BDBOYS...
BDBOYS...
গল্পঃ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকেলেখিকাঃ সালমা চৌধুরী..................................................................................................................................................................আবিরের নিগূঢ় আঁখি যুগলে অসহায়ত্বের ছাপ। মেঘ অভিনিবিষ্টের ন্যায় আবিরের জলসিক্ত নয়নের পানে তাকিয়ে আছে। হৃদপিণ্ডের তীব্র কম্পনে মেঘের গায়ের রক্ত প্রবল বেগে টগবগ করছে। আবিরের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে গেছে, অনবরত তিরতির করে ঠোঁট কাঁপছে। মাথা থেকে ঘামের রেখা কপালের পাশ বেয়ে গড়িয়ে পরছে। আবিরের শীতল দুচোখ মেঘের অভিমুখে। মেঘ আনমনে কতকিছু ভেবে হঠাৎ পল্লব ঝাপ্টে প্রশ্ন করল,“কি স্বপ্ন দেখেছেন?”সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে মেঘের প্রশ্ন শুনে নড়ে উঠল আবির তবে তখনও গভীর দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। থমথমে গলায় উত্তর দিল,” দুঃস্বপ্নের কথা বলতে নেই। আর আমি ম*রে গেলেও এই স্বপ্ন সত্যি হতে দিব না। ”মেঘ ঠোঁট উল্টে চোখ গোল গোল করে অসহায় মুখ করে চেয়ে আছে। আবির পরক্ষণেই বলে উঠল,“আচ্ছা শুন”“জ্বি। ”“তোর শরীর কেমন এখন?”“আলহামদুলিল্লাহ ভালো।”“এখনও শ্বাসকষ্ট হয়? বা অন্য কোনো সমস্যা? ”“শ্বাসকষ্ট হয় না তবে অন্য সমস্যা আছে।”আবির উদ্বিগ্ন কন্ঠে শুধালো,“কি সমস্যা? বলিস নি কেনো আগে?”একটু থেমে আবারও বলে উঠল,“আমি তানভিরকে বলে রাখবো কাল সকালে মামনিকে নিয়ে ডাক্তারের….”এরমধ্যে মেঘ আবেগময় কন্ঠে বলল,“কাউকে অতিরিক্ত মিস করার সমস্যা। কোন ডাক্তার দেখাবো বলুন..”আবিরের কথা বন্ধ হয়ে গেছে। মেঘের এমন কথায় আবিরের চোখে মুখে খানিক উজ্জ্বলতা ফুটে উঠেছে।নিদারুণ অনুভূতিরা বক্ষস্পন্দন বাড়াতে ব্যস্ত। আবির নিশ্চুপ হয়ে চেয়ে আছে অপরূপ সেই মুখমণ্ডলে। মেঘ আহ্লাদী কন্ঠে আবারও শুধালো,“বলুন না, কোন ডাক্তার দেখাবো?”আবির ভ্রু কুঁচকে গুরুভার কন্ঠে বলল,” সব বিষয় নিয়ে মজা করিস না, মেঘ। শারীরিককোনো সমস্যা মনে হলে ডাক্তার দেখাস প্লিজ। ”অভিমানের দমকা হাওয়া বয়ে গেল মেঘের মনে। মেঘ ঠোঁট উল্টিয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে জানতে চাইল,“মানসিক সমস্যা হলে কি করব?”“তোর মানসিক সমস্যা শুনার জন্য তো আমিই আছি। এই ডাক্তার চলবে না? ”মেঘ ফিক করে হেসে বলল,” আপনি ডাক্তার?সার্টিফিকেট টা দেখাবেন প্লিজ।”আবির চোখ সরু করে বলে উঠল,” সার্টিফিকেট টা না হয় দেশে ফিরেই দেখালাম।”টুকটাক কথা চলল কিছুক্ষণ। আবিরের মন ভালো করতে অল্পস্বল্প দুষ্টামিও করেছে মেঘ। কিন্তু আবিরের মন ভালো হওয়ার বিন্দুমাত্র লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এদিকে রাত গভীর হচ্ছে, ঘুমে মেঘের চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। মেঘ নিজের প্রতি খুব ক্ষুদ্ধ হচ্ছে। আবির আজ খুব মনোযোগী। মেঘ যা জিজ্ঞেস করছে সবেতেই তার আদরমাখা উত্তর রেডি। এই অপরুপ মুহুর্ত রেখে ঘুমানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই মেঘের কিন্তু চোখ যেন মেঘের ইচ্ছেকে পাত্তায় দিচ্ছে না। আবিরের কথার মাঝে ঘুমের আবেশে বার বার চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টা খেয়াল করে আবির অত্যন্ত নমনীয় স্বরে জিজ্ঞেস করল,“ঘুম পাচ্ছে?”মেঘ চোখ বড় করে তাকিয়ে জবাব দিল,” কই না তো।”আবির মলিন হেসে বলল,“জোর করে কথা বলতে হবে না। আমি পালিয়ে যাচ্ছি না, ঘুমান।”” ঘুম চলে গেছে। ”“কে চলে গেছে কে যায় নি সেটা পরে দেখছি। আপাতত কল না কেটে ফোনটা পাশে রেখে চোখ বন্ধ করুন। ”মেঘ আঁতকে উঠে চাইল আবিরের অভিমুখে। হৃদপিণ্ড ছুটছে দ্বিকবিদিক, হৃদপিণ্ডের পিটপিট শব্দ বেড়েই চলেছে। “কল না কেটে” কথাটা যেন মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। মেঘ থমথমে কন্ঠে বলল,“কল না কাটলে ঘুম আসবে না।”আবির গুরুভার কন্ঠে জানাল,“সেটা আমি বুঝবো। এখন যা বলছি করুন।”আবিরের ক্ষিপ্ত নয়ন জোড়া দেখে মেঘ ঢোক গিলে বালিশের পাশে ফোন হেলান দিয়ে রেখে গায়ে পাতলা কাঁথা জরিয়ে শুয়ে পরেছে। মেঘ মুখ ফুলিয়ে শ্বাস ছেড়ে শীতল কন্ঠে বলল,” কল কাটবেন কখন? আমার লজ্জা লাগছে।”আবিরের নিরুদ্যম কণ্ঠের জবাব,” লজ্জা লাগছে যেহেতু চোখ বন্ধ করে রাখ। বেশরমের মতো তাকিয়ে থাকতে কে বলছে? ”মেঘ চোখমুখ কুঁচকে কন্ঠ ভারী করে বলল,“আপনি এটা বলতে পারলেন!”আবির গম্ভীর গলায় বলল,“চোখ বন্ধ। আর একবার চোখ খুললে খবর আছে। ”মেঘ চোখ বন্ধ করে কাটকাট গলায় জানাল,“আপনি কিন্তু নিজ দায়িত্বে কল কেটে দিবেন।”আবিরের আর কোনো জবাব এলো না। বৈদ্যুতিক বাতির আলোতে আলোকিত রুমে ফ্যানের বাতাসে মেঘের চুলগুলো অনবরত উড়ছে, আবির অবাক লোচনে সেই দৃশ্য দেখতে ব্যস্ত । মেঘের মুখের প্রতিটা পশম সূক্ষ্ম নেত্রে পরখ করছে আবির৷ মেঘের ফর্সা কপোলের নিকষ কালো তিলটা খুব বেশি আকৃষ্ট করছে। আবিরের হৃদয় কেঁপে উঠেছে, শরীরজুড়ে অজানা শিহরণ। কিছু সময়ের মধ্যে মেঘের নিশ্বাসের শব্দ জোড়ালো হলো। রাত ২ টা বেজে ১৭ মিনিট, মেঘ গভীর ঘুমে নিমগ্ন আবির ফোনের অপর পাশ থেকে গভীর মনোযোগ দিয়ে তার প্রেয়সীকে দেখতে ব্যস্ত।ভোরের মৃদু আলো আর বৈদ্যুতিক বাতির আলোতে মেঘের রুম ঝলমল করছে। চোখে আলো লাগছে, মেঘ ঘুমের মধ্যেই ভ্রু কুঁচকে নড়ে উঠল। কপালে হাত রেখে চোখ ঢাকার চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। দীপ্ত আলোর চিত্তদাহে বিরক্ত হয়ে কপালে কয়েকস্তর ভাঁজ ফেলে অল্পবিস্তর চোখ মেলল মেঘ। ঘুম ঘুম চোখের কোণে ফোনে নড়ে ওঠা কারো অবয়ব ভেসে উঠল। মেঘ তৎক্ষনাৎ ঘাড় কাত করে স্পষ্ট চোখে তাকালো সেদিক।সঙ্গে সঙ্গে মেঘের সমস্ত শরীর শিউরে উঠলো। বালিশে হাত রেখে তারউপর মাথা রেখে আবির নিগূঢ় দৃষ্টিতে মেঘের দিকে চেয়ে আছে, ঠোঁটে লেগে আছে মায়াবী হাসি। আবিরের উষ্কখুষ্ক চুল, গাল ভর্তি ছাপ দাঁড়ি আর নেশাক্ত দৃষ্টি দেখে শোভিত পুরুষের সুষুপ্ত আদলের মোহে ডুবে গেছে। আবির ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলল,“Good Morning,Sparrow.”আবিরের ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠস্বর কানে বাজতেই দুর্ভেদ্য আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল মেঘ। এই দৃষ্টি, কন্ঠস্বরে মেঘের অন্তরাত্মা পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে। চোখ খুলে রাখার বিন্দু পরিমাণ শক্তি অবশিষ্ট নেই। আবির তখনও নিষ্পলক চোখে তাকিয়েই আছে। আবির একগাল হেসে শান্ত কন্ঠে শুধালো,“ঘুম ভালো হয় নি? আমি এসে পর্দা টেনে দিয়ে যাবো?”মেঘ এবার সর্বশক্তি দিয়ে সাফ তাকিয়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠে শুধালো,“আপনি কি সারারাত ঘুমান নি?”“না।”“কেনো?”“ঘুম আসছিল না।”মেঘ কন্ঠ খাদে নামিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল,“কল কাটতে বলছিলাম কাটেন নি কেনো?”” কল কাটতে ইচ্ছে করে নি তাই কাটি নি।”মেঘ ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,” অফিস নেই?”“আছে।”মেঘ সময় দেখে পুনরায় শক্ত কন্ঠে বলল,“সময় হয়ে যাচ্ছে। উঠছেন না কেনো এখনও?”“যেতে ইচ্ছে করছে না।”আবিরের নিরুদ্বেগ কন্ঠের একেকটা উত্তর শুনে মেঘ আশ্চর্য বনে যাচ্ছে। যে মানুষটাকে এতদিন গুরু-গম্ভীর,অনুভূতিহীন আর নিষ্ঠুর ভেবে এসেছে সেই আবির ভাইয়ের আকস্মিক পরিবর্তন মেঘের মনে বিশাল প্রভাব ফেলছে। মেঘ রাশভারী কন্ঠে শুধালো,“সমস্যা কি আপনার? ”আবির মুচকি হেসে উত্তর দিল,” বহুত সমস্যা। এদের কোনো সমাধানও নেই।”নিজের অজান্তেই মেঘের ঠোঁট জুড়ে ললিত হাসি ফুটলো। লজ্জায় লাল হওয়া দু গাল চিকচিক করছে। মেঘ শক্ত কন্ঠে বলল,” থাক ভাই বুঝছি আপনার সমস্যা। প্লিজ, এখন উঠে অফিসে যান।”“আমি তোর ভাই?”” ভাই না তো কি?”মেঘের মুখে এমন প্রশ্ন শুনে আবির ভেতরে ভেতরে জ্বলে উঠলো। গম্ভীর মুখ করে সূক্ষ্ম নেত্রে তাকিয়ে অগ্নিকণ্ঠে বলল,“আমি তোর বাবার দাদুর নাতির ছেলে হতে পারি কিন্তু তোর ভাই না, বাই।”আবির কল কেটে দিয়েছে। মেঘ আহাম্মকের মতো বসে আছে। আবির যে ভাই ডাকার ক্ষোভে রাগ করে ফোন কেটেছে এটা বুঝতে সময় লাগলো না মেঘের। কিন্তু এটাও বুঝতে পারছে না, আবির ভাই আর শুধু ভাই এর মধ্যে পার্থক্য টা কি! বেশকিছুক্ষণ বসে থেকে চটজলদি উঠে রুম গুছিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেল। ওজু করে ফজরের নামাজ পড়ে ছাদে গিয়ে কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে রুমে আসলো। এরমধ্যে আবিরের আর কোনো কল আসলো না। মেঘের মনে বেশকিছু প্রশ্ন উদ্গত হচ্ছে। রুমে কিছুক্ষণ পায়চারি করে এক বুক সাহস নিয়ে অডিও কল দিল ৷ কল বাজতে বাজতে কেটে গেছে। মেঘ এবার চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে ভিডিও কল দিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রিসিভ হলো। দেখেই বুঝা যাচ্ছে সদ্য শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে কোনোরকমে কল টা রিসিভ করেছে আবির । এখনও ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে। আবিরের জলসিক্ত উন্মুক্ত শরীর, কোমড়ে বাঁধা সাদা টাওয়েল। আবিরের ভেজা চুল, লোমশ বুকে আর নির্মেদ পেট দেখে মেঘ যত্রতত্র দৃষ্টি সরিয়ে নিল। ঢোক গিলে উষ্ণ শ্বাস ছেড়ে বলল,“সরি সরি। অসময়ে কল দিয়ে ফেলছি। ”আবির মেকি স্বরে বলল,” সরি বললেই কি আমার মানইজ্জত ফিরে পাবো? ”মেঘ চোখ নামিয়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল,” আমি বুঝতে পারি নি, সরি। ”আবির মুচকি হেসে অন্য একটা টাওয়েল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বলল,” দূর পাগলি, এসব কোনো ব্যাপার না। তাছাড়া আমি আপনার কলের অপেক্ষায় ছিলাম।”“কেনো?”“আজ প্রজেক্টের ফাইনাল মিটিং কি পড়ে যাব বুঝতে পারছিলাম না। আবার করেছি রাগ তাই নিজে থেকে কলও দিতে পারছিলাম না।”মেঘ লাজুক হেসে বলল,” আপনি এমন ঢং করা কোথা থেকে শিখছেন?”“আপনার থেকেই শিখেছি।”মেঘ ভেঙচি কাটলো। আবির মুচকি হেসে ২-৩ টা শার্ট ফোনের সামনে ধরে চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করল,“কোনটা পড়ব?”মেঘ কয়েক সেকেন্ডেই একটা শার্ট সিলেক্ট করে দিল, আবির ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে একদম ইন করে শার্ট পড়ে, ব্লেজার-টাই সঙ্গে সু জুতা পড়ে সম্পূর্ণ রেডি হয়ে গেছে। ফোন থেকে খানিকটা দূরে সরে উঁচু গলায় জিজ্ঞেস করল,“কেমন লাগছে?”মেঘ আপাদমস্তক দেখে মোলায়েম কন্ঠে বলল,“মাশাআল্লাহ কিন্তু… ”“কিন্তু কি?”“How do I bite the pinky finger now?”(আমি এখন কনিষ্ঠা আঙুলে কিভাবে কামড় দিব?)“In a dream” (স্বপ্নে)আবির টেবিল থেকে সানগ্লাস টা নিয়ে চোখে দিয়ে শেষবারের মতো ফাইল গুলো দেখে নিচ্ছে। এদিকে সানগ্লাস চোখে দেখায় মেঘ গুনগুন করে গান গাইতে শুরু করল,“কালো সানগ্লাসটাই কেন এতো সুখ,হে যুবক।”আবির ফোন কাছে নিয়ে বলল,“দৃষ্টিতে যেন সে রাসপুতিন,খু*ন হয়ে যাই আমি প্রতিদিন।এটা বলবেন না?”মেঘ নিজের মাথায় গাট্টা মেরে, মুখ চেপে ধরেছে। আবির জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মলিন হেসে বলল,” শুনলাম আপনি ইদানীং খুব বেশি গান গাইতেছেন। কই আমাকে তো শুনালেন না!”মেঘ বিড়বিড় করে বলল,” আপনার অফিস কখন? যান না কেনো?”“যাবই তো। আগে কথা শেষ করি। ”“আপনার সাথে আর কোনো কথা নেই। গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকা সত্ত্বেও সারারাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন। এখন আবার ঢং করতেছেন। এদিকে আব্বু শুধু আমার ভাইয়ের দোষ ই দেখে আপনার দোষ দেখে না। আপনি যে সারারাত ঘুমান নি এটা কি ঠিক করেছেন? এর প্রভাব মিটিং এ পড়বে না?”“জ্বি না ম্যাম। বরং আজকের মিটিং বেস্ট হবে। আপনি শুধু দোয়া করবেন। মিটিং শেষ করেই কল দিব। ঠিক আছে? ”“ফি আমানিল্লাহ। বেস্ট অফ লাক।”“থ্যাংক ইউ।”বিকেলের দিকে আবিরের সাথে কথা হয়েছে। আজকের মিটিং ঠিকঠাক মতো শেষ হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজেক্ট কমপ্লিট হয়ে যাবে। মোজাম্মেল খান আর আলী আহমদ খান আবিরকে বাসায় ফিরতে বলছেন। কিন্তু আবির বলেছে আরও ২ মাসের মতো সময় লাগবে। কারণ জিজ্ঞেস করায় বিস্তারিত কিছুই বলে নি। এদিকে মেঘও বেশ উদ্বিগ্ন। বন্যার সাথে আগে থেকে প্ল্যান করা ছিল আজ বিকেলে মেলায় যাবে। বন্যা রেডি হয়ে বিকেলের দিকে বেরিয়েছে ঠিকই কিন্তু মেঘ আবিরের উপর অভিমান করে ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পরেছে। বন্যা বেশ কয়েকবার কল দিয়েছে, বন্ধ পেয়ে একা একায় হাঁটছে। অন্যসময় হলে মেঘকে বাসা থেকে নিয়ে আসতো কিন্তু ইদানীং মেঘদের বাসায় যাওয়ার কথা মাথায় আসলেই লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে যায়। ঘন্টাখানেক পর তানভিরের কল আসছে। অসময়ে তানভিরের কল দেখে বন্যা খানিকটা অবাক হয়ে আশেপাশে তাকালো। কোথাও পরিচিত কাউকে নজর পড়ছে না। ভয়ে ভয়ে কল রিসিভ করল। তানভির স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,” একা একা ঘুরছো কেনো?”” আপনার বোন আমাকে বাসা থেকে বের করে এখন ফোন বন্ধ করে ফেলেছে।”“তুমি আমাকে কল দিতে পারতা না?”“এত ইমার্জেন্সি ছিল না তাই দেয় নি।”“কোথায় আছো? বলো আমি আসতেছি।”“আপনার আসতে হবে না।”“বলো।”বন্যা জায়গার নাম বলতেই তানভির বলল,“আমি কাছেই আছি। ১০ মিনিট অপেক্ষা করো৷ ”৮ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে তানভির বাইক সমেত হাজির হলো। বন্যা তানভিরকে দেখে আস্তে করে বলল,“আপনার আসার কোনো দরকার ছিল না। আমি এখনি চলে যেতাম।”” রেগে আছো? ”বন্যা শ্বাস ছেড়ে শান্ত কন্ঠে বলল,“নাহ।”” বনু ঘুমাচ্ছে৷ তুমি বাসায় গেলে না কেনো? আর নয়তো আমাকে আগে কল দিতে। আমি বনুকে নিয়ে আসতাম।”“আমি বাহিরে আছি এটা আপনাকে কে বলছে?”“বনু কল দিয়েছিল। বলছে ওর বের হওয়ার মুড নেই। তোমাকে যেন মেলায় নিয়ে যায়।”বন্যা কপাল গুটিয়ে ধীর কন্ঠে বলল,“আমি মেলায় যাব না।”মনে মনে মেঘকে কিছুক্ষণ বকে নিল। তানভির সবসময়ের মতো গম্ভীর কন্ঠে বলল,“বনুর কথা অমান্য করলে বাসায় তুলকালাম কান্ড করে ফেলবে। এমনিতেই বাসায় আমাকে কেউ সহ্য করতে পারে না এ অবস্থায় বনুকে রাগালে আমায় নিশ্চিত বাসা থেকে বের করে দিবে। ”বন্যা কিছু বলল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে পশ্চিমা আকাশের পানে তাকিয়ে আছে। সূর্য আপন গতিতে নিজ গন্তব্যে ছুটছে। আজকের আকাশ অন্যান্য দিনের থেকেও অনেক বেশি সুন্দর। তানভির বন্যার দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বলল,“যাবে না?”বন্যা রক্তিম আকাশের পানে তাকিয়ে থেকে উত্তর দিল,“আজকের আকাশটা খুব বেশি সুন্দর। কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না। ”বন্যার দৃষ্টি লক্ষ্য করে তানভিরও আকাশের পানে তাকালো। গাঢ় নীল রঙের আকাশে মেঘেদের আনাগোনা, পাখিরা আপন গতিতে উড়ে যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে তাদের বাড়ি ফেয়ার বড্ড তাড়া। গোধূলি লগ্নের সূর্যটা বরাবরের মতোই রক্তিম। তানভির কয়েক মুহুর্ত আকাশ দেখে আচমকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বন্যার কাছাকাছি স্টিলের বেষ্টনীতে মৃদুভাবে হেলান দিয়ে বন্যার অভিমুখে তাকালো। সূর্যের বিক্ষিপ্ত আলোকরশ্মিতে বন্যার মুখ লাল হয়ে আছে। তানভির বন্যার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বেশ সময় নিয়ে অত্যন্ত নমনীয় কন্ঠে বলল,“নীল অম্বরের ভাঁজে ভাঁজে,তোমার নামে সন্ধ্যা সাজে।”বন্যা অকস্মাৎ আড়চোখে তাকাতেই তানভির নড়ে উঠল। কাজল পরিহিতা টানাটানা চোখদুটা যেন দৃষ্টিতেই তানভিরের মতো শক্তপোক্ত ছেলের সত্তাকে বিলীন করে ফেলবে। বন্যা কোন কথা না বলে পরপর দুবার ভ্রু নাচালো। তানভির মুচকি হেসে এপাশ ওপাশ মাথা নেড়ে অন্যদিকে মুখ করে তাকালো। বন্যা তানভিরের দিকে লাজুক হাসলো। ফোন ভাইব্রেট হতেই বন্যা ফোনের দিকে তাকালো। মেঘের মেসেজ আসছে,“আমার ভাইকে দিয়ে দিলাম, দেখে রেখো।”বন্যা ছোট করে মেসেজ পাঠালো,” ওকে ননদিনী।”অকস্মাৎ পেছন থেকে একটা মেয়েলী কন্ঠস্বর কানে বাজলো। মায়াবী কন্ঠের ডাক,“তানভির। ”তানভিরের সঙ্গে সঙ্গে বন্যাও ঘুরে দাঁড়ালো। বোরকা পড়া এক মেয়ে। চোখ, হাত-পা ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না। বন্যা ভ্রুক্ষেপহীন, নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা একটু এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,“কেমন আছো?”তানভির কপালে কয়েকস্তর ভাঁজ ফেলে বন্যাকে এক পলক দেখে ভারী কন্ঠে প্রশ্ন করল,“কে আপনি?”“আমাকে চিনতে পারছো না?”“আপনাকে চেনার কথা ছিল নাকি?”মেয়েটা এবার চোখ নামিয়ে শীতল কন্ঠে বলল,“আমি আয়েশা। চিনতে পেরেছো?”অকস্মাৎ তানভিরের চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে। কপালে আরও কয়েকটা ভাঁজ পড়লো, দুচোখ আগ্নেয়গিরির লাভার ন্যায় টগবগ করছে, অক্ষিপটে ব্যথা অনুভব হচ্ছে। বন্যা তখনও স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তানভির আর সেই মেয়েকে দেখছে। বন্যা বুঝতেই পারছে না কে এই মেয়ে! সে ভেবেছে পরিচিত, বান্ধবী বা অন্য কেউ হতে পারে। আয়েশা কন্ঠ খাদে নামিয়ে নমনীয় কন্ঠে বলল,” তোমাকে অনেকদিন পর দেখলাম।”তানভির মুখ ফুলিয়ে ঘন ঘন শ্বাস ছাড়ছে। চোখ মুখে তীব্র আক্রোশ৷ আয়েশা আবারও বলল,“তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিল।”বন্যার দিকে তাকিয়ে বলল, “পার্সোনাল।”বন্যার এতক্ষণ কোনোকিছু অনুভব না হলেও এবার কিছুটা রেগে গেছে। মনের ভেতর প্রশ্ন জাগছে,“কে এই মেয়ে?”তানভির অন্যদিকে তাকিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বলল,“কথা বলার মতো সময় আর ইচ্ছে কোনোটায় আমার নেই।”তানভির পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে হুঙ্কার দিল,“বন্যা, আসো। যেতে হবে।”বন্যা ঐ মেয়েকে দেখে দেখে এগুচ্ছে। তানভির বাইক পর্যন্ত যেতে যেতে ঐ মেয়ে উচ্চস্বরে বলে উঠল,“তানভির, আমি তোমাকে এখনও ভালোবাসি।”তানভির শুনেও যেন কথাটা শুনলো না। রাগে হাত-পা কাঁপছে। মেয়ে বলে পারছে না শুধু গায়ে হাত তুলতে। মেয়ের কথা শুনে বন্যা থমকে দাঁড়ালো। বুকের ভেতরটা অকস্মাৎ মোচড় দিয়ে উঠেছে। বুঝতে বাকি রইলো না যে এই মেয়েই তানভিরের এক্স গার্লফ্রেন্ড। তানভির বাইক স্টার্ট দিয়ে অগ্নি কন্ঠে চিৎকার করল,“বন্যা, আসতে বলছি তোমায়।”বন্যা থতমত খেয়ে ছুটে গেল। চুপচাপ বসে পড়ল বাইকের পেছনের সিটে। তবে বরাবরের মতো এবারও তানভিরের সঙ্গে দূরত্ব রেখে বসেছে। কিছুক্ষণ আগেও আকাশের পানে তাকিয়ে ভাবছিল, আজ থেকে বাইকে বসলে তানভিরকে ধরে বসবে কিন্তু তা আর হলো কই! দুজনের বুকের ভেতর যে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাচ্ছে সে খবর কেউ জানে না। মেলার কাছাকাছি এসে বাইক থামালো। বন্যার মেলায় যাওয়ার মতো বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই আর না আছে তানভিরের। তবুও মেঘের কথা মেনে ঢুকলো মেলায়। বন্যা চুপচাপ ঘুরে দেখছে। মেঘের সঙ্গে অনেককিছু কেনার প্ল্যান করেছিল ঠিকই তবে এখন আর ইচ্ছে নেই। কিছুক্ষণ ঘুরে বন্যা চাপা স্বরে বলল,” আমার বাসায় যেতে হবে।”