BDBOYS.TOP

ইসলামিক হাদিস

আরও দেখুন →
Loading...
সংশয়-সন্দেহে সুন্নাত

আমার প্রায় লেখাগুলোই শুরু হয় আমাদের জ্ঞানহীনতার আহাজারি দিয়ে। ব্যাপারটা একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সত্যি কথা এটাই যে মুসলিম হিসেবে যা জানার কথা ছিল ক্লাস ফোর-ফাইভে, সেটা আমি জেনেছি অনার্স পরীক্ষা দেবার পর! এরকম ইসলামের খুব বেসিক কিন্তু একেবারেই অজানা একটা বিষয় হল সুন্নাত।সুন্নাত শব্দটার সরল অর্থ পথ, নিয়ম বা রীতি। সুন্নাতুল্লাহ মানে আল্লাহর রীতি। সুন্নাতুর রসুল মানে রসুল(সাঃ) এর পথ, তাঁর রীতি। কিন্তু ইসলামি পরিভাষায় সুন্নাত শব্দটি বিভিন্ন শাখার স্কলাররা বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করেছেন। যেমন –১. ফিক্‌হ (ইসলামি আইন) শাস্ত্রে সুন্নাত বলতে বোঝায় এমন কাজ যা করা ভাল কিন্তু তা করতে মানুষ বাধ্য নয়। যেমন ফজরের ফরযের আগের দুই রাকাত নামাজ সুন্নাত। এটা কেউ না পড়লে পাপী হবেনা কিন্তু পড়লে অনেক অনেক সাওয়াব – আসমান এবং জমিনের মাঝে যা কিছু আছে তার থেকে এ দু’রাকাত নামায উত্তম বলে রসুল(সাঃ) আমাদের জানিয়ে গেছেন। এই ‘সুন্নাত’ মুস্তাহাব/মানদুব/পছন্দনীয়/Recommended এর সমার্থক শব্দ।২. হাদীস শাস্ত্রে রসুল(সাঃ) এর কথা, কাজ, মৌন সম্মতির পাশাপাশি অভ্যাস, দৈহিক বৈশিষ্ট্য অথবা জীবনবৃত্তান্ত – যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবই সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন তিনি লাউ খেতে ভালোবাসতেন এটা সুন্নাত, ঘুমের সময় তার হালকা নাক ডাকার শব্দ হত সেটাও সুন্নাত আবার তিনি মাথায় পাগড়ি পড়তেন এটাও সুন্নাত।৩. উসুলুল ফিক্‌হ (ইসলামি আইনের মূলনীতি) শাস্ত্রে সুন্নাত বলতে বোঝায় রসুল(সাঃ) এর কথা – আদেশ, উৎসাহ, অনুমোদন, অপছন্দ বা নিষেধ; তাঁর কাজ যা অন্যদের জন্য অনুকরণযোগ্য এবং তাঁর মৌন সম্মতি (কারণ কোন খারাপ কাজ হবে আর তিনি চুপ করে থাকবেন তা হবার নয়) সবকিছুর সমন্বয়কে।ভিন্ন ভিন্ন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন পটভূমিতে সুন্নাত শব্দের চলের ফলে আমরা প্রায়ই ভুল বুঝাবুঝির শিকার হই। খুব প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা –১. কুর’আনের সব আদেশ মানা বাধ্যতামূলক কিঃআল কুর’আনের সব আদেশ মুসলিমদের উপর ফরয নয়। যেমন সুরা বাক্বারার ২৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন – “…আর তোমরা বেচা-কেনা করার সময় সাক্ষী রাখ…” আল্লাহর এই আদেশটি অবশ্য পালনীয় নয় বরং মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়। আল্লাহ তার অসীম করুণায় এটা আমাদের উপর ফরয করে দেননি, দিলে দৈনন্দিন জীবন যাপনে আমাদের অনেক অসুবিধা হত।কুর’আন যেহেতু রসুল(সাঃ) এর উপর নাযিল হয়েছিল তাই এর বিধানগুলো কিভাবে মানতে হবে তা জানার জন্য আমাদের যেতে হবে রসুল(সাঃ) এর কাছে। কুর’আনের কোন আদেশের মর্যাদা কী তা ফকীহ আলিমরা সেই বিষয়ের উপর কুর’আন এবং হাদিসের সমস্ত সূত্র এক করে গবেষণা করে বের করেন। যেমন উল্লেখিত আয়াত রসুল(সাঃ) এর উপর নাযিল হওয়া সত্ত্বেও তিনি অনেক সময় সাক্ষী ছাড়াই কেনাকাটা করতেন। তার এ আচরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে এটা অবশ্য করণীয় নয়।২. হাদিসের আদেশ কি মানলেও চলে, না মানলেও চলেঃকোন ব্যাপারে রসুল(সাঃ) এর আদেশ মানা বাধ্যতামূলক হতে পারে যদিও হয়ত সে ব্যাপারে কুর’আন থেকে সরাসরি কোন বিধান নেই। যেমন রসুল(সাঃ) বলেছেন –“গোঁফ ছেঁটে রাখ এবং দাড়িকে ছেড়ে দাও”এখানে দাড়ির ব্যাপারে রসুল(সাঃ) “আমার প্রভু আমাকে আদেশ করেছেন” – এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন। এটি সহ দাড়ির ব্যাপারে অন্যান্য সব হাদিস একসাথে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে দাড়ি রাখা প্রত্যেক মুসলিম পুরুষের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক।অনেকে মনে করেন দাড়ি রাখা রসুলের সুন্নাত। এখানে সুন্নাত বলতে বুঝিয়েছে রসুল(সাঃ) এর একটি অভ্যাসকে। কিন্তু এই অভ্যাস আসলে ‘করলে ভালো না করলে ক্ষতি নেই’- এমন স্ট্যাটাসের না। এটা ফরয যা করতে প্রত্যেক মুসলিম বাধ্য। যদি কেউ দাড়ি না রাখে তবে তার জন্য তাকে রসুল(সাঃ), প্রকারান্তরে আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করায় পরকালে শাস্তি পেতে হবে।৩. সব সুন্নাতই কি অনুকরণীয়ঃযেসব সুন্নাত রসুল(সাঃ) এর অভ্যাসগত বা জীবন যাপনের সাথে সম্পর্কিত তার সব কিছু মানতে মুসলিম বাধ্য নয়। যেমন রসুল(সাঃ) ঘুমানোর সময় তার নাক ডাকতো। এখন আমাদেরও নাক ডাকতে হবে এমনটা জরুরী নয়। ঠিক তেমন রসুল(সাঃ) যে ধরণের পোষাক পরতেন তা তিনি আমাদের জন্য অনুকরণীয় করেননি। করলে দেখা যেত শীতের দেশের মুসলিমরা কিংবা আমাদের মত পানির দেশের মুসলিমরা সে ধরণের পোশাক পরতে না পারার কারণে সাওয়াবের দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই তিনি পোশাকের একটি রূপরেখা দিয়ে দিলেন। সে রূপরেখা মেনে চললে পৃথিবীর যে কোন এলাকার মুসলিম নিজেকে আবৃত করতে পারবে, পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলাচল করতে পারবে আবার রসুল(সাঃ) এর আদেশ মানার মাধ্যমে পূণ্যার্জনও করতে পারবে।৪. রসুলের আনুগত্য কি বাধ্যতামূলকঃমানুষ হিসেবে রসুল(সাঃ) এর কিছু কাজ আমাদের জন্য অনুকরণীয় নয় বটে কিন্তু রসুল হিসেবে তার সব কাজই আমাদের জন্য অনুকরণীয়। কিছু কিছু ব্যাপারে তার অনুকরণ করাটা পছন্দনীয় এবং বাঞ্চনীয় – যেমন তার চারিত্রিক শিষ্টাচার। আবার কিছু কিছু ব্যাপারে তাকে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আসলে তিনি যত আদেশ দিয়েছেন তা যদি অন্য কোন কথা বা কাজ দিয়ে লঘু না করে থাকেন তবে সেটা আমাদের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক। এটা সময় বা পরিবেশের সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল নয়। যেটা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বদলে যেতে পারে সেটা আমাদের উপর বাধ্য করা হয়নি। সত্যি কথা বলতে গেলে ইসলামটা আসলে রসুলের আনুগত্যের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষের জীবনে ইসলামের রূপটা কেমন হবে তার জ্বলন্ত উদাহরণ রসুল(সাঃ)। এ কারণেই আল্লাহ কুর’আন আকাশ থেকে পৃথিবীতে ঠাস করে ফেলে দেননি, একজন মানুষ নবীর উপর নাযিল করেছেন। এতে কুর’আনের তাত্বিক ও ব্যবহারিক ব্যাখ্যা সমেত মানব্জাতির কাছে আল্লাহর পুরো মেসেজটাই কিয়ামাত পর্যন্ত সংরক্ষণ করা গেছে। আর মূলতঃ এই কারণে হাফ-কাফির / ফুল-কাফির / ওরিয়েন্টালিস্ট / মুক্তমনাদের আক্রমণের কেন্দ্র ক্বুর’আন নয়, সুন্নাতুর রসুল। সুন্নাত আছে মানে কুর’আন যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যাখ্যা করার দরজা বন্ধ। সুন্নাত নেই মানে ‘মারি তো গন্ডার লুটি তো ভান্ডার’।