ইসলামের কথা
আরও দেখুন →
সকাল ৮টা। মুহাম্মদ ধড়ফড় করঘুম থেকে লাফিয়ে উঠল। বিছানা ত্যাগ মাত্র ছুটে গেল আলমিরার দিকে। প্রয়োজনীয় পোশাকটি বের করল আলমিরা থেকে। তারপর কিছুটা জিরিয়ে হলো। এরপর মুখ রাখল আয়নায়। নিজেকে একটু পরিপাটি করে নিয়ে ছুটল দরজা পানে।হায় আল্লাহ! ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি অথচ মুখটুকুও ধোয়া হয়নি!আজ মুহাম্মদের তাড়া আছে বৈ কি। সে আজ বড় ব্যস্ত। হাতে কাজ অনেক। আগেভাগেই সব সারতে হবে। অন্যথায় তাকে সন্ধ্যে অবধি কাজেই ডুবে থাকতে হবে। উপস্থিত হতে পারবে না মীলাদের পুণ্য মাহফিলে।ত্রস্তব্যস্ত হয়ে মুহাম্মদ আবার ঘরে এলো। মুখ-হাত ধুয়ে মুহূর্তেই আবার বেরিয়ে এলো। গাড়ি নিজে ড্রাইভ করেই ছুটলো অফিসের উদ্দেশে। অফিসে পৌঁছে কালবিলম্ব না করে ডুবে গেল কাজের মধ্যে। কিছুক্ষণ বাদে এন্তার কাজ আর ঝামেলার ফাঁক গলেই তার মুঠোফোনে একটি মেসেজ এলো। কাজ বন্ধ করে মুহাম্মদ নজর দিলো মোবাইলে। মোবাইলের মেসেজ বক্স অন করল। বার্তাটি খুলতেই দেখতে পেল : ‘প্রিয় ভাই, তুমি কি আল্লাহকে ভালোবাসো? ভালোবাসো কি তাঁর রাসূল কে?’ মনে মনে সে জবাব দিল, অবশ্যই।তারপর? মুহাম্মদ পড়ে চলে : ‘নিশ্চয় আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ঈমানের সবচে মজবুত রশি।’ বাহ্, সুন্দর লিখেছে তো!এবার সে পরবর্তী লাইনগুলোতে চোখ বুলায় : ‘যদি তাঁদের ভালোবাসার এই হয় মর্যাদা, তাহলে এও কি সম্ভব যে, মীলাদ নবীর ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও কি আমরা তা হেলায় কাটিয়ে দেবো?’ মুহাম্মদ মন্তব্য করতে লাগল : এ কী ? জানি না লোকটি কী বলে? আরে! এ দেখি সালেহ। ভাই সালেহ আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত দিন। মেসেজে কী বলা হয়েছে তা ভুলে মুঠোফোনটি রেখে দিল। ব্যস্ত হয়ে পড়ল অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে। আর হঠাৎ তখনই মনে পড়ল, সে তো ফজর সালাত আদায় করেনি।একটু ভাবল, আপনা থেকেই ভেবে অবাক হলো, কোন জিনিসটি তাকে এ মুহূর্তে সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো? প্রায়ই তো সে ফজর সালাত পড়ে না। হাতের কাজ ফেলে মুহাম্মদ তড়াক করে লাফিয়ে উঠল। ফজর সালাত আদায়ে সে অন্তরে এক অপূর্ব সাড়া ও আত্মিক তাড়না বোধ করল।দিনান্তে মুহাম্মদ সব কাজ শেষ করল। মীলাদে যাবার প্রস্তুতি সেরে গাড়িতে চাপল। গাড়িতে বসে ভাবনার লাগাম ছেড়ে দিল। মনের আরশিতে একে একে ভেসে উঠতে লাগল সারাদিনের তাবৎ ঘটনা। মেসেজটির কথা, ফজরের সালাতের কথা, সকালের তাড়াহুড়োর কথা- এমনকি মুখ না ধুয়ে ভুলে বেরিয়ে আসার কথা। নিজে নিজে একটু হাসল। হৃদয়ে অনুভব করলো শান্তি, তৃপ্তি ও প্রশান্তি। মুখ থেকে বেরিয়ে এলো : আলহামদুলিল্লাহ। সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য।সে নিজে নিজের কাছে ফিরে এলো। নিজের কাছেই কৈফিয়ত তলব করল বছরের পর বছর সালাত কাযা করা বিশেষত ফজর না পড়া সম্পর্কে।আপনাকে সে প্রশ্ন করল, তুমি কি মনে করো, আমি নিয়মিত ফজর সালাত পড়লে এই তৃপ্তি ও প্রশান্তি ধরে রাখতে পারব? স্মরণ হল শায়েখ খালেদের কথা। যিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাগাদা দিয়েছিলেন তাকে আগেভাগেই মীলাদে হাযির হতে।শায়েখ খালেদ ফি বছর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্মরণ করিয়ে দেন মিলাদুন্নবীর গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষের কথা। আল্লাহ তাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।তবে হ্যা, তার মনই তাকে বলল, এই শায়েখ খালেদ তো তোমাকে একবারও ফজর সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেননি। কিংবা তিনি এসে তোমাকে ফজরের সালাতে নিয়ে যাননি। যেমন করেন তিনি ঈদে মিলাদুন্নবীতে! সারা বছর তিনি ব্যস্ত থাকেন। সালাতের প্রতি তোমাকে একটুকু তাগিদ দেন না। কেবল এই সময়টি যখন আসে, তোমাকে স্মরণ করেন তিনি!তওবা! তওবা! এ কেমন হীন চিন্তা? শায়েখ খালেদ তো নেককার ব্যক্তি। অলী আল্লাহ মানুষ। এটা করেন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসায়। তাঁর উচ্চ মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে। ভালোবাসায়…….। হ্যা, ভালোবাসা বৈ কিছুই নয়! মেসেজটিতে আজ যা পড়লাম। কত সুন্দর কথা সেগুলো। মুঠোফোনটা সে আবার বের করল। বন্ধু সালেহ প্রেরিত বার্তাটি বের করে তা পুনরায় পড়তে লাগল : ‘প্রিয় ভাই, তুমি কি আল্লাহকে ভালোবাসো? ভালোবাসো কি তাঁর রাসূল কে? নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা ঈমানের সবচে মজবুত ভিত।’একদম খাঁটি কথা। মুহাম্মদ নিজেকে প্রশ্ন করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেন নি : ঈমানের মজবুততম রশি হলো, আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা এবং তাঁর জন্যই ঘৃণা করা।’?মুহাম্মদ পড়ে চলে : ‘যদি তাঁদের ভালোবাসার এই হয় মর্যাদা, তাহলে এও কি সম্ভব যে, মীলাদ নবীর ভালোবাসা প্রকাশকের উপায় হওয়া সত্ত্বেও আমরা তা হেলায় কাটিয়ে দেবো?’সালেহ, সে তো আমার পুরনো বন্ধু। বাল্যকাল থেকেই তাকে চিনি। তাকে সর্বদা সব বিষয়ে উদ্যমী ও অনুসন্ধিৎসু হিসেবে দেখে এসেছি। অন্যের মতের প্রতি তার যথেষ্ট শ্রদ্ধা থাকলেও নিজের বোধটাকে সে কখনো অন্যের করুণার ওপর ছেড়ে দেয় না। না বুঝে সে কোনো বক্তব্য মেনে নেয় না। মনে পড়ে একদিন ক্লাসে এক শিক্ষক বলেছিলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন অলীর সঙ্গে মুসাফাহা করতে কবর থেকে তাঁর দস্ত মুবারক বের করে দিয়েছিলেন’। সে সহজে এ কথা মেনে নিতে পারছিল না। ফলে সে শিক্ষকের কাছে এই তথ্যের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলো। তার যুক্তি, এমন যেহেতু কোনো সম্মানিত বা প্রবীণ সাহাবীর ক্ষেত্রে ঘটেনি তাহলে তা অলী-বুযুর্গদের ক্ষেত্রে ঘটে কি করে? আমরা তার শাণিত যুক্তি ও ব্যক্তিত্বের কারিশমা দেখে অভিভূত হয়েছিলাম।আচ্ছা, সালেহ যদি জ্ঞানী হয়ে থাকে, আমিও তো তবে জ্ঞানহীন নই। আমি না ভেবে তার সব কথাও তো মেনে নিতে পারি না। সালেহ তো কট্টরপন্থী আলেমদের সঙ্গে উঠাবসা করে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসেন না।হায় আল্লাহ, কী আশ্চর্য ! আমি সালেহ ও তার সম মনাদের সম্পর্কে ভাবছি তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসেন না! অথচ তিনিই তো আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসায় উপচে পড়া এই বার্তাটি প্রেরণ করেছেন! আমার মনে আছে গত মাসে এ ধরনের একজন বুযুর্গের পেছনে জুমার সালাত আদায় করেছিলাম। তাকে তো নবী প্রেমের সুবাসই ছড়াতে দেখলাম। তিনি তাঁর খুতবায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানার্থে জোরালো বক্তব্য রাখছিলেন। মুসল্লীদের তিনি আহ্বান জানাচ্ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ধৃষ্টতা প্রদর্শনকারী সকল দেশের পণ্য বয়কটের মাধ্যমে নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব পালন করতে। তখন শুধু তাঁর মুখেই এই দরকারী আহ্বান শোনা যাচ্ছিল। শায়েখ খালেদের সঙ্গে দেখা হলে তাকেও এ ব্যাপারে সোচ্চার বলে মনে হলো। তদুপরি সালেহ ও তার সঙ্গীদের দেখি তারা সীরাতে রাসূলের ওপরও বেশ গুরুত্ব দেন। একবার সালেহ আমাকে তার এক সতীর্থের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি সীরাতে রাসূলের ওপর সহীহ হাদিস নির্ভর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। বন্ধু সুলাইমানের কথাও উল্লেখ করা যায়। তিনি ছোটদের জন্য সহজ গদ্যে সীরাত গল্প সংকলন প্রকাশ করেছেন।এসবের পরও কীভাবে বলি তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসে না? যে ব্যক্তি সুন্নতের অনুসরণ করে এবং বিদ‘আত বর্জন করে আর রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরণ যার জীবনের ব্রত, যে যথার্থ মূল্যায়ন করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত, সুন্নাহ ও শরীয়তকে, কী করে তার সম্পর্কে বলা যায় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসেন না!