তানভির ঘড়িতে সময় দেখে নিল। বন্যা দ্রুত হেঁটে গেইটের দিকে যাচ্ছে। বন্যা দু-তিনটা দোকান পেরিয়ে হঠাৎ খেয়াল করল আশেপাশে তানভির নেই। থমকে দাঁড়িয়ে পেছন তাকিয়ে দেখল তানভির দোকানে কি কিনতেছে। বন্যাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দ্রুত এগিয়ে এসে বলল,“তোমাকে ডাকছিলাম, তুমি শুনো নি। সরি।”বন্যা আবারও হাঁটা শুরু করল। তানভির ঠান্ডা কন্ঠে বলল,“এগুলো তোমার। ”“আমার কিছু লাগবে না, ধন্যবাদ।”বন্যা বেড়িয়ে পরেছে। অন্যান্য দিনের মতো তানভির আজ জোর গলায় কিছু বলতেও পারছে না। দ্রুত এগিয়ে গেল বন্যার কাছে। বন্যার চোখ মুখ স্বাভাবিক, যেন কিছুই হয় নি। শান্ত কন্ঠে বলল,” আমি এখান থেকে রিক্সা নিয়ে যেতে পারব।”“কিন্তু আমি তোমাকে একা ছাড়তে পারবো না।”বন্যা মলিন হেসে মনে মনে আওড়ালো,” আপনার অতীত বর্তমান হলে আপনার জীবনে এই বন্যার অস্তিত্ব থাকবে না।”তানভির বাইক স্টার্ট দিয়ে উঠতে বলল, বন্যাও বাধ্য হয়ে উঠে বসল। কারো মুখে কোনো কথা নেই। মোখলেস মিয়ার দোকানের সামনে আসতেই মোসলেম মিয়া বন্যাকে ডাকতে শুরু করলেন। বন্যা নামাতে বলায় তানভিরের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাইক থাকালো। তানভিরের থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে। তানভির শক্ত কন্ঠে বলল,“যদি গিফট না নাও তাহলে আমি এখানেই বসে থাকব।”বন্যা কিছু না বলে দোকানের দিকে এগিয়ে গেল। মোখলেস মিয়ার পাশের দোকানে বন্যার আব্বু কাপড় ইস্ত্রি করতে দিয়েছিল। ইমার্জেন্সি কাজে ওনাকে এক জায়গায় যেতে হয়েছে তাই ইস্ত্রি করে জামাকাপড় মোখলেস মিয়ার দোকানে রেখে গেছে। মোখলেস মিয়া কাপড় আর কিছু খাবার দিয়েছেন। বন্যা না করা সত্ত্বেও ওনি জোর করেই দিয়েছেন। বন্যারা সচরাচর বাসা থেকে বের হয় না, বন্যাদের কিছু খেতে ইচ্ছে হলে বন্যার ছোট ভাই রিদ ই নিয়ে যায়। মাস শেষে বন্যার আব্বু টাকা দিয়ে দেন। তানভির বাইক থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে রাগী চোখে সেদিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ মোখলেস মিয়ার নজর পড়ে তানভিরের দিকে। তানভিরের তাকানো দেখে মোখলেস মিয়া বন্যাকে জিজ্ঞেস করলেন,” পোলায় এমনে তাকায় আছে কেন? ভাড়া দাও নি?”বন্যা কিছু বলার আগেই মোখলেস মিয়া দোকান থেকে বের হতে হতে উচ্চস্বরে শুধালো,“এই ছেলে তোমার ভাড়া কত? আমি ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি তবুও আমার বউ এর দিকে এভাবে তাকায় থাইকো না।”তানভিরের মেজাজ চরম মাত্রায় খারাপ হয়ে গেছে। রাগে দাঁত কটমট করছে। দু’চোখ লাল হয়ে গেছে। বন্যা দ্রুত বেড়িয়ে যেতে যেতে বলল,“দাদা, আমি কথা বলছি।”বন্যা তানভিরের কাছে গিয়ে বিড়বিড় করে বলল,“এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? বাসায় যান, প্লিজ।”“তুমি গিফট না নিলে আমি এক পাও নড়বো না।”বন্যা আস্তে করে কপাল চাপড়ালো। মেঘের ভাই বলে কথা, সে তো মেঘের মতোই জেদি হবে। এটা বন্যা ভুলে গেছিল ভেবেই রাগ লাগছে।মোখলেস মিয়া দোকান থেকে ডাকলেন,” সমস্যা কোনো?”“নাহ দাদা।”বন্যা তানভিরের হাত থেকে গিফটের ব্যাগটা নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল,“এবার এখান থেকে যান, প্লিজ। আব্বু দেখলে সমস্যা হবে।”তানভির কথা না বাড়িয়ে মোখলেস মিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে গলি থেকে বেড়িয়ে চলে গেছে। এদিকে মেঘ আবিরের উপর রাগ করে ফোন আর অন ই করে নি। আম্মুর ফোন থেকে তানভিরকে কল দিয়েছিল। সন্ধ্যার পর নিচে এসে নুডলসের পাকোড়া বানাতে শুরু করল। মীম আর আদি আগে থেকেই রেডি হয়ে বসে আছে। আবির বাসার সবার সঙ্গে কথা বলতে বলতে মেঘের কথাও জিজ্ঞেস করল। আকলিমা খান রান্নাঘরে এসে মেঘের দিকে ফোন ধরে একগাল হেসে বললেন,“সে এখন রেসিপি শিখতে ব্যস্ত। ৮-১০ পদের পাকোড়া বানানো শিখে ফেলছে। ”আবির মেঘের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল,“পাকোড়াতে লবণ দেয় তো?”মেঘ ফোঁস করে উঠল। আকলিমা খান কপট রাগী স্বরে বললেন,” মেয়েটাকে কেনো রাগাচ্ছো বলো তো।”আবির শান্ত কন্ঠে বলল,“কেউ যদি বিজ্ঞ হয়েও অজ্ঞের মতো আচরণ করে তো আমি কি করবো? রাখি।”কাকিয়া লবণের বিষয়ে আঁটকে থাকলেও আবিরের কথার মিনিং মেঘ ঠিকই বুঝেছে। তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করছে যেন রুমে গিয়ে আবিরকে কল দিতে পারে। এরমধ্যে তানভির বাসায় আসছে। চোখ-মুখ কালো হয়ে আছে। মেঘকে রান্নাঘরে দেখে শান্ত কন্ঠে বলল,“বনু, এককাপ কফি করে দিবি?”“আনছি ”মেঘ কফি আর পাকোড়া নিয়ে খুশিতে গদগদ হয়ে হাজির হলো। তানভির চোখ মুখ দেখে উদ্বিগ্ন কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,“কি হয়েছে ভাইয়া? কোনো সমস্যা? ”“না।”মেঘের ভয়ে বুক কাঁপছে। বন্যার সাথে যদি ঝগড়া করে তাহলে কি হবে? মেঘ শক্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,“ভাইয়া বলো কি হয়েছে? বন্যা কোথায়?”“ওকে বাসার কাছে দিয়ে আসছি। ”“তাহলে আর কি হয়ছে? তুমি এত রেগে আছো কেনো?”তানভির কফির কাপে চুমুক দিয়ে কাপ সামনে রেখে আস্তে করে বলল,“আজ আয়েশার সঙ্গে দেখা হয়েছিল।”আয়েশা নাম শুনেই চমকে উঠল মেঘ। প্রশস্ত আঁখি যুগল আরও বেশি প্রশস্ত করে গম্ভীর কন্ঠে প্রশ্ন করল,” থা*প্পড় দিয়েছো? ”“না।”মেঘ অকস্মাৎ সোফায় ঘুষি শুরু করল। পরপর বেশ কয়েকটা ঘুষি দিতে দিতে চেঁচিয়ে উঠল,“তোমাকে আমি বলেছি সামনে পেলে চোখ বন্ধ করে থা*প্পড় দিবে। তুমি থা*প্পড় দিলে না কেনো?”তানভির তড়িৎ বেগে উঠে মেঘের দু-হাত শক্ত করে ধরে বলল,” একটু ঠান্ডা হয়ে কথা তো শুনবি।”“তুমি থা*প্পড় দাও নি কেনো?”“পাবলিক প্লেসে মেয়েদের গায়ে হাত তোলাটা শোভা পায় না। ”“ইসস আমি কেন গেলাম না আজ। ঐ মেয়েকে কয়েকটা থাপ্প*ড় দিয়েই আসতাম। বন্যা কোথায় ছিল? বন্যাও দেখেছে?”“বন্যা সাথেই ছিল। কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করে নি।”মেঘ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিড়বিড় করে বলল,” শেষ! আমার সব শেষ। ”তানভির সূক্ষ্ম নেত্রে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,“বিড়বিড় করছিস কি?”“কিছু না। হাত ছাড়ো রুমে যাব।”“ঘুষাঘুষি করবি না তো?”“ঘুষাঘুষি করে নিজের হাত ভেঙে কি করব। যার নাকমুখ ভাঙা দরকার তার টায় যদি না ভাঙতে পারি। বুঝছি, তুমি কিছু পারবা না। আবির ভাই কে বলতে হবে।”তানভির হাত ছেড়ে ভীত কন্ঠে বলল,“প্লিজ, ভাইয়াকে এখন কিছু বলিস না। এই ঘটনা ভাইয়া শুনতে পারলে আমার কপালে বহুত দূর্গতি আছে। ”“ঠিক আছে বলবো না। ”মেঘ রুমে এসে ফোন অন করতেই বন্যার কল আসলো। বন্যা একে একে সব ঘটনা খুলে বললো। মেঘ যতটা সম্ভব বুঝানোর চেষ্টা করেছে। পর পর আবিরকে কল দিল। আবির কল রিসিভ করে শক্ত কন্ঠে ধমক দিল,“এই মেয়ে, এত নির্বোধ কেন তুই?”“আমি কি করেছি। ”“কথা না শুনে, না বুঝেই ফোন বন্ধ করে বসে আছিস।”“কি শুনবো আর কি বুঝবো? আপনি যেই কাজে গিয়েছিলেন সেই কাজ শেষ তবুও আপনি বাসায় ফিরবেন না। এটাতে কি বুঝবো আমি?”“আমি শুধুমাত্র প্রজেক্টের কাজে এতদিনের জন্য এতদূর আসি নি। বাংলাদেশে টানা তিন প্রজেক্ট করলেই এটার সমান বেনিফিট পেতাম। সব ছেড়ে এখানে এসে পড়ে থাকতাম না। আমি আমার প্রয়োজনে আসছি আর প্রজেক্টটা শুধুমাত্র আমার বাহানা ছিল। যে প্রজেক্ট ১৫ দিনে শেষ করতে পারতাম সেটা কমপ্লিট করতে ৩ মাসের উপরে সময় নিচ্ছি যেন আব্বু, চাচ্চু কিছু বুঝতে না পারে। ”“আপনি কেনো গিয়েছেন? কি প্রয়োজন আপনার?”“আমার টাকার প্রয়োজন।”মেঘ কপাল কুঁচকে বলল,“আপনার কত টাকা প্রয়োজন? আপনি আমাকে একটা ক্রেডিট কার্ড দিয়েছিলেন মনে নেই? ঐটাকে অনেক টাকা আছে। আপনি এখান থেকে টাকা নিতে পারতেন৷ আমার এত টাকা লাগেই না। ”আবির মুচকি হেসে বলল,“ঐটা শুধুমাত্র তোর আর ওখানে প্রতিমাসে একটা নির্দিষ্ট এমাউন্ট পাঠানো হচ্ছে শুধু তোর জন্য। তোর যা ইচ্ছে হয় তা কিনিস, আরও বেশি প্রয়োজন হলে একবার জানাস শুধু।”“আমার টাকার বিশেষ কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি এগুলো নিয়ে যান৷ তবুও চলে আসেন প্লিজ।”আবির শ্বাস ছেড়ে শীতল কন্ঠে বলল,“কেনো বুঝতে পারছিস না, আমার লাখ টাকার প্রয়োজন না। আরও বেশি প্রয়োজন।”“তাহলে কত প্রয়োজন?”“কোটি।”“What? কোটি টাকা দিয়ে আপনি কি করবেন?”“দরকার আছে।”“এত টাকা কে দিবে আপনাকে?”“আমার টাকা আমি নিতে আসছি। কে দিবে আবার কি? এখানের স্থানীয় এক ফ্রেন্ডের বাবা বড় বিজনেসম্যান। ওনার কথা মতো আমরা দুজন স্টুডেন্ট থাকাকালীন ছোট ছোট বেশ কয়েকটা কোম্পানিতে শেয়ার কিনেছিলাম। যদিও সবকিছু ওনিই ম্যানেজ করে দিয়েছিল। আমি দেশে যাওয়ার আগে সবগুলো শেয়ারের এমাউন্ট একসাথে করে আংকেলের কোম্পানিতে কিছুটা শেয়ার কিনে গিয়েছিলাম৷ কারণ আমার কাছে ওনারায় একমাত্র বিশস্ত মানুষ ছিলেন। এখন আমার টাকার প্রয়োজন, আংকেলকে জানানোর পর আংকেল এখানে আসতে বলেন। কোম্পানির বেশকিছু কাজ প্যান্ডিং আছে সেগুলো কমপ্লিট করতে পারলে আমি যত আশা করেছি তার থেকেও অনেক বেশি দামে শেয়ারটা বিক্রি করতে পারবো। তানভির আর রাকিব ব্যতীত এই কথা আর কেউ জানে না। আজ তোকে বলছি। আব্বু- চাচ্চু এসব জানতে পারলে কিভাবে রিয়েক্ট করবেন আমি জানি না। তাই প্রজেক্টের নাম করে এখানে আসছি।”মেঘ সবকথা শুনে রাশভারি কন্ঠে বলল,“শেয়ারটা বিক্রি না করলে হয় না? আপনার এত কি প্রয়োজন?”” প্রতিনিয়ত মানুষকে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বাঁচতে পারবো না। আমি সব মায়াজাল কাটিয়ে একটা স্বচ্ছ জীবন কাটাতে চাই। জীবন চালাতে ঠিক যতটা প্রয়োজন ততটা ইনকাম করতে পারলেই হবে। আমি শুধু মানসিক শান্তি চাই।”মেঘ চুপ করে বসে আছে। কিছু বলার মতো শব্দ খোঁজে পাচ্ছে না। আবির মোলায়েম কন্ঠে শুধালো,” রাগ করেছিস?”“না। রাগ করবো কেন! আপনি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অবশ্যই ভেবেচিন্তেই নিয়েছেন।”“বাসার কাউকে এ ব্যাপারে কিছু বলিস না ।”“আচ্ছা ঠিক আছে। রাখি এখন।”“আচ্ছা।”আজ সকাল থেকে আলী আহমদ খান ও মোজাম্মেল খানের মধ্যে মনোমালিন্য চলছে। সারাদিন খাওয়া নেই। যে যার রুমে শুয়ে আছেন। বাসার সবাই চেষ্টা করেও রাগ ভাঙাতে পারে নি। দুপুরের পর পর ফুপ্পি, জান্নাত আপু, আইরিন আর আসিফ ভাইয়া আসছে। আজ ইচ্ছে করেই আরিফ আসে নি। প্রতিনিয়ত মীমের সাথে ঝগড়া করতে ভালো লাগে না তার। মেঘের ফুপ্পি প্রথমেই মোজাম্মেল খানের রুমে গেলেন। মোজাম্মেল খান বোনকে দেখে শুয়া থেকে উঠে বসে ভারী কন্ঠে বললেন,“কেমন আছিস?”“কেমন থাকবো? এই বয়সে এসে তোমরা ভাইয়ে ভাইয়ে কোন দ্বন্দ্বে মেতেছো?”“আমি কি বলব, ভাইজানের যা মন চাই তাই করছেন। কিছু বললেও ওনি রেগে যান। বুঝার চেষ্টা পর্যন্ত করেন না। জানিস ই তো ওনার স্বভাব। যা বলবে তাই করবে।”“সমস্যা কি নিয়ে?”“সমস্যা তো অনেক কিছু নিয়েই। আমার ছেলেকে শাসন করলেও দোষ, না করলেও দোষ। মেয়েকে কিছু বললেও দোষ, না বললেও দোষ। আগে আবির অফিস সামলে নিতো তাই অফিসের বিষয়ে এত কথা আমায় শুনতে হতো না। এখন আবির নেই, কাজের একটু এদিকসেদিক হলেই রাগ। আমরা নাকি গুরুত্ব দেয় না, ওনি একা পরিশ্রম করে সবকিছু করেছেন। ওনি যা বলবেন তাই হবে। আরও অনেককিছু। ”“ভাইজান কি কোনোভাবে সংসার ভাঙার কথা বুঝাতে চাচ্ছেন?”“এই কথা ভুলেও ভাইজানের সামনে বলিস না। আমি সেদিন রাগে বলে ফেলছিলাম, তুমি বললে সংসার ভাগ করে ফেলি। বলেছি না মরেছি, আমার সাথে কথা তো বলেনই না এমনকি এটাও বলেছেন, আমার ছেলে, আমার মেয়ে দুজন ই ওনার। ছেলেমেয়ের ব্যাপারে কিছু বলার অধিকার পর্যন্ত আমার নেই। ইকবাল ই ভালো। তার এসব বিষয়ে কোনো চিন্তাভাবনায় নেই। ”“তানভির, আবির কি বলে?”“আবিরের সঙ্গেও ঝামেলা। ”মাহমুদা খান চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,“আবিরের সঙ্গে আবার কিসের ঝামেলা? ”” প্রজেক্ট শেষ তবুও আবির দেশে আসছে না। তাছাড়া সেদিন আবির আমার পক্ষে দুটা কথা বলেছিল সেই রাগে আবিরের সঙ্গেও কথা বলেন না।”“এখন করণীয় কি?”“দেখ তুই মানাতে পারিস কি না?”মাহমুদা খান মোজাম্মেল খানের রুম থেকে বেরিয়ে আলী আহমদ খানের রুমে গেলেন। রুমে ঢুকতেই আলী আহমদ খান গম্ভীর কন্ঠে বললেন,” তুই ও কি তার পক্ষে কথা বলতে আসছিস?”“নাহ ভাইজান। আমি আপনার মুখে শুনতে চাই। ঘটনা কি?”“ঘটনা কিছুই না। মোজাম্মেলের অত্যাচার আর সহ্য হচ্ছে না৷ ”“কেনো? ভাই কি করেছেন?”“তানভিরের সাথে ওর কি শত্রুতা আমি জানি না। কথায় কথায় ছেলেকে বকাবকি করে। আমি কিছু বলতে গেলে আমার ছেলের সাথে তুলনা দেয়। আমার ছেলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে ওর ছেলে বেকার। কিছুই ঠিকমতো করতে পারছে না। কোথায় আমি আমার ছেলে নিয়ে গর্ব করব উল্টো সে গর্ব করে। সে সারাক্ষণ আমার পিছনে লাগে। এই যে ছেলেমেয়ে গুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগাচ্ছে ওরা কি সারাজীবন একসাথে থাকতে পারবে? আমি এজন্য সেদিন রাগে বলেছিলাম,ওর মতো চিন্তাভাবনা আমার থাকলে আমি একা এই সংসার টাকে এতদূর টানতে পারতাম না। এই সংসার আমার, এখানে আমার অধিকার সবচেয়ে বেশি, আমি যা বলবো তাই হবে। আমি বুঝাতে চেয়েছি, ওর উল্টাপাল্টা আচরণ গুলো যেন পরিবর্তন করে। অথচ সে বুঝেছে আমি সংসার ভাঙতে চাচ্ছি। এজন্য আমিও বলেছি ও যদি চায় বাড়ি থেকে চলে যেতে পারে। কিন্তু তানভির, মেঘ আর ওদের মা আমার বাড়িতেই থাকবে। ওদের উপর বাবার অধিকার খাটাতে যেন না আসে।”
গল্পঃ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকেলেখিকাঃ সালমা চৌধুরী..................................................................................................................................................................আলী আহমদ খানের কথা শুনে মাহমুদা খান আনমনেই হেসে উঠলেন। বোনের হাসি দেখে আলী আহমদ খান রাগী স্বরে বললেন,“এভাবে হাসছিস কেনো? আমি কি হাসির কথা বলেছি?”মাহমুদা খান হাসি থামিয়ে মৃদুস্বরে বললেন,“তোমরা এখনও ছোটবেলার মতো অভিমান করো, এটা দেখেই হাসি পাচ্ছে। তোমার জায়গা থেকে তুমি নিজেকে ঠিক মনে করছো, ওদিকে ভাইয়ের জায়গা থেকে ভাই নিজেকে ঠিক মনে করছে। এসব দেখে ছোটবেলার একটা ঘটনা খুব মনে পড়ছে।”“কোন ঘটনা?”“একবার তোমার ক্রিকেট ব্যাট ভেঙ্গে ফেলায় তুমি আর ভাই বাড়িতে তুমুল ঝগড়া শুরু করেছিলে। তুমি বলছিলা মোজাম্মেল ভাই ভাঙছে আর ভাই বলছিল সে ভাঙে নি। সেই নিয়ে একপর্যায়ে তোমাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে গিয়েছিল, আমি আর আম্মা কোনোভাবেই তোমাদের থামাতে পারছিলাম না৷ আব্বা বাড়িতে এসে তোমাদের এই মারামারি দেখে রাগে কু*ড়াল নিয়ে মা* রতে আসছিল। দুই ভাই সেই যে পালিয়েছিলে, রাত ১০ টার উপরে বেজে গেছিলো বাড়িয়েই আসছিলে না৷ আমি আর আব্বা তোমাদের খোঁজতে খোঁজতে হয়রান হয়ে যাচ্ছিলাম। তারপর নদীর ধারে একটা গাছের নিচে পেয়েছিলাম তাও দুজন একসাথে। তুমি গাছে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছিলে আর ভাই তোমার কোলে ঘুমাচ্ছিলো। মনে আছে ভাইজান? ”আলী আহমদ খান একগাল হেসে বললেন,” হ্যাঁ, মনে আছে। সেদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে রাস্তার মাঝখানে গিয়ে দুই ভাই আবার ঝগড়া লাগছিলাম। বেশ কয়েকজন মিলে আমাদের থামিয়ে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করেছিল, তখন আমরা সব ঘটনা খুলে বলছি। তারপর এক ছোটভাই বলছিল, ইকবাল আমার ব্যাট নিয়ে খেলত গেছিল আর ঐখানে গাছের সাথে বারি খেয়ে ব্যাট ভেঙে গেছে। আমরা দুই ভাই তখন অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিলাম। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি ওর গায়ে হাত দেয় নি। আমি মোজাম্মেল কে অনেক ভালোবাসি, সে আমার ভাইয়ের থেকে বন্ধু বেশি। যখন গ্রাম ছেড়ে, সবকিছু ছেড়ে শহরে আসছিলাম তখন মোজাম্মেল ছাড়া আমার আর কেউ ছিল না। সে বন্ধুর মতো সবসময় আমার পাশে থেকে সাহস দিয়েছে। ওর সাথে আমার সম্পর্ক আজীবন এমনই থাকবে, ইনশাআল্লাহ। কিন্তু ওর কিছু কিছু কাজ আমার সত্যিই খারাপ লাগে। আমি মানছি তানভির একটু বেখেয়ালি, ওর নিজের লক্ষ্য স্থির করে তারপর কিছু করা উচিত। তাই বলে এটা না সারাক্ষণ উঠতে বসতে ছেলেকে বকবে। তারথেকেও বড় কথা তানভির কে বুঝানোর জন্য তানভিরের সামনে প্রতিনিয়ত আবিরের প্রশংসা করাটা আমার পছন্দ নয়। তানভিরের বয়স কম, রগচটা, জেদি সে একমাত্র আবিরের কথা একটু আধটু মানে। ওর মনে যদি একবার উল্টাপাল্টা কিছু ঢুকে যায় তখন কি আবিরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটা থাকবে?”মাহমুদা খান চাপা স্বরে বললেন,“তানভির আর আবিরের সম্পর্ক তোমাদের থেকেও অনেক বেশি স্ট্রং। ওরা এসব সামান্য বিষয়ে মাথায় ঘামায় না। তারপরও আমি ভাইকে বলে দিব যেন তানভিরের সাথে বাজে ব্যবহার না করে। শুনলাম আবিরের সাথেও কথা বলছো না, কেনো? ও আবার কি করছে?”“অনেক কিছু করছে কয়টা শুনবি? আমার বাধ্য ছেলে অবাধ্য হয়ে গেছে এটায় মূল কথা। তার কাজ শেষ দেশে আসতে বলছি, এখন আসতে পারবে না। রমজানের আগে থেকে বিয়ের কথা বলতেছি কিন্তু সে বিয়েও করবে না। কি ভাবে, কি করে একমাত্র সে আর আল্লাহ ই ভালো জানেন। আমার ছেলে আগে এমন ছিল না৷ এতগুলো বছর যাবৎ আমি যা বলেছি তাই করেছে, এমনকি আবিরের কিছু লাগলে, কিছু চাওয়ার থাকলে দ্বিধাহীন ভাবে আমার কাছে চেয়েছে, ও যা বলেছে আমি তাতেই রাজি হয়েছি, সব অনুমতি দিয়ে দিয়েছি। তাহলে এখন এত দূরত্ব কেন হচ্ছে? গত তিনবছরে কি এমন হলো যে আমার ছেলের মধ্যে এত পরিবর্তন চলে এসেছে?”মাহমুদা খান শ্বাস ছেড়ে উষ্ণ স্বরে বললেন,“ছেলে বড় হচ্ছে, প্রতিনিয়ত মাথায় কত কত প্রেশার ঢুকছে। হয়তো আবেগের বশবর্তী হয়ে করা ভ্রান্তিগুলোর জন্য ভেতরে ভেতরে পুড়ছে, নিজেই নিজের বিবেকের সম্মুখীন হতে পারছে না।ভাইজান, এমনও হতে পারে আবির তোমাকে কিছু বলতে চায়। তুমি রাগারাগি না করে ওকে একটু সময় দিও, আবিরকে বুঝার চেষ্টা করো। ও কি বলতে চায় শুনো।”আলী আহমদ খান গুরুগম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলেন,” আমার এখন আর কিছু শুনার নেই। অনেকবার তার মতামত জানতে চেয়েছি, ও কি চাই না চাই সব জানতে চেয়েছি, কোনো সমস্যা কি না তাও জানতে চেয়েছি, আমাকে কিছু বলতে চায় কি না সেটাও জিজ্ঞেস করেছি এমনকি তার মাকে দিয়েও জিজ্ঞেস করিয়েছি। কিন্তু আবির প্রতিবার আমার কথা এড়িয়ে গেছে, ওর মাকে পর্যন্ত কিছু বলে নি। এখন ওর মনের কথা জানার আর কোনো আগ্রহ আমার নেই। আলী আহমদ খান কাউকে কোনো ব্যাপারে এত সুযোগ দেন না, সে আমার ছেলে বলে আমি তাকে অনেক ছাড় দিয়েছি কিন্তু আর সম্ভব না।”এমন সময় মোজাম্মেল খান দরজায় দাঁড়িয়ে মোলায়েম কন্ঠে বললেন,“ভাইজান আসবো?”