৫. নামাযে টুপি পড়া কি সুন্নাতঃপাগড়ি বা টুপি জাতীয় পোশাক পড়া ছিল রসুল(সাঃ) এর অভ্যাস। কিন্তু তিনি সহিহ হাদিসে নামাযের পড়ার সাথে টুপির বিষয়টা সম্পর্কযুক্ত করেননি। নামাযের সময় ভালো পোশাক পরতে আদেশ দেয়া হয়েছে কুর’আনে কারণ অজ্ঞ মুশরিকরা নগ্নদেহে কাবা ঘর তাওয়াফ করত। এর বিরুদ্ধাচারণ করতে বলা হয়েছে ইসলামে। আমরা কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গেলে বা গুরুত্বপূর্ণ কোন মানুষের সাথে দেখা করতে হলে আমাদের সবচেয়ে ভালো পোশাক পড়ে যাই। একজন মুসলিমের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্ত্বা আল্লাহ, সবচেয়ে দামী জায়গা মসজিদ – তাই সে সেখানে সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে দামী পোশাক পড়ে যাবে এটাই কাম্য। কারো যদি টুপি পড়ার অভ্যাস থাকে সে অবশ্যই টুপি পড়ে নামায পড়তে পারে। কারো যদি অভ্যাস না থাকে কিন্তু শুধু নামাযের জন্য টুপি পড়ে তবে সেটা ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক আছে যতক্ষণ না সে মনে করছে এই টুপি পড়ায় বাড়তি কোন সাওয়াব আছে। পাগড়ি বা টুপি পড়ায় যদি বাড়তি কোন সাওয়াব থাকতো তবে তা রসুল(সাঃ) বলে যেতেন। যেহেতু তিনি তা বলে যাননি সেহেতু কেউ যদি ভাবে ‘টুপি/পাগড়ি পড়লে সাওয়াব হয়’ অথবা ‘টুপি/পাগড়ি নামাযের একটি অংশ’ তবে সেটা হবে বিদ’আত। এখানে কাজটা অভ্যাসগত সুন্নাত অথচ কাজের সাথে মিশে থাকা বিশ্বাসটা বিদ’আত। কোনটায় সাওয়াব হবে সেগুলো খুব স্পষ্টভাবে কুর’আন এবং সুন্নাহতে বলে দেয়া আছে – আমার মনে করাকরির কোন স্থান ইসলামে নেই।৬. সুন্নাতি লেবাস কিঃরসুল(সাঃ) তোফ মানে ঢিলেঢালা লম্বা জামা পড়তেন যার দৈর্ঘ্য ছিল হাটু থেকে গোড়ালির মাঝামাঝি পর্যন্ত। এখন কেউ একটা পাঞ্জাবি পড়ল যা হাটু পর্যন্ত। আর আমি একটা তোফ পড়লাম যা প্রায় গোড়ালি ছুঁই-ছুঁই। এখন যদি আমি মনে করি এটা পড়ে আমি একটু বেশি সাওয়াব পাচ্ছি তবে সেটা হবে বিদ’আত। কারণ জামার ধরণ বা দৈর্ঘ্যের সাথে সাওয়াবের কোন সম্পর্ক আল্লাহ বা তার রসুল(সাঃ) করেননি। আমাদের দেশে সুন্নাতি লেবাসের যে ধারণাটি প্রচলিত আছে তা আসলে সুন্নাতি লেবাসের একটা রূপ মাত্র, পুরো চিত্রটা নয়।তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে দেয়া উচিত। রসুল(সাঃ) কে ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ। যে কেউ রসুল(সাঃ)কে ভালোবেসে শরিয়াতের সীমার মধ্যে কিছু করলে সেটা সে যাই করুক না কেন সেজন্য সে সাওয়াব পাবে। তবে সে সাওয়াব হবে ‘রসুল কে ভালোবাসা’-এই মূলনীতির আওতায়। অর্থাৎ কেউ যদি সবসময় টুপি পড়ে থাকে তবে সে রসুল(সাঃ) কে ভালোবেসে অনুকরণ করার কারণে সাওয়াব পাবে, কিয়ামাতের বিপদে রসুলের সান্নিধ্য পাবে। কেউ যদি লাউ খেতে ভালোবাসে এজন্য যে রসুল(সাঃ) তা ভালোবাসতেন তবে রসুল(সাঃ) কে ভালোবাসার কারণে সে সাওয়াব পাবে – ‘লাউ খাওয়া’ এ কাজটির কারণে সাওয়াব পাবেনা।সাধু সাবধানঃআমাদের দেশের তথাকথিত সচল-আলোকিত শ্রেণীর মানুষের গা-জ্বালা করা দু’টি ব্যাপার আছে – দাড়ি ও টুপি। প্রথমটি ফরয এবং দ্বিতীয়টি সুন্নাত। কারো যদি এ দু’টি দেখে গা জ্বালা করে তবে বুঝতে হবে তার গা-জ্বালার আসল কারণ ইসলাম। দাড়ি-টুপি ইসলামের বাহ্যিক প্রতীকগুলোর মধ্যে দু’টি উল্লেখযোগ্য প্রতীক।আমরা আসলে ‘পা-ঝাড়া’ মুসলিম। সপ্তাহে একদিন সামাজিকতার খাতিরে জুম’আর নামায পড়তে আমরা মসজিদে যাই। সেখান থেকে বের হয়ে প্রথম যে কাজটা করি তা হলো গোটানো প্যান্টটা ঝেড়ে ছেড়ে দেই গোড়ালির নিচে। এই পা ঝাড়ার সময় যতটুকু ইসলাম ভুল করে মসজিদ থেকে পায়ে লেগে গিয়েছিল সেটুকু ঝেড়ে ফেলে দিলাম। এই আমরা কথায় কথায় ছাগু বলি, রাজাকারের কার্টুন আঁকার সময় দাড়ি আর টুপি আঁকি। সাকা চৌধুরী তো বিখ্যাত রাজাকার – তার মত মাকুন্দ রাজাকারের কোন ক্যারিকেচার কেন কেউ কখনো আঁকলোনা? কারণটা খুব স্পষ্ট – যাতে দাড়ি আর টুপি তথা ইসলামকে রাজাকারের প্রতিশব্দ করে ফেলা যায়। আজ সেটা খুব সফলভাবে করা গেছে। যে মুসলিম নিজের ধর্মের প্রতীক প্রকাশে লজ্জা পাবে এমন মুসলিমই তো শয়তান চেয়েছিল। নিজের ইসলামকে কাফিরদের মন মত করে সাজিয়ে নেবে এমন মুসলিমের পরিকল্পনাই তো কাফিররা করেছিল। রজম, চার বিয়ে আর মেয়েদের পর্দার মত ‘নোংরা’ (নাউযুবিল্লাহ) সুন্নাত মুসলিমরা ঝাড় দিয়ে পরিষ্কার করে খাটের তলায় লুকোবে আর হাত কাঁচু-মাচু করে বলবে – না, না এসব আসল ইসলাম নয় – এমন মুসলিমদের স্বপ্নই দেখেছে কাফিরেরা, আজীবন।ইসলাম মানে আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তার পুরোটাই মেনে নেয়া। যেটুকু আমার ভাল লাগে বা যেটুকু আমার বুঝে আসে বা যেটুকু মানলে আলোকিত সচল হওয়া যাবে, সুশীল সমাজ ভাল বলবে শুধু সেটুকু মানার নাম ইসলাম নয়। আমাদের মত সুশীল/সচল হবার দৌড়ে মত্ত আপাত মুসলিমদের আল্লাহ খুব বড় একটা ধাক্কা দিয়েছেন এভাবে –“…..তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান কর? সুতরাং তোমাদের যারা এরকম করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে হীনতা এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে।………” [সূরা বাক্বারা, ২ : ৮৫]আবার বলি। শ্যাম এবং কূল দুটো একসাথে রাখার কোন সিস্টেম ইসলামে নাই। বাঁশি সহ শ্যামকে ওয়াক-আউট না করাতে পারলে ইসলাম থাকবেনা। একটা মানুষ হয় মুসলিম নাহয় কাফির – মাঝামাঝি কিছু নেই। আর মুসলিম মানে সুন্নাতের কাছে আত্মসমর্পণ। একজন কত ভালো ভাবে আত্মাকে সমর্পণ করতে পারলো সেটা দিয়ে নির্ধারিত হবে সে কোন গ্রেডের মুসলিম। পা-ঝাড়া মুসলিম হয়ে এপারে জানাজাটুকু মিললেও ওপারে কিন্তু কেবলই কাঁচকলা।

AAkash
📅 ২৬ মার্চ, ২০২৬
Loading...
বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থদ্বয়ের পরিচয়