হ্যা, আজকের ফজর সালাতের বরকতই যদি হয় এই হেদায়াত ও সৌভাগ্য, তাহলে যে ব্যক্তি দিন-রাত অষ্টপ্রহর রাসূলুল্লাহর আনীত দীনের ছকে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে, কত বরকতই না সে দেখতে পায়। যাহোক, ঈদে মিলাদুন্নবী পালন তো ভালো কাজই বটে। এ তো কেবল যিকর, নবীর ওপর দরূদ পাঠ ও কল্যাণ কাজে সমবেত হওয়ার নাম। একে বিদ‘আত বলা এক ‘অনুচিত কঠোরতা’ ও ‘অযাচিত গোঁড়ামী’ বৈ কি?‘অনুচিত কঠোরতা’ ও ‘অযাচিত গোঁড়ামী’ ‘অনুচিত কঠোরতা’ ও ‘অযাচিত গোঁড়ামী’ – এভাবে সে বাক্যটি আওড়াতে থাকে।কয়েক সেকেন্ড পর। আচ্ছা প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বর্জন করেছেন, সকল মুসলমানের শ্রেষ্ঠ জামাত যা করেন নি, তা করা অপ্রয়োজনীয় নাকি তারা যা বর্জন করছে তাই অপ্রয়োজনীয়? আহ্ আমি যে চিন্তা মাথায় না এনে পারছি না।মুহাম্মদ মুহূর্তকাল ভাবল, তারপর একটি পাবলিক উদ্যানে ঢুকে পড়ল। এখানে কিছুটা সময় কাটানো যাক। কোমল পানীয় পেটে চালান করে একটু ঠান্ডা হওয়া দরকার।মুহম্মদ একপাশে গিয়ে বসল। ওয়েটারকে একগ্লাস পুদিনা ছিটানো লেবুর জুস দিতে বলল। একটু রিল্যাক্সড হল। মনোরম জায়গাটি তাকে মুগ্ধ করল। উদ্যানের সৌন্দর্য ও পরিপাট্য তাকে সজীব করে তুলল।অকস্মাৎ তার এই সুন্দর সময়ে ছেদ টানল গুটিকয় দুষ্টু বালকের হল্লা। ওরা অশোভন আচরণ করছে। মুহাম্মদ খেয়াল করে দেখল, গালাগাল আর মন্দ বাক্যই ওদের পারস্পরিক অভিবাদনের ভাষা। কিছুক্ষণ বাদেই ওরা বিবাদ শুরু করল। হট্টগোল শোনা গেল। আর দেখতে না দেখতেই ওরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল। ওমা সে কি! প্রতিপক্ষের ওপর হামলার জন্য ওদের একজন ধারালো অস্ত্র এবং চাকু বের করল! আল্লাহর দয়া না হলে দু’একজন বোধ হয় খুনই হয়ে যেত। অদূরে পুলিশের একটি গাড়ি এসে থামল। একজন পুলিশ গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে এই উদ্যানের দিকেই এগিয়ে আসছিল হালকা নাস্তা করতে। ছেলেগুলো তাকে দেখেই ছুটে পালাল। মনে মনে সে আল্লাহর শোকর আদায় করল। এই তো, তিনি দয়া না করলে এখানে আজ কেউ একজন খুনই হয়ে যেত।আসলে এই সুন্দর জায়গাটিতে একজন নিরাপত্তারক্ষী থাকা দরকার। নয়তো যে কোনো মুহূর্তে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাবে। তেমন না হলে বরং এটি বন্ধ করে দেওয়াই শ্রেয়। অন্যথায় এটি হবে সেসব অপরাধীর অভয়ারণ্য যাদের কর্মকাণ্ড সমাজে শুধু অশান্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।হ্যা, যাতে কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণের দিকই বেশি, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করাই শ্রেয়। এই পয়েন্টে এসে মুহাম্মদ নিজেই নিজের সঙ্গে তর্ক জড়িয়ে গেল। এভাবে অনেক মীলাদেই তো মন্দ ও অকল্যাণ চর্চা হয় বেশি। আল্লাহর কসম, ওরা মিলাদুন্নবী উদযাপানের নামে মদ ও গঞ্জিকা সেবন করে। অনেক মীলাদেই সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়। নৃত্য-গান ও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হয়। এতো রাসূলের প্রকৃত ভালোবাসার নমুনা হতে পারে না। তবে আলহামদুলিল্লাহ আমি যে মীলাদে উপস্থিত হই। আমার পরিবার-পরিজন যে মীলাদ অনুষ্ঠান করে থাকে, সেগুলো এসব বিদ‘আত থেকে নিরাপদ। বিদ‘আত! আমি কী বললাম? বিদ‘আত! কী করে উচ্চারণ করলাম এই শব্দ?হ্যা, শপথ আল্লাহর, এতো বিদ‘আত বৈ কিছুই নয়। মুহাম্মদ, তুমি ভাবছো তোমাদের মীলাদ এসব নিষিদ্ধ মন্দাচার থেকে মুক্ত। কিন্তু সেখানে অন্য নিষিদ্ধ বিষয় তো রয়েছে। তুমি সেসব পছন্দ কর এবং সেসবে তুমি অভ্যস্ত বলে তা টের পাও না। আর তোমাদের এই মীলাদ, তাদের যে মীলাদকে বিদ‘আত বললে সেই পর্যায়ে যে একদিন উন্নীত হবে না তার গ্যারান্টি কোথায়?স্বভাবতই তুমি বলবে, না। আমরা ও আমাদের শায়েখরা এবং আমাদের পূর্ব পুরুষরা দীর্ঘদিন ধরেই মিলাদুন্নবী পালন করে আসছি। আমাদের নিয়মে কোনো ব্যত্যয় হয় নি। আলহামদুলিল্লাহ ওসব বিদ‘আতও আমাদের স্পর্শ করে নি।মুহাম্মদ, তুমি কি মনে করো না আব্দুল্লাহরা যে মিলাদুন্নবী পালন করতো তা এক সময় ভালোই ছিল। একদিন ঠিক তোমাদের মীলাদের মতোই নির্দোষ ছিল। খোঁজ নিয়ে দেখ আজ তারাই মিলাদুন্নবী উৎসব পালনে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে। এমনকি আব্দুল্লাহর এক আত্মীয় আমাকে বলেছে, তারা মীলাদের অনুষ্ঠানাদিতে মাদককেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। হ্যা, আমার ঠিক মনে আছে। সন্দেহ নাই ওরা এসব ঠিক করছে না।কিন্তু কেন ওরা ভুল করছে? আমাদেরও কি ভুল করা সম্ভব নয়? এটা কি সম্ভব নয় যে, আমরাও একদিন তাদের মতো করতে লাগব? না, নাহ। ওরা ভুল করছে। আমি এটা গোঁড়ামীবশত বলছি না। বলছি কারণ, তারা আমাদের পূর্বসুরীরা যা করেছেন তা বিকৃত ও পরিবর্তিত করার মেহনত করেছে।আচ্ছা, মীলাদ পুরোটাই কি আমাদের পূর্বসুরীদের পথে পরিবর্তন ও বিকৃতি সাধন নয়? এ কথা হৃদয়ে উদয় হওয়া মাত্র তর্ক মিইয়ে এলো। ভাবনার দিগন্ত রেখা ছোট হয়ে এলো। ঠিক বটে। তবে এটা তো ভালো কাজ।এ চিন্তা মাথায় উদয় হওয়ার পর থেকেই মুহাম্মদ অস্বস্তি বোধ করতে লাগল। আগেভাগেই মীলাদে উপস্থিত হবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলল। কামনা করতে লাগল, যদি সালেহের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তবে তার সঙ্গে পর্যালোচনা করা যেত।কিন্তু সালেহ কোথায়? তার কাছে পৌঁছাই বা সম্ভব কিসে? মুহাম্মদ তার মোবাইলে মেসেজ অপশনের ইনবক্সে গিয়ে পুরনো মেসেজগুলো পড়তে লাগলো। এর মধ্যে সে কিছুদিন আগে পাঠানো সালেহের আরেকটি মেসেজ খুঁজে পেল। সালেহ তাতে লিখেছে : ‘আপনি কিন্তু নিজের জন্য গাড়ি কিনতে গিয়ে তা পছন্দের ভার অন্যের ওপর ছেড়ে দেন না। ভালো ফ্ল্যাট কিনে নিজের সুরুচি ও আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটাতে চান। পরিবারকে চমকে দিতে চান। বড় কিছু কিনতেই তো আপনি অন্যের মতামতকে পাত্তা দেন না। বরং নিজের রুচি ও পছন্দকেই অগ্রাধিকার দেন।’মুহাম্মদ পড়ে চলে : ‘তাহলে আপনি নিজের দীনদারীর ব্যাপারে যে সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য আনতে চান আল্লাহকে খুশি করা জন্য, তা নির্বাচনের ভার কেন ছেড়ে দেন অন্যের ওপর?’নাহ, আল্লাহর কসম, এ যুক্তি আমি মানতে পারি না। আল্লাহর ইবাদতের ব্যাপারে আমি খেয়াল-খুশি মত যা তা করতে পারি না। আমি এমন কোনো কাজে ইবাদত মনে করে আমার জীবনের মূল্যবান সময়ের সামান্যও ব্যয় করতে রাযী নই, যা আখিরাতে আমার কল্যাণ বয়ে আনবে না। যে কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ভূমিকা রাখবে না। অনেক সুস্পষ্ট ও আপাত সুন্দর ইবাদতও কি কখনো বিদ‘আত হতে পারে না? পক্ষান্তরে অনেক তেতো কাজও তো সুন্নত হতে পারে।মেকি যুক্তির পূজারী হতে গিয়ে কি বিজ্ঞ আলেমদের মত ছাড়াই এ বিষয়টির সমাধানে পৌঁছবো? মীলাদের পক্ষে যারা সাফাই গান তাদের বুযুর্গদর্শন চেহারা দেখে গলে যাবো? অন্য যেসব আলেম সত্যের বার্তা নিয়ে আসেন, যাদের কথা শুনে আমার মনের দুয়ার খুলে যায়, যাদের বক্তব্য শুনলে আমার চিত্তে সাড়া পড়ে, আমি তাদের কাছে গিয়েই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইবো। যারা শুধু মৌসুমী ইশকে রাসূলের কথা বলেন তারা নয়; জীবনের প্রতিটি কর্মে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করেন তাদের কথাই আমি গ্রহণ করবো।এই বিন্দুতে এসেই মুহাম্মদের সামনে দৃশ্যপট পরিষ্কার হতে লাগল। সে জীবনের নতুন নকশা আকঁতে লাগল। সহসা তার সামনে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত ভিড় করল। যেন সে পূর্ব থেকেই এসব স্থির করে রেখেছিল।১. এমন কোনো সংশয়াচ্ছন্ন ইবাদতে আমি জড়াব না যে সম্পর্কে আমি জানি না তা আল্লাহ তা‘আলাকে খুশি করবে না অখুশি। দীনের বিধি-বিধান সুস্পষ্ট, দিবালোকের ন্যায় সর্বজন দৃষ্টিগ্রাহ্য। এতে কোনো সন্দেহপূর্ণ বা অস্পষ্ট কাজে জড়ানোর প্রয়োজন নেই। আমি যদি এর হক ও দায়দায়িত্ব আদায়ে সচেষ্ট হই, তবে অন্য কিছুতে মনোযোগ দেবার অবকাশই নেই।