দিকে চেয়ারে বসে বসে মেঘ আর আবিরের ছবি তুলছিল, আশেপাশে তেমন কেউ নেই। তানভির অকস্মাৎ কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,” একটু সাইডে আসা যাবে?”বন্যা আঁতকে উঠে ঘাড় ঘুরালো। তানভিরকে দেখেই আতঙ্কিত কন্ঠে বলল,” আপনি?”“সাইডে আসো।”“কেনো?”“আরে আসো তো।”বন্যা তানভিরকে ফলো করে ছাদের এক পাশে গেল। তানভির শান্ত গলায় বলল,” শাড়ির সাথে ফাঁকা হাত ঠিক মানাচ্ছে না। ”বন্যা আস্তে করে বলল,” চুড়ি পড়তে খুব একটা ভালো লাগে না।”তানভির মৃদু হেসে পকেট থেকে দুটা গাজরা বের করে তপ্ত স্বরে বলল,” এখন আশা করি এটা বলবে না যে গাজরা পড়তেও ভালো লাগে না। ”“তেমন না। ”“তোমার যদি কোনো আপত্তি না থাকে আমি কি তোমার হাতে এগুলো পড়িয়ে দিতে পারি?”“আমাকে পড়াতে হবে না। মেঘ না পড়লে ওর হাতে পড়িয়ে দেন তাহলে ছবি সুন্দর আসবে।”“তোমার কি মনে হয়, ভাইয়া থাকতে বনুকে আমার পড়িয়ে দিতে হবে? বনু ছাদে আসার পরপরই ভাইয়া নিজের দায়িত্ব পালন করে ফেলেছে। ”“তাহলে মীম বা অন্য কাউকে দিয়ে দেন। আমার ফাঁকা হাত ই ভালো লাগে। ”“কিন্তু আমার ভালো লাগে না।”“মানে?”“তুমি সবার হাতের দিকে তাকিয়ে দেখেছো একবার? প্রত্যেকের হাতে চুড়িও আছে গাজরাও আছে। আর তোমার হাতে কিছুই নেই। আমি এতগুলো গাজরা এনেছি, এনে রাখতে পারি নি যে যার মতো নিয়ে গেছে। অনেক কষ্টে তোমার জন্য দুটা রেখেছি। এখন কথা না বলে হাত দাও। ”বন্যা ধীর কন্ঠে বলল,” আমাকে দিন আমি পড়ে নিব।”“আমি পড়িয়ে দিলে কোনো সমস্যা হবে? নাকি এখনও আমার উপর রেগে আছো?”“তেমন না।”“তাহলে কেমন?”তানভির গম্ভীর মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। বন্যা ভ্রু কুঁচকে সূক্ষ্ম নেত্রে তাকিয়ে কিছু না বলেই হাত বাড়ালো। কারো সাথে কথার তর্কে জড়ানোর থেকে আগেভাগে কেটে পড়ায় ভালো। গাজরা পড়িয়ে দেয়ামাত্রই বন্যা স্থান ত্যাগ করে পুনরায় স্টেজের কাছে আসছে। মেঘ বন্যাকে দেখেই হাতে ইশারা করল। মিনহাজ, তামিম, মিষ্টি আর সাদিয়া কিছুক্ষণ আগেই আসছে। এসেই মেঘ আর আবিরের সাথে ছবি তুলে ফেলেছে। কিন্তু বন্যা লজ্জায় যেতেই চাইছিল না। বন্যা স্টেজে উঠতেই আবির ব্যস্ত কন্ঠে তানভিরকে ডাকল। আম্মুরা বা মামী, খালাদের নজর এড়াতে তানভির স্টেজে উঠতেই কানে কানে ফিসফিস করে কিছু বলল যেন সবাই মনে করে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে ডেকেছে। তানভির নামতে নিলে আবির কিছুটা উঁচু স্বরে বলল,“কিরে কোথায় যাচ্ছিস? ছবি তুলবি না? দাড়াঁ।”পাশ থেকে রাকিব, রাসেল আর সাকিব সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলছে,“একমাত্র বোনের বিয়ে অথচ বোনের সাথে তানভিরের এখনও কোনো ছবিই নেই। তাড়াতাড়ি দাঁড়া তোদের ছবি তুলে দেয়। ”তানভির হাত দিয়ে মুখের ঘাম মুছার নাম করে ঠোঁটের হাসি আড়াল করে বন্যার পাশাপাশি দাঁড়ালো। ৩-৪ ক্যামেরাম্যান ঝটপট কতগুলো ছবি তুলে ফেলল। সবার মন মতো ছবি তুলা শেষে ছেলেমেয়ে সবাই একসঙ্গে স্টেজে উঠেছে। প্রায় ১৫-২০ জন ছেলে waterworld রঙের পাঞ্জাবি পড়েছে সাথে ২০-২২ জন মেয়ের পড়নে waterworld রঙের শাড়ি । যেই মীম আজ পর্যন্ত কোনোদিন শাড়ি পড়ে নি সেই মীমও আজ শাড়ি পড়েছে। অল্প বয়স্ক মেয়েদের মধ্যে একমাত্র মালা ব্যতীত সবাই শাড়ি পড়েছে। মালাকে জোর করেও শাড়ি পড়ানো যায় নি। গ্রুপ ছবি তোলার এক পর্যায়ে গুরুজনেরা চলে যেতে শুরু করেছেন। ছাদ মোটামুটি ফাঁকা হতেই কাপল ডান্স শুরু হয়েছে যার সূচনায় ছিল রাকিব-রিয়া আর আসিফ-জান্নাত। গুরুজনদের সামনে ওরা এতক্ষণ ভদ্র থাকলেও এখন সব ভুলে নাচতে শুরু করেছে। টানা ৩ টা গানে নাচ শেষে আবির- মেঘকে টেনে এনেছে। সবার রিকুয়েষ্টে শুরুর দিকে মেঘ আর আবির ২ টা গানে পারফর্ম করেছিল কিন্তু আচমকা মোজাম্মেল খান আসতেই মেঘ লজ্জায় সেই যে বসেছে আর উঠে নি। এখন ছাদের দরজা বন্ধ করে মেঘকে উঠিয়েছে তারপরও যেন লজ্জা না পায়। একদম লাস্টে আবির-মেঘ, রাকিব-রিয়া, আসিফ-জান্নাত, তানভির-বন্যা, আরিফ-মীম, মিনহাজ-মিষ্টি, তামিম-সাদিয়া, রাসেল-সোনিয়া, সাকিব-আইরিন সহ বাকি যারা ছিল সবাই একসঙ্গে Hawa Hawa গানে পারফর্ম করেছে। আইরিন ভালো ডান্স পারে শুধুমাত্র সেই কারণে সাকিব আইরিনের সাথে ডান্স করতে রাজি হয়েছে কিন্তু শুরুতেই করুণ কন্ঠে বলে নিয়েছে,“আমার গ্রামে একটা নিরীহ গার্লফ্রেন্ড আছে, ও রেগে গেলে একটু বলে দিও আমার কোনো দোষ নাই৷” সাকিবের এমন কথা শুনে আইরিন রাগে কটমট করে বলেছে, “আমার সাথে ডান্স করতে বলেছে কে আপনাকে? আপনি আপনার কাজিনের সাথে ডান্স করেন।”সাকিব সহাস্যে বলে,“মালা করবে ডান্স! আর মানুষ পেলে না৷ এই মেয়ে আসছেই শুধু দেখতে আর নিজে জ্বলতে। আমি বার বার বলেছি নিজের কষ্ট বাড়াতে শুধু শুধু যাস না। কে শুনে কার কথা, মন ভরে দেখতে আসছে দেখুক। তোমাকে যেটা বলেছি সেটা করবা, ঠিক আছে?”“আচ্ছা। ”এদিকে আরিফ আর মীমের একটু পর পর ঝগড়া লাগা দেখে তানভির দুটাকে শাস্তিস্বরূপ কাপল ডান্স করতে বলেছে। অনুষ্ঠান প্রায় শেষ পর্যায়ে, যে যার মতো গল্প করতে করতে নিচে চলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে মেহেদী দেয়া শুরু করতে হবে। আবির আর তানভির বিয়ের কেনাকাটা করতে মার্কেটে যাবে তাই একটু তাড়াহুড়োতেই পোগ্রাম শেষ করতে হয়েছে। বন্যা আর আইরিন গল্প করতে করতে নেমে গেছে। মীম হুট করে ওদের দেখতে না পেয়ে দৌড়ে নিচে নামতে গিয়ে ছাদের দরজায় হোঁচট খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে বসে পড়েছে। দু’হাতে পা চেপে কান্না করছে। ছাদে সাউন্ড বক্সের শব্দের কারণে মীমের অল্পবিস্তর কান্নার শব্দ কেউ শুনতে পায় নি। আরিফ দরজা পর্যন্ত এসে মীমের কান্নার শব্দ শুনে কিছুটা চিন্তিত স্বরে জানতে চাইল,” কি হয়েছে ?”মীম কাঁদতে কাঁদতে বলল,“হোঁচট খেয়েছি।”আরিফ সঙ্গে সঙ্গে ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে মীমের পায়ের কাছে ধরলো। বৃদ্ধাঙ্গুল থেকে অনর্গল রক্ত বের হচ্ছে, মীমের দু’হাতে রক্ত লেগে আছে। আরিফ নিবিষ্ট কন্ঠে বলতে শুরু করল,” শাড়ি পড়ে এই ভাবে কেউ ছুটাছুটি করে? দেখি হাতটা ধরো।”মীম কাঁদতে কাঁদতে আরিফের হাতটা শক্ত করে ধরে বসা থেকে উঠল। কিন্তু ব্যথার চোটে পা ফেলতে পারছে না। আরিফ মীমের এক হাতে ধরে আস্তে আস্তে নামাচ্ছে। কোনোমতে নিচ পর্যন্ত গিয়েই মীম হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেছে৷ কি হয়েছে, কি হয়েছে বলে আশেপাশে সবাই জড়ো হয়ে গেছে। আরিফ দৌড়ে ফাস্ট এইড বক্স আনতে চলে গেছে। মীমের কান্নার শব্দে তানভির ছুটে এসে রাগান্বিত কন্ঠে বলল,” এভাবে কাঁদছিস কেনো? কি হয়েছে? ”মীম কাঁদতে কাঁদতে নিজের পা বাড়ালো। তানভির রক্তাক্ত আঙুল দেখেই কপাল কুঁচকে গম্ভীর দৃষ্টিতে আরিফের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করল,” এই আরিফ, তুইও কি ছোট মানুষ? এভাবে ব্যথা দিয়েছিস কেন?”জান্নাত ফ্রিজ থেকে বরফ এনে দিল। মীম কাঁদতে কাঁদতে বলল,” আরিফ ভাইয়া কিছু করে নি। আমিই হোঁচট খেয়ে পড়ে গেছিলাম।”তানভির ঘাড় ঘুরিয়ে আরিফের দিকে এক নজর তাকালো। আরিফ ফাস্ট এইড বক্স হাতে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তানভির হাত বাড়িয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,“দে”পরপর মীমের দিকে তাকিয়ে তপ্ত স্বরে বলল,” তুই কি হাঁটতে পারিস না? কথায় কথায় দৌড় দিতে বলে কে তোকে? কালকে বনুর বিয়ে আর তুই ব্যান্ডেজ বেঁধে ঘুরবি এটা কি ভালো লাগবে?”মীম কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল,” আর এমন করবো না। ”ছাদে মেঘ, রিয়া, আবির, রাকিব, রাসেল, লিমন দাঁড়িয়ে গল্প করছে। মালা বরাবরের মতো দূরে একটা চেয়ারে নির্বাক ভঙ্গিতে বসে আছে। সবার হাসাহাসির মাঝে মেঘ হুট করে নিজের মাথা চেপে ধরে নিচে বসে পরেছে। আবির সঙ্গে সঙ্গে মেঘকে ধরে উদ্বিগ্ন কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,“এই কি হয়েছে তোর?”” মাথা ব্যথা করছে।”মেঘের অল্প চাপেই মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়। সেখানেসকাল থেকে ঠিকমতো খাওয়া নেই, সারাদিন বাহিরে বাহিরে ঘুরে ফটোশুট করেছে, সন্ধ্যা থেকে ভারী লেহেঙ্গা পড়ে বসে আছে তারউপর এতক্ষণ নাচানাচি করলো সব মিলিয়ে মাথায় প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়ে গেছে। আবির মেঘকে নিয়ে রুমে চলে গেছে। মেঘের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা কন্ঠে বলল,” তুই ফ্রেশ হয়ে আয়, আমি খাবার নিয়ে আসছি।”“আমি নিচে গিয়ে খেতে পারবো।”“তোকে ফ্রেশ হতে বলছি।”আবির নিচ গিয়ে মীমের অবস্থা থেকে কিছুক্ষণ দাঁড়ালো। উপরে মেঘের মাথা ব্যথা নিচে মীমের পা কাটা এ অবস্থায় কাকে কি বলবে বুঝতে পারলো না। মেঘের জন্য খাবার নিয়ে আবারও উপরে আসছে। অতিমাত্রায় ব্যথা সহ্য করতে না পেরে মেঘ মাথায় ওড়না বেঁধে রেখেছে। আবির অল্প অল্প করে মেঘকে খাইয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ দরজা থেকে এক অপরিচিত কন্ঠস্বর কানে আসলো,“আসবো?”আবির তেমন গুরুত্ব দেয় নি, মেঘ তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,“মুন্নি আপু, আসুন।”মেঘের খাওয়া প্রায় শেষ, আবির প্লেট হাতে নিয়ে মাথা নিচু করে বেড়িয়ে গেছে। মুন্নি মেঘের দিকে তাকিয়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বললেন,” মাথায় ওড়না বেঁধে রেখেছো কেনো? মাথা ব্যথা?”“হ্যাঁ, সারাদিন ঘুরতে ঘুরতে আর পারছি না। আপু, আপনি এত দেরি করে আসলেন কেনো? আপনাকে না বলেছিলাম সন্ধ্যায় আসতে।”“কিভাবে আসবো বলো, রান্না করে বাবুকে খাইয়ে, ঘুম পাড়িয়ে রেখে আসছি। এখন বলো, মেহেদী দেয়ার মতো ধৈর্য আছে তোমার?”মেঘ মাথায় হাত চেপে ধরে শক্ত কন্ঠে বলল,” না থাকলেও ধৈর্য রাখতে হবে। কাল যে আমার বিয়ে। ”মুন্নি মুচকি হেসে মেহেদী দেয়া শুরু করলো। মেঘদের এলাকায় মুন্নি এখন সুপরিচিত মুখ। বউ সাজাতে যেমন এক্সপার্ট তেমনি মেহেদী দিতেও এক্সপার্ট। ওনার নিজস্ব পার্লার আছে প্রায় অনেক বছর হবে। মেঘদের বাসার সবার সাথেই মোটামুটি ভালো সম্পর্ক, আগে একসময় ঈদে বাসায় এসে মীম, মেঘকে মেহেদী দিয়ে যেতো। এখন কয়েক বছর যাবৎ আসতে পারেন না কারণ ওনার বাবুর ৫-৭ বছর বয়স। তাছাড়া পার্লারের চাপেও তেমন সুযোগ পান না। মেঘের মাথা ব্যথা শুনে কেউ আর মেঘের রুমে আসার সাহস করে নি। সবাই মীমের রুমের বসে মেহেদী দিচ্ছে। আবির ফ্রেশ হয়ে একটা ফুলহাতা টিশার্ট পড়ে মোটামুটি রেডি হয়ে ঔষধ নিয়ে মেঘের রুমে আসছে। ততক্ষণে মেঘের এক হাতে অর্ধেক মেহেদী দেয়া হয়েছে। আবির মেঘের দিকে তাকিয়ে শীতল কন্ঠে বলল,“ঔষধ খেয়েছিস?”“না।”আবির কপালে আলতোভাবে হাত রেখে উষ্ণ স্বরে জানতে চাইল,” ব্যথা বেশি?”“হুম।”আবির একটা ঔষধ খুলে মেঘকে খাইয়ে আকুল কন্ঠে বলল,” টেনশন করিস না, কিছুক্ষণের মধ্যেই কমে যাবে।”মুন্নি আপু দুই-তিনবার আবিরের দিকে তাকিয়েছে। আবির গ্লাস টেবিলে রাখতে রাখতে শান্ত স্বরে বলল,“আমি শপিংয়ে যাচ্ছি, তোকে ছবি পাঠাবো। ফোন কাছে রাখিস। ”“আচ্ছা। ”আবির যেতে নিয়ে আবারও থমকালো। মেঘের হাতের দিকে তাকিয়ে মোলায়েম কন্ঠে বলল,” আপু নামের জায়গাটা ফাঁকা রাখবেন, আমি এসে নাম লিখে দিব। ”মুন্নি আবিরের দিকে স্পষ্ট দৃষ্টিতে তাকিয়ে হেসে বলল,” ঠিক আছে ভাই, তোমার নাম তুমিই লিখে দিও।”আবির রুম থেকে বেড়িয়ে গেছে। মুন্নি মিটিমিটি হাসছে আর মেঘকে মেহেদী দিয়ে দিচ্ছে। মেঘ কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে উদ্বিগ্ন কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,” আপু, আপনি হাসছেন কেনো?”” এমনিতেই হাসি পাচ্ছে।”“আপনি কি আবির ভাইকে নিয়ে হাসছেন?”” মাত্র যে আসছিলো তার নাম কি আবির?”“জ্বি। ”মুন্নি কপালে কয়েকস্তর ভাঁজ ফেলে গুরুতর কন্ঠে বলে উঠল,” ওর অন্য একটা নাম আছে না?”” আছে কিন্তু সবাই এই নামেই চিনে। ”“অন্য নামটা কি?”“সাজ্জাদুল খান”“ইয়েস, সাজ্জাদ। মনে পড়েছে।”“কি হয়েছে আপু? আপনি কি ওনাকে আগে থেকে চিনেন? কিন্তু ওনি তো এত বছর দেশের বাহিরে ছিল। আপনি কিভাবে চিনবেন?”মুন্নি মলিন হেসে জিজ্ঞেস করল,” সে তোমাকে খুব ভালোবাসে তাই না?”“অনেক ভালোবাসে।”” তোমাদের রিলেশনের বিয়ে?”“জ্বি, মোটামুটি। ”“কতবছরের রিলেশন?”“জানি না। আমি ওনাকে দুই বছর যাবৎ পছন্দ করি। কিন্তু ওনার টা জানি না। ”” আমি যদি ভুল না করি, সাজ্জাদ মানে তোমার আবির ভাই তোমাকে কমপক্ষে ১৫ বছর ধরে পছন্দ করে। আর সেটা শুধু পছন্দ না যাকে বলে পাগলের মতো ভালোবাসা। ”মেঘ নির্বাক চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,“আপনি কিভাবে জানেন?”” একটা গল্প শুনবে?”“জ্বি ”“আজ থেকে প্রায় ১৫-১৬ বছর আগের কথা। তখন আমার নতুন বিয়ে হয়েছে, বছরখানেক হবে হয়তো। আমি আগে থেকেই পার্লারের কাজ টুকটাক জানতাম তাই আমার হাসবেন্ড বাসাতেই পার্লার খুলে দিয়েছিল। তখনও আমাকে তেমন কেউ চিনতো না। হালকাপাতলা মেকাপ, ফেসিয়াল আর টুকিটাকি মেহেদী দিয়ে দিতাম। হঠাৎ একদিন খেয়াল করলাম একটা ছেলে আমাদের বাসার অপর পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের বাসার দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলের বয়স ১২-১৩ বছরের বেশি হবে না। আমি তেমন একটা গুরুত্ব দিলাম না। টানা ৫-৭ দিন খেয়াল করে দেখলাম ছেলেটা প্রতিদিন প্রায় ঘন্টা দুয়েক বাসার অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। সপ্তাহখানেক পর আমি একদিন আমার শ্বাশুড়িকে ছেলেটার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তখন আমার শ্বাশুড়ি বললেন, ঐ ছেলেটা আমার সাথে দেখা করার জন্য প্রতিদিন ঘন্টার ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে। যেহেতু আমি তখন নতুন বউ তাই আমার শ্বাশুড়ি কোনোভাবেই ছেলেকে আমার সাথে দেখা করতে দিতেন না। আর ছেলেও এত ভদ্র যে আমার শ্বাশুড়ি না করার পর কোনোদিন দ্বিতীয়বার কিছু বলতো না। আমি আমার হাসবেন্ডকে বিষয়টা জানায়। তারপর আমার হাসবেন্ডকে নিয়ে একদিন ঐ ছেলেটার কাছে যাই। ছেলেটা আমাকে দেখেই আকুল কন্ঠে জিজ্ঞেস করেছিল,” আপু আপনি কি মেহেদী দিতে পারেন?”আমি তার কথা শুনে কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলাম। একটা ছেলে এক সপ্তাহ ধরে দাঁড়িয়ে থাকার পর জিজ্ঞেস করছে আমি মেহেদী দিতে পারি কি না। তারপরও আমি ঠান্ডা কন্ঠে উত্তর দিলাম,“মোটামুটি পারি৷ কেনো?”” দু’জনকে মেহেদী দিয়ে দিতে পারবেন?”“হ্যাঁ, পারবো। কিন্তু মেয়ে হতে হবে আর আমার পার্লারে আসতে হবে।”ছেলেটা নরম স্বরে বলেছিল,“তারা আসতে পারবে না, আপনি বাসায় গিয়ে মেহেদী দিয়ে আসবেন, প্লিজ।”আমার হাসবেন্ড কিছুটা রেগেই বলেছিল,” এই ছেলে তুমি কি ফাজলামো করতে আসছো? আমার ওয়াইফ কোথাও যাবে না। তুমি যাও এখান থেকে। ”আমার হাসবেন্ডের ধমক খেয়ে ছেলেটার চোখে পানি চলে আসছিল। আমি অবাক চোখে ছেলেটাকে দেখছিলাম। ছেলেটা তার ব্যাগ থেকে কতগুলো ২০, ৫০,১০০ টাকার নোট বের করে আমার হাসবেন্ডকে দিয়ে বার বার রিকুয়েষ্ট করছিল যেন আমি বাসায় যেতে রাজি হয়। আমি কৌতূহল বশতই জিজ্ঞেস করি,” কোথায় যেতে হবে?”” আমার বাসায়। আমার দুটা বোন আছে ঈদে তাদের মেহেদী দিয়ে দিবেন, প্লিজ।”আমি ছেলেটার কথাতে আরও বেশি বিস্মিত হলাম। এইটুকু একটা ছেলে তার বোনদের কত ভালোবাসে যে পার্লার থেকে টাকা দিয়ে তার বোনদের মেহেদী পড়াতে নিতে চাচ্ছে। আমার মন কিছুটা গললেও আমার হাসবেন্ড ছিল শক্ত মনের মানুষ। সে এত সহজে বিশ্বাস করতে পারছিল না। তাছাড়া আমরা যেহেতু শহরে নতুন ছিলাম তাই সেভাবে কাউকে বিশ্বাসও করতে পারতাম না। আমার হাসবেন্ড অনেক জোরাজোরি করার পর ছেলের মুখ থেকে সত্যি কাহিনী টা বের করতে সফল হয়। আর সেই কাহিনী কোনো রূপকথার গল্প থেকে কম না।”মেঘ এতক্ষণ পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে গল্প শুনছিল। মুন্নি আপু থেমে যাওয়ায় মেঘ কপালে কিঞ্চিৎ ভাঁজ ফেলে জানতে চাইল,” রূপকথার গল্প টা কি আপু?”