আলেম সমাজ একমত যে বুখারী ও মুসলিম বিশুদ্ধ কিতাব। এ দু’টি কিতাবকে একত্রে ‘ছহীহায়ন’ তথা বিশুদ্ধ দু’খানা কিতাব বলা হয়। বুখারী ও মুসলিমের বিশুদ্ধতার বিষয়ে মনীষীদের সুচিন্তিত অভিমত নিম্নে প্রদত্ত হ’ল-ছহীহ বুখারী :১. জমহূর মুহাদ্দিছীনে কেরামের মতে,أصح الْكتب بعد كتاب الله الصحيح البخارى- ‘আল্লাহর কিতাব কুরআনুল কারীমের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হ’ল ছহীহুল বুখারী’।[1]২. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী ইমাম নববী সহ অসংখ্য মুসলিম মনীষী বলেছেন,اتفق العلماء رحمهم الله على أن أصح الكتب بعد القرآن العزيز الصحيحان البخاري ومسلم وتلقتهما الأمة بالقبول وكتاب البخاري أصحهما وأكثرهما فوائد ومعارف ظاهرة وغامضة- ‘জমহূর ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কুরআনুল কারীমের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হ’ল ‘ছহীহায়ন’ তথা ছহীহ বুখারী ও ছহীহ মুসলিম। আর ছহীহ বুখারী হ’ল উভয় কিতাবের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম, অধিক উপকারী, সুপরিচিত ও সূক্ষ্ম’।[2]৩. হাফেয মূসা ইবনে হারূণ বলেন,لو أن أهل الاسلام اجتمعوا على أن ينصبوا آخر مثل محمد بن إسماعيل ما قدروا عليه- ‘যদি সকল মুসলমান একত্রিত হয়ে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত ছহীহ আল-বুখারীর মতো উঁচু মানের ও বিশুদ্ধ কিতাব সংকলন করতে চেষ্টা করে, তবুও তারা তা করতে সক্ষম হবে না’।[3]৪. হাফেয আবু ইয়ালা আল-খলীলী স্বীয় ‘ইরশাদ’ গ্রন্থে লিখেছেন,رحم الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل فَإِنَّهُ ألف الْأُصُول يَعْنِي أصُول الْأَحْكَام من الْأَحَادِيث وَبَين للنَّاس وكل من عمل بعده فَإِنَّمَا أَخذه من كِتَابه كمسلم بن الْحجَّاج ‘আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রহঃ)-এর প্রতি রহম করুন। কেননা তিনি ইলমে হাদীছের হুকুম-আহকাম তথা মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন ও তাঁর পরে যারা একাজ করবে তাদের প্রত্যেকের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। বস্ত্তত তাঁর সংকলিত ছহীহ বুখারী থেকে অন্যান্য মুহাদ্দিছ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। যেমন ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)।[4]৫. ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেন, ما فى هذه الكتب كلها أجود من كتاب البخارى- অর্থাৎ ‘হাদীছের এসব কিতাবের মধ্যে ছহীহ আল-বুখারী অপেক্ষা অধিক উত্তম আর কোন কিতাব নেই’।[5]৬. আবূ জা‘ফর মাহমূদ ইবনে আমর আল-আকীলী বলেন, لما ألف البُخَارِيُّ كتاب الصَّحِيْح عرضه على أَحْمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين وعَلى بن الْمَدِينِيّ وَغَيرهم فاستحسنوه وشهدوا لَهُ بِالصِّحَّةِ الا فِي أَرْبَعَة أَحَادِيث- অর্থাৎ ইমাম বুখারী (রহঃ) ছহীহ আল-বুখারীর পান্ডুলিপি আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আহমাদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ সমকালীন জগদ্বিখ্যাত মনীষীগণের নিকট পেশ করেন। তাঁরা একে উত্তম বলে অভিহিত করেন এবং মাত্র চারটি হাদীছ ব্যতীত সকল হাদীছের বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি প্রদান করেন। অবশ্য ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর শর্তে ঐ চারটি হাদীছও ছহীহ’।[6]৭. আবু যায়েদ আল-মারওয়াযী বলেন,كنت نَائِما بَين الرُّكْن وَالْمقَام فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَنَامِ فَقَالَ لي يَا أَبَا زيد إِلَى مَتى تدرس كتاب الشَّافِعِي وَلاَ تدرس كتابي، فَقلت يَا رَسُول الله وَمَا كتابك قَالَ جَامع مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل- অর্থাৎ আমি রুকনে ইয়ামানী ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝামাঝি স্থানে ঘুমন্ত ছিলাম। এ সময় আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বলছেন, হে আবু যায়েদ! শাফেঈর কিতাবের দারস আর কতদিন দিবে, আমার কিতাবের দারস দিবে না? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনার কিতাব কোনটি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারীর জামি‘ তথা ছহীহ বুখারী।[7]ছহীহ মুসলিম :এ বিশ্বে ইলমে হাদীছের যতগুলো কিতাব সংকলিত হয়েছে, তন্মধ্যে দু’টি কিতাবকে ওলামায়ে কেরাম ‘ছহীহায়ন’ তথা ‘বিশুদ্ধতম দু’টি কিতাব’ বলে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এ ছহীহায়নের একটি হ’ল ছহীহ মুসলিম। অধিকাংশ মুহাদ্দিছীনে কেরাম ছহীহায়নের ছহীহ বুখারীকে সর্বাধিক বিশুদ্ধতম বলে অভিমত পোষণ করলেও আবু আলী নিসাপুরীসহ মুসলিম বিশ্বের ও পাশ্চাত্যের কিছু সংখ্যক মনীষী অভিমত পোষণ করেছেন যে, أَن كتاب مُسلم أفضل من كتاب البُخَارِيّ ছহীহ মুসলিম ছহীহ বুখারীর চেয়ে উত্তম।[8]১. হাফেয ইবনে মান্দাহ (রহঃ) বলেন,سمعت أبا علي الحسين بن علي النيسابوري، يقول: ما تحت أديم السماء أصح من كتاب مسلم بن الحجاج في علم الحديث অর্থাৎ আমি আবু আলী নিসাপুরীকে বলতে শুনেছি, এ আকাশের নীচে ছহীহ মুসলিমের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ ইলমে হাদীছের কোন কিতাব নেই’।[9]২. হাফেয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন,حصل لمسلم في كتابه حظ عظيم مفرط لم يحصل لأحد مثله অর্থাৎ ‘ইমাম মুসলিম (রহঃ) তাঁর ছহীহ মুসলিমের কারণে এত দ্রুততার সাথে এমন মহান সৌভাগ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন যে, এত দ্রুততার সাথে ঐ স্তরে পেঁŠছা কারোর পক্ষে সম্ভব নয়’।[10]৩. হাফেয মুসলিম ইবনে কুরতুবী (রহঃ) ছহীহ মুসলিম সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, لم يضع أحد فى الإسلام مثله অর্থাৎ ‘ইসলামে এরূপ গ্রন্থ কেউ রচনা করতে সক্ষম হয়নি’।[11]৪. আবু সাঈদ ইবনে ইয়া‘কূব বলেন,رأيت فيما يرى النائم كأن أبا على الزغورى يمضى فى شارع الحيرة وفى يده جزء من كتاب مسلم يعنى ابن الحجاج، فقلت له ما فعل الله بك؟ قال نجوت بهذا وأشار إلى ذلك الجزء. অর্থাৎ ‘প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ আয-যাগূরীকে যেন স্বপ্নে দেখলাম, তিনি নিসাপুরের ‘হিরাত’ নামক রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন এবং তাঁর হাতে রয়েছে ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের সংকলিত হাদীছগ্রন্থ ছহীহ মুসলিমের একটি খন্ড। আমি তাঁকে বললাম, আল্লাহ তা‘আলা আপনার সাথে কি আচরণ করেছেন? তখন তিনি ছহীহ মুসলিমের খন্ডটির দিকে ইশারা করে বললেন, এর বদৌলতে আমি (জাহান্নাম থেকে) নাজাত পেয়েছি’।