আলী আহমদ খান সেদিকে তাকিয়ে ধীর কন্ঠে বললেন,“চলে যাচ্ছিস নাকি?”” আমি কোথাও যাচ্ছি না৷ খিদা লাগছে খাবো তাই তোমাকে নিতে আসছি৷ আর হ্যা আমি সত্যি দুঃখিত ভাইজান। তোমাকে ঐভাবে কথাটা বলি নি। আমার মনে আসছিল তাই মুখ ফস্কে বেড়িয়ে গেছিল।”“খিদা লাগছে খেতে যা আমাকে বলার কি আছে?”“বলছি কারণ আজ দুপুরের রান্না স্পেশাল মানুষজন করেছেন। আসিফের বউ, আইরিন আর আমার মেয়ে তো আছেই। তোমাকে রেখে একা খেলে আবার দশটা কথা শুনাবা। তার থেকে বরং তুমিও চলো।”আলী আহমদ খান হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন,” আমি যেতে পারি তবে একটায় শর্তে, আজকে থেকে তানভির, মেঘ দু’জনের ব্যাপারে তুই আর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবি না। আমি যা বলবো, যেভাবে বলবো কোনো দ্বিমত ছাড়ায় মেনে নিতে হবে। বল রাজি?”মোজাম্মেল খান একগাল হেসে বললেন,” আমি রাজি৷ তোমার প্রতি আমার অগাধ আস্হা আছে। আমি ভুল করলেও আমার ভাই কখনো ভুল করতে পারে না।আর হ্যাঁ আমি কিন্তু আমার চ্যালেঞ্জে জিতেই গেছি তাই বাসা ছাড়ার প্রশ্ন ই আসে না। ”আলী আহমদ খান গম্ভীর কন্ঠে বললেন,“তুই জিতেছিস ঠিকই তবে আমি হেরে যায় নি। কথাটা মাথায় রাখিস। এই বাড়িতে আমার কথায় শেষ কথা, এটা ভুলে যাস না।”“ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি আসো।”“যা আসছি।”মাহমুদা খান দীর্ঘ মনোযোগ দিয়ে দুই ভাইয়ের কথোপকথন শুনছিলো। মোজাম্মেল খান বেড়িয়ে যেতেই প্রশ্ন করলেন,” ভাই হার জিতের কথা বলছিল কেন?”” ওর তো সারাদিন কাজ ই এটা। আমার কোন কথা ঠিক হয়েছে কোনটা ঠিক হয় নি এসব নিয়েই তার গবেষণা। কয়দিন যাবৎ এক প্রজেক্ট নিয়ে লাগছে, আমি বলেছিলাম শেষ করতে পারবে না। এখন শেষ করে ফেলছে তাই জিতছে বলে খুশি হচ্ছে। অথচ সেই প্রজেক্টেও আমার ছেলেই হেল্প করেছে। এটা এখন বললে আবার রাগ করে বসে থাকবে। তার থেকে খুশি হচ্ছে হোক। তোরা আসছিস অনেকক্ষণ হয়েছে, চল খেতে যায়।”মাহমুদা খান বসা থেকে উঠতে উঠতে বললেন,“ভাইজান, আবিরের সাথে একটু কথা বলিয়েন।”“আচ্ছা।”ইদানীং বন্যার মন ভীষণ খারাপ। তানভিরের ফোন রিসিভ করে না বেশকিছুদিন হলো। তানভির প্রায় ই বন্যাদের বাসার এদিকে আসে। দু-একদিন মোখলেস মিয়ার সাথে দেখা হয়েছে ঠিকই কিন্তু বন্যার সাথে একদিনও দেখা হয় নি। তানভিরের ঘনঘন যাতায়াত মোখলেস মিয়া ভালোই পর্যবেক্ষণ করছেন।আজ বিকেলে মোখলেস মিয়া জোরপূর্বক তানভিরকে বাইক থামাতে বলেন। তানভিরও একপ্রকার বাধ্য হয়ে বাইক থামায়। তানভিরকে নিয়ে কাছেই এক চায়ের দোকানে বসে জিজ্ঞেস করলেন,“ঐ পোলা, তুমি কি আমার বউকে পছন্দ করো?”আচমকা মোখলেস মিয়ার এমন প্রশ্নে তানভির কিছুটা ইতস্তত বোধ করে। দৃষ্টি মাটিতে নামিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। মোখলেস মিয়া আবারও বললেন,” দেখো ভাই, বয়স আমার কম হয়ছে না। চোখ দেইখা মানুষের মনের কথা বুঝবার পারি। সেদিন বন্যার সাথে তোমারে দেইখাই সন্দেহ হয়ছিল। আর ইদানীং তোমার এই গলিতে আসা যাওয়ায় নিশ্চিত হইয়া গেলাম। ”তানভির এখনও চুপ করে বসে আছে। বলার মতো কিছুই নেই তার। মোখলেস মিয়া তানভিরের কাঁধে হাত রেখে শান্ত কন্ঠে বললেন,” পছন্দ করো ভালো কথা কিন্তু শুধু বাইক চালাইয়া কি ঢাকা শহরে বউ পালতে পারবা? আর বন্যার আব্বা কিন্তু মোটরসাইকেলের ড্রাইভারের কাছে মেয়ে বিয়া দিতো না। সময় থাকতে ভাবো আর নাইলে আমার বউরে ভুইলা যাও। ”ভুইলা যাও শব্দটা যেন তানভিরের মস্তিষ্কে গুরুতরভাবে আঘাত করেছে। তানভির কাঁধ থেকে হাত সরিয়ে বসা থেকে উঠে শক্ত হাতে চায়ের কাপ রাখতে রাখতে হুঙ্কার দিল,” ভুইলা যাইতে পারবো না। প্রয়োজনে আপনার এই বন্যা বউকে ভাগাইয়া নিয়ে যাবো৷ যেতে না চাইলে কি*ডন্যা*প করে নিয়ে যাব, তবুও ভুলতে পারব না৷ আর আপনি যদি উল্টাপাল্টা কথা বলেন তাহলে আপনাকেও কি*ডন্যাপ করে পঞ্চগড় পাঠায় দিব। ওখানে তিন নাম্বার বিয়ে করে সংসার কইরেন।”তানভির রাগে কটমট করতে করতে বাইকে উঠে গেছে। মোখলেস মিয়া হাসতে হাসতে বললেন,“সাব্বাস! ব্যাটার তেজ আছে ভালো।”আজ ভার্সিটির ক্লাস একটু তাড়াতাড়ি শেষ হয়েছে৷ তাই সবাই একসঙ্গে ঘুরতে বেড়িয়েছে। ড্রাইভারকে আগেই জানিয়ে দিয়েছে। পার্কে বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছে। মিনহাজ হঠাৎ বলে উঠল,” সবাই শুন, মেঘ আর বন্যাকে ডাকতে গেলে আমাদের বেশ কিছু সমস্যায় পড়তে হয়। প্রথমত স্যার ম্যামদের সামনে ভাবি বলে ফেললে ১০ টা প্রশ্ন করে, শুধু শুধু বকাও খেতে হয়। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন থেকে ভাবি ডাকবো না। যেহেতু খান বাড়ির বড় ছেলে আবির ভাইয়া তাই স্বাভাবিক ভাবে মেঘ হবে সেই বাড়ির বড় বউ। আর বন্যা হবে মেজো বউ৷ তাই আমরা এখন থেকে সেই অনুসারে ডাকবো। মেঘকে ডাকবো V1 মানে ভাবি-১ আর বন্যাকে ডাকব ভাবি-২ মানে V2, ঠিক আছে?”সাদিয়া, মিষ্টি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো,” একদম ঠিক আছে”মেঘের মুখে হাসি থাকলেও বন্যা মুখ ফুলিয়ে রাগী স্বরে বলল,“আমাকে ভাবি/ V2 / V3 কিছুই ডাকতে হবে না।”মেঘ ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,“কি হয়েছে বেবি? এখনও রেগে আছো?”“না কিন্তু ভাবি ডাক শুনার ইচ্ছে নেই।”মেঘ ন্যাকামির স্বরে বলল,“না…. এ হতে পারে না। আমার হৃদপিণ্ড চিঁড়ে ছোট ছোট অনুভূতি একত্রিত করে তোমাকে ভাবি বানানোর জন্য প্রপোজ করলাম। আর তুমি এখন এসে নাটক করছো, ভাবি ডাক শুনার ইচ্ছে নেই? তাঁর ছিঁড়া মার্কা কথা বললে সত্যি সত্যি বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিয়ে যাব। আর ভাইয়াকে গিয়ে বলল, তোর এই জীবন ভালো লাগে না, তুই নিজের জীবনের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে বুড়িগঙ্গা ঝাপ দিয়েছিস৷ তখন কেমন হবে?”বন্যা মলিন হেসে বলল,” ভালোই হবে। তোর থেকে বেশি তোর ভাই খুশি হবে।”” খুশি হবে না ছাই! চোখ বন্ধ করে নিজেও বুড়িগঙ্গায় ঝাপ দিবে দেখিস। ”“বাজে কথা বলিস না মেঘ। ওনার অতীত ফিরে আসছে, ওনার জীবনে বন্যা এখন কেউ না। ”মেঘ রাগান্বিত কন্ঠে বলল,” শুন ভাইয়ার অতীত যদি ভাইয়ার জীবনে আবারও ফিরতে চায় আর আমার ভাই যদি নির্লজ্জের মতো ঐ মেয়েকে এক্সেপ্ট করে নেয় তাহলে তোকে কিছু করবো না৷ আবির ভাই আর আমি মিলে বাসার পেছনের বাগানে ভাইয়াকে কু*পে দিয়ে আসবো। ”বন্যার দুচোখ ছলছল করছে। ঠোঁট কামড়ে মাথা নিচু করে বসে বসে কান্না গিলছে। মেঘ শক্ত কন্ঠে শুধালো,“ভাইয়া তোকে ভালোবাসে, এটা কি তুই বিশ্বাস করিস?”বন্যা অসহায় দৃষ্টি তাকিয়ে আছে। মেঘ ঠান্ডা কন্ঠে বলল,“আমি এখন ভাইয়াকে কল দিব। জাস্ট সামান্য একটা কথা বলব দেখবি ভাইয়া পাগলের মতো ছুটে আসবে।”“কোনো দরকার নেই।”“তোর দরকার না থাকলেও আমার দরকার আছে। আমি আমার ভাবির চোখে পানি দেখতে চাই না। ”মেঘ সঙ্গে সঙ্গে তানভিরের নাম্বারে কল দিল। লাউডস্পিকার দিয়ে রেখেছে। আশেপাশে সবাই বসা। তানভির পার্টি অফিসে মিটিং করছে। মিটিং প্রায় শেষ পর্যায়ে। সবার বুঝানোর পরও তানভির নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় কমিটি বাতিল করা ছাড়া আর কোনো অপশন নেই। এরমধ্যে মেঘের কল আসায় তানভির মিটিং থেকে বেরিয়ে কল রিসিভ করতেই মেঘ কাঁদো কাঁদো কন্ঠে ডাকল,“ভাইয়া..”তানভির আঁতকে উঠে বলল,“কি হয়েছে বনু? কোনো সমস্যা?”মেঘ নাক টানতে টানতে বলল,” আমার কোনো সমস্যা না কিন্তু বন্যা….. ”“কি হয়েছে বন্যার? ”“বন্যা…..” মেঘ আর কিছুই বলছে না। তানভির আতঙ্কিত কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠল,” বন্যার কি হয়েছে?”“জানি না। বন্যা কেমন জানি করছে।”“কোথায় আছিস তোরা?”মেঘ জায়গার নাম বলতেই তানভির ঝটপট বলল,“আমি এখনি আসতেছি।”“ভাইয়া শুনো”ততক্ষণে তানভির কল কেটে দিয়েছে। মেঘ বন্যার দিকে তাকিয়ে ভেঙচি কেটে বলল,” দেখ কেমনে আসতেছে। তুই বসে বসে দোয়া কর যেন দ্রুত আসতে গিয়ে কোনো সমস্যা না হয়।”তামিম প্রশ্ন করল,“এই V1, তুই গ্রুপ থেকে বেড়িয়ে গেলি কেন? তুই ছাড়া গ্রুপটা ভালো লাগে না। সবাই খুব বোরিং আর তোর ভাবি তো আরও বেশি বোরিং।”মেঘ হেসে উত্তর দিল,” আমার ওনি যদি গ্রুপের চ্যাটিং দেখে আমাকে সোজা চান্দে পাঠায় দিবে। তাছাড়া আমি যে কাজে গ্রুপ খুলতে বলছিলাম সেই কাজ শেষ তাই এখন আমার গ্রুপ আর প্রয়োজন নেই। ”সাদিয়া শান্ত কন্ঠে শুধালো,“তুই যে কিছুদিন গ্রুপে এত এত মেসেজ দিলি, নাটক করলি সেসব তোর ওনি দেখে নি?”“প্রথমত গ্রুপে কথা শেষে আমি সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপ সমেত সব মেসেজ ডিলিট করে দিতাম। দ্বিতীয়ত আমি সারাক্ষণ আমার আইডির Login Activity চেক করতাম যেন আমার ওনি আমার আইডিতে লগ ইন করলেই আমি এলার্ট হতে পারি। আমার ওনি এই কয়দিনে আমার আইডিতে একবারের জন্যও ঢুকে নি তাই সুযোগের সৎ ব্যবহার করে গ্রুপ থেকে বেড়িয়ে পরেছি যাতে ওনি কিছুই বুঝতে না পারেন।”বন্যা মেঘের দিকে তাকিয়ে উদাসীন কন্ঠে শুধালো,“তুই এত চালাক হইলি কবে?”“কিছুদিন যাবৎ অনলাইনে চালাক হওয়ার ট্রেনিং করছি। বুঝলি?”বন্যা মলিন হাসলো সাথে বাকিরাও। হঠাৎ মেঘের নজর পড়ে কিছুটা দূরে দাঁড়ানো এক ছেলের দিকে। লম্বাচওড়া ছেলেটার দুহাত পেছনে হাতে বেশ কিছু ফুল৷ দেখেই বুঝা যাচ্ছে কাউকে প্রপোজ করতে এসেছে। কিন্তু আশেপাশে কোনো মেয়ে নেই। মেঘ স্থির দৃষ্টিতে ছেলেটার হাতের ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। বেশ কিছুক্ষণ পর শাড়ি পড়া এক মেয়ে আসলো, বেশ সুন্দর করে সেজেগুজে এসেছে। মেয়েটা এসে ছেলেটার সামনে দাঁড়াতেই ছেলেটা হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। পেছন থেকে ফুল গুলো বের কয়ে মেয়েটার সামনে ধরলো। এভাবে ফুল দেয়ার বিষয়টা কমন হলেও সবার আবেগ গুলো ভিন্ন ভিন্ন৷ সেদিন মেঘ নিজেই বন্যার জন্য কতটা আবেগ নিয়ে ঠিক এভাবে হাঁটু গেড়ে বসে প্রপোজ করেছিল তবে সেটায় অন্যরকম অনুভূতি ছিল। আজ এই দৃশ্য দেখে মেঘের বুকের ভেতরটা হাহাকার করছে। আচমকা আবিরকে বড্ড বেশি মিস করছে। লম্বাচওড়া আর দেখতে ছেলেটা অনেকটায় আবিরের মতো তাই হয়তো মেঘের একটু বেশিই মনে পড়ছে। মেঘ আনমনে ভাবছে,” আবির ভাই কি কখনো এভাবে প্রপোজ করবেন আমায়? সামান্য একটা লাল গোলাপ চেয়েছিলাম তবুও দেন নি, ওনার কাছে ফুল সমেত প্রপোজ আশা করা বড্ড বেমানান।”বন্যা ডাকতেই মেঘের হুঁশ ফিরলো৷ কোনো কথা না বলে ফেসবুকে ঢুকে পোস্ট করল,❝সাত সাগর আর তের নদীপার হয়ে তুমি আসতে যদিরূপকথার রাজকুমার হয়েআমায় তুমি ভালবাসতে যদি।❞পোস্ট আপলোড হওয়া মাত্রই তানভির উপস্থিত হলো। দ্রুত এগিয়ে এসে আতঙ্কিত কন্ঠে শুধালো,“কি হয়েছে তোমার?”বন্যা থতমত খেয়ে তানভিরের দিকে তাকালো। বন্যা একদম স্বাভাবিক, চোখে মুখে অসুস্থতার রেশ মাত্র নেই। বন্যা কি বলবে এটায় বুঝতে পারছে না। তানভির একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছে। বন্যা শুধু মেঘকে দেখছে কিন্তু মেঘের মনে যে রাজ্যের দুঃখ। মন খারাপের পাহাড় সরিয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে মেঘ আস্তে করে বলল,“তেমন কিছু হয় নি ভাইয়া । বরই খেতে গিয়ে বরই এর একটা বিচি গিলে ফেলছিল। যদি পেটে গাছ হয়ে যায় এই আতঙ্কে বন্যা সহ আমরা সবাই ভয় পাচ্ছিলাম। তারপর এক আন্টি বলছে কোনো সমস্যা হবে না। ”তানভির হাতের উল্টোপিট দিয়ে নিজের চোখ মুখ মুছে আকাশের পানে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে অত্যন্ত নমনীয় কন্ঠে প্রশ্ন করল,“এটায় সত্যি ঘটনা? নাকি অন্য কোনো কারণ আছে যা কিন্তু এখন বলছিস না।”মেঘ ঘনঘন এপাশ ওপাশ মাথা নেড়ে বলল,“আর কোনো কারণ নেই। ”মেঘ একটু থেমে আবার বলল,“আসলে বন্যার কয়েকটা বই কেনা দরকার কিন্তু আমাদের কারো সেদিকে যেতে ইচ্ছে করছে না। তুমি যেহেতু চলেই আসছো, বন্যাকে নিয়ে যাবা, প্লিজ।”বন্যা অগ্নি চোখে মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে। কারণ তানভিরের সঙ্গে একা কোথাও যাওয়ার বিন্দুমাত্র আগ্রহ বন্যার নেই। আয়েশাকে দেখার পর থেকে বন্যার আতঙ্ক কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। রাতবিরেতে ঘুম ভেঙে যায়, ঘন্টার পর ঘন্টা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। প্রায় রাতেই আপু সজাগ হয়ে বন্যাকে ডেকে নিয়ে ঘুম পাড়ায়। তানভিরের কল রিসিভ করে না, বেশকিছু দিন ক্লাসে পর্যন্ত আসে নি। তানভির রাশভারি কন্ঠে শুধালো,“তুই কিভাবে যাবি?”“মিষ্টি ওর ফুপ্পির বাসায় যাবে। ওনাদের বাসা আমাদের বাসার এদিকে। আমি মিষ্টির সাথে চলে যাবো।”“ঠিক আছে। সাবধানে যাস।”“আচ্ছা। তুমি বন্যাকে নিয়ে যাও আর হ্যাঁ বন্যাকে মোখলেস দুলাভাই এর দোকান পর্যন্ত দিয়ে এসো।”তানভির নির্বাক চোখে মেঘকে দেখে নিল। মেঘের ঠোঁট জুড়ে হাসির ঝলক। তানভির চাইলেও বোনকে কিছু বলতে পারছে না। বন্যার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলল,“চলো”বন্যা তখনও মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখের ভাষায় বুঝাচ্ছে সে তানভিরের সঙ্গে যাবে না। কিন্তু মেঘ সেই ভাষাকে পাত্তা না দিয়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল,“কিরে যাচ্ছিস না কেনো? ভাইয়া কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে বলতো! ”বন্যা বিড়বিড় করতে করতে উঠে গেল। মেঘ, মিষ্টি, সাদিয়া, মিনহাজ, তামিম তখনও বসা। তানভির যাওয়ার আগে বোনকে সতর্ক করে গেলো যেন তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যায়। মিষ্টিরা টুকিটাকি বিষয় নিয়ে দুষ্টামি করছে। অথচ মেঘের মনোযোগ কাপল টার দিকে৷ দু’জন পাশাপাশি বসে কি সুন্দর ভাবে গল্প করছে। আবিরের জন্য মেঘের মনটা খুব বেশি ছটফট করছে। আগপাছ না ভেবেই সবার মধ্যে থেকে উঠে গেলো৷ কিছুটা দূরে গিয়ে আবিরকে কল করল। এদিকে আবির অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে প্রেজেন্টেশন দিচ্ছে। সচরাচর দিনের বেলা আবিরকে কেউ কল দেয় না তাই ফোন সাইলেন্ট করতেও ভুলে গেছে। আচমকা কল বাজতেই একজন বয়স্ক ব্যক্তি বিরক্তির স্বরে বললেন,“Silence your phone.”আবির তড়িৎ বেগে ফোন সাইলেন্ট করতে টেবিলে কাছে এগিয়ে আসলো। ফোনের স্ক্রিনে নজর পড়তেই থমকালো। অসময়ে মেঘের কল দেখে ভেতরটা কেঁপে উঠলো। উপস্থিত সবার দিকে এক পলক তাকিয়ে বলল,“I’m Sorry. I can’t cut this call. Excuse me.”আবির কল রিসিভ করে কিছুটা সাইডে সরে দাঁড়িয়েছে। রিসিভ হওয়ামাত্রই মেঘ আর্তনাদ করে উঠল,“আবির ভাই…… ”আবির বরাবরের মতো শান্ত আর আবেশিত কন্ঠে জবাব দিল,“হুমমমমমম।”“আপনি কবে আসবেন?”“আসবো।”মেঘ শীতল কন্ঠে শুধালো,“কবে আসবেন?”আবির এবার আস্তে আস্তে বলল,“আমি কবে আসবো এটা তো আপনি তো খুব ভালোভাবে জানেন। আপনিই বলুন, আর কতদিন বাকি?”মেঘ মৃদু হেসে উত্তর দিল,“২৭ দিন। ”“Very Good. এখন বলুন আপনার কি হয়েছে?”“কিছু হয় নি। এমনিতেই ভালো লাগছিল না। খেয়েছেন আপনি?”“এখনও খাওয়া হয় নি একটু পর খাবো। আপনি খেয়েছেন?”” বাহিরে খেয়েছি। বাসায় যায় নি এখনও।”আবির ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,“এখনও বাসায় যান কি কেনো? সাথে কে?”“মিষ্টিরা সবাই আছে।”মেঘ আবারও ডাকল,“আবির ভাই…”আবির পূর্বের ন্যায় জবাব দিল,“হুমমমমমম।”মেঘ ঢোক গিলে উষ্ণ স্বরে বলল,“I Miss You Abir Vai. Miss You a lot. ”সহসা আবিরের ওষ্ঠ যুগল প্রশস্ত হলো। সবার দিকে এক নজর দেখলো৷ রুমে উপস্থিত সবার নজর আবিরের দিকে। আবির সঙ্গে সঙ্গে নজর সরিয়ে আস্তে করে গলা খাঁকারি দিয়ে মুচকি হেসে বলে উঠল,“আচ্ছা, তারপর। ”মেঘ এবার আহ্লাদী কন্ঠে বলে উঠল,“I Miss You Infinity. Do you miss me?”আবিরের মোলায়েম কন্ঠের ছোট জবাব,“হুম।”মেঘ এবার ঠোঁট উল্টালো। সবসময় মিস ইউ বলে মেঘ কল কেটে দিলেও আজ সে কল কাটছে বা বরং আবিরকে প্রশ্ন করছে অথচ আবির হুমম, আচ্ছা বলে কথা কাটাচ্ছে। মেঘ মনে মনে ক্ষুদ্ধ হলো। বুক ভরে শ্বাস টেনে রাশভারি কন্ঠে শুধালো,“আপনি কি ব্যস্ত?”“প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিলাম। ”মেঘ আতঙ্কিত কন্ঠে বলতে শুরু করল,“সরি সরি সরি, আমি বুঝতে পারি নি। আপনি কল কেটে দিলেই পারতেন৷ রাখি এখন।”আবির শান্ত কন্ঠে বলল,“দ্রুত বাসায় যান। আমি প্রেজেন্টেশন শেষ করে কল দিচ্ছি। ওকে?”“আচ্ছা। ”মেঘ কল কেটে মোবাইল দিয়ে নিজের কপালে আস্তে করে গাট্টা দিতে দিতে নিজেকে বকতে লাগলো। মানুষ কল দিয়ে প্রথমে জিজ্ঞেস করে কেমন আছেন, কি করেন অথচ মেঘ সেই প্রশ্ন সবার শেষে জিজ্ঞেস করেছে। প্রথমে জিজ্ঞেস করলে এমন একটা ঘটনা কখনোই ঘটতো না। মেঘ নিজেকে বকতে ব্যস্ত। আবির ফোন সাইলেন্ট করে টেবিলের উপর রাখতে রাখতে বলল,“Sorry for wasting your time.”সবার মধ্য থেকে মোটামুটি বয়স্ক একজন জিজ্ঞেস করলেন,“Is she your lover?”আবির নিঃশব্দে হেসে মোলায়েম কন্ঠে উত্তর দিল,“She is my everything. I’m nothing without her. ”মধ্যবয়স্ক লোক এবার একগাল হেসে বললেন,“She is truly lucky to have a life partner like you. Best of luck.”আবির অনুষ্ণ কন্ঠে জানাল,“No,Sir. I am more lucky to have someone like her in my life. Pray for us & Again Sorry.”তানভির বন্যাকে নিয়ে একটা লাইব্রেরিতে গেল। বন্যা আশেপাশে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো। আপাতত কোনো বই কেনার ই প্ল্যান ছিল না তার, তবুও অনেক দেখেশুনে ২-৩ টা বই নিল। তানভির বন্যাকে কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু বন্যা খুব ব্যস্ততা দেখাচ্ছে এমনকি তানভিরের দিকে তাকাচ্ছেও না। কাজ শেষে তানভিরকে উদ্দেশ্য করে বলল,“আপনি চলে যান আমার আরও কিছু কাজ আছে।”” কাজ অন্যদিন করো আজ চলো, একজায়গায় যাব। ”বন্যা ঠান্ডা কন্ঠে বলল,“আমার শরীর ভালো না।”তানভির মলিন হেসে বলল,“বরই এর বিচি খেলে কিছু হয় না বোকা। ”বন্যা তানভিরের দিকে স্পষ্ট চোখে তাকিয়ে বলল,“আমি বোকা না।”” তাহলে কি? চালাক? কতটা? ”বন্যা তখনও তানভিরের দিকে তাকিয়ে আছে। তানভির রাশভারি কন্ঠে বলল,“কল দিলে কল রিসিভ করো না কেনো?”বন্যা ঢোক গিলে ভেতরের কষ্ট চেপে রেখে আস্তে করে বলল,” সবসময় ফোনের কাছে থাকি না।”“পরে তো দেখো। তখন একটা কল দিতে পারো না?”বন্যা আর কিছু বলল না। তানভির এবার শক্ত কন্ঠে জানতে চাইলো,” তুমি কি আমার উপর বিরক্ত?”বন্যা এপাশ-ওপাশ মাথা নেড়ে নিচু স্বরে বলল,” আমি বাসায় যাব।”বন্যার ভেতরে ঠিক কতটা যন্ত্রনা হচ্ছে এটা সে তানভিরকে বুঝাতেই পারছে না। তানভির বন্যাকে নিয়ে একটা চায়ের দোকানে বসলো। যদিও বন্যার ইচ্ছে ছিল না, তানভির জোর করেই এনেছে। দু’জনে দু কাপ বুলেট চা নিয়েছে। বন্যা দ্রুত চা খাচ্ছে যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাসায় চলে যেতে পারে। তানভির বন্যার এমন কর্মকাণ্ড দেখে হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আচমকা বলে উঠল,“সেদিনের মেয়েটার কথা মনে আছে?”বন্যা বুঝেও অবুঝের মতো প্রশ্ন করলশ“কোন মেয়ে?”“আয়েশা।”