২. আজ আমি মীলাদে উপস্থিত হবো না। এরপর আর কখনো নয়। এর বদলে আজ আমাকে আল্লাহ আমার নতুন জন্ম দান করেছেন। আজ থেকে আমি নতুন মানুষ। আজ থেকে আমি প্রতি মুহূর্তে নবীর জন্য উৎসব করবো। উৎসব করবো তাঁর সুন্নত বাস্তবায়নের মাধ্যমে। উদযাপন করব তাঁর আনুগত্যের মধ্য দিয়ে। এবং সময় মতো ফজর সালাত ও অন্য সালাত আদায়ের মাধ্যমে। উদযাপন করবো জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে তাঁকে বিচারক মানার মাধ্যমে। আল্লাহর কসম, এখনই আমি এর স্বাদ অনুভব করছি। এ যেন এমন মিষ্টতা যার আস্বাদ ভোগ করছি আমার দেহ ও মনে। সেই জন্ম কত না সুন্দর যা আমি উপভোগ করছি। আমি তো কেবল আমার প্রেমাস্পদেরই অনুকরণ করব। আমি তাঁর সঙ্গে জীবিত থাকব প্রতিটি নীরবতায় ও সরবতায়।৩. আমাদের দায়িত্ব আলেমদের উপদেশ শ্রবণ করা। তাদেরকে সম্মান ও মুহাব্বত করা। তাই বলে কারো কাছে আমাদের জ্ঞান বন্ধক রাখতে পারি না। কিয়ামতের দিন হিসাব তো নিজেকেই দিতে হবে। তাই আমাদের করণীয়, আমরা যে কাজে তাঁদের অনুসরণ করব সেটা সুন্নত না বিদ‘আত তা বুঝতে হবে। অনুধাবন করতে হবে এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জন হবে কি-না। কারণ, আলেমরাও কখনো ভুল করেন। কখনো অভ্যাস বা প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না। অতএব পৃথিবীর কোনো আলেমকে আমি সর্ব বিষয়ে অনুসরণের ক্ষেত্রে নবীর সমতুল্য বানাতে পারি না।৪. আশা করি আল্লাহ তা‘আলা আমাকে তাঁর রাসূলের বাণীর মাধ্যমে উপকৃত হবার তাওফীক দেবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষ্য মতে, জান্নাতের কাছে নিয়ে যায় এবং জাহান্নাম থেকে দূরে নিয়ে যায় এমন কোনো জিনিস নেই যা তিনি আমাদের সুস্পষ্ট বলে দেন নি। সুতরাং এরপর আমি আর কোন জিনিসটির প্রত্যাশা করতে পারি? দীনের সঠিক বুঝ দানের জন্য মুহাম্মদ আল্লাহ তা‘আলার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করল।গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিয়ে রেডিও অন করলো। আর সঙ্গে সঙ্গে শুনতে পেল শায়খ সাউদ আশ-শুরাইম সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত করছেন :‘আর তোমার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার দিক থেকে পরিপূর্ণ হয়েছে। তাঁর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই। আর তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী। আর যদি তুমি যারা যমীনে আছে তাদের অধিকাংশের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা শুধু ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা শুধু অনুমানই করে। নিশ্চয় তোমার রব অধিক অবগত তার সম্পর্কে, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং তিনি অধিক অবগত হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে।’ {সূরা আল-আন‘আম, আয়াত : ১১৫-১১৭}আমার প্রিয় ভাই, এটি এক ব্যক্তির বাস্তব ঘটনা আল্লাহ তা‘আলা যার অন্তরে নিজের মতের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতকে প্রধান্য দেবার নূর দান করেছেন। রাসূলুল্লাহকে আদর্শ ও ইমাম হিসেবে গ্রহণ করার তাওফীক দিয়েছেন। তাই তো তিনি সক্ষম হয়েছেন তাঁর পূর্ণ আনুগত্য ও প্রশ্নাতীত অনুসরণে। সফল হয়েছেন দীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে।বস্তুত আল্লাহর প্রিয় ও পছন্দসই হক তথা সত্যের মানদণ্ড কিন্তু ভালো রুচি বোধ কিংবা বংশ পরম্পরার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায় না। ব্যাপক সংখ্যক মানুষের কাজের মাধ্যমে চেনা যায় না। এমন জ্ঞানের ফয়সালার মাধ্যমেও জানা যায় না, যা শরীয়তের আলোয় আলোকিত নয়। তেমনি এমন ব্যক্তির অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমেও নয়, যার বক্তব্যের পেছনে আল্লাহ তা‘আলার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।তবে যে সত্যিকারার্থে হিদায়াত প্রত্যাশী হবে, তারপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পথে নব উদ্ভাবন নয়; সম্পূর্ণ আনুগত্য দেখাবে, সে কিন্তু তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছবেই। আবু যর গিফারী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,‘হে আমার বান্দা, তোমরা সবাই বিভ্রান্ত, কেবল আমি যাকে সঠিক পথে পরিচালিত করি। অতএব তোমরা আমার কাছেই সঠিক পথের জন্য প্রার্থনা করো। আমি তোমাদের হিদায়াত দেব।’ [মুসলিম : ৬৭৩৭]হিদায়াতের পথ ছাড়া অন্য পথ সম্পর্কে তিনি বলেন,‘আর এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ {সূরা আল-আন‘আম, আয়াত : ১৫৩}নিজের ইচ্ছে মত চলা এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের নিন্দা করতে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,‘তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেরা যা চায়, তার অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে।’ {সূরা আন-নাজম, আয়াত : ২৩}মীলাদ সম্পর্কে যখন কেউ খোলা মনে, মানুষের প্রভাবমুক্ত হয়ে ভাববেন, পূর্ণ শরীয়তের প্রমাণাদি সামনে রাখবেন, তিনি নিশ্চিত উপলব্ধি করবেন, মীলাদের উদ্দেশ্য ভালো হতে পারে; কিন্তু মীলাদ কোনো ভালো কাজ হতে পারে না। কারণ, মীলাদ বা মিলাদুন্নবীর আবিষ্কার মানেই দীনের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজন করা। তারপর এতে বিভিন্ন মুসলিম দেশে নানা মন্দ বিষয় ও খারাপ অনুষঙ্গ যোগ করা হয়। মীলাদে সহজ যে বিষয়টি অহরহই হয় তা হলো, এতে অংশগ্রহণকারীরা মীলাদের মধ্যে কিয়াম করেন। এর জন্য তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। কেউ এলে যেভাবে দাঁড়ানো হয় ঠিক সেভাবে দাঁড়ান। সেখানে সুগন্ধি ছিটিয়ে গভীর আবেগ আর পরম তৃপ্তি নিয়ে গীতের সুরে গাওয়া হয় :‘স্বাগতম মোর চোখের আলো, স্বাগতম, স্বাগতম,স্বাগতম ওহে হুসেনের নানা, স্বাগতম, স্বাগতম।’আরও যেমন গাওয়া হয় :‘তুমি যে নূরেরও ছবি, তুমি যে নিখিলের রবি।তুমি না এলে দুনিয়ায়, হত না এ ধরার সবি।’ইয়া নবী সালাই মুআলাইকা,ইয়া হাবীব সালাই মুআলাইকা।’অনেক মীলাদে গল্পে ইঙ্গিতকৃত অনেক নিষিদ্ধ বিষয় দৃষ্টিগোচর হয়। কোনোটাতে সরাসরি কুফরি কাজ পর্যন্ত সংঘটিত হয়। যেমন বলেছেন শায়েখ আব্দুর রহমান আকীল, একসময় যার সম্পর্ক ছিল তথাকথিত এই তাসাউফপন্থীদের সঙ্গে।এ জন্যই এসব বিদ‘আত, যাকে অনেকে নগন্য মনে করেন; সমালোচনার যোগ্যও মনে করেন না, তা-ই কিন্তু এক পর্যায়ে গিয়ে অনেকগুলো বিদ‘আতের মোহনায় পরিণত হয়। তখন আর এসব ছাড়া মীলাদই হয় না। মীলাদ তখন রূপ নেয় বিশাল আকাশের, যার মাঝে এসব আবর্তিত হতে থাকে। রূপান্তরিত হয় একটি মৌসুমের যা থেকে এসবের বিস্তার ঘটে। এটাকেই অনেক আলেম বলেন, ‘আল-বিদ‘আতুল মুরাক্কাবা’ বা বিদ‘আত সমষ্টি।মীলাদগুলোতে কী হয় তা জানার জন্য মিশরে অভিবাসী এক বৃটিশ সৈন্য ম্যাকফার্সন প্রণীত ‘মিশরে মীলাদ’ বইটি পড়ে দেখা যেতে পারে। মীলাদ নিয়ে তিনি জোর অনুসন্ধান চালান। অনেক জায়গায় মীলাদ পর্যবেক্ষণ করেন। বইটিতে তিনি যা দেখেছেন তা-ই লিখেছেন। এসব বিবরণের ক্ষেত্রে কোথাও তাকে অতিরঞ্জনের দোষে অভিযুক্ত করা যায় না। তিনি কেবল একজন বিস্মিত দর্শকের ভূমিকায় সরল বিবরণ দিয়ে গেছেন। প্রাচ্যের সমাজগুলোর আচার-অনুষ্ঠানের ওপর বিস্তর গবেষণা রয়েছে তার। মীলাদের পক্ষে-বিপক্ষে কিন্তু তার কিছু বলার নেই। তার ভূমিকা কেবল বিবৃতি ও বিবরণ পর্যন্ত সীমিত। তিনি অনেকগুলো মীলাদ অনুষ্ঠানের বর্ণনা তুলে ধরেছেন, যার সবগুলো জানতে তিনি প্রায় বছরখানেক সময় ব্যয় করেছেন। যুগ যুগ ধরে এমন আচার-অনুষ্ঠান চলে আসছে। সত্যি বলতে কী এসব দেখে শুধু শয়তানই খুশি হয়। এসব আচার দীনের মর্ম মূলে আঘাত হানে। তাওহীদের সুদীপ্ত চেতনা ধ্বংস করে। আল্লাহ আমাদের মীলাদ থেকে হিফাযত করুন।হে জ্ঞান সম্পন্ন লোকেরা, এটি ফিরে আসার এবং নিজেকে শোধরাবার আহ্বান। আপনি অতীতে যা বুঝেছেন, যে সীদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তার বিপরীতে যদি সত্য বা হক দীপ্ত ও উদ্ভাসিত হয়, তবে সে সত্যে ফিরে আসতে আর বিলম্ব করবেন না। মনে রাখবেন, সত্য সনাতন। সত্য চিরন্তন। এবং সত্যই কেবল অনুসরণীয়।