“তিন-চার বছরের এক রাজকন্যা খেলতে গিয়ে তার খেলার সঙ্গীদের হাতে মেহেদী দেখে বাসায় এসে ঠোঁট ভেঙে মেহেদীর জন্য কান্না করছিলো। রাজকন্যার আম্মুরা মেহেদী দিতে পারতো না, কিন্তু রাজকন্যা ছিল খুব জেদি আর অভিমানী। মেহেদী না দিয়ে দিলে খাবে না বলে কান্না করছিলো। রাজপুত্র ছিল বাবামায়ের একমাত্র ছেলে। বোন না থাকায় রাজকন্যাকে নিজের বোনের মতো ভালোবাসতো। ছোট্ট বয়স থেকেই বোনকে আগলে রাখার গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছিল। সবকিছু সহ্য করতে পারলেও রাজকন্যার চোখের পানি সহ্য করতে পারতো না রাজপুত্র। বাড়ি ফিরে বোনের চোখে পানি দেখে আঁতকে উঠেছিল। কারণ জানার পর সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে মেহেদী কিনে নিয়ে আসছিলো৷ কাঁপা কাঁপা হাতে সেই রাজকন্যার কনুই অব্দি মেহেদী দিয়ে দিয়েছিল। তখন থেকে কিছুদিন পর পর মেহেদীর জন্য বায়না ধরতো রাজকন্যা আর সেই বায়না পূরণ করতে রাজপুত্র মেহেদী দেয়ার প্র্যাক্টিস শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যে ভালোই শিখে ফেলেছিল। দু’ বছর ঈদে রাজকন্যাকে হাতে পায়ে মেহেদী দিয়ে দিলো। বিপত্তি ঘটলো তৃতীয় বছর, রাজকন্যা একটু একটু বড় হচ্ছিল সেই সাথে তার হিংসুটে মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছিলো। তৃতীয় বার ঈদে পাশের বাসার একটা পিচ্চি মেয়েকে মেহেদী দেয়ার অপরাধে রাজকন্যা কাঁদতে কাঁদতে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেছিল। রাজপুত্র রাজকন্যা ব্যতীত অন্য কাউকে মেহেদী দিয়ে দিয়েছে এটা সে মেনেই নিতে পারছিল না। অবুঝ রাজকন্যার পাগলামিতে রাজপুত্র যে কিভাবে পাগল হয়েছে সে নিজেও বুঝতে পারে নি। হঠাৎ রাজপুত্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেল তখন রাজকন্যার আবেগ জড়ানো কান্না আর নিষ্পাপ হৃদয়ের প্রতিজ্ঞায় রাজপুত্র নিজের কল্পনায় অন্য এক জগৎ তৈরি করলো। যেই জগতে রাজকন্যাকে বোন নয় বরং প্রিয়তমার আসনে বসালো। রাজকন্যার প্রতি মনোভাব বদলাতে শুরু করলো সেই সাথে বাড়তে লাগলো আতঙ্ক। কারণ রাজপুত্রের বাসায় তখন ছোট আরেকটা বোন ছিল যার বয়স ২ কি ৩ । রাজকন্যার এই হিংসুটে মনোভাবের জন্য সবসময় আতঙ্কে থাকতো রাজপুত্র। রাজপুত্রকে কারো সাথে মিশতে দিতে না চাওয়া, কোমল মনের আকুতি, রাজপুত্রের প্রতি তীব্র অধিকারবোধ সবেতেই ভীত হতো রাজপুত্র। সামনে ঈদ ঘনিয়ে আসছিলো, প্রতি বছরের মতো মেহেদী দেয়ার গুরু দায়িত্ব তার উপর ই পড়তো। কিন্তু সে ভীত ছিল, আগের বছর পাশের বাসার পিচ্চিকে মেহেদী দেয়া অপরাধে কান্না করায় বাসার কেউ সেভাবে গুরুত্ব দেয় নি কিন্তু এ বছর নিজের বাসার, চাচাতো বোনকে মেহেদী দেয়ার অপরাধে যদি আবারও একই কাজ করে তখন কি হবে। আগের বছর পর্যন্ত রাজকন্যা শুধু তার বোন থাকলেও পরের বছর নাগাদ রাজকন্যার প্রতি নতুন অনুভূতি জন্মেছিল। ভয়ে সে আশেপাশে খোঁজ নেয়। আমার কথা জানতে পেরে আমাকে রিকুয়েষ্ট করতে আসে। আমি আর আমার হাসবেন্ড প্রথমদিকে পুরোপুরি বিশ্বাস না করলেও শুধুমাত্র রাজপুত্রের রিকুয়েষ্টে সেই বাসায় যায়। অভিমানী রাজকন্যা রাজপুত্র ছাড়া কারো থেকে মেহেদী পড়তে রাজি নয়। দীর্ঘ সময় বুঝিয়ে আমি তাকে মেহেদী পড়াতে সফল হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটা ঈদে আমিই তাকে মেহেদী পড়িয়ে দেয়। ”মেঘ আশ্চর্য নয়নে চেয়ে আছে। মুন্নি আপু মুচকি হেসে ফের বললেন,” আশা করি বুঝেছো যে সেই রাজকন্যাটা তুমি আর রাজপুত্রটা তোমার আবির ভাই।”আমৃত্যু ভালোবাসি তোকেলেখনীতেঃ সালমা চৌধুরী(বিয়ে স্পেশাল) বাকি অংশ......................................................................................................................আইরিনদের ডিমান্ড শুনে রাকিব আবিরের দিকে তাকিয়ে মজার ছলে বলে উঠল,” নিজের বউ নিজে নিবি তাও এত ডিমান্ড।”আবির পাশ ফিরে রাকিবের দিকে ক্ষুদ্র চোখে তাকিয়ে অত্যন্ত মোলায়েম কন্ঠে বলল,” ও চাইলে হাসিমুখে জীবনটাও দিয়ে দিতে পারবো সেখানে তাকে পাওয়ার জন্য এই সামান্য ডিমান্ড আর এমন কি!”রাকিব তপ্ত স্বরে বলল,” আবেগ ছেড়ে বিবেক দিয়ে কথা বলল। বুঝছি তুই বউ পাগল, বউয়ের জন্য যা খুশি করতে পারিস তাই বলে যে যা বলবে তাই?”“ও শুধু আমার আবেগ না, আমার চিত্ত চাঞ্চল্যের এক ফালি সুখের আভাস।”” হয়েছে, বুঝেছি। বজ্জাত ছেলে, তোর জন্য একটু মজাও করতে পারবো না। ”আবির আড়চোখে তাকিয়ে মলিন হাসলো। আবির কানে কানে রাকিবকে কিছু বলতে চেয়েছে কিন্তু রাকিব সে কথা না শুনে আবিরের থেকে কিছুটা দূরে সরে রাগী স্বরে বলতে শুরু করল,” তোর আর কোনো কথায় শুনছি না আমি…!”তানভির মুচকি হেসে বলে উঠল,“রাকিব ভাইয়া, তোমার যা মজা করার ইচ্ছে আমার বিয়েতে করো। তোমার বন্ধুর বিয়েতে মজা করার আশা ছেড়ে দেও।”“তুইও যে তোর ভাইয়ের মতো আচরণ করবি না তার কি গ্যারেন্টি আছে? শত হোক তোদের রক্ত তো এক।”আলী আহমদ খান ভেতর থেকে হুঙ্কার দিলেন,” গেইট থেকে ভেতর পর্যন্ত আসতে এতক্ষণ সময় লাগে তোমাদের?”আবির তৎক্ষনাৎ চোখে ইশারা দিল, রাকিব টাকা বের করেও দিতে চাচ্ছে না। আইরিন, মীম, রিয়ারা জোরজবরদস্তি করে নিয়েছে। আবিরকে মালা পড়িয়ে, সাদা গোলাপ দিয়ে ভেতরে নেয়া হয়েছে। আলী আহমদ খান, মোজাম্মেল খান সহ আরও কয়েকজন একসঙ্গে বসে আছেন। আবির ঢুকতেই আলী আহমদ খান ডাকলেন,“আবির, একটু এদিকে আসো।”আবির তটস্থ হয়ে বলল,” জাস্ট এক মিনিট আব্বু। এখুনি আসছি।”আবির সবাইকে ফেলে চটজলদি মেঘের সাথে দেখা করতে চলে গেছে। কমবেশি সবাই গেইটের কাছে ছিল তাই মেঘের আশেপাশে তেমন বড় কেউ নেই। আদি সহ আরও কয়েকটা পিচ্চি ছুটাছুটি করছে। আবির মেঘের কাছাকাছি এসে কোমল কন্ঠে সালাম দিল, মেঘও মোলায়েম কন্ঠে সালামের উত্তর দিল। আবির মেঘের সামনে এসে দুই হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে কিছুটা ঝুঁকে ঘোমটার আড়ালে থাকা মেঘকে একপলক দেখে নিল। আবিরের অনভিপ্রেত কাণ্ড দেখে মেঘ অলক্ষিতভাবে হেসে ফেলল। আবির মেঘের মুখের পানে গভীর মনোযোগে চেয়ে ঠোঁট কামড়ে হেসে নেশাক্ত কন্ঠে বলল,“একটু ভয়ে ছিলাম তাই দেখতে আসছি, কিছু মনে করিস না৷ কেমন!”মেঘ তপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঠান্ডা কন্ঠে বলল,” আপনাকে রেখে পালাবো না, আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।”আবির চটজলদি মেঘের হাতে আলতোভাবে চুমু খেয়ে তটস্থ কন্ঠে বলল,” আব্বু ডাকছে, এখন যায়।”আবির সামনে যেতেই আলী আহমদ খান জিজ্ঞেস করলেন,” কোথায় গিয়েছিলে?”আবির মাথা নিচু করে বিড়বিড় করল,“মেঘকে দেখতে।”“৫ মিনিট কথা বলার জন্য ডেকেছিলাম, এটাও সহ্য হয় নি তোমার?”আবির নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে বলল,“আসলাম তো, এখন বলুন।”আবিরের নিরুদ্বেগ ভাবভঙ্গি দেখে মোজাম্মেল খান ঠোঁট চেপে হাসলেন, সাথে আবিরের বড় মামাও মৃদু হাসলেন। তবে আলী আহমদ খান ছেলের কর্মকাণ্ডে বেশ ক্ষুদ্ধ। আবির ২-৪ মিনিট কথা বলে আবারও মেঘের কাছে চলে গেছে কিন্তু ততক্ষণে মেঘের চারপাশে সবাই জড়ো হয়ে গেছে। আবিরের আব্বু, রাকিব, মেঘের আব্বু, তানভির কাজীর সাথে কথা বলে সবকিছু ঠিকঠাক করছে। মেঘ আবিরের উপস্থিতিতে, তাদের সম্মতি নিয়ে মৌখিকভাবে বিয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বিয়ের যাবতীয় কাজ শেষে খাওয়াদাওয়ার পর্ব শুরু হয়েছে। মেঘ, আবির, বন্যা, তানভির, রাকিব, সাকিব সবাই একসঙ্গে বসেছে, খেতে খেতে টুকটাক খুনসুটি করছে। মিনহাজরা এসেছে অনেকক্ষণ হবে কিন্তু মেঘের জন্য বন্যা ওদের সাথে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না। এর কিছুক্ষণ পরেই সিফাত আসছে, আলী আহমদ খান সিফাতকে দেখেই এগিয়ে গিয়ে হাসিমুখে কথা বলতে শুরু করেছেন। এদিকে মোজাম্মেল খান বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ চিন্তিত। সিফাত কিছুটা দূরে যেতেই মোজাম্মেল খান কিছুটা চিন্তিত স্বরে ডাকলেন,“ভাইজান”“হ্যাঁ, বল।”“আবির আর মেঘের বিয়ের কাজ কি শেষ?”“হ্যাঁ, কেনো?”“না মানে কাবিনের কাজ টা বাকি রয়ে গেল না?”আলী আহমদ খান গুরুভার কন্ঠে বললেন,” ছেলে আমার মেয়ে তোর, সবচেয়ে বড় কথা তারা দু’জন দু’জনকে মন থেকে ভালোবাসে। তুই কাবিন দিয়ে কি করবি? তারপরও যদি তোর মনে হয় তাহলে ঘরোয়াভাবে বসে সেটার সমাধান করা যাবে। ”” আমি ঐভাবে বলতে চাই নি।”আলী আহমদ খান কপাল গুটিয়ে ধীর কন্ঠে বললেন,“বিবাহ সম্পাদনের জন্য বা বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য ‘কাবিননামা’ অপরিহার্য না। কাবিননামা একটা আইনি বাধ্যবাধকতা মাত্র। প্রাপ্তবয়স্ক দুজন ছেলে মেয়ের সম্মতি নিয়ে, সব নিয়মকানুন মেনেই বিয়ে হয়েছে এতে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।”আলী আহমদ খান একগাল হেসে ফের বললেন,” এখন খেতে চল।”“চলো।”মেঘ আর আবিরের ফটোশুট চলছে। বন্যা কাছেই দাঁড়িয়ে আছে যেন মেঘের কোনো সমস্যা হলে ঝটপট যেতে পারে। বন্যার আব্বু, আম্মু, ভাই আর বোন এসেছিলো, খাওয়াদাওয়া করে মেঘ আবিরের সাথে কয়েকটা ছবি তুলে কিছুক্ষণ আগেই বেড়িয়েছে। ওনারা চলে যাওয়ার খানিক বাদে আচমকা তানভির এসে বন্যার পাশ ঘেঁষে দাঁড়ালো। তানভিরকে দেখেই বন্যা কিছুটা সরে যাওয়ার চেষ্টা করলো। তানভির সহসা শীতল কন্ঠে বলল,” তারপর বলো, তুমি কবে বিয়ে করবে। ”বন্যা ভ্রু কুঁচকে বলে উঠল,“মানে?”“বিয়ে করবে না?”” আগে আপুর বিয়ে হোক তারপর ভেবে দেখবো।”তানভির মনমরা হয়ে বলল,” ওহ।”বন্যা ভণিতা ছাড়াই প্রশ্ন করল,“কেনো বলুন তো..”“তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, তোমার খারাপ লাগছে না?”“খারাপ কেনো লাগবে? মেঘ তার প্রিয়মানুষকে বিয়ে করতে পেরেছে, এতে আমি খুব খুশি। ”” তোমার প্রিয়…” বলতেই মোজাম্মেল খান দূর থেকে উচ্চস্বরে ডাকলেন,“তানভির”তানভির ভয়ে আঁতকে উঠে,” ও বাবা ”বলে তড়িৎ বেগে বন্যার পাশ থেকে সরে গেছে। বন্যা উদ্বেগহীন চোখে তাকিয়ে আনমনে হাসলো। বাহিরে তানভির যতই রাগী রাগী ভাব নিয়ে থাকুক না কেনো, বাসার ভেতরে সে আপাদমস্তক ভীতু একটা ছেলে। মীম টেবিলে মাথা রেখে মুগ্ধ চোখে চেয়ে আবির আর মেঘকে দেখছে। মেঘের চোখে মুখে লজ্জা লজ্জা ভাব থাকলেও আবিরের চোখে লজ্জার ছিটেফোঁটাও নেই। নতুন জামাইয়ের যেসব গুণাবলি থাকা প্রয়োজন তার একটাও আবিরের মধ্যে নেই। এই একবার মেঘের সাথে দুষ্টামি করছে, আবার তানভির, রাকিবের সঙ্গে দুষ্টামি করছে, ছবি সুন্দর না হলে ফটোগ্রাফারের মাথায় গাট্টা দিয়ে স্টাইল শিখিয়ে দিচ্ছে। মীম সেগুলোই মনোযোগ দিয়ে দেখছে। আরিফ একটা আইসক্রিম মীমের সামনে রেখে মৃদুস্বরে বলল,“খেয়ে নাও”মীম মাথা তুলে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,” আমি কেনো খাবো?”” গরমের মধ্যে আইসক্রিম টা খেলে তোমার ভালো লাগবে তাই নিয়ে আসছি।”মীম গম্ভীর মুখ করে বলে উঠল,” আমার ভালো কবে থেকে চিন্তা করা শুরু করেছো তুমি?”“যেভাবে এদিক সেদিক হোঁচট খাচ্ছো, চিন্তা না করে উপায় আছে?”মীম মুচকি হেসে আস্তে করে বলল,” তুমি ধাক্কা না মারলেই হলো।”শেষ বিকেলের দিকে হালিমা খানরা বাসায় চলে আসছেন। মেঘ আর আবিরকে বরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কাজের ফাঁকে মাহিলা খান অকস্মাৎ প্রশ্ন করে বসলেন,” তোর মেয়ের বিয়েতে তুই খুশি তো বোন?”হালিমা খান মুচকি হেসে বললেন,“একটা কথা বলবো আফা?”” বল।”“আবিরের সাথে মেঘের বিয়ের ব্যাপারে আমি আরও অনেকদিন আগেই ভেবেছিলাম। ”“সত্যি? আমাকে বলিস নি কেনো?”“কিভাবে বলতাম বলো, এই বাড়ির পুরুষদের কিছু বলতে গেলে ভয় লাগে অন্ততপক্ষে বিয়ের বিষয়ে। প্রথমে মেঘের আব্বুকে বলতে চেয়েছি কিন্তু ওনার ছেলে দেখার তোরজোর দেখে আর বলতে পারি নি, তারপর একদিন আকলিমাকে কথার কথা এমনিতেই বললাম, সে তো ভয়ে শেষ। আমাকে সঙ্গে সঙ্গে বারণ করেছে যেন তোমাকে কিছু না বলি। আমি সব ভুলে একদিন তোমাকে বলে ফেলতে চেয়েছিলাম তৎক্ষনাৎ তোমার অতীতের ঘটনা মনে পড়ে গেছিলো। আমার উল্টাপাল্টা চিন্তার জন্য বাসায় যেন নতুন কোনো অশান্তি সৃষ্টি না হয় এজন্য আর কিছুই বলি নি৷ ”আবিরের আম্মু শীতল কন্ঠে জানালেন,” যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। ছেলেমেয়ে পছন্দ করেছে, তারা ভাইয়ে ভাইয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এতে আমাদের কোনো হাত নেই ”মেঘের আম্মু মুখ ফুলিয়ে শ্বাস ছেড়ে মৃদুস্বরে বললেন,” আমার মেয়েটার জন্য একটু ভয় হচ্ছে, আফা।”“কেনো?”” আমি জানি আবির মেঘকে অনেক পছন্দ করে, সারাজীবন আগলে রাখবে কিন্তু সবকিছুর পরেও আবিরের শরীরে ভাইজানের রক্তই বইছে তাছাড়া ওর রাগটাও বেশি। রাগের মাথায় মেঘের সাথে যদি খারাপ আচরণ করে। ”মালিহা খান মলিন হেসে বললেন,” এখনই এত ভয় পাচ্ছিস কেনো, ওরা তো আমাদেরচোখের সামনেই থাকবে। যা হবে দেখা যাবে। ”সন্ধ্যার আগে আগে আবির-মেঘ বাসায় আসছে। ওদের বরণ করে, দুধ, মিষ্টি খাইয়ে বাকি নিয়মকানুন শেষ করে মেঘকে নিয়ে মালিহা খান ভেতরে চলে যাচ্ছেন। এদিকে আবির ড্রয়িংরুমে দাঁড়িয়ে নির্বাক চোখে তাকিয়ে আছে। সবার পূর্ণ মনোযোগ মেঘের দিকে দেখে আবির ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,” আমি এখন কি করবো?”মালিহা খান তপ্ত স্বরে বললেন,” তোর যা ইচ্ছে কর গিয়ে।”আবির দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল,“বউটাকে দিয়ে গেলে অন্তত দেখতে তো পারতাম। ”বন্যারা পরের গাড়ি দিয়ে আসছে তাই একটু দেরি হয়েছে। মীম, আইরিন আর বন্যা গেইটের কাছে আসতেই তানভির গুরুভার কন্ঠে ডাকল,” বন্যা। ”বন্যা সহ আইরিন আর মীম স্পষ্ট চোখে তাকিয়েছে। তানভির তৎক্ষনাৎ বলে উঠল,“আমি বন্যাকে ডেকেছি, তোদের নাম বন্যা?”“না।”“তাহলে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো?”বন্যা মৃদুস্বরে বলল,“কিছু বলবেন?”সঙ্গে সঙ্গে মীম, আইরিন একসঙ্গে বলে উঠলো,“কিছু বলবা?”তানভির মুখ ফুলিয়ে রাগী স্বরে বলল,“না।”মীম আর আইরিন বন্যাকে নিয়ে চলে যাচ্ছে। তানভির কয়েক মুহুর্ত তাকিয়ে থেকে আবিরের কাছে গেল। তানভির কপাল কুঁচকে এক দৃষ্টিতে বন্যার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,” ভাইয়া, তোমার বিয়ে টা তো শেষ হলোই এবার আমার টা নিয়ে একটু ভাবো।”আবির চোখ ঘুরিয়ে তানভিরের দিকে তাকিয়ে রাশভারি কন্ঠে বলল,” আগামী দু’বছর এই বাড়িতে আর কোনো বিয়ে হবে না।”“আমি চাকরি নিলেও না?”“না”“কোনো? ”“আমার বউ অন্ততপক্ষে দু’বছর এই বাড়ির একমাত্র বউ হয়ে রাজত্ব করবে। তোর বোনের বউ বউ ফিল শেষ হলেই তার ভাবিকে নিয়ে আসবো ততদিনে তুই নিজেকে গুছা।”“তাই বলে দুই বছর?”“দেখ তানভির, তুই আমার থেকে বয়সে দুই বছরের ছোট তাই বিয়েটাও দু’বছর পর করা উচিত। তাছাড়া আমি তোর বোনের মানসিক শান্তিতে ব্যাঘাত দিব না। তোকে ছয় মাসের মধ্যে বিয়ে করালাম সবকিছু ঠিকঠাক চললো। কোনো এক দিন, হয়তো আজ থেকে ১০ বছর পর মেঘ আমার কাছে এই অভিযোগটা করল তখন আমি কি করবো? ও কে কি এই দিনগুলো ফিরিয়ে দিতে পারবো?”তানভির মন মরা হয়ে বলল,” থাক, আমি আর কিছু বলব না।”তানভির মন খারাপ করে চলে যাচ্ছে। আবির মৃদু হেসেফের ডাকল, কিন্তু তানভির আর তাকালো না। অবশ্য তাকালেও বিশেষ কোনো লাভ হবে না কারণ আবির যা ভেবে রেখেছে তাই হবে, তানভির জোরপূর্বক কোনোকিছু পরিবর্তন করতে পারবে না আর করতে চাইও না। আগামীকাল আবিরদের বাসায় অনুষ্ঠান হবে, একেবারে কাছের মানুষজন ছাড়া অতিরিক্ত কোনো মানুষ থাকবে না। আবিরের আব্বু চেয়েছিলেন একদিনেই অনুষ্ঠান শেষ করতে কিন্তু মোজাম্মেল খানের এতে দ্বিমত ছিল। ওনি মেয়ের বিয়ের জন্য এত বছর যাবৎ স্বপ্ন দেখেছেন তাই আলী আহমদ খান ওনার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার সুযোগ দিয়েছেন। আবির আর রাকিব সন্ধ্যার পর পর ই বেড়িয়েছে, ফিরেছে প্রায় ১১ টা নাগাদ। ততক্ষণে বাড়ি মোটামুটি শান্ত হয়ে গেছে। আবির নিজের রুমে যেতে যেতে মেঘের রুমটা দেখে গেছে, রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। সন্ধ্যার পর থেকে মেঘের সাথে আবিরের আর কোনো কথায় হয় নি। আবির দু’তিনবার ডাকতেও গিয়েছে কিন্তু আজ কেনো জানি সাহস পাচ্ছে না তাই রুমে এসে মেঘের নাম্বারে কল দিল, সারাদিনের ক্লান্তিতে মেঘ গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। আবিরের কল বেজেই যাচ্ছে। মেঘের পাশ থেকে মাহমুদা খান ঘুম ঘুম কন্ঠে মেঘকে ডেকে বললেন,“মেঘ, ফোনটা সাইলেন্ট কর।”মেঘ ঘুমের মধ্যেই নড়ে উঠলো কিন্তু ফোন ধরলো না। গতকাল রাতে আবিরের রুমে আসার ঘটনা ছড়াতে ছড়াতে বড়দের কান পর্যন্ত চলে গিয়েছে। তাই মাহমুদা খান ইচ্ছে করেই আজ মেঘের রুমে শুয়েছেন। মেঘের একপাশে মাহমুদা খান অন্যপাশে বন্যা শুয়েছে। দু’বার কল কেটে পুনরায় কল বাজতে শুরু করেছে। বন্যা মেঘের পাশ থেকে ফোনটা একটু তুলতেই আবিরের ছবি ভেসে উঠেছে। বন্যা আস্তে করে বলল,“ঐ মেঘ, ভাইয়া কল দিচ্ছে।”ভাইয়া নামটা শুনতেই মেঘের গভীর ঘুম কেটে গেছে। ঘুম ঘুম চোখে পিট পিট করে কল রিসিভ করে কানে ধরল। ফোনের ওপাশ থেকে আবিরের মোলায়েম কন্ঠস্বর শুনা গেল,“আমার বউটা এখন কি করছে?”মেঘ ঘুম ঘুম কন্ঠে বলল,“ঘুমাচ্ছে”আবির মুচকি হেসে বলল,” কিন্তু আমার যে তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে।”“সকালে বলব।”“না, এখনি বলতে হবে। ”মাহমুদা খান আস্তে করে বললেন,” মেঘ, ফোনটা রেখে ঘুমা।”মেঘ ফিসফিস করে রেখে দেয়ার কথা বলছে কিন্তু আবির নাছোড়বান্দা, কথা তার বলতেই হবে। আবির তপ্ত স্বরে বলল,“চল ছাদে যায়।”“কেনো?”“আমার চাঁদটাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। ”“এখন ছাদে যেতে পারবো না।”ছাদের কথা শুনে মাহমুদা খান রাগী স্বরে বলে উঠলেন, “এই আবির, ফোনটা রাখবি তুই? আর একটা রাত সহ্য করতে পারছিস না?”