[12]ইমাম মুসলিম (রহঃ) তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ ছহীহ মুসলিম সংকলনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। হাদীছের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে শুধু নিজের অভিমত ও দৃষ্টিকোণকেই প্রাধান্য দেননি; বরং তৎকালীন জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিছগণের অভিমত ও পরামর্শানুযায়ী হাদীছ লিপিবদ্ধ করেছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন,لَيْسَ كُلُّ شَيْءٍ عِنْدِيْ صَحِيْحٌ وَضَعْتُهُ ها هنا إنما وضعت ها هنا مَا أَجْمَعُوْا عَلَيْهِ অর্থাৎ শুধু আমার নিজস্ব অভিমতের ভিত্তিতে বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে এ কিতাবে হাদীছ সন্নিবেশ করিনি; বরং যে সকল হাদীছের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সমকালীন মুহাদ্দিছগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন ঐ সকল হাদীছও লিপিবদ্ধ করেছি’।[13]ছহীহ মুসলিমের পান্ডুলিপি বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য যে সকল মনীষীর নিকট পেশ করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে আবু যুর‘আ অগ্রগণ্য, যিনি হাফেযুল হাদীছ নামে খ্যাত। মাক্কী ইবনে আবদান বলেন,سمعت مسلما يقول : عرضت كتابى هذا المسند على أبى رزعة فكل ما أشار على فى هذا الكتاب ان له علة وسببا تركته وكل ما قال : أنه صحيح ليس له علت فهو الذى أخرجت.‘আমি ইমাম মুসলিম (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি এ কিতাব (ছহীহ মুসলিম) আমার শ্রদ্ধেয় উস্তায প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আবু যুর‘আ-এর নিকট উপস্থাপন করেছি। অতঃপর যে হাদীছের মধ্যে ত্রুটি আছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, আমি নিঃসংকোচে তা পরিত্যাগ করেছি। আর যে সকল হাদীছ বিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত বলে অভিমত পোষণ করেছেন, সে সকল হাদীছ আমি এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছি’।[14]ছহীহ মুসলিম সংকলনান্তে ইমাম মুসলিম (রহঃ) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন,ما وضعة فى هذا المسند شيئا الا بحجة ولا اسقطة شيئا منه الا بحجة. অর্থাৎ বিশুদ্ধতার অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কোন হাদীছ আমি এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করিনি এবং অশুদ্ধতার অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কোন হাদীছ আমি পরিত্যাগও করিনি’।[15]ইমাম মুসলিম (রহঃ) স্বীয় অমর সংকলন ছহীহ মুসলিমের বিশুদ্ধতার প্রতি সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে দাবী রেছেন,لو أن أهل الحديث يكتبون مائتي سنة الحديث فمدارهم على هذا المسند অর্থাৎ ‘যদি মুহাদ্দিছগণ দু’শত বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ও কঠোর সাধনা করে ইলমে হাদীছের কোন গ্রন্থ সংকলন করেন তবুও এ গ্রন্থের ওপর তাঁদেরকে নির্ভর করতে হবে’।[16]– ক্বামারুয্যামান বিন আব্দুল বারীপ্রধান মুহাদ্দিছ, বেলটিয়া কামিল মাদরাসা, জামালপুর। [1]. আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (হানাফী), উমদাতুল ক্বারী (বৈরূত : দারু এহইয়াইত তুরাছিল আরাবী, তাবি), ১/৫ পৃঃ; জালালুদ্দীন জালালাবাদী; মিফতাহুল উলূম ওয়াল ফুনূন (হাটহাজারী, চট্টগ্রাম, তাবি), পৃঃ ৫৮; মান্না আল-কাত্ত্বান, তারীখুত তাশরীয়িল ইসলামী (রিয়ায : মাকতাবাতুল মা‘আরিফ ১৯৯৬ ইং/১৪১৭ হিঃ), পৃঃ ৯৪।[2]. শরহে মুসলিম লিন নববী, ১/১৫ পৃঃ, সাইয়েদ ছিদ্দীক হাসান কানুহী, আল-হিত্তাহ ফী যিকারিছ ছিহাহ সিত্তাহ, (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলয়িয়্যাহ, ১৯৮৫ ইং), পৃঃ ১৬৮; হাজী খলীফা, কাশফুয যুনূন (বৈরূত : দারু ইহইয়ায়িত তুরাছিল আরাবী, ১/৫৪১ পৃঃ; তাদবীবুর রাবী, পৃঃ ৬৭।[3]. হাফেয জালালুদ্দীন আল-মিযযী, তাহযীবুল কামাল ফী আসমাইর রিজাল, (বৈরূত : মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ ১৯৯২ইং), ২৪/৪৫৭; হাফেয শামসুদ্দীন আয-যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, (বৈরূত : মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১৯৯৬ইং/১৪১৭ হিঃ), ১২/৪৩৪ পৃঃ।[4]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, হুদা আস-সারী মুক্বাদ্দামাতু ফাতহিল বারী (রিয়ায : মাকতাবাতু দারিস সালাম, ১৯৯৭ইং/১৪১৮ হিঃ), পৃঃ ১৪।[5]. শাববীর আহমাদ উছমানী, মুক্কাদ্দামাতু ফাতহিল মুলহিম (দেওবন্দ : মাকতাবাতুল আশরাফিয়া, ১৯৯৯ ইং), ১/৯৭ পৃঃ; তাদবীবুর রাবী, পৃঃ ৭০।[6]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, তাহযীবুত তাহযীব (বৈরূত : দারু ইহইয়াইত তুরাছ আল-আরাবী, ১৯৯৩ ইং/১৪১৩ হিঃ), ৫/৩৭ পৃঃ; হুদা আসসারী মুক্বাদ্দামাতু ফাতহিল বারী, পৃঃ ৯।[7]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, মুকাদ্দামাতু ফাতহিল বারী (বৈরূত : ইহয়াইত তুরাছিল আরাবী, তাবি), ১/৪৭৮; আত-তুহফাতু লি তালিবিল হাদীছ, পৃঃ ৮।[8]. হুদা আস-সারী, পৃঃ ১৩; সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৫৬৭ পৃঃ; তারীখুত তাশরীঈল ইসলামী, পৃঃ ৯৪; শরহে ছহীহ মুসলিম নববী, ১/১৫ পৃঃ।[9]. তাযকিরাতুল হুফফায, ২/৫৮৯ পৃঃ; তারীখু বাগাদাদ, ৩/১০১ পৃঃ; শাযারাতুয যাহাব, ২/১৪৪ পৃঃ।[10]. তাহযীবুত তাহযীব, ৫/৪২৭ পৃঃ; মুকাদ্দামাতু ফাতহিল মুলহিম, ১/৯১ পৃঃ; সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৫৬৭ পৃঃ।[11]. হায়াতুল মুছান্নিফীন, পৃঃ ৫৫; হুদা আস-সারী বারী, পৃঃ ১৬।[12]. বুস্তানুল মুহাদ্দিছীন, পৃঃ ২৩২।[13]. আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরফুদ্দীন নববী, শরহে ছহীহ মুসলিম (দারুত তাহাভী, তা.বি), ১/১৬ পৃঃ; আল-হিত্তাহ ফী যিকরিছ ছিহাহ সিত্তাহ, পৃঃ ২০১; তাদরীবুর রাবী, পৃঃ ৭৩।[14]. আল্লামা শাববীর আহমাদ ওছমানী, ফাতহুল মুলহিম, (দেওবন্দ : মাকতাবাতুল আশরাফিয়া, ১৯৯৯ খ্রিঃ), ১/১০১ পৃঃ; মিফতাহুল উলূম ওয়াল ফুনূন, পৃঃ ৫৮।[15]. তাযকিরাতুল হুফফায, ২/৫৮৯ পৃঃ; কাশফূয যুনূন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনূন, ১/৫৫৫ পৃঃ।[16]. শরহে ছহীহ মুসলিম, ১/১৬ পৃঃ; মুকাদ্দামাতু ছহীহ মুসলিম লি নববী, ১/১৩ পৃঃ।