নামটা কর্ণকুহরে প্রবেশ মাত্রই বন্যা বিষম খেয়ে উঠল। টক আর কাঁচা মরিচের ঝাঁজে কাশতে কাশতে বন্যার শ্বাস আঁটকে যাচ্ছে। দুচোখ বেয়ে পানি পরছে, তানভির তড়িঘড়ি করে এক গ্লাস পানি নিয়ে আসলো। শ্বাস আঁটকে যাওয়ায় পানিটা পর্যন্ত খেতে পারছে না। তানভির কি করবে বুঝতে না পেরে বন্যার মাথায় অনবরত ফুঁ দিচ্ছে। বন্যার স্বাভাবিক হতে বেশকিছুটা সময় লাগলো। তানভির তখনও বন্যা পাশে দাঁড়ানো। বিষয়টা খেয়াল করে বন্যা আস্তে করে বলল,“আমি ঠিক আছি। আপনি বসুন।”তানভির “সরি” বলে দূরে সরে বসেছে। বন্যা বলল,“তখন কি যেন বলছিলেন, বলুন।”তানভির মনে মনে বিড়বিড় করল,“যে শাঁকচুন্নির নাম নেয়াতে তোমার এই অবস্থা হয়েছে এই শাঁকচুন্নির নাম আর জীবনেও মুখে নিবো না। ”বন্যা আবারও বলল,“কি হলো, বলুন।”“কিছু না,চলো তোমাকে বাসা পর্যন্ত দিয়ে আসি।”আবির প্রেজেন্টেশন শেষ করেই মেঘকে কল দিয়েছে ততক্ষণে মেঘ বাসায় চলে গেছে। কথা শেষ করে ফেসবুকে ঢুকা মাত্র মেঘের পোস্ট সামনে আসছে৷ পোস্ট দেখে আবির জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে অনুগ্র কন্ঠে বলল,“রূপকথার রাজকুমার না হলেও মাহদিবার রাজকুমার হয়ে খুব শীঘ্রই আসবো, ইনশাআল্লাহ।”নিত্যদিনের মতো রাত ১০:৩০ নাগাদ আবিরের কল আসছে। মেঘ যেন প্রতিদিন এই সময় টায় জন্যই অপেক্ষা করে। আবির কল দিয়েই ধীর কন্ঠে শুধালো,“কি অবস্থা? ”“কিসের কি অবস্থা? ”“শপিং কতদূর?”“কিসের শপিং?”“বিয়ের।”“কার বিয়ে?”“তোর।”“আমার বিয়ে! কবে?”” সেসব জেনে তোর কাজ কি? তুই না বলছিলি বিয়ের জিনিসপত্র নিয়ে পালানোর শখ তোর। টাকা পাঠিয়েছি কি কি লাগে সব কিনে নিস। ”মেঘ আহাম্মকের মতো তাকিয়ে বলল,“আমি আপনাকে এটা বলি নি।”“সেসব বাদ দে, এখন বল তোর কি লাগবে?”মেঘ মনে মনে বিড়বিড় করল,“আপনাকে লাগবে। এখন দিয়ে দেন আমায়।”“কি হলো বল!”“আমার কিছু লাগবে না।”আবির গম্ভীর কন্ঠে বলল,“আগামীকাল শপিং এ যাব৷ সারারাত লিস্ট করে পাঠাবেন। মনে থাকবে?”“হুমমম।”তানভির রাজনীতি ছেড়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়েছে। সেই সঙ্গে আপাতত আবিরের অফিসের টুকটাক দেখাশোনা করতে হচ্ছে। এছাড়াও আরও কিছু কাজ আছে। এরমধ্যে আয়েশার সঙ্গে আর দেখা হয় নি। তানভিরও ভুলে গেছে সেই মেয়ের কথা।বন্যা ইদানীং একটা টিউশন শুরু করেছে। মূলত বন্যার বড় আপু মেয়েটাকে পড়াতো৷ কিন্তু এখন চাকরির চাপে টিউশন পড়ানো টা কষ্ট হয়ে যায় তাই বন্যা পড়াচ্ছে। বিকেল দিকে বন্যা টিউশন থেকে বেড়িয়ে হেঁটে মেইনরোড পর্যন্ত যাচ্ছিলো। অনেকটা যাওয়ার পর হঠাৎ পাশ থেকে একজন ডাকলো,“বন্যা।”মেয়েলী কন্ঠস্বরে নিজের নাম শুনে বন্যা থমকে দাঁড়িয়ে পাশে তাকালো। থ্রিপিস পড়া এক মেয়ে মাথায় ওড়না দেয়া, এগিয়ে আসলো বন্যার কাছে। বন্যা সূক্ষ্ণ নেত্রে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,“কে আপনি? আমাকে কিভাবে চিনেন?”“আমি আয়েশা। সেদিন দেখা হলো মনে নেই? তানভিরের সাথে ছিলে তুমি।”বন্যা শ্বাস ছেড়ে শান্ত কন্ঠে বলল,“কিছু বলবেন?”“হ্যাঁ। তুমি মেঘের ফ্রেন্ড বন্যা না?”“জ্বি৷ কেনো?”“আসলে তোমাকে সেদিন তানভিরের সাথে দেখার পর কেন যেন মনে হচ্ছিল তুমি ওর গার্লফ্রেন্ড। অনেক ভাবার পর মনে হয়েছে। তুমি তো মেঘের ফ্রেন্ড। অনেক আগে তোমাকে দেখেছিলাম। তখন তোমরা অনেক ছোট ছিলে। ”বন্যা নিজের ভেতরে ক্রোধ চেপে রেখে শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল,“আমাকে কি কোনো দরকারে ডেকেছেন? আমার কিছু কাজ আছে, যেতে হবে৷ ”“তানভিরের বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই ডেকেছিলাম। তুমি জানো কি না জানি না, তানভিরের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল৷ পারিবারিক সমস্যার কারণে অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না। মূলত তানভিরের জন্য আমার ঢাকায় আসা। মাস্টার্স আর চাকরির প্রস্তুতি কেবল বাহানা। আচ্ছা, তানভির কি বর্তমানে কোনো সম্পর্কে আছে? জানো তুমি?”“আমি কিভাবে জানবো?”“তোমার সাথে কিছু নেই তো?”বন্যা কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করল,“থাকলে কি করবেন?”আয়েশা ফিক করে হেসে বলল,“মজা করতেছো? তোমাকে তানভির ছোট বোনের চোখে দেখে। তাই তোমার প্রতি ওর কোনো অনুভূতি আসবেই না।”বন্যা ফোঁস করে বলল,“তাহলে তো আপনি ই ভালো জানেন। আসছি”বন্যা চলে যাচ্ছে। মেয়েটা পেছন থেকে জিজ্ঞেস করল,“তোমার কাছে তানভিরের নাম্বার আছে?”বন্যা কোনো উত্তর দিল না। মেয়েটা আবারও বলল,“তানভিরের সাথে দেখা হলে আমার কথা বইলো।”ইদানীং আবিরের আব্বুর অফিসে বেশ চাপ যাচ্ছে। মোজাম্মেল খানও ঢাকায় নেই। আলী আহমদ খান একা সব সামলে হিমসিম খাচ্ছেন। তারমধ্যে কয়েকজন নতুন জয়েন করেছে। তাদেরকে সবকিছু বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে। আবির সকাল থেকে বেশ কয়েকবার কল দিয়েছে, আলী আহমদ খান ফোনের কাছে নেই তাই রিসিভ করতে পারেন নি। অনেকক্ষণ পর ফোন দেখে আবিরকে কল ব্যাক করলেন। আবির সালাম দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলল,“আব্বু, সিফাতের ব্যাপারে আপনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা কি ভেবেচিন্তে নিয়েছেন?”“হ্যাঁ। কেনো?”“কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আপনার এই সিদ্ধান্তটা নিয়ে আবারও ভাবা উচিত।”“তোমার চাচ্চু তোমার কাছে বিচার দিয়েছে?”“না আব্বু। চাচ্চু শুধু জানিয়েছেন। এটা একান্ত ই আমার মতামত। তারপরও যদি মনে হয় আপনি তাকে জয়েন করাবেন, তাহলে অন্ততপক্ষে কিছুদিন সময় নিন। আমি কিছুদিনের মধ্যেই চলে আসবো। চাচ্চু, কাকামনি ঢাকায় ফিরলে সবার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্তটা নিলে ভালো হতো না?”” কি বলতে চাচ্ছো, আমার নেয়া সিদ্ধান্ত ভুল? তোমরা যা ঠিক মনে করবে শুধুমাত্র তাই ঠিক?”“আব্বু প্লিজ আপনি মাথা ঠান্ডা করে একবার ভাবুন, যেখানে ২৫-৩০ বছর যাবৎ গ্রামের মানুষের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই। ভুলকরেও কখনো গ্রামে যান না, সেখানে সেই গ্রামের এক ছেলেকে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে জব দিচ্ছেন। সেটা কি আদোঃ যুক্তিপূর্ণ? ১৫ দিনের মধ্যে আমি চলে আসবো। তাছাড়া খুব সমস্যা হলে তানভিরকে বললেই অফিসে আসবে। এরপরও যদি নিতে চান আরও অনেক মানুষ আছে। প্লিজ একবার অন্তত ভাবুন।”আলী আহমদ খান গুরুতর কন্ঠে বলতে শুরু করলেন,“দেখো, মানুষ সারাজীবন খারাপ থাকে না। তার পরিবার আমাদের সাথে যে অন্যায় টা করেছে সেটা অনেক বছর আগের ঘটনা। এতবছর পর সে বিপদে পড়ে জবের জন্য আমার কাছে এসেছে। এখন আমিও যদি তাদের মতো খারাপ ব্যবহার করি তাহলে তাদের আর আমাদের মধ্যে কি পার্থক্য রইলো? দ্বিতীয়বার সুযোগ পেলে মানুষ নিজের প্রথম ভুলগুলোকেও শুধরাতে পারে। দেখা যাক সে কি করে!”আবির কন্ঠ দ্বিগুণ ভারি করে বলল,” আমার মন কোনোভাবেই সায় দিচ্ছে না। আপনার ভালোমানুষির সুযোগ নিয়ে অনেকেই অনেককিছু করতে পারে।”” তুমি দুশ্চিন্তা করো না। সাবধানে থেকো আর যত তাড়াতাড়ি চলে এসো। যদি তোমার ইচ্ছে হয়!”আবির মলিন হেসে বলল,“সরি, আব্বু।”“সরি বলছো কেনো?”“বলতে ইচ্ছে করলো তাই বললাম।”আরও এক সপ্তাহ কেটে গেছে। আবিরের বাড়ি ফেরার কেবল এক সপ্তাহ বাকি। খান বাড়ির আমেজ বদলে গেছে। মালিহা খান, হালিমা খান বিভিন্ন জাতের পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত। আকলিমা খানও তাদের কাজে সহযোগিতা করছে। মেঘ সকাল থেকে আম্মুদের বিশাল আয়োজন দেখছে। আজ ভার্সিটি যেতে একদম ইচ্ছে করছে না। তারপরও কি মনে করে ভার্সিটিতে এসেছে। একটা ক্লাস শেষ হয়ে আরেকটা ক্লাস শুরু হয়েছে কেবল ১৫ মিনিট হবে। এরমধ্যে মেঘের মাথা ঘুরছে, চোখে অন্ধকার দেখছে। একবার ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে এসেছে তারপরও ঠিক হচ্ছে না। মেঘের অবস্থা দেখে বন্যাও ভয় পাচ্ছে তানভিরকে ফোন দিতে চাচ্ছে কিন্তু মেঘ বার বার আটকে দিচ্ছে । প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর মেঘ আচমকা সেন্স হারিয়ে বন্যার গায়ের উপর ঢলে পড়েছে।
পদ্মজার মৃদু আর্তনাদ শুনে আমিরের রক্ত ছলকে উঠে। সে দ্রুত তার শার্টের বুক পকেট থেকে লাইটার বের করে,আগুন জ্বালাল। হলুদ আলোয় পদ্মজার মুখখানা ভেসে উঠে। মাথা দুই হাতে ধরে রেখেছে। ভ্রুযুগল কুঁচকানো। আমির অস্পষ্ট কণ্ঠে উচ্চারণ করলো, ‘পদ্মজা!’সে পদ্মজাকে ছোঁয়ার জন্য হাত বাড়ায়। তখন পদ্মজা বললো, ‘দূরে সরুন।’পদ্মজার কণ্ঠে একটু তেজের আঁচ টের পাওয়া যায়। আমির কথা বাড়ালো না। সোজা লতিফার ঘরের দিকে গেল। লতিফা,রিনুকে ডেকে নিয়ে আসে। রিনুর হাতে হারিকেন। লতিফা,রিনু পদ্মজাকে উঠতে সাহায্য করে। পদ্মজার মাথা ফুলে গেছে। ভনভন করছে। পদ্মজা লতিফাকে ধরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করে। শেষ ধাপে গিয়ে একবার পিছনে ফিরে তাকাল। হারিকেনের হলুদ আলোয় আমিরের জীর্ণশীর্ণ মুখটা দেখে পদ্মজার বুকটা হাহাকার করে উঠে। কোথায় ছুড়ির আঘাত পেয়েছে কে জানে! পদ্মজা দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো। আমির রিনুকে বললো, ‘উপরে যা। লতিফা বুবুকে সাহায্য করিস।’রিনু নতজানু হয়ে ভয়ার্ত কণ্ঠে বললো, ‘তোমার ঘাড় দিয়া রক্ত আইতাছে ভাই।’আমির হাসলো। সিঁড়ি ভেঙে নামার সময় পা ফসকে যায়। আমির কুঁজো হতেই পদ্মজার আক্রমণ! এক জায়গায় বার বার আঘাত পেতে হচ্ছে! আমির রিনুকে বললো, ‘ঘাড়টা পঁচে যাওয়া বাকি! যা,উপরে যা।’আমির অন্দরমহলের বাইরে পা রেখে ঠান্ডা বাতাসে কেঁপে উঠে। শীতের প্রকোপ তীব্র! মাথায়,ঘাড়ে তীব্র ব্যাথা। ঠান্ডা বাতাসে আরো ভয়াবহ যন্ত্রনা হচ্ছে! সবকিছু ছাপিয়ে হৃদয়ের ব্যথাটা দ্বিগুণ আকারে বেড়ে চলেছে। পদ্মজার ঘৃণাভরা দৃষ্টি আমির আর নিতে পারছে না। প্রথম দিকের মতো শান্ত থাকা যাচ্ছে না। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে পঙ্গু হওয়ার পথে। শরীরের রক্ত আর হৃদয়ের যুদ্ধ আমিরের শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। আমির নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করে। দুই হাতে চুল ঠিক করে অন্দরমহলের পিছন দিকে হেঁটে আসে। তিন-চারটে কুকুর দেখতে পেল। ভাঙা প্রাচীর দিয়ে হয়তো প্রবেশ করেছে। আমির কুকুরগুলোর দিকে এক ধ্যাণে তাকিয়ে থাকে। কুকুরগুলোও তাদের হিংস্র চোখ দিয়ে আমিরকে দেখছে। আমির দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।রাতের নিস্তব্ধতায় সেই দীর্ঘশ্বাসের শব্দ দুরন্ত বাতাস ভাসিয়ে নিয়ে গেল অনেকদূর পর্যন্ত। বেওয়ারিশ কুকুরগুলো সেই শব্দ শুনে চমকে উঠল।নড়েচড়ে দূরে সরে গেল। আমির হেসে তাদের বললো, ‘ বুকের যন্ত্রনার এক অংশও দীর্ঘশ্বাসের সাথে বের হয়নি! আর এতেই ভয় পেয়ে গেলি তোরা?’একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠলো। আমির এগিয়ে যেতেই কুকুরগুলো ছুটে পালায়। আমির অপলক চোখে সেদিকে তাকিয়ে রইলো। অকারণেই হাসলো। তারপর গভীর জঙ্গল পেরিয়ে পাতালঘরে প্রবেশ করে। রাফেদ আমিরকে দেখে আঁতকে উঠলো। বললো, ‘স্যার,কীভাবে হলো এসব?’আমির চেয়ার টেনে বসে বললো, ‘দ্রুত পরিষ্কার করো।’রাফেদ আমিরকে পরিষ্কার করে দিলো। আমির শার্ট পাল্টে পাঞ্জাবি পরলো। তার আর কোনো কাপড় এখানে নেই। সব অন্দরমহলে নিয়ে গিয়েছিল। সাদা পাঞ্জাবি রয়ে গেছে। পাঞ্জাবিটা পরতে গিয়ে মনে পড়ে পদ্মজার কথা। পদ্মজার সাদা রঙ পছন্দ। প্রতি শুক্রবারে আমির সাদা পাঞ্জাবি পরে জুম্মায় যেতো। জুম্মায় যাওয়ার পূর্বে পদ্মজা খুব যত্ন করে পাঞ্জাবির তিনটে বোতাম লাগিয়ে দিতো। লাগানো শেষে বলতো, ‘ আমার সুদর্শন স্বামী।’পদ্মজা যতবার এ কথা বলতো,ততবার আমির প্রাণখুলে হেসেছে। সে জানে না পদ্মজার চোখে সে কতোটা সুন্দর! কিন্তু পদ্মজার দৃষ্টি ছিল মুগ্ধকর! মুগ্ধ হয়ে সে আমিরকে দেখতো। আমির পাঞ্জাবির বোতামে চুমু দেয়। তখনই কানে বেজে উঠে, ‘ছুঁবেন না আমায়!,দূরে সরুন!,আমি আপনাকে ঘৃণা করি!’কথাগুলো তীরের মতো আঘাত হানে মস্তিষ্কে! আমির নিজের চুল খামচে ধরে। রাগে চিৎকার করতে করতে এওয়ানের পালঙ্কে লাথি দিতে থাকে। পালঙ্ক ভেঙে যায়। রাফেদ দৌড়ে আসে। কিন্তু আমিরকে ধরার সাহস হয় না। আমিরকে আর যে যাই ভাবুক! রাফেদ জানে,আমির পাগল। একটা সাইকো সে। যখন রেগে যায় সবকিছু তছনছ করে ফেলে। আমিরের এই রাগের স্বীকার যে মেয়ে হয়েছে,সে মেয়ে নিঃশ্বাসে,নিঃশ্বাসে নিজের মৃত্যু কামনা করেছে।রাফেদ দূরে দাঁড়িয়ে থাকে। সে মনে মনে,এই হিংস্র মানুষটার মৃত্যু কামনা করে। কত মেয়ে আমিরকে বাবা,ভাই ডেকেছে ছেড়ে দেয়ার জন্য। আমির ছাড়েনি। মুখের উপর লাথি দিয়ে ছুঁড়ে ফেলেছে মেঝেতে। রাফেদ বাধ্য হয়ে এই জগতে প্রবেশ করেছে। অর্থের অভাবে! ভাবেনি,এতোটা পাশবিক, নির্মম এরা! কিন্তু আর বের হওয়ার উপায় ছিল না। বের হতে চাইলেই,মৃত্যু অনিবার্য। তাই সে এই নৃশংসতার সাথে তাল মিলিয়েছে। পরিবারের দুর্দশা তাকে জ্ঞানহীন করে দিয়েছিল। এক কথায় গ্রহণ করে নিয়েছিল এই পথ! যখন একেকটা মেয়ের কান্না সে শুনে, মনে হয় তার বোন কাঁদছে,আকুতি করছে! প্রথম প্রথম সেও কান্না করতো। এখন মানিয়ে নিয়েছে। কিন্তু মনের কোণে মুক্তির আশা এখনো আছে। তলোয়ারের আঘাতের চেয়েও ধারালো কাছের মানুষের দেয়া আঘাত! যেদিন রাফেদ বুঝতে পেরেছে আমিরের দূর্বলতা পদ্মজা,সেদিন থেকে সে দোয়া করছে, আমির যেন এই দূর্বলতার ভার সহ্য করতে না পেরে দূর্বল হয়ে পড়ে। হাঁটুগেড়ে পড়ে যায় মাটিতে। নিঃস্ব হয়ে যেন দিকদিশা হারিয়ে ফেলে। আমিরের ছটফটানি, অস্থিরতা রাফেদের মনে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। আমির শান্ত হয়! রাফেদকে বললো, ‘পানি আনো।’রাফেদ পানি নিয়ে আসে। আমির পানি পান করে ধ রক্তে এসে প্রবেশ করে। বিথ্রিতে আমির পা রাখতেই মেয়েগুলোর চোখেমুখে স্পষ্ট ভয় জমে। রাফেদ চেয়ার নিয়ে আসে। আমির চেয়ারে বসলো না। মেয়েগুলোকে দেখে বেরিয়ে আসলো। বিওয়ানে গেল। সেখানে একটা মেয়েও নেই! শুকনো রক্ত পড়ে আছে। সবকয়টি মেয়ে কুরবান হয়ে গেছে। নদীর স্রোতে ভেসে গেছে। এই ঘরের দেয়ালে দেয়ালে শত শত মেয়ের আর্তনাদ বাজে। আমির পুরো ঘরটা ঘুরে ঘুরে দেখলো। বিশ বছর আগে সে এই পাতালঘরে প্রথমবার এসেছিল। তখন তার বয়স পনেরো। তার বয়সী একটা মেয়েকে সে প্রথম আঘাত করেছিল এই ঘরেই! মেয়েটা আমিরের পায়ে ধরে মুক্তি ভিক্ষা চায়। আমির মুখের উপর লাথি মারে। সঙ্গে,সঙ্গে মেয়েটার নাক,মুখ ফেটে রক্ত বেরিয়ে আসে। মনে পড়তেই আমিরের শরীরটা কেমন করে উঠে। তার ভেতরে অদৃশ্য কী যেন প্রবেশ করছে! ভেতরটা খুঁড়ে, খুঁড়ে খেয়ে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এক কোণে সুন্দর নকশায় তৈরি করা,সিংহাসনের মতো চেয়ার রয়েছে। আমির সেখানে বসলো। এই চেয়ারে বসে কত নগ্ন মেয়ের, তীব্র যন্ত্রনার আর্তনাদ সে উপভোগ করেছে! আমির এক হাতে কপাল ঠেকিয়ে চোখ বুজে। চোখের পর্দায় পদ্মজার রাজত্ব! তাদের ঢাকার বাড়িতে কোনো এক বর্ষায়,পদ্মজা তার শাড়ি দুই হাতে গোড়ালির উপর তুলে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নামছে। পিছনে ধাওয়া করেছে,আমির। পদ্মজার কলকল হাসিতে যেন পুরো বাড়ি নৃত্য করছিল। বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি! কী অপূর্ব সেই মুহূর্ত। আমির চোখ খুলে ছাদের দিকে তাকায়। তারপর রাফেদকে ডাকলো, ‘রাফেদ?’রাফেদ দৌড়ে আসে। আমির রাফেদকে মিনিট তিনেক সময় নিয়ে দেখলো। তার চোখের দৃষ্টি শীতল। রাফেদের বুক দুরুদুরু করছে। আমির বললো, ‘কেমন আছো?’রাফেদ চমকে যায়। সে হতভম্ব। বেশ খানিক সময় নিয়ে উত্তর দিল, ‘ ভালো স্যার।’‘তোমার বোনের ছেলে হয়েছিল নাকি মেয়ে?’রাফেদের মনে হচ্ছে,তার কলিজা এখুনি ফেটে যাবে। তার চোখ দুটি মারবেলের মতো গোল,গোল হয়ে যায়। সে কণ্ঠে বিস্ময়তা নিয়ে বললো, ‘ছেলে-মেয়ে দুটোই।’‘জমজ?’‘জি,স্যার।’‘তুমি মুক্তি চাও?’রাফেদ বিস্ময়ের চরম পর্যায়ে। আমির বললো, ‘ যদি চাও,তাহলে আজ থেকে তুমি মুক্ত।’রাফেদের মাথায় যেন আসমান ভেঙে পড়ে। সে ধপ করে মেঝেতে বসে পড়লো। অস্থির হয়ে পড়ে। তার অনুভূতি এলোমেলো হয়ে যায়। সে আমিরের দুই পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল। বললো, ‘স্যার,স্যার আমি মারা যাচ্ছি।’আমির আদেশের স্বরে বললো, ‘পা ছাড়ো রাফেদ। ত্রিশ মিনিটের মধ্যে জায়গা না ছাড়লে,আর যেতে পারবে না।’রাফেদ ঝরঝর করে কাঁদতে থাকল। যেন পাহাড় ভেঙে ঝর্ণার পানি ঝরছে। আমির বললো, ‘উঠো তারপর দৌড়াও।’রাফেদ দ্রুত উঠে দাঁড়ালো। সে তার ব্যাগ গুছিয়ে দ্রুত এই অন্ধকার ছেড়ে হারিয়ে যায়, আলোর সন্ধানে। আমিরের বুকটা খাঁখাঁ করছে। রাফেদের চোখেমুখে মুক্তির যেই আনন্দ সে দেখেছে,সেই আনন্দের তৃষ্ণায় তার কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে। কবে এই তৃষ্ণা মিটবে? কবে?আমিরের বুকে জ্বালাপোড়া শুরু হয়,মনে হচ্ছে কোনো ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে। যে ঘূর্ণিঝড় চোখের পলকে সব লণ্ডভণ্ড করে,স্তব্ধ করে দিবে।.লতিফা,রিনু চলে যেতেই পদ্মজা বিছানা ছেড়ে টেবিলে বসলো। হাতে তুলে নিলো কলম-প্রিয়তম,আমার প্রতিটি রজনী যেন বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। আমি আপনাকে ভুলে যেতে চাই। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না! বিছানার চাদরে আপনার শরীরের ঘ্রাণ। শরীরের প্রতিটি লোমকূপ বার বার জানান দেয়,তারা আপনাকে ভালোবাসে। আমার অস্তিত্বের পুরোটা জুড়ে আপনার বিচরণ। বুকের ভেতরটা দগ্ধ হয়ে খানখান। আপনার উন্মুক্ত বুকের সাথে চেপে ধরে বলেছিলেন, আপনার তেঁতো জীবনের মিষ্টি আমি। আপনার মুখে ছিলহাজার,হাজার শুকরিয়া।অথচ,এই সময়ে এসে আপনি আপনার তেঁতো জীবনটা বেছে নিয়েছেন। ছুঁড়ে ফেলেছেন আমাকে! এ কোন গভীর সমুদ্রের অতলে আমাকে ছুঁড়ে দিলেন? আপনার পাপের শাস্তি কেন আমি পাচ্ছি? আবেগ-বিবেকের যুদ্ধে আমি বার বার আহত হয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি। নিজের সবটুকু আপনার নামে দলিল করে দিয়ে,আমি ভুল করেছি। এখনো আপনার শরীরের একেকটা আঘাত আমাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। কিন্তু আমি আপনাকে আঘাত করতে চাই। আমার ভেতরের জ্বলন্ত আগুন নেভাতে, আপনার এবং আপনার দলের প্রতিটি নরপশুর রক্তের ভীষণ প্রয়োজন!——এতটুকু লিখে পদ্মজা থামলো। তার দুই চোখ বেয়ে জল পড়ছে। আর লেখার শক্তি পাচ্ছে না। ডায়রির পৃষ্ঠাটি ছিঁড়ে, দিয়াশলাইয়ের আগুনে জ্বালিয়ে দিলো। আলমারি খুলে আমিরের দেয়া তলোয়ারটি হাতে নিল। তলোয়ারের দিকে দৃষ্টি রেখে বললো, ‘আপনার বুকের হৃদয়ে আমি আজীবন রানি হয়ে থাকতে চেয়েছিলাম। সেই বুকে আমি কী করে আঘাত করব?’শেষ কথাটি বলার সময় পদ্মজার দুই চোখ বেয়ে নোনাজল নামে। সে তলোয়ার মেঝেতে রেখে,বিছানায় আছড়ে পড়ে কাঁদতে থাকলো। আমির যে পাশে সবসময় শুতো,সে জায়গাটা জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু হায়! কোথায় মানুষটার উষ্ণ বুক? যে বুকে মুখ গুঁজে পদ্মজা তার সব কষ্ট ভুলে যেত!