স্বাধীনতা মহান আল্লাহর নিয়ামত। আরবি ভাষার প্রবচন-‘দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ’। জন্মভূমি মক্কার প্রতি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অপরিসীম ভালোবাসার কথা বিশ্ববাসীর জানা। প্রতিপক্ষ মুশরিকদের হিংস্রতার শিকার হয়ে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যেতে বাধ্য হন। তিনি যখন মদিনার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তখন পেছন ফিরে প্রিয় মাতৃভূমির দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, ‘হে প্রিয় জন্মভূমি মক্কা আমার! যদি তোমার অধিবাসীরা আমাকে বাধ্য না করত আমি কোনো দিন তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।’ জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা আমরা পেয়েছি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে। সে অর্থে জন্মভূমিকে ভালোবাসা রসুলের সুন্নত। তাফসিরে কুরতুবির বর্ণনা অনুযায়ী-যখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করছিলেন তখন তাঁর চোখ সজল হয়ে উঠেছিল। দেশের জন্য, জন্মভূমির জন্য তাঁর দরদ ও ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। পরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রিয় হাবিবের মাধ্যমে মক্কাকে মুশরিকদের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে, স্বাধীনতা দিয়ে ধন্য করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় আছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনাকেও খুব ভালোবাসতেন। কোনো সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকালে মদিনার সীমান্তে ওহুদ পাহাড় চোখে পড়লে নবীজির চেহারায় আনন্দের আভা ফুটে উঠত এবং তিনি বলতেন, ‘এ ওহুদ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও ওহুদকে ভালোবাসি (বুখারি, মুসলিম)।’বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে। মানুষ হত্যাকে ইসলামে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে তারা জঘন্য অপরাধী। গণহত্যা আরও বড় অপরাধ। আল্লাহতায়ালার যত সৃষ্টি রয়েছে এর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হচ্ছে মানুষ। মানবসৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করেছেন এবং মানুষকে এই জমিনে তাঁর প্রতিনিধি বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন তারা বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গাহাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা প্রতিনিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না (সুরা বাকারা, আয়াত ৩০)।’মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই আল্লাহ মানুষকে তাদের দান করেছেন সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।’ সুরা তিন, আয়াত ৪। শুধু তা-ই নয়, আল্লাহর সুস্পষ্ট বাণী হচ্ছে, এই বিশ্বজগতের সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন কেবল মানুষেরই জন্য। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তিনিই সেই সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য জমিনের সবকিছু (সুরা বাকারা, আয়াত ২৯)।’ আল্লাহ যেমন ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি মানবজাতির সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছেন। একজন মানুষের জীবন, সম্পদ, মানসম্মান আল্লাহর কাছে এত দামি যে কোরআন ও হাদিসে এসব বিষয়ের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল কোরআনে একজন মানুষ হত্যা করাকে গোটা মানবজাতিকে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।হিজরতের পর মদিনায় হজরত আবুবকর (রা.) ও বেলাল (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তাঁদের মনে প্রিয় স্বদেশ মক্কার স্মৃতিচিহ্ন জেগে উঠেছিল। তাঁরা জন্মভূমি মক্কার কথা স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়ে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের মনের এ দুরবস্থা দেখে প্রাণভরে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমরা মক্কাকে যেমন ভালোবাসি মদিনার ভালোবাসা তার চেয়েও বেশি আমাদের অন্তরে দান করুন। বুখারি।’ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে স্বদেশকে ভালোবেসে আমাদের জন্য দেশপ্রেমের আদর্শ রেখে গেছেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি কেউ তোমাদের কোনো উপকার করে তবে তাকে প্রতিদান দেবে। যদি প্রতিদান দিতে না পার তবে তার জন্য এমনভাবে দোয়া করবে, যেন তোমাদের মন সাক্ষ্য দেয়, হ্যাঁ তোমরা তার প্রতিদান দিয়ে দিয়েছ (আবু দাউদ)।’ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর তবে তা শেষ করতে পারবে না (সুরা নাহল আয়াত ১৭)।’ আল্লাহর দেওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নেয়ামত হলো স্বাধীনতা। বাংলাদেশের মানুষ দুই যুগের দীর্ঘ সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আল্লাহর এ নেয়ামত অর্জন করেছে। আমাদের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর কাছে এই দিনে আমরা তাঁদের জন্য দোয়া করব। আল্লাহ তাঁদের বেহেশতের সুশীতল স্থানে ঠাঁই দিন।লেখক : ইসলামিক গবেষক
আমার প্রায় লেখাগুলোই শুরু হয় আমাদের জ্ঞানহীনতার আহাজারি দিয়ে। ব্যাপারটা একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সত্যি কথা এটাই যে মুসলিম হিসেবে যা জানার কথা ছিল ক্লাস ফোর-ফাইভে, সেটা আমি জেনেছি অনার্স পরীক্ষা দেবার পর! এরকম ইসলামের খুব বেসিক কিন্তু একেবারেই অজানা একটা বিষয় হল সুন্নাত।সুন্নাত শব্দটার সরল অর্থ পথ, নিয়ম বা রীতি। সুন্নাতুল্লাহ মানে আল্লাহর রীতি। সুন্নাতুর রসুল মানে রসুল(সাঃ) এর পথ, তাঁর রীতি। কিন্তু ইসলামি পরিভাষায় সুন্নাত শব্দটি বিভিন্ন শাখার স্কলাররা বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করেছেন। যেমন –১. ফিক্হ (ইসলামি আইন) শাস্ত্রে সুন্নাত বলতে বোঝায় এমন কাজ যা করা ভাল কিন্তু তা করতে মানুষ বাধ্য নয়। যেমন ফজরের ফরযের আগের দুই রাকাত নামাজ সুন্নাত। এটা কেউ না পড়লে পাপী হবেনা কিন্তু পড়লে অনেক অনেক সাওয়াব – আসমান এবং জমিনের মাঝে যা কিছু আছে তার থেকে এ দু’রাকাত নামায উত্তম বলে রসুল(সাঃ) আমাদের জানিয়ে গেছেন। এই ‘সুন্নাত’ মুস্তাহাব/মানদুব/পছন্দনীয়/Recommended এর সমার্থক শব্দ।২. হাদীস শাস্ত্রে রসুল(সাঃ) এর কথা, কাজ, মৌন সম্মতির পাশাপাশি অভ্যাস, দৈহিক বৈশিষ্ট্য অথবা জীবনবৃত্তান্ত – যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবই সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন তিনি লাউ খেতে ভালোবাসতেন এটা সুন্নাত, ঘুমের সময় তার হালকা নাক ডাকার শব্দ হত সেটাও সুন্নাত আবার তিনি মাথায় পাগড়ি পড়তেন এটাও সুন্নাত।৩. উসুলুল ফিক্হ (ইসলামি আইনের মূলনীতি) শাস্ত্রে সুন্নাত বলতে বোঝায় রসুল(সাঃ) এর কথা – আদেশ, উৎসাহ, অনুমোদন, অপছন্দ বা নিষেধ; তাঁর কাজ যা অন্যদের জন্য অনুকরণযোগ্য এবং তাঁর মৌন সম্মতি (কারণ কোন খারাপ কাজ হবে আর তিনি চুপ করে থাকবেন তা হবার নয়) সবকিছুর সমন্বয়কে।ভিন্ন ভিন্ন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন পটভূমিতে সুন্নাত শব্দের চলের ফলে আমরা প্রায়ই ভুল বুঝাবুঝির শিকার হই। খুব প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা –১. কুর’আনের সব আদেশ মানা বাধ্যতামূলক কিঃআল কুর’আনের সব আদেশ মুসলিমদের উপর ফরয নয়। যেমন সুরা বাক্বারার ২৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন – “…আর তোমরা বেচা-কেনা করার সময় সাক্ষী রাখ…” আল্লাহর এই আদেশটি অবশ্য পালনীয় নয় বরং মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়। আল্লাহ তার অসীম করুণায় এটা আমাদের উপর ফরয করে দেননি, দিলে দৈনন্দিন জীবন যাপনে আমাদের অনেক অসুবিধা হত।কুর’আন যেহেতু রসুল(সাঃ) এর উপর নাযিল হয়েছিল তাই এর বিধানগুলো কিভাবে মানতে হবে তা জানার জন্য আমাদের যেতে হবে রসুল(সাঃ) এর কাছে। কুর’আনের কোন আদেশের মর্যাদা কী তা ফকীহ আলিমরা সেই বিষয়ের উপর কুর’আন এবং হাদিসের সমস্ত সূত্র এক করে গবেষণা করে বের করেন। যেমন উল্লেখিত আয়াত রসুল(সাঃ) এর উপর নাযিল হওয়া সত্ত্বেও তিনি অনেক সময় সাক্ষী ছাড়াই কেনাকাটা করতেন। তার এ আচরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে এটা অবশ্য করণীয় নয়।২. হাদিসের আদেশ কি মানলেও চলে, না মানলেও চলেঃকোন ব্যাপারে রসুল(সাঃ) এর আদেশ মানা বাধ্যতামূলক হতে পারে যদিও হয়ত সে ব্যাপারে কুর’আন থেকে সরাসরি কোন বিধান নেই। যেমন রসুল(সাঃ) বলেছেন –“গোঁফ ছেঁটে রাখ এবং দাড়িকে ছেড়ে দাও”এখানে দাড়ির ব্যাপারে রসুল(সাঃ) “আমার প্রভু আমাকে আদেশ করেছেন” – এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন। এটি সহ দাড়ির ব্যাপারে অন্যান্য সব হাদিস একসাথে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে দাড়ি রাখা প্রত্যেক মুসলিম পুরুষের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক।অনেকে মনে করেন দাড়ি রাখা রসুলের সুন্নাত। এখানে সুন্নাত বলতে বুঝিয়েছে রসুল(সাঃ) এর একটি অভ্যাসকে। কিন্তু এই অভ্যাস আসলে ‘করলে ভালো না করলে ক্ষতি নেই’- এমন স্ট্যাটাসের না। এটা ফরয যা করতে প্রত্যেক মুসলিম বাধ্য। যদি কেউ দাড়ি না রাখে তবে তার জন্য তাকে রসুল(সাঃ), প্রকারান্তরে আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করায় পরকালে শাস্তি পেতে হবে।৩. সব সুন্নাতই কি অনুকরণীয়ঃযেসব সুন্নাত রসুল(সাঃ) এর অভ্যাসগত বা জীবন যাপনের সাথে সম্পর্কিত তার সব কিছু মানতে মুসলিম বাধ্য নয়। যেমন রসুল(সাঃ) ঘুমানোর সময় তার নাক ডাকতো। এখন আমাদেরও নাক ডাকতে হবে এমনটা জরুরী নয়। ঠিক তেমন রসুল(সাঃ) যে ধরণের পোষাক পরতেন তা তিনি আমাদের জন্য অনুকরণীয় করেননি। করলে দেখা যেত শীতের দেশের মুসলিমরা কিংবা আমাদের মত পানির দেশের মুসলিমরা সে ধরণের পোশাক পরতে না পারার কারণে সাওয়াবের দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই তিনি পোশাকের একটি রূপরেখা দিয়ে দিলেন। সে রূপরেখা মেনে চললে পৃথিবীর যে কোন এলাকার মুসলিম নিজেকে আবৃত করতে পারবে, পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলাচল করতে পারবে আবার রসুল(সাঃ) এর আদেশ মানার মাধ্যমে পূণ্যার্জনও করতে পারবে।৪. রসুলের আনুগত্য কি বাধ্যতামূলকঃমানুষ হিসেবে রসুল(সাঃ) এর কিছু কাজ আমাদের জন্য অনুকরণীয় নয় বটে কিন্তু রসুল হিসেবে তার সব কাজই আমাদের জন্য অনুকরণীয়। কিছু কিছু ব্যাপারে তার অনুকরণ করাটা পছন্দনীয় এবং বাঞ্চনীয় – যেমন তার চারিত্রিক শিষ্টাচার। আবার কিছু কিছু ব্যাপারে তাকে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আসলে তিনি যত আদেশ দিয়েছেন তা যদি অন্য কোন কথা বা কাজ দিয়ে লঘু না করে থাকেন তবে সেটা আমাদের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক। এটা সময় বা পরিবেশের সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল নয়। যেটা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বদলে যেতে পারে সেটা আমাদের উপর বাধ্য করা হয়নি। সত্যি কথা বলতে গেলে ইসলামটা আসলে রসুলের আনুগত্যের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষের জীবনে ইসলামের রূপটা কেমন হবে তার জ্বলন্ত উদাহরণ রসুল(সাঃ)। এ কারণেই আল্লাহ কুর’আন আকাশ থেকে পৃথিবীতে ঠাস করে ফেলে দেননি, একজন মানুষ নবীর উপর নাযিল করেছেন। এতে কুর’আনের তাত্বিক ও ব্যবহারিক ব্যাখ্যা সমেত মানব্জাতির কাছে আল্লাহর পুরো মেসেজটাই কিয়ামাত পর্যন্ত সংরক্ষণ করা গেছে। আর মূলতঃ এই কারণে হাফ-কাফির / ফুল-কাফির / ওরিয়েন্টালিস্ট / মুক্তমনাদের আক্রমণের কেন্দ্র ক্বুর’আন নয়, সুন্নাতুর রসুল। সুন্নাত আছে মানে কুর’আন যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যাখ্যা করার দরজা বন্ধ। সুন্নাত নেই মানে ‘মারি তো গন্ডার লুটি তো ভান্ডার’।৫. নামাযে টুপি পড়া কি সুন্নাতঃপাগড়ি বা টুপি জাতীয় পোশাক পড়া ছিল রসুল(সাঃ) এর অভ্যাস। কিন্তু তিনি সহিহ হাদিসে নামাযের পড়ার সাথে টুপির বিষয়টা সম্পর্কযুক্ত করেননি। নামাযের সময় ভালো পোশাক পরতে আদেশ দেয়া হয়েছে কুর’আনে কারণ অজ্ঞ মুশরিকরা নগ্নদেহে কাবা ঘর তাওয়াফ করত। এর বিরুদ্ধাচারণ করতে বলা হয়েছে ইসলামে। আমরা কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গেলে বা গুরুত্বপূর্ণ কোন মানুষের সাথে দেখা করতে হলে আমাদের সবচেয়ে ভালো পোশাক পড়ে যাই। একজন মুসলিমের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্ত্বা আল্লাহ, সবচেয়ে দামী জায়গা মসজিদ – তাই সে সেখানে সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে দামী পোশাক পড়ে যাবে এটাই কাম্য। কারো যদি টুপি পড়ার অভ্যাস থাকে সে অবশ্যই টুপি পড়ে নামায পড়তে পারে। কারো যদি অভ্যাস না থাকে কিন্তু শুধু নামাযের জন্য টুপি পড়ে তবে সেটা ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক আছে যতক্ষণ না সে মনে করছে এই টুপি পড়ায় বাড়তি কোন সাওয়াব আছে। পাগড়ি বা টুপি পড়ায় যদি বাড়তি কোন সাওয়াব থাকতো তবে তা রসুল(সাঃ) বলে যেতেন। যেহেতু তিনি তা বলে যাননি সেহেতু কেউ যদি ভাবে ‘টুপি/পাগড়ি পড়লে সাওয়াব হয়’ অথবা ‘টুপি/পাগড়ি নামাযের একটি অংশ’ তবে সেটা হবে বিদ’আত। এখানে কাজটা অভ্যাসগত সুন্নাত অথচ কাজের সাথে মিশে থাকা বিশ্বাসটা বিদ’আত। কোনটায় সাওয়াব হবে সেগুলো খুব স্পষ্টভাবে কুর’আন এবং সুন্নাহতে বলে দেয়া আছে – আমার মনে করাকরির কোন স্থান ইসলামে নেই।৬. সুন্নাতি লেবাস কিঃরসুল(সাঃ) তোফ মানে ঢিলেঢালা লম্বা জামা পড়তেন যার দৈর্ঘ্য ছিল হাটু থেকে গোড়ালির মাঝামাঝি পর্যন্ত। এখন কেউ একটা পাঞ্জাবি পড়ল যা হাটু পর্যন্ত। আর আমি একটা তোফ পড়লাম যা প্রায় গোড়ালি ছুঁই-ছুঁই। এখন যদি আমি মনে করি এটা পড়ে আমি একটু বেশি সাওয়াব পাচ্ছি তবে সেটা হবে বিদ’আত। কারণ জামার ধরণ বা দৈর্ঘ্যের সাথে সাওয়াবের কোন সম্পর্ক আল্লাহ বা তার রসুল(সাঃ) করেননি। আমাদের দেশে সুন্নাতি লেবাসের যে ধারণাটি প্রচলিত আছে তা আসলে সুন্নাতি লেবাসের একটা রূপ মাত্র, পুরো চিত্রটা নয়।তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে দেয়া উচিত। রসুল(সাঃ) কে ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ। যে কেউ রসুল(সাঃ)কে ভালোবেসে শরিয়াতের সীমার মধ্যে কিছু করলে সেটা সে যাই করুক না কেন সেজন্য সে সাওয়াব পাবে। তবে সে সাওয়াব হবে ‘রসুল কে ভালোবাসা’-এই মূলনীতির আওতায়। অর্থাৎ কেউ যদি সবসময় টুপি পড়ে থাকে তবে সে রসুল(সাঃ) কে ভালোবেসে অনুকরণ করার কারণে সাওয়াব পাবে, কিয়ামাতের বিপদে রসুলের সান্নিধ্য পাবে। কেউ যদি লাউ খেতে ভালোবাসে এজন্য যে রসুল(সাঃ) তা ভালোবাসতেন তবে রসুল(সাঃ) কে ভালোবাসার কারণে সে সাওয়াব পাবে – ‘লাউ খাওয়া’ এ কাজটির কারণে সাওয়াব পাবেনা।সাধু সাবধানঃআমাদের দেশের তথাকথিত সচল-আলোকিত শ্রেণীর মানুষের গা-জ্বালা করা দু’টি ব্যাপার আছে – দাড়ি ও টুপি। প্রথমটি ফরয এবং দ্বিতীয়টি সুন্নাত। কারো যদি এ দু’টি দেখে গা জ্বালা করে তবে বুঝতে হবে তার গা-জ্বালার আসল কারণ ইসলাম। দাড়ি-টুপি ইসলামের বাহ্যিক প্রতীকগুলোর মধ্যে দু’টি উল্লেখযোগ্য প্রতীক।আমরা আসলে ‘পা-ঝাড়া’ মুসলিম। সপ্তাহে একদিন সামাজিকতার খাতিরে জুম’আর নামায পড়তে আমরা মসজিদে যাই। সেখান থেকে বের হয়ে প্রথম যে কাজটা করি তা হলো গোটানো প্যান্টটা ঝেড়ে ছেড়ে দেই গোড়ালির নিচে। এই পা ঝাড়ার সময় যতটুকু ইসলাম ভুল করে মসজিদ থেকে পায়ে লেগে গিয়েছিল সেটুকু ঝেড়ে ফেলে দিলাম। এই আমরা কথায় কথায় ছাগু বলি, রাজাকারের কার্টুন আঁকার সময় দাড়ি আর টুপি আঁকি। সাকা চৌধুরী তো বিখ্যাত রাজাকার – তার মত মাকুন্দ রাজাকারের কোন ক্যারিকেচার কেন কেউ কখনো আঁকলোনা? কারণটা খুব স্পষ্ট – যাতে দাড়ি আর টুপি তথা ইসলামকে রাজাকারের প্রতিশব্দ করে ফেলা যায়। আজ সেটা খুব সফলভাবে করা গেছে। যে মুসলিম নিজের ধর্মের প্রতীক প্রকাশে লজ্জা পাবে এমন মুসলিমই তো শয়তান চেয়েছিল। নিজের ইসলামকে কাফিরদের মন মত করে সাজিয়ে নেবে এমন মুসলিমের পরিকল্পনাই তো কাফিররা করেছিল। রজম, চার বিয়ে আর মেয়েদের পর্দার মত ‘নোংরা’ (নাউযুবিল্লাহ) সুন্নাত মুসলিমরা ঝাড় দিয়ে পরিষ্কার করে খাটের তলায় লুকোবে আর হাত কাঁচু-মাচু করে বলবে – না, না এসব আসল ইসলাম নয় – এমন মুসলিমদের স্বপ্নই দেখেছে কাফিরেরা, আজীবন।ইসলাম মানে আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তার পুরোটাই মেনে নেয়া। যেটুকু আমার ভাল লাগে বা যেটুকু আমার বুঝে আসে বা যেটুকু মানলে আলোকিত সচল হওয়া যাবে, সুশীল সমাজ ভাল বলবে শুধু সেটুকু মানার নাম ইসলাম নয়। আমাদের মত সুশীল/সচল হবার দৌড়ে মত্ত আপাত মুসলিমদের আল্লাহ খুব বড় একটা ধাক্কা দিয়েছেন এভাবে –“…..তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান কর? সুতরাং তোমাদের যারা এরকম করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে হীনতা এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে।………” [সূরা বাক্বারা, ২ : ৮৫]আবার বলি। শ্যাম এবং কূল দুটো একসাথে রাখার কোন সিস্টেম ইসলামে নাই। বাঁশি সহ শ্যামকে ওয়াক-আউট না করাতে পারলে ইসলাম থাকবেনা। একটা মানুষ হয় মুসলিম নাহয় কাফির – মাঝামাঝি কিছু নেই। আর মুসলিম মানে সুন্নাতের কাছে আত্মসমর্পণ। একজন কত ভালো ভাবে আত্মাকে সমর্পণ করতে পারলো সেটা দিয়ে নির্ধারিত হবে সে কোন গ্রেডের মুসলিম। পা-ঝাড়া মুসলিম হয়ে এপারে জানাজাটুকু মিললেও ওপারে কিন্তু কেবলই কাঁচকলা।
আলেম সমাজ একমত যে বুখারী ও মুসলিম বিশুদ্ধ কিতাব। এ দু’টি কিতাবকে একত্রে ‘ছহীহায়ন’ তথা বিশুদ্ধ দু’খানা কিতাব বলা হয়। বুখারী ও মুসলিমের বিশুদ্ধতার বিষয়ে মনীষীদের সুচিন্তিত অভিমত নিম্নে প্রদত্ত হ’ল-ছহীহ বুখারী :১. জমহূর মুহাদ্দিছীনে কেরামের মতে,أصح الْكتب بعد كتاب الله الصحيح البخارى- ‘আল্লাহর কিতাব কুরআনুল কারীমের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হ’ল ছহীহুল বুখারী’।[1]২. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী ইমাম নববী সহ অসংখ্য মুসলিম মনীষী বলেছেন,اتفق العلماء رحمهم الله على أن أصح الكتب بعد القرآن العزيز الصحيحان البخاري ومسلم وتلقتهما الأمة بالقبول وكتاب البخاري أصحهما وأكثرهما فوائد ومعارف ظاهرة وغامضة- ‘জমহূর ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কুরআনুল কারীমের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হ’ল ‘ছহীহায়ন’ তথা ছহীহ বুখারী ও ছহীহ মুসলিম। আর ছহীহ বুখারী হ’ল উভয় কিতাবের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম, অধিক উপকারী, সুপরিচিত ও সূক্ষ্ম’।[2]৩. হাফেয মূসা ইবনে হারূণ বলেন,لو أن أهل الاسلام اجتمعوا على أن ينصبوا آخر مثل محمد بن إسماعيل ما قدروا عليه- ‘যদি সকল মুসলমান একত্রিত হয়ে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত ছহীহ আল-বুখারীর মতো উঁচু মানের ও বিশুদ্ধ কিতাব সংকলন করতে চেষ্টা করে, তবুও তারা তা করতে সক্ষম হবে না’।[3]৪. হাফেয আবু ইয়ালা আল-খলীলী স্বীয় ‘ইরশাদ’ গ্রন্থে লিখেছেন,رحم الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل فَإِنَّهُ ألف الْأُصُول يَعْنِي أصُول الْأَحْكَام من الْأَحَادِيث وَبَين للنَّاس وكل من عمل بعده فَإِنَّمَا أَخذه من كِتَابه كمسلم بن الْحجَّاج ‘আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রহঃ)-এর প্রতি রহম করুন। কেননা তিনি ইলমে হাদীছের হুকুম-আহকাম তথা মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন ও তাঁর পরে যারা একাজ করবে তাদের প্রত্যেকের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। বস্ত্তত তাঁর সংকলিত ছহীহ বুখারী থেকে অন্যান্য মুহাদ্দিছ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। যেমন ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)।[4]৫. ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেন, ما فى هذه الكتب كلها أجود من كتاب البخارى- অর্থাৎ ‘হাদীছের এসব কিতাবের মধ্যে ছহীহ আল-বুখারী অপেক্ষা অধিক উত্তম আর কোন কিতাব নেই’।[5]৬. আবূ জা‘ফর মাহমূদ ইবনে আমর আল-আকীলী বলেন, لما ألف البُخَارِيُّ كتاب الصَّحِيْح عرضه على أَحْمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين وعَلى بن الْمَدِينِيّ وَغَيرهم فاستحسنوه وشهدوا لَهُ بِالصِّحَّةِ الا فِي أَرْبَعَة أَحَادِيث- অর্থাৎ ইমাম বুখারী (রহঃ) ছহীহ আল-বুখারীর পান্ডুলিপি আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আহমাদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ সমকালীন জগদ্বিখ্যাত মনীষীগণের নিকট পেশ করেন। তাঁরা একে উত্তম বলে অভিহিত করেন এবং মাত্র চারটি হাদীছ ব্যতীত সকল হাদীছের বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি প্রদান করেন। অবশ্য ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর শর্তে ঐ চারটি হাদীছও ছহীহ’।[6]৭. আবু যায়েদ আল-মারওয়াযী বলেন,كنت نَائِما بَين الرُّكْن وَالْمقَام فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَنَامِ فَقَالَ لي يَا أَبَا زيد إِلَى مَتى تدرس كتاب الشَّافِعِي وَلاَ تدرس كتابي، فَقلت يَا رَسُول الله وَمَا كتابك قَالَ جَامع مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل- অর্থাৎ আমি রুকনে ইয়ামানী ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝামাঝি স্থানে ঘুমন্ত ছিলাম। এ সময় আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বলছেন, হে আবু যায়েদ! শাফেঈর কিতাবের দারস আর কতদিন দিবে, আমার কিতাবের দারস দিবে না? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনার কিতাব কোনটি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারীর জামি‘ তথা ছহীহ বুখারী।[7]ছহীহ মুসলিম :এ বিশ্বে ইলমে হাদীছের যতগুলো কিতাব সংকলিত হয়েছে, তন্মধ্যে দু’টি কিতাবকে ওলামায়ে কেরাম ‘ছহীহায়ন’ তথা ‘বিশুদ্ধতম দু’টি কিতাব’ বলে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এ ছহীহায়নের একটি হ’ল ছহীহ মুসলিম। অধিকাংশ মুহাদ্দিছীনে কেরাম ছহীহায়নের ছহীহ বুখারীকে সর্বাধিক বিশুদ্ধতম বলে অভিমত পোষণ করলেও আবু আলী নিসাপুরীসহ মুসলিম বিশ্বের ও পাশ্চাত্যের কিছু সংখ্যক মনীষী অভিমত পোষণ করেছেন যে, أَن كتاب مُسلم أفضل من كتاب البُخَارِيّ ছহীহ মুসলিম ছহীহ বুখারীর চেয়ে উত্তম।[8]১. হাফেয ইবনে মান্দাহ (রহঃ) বলেন,سمعت أبا علي الحسين بن علي النيسابوري، يقول: ما تحت أديم السماء أصح من كتاب مسلم بن الحجاج في علم الحديث অর্থাৎ আমি আবু আলী নিসাপুরীকে বলতে শুনেছি, এ আকাশের নীচে ছহীহ মুসলিমের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ ইলমে হাদীছের কোন কিতাব নেই’।[9]২. হাফেয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন,حصل لمسلم في كتابه حظ عظيم مفرط لم يحصل لأحد مثله অর্থাৎ ‘ইমাম মুসলিম (রহঃ) তাঁর ছহীহ মুসলিমের কারণে এত দ্রুততার সাথে এমন মহান সৌভাগ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন যে, এত দ্রুততার সাথে ঐ স্তরে পেঁŠছা কারোর পক্ষে সম্ভব নয়’।[10]৩. হাফেয মুসলিম ইবনে কুরতুবী (রহঃ) ছহীহ মুসলিম সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, لم يضع أحد فى الإسلام مثله অর্থাৎ ‘ইসলামে এরূপ গ্রন্থ কেউ রচনা করতে সক্ষম হয়নি’।[11]৪. আবু সাঈদ ইবনে ইয়া‘কূব বলেন,رأيت فيما يرى النائم كأن أبا على الزغورى يمضى فى شارع الحيرة وفى يده جزء من كتاب مسلم يعنى ابن الحجاج، فقلت له ما فعل الله بك؟ قال نجوت بهذا وأشار إلى ذلك الجزء. অর্থাৎ ‘প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ আয-যাগূরীকে যেন স্বপ্নে দেখলাম, তিনি নিসাপুরের ‘হিরাত’ নামক রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন এবং তাঁর হাতে রয়েছে ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের সংকলিত হাদীছগ্রন্থ ছহীহ মুসলিমের একটি খন্ড। আমি তাঁকে বললাম, আল্লাহ তা‘আলা আপনার সাথে কি আচরণ করেছেন? তখন তিনি ছহীহ মুসলিমের খন্ডটির দিকে ইশারা করে বললেন, এর বদৌলতে আমি (জাহান্নাম থেকে) নাজাত পেয়েছি’।[12]ইমাম মুসলিম (রহঃ) তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ ছহীহ মুসলিম সংকলনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। হাদীছের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে শুধু নিজের অভিমত ও দৃষ্টিকোণকেই প্রাধান্য দেননি; বরং তৎকালীন জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিছগণের অভিমত ও পরামর্শানুযায়ী হাদীছ লিপিবদ্ধ করেছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন,لَيْسَ كُلُّ شَيْءٍ عِنْدِيْ صَحِيْحٌ وَضَعْتُهُ ها هنا إنما وضعت ها هنا مَا أَجْمَعُوْا عَلَيْهِ অর্থাৎ শুধু আমার নিজস্ব অভিমতের ভিত্তিতে বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে এ কিতাবে হাদীছ সন্নিবেশ করিনি; বরং যে সকল হাদীছের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সমকালীন মুহাদ্দিছগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন ঐ সকল হাদীছও লিপিবদ্ধ করেছি’।[13]ছহীহ মুসলিমের পান্ডুলিপি বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য যে সকল মনীষীর নিকট পেশ করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে আবু যুর‘আ অগ্রগণ্য, যিনি হাফেযুল হাদীছ নামে খ্যাত। মাক্কী ইবনে আবদান বলেন,سمعت مسلما يقول : عرضت كتابى هذا المسند على أبى رزعة فكل ما أشار على فى هذا الكتاب ان له علة وسببا تركته وكل ما قال : أنه صحيح ليس له علت فهو الذى أخرجت.