AAkash
📅 ২৬ মার্চ, ২০২৬

ইসলামিক ঘটনা

আরও দেখুন →
Loading...
ইসলামিক গল্প – একটি বিস্ময়কর ফায়সালা

দুই ব্যক্তি । পাশাপাশি হাটছে। উভয়েই একে অপরের সফর সঙ্গী । দীর্ঘক্ষণ চলতে চলতে সীমাহীন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষিধেও পেয়েছে প্রচুর। সুতরাং আর পথ চলা নয়। এবার খানিক বিশ্রাম ও খাওয়া নাওয়ার পালা ।দু’জনে খেতে বসেছে। প্লেটে মোট আটখানা রুটি। পাঁচটি একজনের। তিনটি অপরজনের। এখনই তারা খাওয়া শুরু করবে। এমন সময় পাশের পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল তাদের পরিচিত আরেকজন। সৌজন্যের খাতিরে তাকেও ডেকে খানায় শরীক করল।তিনজনে মিলে আটটি রুটি খেল। তৃতীয় ব্যক্তি তাদের শুকরিয়া আদায় করল। অতঃপর বিদায়ের প্রাক্কালে পকেট থেকে আটটি টাকা বের করে দুজনের সামনে রেখে বলল, আপনাদের দু’জনের ভাগ থেকে যে রুটি আমি খেয়েছি, তার বিনিময়ে এ টাকা কয়টি দিলাম। আপনারা তা ভাগাভাগি করে নিবেন। এ বলে সে চলে গেল ।এবার তারা প্রাপ্য টাকা বন্টন করতে বসল। পাঁচ রুটিওয়ালা আগেই ভাগ ঠিক করে বলল, ভাই! ভাগতো অতি সহজ । আমার রুটি ছিল পাঁচটি, তাই আমি পাব পাঁচ টাকা। আর তোমার যেহেতু রুটি ছিল তিনটি, তাই তুমি পাবে তিন টাকা। তিন রুটি ওয়ালা এ বন্টন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল। সে বলল, না তা হবে না। হতেই পারে না। কারণ যদি এ রুটিগুলো শুধু আমরাই খেতাম, তাহলে সমান সমানই খেতাম। আর সে এ টাকাগুলো দিয়েছে আমাদের দু’জনকে সমান লক্ষ্য করেই। সুতরাং আমার চার টাকা তোমার চার টাকা ।পাঁচ রুটিওয়ালা এ প্রস্তাব মানতে রাযী হল না । তিন রুটিওয়ালাও তার পূর্বের কথায় অটল। এর বিকল্প কোন প্রস্তাবই সে মানবে না বলে পরিস্কার জানিয়ে দিল। ইতিমধ্যে তাদের উচ্চবাচ্যে বহু লোকজন এসে জড়ো হল। তারা সবাই মিলে একে একে দু’জনকেই মানাতে চেষ্টা করল। কিন্তু কোন কাজ হল না। উভয়েই আপন সিদ্ধান্তে অনড়।কেউ মত পরিবর্তন করতে সম্মত হল না। অবশেষে লোকজন বলল, ঠিক আছে, তোমরা যখন আমাদের কথা শুনলে না, সুতরাং এবার আমীরুল মুমেনীনের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া তোমাদের আর কোন উপায় নেই ৷হযরত আলী (রা.) এর দরবার। কক্ষে অখন্ড নীরবতা। বিচারের আসন অলংকৃত করে আছেন স্বয়ং খলীফাতুল মুসলেমীন। তার চেহারায় গাম্ভীর্যতার সুষ্পষ্ট ছাপ। রুটিওয়ালারা দুজন দু’দিকে উপবিষ্ট ।এক পর্যায়ে বিচার প্রার্থীরা নিজ নিজ বক্তব্য পেশ করল। সবকিছু শুনে হযরত আলী (রা.) খানিক ভাবলেন। তারপর তিন রুটিওয়ালাকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমার সঙ্গী তোমাকে তিন টাকা দিতে চায়। তুমি তাই নিয়ে নাও। এতেই তোমার জিত। এতেই তোমার মঙ্গল ! কারণ তোমার তুলনায় তার রুটি ছিল বেশী ।খলীফার কথা শুনে তিন রুটিওয়াল৷ ভীষণ ক্ষেপে উঠল ৷ সে গোস্বা ভরে বলল, হুজুর! তিন টাকা নিলে তো আগেই নিতে পারতাম । আপনার দরবারে এসে আমার লাভটা হল কি? এরকম হলে তো আপনার পর্যন্ত আসার প্রয়োজন ছিল না। যাহোক, আমি আপনার নিকট অন্য কিছু চাই না। চাই শুধু আপনার ইনসাফী ফায়সালা ।তার কথায় হযরত আলী (রা.) রেগে না গিয়ে নম্রস্বরে বললেন, ভাই! এবার তুমি সুন্দর কথা বলেছ। পূর্বে আমি আপোষের কথা বলেছিলাম। এবার যখন তুমি ইনসাফী বিচার প্রার্থনা করেছ তাহলে শুন-এ বলে তিনি একটু থেমে আবার শুরু করলেন। বললেন, ইনসাফী বিচার মতে তোমার সাথী পাবে সাত টাকা আর তুমি পাবে মাত্র এক টাকা । সুতরাং এবার তোমাকে এক টাকা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ।নতুন ফায়সালা শুনে তিন রুটিওয়ালা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল। মনে মনে বলল, এর নাম কি ইনসাফী বিচার? এর নামই কি সুশাসন প্রতিষ্ঠা? খানিকপর সে রাগ সংবরণ করে বিস্মিত কণ্ঠে খলীফাকে সম্বোধন করে বলল, হযরত! এ কি বলছেন আপনি। সে আমাকে তিন টাকা দিতে চায় আমি নিতে চাইনি। আপনিও অনুরোধ করেছেন তিন টাকা নিতে। তাতেও আমি সম্মত হইনি। আর এখন আপনি বলছেন, আমাকে এক টাকা নিতে। এটা কি করে সম্ভব?খলীফাতুল মুসলেমীন হযরত আলী (রা.) একটু নড়ে চড়ে বসলেন। বললেন, তিন টাকার কথা ছিল আপোষ-মিমাংসার কথা। কিন্তু তুমি তো আপোষ-মিমাংসায় যেতে রাযী নও। তুমি চাও ইনসাফ। তুমি চাও সুবিচার। আর ইনসাফ ও সুবিচারের দৃষ্টিতে তুমি এক টাকার বেশী কিছুতেই পেতে পার না। যদি বল কিভাবে? তাহলে আমি একবার নয় একশ বার বুঝিয়ে দিতেও রাযী আছি।আলী (রা.) এর দৃঢ়তায় লোকটি নরম হয়ে এল। এবার সে তার গলার স্বর নীচু করে ভদ্রতার সাথে বলল, হযরত! অনুগ্রহ করে আমাকে বুঝিয়ে দিন, কিভাবে আমি এক টাকা পাওয়ার যোগ্য। যদি বুঝাতে পারেন, তবে আমি এক টাকাই নেব। এর বেশী দাবী করব না।হযরত আলী (রা.) আপন ফায়সালার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বললেন- সর্বমোট রুটি ছিল আটটি। খেয়েছ তোমরা তিনজন। প্রত্যেকটি রুটি ভাগ করলে তাতে মোট চব্বিশ টুকরো রুটি হয়।তোমার রুটি ছিল তিনটি। তিন রুটির প্রত্যেকটির তিনভাগ করলে টুকরো হয় মোট নয়টি । আর তোমার সঙ্গীর রুটি ছিল পাঁচটি। পাঁচ রুটির প্রত্যেকটির তিন ভাগ করলে টুকরো হয় মোট পনেরটি ।কে কম খেয়েছে, কে বেশী খেয়েছে, সম্মিলিত খাওয়ায় এ তারতম্য করা হয় না। সুতরাং ধরা হবে যে, তোমরা প্রত্যেকেই সমান খেয়েছ। অর্থাৎ চব্বিশ টুকরো রুটি থেকে প্রত্যেকেই আট টুকরো করে খেয়েছ।এবার লক্ষ্য কর। তোমার রুটি ছিল নয় টুকরো। তন্মধ্যে তুমি নিজেই খেয়ে নিয়েছ আট টুকরো। বাকী থাকল এক টুকরো । সুতরাং আগন্তুক তৃতীয় ব্যক্তি তোমার ভাগ থেকে কেবল এক টুকরো রুটিই খেয়েছে।অপরদিকে তোমার সাথীর ছিল পনের টুকরো। তন্মধ্যে সে নিজে খেয়েছে আট টুকরো । বাকী রইল সাত টুকরো। সুতরাং তৃতীয় ব্যক্তি তার ভাগ থেকে খেয়েছে সাত টুকরো ।লোকটি আট টুকরোর বিনিময়ে আট টাকা দিয়েছে। সুতরাং একথা খুবই পরিস্কার যে, সাত টুকরোর বিনিময়ে তোমার সাথী পাবে সাত টাকা, আর এক টুকরোর বিনিময়ে তুমি পাবে এক টাকা।ফায়সালার চমৎকার বিশ্লেষণ শুনে শুধু তিন রুটিওয়ালাই নয়। উপস্থিত সকলেই হতভম্ব হয়ে গেল। সকলেই খলীফার প্রখর বুদ্ধিমত্তার ভূয়সী প্রশংসা করল। অবশেষে তিন রুটিওয়ালা বলতে বাধ্য হল- হ্যাঁ, আমি এক টাকাই পাওয়ার উপযুক্ত। এর বেশী নয়। খামাখা না বুঝে এতক্ষণ পাগলের মত প্রলাপ বকলাম। এতটুকু বলে মনে মনে খলীফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক টাকা নিয়েই দরবার থেকে বেরিয়ে গেল।আলোচ্য ঘটনায় হযরত আলী (রা.) এর জ্ঞানের গভীরতা ও বিস্ময়কর বিচার বুদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায়।