ভালোবাসা একটি হৃদয়গত আমল। বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আচার-আচরণ এর নিদর্শন। অমুক দল অন্যদের থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বেশি ভালোবাসে, এটা কোনো দাবীর বিষয় নয়। এমন দাবীও অবান্তর, আমরা যা করি যারা এসব করে না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমিক নয় তারা। কারণ, সাহাবীদের সম্পর্কে যা বলা হবে পরীক্ষা না করে তা-ই সত্য মনে করার দিন গত হয়েছে। তাঁদের সম্পর্কে যা ইচ্ছে তাই বলবে কীভাবে। তাঁরা তো কঠিন ও সহজ- সবই পূর্ণ করে গিয়েছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে দীন প্রতিষ্ঠা করেছেন। আল্লাহর দীন ও তাঁর হাবীবের ভালোবাসায় তাঁরা শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন ছিলেন। এতে আর সংস্কারের কিছু নেই। আছে শুধু অনুসরণ আর অনুকরণ করার। প্রয়োজন শুধু একে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা। ব্যক্তিগতভাবে আহত করা এ লেখার অভিপ্রায় নয়। উদ্দেশ্য কেবল প্রচল উপায়ে এবং দরদ মেশানো কথায় মানুষকে সত্য বুঝানো।ইসলামে গোষ্ঠীপ্রীতি বা গোষ্ঠীবিদ্বেষ এবং ‘ভালো চেহারায় মন্দ ছড়ানোর চেয়ে ক্ষতিকর কিছু নেই’। এর চেয়ে আর কোনো খেলায় শয়তান এত বেশি খুশি হয় না। এ ছাড়া আর কোনো উপায়ে মানুষকে নিয়ে শয়তান এতোটা সফল খেলা খেলে না।প্রকৃতপক্ষে যে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব করে, তেতো হলেও সে সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করে। সবচে’ অপ্রিয় ব্যক্তি বললেও সত্যকে সে মেনে নেয়। তেমনি সে মিথ্যা পরিত্যাগ করে, যদিও তাতে তার স্বার্থ বা মনের টান থাকে। একইভাবে সে মিথ্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপই করে না, যদিও তার বাপ-ভাই বা কাছের কেউ এর পক্ষ নেয়।সাবধান, তারা হয়তো নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন না। আর তারা আপনার সমালোচনা করবে এ শঙ্কায় আপনি তাদের প্রতি দুর্বল হবেন না। এটা তাদের মতো আপনাকেও ভুল পথে নিয়ে যাবে। এরা আপনাকে বাতিলের পক্ষে নিয়ে যাবে। সত্য উদ্ভাসিত হবার পর আর বাতিলের পক্ষ নেবার সুযোগ নেই। অন্যথায় আপনিও তাদের একজন হয়ে যাবেন। আত্মম্ভরী তার গরিমার অন্ধতারের ডুবে থাকে। একেরপর এক সে তার অপরাধ শুধু বাড়িয়েই চলে। বাপ-দাদা থেকে চলে আসছে বলেই তা করতে হবে এমন ভাবার অবকাশ নেই। দেখুন আল্লাহ তা‘আলা কী বলেন,‘আমি কি তাদেরকে কুরআনের পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছি, অতঃপর তারা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে আছে? বরং তারা বলে, ‘আমরা নিশ্চয় আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের উপর পেয়েছি, আর নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে হিদায়াতপ্রাপ্ত হব’। আর এভাবেই তোমাদের পূর্বে যখনই আমি কোন জনপদে সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিলাসপ্রিয়রা বলেছে, ‘নিশ্চয় আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের উপর পেয়েছি এবং নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করব’। তখন সে (সতর্ককারী) বলেছে, ‘তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের যে মতাদর্শে পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট পথে নিয়ে আসি তবুও কি’? (তোমরা তাদের অনুসরণ করবে?) তারা বলেছে, ‘নিশ্চয় তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তার অস্বীকারকারী।’ {সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত : ২১-২৪}আমাদের কাছে অনুসরণীয় কারা তা যেমন আগেই বলে দেওয়া হয়েছে। তেমনি দীনের নামে যে নানা বদদীন চালু হবে তারও ভবিষ্যৎ বাণী করা হয়েছে চৌদ্দশ বছর আগে। ইরবায বিন সারিয়া রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‘আমি তোমাদেরকে আল্লাহর ভয় এবং আনুগত্যের অসিয়ত করছি। যদিও কোনো দাস তোমাদের নেতৃত্ব দেয়। আমার পরবর্তীকালে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অনেক বিভক্তি দেখতে পাবে। তোমরা তখন আমার ও আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশিদার আদর্শ অনুসরণ করবে। একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে। আর তোমরা (দীনের ব্যাপারে) নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে সাবধান থাকবে। কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই (বিদ‘আত) পথভ্রষ্টতা।’ [মুসনাদ আহমদ : ১৭১৮৪; আবূ দাউদ : ৪৬০৯; তিরমিযী : ২৬৭৬; বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৭১১০।]হুযাইফাতুল ইয়ামান রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ‘যে কোনো ইবাদত যেটা রাসূলুল্লাহর সাহাবীরা করেন নি, তোমরা তা করবে না। কেননা অগ্রবর্তীরা (সাহাবীরা) পূর্ববর্তীদের জন্য কোনো কথাই বাদ রাখেন নি।’ [শাতিবী, ই‘তেসাম : ১/৬৮৩]ইবন মাজশূন বলেন, ‘আমি মালেককে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি পুন্য মনে করে ইসলামে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে, সে যেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেসালাতের দায়িত্ব অপূর্ণ রেখেছেন বলে দাবী করল। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম’।[2] সুতরাং সেদিন যা দীনের অংশ ছিল না আজ তা দীনের অংশ হতে পারে না।’ [শাতিবী, ই‘তেসাম : ১/২৩]আয় আল্লাহ, জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা এবং আসমান-যমীনের স্রষ্টা, তোমার বান্দারা যা নিয়ে বিরোধ করত সে বিষয়ে তুমিই ফয়সালা দেবে। বিরোধপূর্ণ বিষয়ে তুমি আমাদের সঠিক পথ দেখাও। যাকে তুমি চাও তাকেই কেবল তুমি সরল পথ দেখাও।– আলী হাসান তৈয়ব—————-1 . মূল হাদীসটি হলো : বারা’ বিন আযেব রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : أَتَدْرُونَ أَيُّ عُرَى الإِيمَانِ أَوْثَقُ ؟ قُلْنَا : الصَّلاَةُ قَالَ : الصَّلاَةُ حَسَنَةٌ وَلَيْسَ بِذَاكَ قُلْنَا : الصِّيَامُ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى ذَكَرْنَا الْجِهَادَ ، فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : « أَوْثَقُ عُرَى الإِيمَانِ الْحَبُّ فِي اللهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ».নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমরা উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি জানো ঈমানের কোন রশিটি বেশি মজবুত? আমরা বললাম, সালাত। তিনি বললেন, সালাত তো একটি নেকীর কাজ, এটা তা নয়। আমরা বললাম, সিয়াম। এবারো তিনি আগের মতই বললেন। এভাবে আমরা জিহাদ পর্যন্ত (ইসলামের সব বড় ইবাদতগুলোর) কথা উল্লেখ করলাম। তিনি একই উত্তর দিলেন। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘ঈমানের মজবুততম রশি হলো, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করা।’ [ইবন আবী শাইবা, মুসান্নাফ : ৩১০৬০; মুসনাদ তিয়ালিসী : ১/১০১; সহী জামে : ৯৩৫২]2 . সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ০৩।