‘আমি ইমাম মুসলিম (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি এ কিতাব (ছহীহ মুসলিম) আমার শ্রদ্ধেয় উস্তায প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আবু যুর‘আ-এর নিকট উপস্থাপন করেছি। অতঃপর যে হাদীছের মধ্যে ত্রুটি আছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, আমি নিঃসংকোচে তা পরিত্যাগ করেছি। আর যে সকল হাদীছ বিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত বলে অভিমত পোষণ করেছেন, সে সকল হাদীছ আমি এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছি’।[14]ছহীহ মুসলিম সংকলনান্তে ইমাম মুসলিম (রহঃ) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন,ما وضعة فى هذا المسند شيئا الا بحجة ولا اسقطة شيئا منه الا بحجة. অর্থাৎ বিশুদ্ধতার অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কোন হাদীছ আমি এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করিনি এবং অশুদ্ধতার অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কোন হাদীছ আমি পরিত্যাগও করিনি’।[15]ইমাম মুসলিম (রহঃ) স্বীয় অমর সংকলন ছহীহ মুসলিমের বিশুদ্ধতার প্রতি সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে দাবী রেছেন,لو أن أهل الحديث يكتبون مائتي سنة الحديث فمدارهم على هذا المسند অর্থাৎ ‘যদি মুহাদ্দিছগণ দু’শত বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ও কঠোর সাধনা করে ইলমে হাদীছের কোন গ্রন্থ সংকলন করেন তবুও এ গ্রন্থের ওপর তাঁদেরকে নির্ভর করতে হবে’।[16]– ক্বামারুয্যামান বিন আব্দুল বারীপ্রধান মুহাদ্দিছ, বেলটিয়া কামিল মাদরাসা, জামালপুর। [1]. আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (হানাফী), উমদাতুল ক্বারী (বৈরূত : দারু এহইয়াইত তুরাছিল আরাবী, তাবি), ১/৫ পৃঃ; জালালুদ্দীন জালালাবাদী; মিফতাহুল উলূম ওয়াল ফুনূন (হাটহাজারী, চট্টগ্রাম, তাবি), পৃঃ ৫৮; মান্না আল-কাত্ত্বান, তারীখুত তাশরীয়িল ইসলামী (রিয়ায : মাকতাবাতুল মা‘আরিফ ১৯৯৬ ইং/১৪১৭ হিঃ), পৃঃ ৯৪।[2]. শরহে মুসলিম লিন নববী, ১/১৫ পৃঃ, সাইয়েদ ছিদ্দীক হাসান কানুহী, আল-হিত্তাহ ফী যিকারিছ ছিহাহ সিত্তাহ, (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলয়িয়্যাহ, ১৯৮৫ ইং), পৃঃ ১৬৮; হাজী খলীফা, কাশফুয যুনূন (বৈরূত : দারু ইহইয়ায়িত তুরাছিল আরাবী, ১/৫৪১ পৃঃ; তাদবীবুর রাবী, পৃঃ ৬৭।[3]. হাফেয জালালুদ্দীন আল-মিযযী, তাহযীবুল কামাল ফী আসমাইর রিজাল, (বৈরূত : মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ ১৯৯২ইং), ২৪/৪৫৭; হাফেয শামসুদ্দীন আয-যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, (বৈরূত : মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১৯৯৬ইং/১৪১৭ হিঃ), ১২/৪৩৪ পৃঃ।[4]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, হুদা আস-সারী মুক্বাদ্দামাতু ফাতহিল বারী (রিয়ায : মাকতাবাতু দারিস সালাম, ১৯৯৭ইং/১৪১৮ হিঃ), পৃঃ ১৪।[5]. শাববীর আহমাদ উছমানী, মুক্কাদ্দামাতু ফাতহিল মুলহিম (দেওবন্দ : মাকতাবাতুল আশরাফিয়া, ১৯৯৯ ইং), ১/৯৭ পৃঃ; তাদবীবুর রাবী, পৃঃ ৭০।[6]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, তাহযীবুত তাহযীব (বৈরূত : দারু ইহইয়াইত তুরাছ আল-আরাবী, ১৯৯৩ ইং/১৪১৩ হিঃ), ৫/৩৭ পৃঃ; হুদা আসসারী মুক্বাদ্দামাতু ফাতহিল বারী, পৃঃ ৯।[7]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, মুকাদ্দামাতু ফাতহিল বারী (বৈরূত : ইহয়াইত তুরাছিল আরাবী, তাবি), ১/৪৭৮; আত-তুহফাতু লি তালিবিল হাদীছ, পৃঃ ৮।[8]. হুদা আস-সারী, পৃঃ ১৩; সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৫৬৭ পৃঃ; তারীখুত তাশরীঈল ইসলামী, পৃঃ ৯৪; শরহে ছহীহ মুসলিম নববী, ১/১৫ পৃঃ।[9]. তাযকিরাতুল হুফফায, ২/৫৮৯ পৃঃ; তারীখু বাগাদাদ, ৩/১০১ পৃঃ; শাযারাতুয যাহাব, ২/১৪৪ পৃঃ।[10]. তাহযীবুত তাহযীব, ৫/৪২৭ পৃঃ; মুকাদ্দামাতু ফাতহিল মুলহিম, ১/৯১ পৃঃ; সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৫৬৭ পৃঃ।[11]. হায়াতুল মুছান্নিফীন, পৃঃ ৫৫; হুদা আস-সারী বারী, পৃঃ ১৬।[12]. বুস্তানুল মুহাদ্দিছীন, পৃঃ ২৩২।[13]. আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরফুদ্দীন নববী, শরহে ছহীহ মুসলিম (দারুত তাহাভী, তা.বি), ১/১৬ পৃঃ; আল-হিত্তাহ ফী যিকরিছ ছিহাহ সিত্তাহ, পৃঃ ২০১; তাদরীবুর রাবী, পৃঃ ৭৩।[14]. আল্লামা শাববীর আহমাদ ওছমানী, ফাতহুল মুলহিম, (দেওবন্দ : মাকতাবাতুল আশরাফিয়া, ১৯৯৯ খ্রিঃ), ১/১০১ পৃঃ; মিফতাহুল উলূম ওয়াল ফুনূন, পৃঃ ৫৮।[15]. তাযকিরাতুল হুফফায, ২/৫৮৯ পৃঃ; কাশফূয যুনূন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনূন, ১/৫৫৫ পৃঃ।[16]. শরহে ছহীহ মুসলিম, ১/১৬ পৃঃ; মুকাদ্দামাতু ছহীহ মুসলিম লি নববী, ১/১৩ পৃঃ।
বাংলাদেশ ফুটবল লিগে আজ আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ। রাতে লা লিগায় মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ, প্রতিপক্ষ জিরোনা।বাংলাদেশ ফুটবল লিগআবাহনী-মোহামেডানবেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টসপিএসএলকোয়েটা-রাওয়ালপিন্ডিরাত ৮টা, টি স্পোর্টসআইপিএলরাজস্থান-বেঙ্গালুরুরাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২লা লিগারিয়াল মাদ্রিদ-জিরোনারাত ১টা, বিগিন অ্যাপইংলিশ প্রিমিয়ার লিগওয়েস্ট হাম-উলভারহ্যাম্পটনরাত ১টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১
ঘটনাবলি১২৪১ - লিইয়েগনিটয যুদ্ধে মোঙ্গল বাহিনী পোলিশ এবং জার্মান সেনাদের পরাজিত করে। ১৪১৩ - পঞ্চম হেনরি ইংল্যান্ডের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। ১৪৪০ - ক্রিস্টোফার ডেনমার্কের রাজা হন। ১৪৮৩ - প্রথম অ্যাডওয়ার্ড চতুর্থ অ্যাডওয়ার্ডকে ইংল্যান্ডের পরবর্তী রাজা হিসেবে নির্বাচিত করেন। ১৭৮৩ - টিপু সুলতান ব্রিটিশদের কাছ থেকে বেন্দোর দখল করে নেন। ১৭৫৬ - নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা বা মির্জা মুহাম্মাদ সিরাজ-উদ-দৌলা রাজ্যভার গ্রহণ করেন। ১৮৭২ - স্যামুয়েল আর পার্সি গুঁড়া দুধ প্যাটেন্ট করেন। ১৯১৮ - লাটভিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৯২৮ - তুরস্কে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৪০ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘অপারেশন ওয়েসেরুবুং’ জার্মানরা ডেনমার্ক ও নরওয়ে আক্রমণ করে। ১৯৪৫ - যুক্তরাষ্ট্রে আণবিক শক্তি কমিশন গঠন করা হয়। ১৯৪৮ - বায়তুল মোকাদ্দাসারের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত দিরইয়াসিন গ্রামে ইসরাইলিরা ব্যাপক গণহত্যা চালায়। ১৯৫৭ - সুয়েজখাল সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়। ১৯৬৫ - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৭৪ - দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীকে প্রত্যর্পণের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ১৯৯১ - জর্জিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। ১৯৯৭ - বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আইসিসি ট্রফিতে স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। ১৯৯৮ - সৌদি আরবে হজের শেষ দিনে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১৫০ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়। জন্ম ১২৮৭ - ইংল্যান্ডের রাজা চতুর্থ অ্যাডওয়ার্ড। ১৮০৬ - ইসাম্বারড কিংডম ব্রুনেল, ইংরেজ প্রকৌশলী ও ক্লিফটন সাসপেনশন ব্রিজ পরিকল্পক। ১৮২১ - ফরাসি কবি শার্ল বোদলেয়ার। ১৮৩০ - এয়াড্বেয়ারড মুয়ব্রিডগে, ইংরেজ ফটোগ্রাফার ও সিনেমাটোগ্রাফার। ১৮৩৫ - বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপল্ড। ১৮৬৫ - এরিক লুডেন্ডোরফ, জার্মান জেনারেল ও রাজনীতিবিদ। ১৮৬৭ - ক্রিস ওয়াটসন, চিলির বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ও ৩য় প্রধানমন্ত্রী। ১৮৭২ - লিও বলুম, ফরাসি আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী। ১৮৮২ - ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজসেবক মহিমচন্দ্র দাশগুপ্ত। ১৮৯৩ - রাহুল সাংকৃত্যায়ন ভারতের সুপণ্ডিত ও স্বনামধন্য পর্যটক। ১৯০১ - পল উইলিয়ামস, মার্কিন অভিনেতা ও পরিচালক। ১৯২৫ - রোকনুজ্জামান খান বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিকে ও সাংবাদিক। ১৯২৬ - হিউ হেফ্নার, মার্কিন প্রকাশক এবং প্লেবয় পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক। ১৯৩৮ - ভিক্টর চেরনোম্যরডিন, রাশিয়ান ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও ৩০তম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৮ - জয়া বচ্চন, ভারতীয় অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ। ১৯৫৩ - ভবানীপ্রসাদ মজুমদার, ভারতীয় বাঙালি কবি ও ছড়াকার। ১৯৫৭ - সেভে বালেস্টেরস, স্প্যানিশ গল্ফ খেলোয়াড় ও স্থপতি। ১৯৬৬ - সিনথিয়া নিক্সন, মার্কিন অভিনেত্রী। ১৯৭৫ - রবি ফাওলার, সাবেক ইংরেজ ফুটবলার ও ম্যানেজার। ১৯৮৫ - আন্তোনিও নকেরিনো, ইতালিয়ান ফুটবলার। মৃত্যু ৫৮৫ - সম্রাট জিমু, জাপানি সম্রাট। ৪৯১ - যেনো, বাইজেন্টাইন সম্রাট। ১৫৫৩ - ফ্রাঁসোয়া রাবলে, ফরাসি সন্ন্যাসী ও পণ্ডিত। ১৫৫৭ - মিকায়েল আগ্রিকলা, ফিনিশ যাজক ও পণ্ডিত। ১৬২৬ - ফ্রান্সিস বেকন, ইংরেজ দার্শনিক। ১৭৫৪ - ক্রিস্টিয়ান উলফের, জার্মান দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ। ১৭৫৬ - নবাব আলীবর্দী খাঁ, বাংলা, বিহার, ওড়িশার নবাব। ১৮৮২ - ডান্টে গ্যাব্রিয়েল রসেটি, ইংরেজ চিত্রশিল্পী, চিত্রকর ও কবি। ১৮৮৯ - মাইকেল ইউজিনে শেভরেউল, ফরাসি রসায়নবিদ ও শিক্ষাবিদ। ১৯৩৬ - ফেরডিনান্ড টনিয়েস, জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক। ১৯৪৫ - ডিয়েট্রিখ বোনহোফের, জার্মান যাজক ও ধর্মতত্ত্ববিদ। উইলহেম কানারিস, জার্মান নৌসেনাপতি। ১৯৫৯ - ফ্র্যাংক লয়েড রাইট, মার্কিন স্থপতি, ইন্টেরিওর ডিজাইনার, লেখক ও শিক্ষক। ১৯৭০ - প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি রসায়ন বিজ্ঞানী জ্ঞানেন্দ্রনাথ রায়। ১৯৮০ - মোহাম্মদ বাকির আল-সাদর, ইরাকি দার্শনিক। ১৯৯৩ - ইরানের বিখ্যাত শিল্পী ও লেখক সাইয়্যেদ মোর্তজা আয়ুবী শাহাদাত। ২০০১ - শাকুর রানা, পাকিস্তানি আম্পায়ার। ২০০৯ - শক্তি সামন্ত, ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক। ২০১১ - সিডনি লুমেট, মার্কিন পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার। ২০২১ - পবিত্র মুখোপাধ্যায়, বাঙালি কবি।
মেষ রাশি: বন্ধুদের সঙ্গে আজকের দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। আর্থিক দিক থেকে আজকের দিনটি খুব একটা ভালো নয়। আত্মীয়দের সঙ্গে আজ আপনার কোথাও ছোট সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে আপনি দৈনিক কাজের সূচি থেকে বিরতি পাবেন। মন থেকে সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। প্রেমের জন্য এই দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। কর্মক্ষেত্রের দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। আজ আপনি নিজের জন্য কিছুটা সময় পাবেন। সেই সময়ে আপনি একটি বই পড়তে পারেন অথবা গান শুনতে পারেন। আজকের দিনটি আপনার বিবাহিত জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত হবে।প্রতিকার: আর্থিক দিক থেকে উন্নতির লক্ষ্যে দৈনন্দিন শিবলিঙ্গের অভিষেক ঘটান।বৃষ রাশি: কোথাও অর্থ বিনিয়োগ করার আগে আজ অবশ্যই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করুন। পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সঙ্গে আজকের দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। প্রেমের জীবনে আজ আপনি একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি কাজ সর্তকতার সঙ্গে করুন। সামগ্রিকভাবে দিনটি অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে অতিবাহিত হওয়ায় আপনি নিজের জন্য সময় পাবেন না। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে।প্রতিকার: ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে উন্নতির লক্ষ্যে অবশ্যই অভাবী শিশু কন্যাদের উদ্দেশ্যে দুধের প্যাকেট দান করুন।মিথুন রাশি: শরীরের প্রতি অবশ্যই যত্নশীল হন এবং শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া এড়িয়ে চলুন। নিজের ওজনকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এই রাশির কিছু জাতক-জাতিকা আজ চাকরি পেতে পারেন। যার ফলে তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। বন্ধুদের কাছ থেকে আজ আপনি একটি কাজে সাহায্য পেতে পারেন। প্রেমের জীবনে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। কর্মক্ষেত্রে দিনটি খুব একটা খারাপ কাটবে না। যাঁরা কিছুদিন ধরে অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে ছিলেন তাঁরা আজ নিজেদের জন্য অবসর সময় পাবেন। বিবাহিত জীবনে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে নিজেরাই তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।প্রতিকার: প্রেমের জীবন সুখকর করে তোলার লক্ষ্যে পকেটে একটি সুগন্ধি রুমাল রাখুন।কর্কট রাশি: প্রত্যেকের সঙ্গে আজ অবশ্যই ঠান্ডা মাথায় কথা বলুন। আপনার নামে একটি ভুল সিদ্ধান্ত আজ আপনাকে বিপরীতভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যার ফলে আপনার মানসিক চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি আজ একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন এবং অর্থ সঞ্চয় সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পাবেন। সেগুলিকে সঠিকভাবে কাজে লাগালে আপনার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরনো বন্ধুদের কাছ থেকে আজ আপনি একটি কাজে সাহায্য পেতে পারেন। প্রেমের জন্য এই দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। আপনি আজ খুব সহজে কিছু নতুন জিনিস শিখতে পারবেন। পরিবারের সব থেকে ছোট সদস্যকে নিয়ে আপনি আজ একটি পার্কে অথবা শপিং মলে যেতে পারেন। বিবাহিত জীবন নিঃসন্দেহে সুখের হবে।প্রতিকার: শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে দুধ এবং দই খান।সিংহ রাশি: কাউকে অর্থ ধার দেওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন। পাশাপাশি, যদি ঋণ দিতেই হয় সেক্ষেত্রে লিখিত প্রমাণ রাখুন। সন্তানদের স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই নজর দিন। বিদেশে পেশাগত যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। প্রেমের জীবনে আজ আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার আজ কোথাও আনন্দদায়ক সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। বিবাহিত জীবনে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে নিজেরাই তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে একজন কন্যাকে ক্ষীর অথবা পায়েস খেতে দিন।কন্যা রাশি: মন থেকে অবশ্যই সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। আর্থিক দিক থেকে আজকের দিনটি খুব একটা খারাপ নয়। যাঁদের সঙ্গে আপনার অত্যন্ত কম সাক্ষাৎ হয় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেমের জীবনে আজ আপনি একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। আপনার নেওয়া একটি দৃঢ় পদক্ষেপ আজ ইতিবাচক ফলপ্রদান করবে। বিবাহিত জীবনে অবশ্যই কিছুটা সময় দিন।প্রতিকার: শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে গম, গোটা লাল মসুর এবং লাল রঙের সিঁদুর মিশিয়ে সূর্যস্নান করুন।তুলা রাশি: কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ এবং বাড়িতে চলা একটি বিরোধের কারণে আজ আপনার মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠবে। প্রত্যেকের সঙ্গে অবশ্যই ঠান্ডা মাথায় কথা বলুন। আর্থিক দিক থেকে আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। এই রাশির কিছু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের একটি পুরস্কার গ্রহনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে অত্যন্ত খুশি হবেন। কর্মক্ষেত্রে দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। আপনি আজ আপনার একটি অসুবিধার কথা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন। যার ফলে বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: আর্থিক দিক থেকে উন্নতির লক্ষ্যে আপনার ক্রয়ক্ষমতা অনুসারে সোনা কিনে তা পরিধান করুন।বৃশ্চিক রাশি: মন থেকে সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। মন ভালো রাখার জন্য আজ আপনি কিছু আকর্ষণীয় বই পড়তে পারেন। দীর্ঘস্থায়ী লাভের জন্য আপনি আজ কোনও শেয়ারে অথবা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। বাবা মায়ের স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই নজর দিন। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে আজ আপনি কোথাও পিকনিকে যেতে পারেন। সেখানে গিয়ে কিছু মূল্যবান স্মৃতির সঞ্চয় ঘটবে। কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি কাজ সতর্কতার সঙ্গে করুন। আজ নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে আপনার মধ্যে থাকা ঘাটতিগুলি পূরণ করার চেষ্টা করুন। এর ফলে আপনার ব্যক্তিত্বে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিবাহিত জীবন নিঃসন্দেহে সুখের হবে।প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে গরুকে খাবার খেতে দিন।ধনু রাশি: নিজের উপার্জন ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবশ্যই চেষ্টা করুন। বিদেশে থাকেন এমন একজন আত্মীয়ের কাছ থেকে আজ আপনি একটি উপহার পেতে পারেন। যার ফলে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। প্রেমের জীবনে আজ আপনি একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। আজ আপনার সঙ্গে একটি আকর্ষণীয় ঘটনা ঘটতে পারে। সামগ্রিকভাবে দিনটি খুব একটা খারাপ কাটবে না। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: আর্থিক দিক থেকে উন্নতির লক্ষ্যে বৃহন্নলাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন।মকর রাশি: শরীর নিয়ে অযথা চিন্তা করবেন না। কারণ, আজ আপনি শারীরিক দিক থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবেন। আপনার আজ জমি সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কোনও নতুন প্রকল্পে অংশগ্রহণ করার আগে সমস্ত তথ্য ভালোভাবে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। নিজের মূল্যবান জিনিসপত্রগুলি আজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রাখুন। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এবং কেরিয়ারে উন্নতির লক্ষ্যে ময়ূরের পালক বাড়িতে রাখুন।কুম্ভ রাশি: মন থেকে সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। শরীরের প্রতি অবশ্যই যত্নশীল হন। বাবার কাছ থেকে পাওয়া একটি পরামর্শকে কর্মক্ষেত্রে সঠিকভাবে কাজে লাগালে আপনার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে ঠান্ডা মাথায় সেটিকে সমাধানের চেষ্টা করুন। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সংযত হয়ে কথা বলুন। আপনি আজ ভাই-বোনের সঙ্গে বাড়িতে একটি সিনেমা কিংবা প্রতিযোগিতা দেখতে পারেন। বিবাহিত জীবনে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলেও পরে তা ঠিক হয়ে যাবে।প্রতিকার: শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে শোয়ার ঘরে ক্রিস্টালের বল রাখুন।মীন রাশি: এই রাশির কিছু জাতক-জাতিকা আজ চাকরি পেতে পারেন। যার ফলে তাঁরা আর্থিক দিক থেকে লাভবান হবেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আজ আপনি আপনার একটি সমস্যার কথা ভাগ করে নিতে পারেন। আপনার অহঙ্কার মানসিকতাকে অবশ্যই দূরে সরিয়ে রাখুন। প্রেমের জীবনে আজ আপনি একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। আপনি আজ অবসর সময়ে একটি ওয়েব সিরিজ দেখতে পারেন। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: দাম্পত্য জীবন সুখকর করে তোলার লক্ষ্যে খাবারে জাফরানের ব্যবহার করুন।
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কমেডি নাটক **Bachelor Point** আবারও নতুন এপিসোড নিয়ে হাজির হয়েছে। দর্শকদের দীর্ঘ অপেক্ষার পর **Bachelor Point Season 5 (2025)** মুক্তি পেয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেএই পোস্টে আপনি **Bachelor Point Season 5-এর সব নতুন এপিসোড BongoBD WEB-DL কোয়ালিটিতে ডাউনলোড বা অনলাইনে দেখার লিংক** পাবেন।The Meme Coin You’ve Been Waiting For!I am AdZilla. Buy my meme coin now!New memecoin is here! Buy now!I am AdZilla. Trade me on any Solana DEX!Bachelor Point Season 5Details.........Drama Name:** Bachelor PointSeason:** 05Release Year:** 2025Genre:** Comedy / DramaLanguage:** BanglaDirector:** Kajal Arefin OmeSource:** BongoBDQuality:** WEB-DLResolution:** 720p / 1080pCast......* Ziaul Hoque Polash (Kabila)* Mishu Sabbir* Chashi Alam (Habu Bhai)* Marzuk Russell* Faria Shahrin* Tasnia Farin* Parsa Evana* Shamim Hasan SarkarStory....Bachelor Point মূলত কয়েকজন ব্যাচেলর বন্ধুর দৈনন্দিন জীবন, মজার ঘটনা এবং বিভিন্ন সমস্যাকে ঘিরে তৈরি একটি কমেডি নাটক। কাবিলা, হাবু ভাই, অন্তরা, রাকিব এবং তাদের বন্ধুদের নিয়ে ঘটে যাওয়া নানা হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতিই এই নাটকের মূল আকর্ষণ।Season 5-এ আগের সিজনের চেয়েও বেশি মজার ঘটনা, নতুন গল্প এবং চমক রয়েছে যা দর্শকদের দারুণভাবে বিনোদন দেবে।Disclaimer.....এই পোস্টটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের জন্য করা হয়েছে। সব কন্টেন্ট তাদের নিজ নিজ মালিকের অধীনে রয়েছে। যদি কোনো কন্টেন্টের বিষয়ে সমস্যা থাকে তবে দয়া করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।...............................................................................................................................................................⬇ Download 420p Quality ⬇ Download 720p Quality ⬇ Download 1080p Quality
Muthu Alias Kaattaan (2026) – বিস্তারিত তথ্যদক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা প্রেমীদের জন্য ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত সিনেমা “Muthu Alias Kaattaan”। অ্যাকশন, ড্রামা এবং গ্রাম্য ব্যাকড্রপের শক্তিশালী গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।সিনেমার সংক্ষিপ্ত তথ্যমুভির নাম: Muthu Alias Kaattaanরিলিজ সাল: ২০২৬ভাষা: তামিলধরন: অ্যাকশন, ড্রামাপরিচালক: (তথ্য আপডেট অনুযায়ী যোগ করতে পারেন)অভিনয়ে: (হিরো, হিরোইন, ভিলেন – নাম যোগ করা যেতে পারে) গল্পের সারাংশ“Muthu Alias Kaattaan” সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে এক রহস্যময় চরিত্র মুথুকে ঘিরে, যাকে স্থানীয় মানুষ কাট্টান নামে চেনে। সে একদিকে সাধারণ গ্রামবাসীর মতো জীবন যাপন করে, অন্যদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক ভয়ংকর শক্তিতে রূপ নেয়।গ্রামের মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুথুর লড়াইই মূলত এই সিনেমার কেন্দ্রবিন্দু। ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় তার অতীত, কেন সে এমন হলো, এবং কীভাবে সে “কাট্টান” নামে পরিচিত হলো।কেন দেখবেন এই সিনেমা?দারুণ অ্যাকশন সিন – দক্ষিণী স্টাইলে ভরপুর ফাইটিং ইমোশনাল গল্প – পরিবার, প্রতিশোধ এবং ন্যায়বিচারের মিশেল গ্রাম্য পরিবেশ – বাস্তবধর্মী লোকেশন ও কালচার ম্যাস ডায়লগ – দর্শকদের উত্তেজিত করার মতো সংলাপশেষ কথা“Muthu Alias Kaattaan (2026)” এমন একটি সিনেমা যা অ্যাকশন প্রেমীদের জন্য অবশ্যই দেখার মতো। শক্তিশালী গল্প, দারুণ পারফরম্যান্স এবং দক্ষিণী সিনেমার আসল স্বাদ—সবকিছুই এই মুভিতে পাওয়া যাবে।Total Size..480p= 2.05 GB720p= 3.75 GB1080= 8.17 GB Download Link ⬇ Download 420p Quality ⬇ Download 720p Quality ⬇ Download 1080p Quality
মূল তথ্য: চক্র সিজন ২স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম: iScreen (আইস্ক্রিন)পরিচালক: ভিকি জাহেদমুক্তির তারিখ: ২৬ মার্চ, ২০২৬ধরণ: সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার / মিস্ট্রি / প্যারানরমালমুখ্য অভিনয়শিল্পী: তৌসিফ মাহবুব এবং তাসনিয়া ফারিণ।গল্প ও প্রেক্ষাপটপ্রথম সিজনের পর থেকেই দর্শকদের মনে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন ছিল। সিজন ২-এ মূলত সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা হবে।আসল ঘটনার অনুপ্রেরণা: সিজন ১-এর মতো সিজন ২-এর গল্পও ঢাকার একটি সত্য ও রহস্যময় ঘটনা (আদম পরিবারের ঘটনা) থেকে অনুপ্রাণিত বলে জানা গেছে।কাহিনি সংক্ষেপ: সিজন ২-এ হোমায়রা (তাসনিয়া ফারিণ) এবং তার সাথে ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনাগুলোর গভীর রহস্য উন্মোচিত হবে। এতে দেখানো হবে কীভাবে একটি পরিবার ক্রমাগত অন্ধকার ও অতিপ্রাকৃত বিষয়ের দিকে ধাবিত হয় এবং এর পেছনে আসলে কোনো মানুষের হাত নাকি অলৌকিক কিছু কাজ করছে।কেন এটি নিয়ে এত আলোচনা?ভিকি জাহেদের পরিচালনা: তার সিগনেচার 'টুইস্ট' এবং ডার্ক আবহ এই সিরিজের মূল আকর্ষণ।শ্যুটিং সেটের রহস্য: শিল্পী ও কলাকুশলীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শ্যুটিং চলাকালীন সেটে অনেক অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।পারফরম্যান্স: তৌসিফ এবং ফারিণের রসায়ন এবং তাদের চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর সিরিজটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।দ্রষ্টব্য: আপনি যদি সিজন ১ দেখে না থাকেন, তবে সিজন ২ শুরু করার আগে আইস্ক্রিনে গিয়ে প্রথম সিজনটি দেখে নেওয়া জরুরি, কারণ গল্পের প্রতিটি ধাপ একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।Download Link.......Download 480p QualityDownload 720p QualityDownload 1080p Quality