AAkash
📅 ১৬ মার্চ, ২০২৬১৬
Loading...
বনি ইসরাইলের ঋণ পরিশোধের এক অলৌকিক ঘটনা

বনি ইসরাইলের ঋণ পরিশোধের এক অলৌকিক ঘটনাহজরত আবু হুরাইরাহ (রা.) এর বরাতে এই হাদিসটির বর্ণনা আছে। তিনি নবী (সা.)-এর কাছে নিচের ঘটনাটি শুনেছেন। বনি ইসরাইলের এক লোক অন্য এক লোকের কাছে এক হাজার দিনার ঋণ চাইল। তখন সে (ঋণদাতা) বলল, কয়েকজন সাক্ষী আনো, আমি তাদের সাক্ষী রাখব। সে বলল, সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।তখন (ঋণদাতা) বলল, তাহলে একজন জামিনদার উপস্থিত করো। সে বলল, জামিনদার হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। ঋণদাতা বলল, তুমি সত্য বলেছ। এরপর নির্ধারিত সময়ে তাকে এক হাজার দিনার দিয়ে দিল।তারপর ঋণগ্রহীতা সমুদ্রে সফর করল। সে তার কাজ শেষ করে সে যানবাহন খুঁজতে লাগল, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণদাতার কাছে এসে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু সে কোনো বাহন পেল না।তখন সে এক টুকরা কাঠ নিয়ে তা ছিদ্র করে ঋণদাতার নামে একটি চিঠি এবং এক হাজার দিনার তার মধ্যে ভরে ছিদ্র বন্ধ করে সমুদ্রতীরে এসে বলল, হে আল্লাহ! তুমি তো জানো আমি অমুকের কাছে এক হাজার দিনার ঋণ চাইলে সে আমার কাছে জামিনদার চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আল্লাহই জামিন হিসেবে যথেষ্ট। এতে সে রাজি হয়। তারপর সে আমার কাছে সাক্ষী চেয়েছিল, আমি বলেছিলাম সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট, তাতে সে রাজি হয়ে যায়। আমি তার ঋণ (যথাসময়ে) পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে যানবাহনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি। তাই আমি তোমার কাছে সোপর্দ করলাম। এই বলে সে কাঠের টুকরাটি সমুদ্রে ছুড়ে মারল। আর কাঠের টুকরাটি সমুদ্রে ডুবে গেল। লোকটি ফিরে গিয়ে নিজের শহরে যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজতে লাগল।এদিকে ঋণগ্রহীতা কোনো নৌযানে করে তার মাল নিয়ে আসে কিনা, সে আশায় ঋণদাতাটি গেল সমুদ্রতীরে। তার চোখ কাঠের টুকরাটির ওপর পড়ল, যার ভেতরে ছিল দিনার। সে কাঠের টুকরাটি তার পরিবারের জ্বালানি হিসেবে বাড়ি নিয়ে গেল। কাঠটি চেড়ার পর সে দিনার আর চিঠিটি পেয়ে গেল।কিছুদিন পর ঋণগ্রহীতা এক হাজার দিনার নিয়ে এসে হাজির হলো। বলল, আল্লাহর কসম! আমি আপনার দিনার যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যানবাহনের খোঁজে ছিলাম। কিন্তু আমি এই যে এখন নৌযানে করে এলাম, তার আগে আর কোনো নৌযান পাইনি।ঋণদাতা বলল, তুমি কি আমার কাছে কিছু পাঠিয়েছিলে?ঋণগ্রহীতা বলল, আমি তো তোমাকে বললামই যে এর আগে আর কোনো নৌযান পাইনি।সে বলল, তুমি কাঠের টুকরার ভেতরে যা পাঠিয়েছিলে, তা আল্লাহ তোমার পক্ষ থেকে আমাকে আদায় করিয়ে দিয়েছেন। তখন সে আনন্দচিত্তে এক হাজার দিনার নিয়ে ফিরে গেল।(সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ২২৯১)

AAkash
📅 ১৬ মার্চ, ২০২৬১৩

ইসলামিক জ্ঞান

আরও দেখুন →
Loading...
স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম ইসলামের দৃষ্টিতে

স্বাধীনতা মহান আল্লাহর নিয়ামত। আরবি ভাষার প্রবচন-‘দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ’। জন্মভূমি মক্কার প্রতি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অপরিসীম ভালোবাসার কথা বিশ্ববাসীর জানা। প্রতিপক্ষ মুশরিকদের হিংস্রতার শিকার হয়ে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যেতে বাধ্য হন। তিনি যখন মদিনার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তখন পেছন ফিরে প্রিয় মাতৃভূমির দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, ‘হে প্রিয় জন্মভূমি মক্কা আমার! যদি তোমার অধিবাসীরা আমাকে বাধ্য না করত আমি কোনো দিন তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।’ জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা আমরা পেয়েছি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে। সে অর্থে জন্মভূমিকে ভালোবাসা রসুলের সুন্নত। তাফসিরে কুরতুবির বর্ণনা অনুযায়ী-যখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করছিলেন তখন তাঁর চোখ সজল হয়ে উঠেছিল। দেশের জন্য, জন্মভূমির জন্য তাঁর দরদ ও ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। পরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রিয় হাবিবের মাধ্যমে মক্কাকে মুশরিকদের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে, স্বাধীনতা দিয়ে ধন্য করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় আছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনাকেও খুব ভালোবাসতেন। কোনো সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকালে মদিনার সীমান্তে ওহুদ পাহাড় চোখে পড়লে নবীজির চেহারায় আনন্দের আভা ফুটে উঠত এবং তিনি বলতেন, ‘এ ওহুদ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও ওহুদকে ভালোবাসি (বুখারি, মুসলিম)।’বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে। মানুষ হত্যাকে ইসলামে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে তারা জঘন্য অপরাধী। গণহত্যা আরও বড় অপরাধ। আল্লাহতায়ালার যত সৃষ্টি রয়েছে এর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হচ্ছে মানুষ। মানবসৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করেছেন এবং মানুষকে এই জমিনে তাঁর প্রতিনিধি বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন তারা বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গাহাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা প্রতিনিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না (সুরা বাকারা, আয়াত ৩০)।’মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই আল্লাহ মানুষকে তাদের দান করেছেন সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।’ সুরা তিন, আয়াত ৪। শুধু তা-ই নয়, আল্লাহর সুস্পষ্ট বাণী হচ্ছে, এই বিশ্বজগতের সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন কেবল মানুষেরই জন্য। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তিনিই সেই সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য জমিনের সবকিছু (সুরা বাকারা, আয়াত ২৯)।’ আল্লাহ যেমন ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি মানবজাতির সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছেন। একজন মানুষের জীবন, সম্পদ, মানসম্মান আল্লাহর কাছে এত দামি যে কোরআন ও হাদিসে এসব বিষয়ের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল কোরআনে একজন মানুষ হত্যা করাকে গোটা মানবজাতিকে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।হিজরতের পর মদিনায় হজরত আবুবকর (রা.) ও বেলাল (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তাঁদের মনে প্রিয় স্বদেশ মক্কার স্মৃতিচিহ্ন জেগে উঠেছিল। তাঁরা জন্মভূমি মক্কার কথা স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়ে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের মনের এ দুরবস্থা দেখে প্রাণভরে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমরা মক্কাকে যেমন ভালোবাসি মদিনার ভালোবাসা তার চেয়েও বেশি আমাদের অন্তরে দান করুন। বুখারি।’ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে স্বদেশকে ভালোবেসে আমাদের জন্য দেশপ্রেমের আদর্শ রেখে গেছেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি কেউ তোমাদের কোনো উপকার করে তবে তাকে প্রতিদান দেবে। যদি প্রতিদান দিতে না পার তবে তার জন্য এমনভাবে দোয়া করবে, যেন তোমাদের মন সাক্ষ্য দেয়, হ্যাঁ তোমরা তার প্রতিদান দিয়ে দিয়েছ (আবু দাউদ)।’ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর তবে তা শেষ করতে পারবে না (সুরা নাহল আয়াত ১৭)।’ আল্লাহর দেওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নেয়ামত হলো স্বাধীনতা। বাংলাদেশের মানুষ দুই যুগের দীর্ঘ সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আল্লাহর এ নেয়ামত অর্জন করেছে। আমাদের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর কাছে এই দিনে আমরা তাঁদের জন্য দোয়া করব। আল্লাহ তাঁদের বেহেশতের সুশীতল স্থানে ঠাঁই দিন।লেখক : ইসলামিক গবেষক

AAkash
📅 ২৬ মার্চ, ২০২৬১৫

ইসলামিক শিক্ষা

আরও দেখুন →
Loading...
কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক রাজনীতি