স্বাধীনতা মহান আল্লাহর নিয়ামত। আরবি ভাষার প্রবচন-‘দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ’। জন্মভূমি মক্কার প্রতি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অপরিসীম ভালোবাসার কথা বিশ্ববাসীর জানা। প্রতিপক্ষ মুশরিকদের হিংস্রতার শিকার হয়ে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যেতে বাধ্য হন। তিনি যখন মদিনার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তখন পেছন ফিরে প্রিয় মাতৃভূমির দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, ‘হে প্রিয় জন্মভূমি মক্কা আমার! যদি তোমার অধিবাসীরা আমাকে বাধ্য না করত আমি কোনো দিন তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।’ জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা আমরা পেয়েছি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে। সে অর্থে জন্মভূমিকে ভালোবাসা রসুলের সুন্নত। তাফসিরে কুরতুবির বর্ণনা অনুযায়ী-যখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করছিলেন তখন তাঁর চোখ সজল হয়ে উঠেছিল। দেশের জন্য, জন্মভূমির জন্য তাঁর দরদ ও ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। পরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রিয় হাবিবের মাধ্যমে মক্কাকে মুশরিকদের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে, স্বাধীনতা দিয়ে ধন্য করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় আছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনাকেও খুব ভালোবাসতেন। কোনো সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকালে মদিনার সীমান্তে ওহুদ পাহাড় চোখে পড়লে নবীজির চেহারায় আনন্দের আভা ফুটে উঠত এবং তিনি বলতেন, ‘এ ওহুদ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও ওহুদকে ভালোবাসি (বুখারি, মুসলিম)।’বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে। মানুষ হত্যাকে ইসলামে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে তারা জঘন্য অপরাধী। গণহত্যা আরও বড় অপরাধ। আল্লাহতায়ালার যত সৃষ্টি রয়েছে এর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হচ্ছে মানুষ। মানবসৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করেছেন এবং মানুষকে এই জমিনে তাঁর প্রতিনিধি বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন তারা বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গাহাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা প্রতিনিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না (সুরা বাকারা, আয়াত ৩০)।’মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই আল্লাহ মানুষকে তাদের দান করেছেন সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।’ সুরা তিন, আয়াত ৪। শুধু তা-ই নয়, আল্লাহর সুস্পষ্ট বাণী হচ্ছে, এই বিশ্বজগতের সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন কেবল মানুষেরই জন্য। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তিনিই সেই সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য জমিনের সবকিছু (সুরা বাকারা, আয়াত ২৯)।’ আল্লাহ যেমন ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি মানবজাতির সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছেন। একজন মানুষের জীবন, সম্পদ, মানসম্মান আল্লাহর কাছে এত দামি যে কোরআন ও হাদিসে এসব বিষয়ের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল কোরআনে একজন মানুষ হত্যা করাকে গোটা মানবজাতিকে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।হিজরতের পর মদিনায় হজরত আবুবকর (রা.) ও বেলাল (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তাঁদের মনে প্রিয় স্বদেশ মক্কার স্মৃতিচিহ্ন জেগে উঠেছিল। তাঁরা জন্মভূমি মক্কার কথা স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়ে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের মনের এ দুরবস্থা দেখে প্রাণভরে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমরা মক্কাকে যেমন ভালোবাসি মদিনার ভালোবাসা তার চেয়েও বেশি আমাদের অন্তরে দান করুন। বুখারি।’ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে স্বদেশকে ভালোবেসে আমাদের জন্য দেশপ্রেমের আদর্শ রেখে গেছেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি কেউ তোমাদের কোনো উপকার করে তবে তাকে প্রতিদান দেবে। যদি প্রতিদান দিতে না পার তবে তার জন্য এমনভাবে দোয়া করবে, যেন তোমাদের মন সাক্ষ্য দেয়, হ্যাঁ তোমরা তার প্রতিদান দিয়ে দিয়েছ (আবু দাউদ)।’ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর তবে তা শেষ করতে পারবে না (সুরা নাহল আয়াত ১৭)।’ আল্লাহর দেওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নেয়ামত হলো স্বাধীনতা। বাংলাদেশের মানুষ দুই যুগের দীর্ঘ সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আল্লাহর এ নেয়ামত অর্জন করেছে। আমাদের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর কাছে এই দিনে আমরা তাঁদের জন্য দোয়া করব। আল্লাহ তাঁদের বেহেশতের সুশীতল স্থানে ঠাঁই দিন।লেখক : ইসলামিক গবেষক
আমার প্রায় লেখাগুলোই শুরু হয় আমাদের জ্ঞানহীনতার আহাজারি দিয়ে। ব্যাপারটা একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সত্যি কথা এটাই যে মুসলিম হিসেবে যা জানার কথা ছিল ক্লাস ফোর-ফাইভে, সেটা আমি জেনেছি অনার্স পরীক্ষা দেবার পর! এরকম ইসলামের খুব বেসিক কিন্তু একেবারেই অজানা একটা বিষয় হল সুন্নাত।সুন্নাত শব্দটার সরল অর্থ পথ, নিয়ম বা রীতি। সুন্নাতুল্লাহ মানে আল্লাহর রীতি। সুন্নাতুর রসুল মানে রসুল(সাঃ) এর পথ, তাঁর রীতি। কিন্তু ইসলামি পরিভাষায় সুন্নাত শব্দটি বিভিন্ন শাখার স্কলাররা বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করেছেন। যেমন –১. ফিক্হ (ইসলামি আইন) শাস্ত্রে সুন্নাত বলতে বোঝায় এমন কাজ যা করা ভাল কিন্তু তা করতে মানুষ বাধ্য নয়। যেমন ফজরের ফরযের আগের দুই রাকাত নামাজ সুন্নাত। এটা কেউ না পড়লে পাপী হবেনা কিন্তু পড়লে অনেক অনেক সাওয়াব – আসমান এবং জমিনের মাঝে যা কিছু আছে তার থেকে এ দু’রাকাত নামায উত্তম বলে রসুল(সাঃ) আমাদের জানিয়ে গেছেন। এই ‘সুন্নাত’ মুস্তাহাব/মানদুব/পছন্দনীয়/Recommended এর সমার্থক শব্দ।২. হাদীস শাস্ত্রে রসুল(সাঃ) এর কথা, কাজ, মৌন সম্মতির পাশাপাশি অভ্যাস, দৈহিক বৈশিষ্ট্য অথবা জীবনবৃত্তান্ত – যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবই সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন তিনি লাউ খেতে ভালোবাসতেন এটা সুন্নাত, ঘুমের সময় তার হালকা নাক ডাকার শব্দ হত সেটাও সুন্নাত আবার তিনি মাথায় পাগড়ি পড়তেন এটাও সুন্নাত।৩. উসুলুল ফিক্হ (ইসলামি আইনের মূলনীতি) শাস্ত্রে সুন্নাত বলতে বোঝায় রসুল(সাঃ) এর কথা – আদেশ, উৎসাহ, অনুমোদন, অপছন্দ বা নিষেধ; তাঁর কাজ যা অন্যদের জন্য অনুকরণযোগ্য এবং তাঁর মৌন সম্মতি (কারণ কোন খারাপ কাজ হবে আর তিনি চুপ করে থাকবেন তা হবার নয়) সবকিছুর সমন্বয়কে।ভিন্ন ভিন্ন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন পটভূমিতে সুন্নাত শব্দের চলের ফলে আমরা প্রায়ই ভুল বুঝাবুঝির শিকার হই। খুব প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা –১. কুর’আনের সব আদেশ মানা বাধ্যতামূলক কিঃআল কুর’আনের সব আদেশ মুসলিমদের উপর ফরয নয়। যেমন সুরা বাক্বারার ২৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন – “…আর তোমরা বেচা-কেনা করার সময় সাক্ষী রাখ…” আল্লাহর এই আদেশটি অবশ্য পালনীয় নয় বরং মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়। আল্লাহ তার অসীম করুণায় এটা আমাদের উপর ফরয করে দেননি, দিলে দৈনন্দিন জীবন যাপনে আমাদের অনেক অসুবিধা হত।কুর’আন যেহেতু রসুল(সাঃ) এর উপর নাযিল হয়েছিল তাই এর বিধানগুলো কিভাবে মানতে হবে তা জানার জন্য আমাদের যেতে হবে রসুল(সাঃ) এর কাছে। কুর’আনের কোন আদেশের মর্যাদা কী তা ফকীহ আলিমরা সেই বিষয়ের উপর কুর’আন এবং হাদিসের সমস্ত সূত্র এক করে গবেষণা করে বের করেন। যেমন উল্লেখিত আয়াত রসুল(সাঃ) এর উপর নাযিল হওয়া সত্ত্বেও তিনি অনেক সময় সাক্ষী ছাড়াই কেনাকাটা করতেন। তার এ আচরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে এটা অবশ্য করণীয় নয়।২. হাদিসের আদেশ কি মানলেও চলে, না মানলেও চলেঃকোন ব্যাপারে রসুল(সাঃ) এর আদেশ মানা বাধ্যতামূলক হতে পারে যদিও হয়ত সে ব্যাপারে কুর’আন থেকে সরাসরি কোন বিধান নেই। যেমন রসুল(সাঃ) বলেছেন –“গোঁফ ছেঁটে রাখ এবং দাড়িকে ছেড়ে দাও”এখানে দাড়ির ব্যাপারে রসুল(সাঃ) “আমার প্রভু আমাকে আদেশ করেছেন” – এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন। এটি সহ দাড়ির ব্যাপারে অন্যান্য সব হাদিস একসাথে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে দাড়ি রাখা প্রত্যেক মুসলিম পুরুষের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক।অনেকে মনে করেন দাড়ি রাখা রসুলের সুন্নাত। এখানে সুন্নাত বলতে বুঝিয়েছে রসুল(সাঃ) এর একটি অভ্যাসকে। কিন্তু এই অভ্যাস আসলে ‘করলে ভালো না করলে ক্ষতি নেই’- এমন স্ট্যাটাসের না। এটা ফরয যা করতে প্রত্যেক মুসলিম বাধ্য। যদি কেউ দাড়ি না রাখে তবে তার জন্য তাকে রসুল(সাঃ), প্রকারান্তরে আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করায় পরকালে শাস্তি পেতে হবে।৩. সব সুন্নাতই কি অনুকরণীয়ঃযেসব সুন্নাত রসুল(সাঃ) এর অভ্যাসগত বা জীবন যাপনের সাথে সম্পর্কিত তার সব কিছু মানতে মুসলিম বাধ্য নয়। যেমন রসুল(সাঃ) ঘুমানোর সময় তার নাক ডাকতো। এখন আমাদেরও নাক ডাকতে হবে এমনটা জরুরী নয়। ঠিক তেমন রসুল(সাঃ) যে ধরণের পোষাক পরতেন তা তিনি আমাদের জন্য অনুকরণীয় করেননি। করলে দেখা যেত শীতের দেশের মুসলিমরা কিংবা আমাদের মত পানির দেশের মুসলিমরা সে ধরণের পোশাক পরতে না পারার কারণে সাওয়াবের দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই তিনি পোশাকের একটি রূপরেখা দিয়ে দিলেন। সে রূপরেখা মেনে চললে পৃথিবীর যে কোন এলাকার মুসলিম নিজেকে আবৃত করতে পারবে, পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলাচল করতে পারবে আবার রসুল(সাঃ) এর আদেশ মানার মাধ্যমে পূণ্যার্জনও করতে পারবে।৪. রসুলের আনুগত্য কি বাধ্যতামূলকঃমানুষ হিসেবে রসুল(সাঃ) এর কিছু কাজ আমাদের জন্য অনুকরণীয় নয় বটে কিন্তু রসুল হিসেবে তার সব কাজই আমাদের জন্য অনুকরণীয়। কিছু কিছু ব্যাপারে তার অনুকরণ করাটা পছন্দনীয় এবং বাঞ্চনীয় – যেমন তার চারিত্রিক শিষ্টাচার। আবার কিছু কিছু ব্যাপারে তাকে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আসলে তিনি যত আদেশ দিয়েছেন তা যদি অন্য কোন কথা বা কাজ দিয়ে লঘু না করে থাকেন তবে সেটা আমাদের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক। এটা সময় বা পরিবেশের সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল নয়। যেটা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বদলে যেতে পারে সেটা আমাদের উপর বাধ্য করা হয়নি। সত্যি কথা বলতে গেলে ইসলামটা আসলে রসুলের আনুগত্যের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষের জীবনে ইসলামের রূপটা কেমন হবে তার জ্বলন্ত উদাহরণ রসুল(সাঃ)। এ কারণেই আল্লাহ কুর’আন আকাশ থেকে পৃথিবীতে ঠাস করে ফেলে দেননি, একজন মানুষ নবীর উপর নাযিল করেছেন। এতে কুর’আনের তাত্বিক ও ব্যবহারিক ব্যাখ্যা সমেত মানব্জাতির কাছে আল্লাহর পুরো মেসেজটাই কিয়ামাত পর্যন্ত সংরক্ষণ করা গেছে। আর মূলতঃ এই কারণে হাফ-কাফির / ফুল-কাফির / ওরিয়েন্টালিস্ট / মুক্তমনাদের আক্রমণের কেন্দ্র ক্বুর’আন নয়, সুন্নাতুর রসুল। সুন্নাত আছে মানে কুর’আন যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যাখ্যা করার দরজা বন্ধ। সুন্নাত নেই মানে ‘মারি তো গন্ডার লুটি তো ভান্ডার’।৫. নামাযে টুপি পড়া কি সুন্নাতঃপাগড়ি বা টুপি জাতীয় পোশাক পড়া ছিল রসুল(সাঃ) এর অভ্যাস। কিন্তু তিনি সহিহ হাদিসে নামাযের পড়ার সাথে টুপির বিষয়টা সম্পর্কযুক্ত করেননি। নামাযের সময় ভালো পোশাক পরতে আদেশ দেয়া হয়েছে কুর’আনে কারণ অজ্ঞ মুশরিকরা নগ্নদেহে কাবা ঘর তাওয়াফ করত। এর বিরুদ্ধাচারণ করতে বলা হয়েছে ইসলামে। আমরা কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গেলে বা গুরুত্বপূর্ণ কোন মানুষের সাথে দেখা করতে হলে আমাদের সবচেয়ে ভালো পোশাক পড়ে যাই। একজন মুসলিমের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্ত্বা আল্লাহ, সবচেয়ে দামী জায়গা মসজিদ – তাই সে সেখানে সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে দামী পোশাক পড়ে যাবে এটাই কাম্য। কারো যদি টুপি পড়ার অভ্যাস থাকে সে অবশ্যই টুপি পড়ে নামায পড়তে পারে। কারো যদি অভ্যাস না থাকে কিন্তু শুধু নামাযের জন্য টুপি পড়ে তবে সেটা ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক আছে যতক্ষণ না সে মনে করছে এই টুপি পড়ায় বাড়তি কোন সাওয়াব আছে। পাগড়ি বা টুপি পড়ায় যদি বাড়তি কোন সাওয়াব থাকতো তবে তা রসুল(সাঃ) বলে যেতেন। যেহেতু তিনি তা বলে যাননি সেহেতু কেউ যদি ভাবে ‘টুপি/পাগড়ি পড়লে সাওয়াব হয়’ অথবা ‘টুপি/পাগড়ি নামাযের একটি অংশ’ তবে সেটা হবে বিদ’আত। এখানে কাজটা অভ্যাসগত সুন্নাত অথচ কাজের সাথে মিশে থাকা বিশ্বাসটা বিদ’আত। কোনটায় সাওয়াব হবে সেগুলো খুব স্পষ্টভাবে কুর’আন এবং সুন্নাহতে বলে দেয়া আছে – আমার মনে করাকরির কোন স্থান ইসলামে নেই।৬. সুন্নাতি লেবাস কিঃরসুল(সাঃ) তোফ মানে ঢিলেঢালা লম্বা জামা পড়তেন যার দৈর্ঘ্য ছিল হাটু থেকে গোড়ালির মাঝামাঝি পর্যন্ত। এখন কেউ একটা পাঞ্জাবি পড়ল যা হাটু পর্যন্ত। আর আমি একটা তোফ পড়লাম যা প্রায় গোড়ালি ছুঁই-ছুঁই। এখন যদি আমি মনে করি এটা পড়ে আমি একটু বেশি সাওয়াব পাচ্ছি তবে সেটা হবে বিদ’আত। কারণ জামার ধরণ বা দৈর্ঘ্যের সাথে সাওয়াবের কোন সম্পর্ক আল্লাহ বা তার রসুল(সাঃ) করেননি। আমাদের দেশে সুন্নাতি লেবাসের যে ধারণাটি প্রচলিত আছে তা আসলে সুন্নাতি লেবাসের একটা রূপ মাত্র, পুরো চিত্রটা নয়।তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে দেয়া উচিত। রসুল(সাঃ) কে ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ। যে কেউ রসুল(সাঃ)কে ভালোবেসে শরিয়াতের সীমার মধ্যে কিছু করলে সেটা সে যাই করুক না কেন সেজন্য সে সাওয়াব পাবে। তবে সে সাওয়াব হবে ‘রসুল কে ভালোবাসা’-এই মূলনীতির আওতায়। অর্থাৎ কেউ যদি সবসময় টুপি পড়ে থাকে তবে সে রসুল(সাঃ) কে ভালোবেসে অনুকরণ করার কারণে সাওয়াব পাবে, কিয়ামাতের বিপদে রসুলের সান্নিধ্য পাবে। কেউ যদি লাউ খেতে ভালোবাসে এজন্য যে রসুল(সাঃ) তা ভালোবাসতেন তবে রসুল(সাঃ) কে ভালোবাসার কারণে সে সাওয়াব পাবে – ‘লাউ খাওয়া’ এ কাজটির কারণে সাওয়াব পাবেনা।সাধু সাবধানঃআমাদের দেশের তথাকথিত সচল-আলোকিত শ্রেণীর মানুষের গা-জ্বালা করা দু’টি ব্যাপার আছে – দাড়ি ও টুপি। প্রথমটি ফরয এবং দ্বিতীয়টি সুন্নাত। কারো যদি এ দু’টি দেখে গা জ্বালা করে তবে বুঝতে হবে তার গা-জ্বালার আসল কারণ ইসলাম। দাড়ি-টুপি ইসলামের বাহ্যিক প্রতীকগুলোর মধ্যে দু’টি উল্লেখযোগ্য প্রতীক।আমরা আসলে ‘পা-ঝাড়া’ মুসলিম। সপ্তাহে একদিন সামাজিকতার খাতিরে জুম’আর নামায পড়তে আমরা মসজিদে যাই। সেখান থেকে বের হয়ে প্রথম যে কাজটা করি তা হলো গোটানো প্যান্টটা ঝেড়ে ছেড়ে দেই গোড়ালির নিচে। এই পা ঝাড়ার সময় যতটুকু ইসলাম ভুল করে মসজিদ থেকে পায়ে লেগে গিয়েছিল সেটুকু ঝেড়ে ফেলে দিলাম। এই আমরা কথায় কথায় ছাগু বলি, রাজাকারের কার্টুন আঁকার সময় দাড়ি আর টুপি আঁকি। সাকা চৌধুরী তো বিখ্যাত রাজাকার – তার মত মাকুন্দ রাজাকারের কোন ক্যারিকেচার কেন কেউ কখনো আঁকলোনা? কারণটা খুব স্পষ্ট – যাতে দাড়ি আর টুপি তথা ইসলামকে রাজাকারের প্রতিশব্দ করে ফেলা যায়। আজ সেটা খুব সফলভাবে করা গেছে। যে মুসলিম নিজের ধর্মের প্রতীক প্রকাশে লজ্জা পাবে এমন মুসলিমই তো শয়তান চেয়েছিল। নিজের ইসলামকে কাফিরদের মন মত করে সাজিয়ে নেবে এমন মুসলিমের পরিকল্পনাই তো কাফিররা করেছিল। রজম, চার বিয়ে আর মেয়েদের পর্দার মত ‘নোংরা’ (নাউযুবিল্লাহ) সুন্নাত মুসলিমরা ঝাড় দিয়ে পরিষ্কার করে খাটের তলায় লুকোবে আর হাত কাঁচু-মাচু করে বলবে – না, না এসব আসল ইসলাম নয় – এমন মুসলিমদের স্বপ্নই দেখেছে কাফিরেরা, আজীবন।ইসলাম মানে আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তার পুরোটাই মেনে নেয়া। যেটুকু আমার ভাল লাগে বা যেটুকু আমার বুঝে আসে বা যেটুকু মানলে আলোকিত সচল হওয়া যাবে, সুশীল সমাজ ভাল বলবে শুধু সেটুকু মানার নাম ইসলাম নয়। আমাদের মত সুশীল/সচল হবার দৌড়ে মত্ত আপাত মুসলিমদের আল্লাহ খুব বড় একটা ধাক্কা দিয়েছেন এভাবে –“…..তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান কর? সুতরাং তোমাদের যারা এরকম করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে হীনতা এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে।………” [সূরা বাক্বারা, ২ : ৮৫]আবার বলি। শ্যাম এবং কূল দুটো একসাথে রাখার কোন সিস্টেম ইসলামে নাই। বাঁশি সহ শ্যামকে ওয়াক-আউট না করাতে পারলে ইসলাম থাকবেনা। একটা মানুষ হয় মুসলিম নাহয় কাফির – মাঝামাঝি কিছু নেই। আর মুসলিম মানে সুন্নাতের কাছে আত্মসমর্পণ। একজন কত ভালো ভাবে আত্মাকে সমর্পণ করতে পারলো সেটা দিয়ে নির্ধারিত হবে সে কোন গ্রেডের মুসলিম। পা-ঝাড়া মুসলিম হয়ে এপারে জানাজাটুকু মিললেও ওপারে কিন্তু কেবলই কাঁচকলা।