ফজরের আজানের “আসসালাতু খাইরুম মিনান্নাউম”শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল আবদুল ওয়াহাবের। ঘুম থেকে উঠেই স্ত্রীকে সালাতের জন্য উঠতে বলে বিছানা ত্যাগ করল সে। জামাটা গায়ে চড়িয়েই চলে গেল ফজরের সালাতে। ঘর থেকে বেরিয়ে বেড়ার দরজাটা আবার লাগিয়ে দিল। গতকাল ইমাম সাহেব বলেছিলেন, ফজর আর এশার সালাত জামাতের সাথে পড়লে সারা রাত ইবাদাত করার সওয়াব পাওয়া যায়। তাই এই বিশাল নেকি হাত ছাড়া করতে চায় না সে।আবদুল ওয়াহাব পেশায় একজন রিকশাচালক। কিন্তু, তাতে কি, তার মত বড় মনের মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তার বাকি সাথীদের দিকে তাকিয়ে অবাক হয় সে। মানুষগুলোর অভিযোগের শেষ নেই। আজ এই সমস্যা তো কাল ওই সমস্যা। সমস্যার কথা তাদের মুখে লেগেই থাকে। কিন্তু সেদিক থেকে সে নিজেকে হাজার গুণ সুখী মনে করে। তার কথা হল, দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষের জীবনেও সমস্যা আসে। সমস্যা আসবেই। কিন্তু তা নিয়ে এত ব্যস্ত হবার কি আছে? আল্লাহ যে অবস্থায় তাকে রেখেছেন, তার চেয়ে খারাপ অবস্থায়ও তো মানুষ আছে। তার কথা হল, সুখ হল মনের ব্যাপার। সব মানুষেরই কম-বেশি সমস্যা থাকে। কিন্তু যে তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে ও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে, সেই আসলে প্রকৃত সুখ অনুভব করতে পারে।ফজরের পর মসজিদে বসেই কুরআন তিলাওয়াত করে আবদুল ওয়াহাব। সূর্য উঠলে বাড়ী ফিরে আসে আবার। আজও তার ব্যতিক্রম হল না। বাড়ী ফিরেই বউকে খাবার দিতে বলল। খাওয়া শেষে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। সারাদিন অনেক বিচিত্র রকমের মানুষ তার রিকশায় উঠে।এক প্যাসেঞ্জারকে নামিয়ে দিতে দাড়িয়েছে এক বাসার সামনে। সেখানেই রিকশার অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল এক যুবক। ভাড়া আদায় পর্ব চুকাতেই, যুবকটি বলল, মামা যাবেন?-উঠেন।যুবকটি রিকশায় চড়ে বসল। আবদুল ওয়াহাব রিকশা সামনে বাড়াল। যুবকটির দাড়ি দেখে আবদুল ওয়াহাবের খুব ভালো লাগল। আবদুল ওয়াহাবের নিজেরও দাড়ি আছে। তাই দাড়িওয়ালা লোক দেখলেই বুকের মধ্যে কেমন যেন এক অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে তার। কিছু দূর যেতেই যুবকটি প্রশ্ন করল, মামা, নাম কি আপনার?-আবদুল ওয়াহাব।-বাসা কোথায়?-এই তো, পাশের বস্তিতেই থাকি।-অ! গাড়ি কি নিজের না ভাড়া?-নিজের গাড়ি, মামা।-আলহামদুলিল্লাহ্, তাহলে তো ভালোই।-জ্বি, আলহামদুলিল্লাহ্ আল্লাহ অনেক ভালা রাখছে।-তা, মামা, সালাত পড়েন তো?-হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ্ সবগুলাই পড়ি।-আচ্ছা মামা, একটা প্রশ্ন করি?-করেন…-আপনার ডান হাতে ওটা কি? তাবিজ নাকি?-জ্বি মামা। ৭-৮ বছর আগে একবার জ্বিনে ধরছিল। হের পর থেইক্যা এক হুজুর এটা পরতে কইছে।-তাই?-হ। অনেক বড় হুজুর। আমাগো দেশে উনার অনেক নাম। সবাই অনেক সম্মান করে। অনেক দূর থাইকা লোকজন আসে উনার কাছে।-আপনি ৭-৮ বছর ধরে এটা পরেন?-হ। বুঝছেন মামা, হুজুর বিশাল আল্লাহর অলি। সবসময় সুন্নতের উপর থাকে।যুবকটি বিশাল একটা নিশ্বাস ছাড়ল। যেন হতাশা আর ক্ষোভ বেরিয়ে আসছে ভেতর থেকে। নিরবতা ভেঙ্গে আবার কথা শুরু করল…-আচ্ছা, মামা, আপনাকে একটা প্রশ্ন করি?-বলেন মামা।-মামা, আল্লাহর নবী ﷺ কি তাবিজ ব্যবহার করতেন?আবদুল ওয়াহাব পেছনে ফিরে একবার যুবকের দিকে তাকালো। চোখমুখ ভরা বিস্ময় তার। তারপর সামনের দিকে ফিরে বলতে শুরু করল,-আমি কি আর আলেম, মামা? হুজুররা যেহেতু দেয়, তাহলে মনে হয় পরত।-হুম! মামা, আল্লাহর রসুল যাই করতেন, হুজুররা কি তাই করে?-তাই তো হবার কথা, মামা।-আচ্ছা, মামা, কোন সাহাবীরা কি তাবিজ ঝুলাতো?-(কিছুটা বিরক্ত মনে হল আবদুল ওয়াহাবকে) এত কথা আমারে না জিগাইয়া হুজুরগো জিগান। আমি কি আলেম নাকি?-মামা, রাগ করলেন নাকি?-না মামা, রাগ করার কি আছে? আমি তো আর আলেম না, মামা। আমারে এগুলা জিগাইয়া কি হইব?-মামা, আপনি কি জানেন, আল্লাহর নবী ﷺ এর আচরণ তাবিজের ব্যাপারে কেমন ছিল?-বলেন মামা, আমি কিছুই জানি না।-আল্লাহর নবী এগুলোকে শিরক বলেছেন।-এইডা কি কইলেন মামা? সত্যি?!-রসুলুল্লাহ সঃ বলেন, ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻖَ ﺗَﻤِﻴﻤَﺔً ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺷْﺮَﻙَ -“যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো সে শির্ক করল”।-কই পাইলেন এটা?-হাদীসে আছে। মুসনাদে আহমাদ ৪/১৫৬!-কন কি মামা???-আরও শুনবেন?-বলেন।– ﻖﻠﻋ ﻦﻣ ﺎﺌﻴﺷ ﻞﻛﻭ ﻪﻴﻟﺇ -যে ব্যক্তি কোন জিনিষ লটকাবে, তাকে ঐ জিনিষের দিকেই সোপর্দ করে দেয়া হবে।— আর এটা আছে সহীহুত্ তিরমিযী হাদিস নং- ২০৭২তে-তাহলে, এত বড় বড় হুজুররা যে দেয়? তারা কি এসব জানেনা?-মামা, আল্লাহই ভালো জানেন, তারা কি এই কথাগুলো জেনে এমন কাজ করছে নাকি না জেনেই করছে।-কিন্তু, আপনি শার্ট-পেন্ট পরা যুবক বয়সী পোলাপান, আর কই বড় হুজুর। আমি আপনের কথা কেন মানুম?-আমি তো মামা, আমার কথা বলছি না। আমি রসুল ﷺ এর কথা আপনাকে দেখিয়ে বলছি।-হুম! তাও ঠিক বলছেন মামা। কিন্তু আমরা আমরাই যদি এমনে এমনে করে ইসলাম বুঝতে শুরু করি, তা হইলে তো ঝামেলা বাইধা যাইব। সবাই দুই কলম পইড়া নিজেরটা নিয়ে লাফালাফি শুরু করব। তখন তো আরও বিপদ।-এটা মামা খুব দামি কথা বলছেন। আমরা সবাই আলেম হতে পারব না। কিন্তু সবার একটা নির্দিষ্ট পরিমান জ্ঞান থাকা আবশ্যক। অন্তত শিরক-তাওহীদ তো বুঝতে হবেই।-তা ঠিক আছে। কিন্তু, তাই বলে এত বড় বড় হুজুর কিনা এই হাদিসই জানবে না, তা কেমনে হয়। তার কাছে যে প্রতিদিন এত মানুষ আসে, তাহলে কি তারাও জানে না?-হয়ত জানে না।-কিন্তু মামা, এমনও কি হওয়া সম্ভব? একত্রে এতগুলান মানুষ শিরক কইরা যাইব আর কেউ একবার খুইজাও দেখব না কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল?-মামা, আপনি দেখেছিলেন?-না।-হয়ত আপনার মত বাকিরাও।-কিন্তু তাই বলে এতজন?-সুরা ইউসুফে ১০৬ নং আয়াতে আল্লাহ যা বলেছেন শুনলে তো গায়ের লোম দাঁড়ায় যাবে মামা।-কি বলছেন আল্লাহ?-আল্লাহ বলেছেন, “তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে”। (সূরা ইউসুফঃ ১০৬)-হায় হায়, কন কি মামা।-সত্যিই বলছি মামা।-তাহলে এহন কি করমু?-এটা ফেলে দিতে হবে মামা।-না ফালাইলে হয়না মামা?-একবার চিন্তা করুন তো মামা, যদি আল্লাহ এই অবস্থাতেই আপনাকে মৃত্যু দান করেন, এবং আপনি এই তাবিজ পরা অবস্থায় আছেন। আপনি শিরকের উপর মারা যাবেন কিনা?কথাটা শোনার সাথে সাথেই আবদুল ওয়াহাবের মুখের রঙই পরিবর্তন হয়ে গেল।-ঠিকই তো কইছেন মামা, এমন কইরা তো চিন্তা করি নাই। হের পরও কিছু “কিন্তু” আছে মামা।-বলেন শুনি, কি কিন্তু।-আপনার জানা কোন আলেম কি এই তাবিজকে শিরক বলছেন? আমার সাথে কি তার কথা বলাইয়া দিতে পারবেন? আমি তাহলে কোন আলেমের কাছ থেকে শুনলাম এবার তার কাছ থেকে দলিলও নিয়ে জানলাম?-হ্যাঁ, সম্ভব। আমি এখন যেখানে যাচ্ছি তা একটা ইসলামিক বইয়ের দোকান। দোকানটার মালিক একজন আলেম। আমরা তার কাছে জিজ্ঞেস করতে পারি।-ঠিক আছে তা হইলে।অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পৌঁছে গেল গন্তব্যে। যুবকটি এসেছিল কিছু ইসলামিক বই কেনার জন্য। সে এখানে প্রায়ই আসে। সেই সুবাদে আলেমের সাথে তার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তার সাথে দেখা যেন হয়, সেই জন্যই সে সেই সময়গুলোতে আসে যখন তিনি দোকানে থাকবেন।দোকানে প্রবেশ করার সাথে সাথেই যুবকটিকে দেখে মুচকি হেসে প্রথমেই সালাম দিলেন আলেম। আবদুল ওয়াহাব ও রিকশায় তালা লাগিয়ে ভেতরে এসে গেল। যুবকটি আলেমকে সব খুলে বলতেই আলেম একের পর এক দলিলসহ বুঝিয়ে দিলেন আবদুল ওয়াহাবকে কেন তাবিজ নিষিদ্ধ। আবদুল ওয়াহাব আলেমের কোথায় সন্তুষ্ট হল ও তাবিজটি খুলে ফেলতে সিদ্ধান্ত নিল। তাবিজটি খুলে ফেলে আবদুল ওয়াহাব আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করল। হাত তুলে আল্লাহর কাছে নিজের জন্য, যুবক ও আলেমের জন্য দুয়া করল। তাকে শিরক থেকে ফেরানোর জন্য তাদের শুকরিয়া জানালো। এরপর আবার রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল রাজপথে।আবদুল ওয়াহাবের অন্তর জুড়ে একটা কথাই বার বার তাকে নাড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে, সুরা ইউসুফের সেই আয়াত, “তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।” কিন্তু শিরক করলে কি পেছনের সওয়াব বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা না? তাহলে শিরক করছে এমন ব্যক্তির কি আদৌ কোন নেকী বাকি থাকছে? শিরক আর তাওহীদ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার কারনেই বুঝি অধিকাংশ মানুষের শ্রম পণ্ডশ্রমে পরিণত হয়ে যাচ্ছে?রিকশার চাকা ঘুরতে থাকে। কৃতজ্ঞতায় আব্দুল ওয়াহাবের চোখের কোণে জমা পানি দেখে না কেউ।