‘(তুমি বল) তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে বিচারকরূপে কামনা করব? অথচ তিনি তোমাদের প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ। আর যাদেরকে আমরা ইতিপূর্বে কিতাব দিয়েছিলাম, তারা ভালভাবেই জানে যে, এটি (কুরআন) তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে সত্যসহ নাযিল হয়েছে। অতএব তুমি অবশ্যই সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’ (১৪)। ‘তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য ও ন্যায় দ্বারা পূর্ণ। তাঁর বাণীর পরিবর্তনকারী কেউ নেই। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ’ (১৫)। ‘অতএব যদি তুমি জনপদের অধিকাংশ লোকের কথা মেনে চল, তাহ’লে ওরা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুৎ করবে। তারা তো কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং তারা তো কেবল অনুমান ভিত্তিক কথা বলে’ (আন‘আম-মাক্কী ৬/১১৪-১৬)।সংক্ষিপ্ত তাফসীর......পরপর বর্ণিত তিনটি আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ইসলামী জীবন ব্যবস্থার মৌলিক কিছু ভিত্তি ও নীতি বর্ণনা করেছেন। যেমন-(১) যেকোন বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়ছালা দানকারী হ’লেন আল্লাহ। অতএব আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে বিধানদাতা বা বিচারক হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয় (কুরতুবী)।(২) আল্লাহর কিতাব সবকিছুর বিস্তারিত ব্যাখ্যা। অর্থাৎ হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায় এবং জীবনযাপনের সকল মৌলিক বিধি-বিধান তিনি এই কিতাবে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।(৩) ইহূদী-নাছারাগণ কুরআনের সত্যতা জানা সত্ত্বেও মুখে সন্দেহ প্রকাশ করবে।(৪) ঈমানদারগণকে অহি-র বিধানে সন্দেহ করা চলবে না।(৫) আল্লাহর কালাম সত্য ও সুবিচার দ্বারা পূর্ণ। অর্থাৎ কুরআনে বর্ণিত প্রতিটি সংবাদ ও তথ্য সত্য এবং এর প্রতিটি আদেশ, নিষেধ ও বিধান ন্যায়পূর্ণ। এতে কোন ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা নেই। তাই কোন সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন নেই। রাসূল (ছাঃ)-এর সুস্পষ্ট ঘোষণা, যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন (বিদ‘আত) করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (বুখারী হা/২৬৯৭)।(৬) কুরআনের কোন পরিবর্তনকারী নেই। ক্বিয়ামত পর্যন্ত কেউ এর কোন একটি শব্দ বা বিধানকে রদবদল বা পরিবর্তন করতে পারবে না। আল্লাহ স্বয়ং এর সংরক্ষক।(৭) আল্লাহর বাণী যে অপরিবর্তনীয় এবং তিনি যে সবকিছু শোনেন ও জানেন এই বিশ্বাস একজন মুমিনকে শত প্রতিকূলতার মাঝেও হকের উপর অবিচল থাকতে সাহস যোগায়।(৮) আল্লাহ প্রেরিত অহি-র বিধান হ’ল চূড়ান্ত ও অভ্রান্ত।(৯) সংখ্যা কখনো হক ও বাতিলের মাপকাঠি নয়। অধিকাংশ মানুষ তাদের প্রবৃত্তি, অজ্ঞতা, পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুসরণ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়। তাই সত্য যাচাইয়ের মানদন্ড যদি আল্লাহর বাণী না হয়ে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের মতামত হয়, তাহলে ফলাফল হবে নিশ্চিত পথভ্রষ্টতা।(১০) সত্যের অনুসারীরা সংখ্যায় কম হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ইসলাম নিঃসঙ্গভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। সত্বর সেই অবস্থায় ফিরে আসবে। অতএব সুসংবাদ হ’ল সেই অল্পসংখ্যক লোকদের জন্য যারা দ্বীনের সংস্কার করবে। যখন মানুষ নষ্ট হয়ে যাবে (ছহীহাহ হা/১২৭৩, রাবী ইবনু মাসঊদ (রাঃ)।(১১) আল্লাহর বিধানের অনুসরণে সমাজের অধিকাংশ লোক বাধা হবে।(১২) অহি-র বিধানের বিপরীতে অধিকাংশের রায় গ্রহণযোগ্য নয়।(১৩) অধিকাংশের মতের বিরুদ্ধে অহি-র বিধানকে প্রতিষ্ঠা দানে চাই উক্ত লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ একদল ঈমানদার মুজাহিদ।(১৪) অহি-র বিধান দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কল্যাণবহ।দুনিয়াতে নাস্তিকের সংখ্যা খুবই কম। বরং মুশরিকের সংখ্যাই বেশী। যারা আল্লাহকে স্বীকার করে। কিন্তু তারা আল্লাহর সাথে বা তাঁর গুণাবলী ও আইন-বিধানের সাথে অন্য কোন সত্তা ও গুণাবলী বা তার বিধানকে শরীক করে। আল্লাহ বলেন, وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللهِ إِلاَّ وَهُمْ مُشْرِكُونَ- ‘তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে। অথচ তারা শিরক করে’ (ইউসুফ-মাক্কী ১২/১০৬)। অর্থাৎ ঈমানদারগণের অধিকাংশ আল্লাহর সাথে বা তাঁর গুণাবলীর সাথে অন্যকে শরীক করে। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যারা ঈমান আনার পরেও বিভিন্ন শিরকে লিপ্ত রয়েছে, তারাও এ আয়াতের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। (এ বিষয়ে হাফেয ইবনু কাছীর স্বীয় তাফসীরে অনেকগুলি হাদীছ উদ্ধৃত করেছেন)।আরবের মুশরিকরা আল্লাহকে মানতো। যখন তারা হজ্জ করত তখন ‘তালবিয়া’ পাঠ করার সময় বলত,لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ إِلاَّ شَرِيكًا هُوَ لَكَ تَمْلِكُهُ وَمَا مَلَكَ- ‘আমি হাযির হে আল্লাহ তোমার কোন শরীক নেই। একজন মাত্র শরীক আছে তোমার জন্য। তুমি তার ও তার অধিকারভুক্ত সব কিছুর মালিক’। মুসলিম শরীফের অন্য বর্ণনায় এসেছে, যখন মুশরিকরা তালবিয়া পাঠ করত, তখন ‘লাববায়েক লা শারীকা লাকা’ পর্যন্ত গেলেই আল্লাহর নবী (ছাঃ) তাদের বলতেন, قَدْ قَدْ ‘যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। আর বেড়ো না।১কিন্তু শুধুমাত্র আল্লাহর স্বীকারোক্তি তাদেরকে মুমিন বানাতে পারেনি। তাদের নাম ‘আব্দুল্লাহ’ ‘আব্দুল মুত্ত্বালিব’ ছিল। কিন্তু শুধু নাম দিয়েই তারা মুসলমান হ’তে পারেনি। আজকের নামকা ওয়াস্তে মুসলমানরাও আল্লাহকে স্বীকার করে। কিন্তু জীবনের যে সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান মেনে চললে দুনিয়াবী স্বার্থের ক্ষতি হয়, সে সকল ক্ষেত্রে তারা তা অমান্য করে বা কৌশলে এড়িয়ে চলে। আর একারণেই তারা সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ইত্যাদি বিজাতীয় মতবাদের প্রতিষ্ঠাকল্পে জানমাল ব্যয় করে। কিন্তু আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। এর জন্য জান-মাল ও শ্রম ব্যয় করতে চায় না। কারণ আল্লাহর আইন সকল বান্দার জন্য সমান। সেখানে সবল, দুর্বল, সরকারী দল, বিরোধী দল কারু জন্য কোন দয়া প্রদর্শন করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ইসলামের ফৌজদারী আইন বাহ্যত খুবই কঠোর, যা থেকে বাঁচার জন্য সমাজের প্রায় সকল অপকর্মের হোতা সমাজনেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন অজুহাতে আল্লাহর আইনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে ভয় পায়।অত্র আয়াতে সার্বভৌম ক্ষমতা আল্লাহকে প্রদান করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ঊর্ধে। অর্থাৎ দেশের জাতীয় সংসদে যদি এমন কোন আইন পাস হয়, যা আল্লাহর আইনের সাথে সাংঘর্ষিক, তখন রাষ্ট্র প্রধানের কর্তব্য হবে আল্লাহর আইন বলবৎ করা ও সংসদে গৃহীত আইন প্রস্তাব বাতিল করা। কেননা মুসলিম রাষ্ট্র প্রধান ইসলামী আইন বলবৎ করতে ধর্মীয়ভাবেই বাধ্য। এখানে প্রণিধানযোগ্য যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বলা হয়ে থাকে ‘জনগণই সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস’। জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন সংখ্যাগরিষ্ট দলের প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রী পরিষদ। রাষ্ট্রপ্রধান এখানে ক্ষমতাহীন একটি ইনস্টিটিউশন মাত্র।এক্ষণে মুসলিম রাজনীতিকগণ যদি জনগণকে সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস বলার মাধ্যমে আল্লাহর সার্বভৌম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ করেন, তবে তা হবে পরিষ্কারভাবে শিরক। আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত কোন বস্ত্তকে হালাল করার কোন অধিকার কোন মুসলিম সরকার বা রাষ্ট্রের নেই। অথচ বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাজনীতিকগণ দলীয় সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে ব্যবহার করে আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত সূদ-ঘুষ-জুয়া-লটারী-বেশ্যাবৃত্তি সবকিছুর অবাধ অনুমতি দিচ্ছেন। মাদক সেবন, চুরি-ডাকাতি-রাহাযানির বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর বিধান তারা জারি করছেন না। আদালতগুলিতে আল্লাহর আইনে বিচার না করে নিজেদের তৈরী আইনে বিচারের নামে অবিচার করা হচ্ছে। এভাবে আল্লাহর স্বাধীন সৃষ্টি মানুষকে তারা নিজেদের গোলাম বানিয়েছে। এগুলি আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতাকে সরাসরি আঘাত করে। অতএব এই শিরকের মহাপাতক হ’তে বাঁচার জন্য প্রত্যেক মুসলমানকে জিহাদী প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগিয়ে আসা কর্তব্য।ইসলামী জীবন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মুমিনকে স্রেফ আল্লাহর অহি-র অনুসরণ করতে হয়। তবে যেসব বিষয় ব্যাখ্যা সাপেক্ষ, সেসব বিষয়ে ইসলামী শরী‘আতে অভিজ্ঞ বিদ্বানদের নিকট থেকে পরামর্শ ও উপদেশ গ্রহণ করতে হয়। ইসলামে হারাম-হালাল, ফরয-ওয়াজিব ইত্যাদি বিষয়গুলি স্পষ্ট দলীল দ্বারা প্রমাণিত। অতএব এ বিষয়গুলি ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করা প্রত্যেক মুমিনের ধর্মীয় দায়িত্ব। এর জন্য রাষ্ট্রপ্রধান পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী হবেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ‘অধিকাংশের রায় চূড়ান্ত’। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ‘অহি-র বিধানই চূড়ান্ত’। জাতীয় সংসদে অধিকাংশের রায় যদি অহি-র বিধানের বিপরীত হয়, তবে রাষ্ট্রপ্রধান ঐ রায়ে ভেটো দিবেন ও অহি-র বিধান বলবৎ করবেন। উপরে বর্ণিত ১১৬ নং আয়াতে অধিকাংশের কথা অনুযায়ী কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে, যদি তা আল্লাহর বিধানের বিপরীত হয়।ইসলামী শরী‘আতের সীমারেখার মধ্যে ইসলামী বিদ্বানদের অধিকাংশের মতামত ততক্ষণ গ্রহণযোগ্য হ’তে পারে, যতক্ষণ তা কুরআন ও ছহীহ হাদীছের প্রকাশ্য অর্থের অনুকূলে হবে। নইলে প্রত্যাখ্যাত হবে। যখনই স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ পাওয়া যাবে, তখনই সকল ‘রায়’ বাতিল হবে। যদিও সেটা পার্লামেন্ট বা প্রেসিডেন্টের রায় হয়। অতএব প্রচলিত সকল বিধানকে অহি-র বিধানের অনুকূলে বাতিল বা সংশোধন করে নেওয়া সকল মুমিনের জন্য বিশেষ করে সরকারী দল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপরে ফরয দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের জন্য এবং সরকার ও জনগণকে সচেতন ও সক্রিয় করে তোলার জন্য অবশ্যই একটি জামা‘আত বা দল থাকতে হবে। যারা উক্ত লক্ষ্যে দিনরাতের আরামকে হারাম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যেকোন ত্যাগের বিনিময়ে এগিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবে।পরিশেষে বলব, বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। মুসলমান হিসাবে আমাদের দায়িত্ব সবকিছুকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পুনর্গঠন করা। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন- আমীন!– প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব(আত-তাহরীক)