আলেম সমাজ একমত যে বুখারী ও মুসলিম বিশুদ্ধ কিতাব। এ দু’টি কিতাবকে একত্রে ‘ছহীহায়ন’ তথা বিশুদ্ধ দু’খানা কিতাব বলা হয়। বুখারী ও মুসলিমের বিশুদ্ধতার বিষয়ে মনীষীদের সুচিন্তিত অভিমত নিম্নে প্রদত্ত হ’ল-ছহীহ বুখারী :১. জমহূর মুহাদ্দিছীনে কেরামের মতে,أصح الْكتب بعد كتاب الله الصحيح البخارى- ‘আল্লাহর কিতাব কুরআনুল কারীমের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হ’ল ছহীহুল বুখারী’।[1]২. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী ইমাম নববী সহ অসংখ্য মুসলিম মনীষী বলেছেন,اتفق العلماء رحمهم الله على أن أصح الكتب بعد القرآن العزيز الصحيحان البخاري ومسلم وتلقتهما الأمة بالقبول وكتاب البخاري أصحهما وأكثرهما فوائد ومعارف ظاهرة وغامضة- ‘জমহূর ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কুরআনুল কারীমের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হ’ল ‘ছহীহায়ন’ তথা ছহীহ বুখারী ও ছহীহ মুসলিম। আর ছহীহ বুখারী হ’ল উভয় কিতাবের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম, অধিক উপকারী, সুপরিচিত ও সূক্ষ্ম’।[2]৩. হাফেয মূসা ইবনে হারূণ বলেন,لو أن أهل الاسلام اجتمعوا على أن ينصبوا آخر مثل محمد بن إسماعيل ما قدروا عليه- ‘যদি সকল মুসলমান একত্রিত হয়ে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত ছহীহ আল-বুখারীর মতো উঁচু মানের ও বিশুদ্ধ কিতাব সংকলন করতে চেষ্টা করে, তবুও তারা তা করতে সক্ষম হবে না’।[3]৪. হাফেয আবু ইয়ালা আল-খলীলী স্বীয় ‘ইরশাদ’ গ্রন্থে লিখেছেন,رحم الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل فَإِنَّهُ ألف الْأُصُول يَعْنِي أصُول الْأَحْكَام من الْأَحَادِيث وَبَين للنَّاس وكل من عمل بعده فَإِنَّمَا أَخذه من كِتَابه كمسلم بن الْحجَّاج ‘আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রহঃ)-এর প্রতি রহম করুন। কেননা তিনি ইলমে হাদীছের হুকুম-আহকাম তথা মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন ও তাঁর পরে যারা একাজ করবে তাদের প্রত্যেকের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। বস্ত্তত তাঁর সংকলিত ছহীহ বুখারী থেকে অন্যান্য মুহাদ্দিছ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। যেমন ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)।[4]৫. ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেন, ما فى هذه الكتب كلها أجود من كتاب البخارى- অর্থাৎ ‘হাদীছের এসব কিতাবের মধ্যে ছহীহ আল-বুখারী অপেক্ষা অধিক উত্তম আর কোন কিতাব নেই’।[5]৬. আবূ জা‘ফর মাহমূদ ইবনে আমর আল-আকীলী বলেন, لما ألف البُخَارِيُّ كتاب الصَّحِيْح عرضه على أَحْمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين وعَلى بن الْمَدِينِيّ وَغَيرهم فاستحسنوه وشهدوا لَهُ بِالصِّحَّةِ الا فِي أَرْبَعَة أَحَادِيث- অর্থাৎ ইমাম বুখারী (রহঃ) ছহীহ আল-বুখারীর পান্ডুলিপি আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আহমাদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ সমকালীন জগদ্বিখ্যাত মনীষীগণের নিকট পেশ করেন। তাঁরা একে উত্তম বলে অভিহিত করেন এবং মাত্র চারটি হাদীছ ব্যতীত সকল হাদীছের বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি প্রদান করেন। অবশ্য ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর শর্তে ঐ চারটি হাদীছও ছহীহ’।[6]৭. আবু যায়েদ আল-মারওয়াযী বলেন,كنت نَائِما بَين الرُّكْن وَالْمقَام فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَنَامِ فَقَالَ لي يَا أَبَا زيد إِلَى مَتى تدرس كتاب الشَّافِعِي وَلاَ تدرس كتابي، فَقلت يَا رَسُول الله وَمَا كتابك قَالَ جَامع مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل- অর্থাৎ আমি রুকনে ইয়ামানী ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝামাঝি স্থানে ঘুমন্ত ছিলাম। এ সময় আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বলছেন, হে আবু যায়েদ! শাফেঈর কিতাবের দারস আর কতদিন দিবে, আমার কিতাবের দারস দিবে না? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনার কিতাব কোনটি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারীর জামি‘ তথা ছহীহ বুখারী।[7]ছহীহ মুসলিম :এ বিশ্বে ইলমে হাদীছের যতগুলো কিতাব সংকলিত হয়েছে, তন্মধ্যে দু’টি কিতাবকে ওলামায়ে কেরাম ‘ছহীহায়ন’ তথা ‘বিশুদ্ধতম দু’টি কিতাব’ বলে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এ ছহীহায়নের একটি হ’ল ছহীহ মুসলিম। অধিকাংশ মুহাদ্দিছীনে কেরাম ছহীহায়নের ছহীহ বুখারীকে সর্বাধিক বিশুদ্ধতম বলে অভিমত পোষণ করলেও আবু আলী নিসাপুরীসহ মুসলিম বিশ্বের ও পাশ্চাত্যের কিছু সংখ্যক মনীষী অভিমত পোষণ করেছেন যে, أَن كتاب مُسلم أفضل من كتاب البُخَارِيّ ছহীহ মুসলিম ছহীহ বুখারীর চেয়ে উত্তম।[8]১. হাফেয ইবনে মান্দাহ (রহঃ) বলেন,سمعت أبا علي الحسين بن علي النيسابوري، يقول: ما تحت أديم السماء أصح من كتاب مسلم بن الحجاج في علم الحديث অর্থাৎ আমি আবু আলী নিসাপুরীকে বলতে শুনেছি, এ আকাশের নীচে ছহীহ মুসলিমের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ ইলমে হাদীছের কোন কিতাব নেই’।[9]২. হাফেয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন,حصل لمسلم في كتابه حظ عظيم مفرط لم يحصل لأحد مثله অর্থাৎ ‘ইমাম মুসলিম (রহঃ) তাঁর ছহীহ মুসলিমের কারণে এত দ্রুততার সাথে এমন মহান সৌভাগ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন যে, এত দ্রুততার সাথে ঐ স্তরে পেঁŠছা কারোর পক্ষে সম্ভব নয়’।[10]৩. হাফেয মুসলিম ইবনে কুরতুবী (রহঃ) ছহীহ মুসলিম সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, لم يضع أحد فى الإسلام مثله অর্থাৎ ‘ইসলামে এরূপ গ্রন্থ কেউ রচনা করতে সক্ষম হয়নি’।[11]৪. আবু সাঈদ ইবনে ইয়া‘কূব বলেন,رأيت فيما يرى النائم كأن أبا على الزغورى يمضى فى شارع الحيرة وفى يده جزء من كتاب مسلم يعنى ابن الحجاج، فقلت له ما فعل الله بك؟ قال نجوت بهذا وأشار إلى ذلك الجزء. অর্থাৎ ‘প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ আয-যাগূরীকে যেন স্বপ্নে দেখলাম, তিনি নিসাপুরের ‘হিরাত’ নামক রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন এবং তাঁর হাতে রয়েছে ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের সংকলিত হাদীছগ্রন্থ ছহীহ মুসলিমের একটি খন্ড। আমি তাঁকে বললাম, আল্লাহ তা‘আলা আপনার সাথে কি আচরণ করেছেন? তখন তিনি ছহীহ মুসলিমের খন্ডটির দিকে ইশারা করে বললেন, এর বদৌলতে আমি (জাহান্নাম থেকে) নাজাত পেয়েছি’।[12]ইমাম মুসলিম (রহঃ) তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ ছহীহ মুসলিম সংকলনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। হাদীছের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে শুধু নিজের অভিমত ও দৃষ্টিকোণকেই প্রাধান্য দেননি; বরং তৎকালীন জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিছগণের অভিমত ও পরামর্শানুযায়ী হাদীছ লিপিবদ্ধ করেছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন,لَيْسَ كُلُّ شَيْءٍ عِنْدِيْ صَحِيْحٌ وَضَعْتُهُ ها هنا إنما وضعت ها هنا مَا أَجْمَعُوْا عَلَيْهِ অর্থাৎ শুধু আমার নিজস্ব অভিমতের ভিত্তিতে বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে এ কিতাবে হাদীছ সন্নিবেশ করিনি; বরং যে সকল হাদীছের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সমকালীন মুহাদ্দিছগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন ঐ সকল হাদীছও লিপিবদ্ধ করেছি’।[13]ছহীহ মুসলিমের পান্ডুলিপি বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য যে সকল মনীষীর নিকট পেশ করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে আবু যুর‘আ অগ্রগণ্য, যিনি হাফেযুল হাদীছ নামে খ্যাত। মাক্কী ইবনে আবদান বলেন,سمعت مسلما يقول : عرضت كتابى هذا المسند على أبى رزعة فكل ما أشار على فى هذا الكتاب ان له علة وسببا تركته وكل ما قال : أنه صحيح ليس له علت فهو الذى أخرجت.‘আমি ইমাম মুসলিম (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি এ কিতাব (ছহীহ মুসলিম) আমার শ্রদ্ধেয় উস্তায প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আবু যুর‘আ-এর নিকট উপস্থাপন করেছি। অতঃপর যে হাদীছের মধ্যে ত্রুটি আছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, আমি নিঃসংকোচে তা পরিত্যাগ করেছি। আর যে সকল হাদীছ বিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত বলে অভিমত পোষণ করেছেন, সে সকল হাদীছ আমি এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছি’।[14]ছহীহ মুসলিম সংকলনান্তে ইমাম মুসলিম (রহঃ) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন,ما وضعة فى هذا المسند شيئا الا بحجة ولا اسقطة شيئا منه الا بحجة. অর্থাৎ বিশুদ্ধতার অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কোন হাদীছ আমি এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করিনি এবং অশুদ্ধতার অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কোন হাদীছ আমি পরিত্যাগও করিনি’।[15]ইমাম মুসলিম (রহঃ) স্বীয় অমর সংকলন ছহীহ মুসলিমের বিশুদ্ধতার প্রতি সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে দাবী রেছেন,لو أن أهل الحديث يكتبون مائتي سنة الحديث فمدارهم على هذا المسند অর্থাৎ ‘যদি মুহাদ্দিছগণ দু’শত বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ও কঠোর সাধনা করে ইলমে হাদীছের কোন গ্রন্থ সংকলন করেন তবুও এ গ্রন্থের ওপর তাঁদেরকে নির্ভর করতে হবে’।[16]– ক্বামারুয্যামান বিন আব্দুল বারীপ্রধান মুহাদ্দিছ, বেলটিয়া কামিল মাদরাসা, জামালপুর। [1]. আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (হানাফী), উমদাতুল ক্বারী (বৈরূত : দারু এহইয়াইত তুরাছিল আরাবী, তাবি), ১/৫ পৃঃ; জালালুদ্দীন জালালাবাদী; মিফতাহুল উলূম ওয়াল ফুনূন (হাটহাজারী, চট্টগ্রাম, তাবি), পৃঃ ৫৮; মান্না আল-কাত্ত্বান, তারীখুত তাশরীয়িল ইসলামী (রিয়ায : মাকতাবাতুল মা‘আরিফ ১৯৯৬ ইং/১৪১৭ হিঃ), পৃঃ ৯৪।[2]. শরহে মুসলিম লিন নববী, ১/১৫ পৃঃ, সাইয়েদ ছিদ্দীক হাসান কানুহী, আল-হিত্তাহ ফী যিকারিছ ছিহাহ সিত্তাহ, (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলয়িয়্যাহ, ১৯৮৫ ইং), পৃঃ ১৬৮; হাজী খলীফা, কাশফুয যুনূন (বৈরূত : দারু ইহইয়ায়িত তুরাছিল আরাবী, ১/৫৪১ পৃঃ; তাদবীবুর রাবী, পৃঃ ৬৭।[3]. হাফেয জালালুদ্দীন আল-মিযযী, তাহযীবুল কামাল ফী আসমাইর রিজাল, (বৈরূত : মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ ১৯৯২ইং), ২৪/৪৫৭; হাফেয শামসুদ্দীন আয-যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, (বৈরূত : মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১৯৯৬ইং/১৪১৭ হিঃ), ১২/৪৩৪ পৃঃ।[4]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, হুদা আস-সারী মুক্বাদ্দামাতু ফাতহিল বারী (রিয়ায : মাকতাবাতু দারিস সালাম, ১৯৯৭ইং/১৪১৮ হিঃ), পৃঃ ১৪।[5]. শাববীর আহমাদ উছমানী, মুক্কাদ্দামাতু ফাতহিল মুলহিম (দেওবন্দ : মাকতাবাতুল আশরাফিয়া, ১৯৯৯ ইং), ১/৯৭ পৃঃ; তাদবীবুর রাবী, পৃঃ ৭০।[6]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, তাহযীবুত তাহযীব (বৈরূত : দারু ইহইয়াইত তুরাছ আল-আরাবী, ১৯৯৩ ইং/১৪১৩ হিঃ), ৫/৩৭ পৃঃ; হুদা আসসারী মুক্বাদ্দামাতু ফাতহিল বারী, পৃঃ ৯।[7]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, মুকাদ্দামাতু ফাতহিল বারী (বৈরূত : ইহয়াইত তুরাছিল আরাবী, তাবি), ১/৪৭৮; আত-তুহফাতু লি তালিবিল হাদীছ, পৃঃ ৮।[8]. হুদা আস-সারী, পৃঃ ১৩; সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৫৬৭ পৃঃ; তারীখুত তাশরীঈল ইসলামী, পৃঃ ৯৪; শরহে ছহীহ মুসলিম নববী, ১/১৫ পৃঃ।[9]. তাযকিরাতুল হুফফায, ২/৫৮৯ পৃঃ; তারীখু বাগাদাদ, ৩/১০১ পৃঃ; শাযারাতুয যাহাব, ২/১৪৪ পৃঃ।[10]. তাহযীবুত তাহযীব, ৫/৪২৭ পৃঃ; মুকাদ্দামাতু ফাতহিল মুলহিম, ১/৯১ পৃঃ; সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৫৬৭ পৃঃ।[11]. হায়াতুল মুছান্নিফীন, পৃঃ ৫৫; হুদা আস-সারী বারী, পৃঃ ১৬।[12]. বুস্তানুল মুহাদ্দিছীন, পৃঃ ২৩২।[13]. আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরফুদ্দীন নববী, শরহে ছহীহ মুসলিম (দারুত তাহাভী, তা.বি), ১/১৬ পৃঃ; আল-হিত্তাহ ফী যিকরিছ ছিহাহ সিত্তাহ, পৃঃ ২০১; তাদরীবুর রাবী, পৃঃ ৭৩।[14]. আল্লামা শাববীর আহমাদ ওছমানী, ফাতহুল মুলহিম, (দেওবন্দ : মাকতাবাতুল আশরাফিয়া, ১৯৯৯ খ্রিঃ), ১/১০১ পৃঃ; মিফতাহুল উলূম ওয়াল ফুনূন, পৃঃ ৫৮।[15]. তাযকিরাতুল হুফফায, ২/৫৮৯ পৃঃ; কাশফূয যুনূন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনূন, ১/৫৫৫ পৃঃ।[16]. শরহে ছহীহ মুসলিম, ১/১৬ পৃঃ; মুকাদ্দামাতু ছহীহ মুসলিম লি নববী, ১/১৩ পৃঃ।
ঘটনাবলি১৫২৬ - মুঘল সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দীন মোহাম্মাদ বাবর সিংহাসনে আরোহণ করেন।১৫৫৫ - জার্মানীর অগসবার্গ শহরের নামে সেখানে কংগ্রেস গঠিত হয়।১৭০১ - ব্রিটেনের জন মরিস মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।১৭৭০ - ক্যাপটেন কুক নিউ সাউথ ওয়েলসে পদার্পণ করেন।১৭৮৯ - ফ্লেচার ক্রিশ্চিয়ানের নেতৃত্বে ব্রিটিশ জাহাজ বাউন্টিতে নাবিক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।১৯১৫ - যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়া লন্ডনের গোপন চুক্তিতে ইতালিকে ব্রেনার গিরিপথ পর্যন্ত ত্রেন্তিনো, তিরোল, ইস্ত্রিয়া, ডালমাসিয়া, দোদেকানিজে দিতে সম্মত হয়।১৯১৯ - লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠিত হয়।১৯২০ - আজারবাইজানকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।১৯২০ - পোল্যান্ড ও রাশিয়া যুদ্ধ ঘোষণা করে।১৯৫২ - জাপান সার্বভৌমত্ব ফিরে পায় এবং গণতান্ত্রিক জাপান প্রতিষ্ঠিত হয়।১৯৬৫ - মার্কিন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বার্থ রক্ষার অজুহাত দেখিয়ে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের ওপর সামরিক হামলা চালায়।১৯৬৯ - ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এর পদ থেকে দ্যগল ফ্যান্সের পদত্যাগ।১৯৭২ - বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় লাইবেরিয়া।১৯৯২ - রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে প্রথম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।১৯৯২ - সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোকে নিয়ে নতুন যুগোস্লাভিয়া ঘোষণা।১৯৯২ - সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আফগান যোদ্ধাদের ১৩ বছরের যুদ্ধের পর তারা বিজয়লাভ করে।১৯৯৫ - বাংলাদেশ সরকার হুমায়ুন আজাদের নারী বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।২০০১ - ডেনিশ টিটো পৃথিবীর সর্বপ্রথম মহাকাশ পর্যটকের মর্যাদা লাভ করেন।২০০৪ - একটি মার্কিন গবেষণা সংস্থা সার্স ভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কার করে।জন্ম৩২ - ওঠো, রোমান সম্রাট।১৪৪২ - চতুর্থ এডওয়ার্ড, ইংল্যান্ড রাজা।১৭১২ - ফরাসি দার্শনিক জঁ-জাক রুসো।১৭৫৮ - জেমস মন্রো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি।১৭৭৪ - খ্রিস্টিয়ান লেওপোল্ড ফন বুখ, জার্মান ভূবিজ্ঞানী এবং জীবাশ্মবিদ।১৭৮৫ - জন জেমস আদোবান বা জঁ-জাক ওদিবোন, ফরাসি-আমেরিকান পক্ষীবিজ্ঞানী, প্রকৃতিবাদী, শিকারী এবং চিত্রকলাকার।১৭৯৫ - চার্লস স্টুর্ট, অস্ট্রেলিয়ার আবিষ্কারক।১৭৯৮ - ওজেন দ্যলাক্রোয়া, ফরাসি চিত্রকর।১৮৩৮ - টবিয়াস আসের, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ডাচ আইনজীবী ও পণ্ডিত।১৮৬৯ - দিনে ফ্রান্সিস মেরি হককিন, একজন নিউজিল্যান্ডের চিত্রশিল্পী।১৮৭৯ - ওয়েন উইলিয়ান্স রিচার্ডসন, ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী।১৮৮৪ - আয়েত আলী খাঁ, উপমহাদেশের প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী, সেতার ও সুরবাহার বাদক।১৮৮৯ - লুডভিগ ভিটগেনস্টাইন, অস্ট্রীয় দার্শনিক।১৮৮৯ - আন্টোনিও ডে অলিভেরা সালাজার, পর্তুগিজ অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও ১০০তম প্রধানমন্ত্রী।১৮৯৫ - খাজা হাবিবুল্লাহ, ঢাকার পঞ্চম ও শেষ নবাব।১৮৯৭ - নীতীন বসু, বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক।১৯০০ - ইয়ান হেন্ডরিখ ওর্ট, ওলন্দাজ জ্যোতির্বিদ।১৯০৬ - কুর্ট গ্যোডেল, মার্কিন যুক্তিবিদ, গণিতবিদ।১৯০৮ - জন জ্যাক হেনরি ওয়েব ফিঙ্গলটন, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার।১৯২৪ - নারায়ণ সান্যাল, বাঙালি লেখক।১৯৩০ - আল্ফ ভ্যালেন্টাইন, বিখ্যাত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার।১৯৩৩ - ক্যারল বার্নেট, মার্কিন অভিনেত্রী, কৌতুকাভিনেত্রী, গায়িকা ও লেখক।১৯৩৭ - সাদ্দাম হুসাইন, ইরাকের সাবেক রাষ্ট্রপতি।১৯৪১ - কার্ল ব্যারি শার্পলেস, পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ।১৯৪৭ - হুমায়ুন আজাদ, ভাষাবিজ্ঞানী, কবি, ঔপন্যাসিক, সমালোচক, কিশোর সাহিত্যিক ও রাজনীতিক ভাষ্যকার লেখক।১৯৪৯ - জগৎজ্যোতি দাস, বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেমি মুক্তিযোদ্ধা।১৯৬০ - ওয়াল্টার যেঙ্গা, সাবেক ইতালিয়ান ফুটবলার ও ম্যানেজার।১৯৬১ - জোয়ান চেন, চীনা বংশোদ্ভূত আমেরিকান অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার।১৯৬৩ - জেট লি, চীনা-সিঙ্গাপুরের মার্শাল শিল্পী, অভিনেতা এবং প্রযোজক।১৯৬৮ - অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ইংরেজ সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ।১৯৭০ - মেলানিয়া ট্রাম্প, স্লোভেন-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও ৪৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী।১৯৭৪ - পেনেলোপে ক্রুজ সানচেস, স্প্যানিশ অভিনেত্রী ও প্রযোজক।১৯৮৮ - হুয়ান ম্যানুয়েল মাতা গার্সিয়া, স্প্যানিশ ফুটবলার।১৯৯৯ - লরা উলভার্ট, দক্ষিণ আফ্রিকান প্রমিলা ক্রিকেটার।মৃত্যু ১৭৪০ - প্রথম বাজিরাও, ভারতীয় সেনাপতি।১৮১৩ - মিখাইল কুটুযোভ, রাশিয়ান ফিল্ড মার্শাল।১৮৫৩ - লুডভিগ টিয়েক, জার্মান লেখক ও কবি।১৯২০ - শ্রীনিবাস রামানুজন, ভারতীয় গণিতবিদ।১৯৩২ - বিল লকউড, ইংরেজ ক্রিকেটার।১৯৩৬ - মিসরের বাদশাহ ফুয়াদের (প্রথম) ।১৯৪৫ - বেনিতো মুসোলিনি, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ কালে ইতালির সর্বাধিনায়ক।১৯৫১ - আর্নল্ড সমারফেল্ড, জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ।১৯৫৪ - লিওন জউহাউক্স, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি ইউনিয়ন নেতা।১৯৫৭ - গিচিন ফুনাকোশি, জাপানি মার্শাল আর্টিস্ট এবং শোতোকান কারাতের প্রতিষ্ঠাতা।১৯৭০ - এড বেগ্লেয়, আমেরিকান অভিনেতা।১৯৭৮ - মোহাম্মদ দাউদ খান, আফগান কমান্ডার, রাজনীতিবিদ প্রথম রাষ্ট্রপতি।১৯৮৬ - ব্রডরিক ক্রফোর্ড, আমেরিকান অভিনেতা।১৯৮৯ - লুসিল বল, মার্কিন অভিনেত্রী, কৌতুকাভিনেত্রী, মডেল, চলচ্চিত্র-স্টুডিও নির্বাহী ও প্রযোজক।১৯৯৯ - আলফ রামসে, ইংরেজ ফুটবল খেলোয়াড় ও ম্যানেজার।১৯৯৯ - আর্থার লিওনার্ড শলো, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান পদার্থবিদ।২০০৩ - ইউন হিয়ন সক, দক্ষিণ কোরীয় সমাজকর্মী।২০০৫ - মারিয়া শেল, অস্ট্রিয়ান-সুইস অভিনেত্রী।২০১২ - মাটিল্ডে কামুস, স্প্যানিশ কবি।২০১৭ - জোনাথন ডেমি, আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার। ছুটি ও অন্যান্যবিশ্ব মেধা সম্পদ দিবস