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ৭২ দিন আগে জাতীয় দলের প্রধান কোচ অটো আদ্দোকে ছাঁটাই করেছে ঘানা। গতকাল রাতে জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে হারের অল্প সময় পরই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে কোচ ছাঁটাই করায় এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়ল আফ্রিকার দেশটি।জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য ভালোই খেলেছে ঘানা। ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে ১-১ গোলে সমতায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি, দেনিজ উনদাভের গোলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দলটিকে।জার্মানির বিপক্ষে হার ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ঘানার। গতকাল রাতের ম্যাচটিসহ এ নিয়ে টানা ৪ ম্যাচ হারল তারা। চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে উড়ে গিয়েছিল ৫-১ গোলে। এর আগে গত নভেম্বরে দুই এশিয়ান প্রতিপক্ষ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরেছিল তারা। আর এসব হারের জেরেই শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে হলো আদ্দোকে।ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (জিএফএ) বিবৃতিতে জানায়, ‘দলের জন্য অবদান রাখায় আমরা আন্তরিকভাবে অটো আদ্দোকে ধন্যবাদ জানাই এবং তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য শুভকামনা রইল। ব্ল্যাক স্টারসের নতুন টেকনিক্যাল পরিকল্পনা বা দিকনির্দেশনা যথাসময়ে জানানো হবে।’ ৫০ বছর বয়সী আদ্দো ঘানার জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন ২০২৪ সালের মার্চ থেকে। এর আগে ২০২২ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রথম মেয়াদে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অধীনে ঘানা ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও অংশ নেয়।যেখানে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারলেও পরের ম্যাচে একই ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। যদিও শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার দেশটিকে। এই বিশ্বকাপেই প্রথম ঘানাইয়ান হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ—দুই দায়িত্বেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কীর্তি গড়েন আদ্দো।এরপর ২০২৪ সালের মার্চে দায়িত্ব নিয়ে ঘানাকে আরও একটি বিশ্বকাপে পৌঁছে দেওয়ায় ভূমিকা রাখেন এই কোচ। যদিও তাঁর অধীনে ঘানা গত বছরের আফ্রিকা কাপ নেশনসে অংশ নিতে ব্যর্থ হয়।পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ঘানা জায়গা পেয়েছে ‘এল’ গ্রুপে। যেখানে আছে ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড ও পানামাও। ঘানা তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ জুন টরন্টোতে পানামার বিপক্ষে। যদিও সেই ম্যাচে আদ্দো নন, ডাগআউটে দাঁড়াবেন অন্য কেউ।
অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য একই সময়ে দুটি বড় সূচি—ইংল্যান্ডে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড, আর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। দ্য হানড্রেডে খেললে এক মাসেই প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ, বিপরীতে দেশের হয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ।টাকা বনাম টেস্ট, আর ফ্র্যাঞ্চাইজি বনাম দেশের প্রতিনিধিত্ব—এই দ্বিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটারদের। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, তাঁর দলের ক্রিকেটাররা টাকার লোভ ছেড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজই বেছে নিয়েছেন। তবে ক্লাব বনাম দেশ বিতর্কে ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রাধান্য পেতে পারে বলে সতর্কও করে দিয়েছেন তিনি।পিঠের চোট সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা কামিন্স এখন আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। মে মাসে আইপিএল শেষ করে জুন–জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে সানফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের হয়েও খেলার কথা।অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে কামিন্সের পরের ব্যস্ততা আগস্টের বাংলাদেশ সিরিজ ঘিরে। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই ব্যস্ততার ভারসাম্যের বিষয়ে তাঁকে বিজনেস অব স্পোর্ট পডকাস্টে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল।জবাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর আর্থিক আকর্ষণ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে টেস্ট ক্রিকেট খুব ভালো সমর্থন পায়, টেস্টে গ্রীষ্মে প্রচুর দর্শক হয় এবং অনেক মনোযোগ থাকে। কিন্তু অন্য সব আন্তর্জাতিক দলের ক্ষেত্রে বিষয়টি এক নয়। প্রতিটি দেশের চ্যালেঞ্জ কিছুটা ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ায় আমরা যখন টেস্ট বা ওয়ানডে দল নির্বাচন করি, তখন দেখি যে কীভাবে সেরা খেলোয়াড়দের দলে পাওয়া যায়, কারণ অন্য জায়গায়ও তাদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’উদাহরণ হিসেবে কামিন্স বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ও দ্য হানড্রেডের সূচির সংঘাতের প্রসঙ্গ টানেন।অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের ব্যস্ততা শুরু হবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে। তার আগে ২১ জুলাই ইংল্যান্ডে শুরু হবে এক শ বল ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার জন্য টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা হানড্রেডের নিলামে নাম দেননি বলে জানান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক, ‘উদাহরণস্বরূপ, এই মৌসুমের দ্য হানড্রেডের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে। আমাদের যারা ওই টেস্ট সিরিজে খেলবে, তারা সবাই দ্য হানড্রেডের নিলাম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এটি চিরকাল এমন থাকবে না।’দ্য হানড্রেডে না খেলায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আট কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে কামিন্স বলেন, ক্লাব বনাম দেশ দ্বন্দ্বের বিষয়টি এখন ‘টেনশনের’ পর্যায়ে আছে, ‘আমাদের কিছু খেলোয়াড় ২০ দিনের কাজের বিনিময়ে পাঁচ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ ফিরিয়ে দিচ্ছে স্রেফ বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য। তাই আমি মনে করি এটি (ক্লাব বনাম দেশ দ্বন্দ্ব) একটি দুশ্চিন্তার জায়গা।’তবে এই মুহূর্তে দেশের খেলাকে প্রাধান্য দিলেও আর্থিক কারণে বিষয়টি ভবিষ্যতে অন্য রকমও হতে পারে বলে মনে করেন কামিন্স, ‘আমাদের ছেলেরা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার জন্য এতটাই উদ্গ্রীব যে তারা সানন্দে সেটি ছেড়ে দিচ্ছে, তবে এমনটা সব সময় চলবে, এটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি অনন্য সম্মান প্রদর্শন করতে যাচ্ছে তাঁর ক্লাব ইন্টার মায়ামি। ক্লাবের নতুন ‘নু স্টেডিয়াম’–এর একটি গ্যালারির নামকরণ করা হচ্ছে এই তারকার নামে। এখন থেকে স্টেডিয়ামটির একটি গ্যালারি ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।সাধারণত অবসরের পর বা অতীতে অবদানের কথা মাথায় রেখে কোনো খেলোয়াড়ের নামে গ্যালারি বা স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়। তবে ৩৮ বছর বয়সী ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক মেসির ক্ষেত্রে সেই প্রথা ভেঙেছে ক্লাবটি।এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘ঐতিহ্যগতভাবে সম্মাননা দেওয়া হয় অতীতের অবদানকে মাথায় রেখে। এগুলো তৈরি হয় নস্টালজিয়া থেকে। স্মৃতি থেকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি বর্তমানের কথা ভেবে নেওয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে যা ঘটছে, তা থেকে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবার লিও যখন মাঠে নামে, আমরা যা অনুভব করি, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।’বিবৃতিতে আরও লেখা হয়েছে, ‘কাউকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ সব সময় কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি টানা নয়। কখনো কখনো এটি হলো আপনি যে অনন্য কিছুর সাক্ষী হচ্ছেন, সেটি উপলব্ধি করা।’এর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন মেসি। নিজের নামাঙ্কিত গ্যালারির সামনেই নিয়মিত ম্যাচ খেলবেন এই কিংবদন্তি। স্টেডিয়ামের লোয়ার বোলের ১১৭-১২১ নম্বর সেকশন এবং আপার বোলের ২১৭-২৩৩ নম্বর সেকশন নিয়ে গঠিত হবে এই ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’।আগামী ৪ এপ্রিল মেজর লিগ সকারে অস্টিন এফসির বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে নতুন এই স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করবে ইন্টার মায়ামি। উদ্বোধনী ম্যাচে যাঁরা ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’–এ বসে খেলা দেখবেন, তাঁদের জন্য বিশেষ কিছু চমক এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।২০২৩ সালের গ্রীষ্মে যোগ দেওয়ার পর থেকে ইন্টার মায়ামিকে বদলে দিয়েছেন মেসি। তাঁর নেতৃত্বে ক্লাবটি এ পর্যন্ত লিগস কাপ (২০২৩), সাপোর্টার্স শিল্ড (২০২৪) এবং এমএলএস কাপ (২০২৫) জিতেছে। পাশাপাশি এক মৌসুমে এমএলএসে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়ার রেকর্ডও গড়েছে তাঁর দল।নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে মেসির নামে স্ট্যান্ড।নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে মেসির নামে স্ট্যান্ড।এক্স/নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজএখন পর্যন্ত মায়ামির হয়ে ৯৪ ম্যাচ খেলে ৮২ গোল করেছেন মেসি। গোলে সহায়তা করেছেন ৫৩টি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুবার এমএলএসে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।মেসির জন্য যদিও এই সম্মান নতুন নয়। এর আগে গত বছরের জুনে তাঁর শৈশবের ক্লাব নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজও তাদের স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছিল মেসির নামে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গভবনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সঙ্গে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী অধ্যাপিকা রেবেকা সুলতানা।প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। এসময় তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন করার পরে কিছুক্ষণ খেলা দেখে বঙ্গভবনে আসেন প্রধানমন্ত্রী।গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম সাক্ষাৎ।
ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির অবস্থা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘প্রচুর সহায়তার’ প্রয়োজন। চীন ও জাপানের মতো দেশগুলো এতে যুক্ত হলে বিষয়টি ‘ভালো হবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই জলপথের গুরুত্ব তুলনামূলক কম, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর মতো ‘আমরা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করি না’।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতিতে তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো যুদ্ধবিরতি চাই না। আপনারা জানেন, যখন আপনি অপর পক্ষকে আক্ষরিক অর্থেই নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন আপনি যুদ্ধবিরতিতে যেতে পারেন না।’সূত্র: আল–জাজিরা
গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাব দিয়েছে ইরান। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ইরানের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। খবর আল জাজিরার।ধোঁয়া উঠছে কাতারের দোহা শহরের আকাশে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পরের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্সধোঁয়া উঠছে কাতারের দোহা শহরের আকাশে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পরের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্সআন্তর্জাতিক ডেস্কগত বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের বুশেহর অঞ্চলে আসালুয়েহ বন্দরের উপকূলে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ও উত্তরাঞ্চলের বন্দর আনজালি এলাকায় নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালায় ইসরাইল। ইরানের সাউথ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র। যেখানে ইরান ও কাতার উভয় দেশের গ্যাস উত্তোলন-বিষয়ক স্থাপনা রয়েছে। এতে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর গ্যাসক্ষেত্র লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেয়। কাতারও এই হামলার নিন্দা জানায়। দেশটি এক বিবৃতিতে বলে, জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করা পুরো অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি তেল স্থাপনার কাছের এলাকায় থাকা মানুষদের সতর্ক করে বলেছেন যে, তারা যেন দ্রুত সেই এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, সতর্কবার্তার পর রাতেই কাতার, সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। হামলায় কাতারের রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্র, আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাসক্ষেত্র ও বাব তেলক্ষেত্র এবং সৌদি আরবের দুটি তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, কাতার জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তাদের রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্রে আগুন ধরে যায়। এতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের হাবশান গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। তেহরান মূলত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করলেও জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলা চালাচ্ছে, যা তেলসমৃদ্ধ আরব দেশগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এই হামলার সময় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিভিন্ন আরব ও ইসলামিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করছিলেন, যেখানে যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কাতারের উত্তর উপকূলে রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে কাতারএনার্জি জানায় যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি দল দ্রুত কাজ শুরু করে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘নৃশংস ইরানি হামলা’ বলে নিন্দা জানায় এবং বলে, এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। পরে তারা জানায়, কাতারে থাকা ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এবং তাদের স্টাফদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১. সানস্ক্রিনসূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে ট্যান, দাগ ও আগাম বার্ধক্য তৈরি করতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে অন্তত এসপিএফ-৪০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। ভালো সানস্ক্রিন একবার ব্যবহার করলে ৬ ঘণ্টা সুরক্ষিত থাকা যায়।২. শরীর ও ত্বক হাইড্রেটেড রাখুনগরমে শরীর দ্রুত পানি হারায়। তাই দিনে পর্যাপ্ত পানি খাওয়া এবং ত্বকে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা দরকার। আপনি যদি এসি ঘরে কাজ করেন, তাহলে ২–৩ ঘণ্টা পরপর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।৩. হালকা ও মৃদু ক্লিনজারঘাম, ধুলা ও সানস্ক্রিন ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। তাই দিনে অন্তত দুইবার মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা ভালো। বাইরে থেকে এসে আর রাতে ঘুমানোর আগে ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।৪. ত্বককে ‘শান্ত’ রাখুনগরমে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা লালচে ভাব হতে পারে। এ জন্য অ্যালোভেরা, শসা বা ঠান্ডা উপাদানযুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক আরাম পায়। শিট মাস্ক বা ফেস মিস্ট ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করলে তা ত্বকে ঠান্ডা ও আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। বিশেষ করে রোদে থাকা ত্বকের জন্য এটি বেশ উপকারী।৫. অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসকালে ত্বকে ভিটামিন ‘সি’ সিরাম ব্যবহার করলে পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকে। রোদে ক্লান্ত বা নিস্তেজ হয়ে পড়া ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।৬. এক্সফোলিয়েশনঘাম ও আর্দ্রতার কারণে ত্বকে যে মৃত কোষ জমে যায়, তা দূর করার জন্য সপ্তাহে ১-২ বার এক্সফোলিয়েট করা ভালো। এক্সফোলিয়েট করার সবচেয়ে পরিচিত উপায় হলো স্ক্র্যাবিং করে ত্বকের মৃতকোষগুলো তুলে ফেলা।৭. গরমে নয় ভারী মেকআপগরমে ভারী মেকআপ ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ করে ব্রণ বা ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই হালকা মেকআপ বা মিনিমাল মেকআপ ব্যবহার করা ভালো।৮. ক্যাপ ও সানগ্লাস ব্যবহার করুনবাইরে বের হলে ক্যাপ, হ্যাট, সানগ্লাস ও ছাতা ব্যবহার করলে সূর্যের সরাসরি আলো থেকে ত্বককে বাড়তি সুরক্ষা দেওয়া যায়। খুব দরকার ছাড়া দিনের বেলা ঘরের বাইরে না বের হওয়াই ভালো।আরও যাফল ও সবজি ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট দেয়। এসব ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেলে ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র থাকে।
তকের যত্নে কাঁচা হলুদের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। ভারতীয় উপমহাদেশে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি যুগ যুগ ধরে রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনেকেই বলেন, এটি ত্বক ফর্সা করে, ব্রণ দূর করে, এমনকি ত্বক কয়েক শেইড উজ্জ্বল করে তোলে। কিন্তু সত্যিই কি কাঁচা হলুদ ত্বক ফর্সা করে? নাকি এটি শুধুই একটা প্রচলিত ধারণা? আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো কাঁচা হলুদের আসল কার্যকারিতা!কাঁচা হলুদে কী আছে?হলুদের প্রধান উপাদান হলো কারকিউমিন (Curcumin), যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রোপারটিজযুক্ত। এটি ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে এবং ব্রণ, দাগ-ছোপ কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।সত্যিই কি কাঁচা হলুদ ত্বক ফর্সা করে?অনেকেই মনে করেন, কাঁচা হলুদ সরাসরি ত্বক ফর্সা করে। বিয়ের আগে হলুদের উপটান মুখ, হাত-পায়ে লাগানোর একটি চল ছিলো এককালে! এখনও অনেকে হলুদের ফেইসপ্যাক ব্যবহার করেন। তবে সত্যটা হলো, হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এটি ত্বকের মেলানিন লেভেল কমিয়ে ত্বক ফর্সা করে না!হলুদের কার্যকারিতাত্বকের কালচে দাগ হালকা করতে পারেসাময়িকভাবে ত্বক গ্লোয়ি দেখাতে পারেব্রণ বা ফুসকুড়ির সমস্যা কিছুটা কমাতে পারেতবে এটি স্বাভাবিক ত্বকের রঙ স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারে নাকাঁচা হলুদ ব্যবহারের সঠিক উপায়যদি আপনি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করতে চান, তাহলে এটি সরাসরি ফেইসে অ্যাপ্লাই এর আগে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।অ্যালোভেরা জেল, দুধ বা টকদইয়ের সাথে মিক্স ব্যবহার করুন – এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করবে।অতিরিক্ত সময় ধরে লাগিয়ে রাখবেন না – বেশি সময় থাকলে ত্বকে হলুদ দাগ বসে যেতে পারে।সপ্তাহে ১/২ বার ব্যবহার করুন – প্রতিদিন ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হতে পারে।সংবেদনশীল ত্বকের জন্য আগে প্যাচ টেস্ট করুন – কারণ কিছু মানুষের ত্বকে এটি র্যাশ বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।সাবধানতাহলুদের প্যাক অ্যাপ্লাই এর পরপরই সরাসরি সূর্যালোক এড়িয়ে চলুন। অনেক সময় কাঁচা হলুদ ব্যবহারের ফলে ত্বক হলুদ বর্ণ ধারণ করতে পারে, যা সহজে উঠতে চায় না। এছাড়া, অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করাই ভালো। যদি হলুদ থেকে ফেইসে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন দেখা দেয়, তাহলে স্কিনকেয়ারে এই উপাদানটি এড়িয়ে চলাই বেটার।তাহলে, বুঝতেই পারলেন কাঁচা হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এটি ত্বকের প্রকৃত রঙ বদলে ফেলার কোনো ম্যাজিকাল উপাদান নয়। সুস্থ, সুন্দর, উজ্জ্বল ত্বক পেতে সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান। ব্রাইটেনিং এর জন্য স্কিনকেয়ার রুটিনে ভিটামিন-সি, আলফা আরবুটিন যুক্ত প্রোডাক্ট ইনক্লুড করতে পারেন। ত্বকের যত্নে আপনি কি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করেন? আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে কমেন্টে শেয়ার করুন!
তকের কালচে দাগ, ব্রণের দাগ বা রোদের কারণে হওয়া পিগমেন্টেশন দূর করতে দামী স্কিনকেয়ারের পিছনে টাকা খরচ করার আগে জেনে নিন—সঠিক একটি উপাদান ব্যবহার করলেই ত্বকের দাগছোপ হবে অনেকটাই কম! আজ জানাবো এমন কিছু শক্তিশালী উপাদানের কথা, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ও দাগ দূর করতে কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিকভাবেও কিন্তু এগুলো এখন প্রমাণিত।ত্বকের দাগছোপ কমিয়ে আনবো কীভাবে?স্কিনকেয়ারে অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস ব্যবহার এখন নতুন কিছু নয়! অনেকেই এখন সিরাম বা অ্যাম্পুল ব্যবহার করছেন। কিন্তু ত্বকের প্রয়োজন অনুসারে সঠিক উপাদান বেছে নেওয়া খুবই জরুরি। ত্বকের দাগছোপ দূর করতে কোন কোন উপাদান ম্যাজিকের মতো কাজ করে, চলুন দেখে নেই এখনই।১. ভিটামিন সি (Ascorbic Acid)ভিটামিন সি হলো ত্বকের জন্য অন্যতম শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে আপনি পাবেন ইয়াংগার লুকিং স্কিন। ভিটামিন সি মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। নিয়মিত ভিটামিন সি সিরাম বা ক্রিম ব্যবহার করলে দাগছোপ দ্রুত হালকা হয়ে যাবে। সকালে সানস্ক্রিন ব্যবহারের আগে ভিটামিন সি সিরাম অ্যাপ্লাই করতে পারেন, এতে ভালো ফলাফল পাবেন।২. গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বয়স ২০ এর বেশি হলে সাপ্তাহিক স্কিনকেয়ার রুটিনে গ্লাইকোলিক অ্যাসিড যোগ করতে পারেন। গ্লাইকোলিক অ্যাসিড হল AHA (Alpha Hydroxy Acid), যা ত্বকের মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। এটি হাইপার পিগমেন্টেশন আর সানবার্ন কমিয়ে স্কিন ইভেন টোনড করতে হেল্প করে। এই উপাদানটি দাগছোপ হালকা করে এবং সেই সাথে ত্বককে মসৃণ করে। বডির বিভিন্ন এরিয়া যেমন- হাঁটু, আন্ডারআর্ম, কনুই- এগুলো দাগমুক্ত রাখতে এই উপাদানটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।৩. নিয়াসিনামাইডনিয়াসিনামাইড বা ভিটামিন বি৩ ত্বকের দাগছোপ কমাতে খুবই কার্যকর। এটি ত্বকের মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে, হাইপারপিগমেন্টেশন কমায় ও ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। এছাড়া এটি ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম সিক্রেশন কমিয়ে আনে, ব্রণ আর ব্রণের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।৪. কোজিক অ্যাসিডকোজিক অ্যাসিড এক ধরনের ন্যাচারাল স্কিন লাইটেনিং ইনগ্রেডিয়েন্ট, যা ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে হাইপারপিগমেন্টেশন ও ব্রণের দাগ হালকা করে। এটি অনেক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টে এখন ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে স্পট ট্রিটমেন্ট হিসেবে।৫. আলফা আরবুটিনজেন্টল কিন্তু পাওয়ারফুল ব্রাইটেনিং এজেন্ট হিসেবে এর কদর আছে। যারা সেনসিটিভ স্কিন নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য আলফা আরবুটিন সবচেয়ে সেইফ। এটি ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে দাগছোপ হালকা করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এটি নিয়াসিনামাইডের সাথে ব্যবহার করা হলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। ধৈর্য সহকারে টানা কয়েক মাস ব্যবহার করলে নিজেই ত্বকের উজ্জ্বলতা দেখে চমকে যাবেন!তাহলে বুঝতেই পারছেন, স্কিনকেয়ার রুটিনে এই উপাদানগুলোর একটি যোগ করলেই ত্বকের দাগছোপ কমতে শুরু করবে! তবে দ্রুত ফল পেতে হলে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক, কারণ এসব উপাদান ত্বককে সূর্যরশ্মির প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। তাহলে আজ এই পর্যন্তই!