AAkash
📅 ২৬ মার্চ, ২০২৬
Loading...
মহানবী (সা.) শবেকদরে যে দোয়া পাঠ করতে বলেছেন

শবেকদরের রাতে বিশেষ একটি দোয়া পড়ার কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি লাইলাতুল কদর জানতে পারি, তাহলে সেই রাতে কী দোয়া করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি এ দোয়া পড়বে—اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيউচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন, তুহিব্বুল ‘আফওয়া, ফা‘ফু ‘আন্নি।অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তুমি পরম ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো।অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮৫০)শবেকদরের রাতে এই দোয়া ছাড়াও বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, কোরআন তেলাওয়াত করা, নফল নামাজ আদায় করা এবং আল্লাহর কাছে নিজের ও সমগ্র উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।

AAkash
📅 ১৬ মার্চ, ২০২৬৩৬
Loading...
তওবা ছাড়া শবেকদরেও যারা ক্ষমা পাবে না

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। আর রমজানের শেষ দশকের সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হলো শবে কদর (লাইলাতুল কদর)। যে রাতকে আল্লাহ তাআলা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন।আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই আমি একে (কোরআন) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আর তুমি কি জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সুরা আল-কদর, আয়াত : ১–৩)এই রাত আল্লাহর অশেষ রহমত ও ক্ষমার রাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদতে রাত কাটাবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারি, হাদিস: ৩৫; মুসলিম, হাদিস: ৭৬০)তবে ইসলামী শিক্ষায় এমন কিছু গুরুতর গুনাহের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোতে লিপ্ত থেকে তওবা না করলে মানুষ আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এমনকি শবে কদরের রাতেও। তাই এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।১. শিরকে লিপ্ত ব্যক্তিইসলামে সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো শিরক।অর্থাৎ আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা বা তাঁর একত্বে অবিশ্বাস করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না; তবে এর বাইরে যা আছে তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত : ৪৮) অতএব শিরকের গুনাহ থেকে তওবা না করলে কোনো ইবাদতই মানুষের জন্য মুক্তির নিশ্চয়তা হতে পারে না।২. মানুষের হক নষ্টকারী (হক্কুল ইবাদ লঙ্ঘনকারী)মানুষের অধিকার নষ্ট করা ইসলামে অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা, প্রতারণা করা, অন্যায়ভাবে কারও অধিকার হরণ করা।এসব গুনাহ শুধু তওবা করলেই মাফ হয় না; বরং যার অধিকার নষ্ট হয়েছে, তার কাছ থেকে ক্ষমা নিতে হয়।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমরা কি জানো প্রকৃত নিঃস্ব কে? সাহাবারা বললেন, আমাদের মধ্যে নিঃস্ব সে, যার কাছে ধন-সম্পদ নেই। তখন তিনি বললেন, আমার উম্মতের নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও যাকাত নিয়ে আসবে; কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কারও রক্তপাত করেছে বা কাউকে প্রহার করেছে। তখন তার নেক আমলগুলো তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮১)৩. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানইসলামে পিতা-মাতার প্রতি সম্মান ও আনুগত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অবাধ্য হওয়া বা কষ্ট দেওয়া বড় গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তিন শ্রেণির মানুষের দিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকাবেন না: পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, মদপানে আসক্ত ব্যক্তি এবং যে ব্যক্তি উপকার করে তা স্মরণ করিয়ে অপমান করে।” (সুনান নাসাঈ, হাদিস: ২৫৬২; মুসনাদ আহমদ)৪. মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তিমাদকাসক্তি ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। কারণ এটি মানুষের বিবেক ও চরিত্র ধ্বংস করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : “যে ব্যক্তি নিয়মিত মদ পান করে, সে যদি তওবা না করে মারা যায়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (বুখারি, হাদিস: ৫৫৭৫)অতএব মদপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্যে আসক্ত ব্যক্তি যদি সত্যিকার তওবা না করে, তবে সে আল্লাহর বিশেষ রহমত থেকে বঞ্চিত হতে পারে।৫. বিদ্বেষ ও হিংসা পোষণকারী ব্যক্তিমানুষের অন্তরে যদি হিংসা ও শত্রুতা থাকে, তবে তা ইবাদতের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। ইসলামে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। তখন প্রত্যেক মুমিনকে ক্ষমা করা হয়, কিন্তু সেই দুই ব্যক্তিকে নয় যারা একে অপরের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে। তখন বলা হয়—তাদেরকে অপেক্ষা করতে দাও যতক্ষণ না তারা মিলমিশ করে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৬৫)৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীআত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। যারা অহেতুক কারণে আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তারা আল্লাহর অসন্তুষ্টির মুখে পড়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : “আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৪)শবে কদরের শ্রেষ্ঠ দোয়ালাইলাতুল কদরের রাতে বেশি বেশি তওবা ও দোয়া করার কথা হাদিসে এসেছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, যদি আমি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই তবে কী দোয়া করব? তিনি বলেন—اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيউচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন তুহিব্বুল ‘আফওয়া ফা‘ফু ‘আন্নি।অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তুমি পরম ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো; অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (সুনান তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)শবে কদর এমন এক মহিমান্বিত রাত, যখন আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু সেই ক্ষমা লাভের জন্য প্রয়োজন আন্তরিক তওবা, হৃদয়ের পরিশুদ্ধতা এবং মানুষের অধিকার রক্ষা করা।অতএব এই পবিত্র রাতে আমাদের উচিত; গুনাহ থেকে ফিরে আসা, মানুষের হক আদায় করা, পিতা-মাতার সন্তুষ্টি অর্জন করা,হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করা এবং আল্লাহর কাছে অশ্রুসিক্ত হৃদয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা।কারণ যে ব্যক্তি সত্যিকারের তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ তাকে নিরাশ করেন না। কিন্তু যে ব্যক্তি গুনাহে অটল থাকে এবং তওবা করে না—সে শবে কদরের মতো মহিমান্বিত রাতেও ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।লেখক: শিক্ষার্থী, এন. আকন্দ কামিল মাদরাসা, নেত্রকোণা।

AAkash
📅 ১৬ মার্চ, ২০২৬