সুইডেনে হিজাব পরে হিজাববিরোধী আইনেরপ্রতিবাদ করেছেন সে দেশের ছয়জন অমুসলিম শিক্ষিকা। দক্ষিণ সুইডেনের স্কুরুপ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ একটি স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করার পর তাঁরা এই প্রতিক্রিয়া দেখান। তাঁরা বলেন, ‘মুসলিম শিক্ষার্থীদের প্রতি সমবেদনা জানাতেই তাঁরা হিজাব ব্যবহার করেছেন।’ ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘সুইডেন ডেমোক্রেটের’ প্রস্তাব অনুযায়ী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।হিজাববিরোধী আইনের প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিগুলো। মুসলিম সংগঠন ‘মালমোস ইয়ং মুসলিম’ স্কুরুপ টাউন হলের বাইরে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। যাতে কয়েক শ প্রতিবাদকারী অংশ নেয়। সংগঠনের প্রধান তাসনিম রউফ নিষেধাজ্ঞাকে বর্ণবাদী আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এর মাধ্যমে মুসলিম নারীদের পোশাকের নির্বাচন ও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে।’প্রস্টামোসেসকোলনের প্রধান শিক্ষক মাতিয়াস লিডহোম বলেন, ‘তিনি পৌরসভার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকার করছেন। আমি বা আমার সহকর্মীরা কেউ এটি প্রয়োগ করব না। আর উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব পৌরসভার।’সুইডিশ জাতীয় শিক্ষা সংস্থার আইনজীবী আন্ড্রেয়াস লিন্ডহাম ‘হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ’ ধর্মের স্বাধীনতাবিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশনের পরিপন্থী বলে মত দিয়েছেন। আর সুইডেন ডেমোক্রেটের নেতা লার্স নাইস্ট্রাম বলেছেন, ‘ছেলে-মেয়েরা মুখ ও চুল গোপন করার জন্য কোন পোশাক পরবে তা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়।’পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, বিগত কয়েক দশকে সুইডেনে মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে। ১৯৫০ সালে দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০০। যা বর্তমানে আট লাখে উন্নীত হয়েছে। সুইডেনের জনসংখ্যার ৮.১ শতাংশ মুসলিম।সূত্র : স্পুটনিক নিউজ ডটকম
প্রাত্যহিক আয়োজন
আরও দেখুন →
প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো সময়ের ধারায় ইতিহাসে স্থান করে নেয়। ভালো-মন্দ, সাফল্য-ব্যর্থতা, মানবসভ্যতার আশীর্বাদ ও অভিশাপ—সবকিছুরই সাক্ষী এই ইতিহাস। নানা প্রয়োজনে মানুষ ফিরে তাকায় সেই দিনগুলোর দিকে।আজ মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি।ঘটনাবলি১৭৬৩ — ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন ও স্পেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সাত বছরের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।১৯৭২ — বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় জাপান।১৯৭৪ — স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।১৯৭৯ — ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর নেতৃত্বে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়; আড়াই হাজার বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।১৯৯৬ — আইবিএমের সুপার কম্পিউটার ‘ডীপ ব্লু’ প্রথমবারের মতো দাবায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভকে পরাজিত করে।২০১২ — সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহরুন রুনি নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন।জন্ম১৮৪৭ — নবীনচন্দ্র সেন, বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি।১৮৮৭ — শ্যামমোহিনী দেবী, নিখিল ভারত নারীশিক্ষা পরিষদের প্রতিষ্ঠাত্রী।১৮৯০ — বরিস পাস্তেরনাক, রুশ লেখক ও সাহিত্যে নোবেলজয়ী।১৮৯৪ — হ্যারল্ড ম্যাকমিলান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৭–১৯৬৩)।১৮৯৭ — জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস, নোবেলজয়ী মার্কিন ভাইরাসবিদ।১৮৯৮ — বের্টল্ট ব্রেখট, জার্মান নাট্যকার।১৯০২ — ওয়াল্টার হাউজার ব্র্যাটেইন, নোবেলজয়ী চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।১৯০৩ — পি কে রোজি, মালয়ালম সিনেমার প্রথম অভিনেত্রী।১৯১০ — ডমিনিকুয়ে পিঁড়ে, নোবেলজয়ী বেলজিয়ান খ্রিষ্টান ভিক্ষু।১৯৩৮ — আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী।১৯৪১ — মাইকেল আপ্টেড, ইংরেজ চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক।১৯৪২ — মাধবী মুখোপাধ্যায়, ভারতের বাঙালি অভিনেত্রী।১৯৫০ — মার্ক স্পিটজ, কিংবদন্তি মার্কিন সাঁতারু।১৯৬২ — আতহার আলী খান, সাবেক বাংলাদেশি ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার।১৯৬৭ — লরা ডার্ন, মার্কিন অভিনেত্রী, পরিচালক ও প্রযোজক।১৯৭২ — মাইকেল স্কট কাসপ্রোভিচ, সাবেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।১৯৮৬ — ইয়ুই ইচিকাওয়া, জাপানি অভিনেত্রী ও মডেল।১৯৮৬ — রাদামেল ফ্যালকাও গার্সিয়া জারাতে, কলম্বিয়ান ফুটবল তারকা।মৃত্যু১৭৫৫ — মন্টেসকুইয়ু, ফরাসি দার্শনিক ও আইনজ্ঞ।১৮৩৭ — আলেকজান্ডার পুশকিন, রুশ কবি ও সাহিত্যিক।১৮৯১ — সোফিয়া কভালেভস্কায়া, রুশ-সুইডিশ গণিতবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী।১৯১২ — জোসেফ লিস্টার, আধুনিক শল্যচিকিৎসার জনক।১৯১৮ — উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ।১৯২৩ — উইলহেল্ম কনরাড রন্টজেন, জার্মান পদার্থবিদ।১৯৩০ — অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, বাঙালি ইতিহাসবিদ।১৯৬৮ — মনীন্দ্রভূষণ গুপ্ত, বাঙালি চিত্রশিল্পী।১৯৭৪ — পাহাড়ি সান্যাল, বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা।২০০৫ — আর্থার মিলার, মার্কিন নাট্যকার ও লেখক।২০১৪ — শার্লি টেম্পল, মার্কিন অভিনেত্রী ও কূটনীতিক।২০১৬ — অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়, বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক।২০২১ — তুহিনকান্তি ঘোষ, বাঙালি সাংবাদিক।আজকের দিবসবিশ্ব ডাল দিবসআন্তর্জাতিক আরব চিতাবাঘ দিবস
খেলাধুলার খবর
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
অন্যরকম খবর
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
দেশ-বিদেশের খবর
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
দৈনন্দিন জীবন
আরও দেখুন →
নো মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেই আমার স্কিনে ইরিটেশন, একনে দেখা দেয়”- এরকম সমস্যা কিন্তু আমরা অনেকের কাছ থেকেই শুনে থাকি। যদি আপনার স্কিন কন্ডিশন সেনসিটিভ হয়ে থাকে, তাহলে আপনি এই সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। অনেকেই মনে করেন সেনসিটিভ স্কিনে মেকআপ করাই যাবে না! আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। আমরা কিছু ইজি ও সিম্পল টিপস ফলো করার মাধ্যমে সেনসিটিভ স্কিনকে ইরিটেট না করেই পারফেক্ট মেকআপ লুক পেতে পারি। আজকের ফিচারে থাকছে এ সম্পর্কে বিস্তারিত।কীভাবে বুঝবেন আপনার স্কিন সেনসিটিভ?প্রথমেই সেনসিটিভ স্কিন কী, সেটা নিয়ে আমাদের জানতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন ধরনের মেকআপ বা স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টস ব্যবহার করে থাকি। সেনসিটিভ স্কিন হলো একটি স্কিন কনসার্ন যার কারণে বিভিন্ন বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহারের ফলে স্কিনে বিভিন্ন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যেমন: লালচে ভাব, ব্রণ, র্যাশ, অ্যালার্জি অথবা ইচিনেস দেখা দেয়। এছাড়াও ধুলাবালি, কড়া রোদ ইত্যাদির সংস্পর্শে আসলেও সেনসিটিভ স্কিনে একই প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে।এখন প্রশ্ন হলো স্কিন কেন সেনসিটিভ হয়ে যায়? ড্যামেজড স্কিন ব্যারিয়ার, ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করা, অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন, পল্যুশন, ওয়েদার, হরমোনাল ইমব্যালেন্স ইত্যাদির কারণে আমাদের স্কিন সেনসিটিভ হয়ে যেতে পারে। যার ফলে মেকআপ বা স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারে স্কিন রিয়্যাক্ট করে।