মেষ রাশি: মন থেকে সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। এই রাশির বিবাহিত ব্যক্তিরা শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। বাড়ির পরিবেশে আজ কোনও পরিবর্তন করার আগে সবার সম্মতি পেয়েছেন কিনা সেই বিষয়ে নিশ্চিত হন। সামগ্রিকভাবে দিনটি অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে অতিবাহিত হওয়ায় আপনি ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন না। আপনি আজ একটি বৈবাহিক অনুষ্ঠানে যেতে পারেন। মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। বিবাহিত জীবন নিঃসন্দেহে সুখের হবে।প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাড়িতে নিয়মিত ধূপকাঠি জ্বালান।বৃষ রাশি: শরীরের প্রতি অবশ্যই যত্নশীল হন এবং নিজের ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। শরীরচর্চার প্রতি মনোযোগ দিন। একজন বন্ধু আজ আপনার কাছ থেকে ঋণ চাইতে পারেন। শিশুদের সঙ্গে অবশ্যই কিছুটা সময় অতিবাহিত করুন। এর ফলে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। আপনার ভালোবাসার মানুষ আজ আপনার কাজ থেকে কিছু চাইলেও আপনি তা দিতে পারবেন না। যেটি তাঁর খারাপ লাগতে পারে। ব্যস্ততার মধ্যেও আপনার কাছে আজ কিছুটা অবসর সময় থাকবে। এই সময় আপনি একটি সৃজনশীল কাজ করতে পারেন। আপনি নিজের ত্রুটিগুলি সংশোধন করে ঘাটতিগুলি পূরণ করার চেষ্টা করুন। বিবাহিত জীবন নিঃসন্দেহে সুখের হবে।প্রতিকার: আর্থিক দিক থেকে উন্নতির লক্ষ্যে সাধু অথবা প্রতিবন্ধীদের খাটিয়া অর্পণ করুনমিথুন রাশি: আপনার মধ্যে আজ ভরপুর আত্মবিশ্বাস বজায় থাকবে। তাই, এই দিনটিকে অবশ্যই সঠিকভাবে কাজে লাগান। আপনি আজ দ্রুত অর্থ উপার্জন করতে চাইবেন। তাড়াহুড়ো করে আজ কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। প্রেমের জীবনে আপনি আজ একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। আপনার আজ কোথাও রোমান্টিক সকরের সম্ভাবনা রয়েছে। আপনার কাছে থাকা অবসর সময়টিকে সঠিকভাবে কাজে লাগান। প্রিয়জনদের সঙ্গে দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। আজকের দিনটি আপনার বিবাহিত জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত হবে।প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে অবশ্যই ভগবান শিব ভৈরব এবং হনুমানজির আরাধনা করুন।কর্কট রাশি: শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে ধ্যান ও যোগ ব্যায়াম করুন। এর ফলে আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে আজ আপনি কিছু ভালো পরামর্শ পেতে পারেন। প্রেমের জীবনে আজ আপনি একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। কর্মক্ষেত্রে দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। আজ কোথাও কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ নিন। অলসতা ত্যাগ করুন।প্রতিকার: প্রেমের জীবন সুখকর করে তোলার লক্ষ্যে একদিন নুন ছাড়া খাবার খান।সিংহ রাশি: আপনি আজ একটি কাজে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সমর্থন পেতে পারেন। যার ফলে আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। আর্থিক দিক থেকে আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। সন্তানদের সঙ্গে অবশ্যই কিছুটা সময় অতিবাহিত করুন। প্রেমের জন্য এই দিনটি খুব একটা খারাপ নয়। আপনি আজ এমন একটি রেস্তোরাঁ যেতে পারেন যেখানে বিদেশি খাবার পাওয়া যায়। কোনও অপ্রয়োজনীয় কাজে অযথা সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে পুরুষরা কপালে লাল রঙের তিলক এবং মহিলারা লাল রঙের সিঁদুর লাগান।কন্যা রাশি: শরীরের প্রতি অবশ্যই যত্নশীল হন। কোথাও অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবশ্যই কিছুটা সময় অতিবাহিত করুন। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে দিনটি ভালোভাবে অতিবাহিত হবে। আপনার মূল্যবান জিনিসপত্রগুলির প্রতি অবশ্যই সতর্ক থাকুন। নাহলে, চুরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন পুরনো বন্ধুর সঙ্গে আজ আপনার সাক্ষাৎ ঘটবে। যার ফলে কিছু পুরনো স্মৃতির রোমন্থন হবে। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে প্রতিদিন তুলসী পাতা খান।তুলা রাশি: মন থেকে অবশ্যই সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। কোথাও কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে অবশ্যই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করুন। অতিরিক্ত অর্থ আজ জমি বা বাড়ি কেনার কাজে ব্যবহার করুন। অন্যের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। পরিবারের সবথেকে ছোট সদস্যের সঙ্গে আজ আপনি অনেকটা সময় অতিবাহিত করবেন। এর ফলে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। আপনি আজ আপনার একটি গভীর অনুভূতি অথবা দুঃখ নিকট বন্ধু বা আত্মীয়ের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন। অর্ধাঙ্গিনীর একটি আচরণ আজ আপনার খারাপ লাগতে পারে।প্রতিকার: শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে অবশ্যই গুরুজন, শিক্ষক, আচার্য এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করুন। এটি আপনার উপকারে আসবে।বৃশ্চিক রাশি: মন থেকে সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রেখে প্রতিটি কাজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করুন। আপনি যদি পরিবারের কোনও সদস্যের কাছ থেকে অর্থ ধার নিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আজ সেই অর্থ আপনাকে ফেরত দিতে হবে। নাহলে, তিনি আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। এই রাশির কিছু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের একটি বিশেষ কৃতিত্বের মাধ্যমে অত্যন্ত গর্বিত হবেন। আপনি আজ দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে পছন্দ করবেন। কোনও গোপন সম্পর্ক আজ আপনার সুনাম বিনষ্ট করতে পারে। তাই, এদিক থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকুন। প্রিয়জনদের সঙ্গে অবশ্যই কিছুটা সময় অতিবাহিত করুন। বিবাহিত জীবনে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে নিজেরাই তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।প্রতিকার: প্রেমের জীবন সুখকর করে তোলার লক্ষ্যে অবশ্যই দরিদ্র এবং অভাবী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে ছোলা বিতরণ করুন। এটি আপনার উপকারে আসবে।ধনু রাশি: কোথাও কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে ঠান্ডা মাথায় সেটিকে সমাধানের চেষ্টা করুন। বাবা-মায়ের স্বাস্থ্যের কারণে আজ আপনার বিপুল অর্থব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। অতীতের একটি সুখের স্মৃতির আজ আপনি রোমন্থন করতে পারেন। আপনি আজ অবসর সময়ে একটি সৃজনশীল কাজ করার পরিকল্পনা করলেও কোনও কারণবশত তা সম্ভব হবে না। প্রেমের জন্য এই দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। আপনি আজ আপনার একটি গভীর অনুভূতি এবং দুঃখ নিকট বন্ধু বা আত্মীয়ের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন।প্রতিকার: শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে সবুজ রঙের পোশাক বেশি করে পরুন।মকর রাশি: বাড়ির কাজগুলি আজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করুন। নাহলে, আপনি কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। এই রাশির কিছু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা অর্জন করবেন। যার ফলে তাঁরা অত্যন্ত গর্বিত হবেন। আপনি আজ বিপুল অর্থব্যয় করতে চাইবেন। পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সঙ্গে আপনি সময় অতিবাহিত করবেন। কোনও কাজে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের জন্য অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করুন। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে অবশ্যই কিছুটা সময় কাটান। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে অবশ্যই দরিদ্র এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজের খাবার ভাগ করে নিন। এটি আপনার উপকারে আসবে।কুম্ভ রাশি: শরীরের প্রতি অবশ্যই যত্নশীল হন এবং শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে কিছুটা বিশ্রাম গ্রহণ করুন। অযথা অর্থব্যয় থেকে বিরত থাকুন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। প্রেমের জীবনে আজ আপনি একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। প্রত্যেকের সঙ্গে আজ অবশ্যই সংযত হয়ে কথা বলুন। কোথাও সফরের সময় আজ আপনার একজন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: আর্থিক দিক থেকে উন্নতির লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহার করুন।মীন রাশি: শরীরের প্রতি অবশ্যই যত্নশীল হন এবং শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অযথা অর্থব্যয় থেকে বিরত থাকুন। কোনও ভুল যোগাযোগের কারণে আপনি একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। আপনি আজ অবসর সময়ে একটি বই পড়তে পারেন। প্রত্যেকের সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় কথা বলুন। আপনি আজ এমন একটি রেস্তোরাঁয় যেতে পারেন যেখানে বিদেশি খাবার পাওয়া যায়। অর্ধাঙ্গিনীর কারণে আজ আপনি কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। আপনি আজ একটি পারিবারিক জমায়েতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। আপনি আজ খুব সহজেই সবাইকে আকৃষ্ট করতে পারবেন।প্রতিকার: প্রেমের জীবন সুখকর করে তোলার লক্ষ্যে দুর্গা মন্দিরে প্রসাদ অর্পণ করুন।
পিএসএল ও আইপিএলে আজ দুটি করে ম্যাচ। রাতে আছে এফএ কাপের ম্যাচ, মুখোমুখি চেলসি ও লিডস।পিএসএলহায়দরাবাদ-রাওয়ালপিন্ডিবেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টসইসলামাবাদ-মুলতানরাত ৮টা, টি স্পোর্টসআইপিএলচেন্নাই-গুজরাটবিকেল ৪টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২লক্ষ্ণৌ-কলকাতারাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২লা লিগাভায়েকানো-সোসিয়েদাদসন্ধ্যা ৬টা, বিগিন অ্যাপওভিয়েদো-এলচেরাত ৮-১৫ মি., বিগিন অ্যাপওসাসুনা-সেভিয়ারাত ১০-৩০ মি., বিগিন অ্যাপভিয়ারিয়াল-সেল্তা ভিগোরাত ১টা, বিগিন অ্যাপএফএ কাপচেলসি-লিডসরাত ৮টা, সনি স্পোর্টস ২সিরি আতুরিনো-ইন্টার মিলানরাত ১০টা, ডিএজেডএনএসি মিলান-জুভেন্টাসরাত ১২-৪৫ মি., ডিএজেডএন
🎬 Prince (2026) — ঢাকার অন্ধকার জগতের নতুন অধ্যায়বাংলা সিনেমার জগতে ২০২৬ সালের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে একটি হলো Prince: Once Upon a Time in Dhaka। বড় বাজেট, স্টাইলিশ অ্যাকশন, ৯০ দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং সুপারস্টার Shakib Khan — সব মিলিয়ে সিনেমাটি মুক্তির আগেই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক হাইপ তৈরি করেছিল।এই সিনেমার গল্প গড়ে উঠেছে পুরনো ঢাকার অপরাধ জগত, ক্ষমতার লড়াই, বিশ্বাসঘাতকতা এবং ভালোবাসাকে ঘিরে। নির্মাতা Abu Hayat Mahmud প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় এমন এক ধামাকাদার প্রজেক্ট নিয়ে আসেন, যা দর্শকদের কাছে একদম নতুন অভিজ্ঞতা দেয়।🌆 গল্পের পটভূমি“Prince” মূলত ৯০ দশকের ঢাকাকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি ক্রাইম-অ্যাকশন থ্রিলার। শহরের অন্ধকার দুনিয়ায় একজন প্রভাবশালী চরিত্র কীভাবে ক্ষমতা, ভয় আর ভালোবাসার মধ্যে নিজের রাজত্ব গড়ে তোলে — সেটাই সিনেমার মূল আকর্ষণ।সিনেমাটির ট্রেলার ও টিজারে দেখা যায় ধোঁয়াটে আলো, গ্যাংস্টার পরিবেশ, বন্দুকের যুদ্ধ এবং আবেগঘন কিছু মুহূর্ত। পরিচালক জানিয়েছেন, এটি কোনো বাস্তব গ্যাংস্টারের বায়োপিক নয়, বরং সম্পূর্ণ মৌলিক গল্প।⭐ অভিনয়ে যারা আছেনShakib KhanTasnia FarinNasir Uddin KhanDibyendu BhattacharyaJyotirmoyee Kunduবিশেষ করে শাকিব খানের লুক ও স্ক্রিন প্রেজেন্স দর্শকদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। টিজারে তাকে একদম ভিন্ন স্টাইলে দেখা গেছে, যা তার আগের সিনেমাগুলোর তুলনায় আরও ডার্ক এবং পাওয়ারফুল।🎥 সিনেমাটির বিশেষ দিক🔥 ১. ৯০ দশকের ঢাকার আবহপুরনো ঢাকার রাস্তা, আন্ডারওয়ার্ল্ড কালচার এবং সেই সময়কার রাজনৈতিক ও অপরাধ জগতকে সিনেমাটিতে স্টাইলিশভাবে তুলে ধরা হয়েছে।🎶 ২. ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকমিউজিক ডিরেক্টর Arafat Mohsin সিনেমাটির জন্য ভিন্নধর্মী ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর তৈরি করেছেন, যা অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে আরও ইন্টেন্স করেছে।💥 ৩. বড় বাজেটের আয়োজনমিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের অন্যতম ব্যয়বহুল সিনেমা। বিশাল সেট, সিনেমাটোগ্রাফি এবং অ্যাকশন সিকোয়েন্সে বড় বাজেটের ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।🗣️ দর্শকদের প্রতিক্রিয়াসিনেমাটি মুক্তির পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। কেউ শাকিব খানের স্টাইল ও অ্যাকশন প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ গল্পের গভীরতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও Reddit আলোচনায় অনেকেই বলেছেন, সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল এবং প্রেজেন্টেশন দারুণ হলেও স্টোরি আরও শক্তিশালী হতে পারত।............................................................................................................................................................................ ⬇ Download Now
রাক্ষস (Rakkhosh) (2026) – ভালোবাসা, প্রতিশোধ আর অন্ধকার এক মানসিক যুদ্ধবাংলাদেশি সিনেমার জগতে ২০২৬ সালের ঈদে মুক্তি পাওয়া সবচেয়ে আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি হলো Rakkhosh। অ্যাকশন, থ্রিলার আর ইমোশনের মিশেলে তৈরি এই সিনেমাটি দর্শকদের মাঝে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিনেমাটির পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়, আর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন Siam Ahmed।সিনেমার গল্প“রাক্ষস” মূলত এমন একজন মানুষের গল্প, যে ভালোবাসা, লোভ আর প্রতারণার কারণে ধীরে ধীরে নিজের অন্ধকার দিকের মুখোমুখি হয়। সমাজের নিষ্ঠুরতা তাকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে সে প্রতিশোধের জন্য ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।সিনেমার গল্পে দেখা যায়, একজন সাধারণ মানুষ পরিস্থিতির শিকার হয়ে কিভাবে ধীরে ধীরে “রাক্ষস”-এ পরিণত হয়। গল্পের প্রতিটি ধাপে রয়েছে রহস্য, টুইস্ট এবং মানসিক দ্বন্দ্ব।অভিনয় ও চরিত্রএই সিনেমায় Siam Ahmed দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা দর্শকদের কাছে ছিল অন্যতম আকর্ষণ। তার অভিনয়ের মধ্যে রাগ, কষ্ট, প্রতিশোধ আর ভালোবাসার আবেগ খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।এছাড়াও অভিনয় করেছেন:Susmita ChatterjeeShataf FigarNazneen Hasan ChumkiAli Rajসিনেমাটির বিশেষ দিক“রাক্ষস” সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর ডার্ক ভিজ্যুয়াল, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং অ্যাকশন দৃশ্য। সিনেমার অনেক দৃশ্য দর্শকদের মানসিকভাবে নাড়া দেয়। পরিচালক সিনেমাটিকে শুধু অ্যাকশন ফিল্ম না বানিয়ে মানুষের ভেতরের “দানব”-কেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।অনেক দর্শক সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল স্টাইলকে দক্ষিণ ভারতীয় কিছু সিনেমার সাথে তুলনা করলেও, অনেকে আবার এটিকে বাংলাদেশের সিনেমার নতুন যুগের অংশ বলেও প্রশংসা করেছেন।গান ও মিউজিকসিনেমাটির গানগুলোও দর্শকদের ভালো লেগেছে। বিশেষ করে “Shuddhotar Prem” এবং “Tumi Chara” গান দুটি মুক্তির পর সামাজিক মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়।দর্শক প্রতিক্রিয়ামুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এর অ্যাকশন ও সিনেমাটোগ্রাফির প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ গল্পে অন্য সিনেমার প্রভাব দেখেছেন। তবে প্রায় সবাই একমত যে Siam Ahmed এই সিনেমায় নিজের লুক ও অভিনয়ে নতুনত্ব দেখিয়েছেন।মুক্তি ও জনপ্রিয়তাসিনেমাটি ২১ মার্চ ২০২৬ সালে ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতালিতেও মুক্তি দেওয়া হয়।................................................................................................................................................................... ⬇ Download Now
🎬 দম (Domm) ২০২৬ – বাংলা মুভি রিভিউ ও বিস্তারিত গল্পবাংলাদেশি সিনেমার জগতে ২০২৬ সালে সবচেয়ে আলোচিত সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি হলো Domm। “Until The Last Breath” ট্যাগলাইন নিয়ে মুক্তি পাওয়া এই সারভাইভাল থ্রিলার সিনেমাটি দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সিনেমাটির পরিচালক হলেন Redoan Rony এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন Afran Nisho, Chanchal Chowdhury ও Puja Cherry।📖 সিনেমার গল্প“দম” মূলত একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা। গল্পটি এমন একজন সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে, যিনি অপহরণের পর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে টিকে থাকার সংগ্রাম করেন। আফগানিস্তানে বন্দি অবস্থায় একজন মানুষের মানসিক শক্তি, বেঁচে থাকার ইচ্ছা এবং পরিবারের কাছে ফিরে আসার লড়াই—এই বিষয়গুলোই সিনেমার মূল আকর্ষণ।সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যে টেনশন, আবেগ এবং বাস্তবতার মিশ্রণ দেখা যায়। বিশেষ করে মরুভূমির দৃশ্য ও বন্দি জীবনের মুহূর্তগুলো দর্শকদের ভেতর এক ধরনের চাপা অনুভূতি তৈরি করে।🌟 অভিনয় কেমন ছিল?🔥 আফরান নিশোAfran Nisho এই সিনেমায় নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স দিয়েছেন। তার চোখের অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার ধরন এবং কষ্টের দৃশ্যগুলো অনেক বাস্তব লেগেছে। IMDb-তেও দর্শকরা তার অভিনয়ের বিশেষ প্রশংসা করেছেন।🎭 চঞ্চল চৌধুরীChanchal Chowdhury তার চরিত্রে রহস্য ও গভীরতা এনেছেন। নিশো এবং চঞ্চলের প্রথম বড়পর্দার জুটি দর্শকদের কাছে দারুণ লেগেছে।💖 পূজা চেরিPuja Cherry সিনেমায় আবেগঘন মুহূর্তগুলো আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন।🎵 গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকসিনেমার গানগুলোও বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। বিশেষ করে “এই মন তোমাকে দিলাম” গানটির নতুন ভার্সন দর্শকদের নস্টালজিক করে তুলেছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সিনেমার টেনশন ও আবেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।🎥 সিনেমাটির বিশেষ দিকবাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরিআন্তর্জাতিক মানের সিনেমাটোগ্রাফিআবেগ ও থ্রিলারের অসাধারণ মিশ্রণশক্তিশালী স্ক্রিপ্ট ও ডায়লগনিশোর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয়⭐ IMDb রেটিং ও দর্শক প্রতিক্রিয়াDomm: Until the Last Breath IMDb-তে প্রায় 7.5/10 রেটিং পেয়েছে এবং দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া অর্জন করেছে। অনেকেই এটিকে ২০২৬ সালের সেরা বাংলা সিনেমাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করছেন।📝 শেষ কথাযদি আপনি থ্রিলার, সারভাইভাল ও আবেগপূর্ণ গল্পের সিনেমা পছন্দ করেন, তাহলে Domm অবশ্যই আপনার দেখা উচিত। সিনেমাটি শুধু বিনোদন নয়, মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি ও সাহসের এক অসাধারণ উদাহরণ তুলে ধরেছে।................................................................................................................................................................ ⬇ Download Now