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য অনেকেই নিয়মিত ব্যবহার করেন ইনস্টাগ্রাম। তবে অনেক ব্যবহারকারী অজান্তেই এমন কিছু কাজ করেন, যা প্ল্যাটফর্মটির নিয়ম ভঙ্গ করে। এর ফল হিসেবে অ্যাকাউন্টে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই কিছু সাধারণ ভুল সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি।ফেক ফলোয়ার ব্যবহার করাঅনেকে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় কৃত্রিম ফলোয়ার বাড়ানোর চেষ্টা করেন। বিভিন্ন বট বা অচেনা অনলাইন সার্ভিসের মাধ্যমে ফলোয়ার কিনে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। কিন্তু এই ধরনের কার্যক্রম প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার বিরুদ্ধে। সিস্টেমে ধরা পড়লে অ্যাকাউন্টের রিচ কমে যেতে পারে, সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধতাও আরোপ হতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া শেয়ার করাঅন্যের তৈরি ছবি, ভিডিও বা গান নিজের নামে বা অনুমতি ছাড়া পোস্ট করাও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। মূল নির্মাতা অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়। একই ধরনের অভিযোগ বারবার হলে অ্যাকাউন্টের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।নিষিদ্ধ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করাসব হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। কিছু হ্যাশট্যাগ অপব্যবহার বা অনুপযুক্ত কনটেন্টের কারণে নিষিদ্ধ তালিকায় পড়ে। সেগুলো ব্যবহার করলে পোস্টের দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে এবং অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।অশালীন বা ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রকাশ করাঘৃণাত্মক বক্তব্য, অশালীন ছবি বা বিতর্কিত কনটেন্ট শেয়ার করার ব্যাপারে প্ল্যাটফর্মটি খুবই কঠোর। এই ধরনের পোস্ট করলে তা দ্রুত মুছে ফেলা হয় এবং ব্যবহারকারীকে সতর্ক করা হয়। নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা একাধিকবার ঘটলে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।স্প্যাম ধরনের আচরণ করাএকই মন্তব্য বারবার করা, অল্প সময়ে অনেক পোস্টে লাইক দেওয়া বা অকারণে প্রচুর ডাইরেক্ট মেসেজ পাঠানোকে স্প্যাম হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া ফলোয়ার বাড়ানোর আশায় তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে লগইন করাও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের কাজ নিয়মিত হলে অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট জমা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সেটি হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপদ থাকতে হলে নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কী পোস্ট করছেন, কোথায় মন্তব্য করছেন এবং কোন ধরনের টুল ব্যবহার করছেন এসব বিষয়ে সচেতন থাকলে নিজের অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন নিরাপদ রাখা সম্ভব।
সাইবার স্পেসে প্রতিনিয়ত নানাবিধ হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা। ভুক্তভোগী অনেক নারী বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। এ ধরনের অপরাধীরা অনেক সময় এসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন বড় অঙ্কের টাকা। গত এক বছরে এমন সাইবারের ফাঁদে পড়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি নারী।অসংখ্য ঘটনার মধ্যে সাইবারের ফাঁদে পড়েন মধ্যবয়সি এক নারী। ফেসবুকে পরিচয় হয় আশরাফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। পরিচয়ের ছয় মাস পর তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে।নিয়মিত ভিডিওকলে কথা হয় মেসেঞ্জারে। এক পর্যায়ে ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন আশরাফ। কথোপকথনের এক পর্যায়ে সে স্ক্রিন রেকর্ডারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই নারীর অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ধারণ করে রাখে মোবাইলে। পরে এসব ভিডিও ও ছবি ওই নারীর কাছে পাঠায়।ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নারী পুলিশের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের ফেসবুক পেজে অভিযোগ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আশরাফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮১৩ নারী সাইবারে অভিযোগ করেন। এর মধ্যে অভিযোগ নেওয়া হয় ৪৮০টির।সমাধান করা হয়েছে ১৬৩টি এবং অভিযোগ মুলতবি রয়েছে ৩১৭টি। এগুলোর মধ্যে ১২ হাজার ৬৩২টি অভিযোগ টেলিফোনের মাধ্যমে সমাধান করেছে সিআইডি।সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সাইবারে নানা ধরনের হয়রানির ক্ষেত্রে নারীদের অভিযোগগুলো তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ওই নারীদের আইনানুগ সহায়তা দেওয়া হয়।পুলিশ সদর দপ্তরের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে সাইবারের ফাঁদে পড়ে পুলিশের কাছে ৯ হাজার ১৬৫ জন নারী প্রতিকার চান। ভুক্তভোগী এসব নারীর ৪ হাজার ১৩৪ (৪৫ শতাংশই) ডক্সিংয়ের (বিনা অনুমতিতে স্পর্শকাতর ছবি-ভিডিও, তথ্য প্রভৃতি প্রকাশ করা) শিকার হন। ইমপারসোনেশন ৫৩০ (৬.০০ শতাংশ), আইডি হ্যাক ১ হাজার ৩৯৩ (১৭.০০ শতাংশ), ব্ল্যাকমেইলিং ১ হাজার ৭২৪ (১৮.০০ শতাংশ), সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ করেন ৮৭৩ (৯.০০ শতাংশ), আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো ২৫৬ (৩.০০), মোবাইল হ্যারেজমেন্ট ২৪১ (২ শতাংশ) এবং অন্যান্য ১৪ জন। সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীদের তথ্য আদানপ্রদানে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সাপোর্ট সেন্টার থেকে। হয়রানির বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এখান থেকে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও আইনগত পরামর্শও দেওয়া হয়। সম্প্রতি কণা (ছদ্মনাম) নামের ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গোপনে ধারণ করা তার কিছু গোসলের ছবি কে বা কারা তারই নামে খোলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ফেক আইডি থেকে তাকে পাঠিয়েছে। আইডিতে মেসেজ দিয়ে সেসব ছবি কীভাবে পেয়েছে ও আইডি পরিচালনাকারী ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। সে ছবিগুলো ডিলিট করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ভুয়া আইডির পরিচালনাকারী কণাকে জানায় যে- সে তার কাছেরই কেউ এবং কণা যখন গোসল করছিল তখন সে ছবিগুলো ধারণ করেছে। এসব ছবি সে ডিলিট করে দিতে রাজি আছে যদি কণা নিজের আরও কিছু আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও নিজে ধারণ করে তাকে পাঠায় কিংবা বড় অঙ্কের টাকা দেয়। এ প্রস্তাবে কণা রাজি না হয়ে আইনি আশ্রয় নেওয়ার কথা জানায়। এতে অপরাধী ক্ষিপ্ত হয়ে কণার গোসলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় কণা তার অভিভাবককে জানান এবং তার বাবাকে নিয়ে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর কিছু আচরণবিধি মানা দরকার। বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী একজন নারী সাইবার স্পেসে হয়রানির শিকার হন বা তাকে যখন নানাভাবে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয় অথবা ব্যক্তিগত ছবি ধারণ, অশ্লীল অডিও-ভিডিও ধারণ করে সেটিকে ছড়িয়ে দেওয়া বা হুমকি দেওয়া হয়। এটি ছড়িয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা দেখি এর মধ্য দিয়ে কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থায় একজন নারী সামাজিক জীবনে নানা ধরনের ক্ষতি ও প্রশ্নের সম্মুক্ষীণ হন।যারা এ সাইবার স্পেসকে নিজের উদ্দেশ্যে বা অন্যকে হেয় করার জন্য ব্যবহার করে সেটি কখনো কখনো সমাজজীবন বা ব্যক্তিজীবনের ওপর তার প্রভাব তৈরি করতে চায়। এ ধরনের অপরাধীকে সাইবার অ্যাক্ট বা প্রচলিত আইনে বিচার করা সম্ভব, যদি একজন ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও বন্ধুত্ব তৈরিসহ সব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত।সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
ফেসবুক–ইনস্টাগ্রামের বাইরে আপনার তথ্য কে শেয়ার করছে, জানবেন যেভাবেফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীরা যখন এসব প্ল্যাটফর্মের বাইরে অন্য অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন, তখনও তাদের কিছু কার্যকলাপসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কাস্টমাইজ করা ও লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্যই এসব তথ্য ব্যবহার করা হয়।ধরা যাক, আপনি কোনো অনলাইন স্টোরে জুতা খুঁজেছেন। সেই ওয়েবসাইট যদি আপনার কার্যকলাপের তথ্য ফেসবুকের সঙ্গে শেয়ার করে, তাহলে পরে Facebook বা Instagram–এ একই ধরনের জুতার বিজ্ঞাপন দেখতে পারেন।তবে ব্যবহারকারীদের জন্য এই তথ্য দেখা ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগও রেখেছে মেটা।‘ইওর একটিভিটিজ অফ মেটা টেকনোলজিস’ কীমেটার ‘Your Activity Off Meta Technologies’ ফিচারটি দেখায়—কোন কোন ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা প্রতিষ্ঠান আপনার কার্যকলাপের তথ্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে শেয়ার করেছে।এই টুলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা—নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা অ্যাপ বিচ্ছিন্ন করতে পারেনআগের সব কার্যকলাপ মুছে ফেলতে পারেনভবিষ্যতে তথ্য শেয়ার বন্ধ করতে পারেনতথ্য ডাউনলোড করে অফলাইনে পর্যালোচনা করতে পারেনএ ছাড়া ফেসবুকের প্রাইভেসি চেক-আপ টুল ব্যবহার করে কে কী তথ্য দেখতে পাচ্ছে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।যেভাবে দেখবেন কোন ওয়েবসাইট তথ্য শেয়ার করছেফেসবুক (ওয়েব সংস্করণ)১. প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করে Settings & Privacy থেকে Settings-এ যান।২. Account Center নির্বাচন করুন।৩. Your Information and Permissions-এ ক্লিক করুন।৪. এরপর Your Activity Off Meta Technologies নির্বাচন করুন।ফেসবুক অ্যাপ১. হ্যামবার্গার (তিন দাগ) মেনুতে ট্যাপ করুন।২. Account Center-এ গিয়ে একইভাবে Your Information and Permissions নির্বাচন করুন।৩. তারপর Your Activity Off Meta Technologies এ ট্যাপ করুন।ইনস্টাগ্রাম (অ্যাপ বা ওয়েব)১. প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ/ক্লিক করুন।২. Settings থেকে Account Center-এ যান।৩. Your Information and Permissions নির্বাচন করে৪. Your Activity Off Meta Technologies এ প্রবেশ করুন।যেভাবে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন করবেনRecent Activity অংশে গেলে বিজ্ঞাপনদাতা, ব্র্যান্ড বা ওয়েবসাইটের তালিকা দেখা যাবে।যেটি বিচ্ছিন্ন করতে চান সেটি নির্বাচন করে Disconnect বাটনে ক্লিক করুন এবং নিশ্চিত করুন।একাধিক অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে মূল স্ক্রিনে গিয়ে Disconnect Specific Activity নির্বাচন করুন। এরপর প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টগুলো বেছে নিয়ে Continue ও Confirm চাপুন।প্রাইভেসি সুরক্ষায় নিয়মিত এ সেটিংসগুলো পর্যালোচনা করা উপকারী।
ভালোবাসা বা প্রেম কেবল কিছু শব্দে আবদ্ধ একটি পরিধি নয়। এটা অন্তর্নিহিত ব্যাপার। উপলব্ধির আস্তরণ দিয়ে যখন কোনো অন্তরসুধা উপলব্ধি করা যায়, আর একে যদি ভালোবাসা বলে, তাহলে আমি প্রগাঢ় উচ্চারণে সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলতে চাই, আমি তোমাকে ভালোবাসি নবধারার সেতা (নীলবর্ণ) ...।বলতে ইচ্ছা করে—ফাগুনের এই গোধূলির ক্ষণেইচ্ছেডানা মেলে দিয়ে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়েআসতে চাই যে তোমার কাছেকেন দাও বাধা মোরে?ফাগুনের এই আগুনে বসন্তের এই নবগগনেভুবনতলে হাতে হাত রেখে হাঁটতে চাই যে অচেনা পথেপুষ্পরথী ওই বেলি ফুল খোঁপায় গুঁজতে ইচ্ছা করে।অভিযোগ–অনুযোগের পর্দা সরিয়ে চলো একই আকাশ দেখি ওই মেঘটাকে সরিয়ে.... ।
তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে বলেই—আমি ইচ্ছা করেই আর সেরে উঠি না।লোকে বলে, জ্বর হলে শরীর পুড়ে যায়, কষ্ট হয়; কিন্তু আমার কাছে এই জ্বর যেন এক অদ্ভুত আশীর্বাদ। কারণ, আমি জানি, তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে বলেই আমার শরীরের জ্বরটা এভাবে বেড়ে যায়। শরীর খারাপটা আসলে একটা উসিলা মাত্র। আমার আসল অসুখ তো তোমাকে ঘিরেই।যখন তুমি কপালে হাত রেখে খুব আলতো করে জিজ্ঞাসা করো– ‘এখন কেমন লাগছে?’ তখন মনে হয়, ওইটুকু আদরের জন্য আমি দীর্ঘ এক জীবন জ্বরের ঘোরেই কাটিয়ে দিতে পারি।দুনিয়াতে কত রকমের ওষুধ আছে—কেউ বলে প্যারাসিটামল, কেউ বলে বিশ্রাম, কেউ বলে ডাক্তারের পরামর্শ। কিন্তু, তোমার হাতের ওই শীতল পরশটার চেয়ে বড় কোনো ধন্বন্তরী আজও কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি।তুমি যখন কাছে থাকো, পরম মমতায় এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দাও, তখন নিজের এই অসুস্থতাকেও খুব সুন্দর মনে হয়। মনে হয়, কষ্টেরও একটা কোমল রং আছে, আর তার নাম তুমি। সুস্থ হয়ে গেলে তুমি আবার ব্যস্ত হয়ে পড়বে, নিজের দুনিয়ায় হারিয়ে যাবে। আমার খবর নেবে না, জ্বর মেপে দেখবে না, কপালে হাত রাখবে না। তাই কখনো কখনো মনে হয়—এই জ্বর থাকুক না একটু, এই অজুহাতে যদি তোমাকে আরও কিছুটা সময় পাওয়া যায়!তবে জানো,সত্যি বলতে—আমি জ্বর চাই না,আমি চাই তোমাকে।আমি চাই,সুস্থ দিনের বিকেলে,কোনো অজুহাত ছাড়াই,তুমি এসে পাশে বসো,আর জিজ্ঞাসা করো—‘এখন কেমন লাগছে?’
সে আজ অনেক বছর আগেকার ঘটনা। আমার এক ডাক্তার বন্ধু সদ্য মেডিকেল কলেজ থেকে বেরিয়ে উত্তর বাংলার এক শহরে প্র্যাকটিস শুরু করেছে, তখনকার কথা। আমার ডাক্তার বন্ধুর মুখেই শুনেছিলাম সেই কাহিনি।নতুন জায়গায়, নতুন পরিবেশে জমিয়ে বসতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, সময় লাগে। আমার বন্ধুটির উৎসাহ বা ধৈর্যের অভাব ছিল না। নতুন ডাক্তারের কাছে চট করে কোনো রোগী আসে না, পুরোনো ডাক্তারদেরই সবার পছন্দ। তবে আমার বন্ধুটি শিশুচিকিৎসায় সসম্মানে পাশ করেছিল, সোনার মেডেল পেয়েছিল। সে বুদ্ধি করে তার নেমপ্লেটে নামের পাশে এম বি বি এস, ডি সি এইচ (গোল্ড মেডেলিস্ট) কথাটা জুড়ে দিয়েছিল, ফলে দু-চারজন করে রোগী আসতে শুরু করেছিল।এভাবে কিছুদিন কাটবার পর এল শীত। উত্তরবঙ্গের হাড়-কাঁপানো শীত। সন্ধের পর রাস্তা ফাঁকা, দরজা-জানালা বন্ধ করে সবাই আশ্রয় নিয়েছে ঘরের ভেতর। নেহাত দায় না ঠেকলে কেউ আর পথে বেরোয় না।সেদিন রাত তখন প্রায় দশটা। মফস্সল শহরে ওটা কম রাত নয়, তার ওপর ঠান্ডার জন্য শীতকালে সবাই তাড়াতাড়ি কাজকর্ম সেরে শুয়ে পড়ে। ডাক্তার ন-টার মধ্যে খাওয়া সেরে বিছানায় লেপের তলায় বেশ আয়েশ করে একটা মেডিক্যাল জার্নাল পড়ছিল। আমেরিকায় ফিলাডেলফিয়ায় একজন শল্যচিকিৎসক কেমন করে একটা দুরূহ অপারেশন করেছিলেন তার বিবরণ ছিল ওই জার্নালে, সেটা পড়তে পড়তে সে তন্ময় হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ বাইরের দরজায় ঘন ঘন কড়া নাড়ার শব্দে ডাক্তার চমকে উঠল। এই অসময়ে কে এল! নিশ্চয়ই জরুরি কেস।আগেই বলেছি, আমার ডাক্তারবন্ধু ছিল খুব করিতকর্মা, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার জন্য আলস্যকে সে কখনো প্রশ্রয় দিত না। তাড়াতাড়ি গায়ে একটা গরম চাদর জড়িয়ে সে সদর দরজা খুলল, তারপরই ভীষণ চমকে দু-পা পিছিয়ে এল। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি সুন্দরী অল্পবয়সি বউ, মাথার সিঁদুর জ্বলজ্বল করছে। বউটির মুখ কিন্তু উৎকণ্ঠায় আর দুশ্চিন্তায় ভীষণ ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে।‘ডাক্তারবাবু, আমার মেয়ের খুব অসুখ,’ বউটি ব্যাকুল কণ্ঠে বলে উঠল, ‘আপনি শিগগির চলুন।’‘কোথায় আপনাদের বাড়ি?’ ডাক্তার জিজ্ঞেস করল।‘বেশি দূর নয়, আপনি আর দেরি করবেন না,’ বউটির গলা থেকে যেন কাকুতি ঝরে পড়ছে।‘ঠিক আছে, আপনি ভেতরে এসে বসুন,’ ডাক্তার বলল, ‘আমি তৈরি হয়ে নিচ্ছি।’‘আমি এখানেই ভালো আছি, আপনি তাড়াতাড়ি করুন।’বউটি ভেতরে আসতে অনিচ্ছুক বলে মনে হল ডাক্তারের। ওই ঠান্ডায় তার গায়ে একটা সুতোর চাদর পর্যন্ত নেই, খালি পা, অথচ চেহারা দেখে মনে হয় ভালো ভদ্র পরিবারের বউ। ডাক্তার তবু ইতস্তত করছিল, ভাবছিল বউটিকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা ঠিক হবে কি না, কিন্তু বউটিই বলে উঠল, ‘আমার জন্য আপনি ব্যস্ত হবেন না, তাড়াতাড়ি চলুন।’অগত্যা ডাক্তার ভেতরে গিয়ে গায়ে একটা গরম ওভারকোট চাপিয়ে বেরিয়ে এল, হাতে ব্যাগ, তাতে কিছু দরকারি ওষুধপত্তরও আছে।‘আপনাকে একটা চাদর দেব?’ ডাক্তার আমতা আমতা করে বলল।‘বললাম তো, আমার জন্য আপনাকে ব্যস্ত হতে হবে না,’ একটু অসহিষু; কণ্ঠেই জবাব দিল বউটি, ‘চলুন।’দরজায় তালা লাগিয়ে ডাক্তার বেরিয়ে পড়ল। বউটি আগে আগে যাচ্ছে আর তার পেছনে ডাক্তার। বউটি খুব তাড়াতাড়ি হাঁটছে।রাস্তা নির্জন, অন্ধকার, গা ছমছম করে। বউটি এই রাতে একা ডাক্তারের খোঁজে বেরিয়েছে, বাড়িতে কি পুরুষমানুষ নেই! এই ঠান্ডার রাতে এমন একা কেউ ছেড়ে দেয় ঘরের বউকে! ডাক্তারের খুব খারাপ লাগছিল।যাহোক বেশ খানিকটা যাবার পর একটা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল বউটি, তারপর ডাক্তারকে লক্ষ করে বলল, ‘সদর দরজা খোলা আছে, আপনি ভেতরে যান, আমি আসছি।’সে গেটের পাশ দিয়ে অন্ধকারে কোথায় যেন গেল।বউটির কথাই ঠিক। সদর দরজা ভেজানো ছিল, ঠেলতেই খুলে গেল। প্রথমেই একটা ঘর, প্রায় অন্ধকার, তার পরের ঘরে আলো জ্বলছে। ডাক্তার এগিয়ে গেল। একটা খাটে বছর দেড়েকের একটি মেয়ে নিঃঝুমের মতো শুয়ে আছে। ফর্সা গায়ে রং, কোঁকড়ানো চুল, ভারি মিষ্টি মুখ কিন্তু জ্বরে বেঁহুশ, মুখ আগুনের মতো লাল।মেয়েটির মাথার সামনে একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক আর একজন বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন, বোধ হয় ওর দাদু-দিদিমা। বৃদ্ধা মেয়েটির কপালে জলপট্টি দিচ্ছেন আর ভদ্রলোক পাখার হাওয়া করছেন। দু-জনের মুখে ফুটে উঠেছে অসীম উৎকণ্ঠা। ডাক্তারের জুতোর শব্দে দু-জনেই মুখ তুলে তাকালেন।‘ডাক্তারবাবু এসে গেছেন!’ ভদ্রলোক উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন, তাঁর মুখে ফুটে উঠল একটা নিশ্চিন্ততার ছাপ।ডাক্তার ব্যাগ থেকে স্টেথিসকোপ বের করে মেয়েটির বুক-পিঠ পরীক্ষা করল, জ্বর দেখল এক-শো পাঁচ। নিমুনিয়া, তবে ভাগ্য ভালো তখনও মারাত্মক আকার নেয়নি। মেয়েটিকে সে তক্ষুনি একটা ইঞ্জেকশন দিল। একটা প্রেসক্রিপশন লিখে বুড়ো ভদ্রলোকের হাতে সেটা দিয়ে বলল, ‘সকালে এই ইঞ্জেকশন আর ট্যাবলেটগুলো আনিয়ে রাখবেন। আমি আজ রাতের মতো ওষুধ দিয়ে যাচ্ছি, দু-ঘণ্টা অন্তর খাওয়াবেন। আমি সকালে আবার আসব।’‘ও ভালো হয়ে যাবে তো?’ বুড়ো ভদ্রলোক ব্যাকুল কণ্ঠে বলে উঠলেন।‘হ্যাঁ,’ ডাক্তার হাসিমুখে জবাব দিল, ‘ঠিক সময়ে ওষুধ পড়েছে, আর দেরি হলেই ভয় ছিল।’ঠিক সেইসময় হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকল একজন সুপুরুষ যুবক, উদ্ভ্রান্তের মতো তার চেহারা। ডাক্তারকে দেখে সে বলল, ‘ও আপনি এখানে, আমি আপনার ঘরে তালা দেখে ভাবলাম রোগী দেখতে গেছেন, আরও দু-জন ডাক্তারবাবুর কাছে ছুটে গেলাম, তাঁরা এই ঠান্ডায় আসতে রাজি হলেন না।’‘তুই ওঁকে খবর দিসনি!’ বুড়ো ভদ্রলোক এবার অবাক হয়ে বললেন, ‘তবে কে ওঁকে ডেকে আনল?’‘তাই তো!’ যুবক এবার বলল, ‘আপনাকে কে খবর দিল?’‘কেন, মেয়েটির মা,’ ডাক্তার জবাব দিল, ‘তিনি গিয়ে বললেন মেয়ের খুব অসুখ এখুনি যেতে হবে। এত রাতে উনি একা ছুটে এসেছেন দেখে আমিও কম অবাক হইনি, গায়ে একটা চাদর পর্যন্ত ছিল না।’‘ওর মা!’ অস্ফুট কণ্ঠে বললেন বুড়ো ভদ্রলোক।তখুনি ডাক্তারের চোখে পড়ল দেওয়ালে টাঙানো একটা ছবির দিকে। হাসি হাসি মুখে সেই বউটি তার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন খুব খুশি হয়েছে তার ওপর।‘ওই তো,’ ছবিটার দিকে আঙুল দেখিয়ে ডাক্তার বলে উঠল, ‘উনিই তো আমাকে নিয়ে এলেন, গেট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে বললেন, দরজা খোলা আছে ভেতরে যান, আমি আসছি।’ঘরে সবাই যেন স্তম্ভিত, যুবকটি হঠাৎ দু-হাতে মুখ ঢেকে ফেলেছে। ব্যাপার কী বুঝতে না পেরে ডাক্তার এর ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে।‘ওটা আমার পুত্রবধূর ছবি,’ বুড়ো ভদ্রলোক একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘গত বছর এই সময় আমাদের ছেড়ে স্বর্গে গেছে।’ডাক্তার হতভম্ব!মেয়ের কঠিন অসুখে মৃত মায়ের আত্মা স্থির থাকতে পারেনি, মানুষের দেহ ধরে এসেছিল সময়মতো চিকিৎসার জন্য ডাক্তারকে নিয়ে যেতে। সন্তানের প্রতি এমন ভালোবাসা মায়ের পক্ষেই সম্ভব।মেয়েটি ভালো হয়ে উঠেছিল। আর ওই ঘটনার পর ডাক্তারের পসার এত বেড়ে গিয়েছিল যে তাকে আর কখনো রোগীর জন্য বসে থাকতে হয়নি। তার নামই হয়ে গিয়েছিল ধন্বন্তরী ডাক্তার। অথচ তার মূলে ছিল এক মৃত মায়ের স্নেহ আর উৎকণ্ঠা, অসুস্থ মেয়েকে বাঁচাবার জন্য অন্য জগৎ থেকে ছুটে আসতেও তার আটকায়নি।
আজিকের রোদ ঘুমায়ে পড়িয়া ঘোলাট-মেঘের আড়ে,কেয়া-বন পথে স্বপন বুনিছে ছল ছল জল-ধারে।কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝ্ঝুম নিরালায়,ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে অস্ফুট কলিকায়!বাদলের জলে নাহিয়া সে মেয়ে হেসে কুটি কুটি হয়,সে হাসি তাহার অধর নিঙাড়ি লুটাইছে বনময়।কাননের পথে লহর খেলিছে অবিরাম জল-ধারাতারি স্রোতে আজি শুকনো পাতারা ছুটিয়াছে ঘরছাড়া!হিজলের বন ফুলের আখরে লিখিয়া রঙিন চিঠি,নিরালা বাদলে ভাসায়ে দিয়েছে না জানি সে কোন দিঠি!চিঠির উপরে চিঠি ভেসে যায় জনহীন বন বাটে,না জানি তাহারা ভিড়িবে যাইয়া কার কেয়া-বন ঘাটে!কোন্ সে বিরল বুনো ঝাউ শাখে বুনিয়া গোলাপী শাড়ী, –হয়ত আজিও চেয়ে আছে পথে কানন-কুমার তারি!দিকে দিগেনে- যতদূর চাহি, পাংশু মেঘের জালপায়ে জড়াইয়া পথে দাঁড়ায়েছে আজিকার মহাকাল।গাঁয়ের চাষীরা মিলিয়াছে আসি মোড়লের দলিজায়, –গল্পের গানে কি জাগাইতে চাহে আজিকার দিনটায়!কেউ বসে বসে বাখারী চাঁচিছে, কেউ পাকাইছে রসি,কেউবা নতুন দোয়াড়ীর গায়ে চাঁকা বাঁধে কসি কসি।কেউ তুলিতেছে বাঁশের লাঠিতে সুন্দর করে ফুলকেউবা গড়িছে সারিন্দা এক কাঠ কেটে নির্ভুল।মাঝখানে বসে গাঁয়ের বৃদ্ধ, করুণ ভাটীর সুরে,আমীর সাধুর কাহিনী কহিছে সারাটি দলিজা জুড়ে।লাঠির উপরে, ফুলের উপরে আঁকা হইতেছে ফুল,কঠিন কাঠ সে সারিন্দা হয়ে বাজিতেছে নির্ভুল।তারি সাথে সাথে গল্প চলেছে- আমীর সাধুর নাও,বহুদেশ ঘুরে আজিকে আবার ফিরিয়াছে নিজ গাঁও।ডাব্বা হুঁকাও চলিয়াছে ছুটি এর হতে ওর হাতে,নানান রকম রসি বুনানও হইতেছে তার সাথে।বাহিরে নাচিছে ঝর ঝর জল, গুরু গুরু মেঘ ডাকে,এ সবের মাঝে রূপ-কথা যেন আর রূপকথা আঁকে!যেন ও বৃদ্ধ, গাঁয়ের চাষীরা, আর ওই রূপ-কথা,বাদলের সাথে মিশিয়া গড়িছে আরেক কল্প-লতা।বউদের আজ কোনো কাজ নাই, বেড়ায় বাঁধিয়া রসি,সমুদ্রকলি শিকা বুনাইয়া নীরবে দেখিছে বসি।কেউবা রঙিন কাঁথায় মেলিয়া বুকের স্বপনখানি,তারে ভাষা দেয় দীঘল সূতার মায়াবী নকসা টানি।বৈদেশী কোন্ বন্ধুর লাগি মন তার কেঁদে ফেরে,মিঠে-সুরি-গান কাঁপিয়ে রঙিন ঠোঁটের বাঁধন ছেঁড়ে।আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন ছল ছল জলধারে,বেণু-বনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে।
মন টেকে না ইট পাথরের এই শহরে আরপাইনা শান্তি খুলে রেখেও অট্টালিকার দ্বারসবুজ ঘেরা গ্রামে গিয়ে শান্তি খুঁজে পাইগ্রামের সাথে শহরের যে তুলনা আর নাই।গাছের ডালে দোয়েল কোয়েল গায়-যে কতো গানসেই গানেতে ভরে উঠে ক্লান্ত দেহের প্রাণ।নদীর ধারে জেলের জালে ওঠে তাজা মাছমাছের স্বাদে মন চায় আমার থাকি বারো মাস।আম গাছেতে ধরে আছে কত শত আমজামের ডালে ঝুলে থাকে মিষ্টি কালো জাম।বিলের ধারে পদ্ম ফোটে সৌন্দর্যের নেই জুড়িনৌকা নিয়ে সারাদিন তাই এদিক ওদিক ঘুরি।রাস্তার পাশে স্বর্ণ লতা গাছের সাথে বায়শিকড় ছাড়া কেমনে বাঁচে বোঝা বড় দায়।ডালে ডালে লাল জিলাপির কোনো অভাব নাইযখন খুশি সবাই মিলে পেড়ে এনে খাই।মাচার নিচে লাউয়ের সারি আরো কতো কিছুদাদু যখন তুলে আনে হাটি পিছু পিছু।মাঠে ঘাটে ছেলে মেয়ে খেলে মিলে মিশেশহরেতে নেই-কো সুযোগ মরি যেন বিষে।তাজা গরুর খাটি দুধে দাঁতে লাগে সরগরুর লাথি খেয়েও তবে করে না যে ডর।ফুল বাগানে ফোটে কতো গোলাপ জবা বেলীভোমরা দেখলে মন চায় আমার দুটি পাখা মেলি।গ্রামের মানুষ সহজ সরল দেখায় না যে দামআহা! এত সুন্দর কেন সবুজের এই গ্রাম।
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনিছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলশুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবেতারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমীআর এলোনাপঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুরতোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবোসেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমরখেলা করে!নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো? আমার মাথা এ ঘরের ছাদফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায়তিন প্রহরের বিল দেখাবে?একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনোলাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরাভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছিভিতরে রাস-উৎসবঅবিরল রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরাকত রকম আমোদে হেসেছেআমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি!বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন, আমরাও…বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুইসেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসবআমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা!বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল,যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবেসেদিন আমার বুকেও এ-রকম আতরের গন্ধ হবে!ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠেয়ে প্রাণ নিয়েছিদূরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীল পদ্মতবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধএখনো সে যে-কোনো নারী।কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখে না!