সেনসিটিভ স্কিনে মেকআপ ও কিছু ইফেক্টিভ টিপসসেনসিটিভ হলে অল্পতেই স্কিনে ইরিটেশন তৈরি হয়। আমরা যদি কিছু ছোট ছোট টিপস ফলো করে মেকআপ করি, তাহলেই কিন্তু খুব ইজিলি আমাদের পছন্দের মেকআপ লুক পেতে পারি। তাহলে চলুন জেনে নেই কিছু মেকআপ টিপস যা আমাদের সেনসিটিভ স্কিনের জন্য কার্যকরী ফলাফল দিতে পারে।সঠিক মেকআপ প্রোডাক্ট সিলেকশনসঠিক ফর্মুলার মেকআপ প্রোডাক্ট সিলেকশন সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ভুল প্রোডাক্ট সিলেকশন সেনসিটিভ স্কিনে নানারকম কমপ্লিকেশন সৃষ্টির পাশাপাশি ড্যামেজের কারণ হতে পারে। সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে অবশ্যই অ্যালকোহল ও ফ্রেগ্রেন্স ফ্রি মেকআপ প্রোডাক্ট সিলেক্ট করতে হবে। কেননা এই উপাদানগুলো সাধারণত স্কিনের সেনসিটিভিটিকে ট্রিগার করে। খেয়াল রাখতে হবে এই প্রোডাক্টগুলো যেন অবশ্যই নন কমেডোজেনিক হয়।নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্টসেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহারে রিঅ্যাকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই যেকোনো নতুন প্রোডাক্ট ফেইসে ব্যবহারের পূর্বে আমাদেরকে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে। এর জন্য কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে আমাদের কানের পেছনের অংশে অ্যাপ্লাই করে রাখতে হবে কিছুটা সময়। যদি ব্যবহারের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কোনোরকম রিঅ্যাকশন দেখা না দেয়, তাহলে বুঝে নিতে হবে প্রোডাক্টটি স্কিনের জন্য নিরাপদ।জেন্টল ক্লেনজার ব্যবহারমেকআপ করার আগে স্কিন সঠিকভাবে ক্লিন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে স্কিন প্রোপারলি ক্লিন না করে মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে দেখা দিতে পারে ইরিটেশন। পি এইচ ব্যালেন্সড সোপ ফ্রি ক্লেনজার বেছে নিতে হবে।ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাইস্কিন প্রোপারলি ক্লিন করে নেওয়ার পরেই কিন্ত আপনার স্কিন মেকআপ অ্যাপ্লাই করার জন্য রেডি হয়নি! মেকআপ এর আগে স্কিনকে প্রোপারলি ময়েশ্চারাইজড করে নিতে হবে। সেরামাইড যুক্ত ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে নিতে পারেন। আপনার স্কিন যদি ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজড থাকে তাহলে একটি স্মুথ মেকআপ বেইজ তো পাবেনই, পাশাপাশি স্কিনে সম্ভাব্য ইরিটেশনের রিস্কও কিন্তু কমে যায়!সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাইসেনসিটিভ স্কিনের ব্যারিয়ার সাধারণত কিছুটা দুর্বল হয়ে থাকে। তাই সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের আরো ক্ষতি করতে পারে। ডে টাইমে মেকআপের আগে সানস্ক্রিন কিন্তু স্কিপ করা যাবে না। সেনসিটিভ স্কিনের জন্য মিনারেল সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।মেকআপ টুলস রেগুলার ক্লিন করাযদি আমরা মেকআপ টুলগুলোর ক্ষেত্রে প্রোপার হাইজিন এনশিওর না করতে পারি, তাহলে কিন্তু আমরা স্কিনকে প্রোটেক্ট করতে পারবো না। সেনসিটিভ স্কিনে মেকআপ প্রোডাক্ট অ্যাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে মেকআপ টুলস প্রোপারলি ক্লিন আছে কিনা তা দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কেননা সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে নোংরা মেকআপ ব্রাশ বা বিউটি ব্লেন্ডার থেকে হতে পারে ব্যাকটেরিয়াল কন্টামিনেশন, যা স্কিনকে ইরিটেট করতে পারে। তাই অবশ্যই ডেইলি বেসিসে আমাদের মেকআপ টুলস ক্লিন করতে হবে এবং সেগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।প্রোপারলি মেকআপ রিমুভ করামেকআপ যেভাবে আমাদের ন্যাচারাল ফেইস ফিচারস এনহ্যান্স করে, ঠিক সেভাবেই মেকআপ থেকে কিন্তু আমাদের স্কিন ড্যামেজও হতে পারে, যদি আমরা প্রোপারলি মেকআপ রিমুভ না করি। স্কিনকে হেলদি রাখতে অবশ্যই স্কিন থেকে মেকআপ সঠিকভাবে রিমুভ করা জরুরি। বিশেষ করে সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় মেকআপ নিয়ে থাকার পর যদি ঠিকমতো মেকআপ রিমুভ করা না হয়, তাহলে স্কিনে ব্রেকআউট দেখা দিতে পারে সহজেই। তাই সেনসিটিভ স্কিনে মেকআপ অ্যাপ্লাই করলে তা অবশ্যই সঠিকভাবে রিমুভ করতে হবে। এক্ষেত্রে ডাবল ক্লেনজিং কিন্তু মাস্ট! প্রথম ধাপে নিজের পছন্দের অয়েল ক্লেনজার বা মাইসেলার ওয়াটার বা ক্লেনজিং বাম বেছে নিতে পারেন। তারপর রেগুলার ওয়াটার বেইজড ক্লেনজার দিয়ে ফেইস ভালোভাবে ক্লিন করে নিন। সেনসিটিভ স্কিনের জন্য স্পেশালি ফর্মুলেটেড প্রোডাক্ট রেঞ্জ এখন অ্যাভেলেইবল, সেগুলো চুজ করতে পারেন।

আমরা যারা সবেমাত্র মেকআপ নিয়ে জানছি, প্রায়ই আমাদের প্রশ্ন থাকে “প্রাইমার ব্যবহার করা কি জরুরি?” অথবা “প্রাইমার কেন ব্যবহার করবো?” প্রাইমার মেকআপ প্রোডাক্টসের মধ্যে অন্যতম একটি প্রোডাক্ট, যা আমাদেরকে ফ্ললেস মেকআপ লুক ক্রিয়েট করতে সাহায্য করে। যদি আপনার মেকআপ রুটিনে প্রাইমার অনুপস্থিত থেকে থাকে, তাহলে মনের মতো মেকআপ লুক পাওয়া একটু কঠিনই বটে। আজকের ফিচারে এমন কিছু প্রাইমার হ্যাকস সম্পর্কে ধারণা দিবো যা আপনাকে মেকআপ গেইমকেই চেঞ্জ করে দিবে।প্রাইমার ব্যবহারের সুবিধাপ্রাইমার হলো একটি মেকআপ প্রোডাক্ট যা সাধারণত স্কিন কেয়ারের পরে এবং ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে অ্যাপ্লাই করা হয়ে থাকে। প্রাইমার মূলত আমাদের স্কিন ও মেকআপের মধ্যকার ব্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে এবং স্কিনের ইমপারফেকশনস, যেমন, পোরস অথবা একনে ব্লার করার মাধ্যমে স্কিনে স্মুথ টেক্সচার দেয়। প্রাইমার ইউজ করার মূল বেনিফিটগুলো হলো-স্কিন প্রোটেকশনপ্রাইমার স্কিন ও মেকআপের মধ্যকার প্রোটেকটিভ লেয়ার হিসেবে কাজ করে এবং স্কিনকে মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহারের ফলে সম্ভাব্য ইরিটেশন অথবা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।পারফেক্ট মেকআপ বেইজপ্রাইমার ব্যবহারের ফলে স্কিনের অতিরিক্ত অয়েল ও সেবাম অ্যাবজর্ব হয়ে যায়, যা আমাদেরকে পারফেক্ট মেকআপ বেইজ তৈরিতে সাহায্য করে।স্মুথ ফিনিশিংপ্রাইমার আমাদের স্কিনের পোরস এবং একনের মতো ইমপারফেকশনস ব্লার করার মাধ্যমে স্কিনের টেক্সচার ভিজিবলি ইমপ্রুভ করে। এতে করে মেকআপ প্রোডাক্ট স্কিনে সহজেই ব্লেন্ড হয়ে যায় এবং স্মুথ ফিনিশিং দেয়।দারুণ কিছু প্রাইমার হ্যাকসপ্রাইমার যে একটি মাল্টিপারপাস প্রোডাক্ট তা বেশিরভাগই কিন্তু জানেন না। বেইজ মেকআপ লং-লাস্টিং করা ছাড়াও প্রাইমার মেকআপের আরো অনেক কাজে ব্যবহার করা যায়। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক অ্যামেজিং সেই প্রাইমার হ্যাকস গুলো-DIY বিবি ক্রিমযদি ঘরে বসে নিজে নিজে বিবি ক্রিম বানিয়ে ফেলা যায়, তাহলে কেমন হয় বলুন তো? এর জন্য আপনার মাত্র তিনটি উপকরণ প্রয়োজন, ময়েশ্চারাইজার, প্রাইমার ও ফাউন্ডেশন। ময়েশ্চারাইজার, প্রাইমার আর কিছুটা ফাউন্ডেশন একসাথে মিক্স করে নিলেই রেডি হয়ে যাবে DIY বিবি ক্রিম, যা আপনাকে দিবে এভ্রিডে ফ্রেন্ডলি একটা ন্যাচারাল লুক। যাদের কাছে ফাউন্ডেশনের কভারেজ হেভি মনে হয়, তারা প্রতিদিন ইউজের জন্য এই বিবি ক্রিমটি ব্যবহার করতে পারেন।আইশ্যাডো বেইজঅনেকেই বলেন তাদের চোখে আইশ্যাডো অ্যাপ্লাই করলে কিছুক্ষণ পরেই নাকি ক্রিজ করে। আইলিডে প্রাইমার ব্যবহার করলে ক্রিজিংয়ের কোনো চান্সই থাকে না। প্রাইমার আইশ্যাডো বেইজ হিসেবে কাজ করে, যা স্মুথ সারফেস ক্রিয়েট করে মেকআপ অ্যাপ্ললিকেশনের জন্য। এতে করে আইশ্যাডো ক্রিজ করেনা এবং দীর্ঘসময় পর্যন্ত আই মেকআপ স্ম্যাজপ্রুফ থাকে।আইব্রো গ্রুমিংনিট লুক পেতে গেলে আপনার আইব্রো ভালোভাবে সেট করা খুবই জরুরি। হাতের কাছে আইব্রো জেল না থাকলে একটি স্পুলিতে সামান্য প্রাইমার লাগিয়ে আপনার আইব্রোতে ব্রাশ করে নিন, দেখবেন খুব সহজে সেট হয়ে যাবে আপনার আইব্রো।