1️⃣ ৮ টাকা → ১২ মিনিটমেয়াদ: ১২–২৪ ঘণ্টাকোড: *121*08#2️⃣ ১৪ টাকা → ২২ মিনিটমেয়াদ: ১ দিনকোড: *121*014#3️⃣ ১৮ টাকা → ২৮ মিনিটমেয়াদ: ১ দিনকোড: *121*18#4️⃣ ২৩ টাকা → ৩৫–৪০ মিনিটমেয়াদ: ২ দিনকোড: *121*23# বা *123*23# 📞 ৭ দিনের মিনিট অফার৭৮ টাকা → ১০০ মিনিট৯৭ টাকা → ১৩০ মিনিট১২৯ টাকা → ১৮০ মিনিট১৩৯ টাকা → ২২০ মিনিট 📞 ৩০ দিনের মিনিট অফার১৬৯ টাকা → ২০০ মিনিট২০৯ টাকা → ২৫০ মিনিট৩১৯ টাকা → ৫০০ মিনিট৫০৯ টাকা → ৮০০ মিনিট৬২৯ টাকা → ১০০০ মিনিট ✅ সব এয়ারটেল অফার দেখতে ডায়াল করুন:*121#✅ মিনিট চেক কোড:*778*5#
Bhoot.com Episode 324 – কবরস্থানের অন্ধকার রহস্যহরর জগতের জনপ্রিয় সিরিজ Bhoot.com আবারও ফিরেছে এক নতুন ভয়ের গল্প নিয়ে।Episode 324 এইবার দর্শকদের নিয়ে যায় এক ভয়ঙ্কর কবরস্থানে, যেখানে প্রতিটি ছায়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অজানা আতঙ্ক।গল্পের শুরু – মৃত্যুর নীরবতাএই এপিসোডের শুরুতেই দেখা যায় এক পুরনো কবরস্থান।চারপাশে কুয়াশা, শুকনো গাছ, আর নিস্তব্ধ পরিবেশ—যেন সময় থেমে আছে।একটি রহস্যময় কালো ছায়া ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসে…কে সে? মানুষ নাকি অন্য কিছু?কবরের ভেতরের গল্পEpisode 324-এর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো—এখানে মৃতরা শুধু স্মৃতি হয়ে থাকে না।গল্পের মাঝে এমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা বুঝিয়ে দেয় এই জায়গা অভিশপ্ত।কিছু অদ্ভুত শব্দ, হঠাৎ বাতাসের পরিবর্তন, আর অদৃশ্য উপস্থিতি—সব মিলিয়ে পরিবেশটা হয়ে ওঠে ভয়ংকর।ভয়, সাসপেন্স ও টুইস্টএই এপিসোডে suspense ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে।দর্শক বুঝতেই পারে না পরের মুহূর্তে কী ঘটবে।শেষে এমন একটি টুইস্ট আছে, যা পুরো গল্পের ধারণা বদলে দেয়।কেন শুনবেন Episode 324?কবরস্থান ভিত্তিক ইউনিক হরর থিমডার্ক ও cinematic ভিজ্যুয়ালভয় ধরানো সাউন্ড ডিজাইনঅপ্রত্যাশিত endingবাস্তব নাকি কল্পনা?অনেকেই মনে করেন, এই ধরনের গল্প বাস্তব ঘটনার ছায়া থেকে তৈরি।Episode 324-এও সেই রহস্য লুকিয়ে আছে।হয়তো সবটাই কল্পনা…অথবা, হয়তো সত্যি কিছু লুকিয়ে আছে এই কবরস্থানের অন্ধকারে।শেষ কথাBhoot.com Episode 324 শুধু একটি গল্প নয়—এটি একটি অনুভূতি, একটি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।যারা হরর ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই মিস না করার মতো একটি এপিসোড।................................................................................................................................................................... ⬇ Download Now
👻 Bhoot.com Episode 323 – ভয়ের এক নতুন অধ্যায়হরর প্রেমীদের জন্য আবারও ফিরে এসেছে জনপ্রিয় সিরিজ Bhoot.com, আর এর Episode 323 যেন ভয় আর রহস্যের এক নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এই এপিসোডে এমন কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে যা আপনার মনে প্রশ্ন জাগাবে—ভূত কি সত্যিই আছে?🔥 গল্পের শুরুEpisode 323 শুরু হয় এক ভয়ঙ্কর পরিবেশ দিয়ে—ঘন জঙ্গলের মাঝে এক অদ্ভুত নীরবতা। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে শুরু করে। একজন রহস্যময় ব্যক্তির উপস্থিতি পুরো গল্পটিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।😱 ভয় আর রহস্যের মিশ্রণএই এপিসোডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সাসপেন্স। প্রতিটি দৃশ্য এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন দর্শক শেষ পর্যন্ত না দেখে থাকতে না পারে।হঠাৎ শব্দ, অদৃশ্য উপস্থিতি, আর অজানা শক্তির খেলা—সব মিলিয়ে এটি একদম থ্রিলিং অভিজ্ঞতা।🎧 কেন এই এপিসোডটি আলাদা?গল্পের গভীরতা অনেক বেশিভয় পাওয়ার মতো বাস্তবসম্মত পরিবেশচমৎকার সাউন্ড ইফেক্টশেষে রয়েছে টুইস্ট, যা আপনাকে অবাক করে দেবে🧠 কি সত্যিই বাস্তব ঘটনা?অনেকেই মনে করেন, এই ধরনের গল্প বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। Episode 323-তেও সেই ছাপ স্পষ্ট।এটি শুধুই কল্পনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে সত্যি কিছু—সেটা ভাবার বিষয়।🎯 শেষ কথাBhoot.com Episode 323 শুধু একটি হরর গল্প নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা।যারা ভয় পেতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি এপিসোড।....................................................................................................................................................................... ⬇ Download Now
বাংলাদেশের জনপ্রিয় হরর স্টোরিটেলিং প্ল্যাটফর্ম Bhoot.com আবারও শ্রোতাদের সামনে নিয়ে এসেছে এক শিহরণ জাগানো গল্প—Episode 322, যার কেন্দ্রবিন্দু “পিশাচিনী”। এই এপিসোডটি শুধু একটি ভূতের গল্প নয়, বরং অজানা অন্ধকার জগতের এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতগল্পের সারসংক্ষেপEpisode 322–এ মূল গল্পটি একটি রহস্যময় নারী চরিত্রকে ঘিরে, যাকে “পিশাচিনী” বলা হয়। ধীরে ধীরে গল্পে উঠে আসে—একটি অভিশপ্ত পরিবেশঅস্বাভাবিক আচরণএবং এমন কিছু ঘটনা যা সাধারণ যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় নাগল্পের চরিত্ররা প্রথমে বিষয়টিকে কাকতালীয় ভেবে উড়িয়ে দিলেও, সময়ের সাথে তারা বুঝতে পারে—এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং অতিপ্রাকৃত শক্তির উপসকেন এই এপিসোডটি বিশেষ?Bhoot.com–এর এই এপিসোডটি অন্যগুলোর থেকে আলাদা কয়েকটি কারণে:গভীর ভয়াবহতা: গল্পের পরিবেশ এতটাই ডার্ক যে শুনতে শুনতে গা শিউরে ওঠেরিয়াল ফিলিং: গল্পটি এমনভাবে বলা হয়েছে যেন বাস্তব ঘটনার মতো মনে হয়ধীরে ধীরে ভয় তৈরি: হঠাৎ জাম্প স্কেয়ার নয়, বরং ধীরে ধীরে টেনস্টোরিটেলিং স্টাইলএই এপিসোডে বর্ণনাকারীর ভয়েস মডুলেশন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড ব্যবহার সত্যিই প্রশংসনীয়।শ্রোতা যেন নিজেই গল্পের ভেতরে ঢুকে যায়—এমন অনুভূতি তৈরি হয Download link............................................................................................................................................................................ ⬇ Download
বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খানের ভক্তদের জন্য বড় সুখবর। বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘মাতৃভূমি’ মুক্তির অপেক্ষায় থাকার মাঝেই নিজের পরবর্তী প্রজেক্ট নিয়ে মাঠে নামছেন এই মহাতারকা। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণী প্রযোজক দিল রাজু এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক বংশী পাইডিপল্লীর বিগ বাজেট অ্যাকশন সিনেমার শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ এপ্রিল। মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও এসআরপিএফ গ্রাউন্ডে বিশাল আয়োজনে এই সিনেমার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।সূত্রমতে, এই সিনেমার জন্য কোনো সাধারণ সেট নয়, বরং একটি আস্ত ‘মিনি সিটি’ বা ছোট শহর তৈরি করা হচ্ছে। সেটটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপের আবহ পাওয়া যায়। ছবির গল্পের প্রয়োজনে সেখানে হাইভোল্টেজ ও বড় মাপের অ্যাকশন সিক্যুয়েন্সের চিত্রায়ন করা হবে। সিনেমার সঙ্গে যুক্ত একজন ইনসাইডার জানিয়েছেন, সেট নির্মাণ থেকে শুরু করে অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি এবং কাস্টিং—সবই প্রায় চূড়ান্ত। একটি উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট হিসেবে পরিচালক বংশী পাইডিপল্লী সালমান খানকে সম্পূর্ণ নতুন এক লুকে পর্দায় হাজির করতে যাচ্ছেন।নাম ঠিক না হওয়া এই সিনেমাটিতে বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার নামী তারকাদের এক বিশাল সমাহার থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সালমানের অত্যন্ত প্রিয় একটি অ্যাকশন থ্রিলার স্ক্রিপ্ট এবং এর ভেতরের আবেগঘন গল্পই তাকে এই প্রজেক্টে যুক্ত হতে উৎসাহিত করেছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালে সিনেমাটি বড় পর্দায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সালমানের চিরচেনা বাণিজ্যিক ঘরানার সঙ্গে দক্ষিণী মেকিংয়ের মেলবন্ধনে তৈরি এই ছবিটি বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্টখ্যাত অভিনেতা আমির খান ৬১তম জন্মদিন পালন করেছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) কোনো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান ছাড়াই ঘরোয়া পরিবেশে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে নিজের বিশেষ এই দিনটি উদযাপন করেন তিনি। যদিও গত বছর ঘটা করে নিজের জন্মদিন পালন করেছিলেন আমির খান। সেই সঙ্গে সুখবর দিয়েছিলেন তার ভক্ত-অনুরাগীসহ সামাজিক মাধ্যম নেটিজেনদের। প্রেমিকা গৌরীকে সবার সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছিলেন জন্মদিনে। তবে এবারের জন্মদিনটি ছিল ব্যতিক্রম। মিস্টার পারফেকশনিস্ট অভিনেতা জন্মদিনের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন তার চর্চিত প্রেমিকা গৌরী স্প্রাট। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দুই সাবেক স্ত্রী রীনা দত্ত ও কিরণ রাও এবং তাদের সন্তানরা।আমিরের জন্মদিনের আয়োজনে শুরু থেকেই তার পাশে ছিলেন বান্ধবী গৌরী স্প্রাট। এবারের উদযাপনেও তাদের রসায়ন নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা গেছে, আমির খান কেক কাটার পর বান্ধবী গৌরীর মুখে কেকের টুকরো তুলে দিচ্ছেন। এ সময় তার দুই সাবেক স্ত্রী কিরণ রাও এবং রীনা দত্তকেও বেশ খোশমেজাজে দেখা গেছে। এমনকি অনুষ্ঠান শেষে কিরণ রাওকে আমির ও গৌরীর সঙ্গে একই গাড়িতে চড়ে বিদায় নিতে দেখা যায়।এদিকে বাবা আমির খানের জন্মদিনে উপস্থিত ছিলেন তিন সন্তান— জুনায়েদ খান, আজাদ খান ও ইরা খান। মেয়ে ইরাকে মজার ছলে বাবার মুখে কেক মাখিয়ে দিতে দেখা যায়। সেই অনুষ্ঠানে বলি অভিনেতা ভিকি কৌশল, রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজা এবং প্রযোজক রিতেশ সিদ্ধাওয়ানিও আমিরকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হয়েছিলেন।উল্লেখ্য, মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান এখন তার বড় ছেলে জুনায়েদ খানের প্রথম সিনেমা ‘একদিন’ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আগামী ১ মে মুক্তি পেতে যাওয়া এ সিনেমায় জুনায়েদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাঁই পল্লবী। এর পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবে ‘লাহোর ১৯৪৭’ সিনেমার কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন অভিনেতা। সানি দেওল অভিনীত এ সিনেমাটি আগামী ১৩ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তিনি অভিনয় দক্ষতা দিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে তার পারফরম্যান্স নিয়ে কম কটাক্ষ সইতে হয়নি।১৫ মার্চ ছিল এই অভিনেত্রীর ৩৩তম জন্মদিন। ৩৩ বছর বয়সে এসে এই নায়িকার সম্পত্তির পরিমাণ আকাশছোঁয়া, যা অনেক সিনিয়র অভিনেত্রীকেও টেক্কা দিচ্ছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আলিয়া ভাটের বর্তমান মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫৫০ কোটি টাকারও বেশি। আয়ের দিক থেকে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, কারিনা কাপুর ও জুহি চাওলার মতো প্রথম সারির তারকাদেরও।সফল এই অভিনেত্রী প্রতিটি সিনেমার জন্য বর্তমানে ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। পাশাপাশি ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বা বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য তার পারিশ্রমিক প্রায় ২ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক একাধিক ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করছেন তিনি।মুম্বাইয়ের পালি হিলসে রণবীর কাপুরের সঙ্গে যৌথভাবে আলিয়ার রয়েছে ৩৫ কোটি টাকার বাড়ি 'বাস্তু'। এছাড়া পুণেতে ১৩ কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও লন্ডনেও তার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। দম্পতির সংগ্রহে আছে ল্যান্ড রোভার, অডি আর৮ এবং মার্সিডিজ বেঞ্জের মতো নামী ব্র্যান্ডের দামি সব গাড়ি।
बस.. तुम से मिलने की देर थी,बस.. तुम से मिलने की देर थी।सितारे सितारे,मिले हैं सितारे।तभी तो हुए हैं,नज़ारे तुम्हारे।सितारे सितारे,मिले हैं सितारे।तभी तो हुए हैं,नज़ारे तुम्हारे।बस.. तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी।बस.. तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी।जिस पे रखे तुमने क़दम,अब से मेरा भी रास्ता है।जैसे मेरा तुम से कोई,पिछले जनम का वास्ता है।जिस पे रखे तुमने क़दम,अब से मेरा भी रास्ता है।जैसे मेरा तुम से कोई,पिछले जनम का वास्ता है।अधूरे अधूरे,थे वो दिन हमारे।तुम्हारे बिना जो,गुज़ारे थे सारे।सितारे सितारे,मिले हैं सितारे।तभी तो हुए हैं,नज़ारे तुम्हारे।बस.. तुम से मिलने की देर थी,बस.. तुम से मिलने की देर थी।बस.. तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी। English Version.......................................................................................................................................................................Bas.. Tum Se Milne Ki Der ThiBas.. Tum Se Milne Ki Der ThiSitaare SitaareMile Hain SitaareTabhi Toh Huye HainNazaare TumhareSitaare SitaareMile Hain SitaareTabhi Toh Huye HainNazaare TumhareBas.. Tum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der Thi..Bas.. Tum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der Thi..Jis Pe Rakhe Tum Ne QadamAb Se Mera Bhi Raasta HaiJaise Mera Tum Se KoiPichhle Janam Ka Vaasta HaiJis Pe Rakhe Tum Ne QadamAb Se Mera Bhi Raasta HaiJaise Mera Tum Se KoiPichhle Janam Ka Vaasta HaiAdhoore AdhooreThhe Vo Din HumareTumhare Bina JoGuzaare Thhe Saare..Sitaare SitaareMile Hain SitaareTabhi Toh Huye HainNazaare TumhareBas Tum Se Milne Ki Der ThiBas Tum Se Milne Ki Der ThiBas Tum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der Thi..