আইল্যাশের লেন্থ বৃদ্ধিআমরা মেয়েরা সাধারণত আইল্যাশ নিয়ে অনেক স্ট্রাগল করি। কখনো কখনো মাশকারা ব্যাবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ল্যাশ লেন্থ পাইনা। এক্ষেত্রেও কিন্তু প্রাইমার দারুণভাবে হেল্প করতে পারে। মাশকারা ব্যবহারের পূর্বে একটি ক্লিন স্পুলি দিয়ে আইল্যাশে প্রাইমার অ্যাপ্লাই করে নিন। তারপরে মাশকারা অ্যাপ্লাই করে দেখুন ম্যাজিক! প্রাইমার অ্যাপ্লাই করার কারণে আপনার ল্যাশ ইনস্ট্যান্টলি বেশ বড় ও ঘন দেখাবে।শুকিয়ে যাওয়া জেল লাইনারের রিইউজআমার পার্সোনালি আইলাইনারের ক্ষেত্রে শার্প ও চিকন উইং বেশ পছন্দ। আর এক্ষেত্রে জেল আইলাইনারের জুড়ি মেলা ভার। তবে জেল লাইনারের তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে অনেক সময় প্রোডাক্ট নষ্ট হয়ে যায়। আমি এই সমস্যার সমাধান হিসেবে অল্প পরিমাণ প্রাইমার জেল লাইনারের সাথে মিক্স করে নেই। সাথে সাথেই আমার শুকিয়ে যাওয়া জেল লাইনার পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যায়!হাইলাইটার বেইজপাউডার হাইলাইটার ব্যবহারের আগে অল্প একটু প্রাইমার অ্যাপ্লাই করলে স্কিনে হাইলাইটার অ্যাপ্লিকেশন অনেক সুন্দর ও ন্যাচারাল দেখায়।স্ম্যাজপ্রুফ লিপ মেকআপলিপস্টিক ছড়িয়ে যাওয়া আমাদের একটি কমন সমস্যা। পারফেক্ট স্ম্যাজপ্রুফ লিপ মেকআপের জন্যও কিন্তু প্রাইমার খুব কার্যকরী! একটি কনসিলার ব্রাশের সাহায্যে কিছুটা লিপ প্রাইমার ঠোঁটে অ্যাপ্লাই করে নিন। তারপর লিপলাইনার ও লিপস্টিক অ্যাপ্লাই করুন। এতে করে লিপস্টিক ছড়িয়ে যাওয়ার চান্স অনেক কমে যায়।হেয়ার স্প্রের বিকল্পএকটি সুন্দর হেয়ার স্টাইল করার পরে দেখলেন বেবি হেয়ারের জন্য লুকটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আর এই বেবি হেয়ার তো হেয়ার স্প্রে ছাড়া সেট করা সম্ভব নয়। কিন্তু হাতের কাছে তো হেয়ার স্প্রে নেই! চিন্তার কোনো প্রয়োজন নেই, আপনার ফিংগারের সাহায্যে সামান্য প্রাইমার দিয়ে বেবি হেয়ারগুলোকে সেট করে নিন।আশা করি এই প্রাইমার হ্যাকসগুলো আপনার ডেইলি মেকআপ এক্সপেরিয়েন্স এনহ্যান্স করবে। যেকোনো প্রোডাক্ট ইউজ করার ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন অথেনটিক প্রোডাক্ট চুজ করার। যেকোনো প্রোডাক্ট ইউজ করার ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন অথেনটিক প্রোডাক্ট চুজ করার। অথেনটিক মেকআপ, স্কিনকেয়ার ও হেয়ারকেয়ার প্রোডাক্টসের জন্য আমি সবসময়ই সাজগোজ এর উপর ভরসা রাখি। আপনারাও ভিজিট করুন সাজগোজের ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা ফিজিক্যাল স্টোরে। সাজগোজের বেশ কয়েকটি ফিজিক্যাল শপ রয়েছে। এ শপগুলো যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, ইস্টার্ন মল্লিকা, ওয়ারীর র্যাংকিন স্ট্রিট, বসুন্ধরা সিটি, উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে), মিরপুরের কিংশুক টাওয়ারে ও চট্টগ্রামের খুলশি টাউন সেন্টারে অবস্থিত। এই শপগুলোর পাশাপাশি চাইলে অনলাইনে শপ.সাজগোজ.কম থেকেও কিনতে পারেন আপনার দরকারি বা পছন্দের সব প্রোডাক্টস।
টিপস এবং ট্রিক
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
রিভিউ সমগ্র
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
গল্প সমগ্র
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
কবিতা সমগ্র
আরও দেখুন →
আমার স্বপ্নকে কারা রাত্রিদিন এমন পাহারা দিয়ে ফেরেমনে হচ্ছে এই একগুচ্ছ স্বপ্নকে নিয়ে তারা অধিক চিন্তিতশলা-পরামর্শে ব্যস্ত, গেরিলারও চেয়ে বেশি ভীতআমার স্বপ্নকে নিয়ে তারা;মাইনেরও চেয়ে বেশি ক্ষতিকর একগুচ্ছ সোনালি স্বপ্নের ডালপালাতাই তারা সর্বদা শঙ্কিত এই বক্ষলগ্ন স্বর্ণচাঁপাগুলিকে নিয়েই।তারাও কি জানে এই স্বপ্নগুচ্ছ হয়তো একদা নকশীকাঁথার মতোদেশজুড়ে আঁকবে একটি নাম, তৃণগুল্ম ধীরে ধীরে হবে সেইস্বপ্নের আহারমেঘে মেঘে নবীন মল্লার বুনে দিয়ে আসবে গোপনেনক্ষত্রপুঞ্জের খোলা বিশাল তোরণ অনায়াসে করবে রচনা,আমার স্বপ্নকে তাই রাত্রিদিন এমন করছে কেউ তাড়ামাঝে মাঝে হঠাৎ চড়াও হয়ে করছে প্রবল আক্রমণআমার স্বপ্নকে নিয়ে মনে হয় ওরা আজ সর্বাধিক ভীত।ওরাও কি জানে এই স্বপ্নের ভিতর রাবণের মৃত্যুবরণ লুক্কায়িতআছেএই শাদামাঠা স্বপ্নের ভিতরে জ্যোতিমৃয় ভবিষ্যৎআছে মুখ গুঁজেকি রঙমহল, মিনার, গম্বুজ, পাথরের প্রাণবন্ত পাখিপ্রজ্বলিত প্রকোষ্ঠে কোথাও দাউ দাউ দরুণ আগুনএই স্বপ্নের ভিতরে কী যে রৌদ্রকরোজ্জ্বল সবুজাভ দিনআর কি জেনেছে তাও? তাই আমার স্বপ্নের পিছেলেলিয়ে দিয়েছে এতো সশস্ত্র প্রহরীবুটের আওয়াজ ঘন ঘন কানে এলে যাতে এইস্বপ্ন অন্তর্হিত হয়;কিন্তু ওরা তো জানে না এই স্বপ্নকে আমি কতোদিনশত্রু ছাউনির পাশে রেখেকতোদিন সশব্দ কামানের মুখে ফেলেকতোদিন যুদ্ধের মহড়া দিয়ে তাকে করেছি প্রস্তত এতোখানি।আমার স্বপ্ন তো আজ নিজেই সইতে পারেসব শোকাবহ ঘটনার বেগ, বিদ্যুৎ কি অগ্নির ছোবলআমার স্বপ্নের মধ্যে কখন ঢুকেছে এইবিশাল বেদনাতাই তাকে দিয়েছে ব্যঞ্জনা সেই একটি নামের স্বপ্নেরও অধিক সেই স্বপ্নভেদী নাম, স্বপ্ন ভেদ করে আমার হৃদয়ও ভেদ করে সেই মৌন মগ্ন এপিটাফ!

কতোদিন কোথাও ফোটে না ফুল, দেখি শুধুঅস্ত্রের উল্লাসদেখি মার্চপাস্ট, লেফট রাইট, কুচকাওয়াজ ;স্বর্ণচাঁপার বদলে দেখি মাথা উঁচু করে আছে হেলমেটফুলের কুঁড়ির কোনো চিহ্ন নেই, গাছের আড়ালে থেকেউঁকি দেয় চকচকে নল,যেখানে ফুটতো ঠিক জুঁই, বেলি, রঙিন গোলাপএখন সেখানে দেখি শোভা পাচ্ছে বারুদ ও বুলেট ;প্রকৃতই ফুলের দুর্ভিক্ষে আজ বিরান এদেশকোথাও সামান্য কোনো সবুজ অঞ্চল নেই, খাদ্য নেই,শুধু কংক্রিট, পাথর আর ভয়ল আগুনএখানে কারফিউ-ঘেরা রাতে নিষিদ্ধ পূর্ণিমা ;আজ গানের বদলে মুহুর্মুহু মেশিনগানের শব্দ-সারাক্ষণ বিউগল, সাইরেন আর বিকট হুইসিলবুঝি কোথাও ফুলের কোনো অস্তিত্বই নেই।ফুলের শরীর ভেদ করে জিরাফের মতো আজঅস্ত্রই বাগয়েছে গ্রীবাপাতার প্রতীক তাই ভুলে গেছি দেখে দেখে অস্ত্রের মডেল!খেলনার দোকানগুলিতে একটিও গিটার, পুতুল কিংবাফুল পাখি নেইশিশুদের জন্য শো-কেসে সাজানো শুধু অস্ত্রের সঞ্চারবাইরেবাতাস শ্বাসদুদ্ধকর, রাজপথে সারি সারি বুট,সব কিছু চেয়ে আছে অস্ত্রেরই বিশাল ডালপালা ;কোথাও ফোটে না ফূল, কোথাও শুনি না আরহৃদয়ের ভাষা,কেবল তাকিয়ে দেখি মার্চপাস্ট, কুচকাওয়াজ, লেফট রাইটএই রক্তাক্ত মাটিতে আর ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস।

হারানো স্মৃতি -এসপিএস শুভপ্রেমের স্নিগ্ধ মন,তোমাকে নিয়ে আজও ঘিরি।অনেক বেশি ভালোবেসে নিয়ে ছিলাম-তোমার পিছুটান,সব কিছু হারিয়ে আজ আমি অবসান।হৃদয়ে কাপন জাগে,কি যে ভালো লাগে!উতলা হই তোমার প্রেমের অনুরাগে।তুমি কথা দিয়েছিলে আমাকে পেতে,এখন কি হলো সেই কথায় তাতে?দিতে পারবে কি?আমার হারানো স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে!বেঁচে থেকেও মরে গেছি,আসবে কি ফিরে?নেশায় নেশায় দিনগুলো যাচ্ছে পেরিয়ে।
অপরেটর নিউজ
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
বিশেষ আয়োজন
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
বিনোদন জগৎ
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
গানের কথা
আরও দেখুন →
অথই জলে ডুবেই যদি মানিক পাওয়া যায়তাহলে ডুবিয়ে দিয়ে এই মনটাকেকাটিয়ে দিতাম আমি কিছুটা সময়একলা বসেই ওগো সাগরবেলায় ॥পরশমণিরে বেঁধে বুকেরই তারেবলতাম, পেয়েছি আমি খুঁজেছি যারেমুঠোয় নিতাম তুলে পরম পাওয়াযা কিছু আমায় শুধু কাঁদায়, হাসায় ॥মানিক সে তো মন, মিথ্যে সবই আরতারে ধরা যায় না, তারে ছোঁয়া যায় নাসে তো শুধু কল্পনার ॥ইচ্ছার ঝিনুকে আহা মুক্তো জ্বলেহৃদয় যদি সোনা হয় সহজে মেলেসোনার সোহাগে হিয়া হয় সোহাগীভোলে না তখন মন মৃগের মায়ায় ॥কথা : গাজী মাজহারুল আনোয়ার,সুর : সত্য সাহা,কণ্ঠ : বশীর আহমদ,অভিনয় : মাসুম,চিত্রপরিচালক : সুভাষ দত্তআয়না ও অবশিষ্ট (৬ মে ১৯৬৭)
অন্যান্য ও মজা
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
বাংলা কৌতুক
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
জানা ও অজানা
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
পড়াশোনার খবর
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
চাকুরির বিজ্ঞপ্তি
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।