Song : Amra ShobaiWeb Series : Montu Pilot season 3Singer : Ishan Mitra (Male version)Composition : Amit ChatterjeeLyricist : Debaloy BhattacharyaProgramming : Shubhro BhattacharyaLabel : SVF Music.................................................................................................................................................................আমরা সবাই সবাই শুধু হেরে যাইশুধু কিছু রঙ ছড়াই,স্মৃতির শহর শহর মাটি আর খড়আহত নগর তোকে চায়।হারায় হারায় সব এমনি হারায়স্বপ্নে দাঁড়ায় চেনা মুখ,এ তুমি আজ আজ বৃষ্টির সাজসেজেছ হারাবার মতই ..ভেসে যায়, ভেসে যায় সীমানা ছাড়ায়যারা ভালবেসেছিল বন্দর,যদি সে আবার আবার, শুধু একবারফিরে তাকাবার মতই।প্রান্তরে প্রান্তরে কেউ কোনও অন্তরেকেটেছে নিজের হাতে শেষ পরিখা,আমরা সবাই সবাই গল্প সাজাইঅল্প বাঁচার প্রয়োজন,এ তুমি কার কার চেয়েছ আবারদু’হাতে তোমার আয়োজন।হারায় হারায় সব এমনি হারায়স্বপ্নে দাঁড়ায় চেনা মুখ,এ তুমি আজ আজ বৃষ্টির সাজসেজেছ হারাবার মতই ..আমরা সবাই সবাই শুধু হেরে যাইশুধু কিছু রঙ ছড়াই,স্মৃতির শহর শহর মাটি আর খড়আহত নগর তোকে চায়।
Song : Raat Kototuku DewalerWeb Series : Montu Pilot season 3Singer : Ishan MitraComposition : Amit ChatterjeeLyricist : Debaloy BhattacharyaProgramming : Atanu MitraLabel : SVF Music.......................................................................................................................................................................রাত কতটুকু দেওয়ালেরতার আশা ছিল খেয়ালে,কার তাতে কী এসে যায়, হারালে।ক্ষত যা ছিল গোলাপেরবাকি যা কিছু প্রলাপের,কার তাতে কী ক্ষতি হয়, ফুরোলে।এই চলে যাওয়া আলেয়ার মত মৃত নদীখাতেবিষাদ বাগান জুড়ে আগুন ছড়ায় নিজে হাতে,যত পায়রা মরেছে রোজ পুড়ে যাওয়া পালকের শোকেতাদের মৃত ছায়া আকাশে প্রচার করে তোকে।রাত কতটুকু দেওয়ালেরতার আশা ছিল খেয়ালে,কার তাতে কী এসে যায়, হারালে।ক্ষত যা ছিল গোলাপেরবাকি যা কিছু প্রলাপের,কার তাতে কী ক্ষতি হয়, ফুরোলে।আমরা ফিরব এই মৃত শহরে ভুল বিশ্বাসেখুঁজে গেছি কাকে বলে নিশ্বাস আমাদেরই লাশে,আমরা শিখেছি এক আলপথে হাত ধরে থাকাআমরা থেকেছি এক গলিপথ ভালবেসে একা।রাত কতটুকু দেওয়ালেরতার আশা ছিল খেয়ালে,কার তাতে কী এসে যায়, হারালে।
১.কি করে একটি কাচা ডিমকে না ভেংগে কংক্রিটের ফ্লোরে ফেলতে পারবেন?উত্তরঃ আপনি যে ভাবে ইচ্ছে ফেলতে পারেনlll, কেননা ডিম যেভাবেই পরুক কংক্রিটের ফ্লোর কখনো ভাংবে না।২.শুইতে গেলে দিতে হয়lll, না দিলে ক্ষতি হয়,কালিদাস পন্ডিত কয়lll, যাহা বুঝেছ, তাহা নয়।উত্তরঃ দরজার খিল৩.শহর থেকে এল সাহেবlll কোর্ট প্যান্ট পরে,কোর্ট প্যান্ট খোলার পরেlll চোখ জ্বালা করে।উত্তরঃ পেঁয়াজ৪.১০ জন মানুষ ১০ ঘন্টায় ইট দিয়ে একটি দেয়াল তৈরি করল, ঐ দেয়ালটি চার জন মানুষের তৈরি করতে কত সময় লাগবে?উত্তরঃ কোন সময়ই লাগবে নাlllকারণ দেয়ালটি অলরেডি তৈরি আছে।৫.বাংলা ধাঁধা উত্তর সহএকটা ঘড়ির উপর দিয়ে একটাঘোড়া চলে গেল, lllঘড়িটার কটা বাজবে।উত্তরঃ বারোটা।৬.পোলা কালে বস্ত্রধারীlll যৌবনে উলঙ্গ,বৃদ্বকালে জটাধারী,lll মাঝখানে সুড়ঙ্গ।উত্তরঃ বাঁশ৭.বাঘের মত লাফ দেয়,lll কুকুর হয়ে বসে,পানির মধ্যে ছেড়ে দিলেlll, ছোলা হয়ে ভাসে।উত্তরঃ ব্যাঙ৮.তোর দেশেতে সূর্য ওঠে সকাল বেলা ভোর বেলাতে বলতো দেহি কোন দেশেতে সূর্য ওঠে মাঝ রাতেতে।উত্তরঃ নরওয়ে।৯.কালিদাস পন্ডিতের ফাঁকি, আড়াইশ থেকে পাঁচ পঞ্চাশ গেলে আর কত থাকে বাকী।উত্তরঃ কিছুই না, শূন্য।
1️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা কাটলে সবাই খুশি হয়?উত্তর: কেক 🎂2️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা যতই ধোও ততই কালো হয়?উত্তর: ব্ল্যাকবোর্ড 🧑🏫3️⃣ ধাঁধা:একটা গাছ আছে, কিন্তু ফল নেই, ফুল নেই, তবু সবাই বসে থাকে। সেটা কী?উত্তর: চেয়ার (কারণ চেয়ারেরও “পা” থাকে) 🪑4️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা নিজের জায়গা থেকে না নড়েও সারা পৃথিবী ঘুরে আসে?উত্তর: ডাকটিকিট ✉️5️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা ভাঙলে শব্দ হয় না?উত্তর: প্রতিজ্ঞা / প্রতিশ্রুতি 🤫6️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা সকালে ৪ পা, দুপুরে ২ পা, আর রাতে ৩ পা?উত্তর: মানুষ (শিশু অবস্থায় হামাগুড়ি, বড় হলে হাঁটে, বুড়ো হলে লাঠি নেয়) 👴
১. দুই হাত আছে তার/ আরো আছে মুখ/ পা ছাড়াও জিনিসটার মনে বড় সুখ। বলো তো জিনিসটা কী?উত্তর : ঘড়ি।২. জিনিসটার এমন কী গুণ/ টাকা করে দেয় দ্বিগুণউত্তর : আয়নার সামনে টাকা ধরুন।৩. মানুষের পাঁচ আঙুল থেকেও নেই প্রাণ/ বল তো জিনিসটার কী নাম?উত্তর : দস্তানা।৪. ব্যবহারের আগে ভাঙতে হবে/ জিনিসটার উত্তর কে ক’বে?উত্তর : ডিম।৫. ঘাড় আছে, মাথা নেই/ ভেতরেরটা পেয়ে গেলেই ফেলে দিই? বলো তো কী?উত্তর : বোতল।৬. তোমাকে শুকিয়ে নিজে সে ভিজে/ উত্তরটা বলো দেখি/ চেষ্টা করে নিজেউত্তর : টাওয়েল বা গামছা।৭. বেড়ে যদি যায় একবার/ কোনোভাবেই কমে না আর?উত্তর : মানুষের বয়স।৮. জিনিসটা একেবারেই তোমার/ অথচ ব্যবহার করে অন্যে, বারবার?উত্তর : তোমার নাম।৯. সবাই তোমাকে ছেড়ে গেলেও সে যাবে না ছেড়ে/ চেষ্টা করে বলো দেখি, উত্তর কে পারে?উত্তর : তোমার ছায়া।১০. হাজার বছরের পুরোনো হয়েও বয়স তার এক মাস/ আমাদের মাথার ওপরই জিনিসটার বাস?উত্তর : চাঁদ।
স্বামী: জজ সাহেব, আমি আমার স্ত্রীর কাছে ডিভোর্স চাই, সে থালা-বাসন ছুড়ে মারে।জজ: সবে বাসন ছুড়ে মারতে শুরু করেছেন নাকি আগেও মারতেন।স্বামী: আগে থেকেই।বিচারক: তাহলে এত বছর পর ডিভোর্স কেন?স্বামী: কারণ এখন তার নিশানা একদম ঠিক জায়গায় লাগছে।
জলিল: ডাক্তার সাহেব, আমার সব কিছু ভুলে যাওয়ার রোগ হয়েছে।ডাক্তার: কবে থেকে এই সমস্যা হচ্ছে?জলিল: কোন সমস্যা?
প্রেমিকা: তুমি কি আমাকে ভালোবাস?প্রেমিক: একশ বার!প্রেমিকা: কিন্তু আমাকে তো পরোয়াই কর না তুমি!প্রেমিক: যে সত্যিকারের প্রেমে পড়ে সে কারো পরোয়া করে না।
মানুষের মুখে সাধারণত থাকে ৩২টি দাঁত। তাঁর মুখে রয়েছে ৪২টি দাঁত। একজন স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে তাঁর দাঁত ১০টি বেশি। এই অতিরিক্ত দাঁত নিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছেন মালয়েশিয়ার এক নাগরিক।৩৩ বছর বয়সী প্রাথাব মুনিয়ান্ডি রেকর্ড সংরক্ষণকারী এই সংস্থাকে জানান, কয়েক বছর আগে তিনি প্রথম বুঝতে পারেন, তাঁর দাঁতে কিছুটা অস্বাভাবিকতা রয়েছে।প্রাথাব বলেন, ‘২০২১ সালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চা পানের সময় আমি প্রথম বিষয়টি খেয়াল করি। তখন আমি তাঁদের জানাই, আমার মুখে মনে হয় অতিরিক্ত দাঁত গজাচ্ছে।’প্রাথাব বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে গুনে দেখি, তখন আমার ৩৮টি দাঁত ছিল। পরে দাঁতের এক্স-রে করে দেখা যায়, আরও ৪টি দাঁত ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে।’মালয়েশিয়ার এই নাগরিক বলেন, ‘২০২৩ সালের শুরুর দিকে আমি বুঝতে পারি, আমার মোট ৪২টি দাঁত। সৌভাগ্যবশত কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা ছাড়াই বেশির ভাগ দাঁত সোজাভাবে উঠেছে।’প্রাথাব জানান, অতিরিক্ত এই দাঁতগুলোর কারণে তাঁর কোনো সমস্যা হয় না। এমনকি তিনি নিজে থেকে না বললে বেশির ভাগ মানুষ টেরই পান না।প্রাথাব বলেন, ‘মানুষ সাধারণত খুব অবাক হয়। শুরুতে যে কারও পক্ষে বিষয়টি বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন কেউ জানতে পারে, আমার সাধারণ মানুষের তুলনায় ১০টি দাঁত বেশি আছে। সাধারণত একজন মানুষের ৩২টি দাঁত থাকে।’প্রাথাব বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদনের জন্য যে চিকিৎসকেরা তাঁর দাঁত পরীক্ষা করেছিলেন, তাঁরা আরও চমকপ্রদ খবর দিয়েছেন। তাঁর মাড়িতে নাকি আরও দুটি দাঁত ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে! একজন পুরুষের মুখে সবচেয়ে বেশি দাঁত থাকার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্ব রেকর্ডের খেতাব পেয়েছেন প্রাথাব।নারীদের মধ্যে এই রেকর্ডের অধিকারী ভারতের কল্পনা বালান। তাঁর দাঁতের সংখ্যা ৩৮।প্রাথাব বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি দাঁত থাকায় আমি একটি বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী, এটি ভাবতেই আমার কাছে দারুণ ও বিশেষ কিছু মনে হচ্ছে।’
একের পর এক পুরুষদের কাঁধে তুলে ছুড়ে ফেলছেন এক নারী। এভাবে একে একে তিনি ১০ জন পুরুষকে কাঁধের ওপর তুলে ছুড়ে ফেলেন, এ জন্য সময় নিয়েছেন মাত্র ৩৭ দশমিক ৪৪ সেকেন্ড।ওই নারীর নাম জিনা রুপেনটাল। তিনি জার্মানির একজন স্ট্রংওম্যান, অভিজাত অ্যাথলেট ও খেলাধুলাবিষয়ক বিজ্ঞানী। প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী নারীদের তালিকায় বর্তমানে জিনার অবস্থান চতুর্থ। তিনি একাধিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মালিক।আরও একটি রেকর্ড গড়তে জিনার পুরুষদের কাঁধের ওপর তুলে ছুড়ে মারার এই কাণ্ড এবং সে স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে জিনা এ কাজ করেন।সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ তাদের আনুষ্ঠানিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জিনার নতুন রেকর্ড গড়ার ভিডিও পোস্ট করেছে।একজন অ্যাথলেটের অসাধারণ শক্তি, গতি ও কৌশল প্রদর্শনের ওই ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়।এই চ্যালেঞ্জে জিনা অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পুরুষকে আলাদাভাবে তুলে তাঁর কাঁধের ওপর দিয়ে দ্রুত ছুড়ে দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি কাজটি সম্পন্ন করেছেন।গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তা বলেছেন, এ কাজ করতে কেবল শারীরিক শক্তিই নয়, বরং নিখুঁত সমন্বয় ও সহনশীলতার প্রয়োজন পড়ে। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে নিরাপদে তুলে নিয়ন্ত্রিত গতিতে ছুড়ে দিতে হয়েছে, যেন তা নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে পারে।এ কৃতিত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। কেউ কেউ মজার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।কেউ কেউ অ্যাথলেটের শক্তি ও দৃঢ় সংকল্পকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অনেকেই পারফরম্যান্সটিকে অনুপ্রেরণাদায়ক ও বিনোদনমূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।একজন মন্তব্য করেছেন, ‘পুরুষেরা তাঁদের কাজকে কতটা গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন, সেটা দেখে আমি মুগ্ধ।’আরেকজন লিখেছেন, ‘তাঁদের হাসি এবং তারপর আরও একবার ছুড়ে দেওয়ার জন্য তাঁদের দৌড়ে ফিরে আসা, এত মিষ্টি।’তৃতীয়জন লেখেন, ‘ছুড়ে দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানোর ধারণা আমার কাছে খুবই মজার লেগেছে।’
পৃথিবীর স্থলভাগের থেকেও অনেক অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ জলভাগ। জলের ওপরে যেমন হাজার হাজার সুউচ্চ পর্বত রয়েছে, তেমনি জলের নিচে রয়েছে গভীর সমুদ্র খাত। এরমধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর হচ্ছে এই মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ঠিক পূর্বে অবস্থিত।মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের নামকরণ করা হয়েছিল স্পেনের রাজা চতুর্থ ফিলিপের রানি মারিয়ানা এর নামে। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে অবস্থিত এই দ্বীপগুলো আসলে ডুবে থাকা ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির চূড়া। দ্বীপপুঞ্জের পূর্বদিকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে বিস্তৃত রয়েছে বিশ্বের গভীরতম সামুদ্রিক খাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (Mariana Trench)। প্রায় ২৫৫০ কিলোমিটার লম্বা এবং ৬৯ কিলোমিটার চওড়া এই ভয়ংকর গভীর খাতের নামও দ্বীপপুঞ্জের নাম অনুসারেই দেওয়া হয়। এর সবচেয়ে গভীর স্থানের নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ, যেখানে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী গভীরতা প্রায় ১০,৯৮৪ মিটার। তুলনায় বলা হয়, যদি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest) কে এখানে বসানো হয়, তাহলেও উপরে আরও প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা ফাঁকা থেকে যাবে। অর্থাৎ পৃথিবীর উচ্চতম শিখরও বিশ্বের গভীরতম খাতের গভীরতাকে পূরণ করতে পারে না।মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে তাপমাত্রা থাকে মাত্র ১ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, আর জলস্তম্ভের চাপ স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের প্রায় হাজার গুণ, প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে যার পরিমাণ প্রায় ৮ টন। গভীরতার সঙ্গে সঙ্গে এই চাপ আরও বাড়তে থাকে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে দুইটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে যখন একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যায়, তখনই সৃষ্টি হয় এমন গভীর সামুদ্রিক খাত।মারিয়া ট্রেঞ্চ এর গভীরতম অংশটির নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ। যেটি গুয়াম দ্বীপের ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। চ্যালেঞ্জার ডিপ নামটি রাখা হয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ HMS Challenger এর নামানুসারে কেননা এই জাহাজের নাবিকরা এই অংশটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেছিলেন।পৃথিবীর শীতলতম বিপজ্জনক স্থান এটি। সমুদ্রের গভীরতা যত বাড়তে থাকে পানির চাপ তত বাড়তে থাকে। ৩৬ হাজার ফুট গভীরে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে এর চাপের পরিমাণ প্রায় ৮ টন। পানির এই অতিমানবিক চাপ ইস্পাতকেও বেকিয়ে দিতে পারে অনায়াসে।১৮৭৫ সালে ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ HMS Challenger প্রথম মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা পরিমাপ করে। এরপর বহুবার এই অঞ্চল নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে গভীরতার পরিমাণও কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। যদিও অসংখ্য অভিযাত্রী পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর বিন্দুতে পৌঁছাতে পেরেছেন খুবই অল্প কয়েকজন।১৯৬০ সালে সুইস ও ইতালীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ব্যাথিস্কেপ Trieste এ চড়ে দুই অভিযাত্রী Jacques Piccard ও Don Walsh সফলভাবে নেমে যান মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরে। পাঁচ ঘণ্টার অবতরণের পর তারা প্রায় ১০,৯১৬ মিটার নিচে পৌঁছান এবং মাত্র কুড়ি মিনিট সেখানে অবস্থান করতে পারেন। চারদিকে ঘন সিল্টের মেঘের মতো কাদামাটি ও বালির স্তর থাকায় তারা কোনও ছবি তুলতে পারেননি। এই সিল্ট ক্লাউড আসলে আকাশের মেঘ নয়; এটি সমুদ্রতলে জমে থাকা বালি, কাদা ও ক্ষুদ্র উপকরণের ঘন স্তর, যা পানির প্রবাহে নড়াচড়া করে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি করে।গভীর অন্ধকার, প্রচণ্ড চাপ আর সিল্টের মেঘের কারণে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব বোঝা খুবই কঠিন। পিকার্ড দাবি করেছিলেন তিনি নাকি একটি ফ্ল্যাটফিশ দেখেছিলেন, তবে অধিকাংশ বিজ্ঞানী তা মানতে পারেননি। ফলে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশের জীবজগত এখনো মানুষের কাছে রহস্যময়ই রয়ে গেছে।
‘নিউটনের ভুল সূত্র’ গল্পের অমর বাবু চরিত্রটির কথা হয়তো অনেকেরই মনে আছে। হুমায়ূন আহমেদের এক অনবদ্য সৃষ্টি, যিনি সায়েন্সের প্রতি তীব্র মমত্ববোধ থেকে পরিবারের সান্নিধ্যও ছেড়ে দিয়েছিলেন। একসময় দেখা যেত পরিবারের ছেলে–মেয়েদের কেউ একজন পড়াশোনায় মনোযোগী হলেই অভিভাবকেরা ওই সন্তানকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ানোর জন্য খুব উৎসাহী হতেন। কিন্তু বর্তমান অবস্থা ভিন্ন। শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান না হওয়া, কারিগরি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা, ব্যবহারিক–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় হাতে–কলমে শিক্ষার দৈন্যদশা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের সুযোগ সেভাবে সৃষ্টি না হওয়া, ভালো ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা প্রভৃতি কারণে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।ব্যানবেইসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর হার ৪২ দশমিক ৮১ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিকে ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৫ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর হার ২৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিকে ১৭ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ পরিসংখ্যানে এটি স্পষ্ট যে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আরও জানা যায়, বিজ্ঞানাগার নেই প্রায় ২৯ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাধ্যমিকে প্রায় ২২ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিকে ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছে।ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় স্নাতক পর্যায়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ১১ শতাংশের মতো। এখানে উল্লেখ্য যে, মাধ্যমিকের তুলনায় উচ্চমাধ্যমিকে সিলেবাস ব্যাপক। অনেক শিক্ষার্থীই এ বিপুল সিলেবাসের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে ঝরে পড়ে.প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: ৪০০ নম্বরে বিভাজন ও প্রশ্নপত্রের কাঠামো যেভাবেএশিয়া মহাদেশের অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী দেশ সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশে বিজ্ঞান শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য আমাদের ইংরেজি শিক্ষাকেও সহজলভ্য করা উচিত। প্রতিটি স্কুল–কলেজে সপ্তাহে অন্তত এক দিন গ্রুপ করে শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ প্র্যাকটিস ক্লাস নেওয়া যেতে পারে। একই কথা আইসিটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অনেক কলেজে আইসিটি ল্যাব থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় না। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সব বিষয়ের শিক্ষকদের জন্যও আইসিটি জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করানো এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অভিভাবকেরাও এ দায় এড়াতে পারেন না। অনেক অভিভাবক সন্তানদের প্রতি সঠিকভাবে নজর না রাখার ফলে তারা মুঠোফোনের বিভিন্ন ক্ষতিকর অ্যাপের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হচ্ছে, মাদক গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তাভাবনা ছেড়ে দিচ্ছে। শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের করার জন্য দক্ষ শিক্ষকের অভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশে শিক্ষকদের উন্নত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের পথ সুগম নয়।ইউজিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ৬ হাজার ৪০০ শিক্ষক পিএইচডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও গবেষণার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি এখন একটি অপরিহার্য যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক। যাহোক, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী করার জন্য ভালো ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা একটি বড় বিষয়। স্কুল–কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীদের কর্মচঞ্চলতা, শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রাত্যহিক সমাবেশ অর্থাৎ পিটি বাধ্যতামূলক করা উচিত। স্কুলগুলোয় মোটামুটিভাবে পিটি হলেও কলেজগুলোয় হয় না বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে কলেজগুলোয়ও কর্মঘণ্টার মধ্যে পিটি সংযুক্ত করা আবশ্যক।শিক্ষার মানোন্নয়নে একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকে কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া উচিত। প্রাথমিক স্তরের শিশুদের প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের পাঠ্যসূচি পর্যাপ্ত থাকলেও শিশুদের হাতে–কলমে শেখানো হলে তারা উৎসাহী হতো, ক্লাস অনুযায়ী ছোট ছোট বিজ্ঞান প্রজেক্ট দেওয়া হলে তাদের মেধা আরও শাণিত হতো। শিশুরা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ খুশিমনে গ্রহণ করতে চায়। মাধ্যমিক স্তরের অনেক স্কুলেই নামমাত্র ল্যাবরেটরি আছে! যন্ত্রাংশ ব্যবহার না করতে করতে মরিচা ধরেছে, শিক্ষার্থীরা লিটমাস টেস্ট কী, তাই বুঝে না! কলেজ পর্যায়েও একই অবস্থা।শহরাঞ্চলের নামকরা কলেজের শিক্ষার্থীরা হয়তো ল্যাবের সুবিধা পেয়ে থাকে, কিন্তু মফস্সল অঞ্চলগুলোয় বা উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোয় ব্যবহারিক হাতে–কলমে করা হয় না বললেই চলে। অনেক কলেজে সল্ট অ্যানালাইসিস কখনো হয়েছে কি না সন্দেহ! পরীক্ষার সময়গুলোয় কোনো প্রকার ব্যবহারিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা ছাড়াই প্রায় পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। আসলে মুখস্থবিদ্যানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেই প্রথমে নজর দেওয়া উচিত। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের গবেষণায় যথাযথ প্রণোদনা, শিক্ষাছুটি ঝামেলাহীন করা ও আর্থিক অনুদান নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া স্কুল পর্যায়ের শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে—ব্যবহারিক–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় হাতে–কলমে পরীক্ষা করার সুযোগ সৃষ্টি করা, গণিত ও আইসিটির মতো বিষয়গুলোর মানোন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, বিজ্ঞানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজেক্টের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন। এ ক্ষেত্রে পুরস্কার হিসেবে বিজ্ঞানবিষয়ক জাদুঘর, গবেষণাকেন্দ্রে ভ্রমণের ব্যবস্থাসহ দেশ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিগুলোয় বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন অনুসন্ধানী বই, শিক্ষণীয় গল্প, বিভিন্ন বিজ্ঞানী–সম্পর্কিত বই ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিবিষয়ক বই অন্তর্ভুক্ত করা। এতে আমাদের অনেক শিক্ষার্থীরই হয়তো রবার্ট লুইস স্টিভেনসনের ‘ড. জেকিল অ্যান্ড মি. হাইড’ পড়ে আবিষ্কারের দিকে ঝোঁক সৃষ্টি হতে পারে বা এইচ জি ওয়েলসের ‘টাইম মেশিন’ পড়ে জগৎ সম্পর্কে ধারণা পরিশীলিত হতে পারে। এ ছাড়াপরিশেষে বলা যায়, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ ঘটানোর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানার্জনের জন্য আত্মসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী হবে। নৈতিক শিক্ষার জন্য ধর্মীয় জ্ঞানমূলক বই অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠন করা নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির’ জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগের আবেদন আহ্বান করেছে সরকার। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার, সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং সারা দেশে আধুনিক শরিয়াহ-সম্মত ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যাংকটি একজন দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব খুঁজছে। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি এই এমডি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত এমডি/সিইও ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির রূপান্তর ও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেবেন।তিনি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন। পাশাপাশি করপোরেট, এসএমই, রিটেইল, ট্রেজারি, কৃষি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ডিজিটাল ব্যাংকিংসহ সব কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন। একই সঙ্গে শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড ও শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স জোরদার করা, নতুন ইসলামী ব্যাংকিং পণ্য চালু করা এবং কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়াও তার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে। পদের জন্য প্রার্থীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, ব্যাংকিং, ম্যানেজমেন্ট বা বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে ন্যূনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং কোনো ব্যাংকের সিইও অথবা সিইও’র ঠিক নিচের পদে অন্তত দুই বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত সনদ যেমন সিএফএ, এফসিএ, সিএমএ, সিপিএ, এসিসিএ বা ইসলামী ফাইন্যান্স-সংক্রান্ত সনদধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগ্রহীদের আগামী ২৫ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদন করতে হবে। প্রার্থীর বয়স বিজ্ঞপ্তির তারিখ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৪৫ এবং সর্বোচ্চ ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।নির্বাচিত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে, যা কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য। আগ্রহী প্রার্থীদের বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত, কভার লেটার, শিক্ষাগত ও পেশাগত সনদের সত্যায়িত কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং পাসপোর্ট সাইজের সাম্প্রতিক রঙিন ছবি সংযুক্ত করে আবেদন পাঠাতে হবে। আবেদন পাঠানোর ঠিকানা- সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, কক্ষ নং ৩২৬, ভবন নং ৭, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। একই সঙ্গে আবেদনপত্রের পিডিএফ কপি ই-মেইল (ds.cbb@fid.gov.bd) করতে হবে।
"আস-সালামু আলাইকুম" আশা করি সকলেই ভালো আছেন।আজ আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি একটি সুন্দর ও কার্যকরী টাইম, ডেট এবং নামাজের সময়ের সিস্টেম, যা আপনার ওয়েবসাইটকে করবে আরও আকর্ষণীয় ও ব্যবহারবান্ধব।লাইভ টাইম ও ডেট – সবসময় আপডেট...এই সিস্টেমের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে রিয়েল-টাইমে বর্তমান সময় ও তারিখ দেখা যাবে। ব্যবহারকারীরা সহজেই জানতে পারবে বর্তমান সময় এবং দিন, যা তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য খুবই সহায়ক।বিশেষ সুবিধা...বাংলা ফরম্যাটে তারিখ ও সময়স্বয়ংক্রিয় আপডেটসুন্দর ডিজাইননামাজের সময় – প্রতিদিনের ইবাদতে সহায়ক...একজন মুসলিম হিসেবে নামাজের সময় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফিচারের মাধ্যমে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় সহজেই দেখা যাবে।এতে থাকছে....ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার সময়সহজ ও পরিষ্কার প্রদর্শনআপনি মাউস টাইমের উপরে রাখলে নামাজের সময় দেখাবে আবার মাউস সরালে আবার নরমাল সময় চলে আসবে।আকর্ষণীয় ডিজাইন...শুধু তথ্য নয়, এই সিস্টেমটি দেখতে খুবই সুন্দর। ক্লিন UI, আধুনিক ফন্ট এবং স্মার্ট লেআউট আপনার ওয়েবসাইটকে আরও প্রফেশনাল করে তুলবে।কেন এটি ব্যবহার করবেন?✔ আপনার ওয়েবসাইটকে আরও ইনফরমেটিভ করে✔ ভিজিটরদের জন্য উপকারী ফিচার✔ ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ✔ সম্পূর্ণ ফ্রি এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য..চলেন এইটা কিবাবে আপনার সাইটে বসাবেন।যদি তোমার Php সাইট থাকে...ধাপ ১: CPanel-এ লগইন করুনআপনার হোস্টিং প্রোভাইডারের CPanel-এ লগইন করুন।Dashboard-এ যান।ধাপ ২: File Manager এ যানFile Manager অপশন ক্লিক করুন।আপনার ওয়েবসাইটের public_html ফোল্ডারে প্রবেশ করুন।যদি এটি একটি সাবডোমেইন বা সাবফোল্ডারে থাকে, সেখানেও যেতে হবে।ধাপ 3: Header.php ফাইলে যাও তার পর কোড বসানোর স্থান খুঁজো। পরে যেখানে তুমি সময় দেখাতে চাও সেখানে কোড বসাও এবং Save দাও।আর যদি তোমার ওয়ার্ডপ্রেস থাক...ধাপ ১: Appearance → Theme Editor → header.phpheader.php ফাইল ওপেন করো।এখন যেখানে তুমি সময় দেখাতে চাও সেখানে কোড Paste করে Save করে দাও।Demo......Download Link....কোড ১ Download Link