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ৭২ দিন আগে জাতীয় দলের প্রধান কোচ অটো আদ্দোকে ছাঁটাই করেছে ঘানা। গতকাল রাতে জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে হারের অল্প সময় পরই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে কোচ ছাঁটাই করায় এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়ল আফ্রিকার দেশটি।জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য ভালোই খেলেছে ঘানা। ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে ১-১ গোলে সমতায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি, দেনিজ উনদাভের গোলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দলটিকে।জার্মানির বিপক্ষে হার ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ঘানার। গতকাল রাতের ম্যাচটিসহ এ নিয়ে টানা ৪ ম্যাচ হারল তারা। চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে উড়ে গিয়েছিল ৫-১ গোলে। এর আগে গত নভেম্বরে দুই এশিয়ান প্রতিপক্ষ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরেছিল তারা। আর এসব হারের জেরেই শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে হলো আদ্দোকে।ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (জিএফএ) বিবৃতিতে জানায়, ‘দলের জন্য অবদান রাখায় আমরা আন্তরিকভাবে অটো আদ্দোকে ধন্যবাদ জানাই এবং তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য শুভকামনা রইল। ব্ল্যাক স্টারসের নতুন টেকনিক্যাল পরিকল্পনা বা দিকনির্দেশনা যথাসময়ে জানানো হবে।’ ৫০ বছর বয়সী আদ্দো ঘানার জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন ২০২৪ সালের মার্চ থেকে। এর আগে ২০২২ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রথম মেয়াদে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অধীনে ঘানা ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও অংশ নেয়।যেখানে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারলেও পরের ম্যাচে একই ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। যদিও শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার দেশটিকে। এই বিশ্বকাপেই প্রথম ঘানাইয়ান হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ—দুই দায়িত্বেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কীর্তি গড়েন আদ্দো।এরপর ২০২৪ সালের মার্চে দায়িত্ব নিয়ে ঘানাকে আরও একটি বিশ্বকাপে পৌঁছে দেওয়ায় ভূমিকা রাখেন এই কোচ। যদিও তাঁর অধীনে ঘানা গত বছরের আফ্রিকা কাপ নেশনসে অংশ নিতে ব্যর্থ হয়।পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ঘানা জায়গা পেয়েছে ‘এল’ গ্রুপে। যেখানে আছে ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড ও পানামাও। ঘানা তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ জুন টরন্টোতে পানামার বিপক্ষে। যদিও সেই ম্যাচে আদ্দো নন, ডাগআউটে দাঁড়াবেন অন্য কেউ।
অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য একই সময়ে দুটি বড় সূচি—ইংল্যান্ডে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড, আর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। দ্য হানড্রেডে খেললে এক মাসেই প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ, বিপরীতে দেশের হয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ।টাকা বনাম টেস্ট, আর ফ্র্যাঞ্চাইজি বনাম দেশের প্রতিনিধিত্ব—এই দ্বিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটারদের। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, তাঁর দলের ক্রিকেটাররা টাকার লোভ ছেড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজই বেছে নিয়েছেন। তবে ক্লাব বনাম দেশ বিতর্কে ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রাধান্য পেতে পারে বলে সতর্কও করে দিয়েছেন তিনি।পিঠের চোট সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা কামিন্স এখন আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। মে মাসে আইপিএল শেষ করে জুন–জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে সানফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের হয়েও খেলার কথা।অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে কামিন্সের পরের ব্যস্ততা আগস্টের বাংলাদেশ সিরিজ ঘিরে। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই ব্যস্ততার ভারসাম্যের বিষয়ে তাঁকে বিজনেস অব স্পোর্ট পডকাস্টে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল।জবাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর আর্থিক আকর্ষণ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে টেস্ট ক্রিকেট খুব ভালো সমর্থন পায়, টেস্টে গ্রীষ্মে প্রচুর দর্শক হয় এবং অনেক মনোযোগ থাকে। কিন্তু অন্য সব আন্তর্জাতিক দলের ক্ষেত্রে বিষয়টি এক নয়। প্রতিটি দেশের চ্যালেঞ্জ কিছুটা ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ায় আমরা যখন টেস্ট বা ওয়ানডে দল নির্বাচন করি, তখন দেখি যে কীভাবে সেরা খেলোয়াড়দের দলে পাওয়া যায়, কারণ অন্য জায়গায়ও তাদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’উদাহরণ হিসেবে কামিন্স বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ও দ্য হানড্রেডের সূচির সংঘাতের প্রসঙ্গ টানেন।অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের ব্যস্ততা শুরু হবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে। তার আগে ২১ জুলাই ইংল্যান্ডে শুরু হবে এক শ বল ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার জন্য টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা হানড্রেডের নিলামে নাম দেননি বলে জানান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক, ‘উদাহরণস্বরূপ, এই মৌসুমের দ্য হানড্রেডের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে। আমাদের যারা ওই টেস্ট সিরিজে খেলবে, তারা সবাই দ্য হানড্রেডের নিলাম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এটি চিরকাল এমন থাকবে না।’দ্য হানড্রেডে না খেলায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আট কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে কামিন্স বলেন, ক্লাব বনাম দেশ দ্বন্দ্বের বিষয়টি এখন ‘টেনশনের’ পর্যায়ে আছে, ‘আমাদের কিছু খেলোয়াড় ২০ দিনের কাজের বিনিময়ে পাঁচ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ ফিরিয়ে দিচ্ছে স্রেফ বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য। তাই আমি মনে করি এটি (ক্লাব বনাম দেশ দ্বন্দ্ব) একটি দুশ্চিন্তার জায়গা।’তবে এই মুহূর্তে দেশের খেলাকে প্রাধান্য দিলেও আর্থিক কারণে বিষয়টি ভবিষ্যতে অন্য রকমও হতে পারে বলে মনে করেন কামিন্স, ‘আমাদের ছেলেরা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার জন্য এতটাই উদ্গ্রীব যে তারা সানন্দে সেটি ছেড়ে দিচ্ছে, তবে এমনটা সব সময় চলবে, এটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি অনন্য সম্মান প্রদর্শন করতে যাচ্ছে তাঁর ক্লাব ইন্টার মায়ামি। ক্লাবের নতুন ‘নু স্টেডিয়াম’–এর একটি গ্যালারির নামকরণ করা হচ্ছে এই তারকার নামে। এখন থেকে স্টেডিয়ামটির একটি গ্যালারি ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।সাধারণত অবসরের পর বা অতীতে অবদানের কথা মাথায় রেখে কোনো খেলোয়াড়ের নামে গ্যালারি বা স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়। তবে ৩৮ বছর বয়সী ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক মেসির ক্ষেত্রে সেই প্রথা ভেঙেছে ক্লাবটি।এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘ঐতিহ্যগতভাবে সম্মাননা দেওয়া হয় অতীতের অবদানকে মাথায় রেখে। এগুলো তৈরি হয় নস্টালজিয়া থেকে। স্মৃতি থেকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি বর্তমানের কথা ভেবে নেওয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে যা ঘটছে, তা থেকে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবার লিও যখন মাঠে নামে, আমরা যা অনুভব করি, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।’বিবৃতিতে আরও লেখা হয়েছে, ‘কাউকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ সব সময় কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি টানা নয়। কখনো কখনো এটি হলো আপনি যে অনন্য কিছুর সাক্ষী হচ্ছেন, সেটি উপলব্ধি করা।’এর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন মেসি। নিজের নামাঙ্কিত গ্যালারির সামনেই নিয়মিত ম্যাচ খেলবেন এই কিংবদন্তি। স্টেডিয়ামের লোয়ার বোলের ১১৭-১২১ নম্বর সেকশন এবং আপার বোলের ২১৭-২৩৩ নম্বর সেকশন নিয়ে গঠিত হবে এই ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’।আগামী ৪ এপ্রিল মেজর লিগ সকারে অস্টিন এফসির বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে নতুন এই স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করবে ইন্টার মায়ামি। উদ্বোধনী ম্যাচে যাঁরা ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’–এ বসে খেলা দেখবেন, তাঁদের জন্য বিশেষ কিছু চমক এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।২০২৩ সালের গ্রীষ্মে যোগ দেওয়ার পর থেকে ইন্টার মায়ামিকে বদলে দিয়েছেন মেসি। তাঁর নেতৃত্বে ক্লাবটি এ পর্যন্ত লিগস কাপ (২০২৩), সাপোর্টার্স শিল্ড (২০২৪) এবং এমএলএস কাপ (২০২৫) জিতেছে। পাশাপাশি এক মৌসুমে এমএলএসে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়ার রেকর্ডও গড়েছে তাঁর দল।নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে মেসির নামে স্ট্যান্ড।নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে মেসির নামে স্ট্যান্ড।এক্স/নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজএখন পর্যন্ত মায়ামির হয়ে ৯৪ ম্যাচ খেলে ৮২ গোল করেছেন মেসি। গোলে সহায়তা করেছেন ৫৩টি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুবার এমএলএসে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।মেসির জন্য যদিও এই সম্মান নতুন নয়। এর আগে গত বছরের জুনে তাঁর শৈশবের ক্লাব নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজও তাদের স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছিল মেসির নামে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গভবনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সঙ্গে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী অধ্যাপিকা রেবেকা সুলতানা।প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। এসময় তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন করার পরে কিছুক্ষণ খেলা দেখে বঙ্গভবনে আসেন প্রধানমন্ত্রী।গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম সাক্ষাৎ।
ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির অবস্থা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘প্রচুর সহায়তার’ প্রয়োজন। চীন ও জাপানের মতো দেশগুলো এতে যুক্ত হলে বিষয়টি ‘ভালো হবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই জলপথের গুরুত্ব তুলনামূলক কম, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর মতো ‘আমরা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করি না’।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতিতে তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো যুদ্ধবিরতি চাই না। আপনারা জানেন, যখন আপনি অপর পক্ষকে আক্ষরিক অর্থেই নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন আপনি যুদ্ধবিরতিতে যেতে পারেন না।’সূত্র: আল–জাজিরা
গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাব দিয়েছে ইরান। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ইরানের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। খবর আল জাজিরার।ধোঁয়া উঠছে কাতারের দোহা শহরের আকাশে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পরের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্সধোঁয়া উঠছে কাতারের দোহা শহরের আকাশে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পরের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্সআন্তর্জাতিক ডেস্কগত বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের বুশেহর অঞ্চলে আসালুয়েহ বন্দরের উপকূলে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ও উত্তরাঞ্চলের বন্দর আনজালি এলাকায় নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালায় ইসরাইল। ইরানের সাউথ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র। যেখানে ইরান ও কাতার উভয় দেশের গ্যাস উত্তোলন-বিষয়ক স্থাপনা রয়েছে। এতে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর গ্যাসক্ষেত্র লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেয়। কাতারও এই হামলার নিন্দা জানায়। দেশটি এক বিবৃতিতে বলে, জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করা পুরো অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি তেল স্থাপনার কাছের এলাকায় থাকা মানুষদের সতর্ক করে বলেছেন যে, তারা যেন দ্রুত সেই এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, সতর্কবার্তার পর রাতেই কাতার, সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। হামলায় কাতারের রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্র, আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাসক্ষেত্র ও বাব তেলক্ষেত্র এবং সৌদি আরবের দুটি তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, কাতার জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তাদের রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্রে আগুন ধরে যায়। এতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের হাবশান গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। তেহরান মূলত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করলেও জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলা চালাচ্ছে, যা তেলসমৃদ্ধ আরব দেশগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এই হামলার সময় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিভিন্ন আরব ও ইসলামিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করছিলেন, যেখানে যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কাতারের উত্তর উপকূলে রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে কাতারএনার্জি জানায় যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি দল দ্রুত কাজ শুরু করে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘নৃশংস ইরানি হামলা’ বলে নিন্দা জানায় এবং বলে, এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। পরে তারা জানায়, কাতারে থাকা ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এবং তাদের স্টাফদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১. সানস্ক্রিনসূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে ট্যান, দাগ ও আগাম বার্ধক্য তৈরি করতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে অন্তত এসপিএফ-৪০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। ভালো সানস্ক্রিন একবার ব্যবহার করলে ৬ ঘণ্টা সুরক্ষিত থাকা যায়।২. শরীর ও ত্বক হাইড্রেটেড রাখুনগরমে শরীর দ্রুত পানি হারায়। তাই দিনে পর্যাপ্ত পানি খাওয়া এবং ত্বকে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা দরকার। আপনি যদি এসি ঘরে কাজ করেন, তাহলে ২–৩ ঘণ্টা পরপর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।৩. হালকা ও মৃদু ক্লিনজারঘাম, ধুলা ও সানস্ক্রিন ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। তাই দিনে অন্তত দুইবার মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা ভালো। বাইরে থেকে এসে আর রাতে ঘুমানোর আগে ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।৪. ত্বককে ‘শান্ত’ রাখুনগরমে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা লালচে ভাব হতে পারে। এ জন্য অ্যালোভেরা, শসা বা ঠান্ডা উপাদানযুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক আরাম পায়। শিট মাস্ক বা ফেস মিস্ট ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করলে তা ত্বকে ঠান্ডা ও আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। বিশেষ করে রোদে থাকা ত্বকের জন্য এটি বেশ উপকারী।৫. অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসকালে ত্বকে ভিটামিন ‘সি’ সিরাম ব্যবহার করলে পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকে। রোদে ক্লান্ত বা নিস্তেজ হয়ে পড়া ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।৬. এক্সফোলিয়েশনঘাম ও আর্দ্রতার কারণে ত্বকে যে মৃত কোষ জমে যায়, তা দূর করার জন্য সপ্তাহে ১-২ বার এক্সফোলিয়েট করা ভালো। এক্সফোলিয়েট করার সবচেয়ে পরিচিত উপায় হলো স্ক্র্যাবিং করে ত্বকের মৃতকোষগুলো তুলে ফেলা।৭. গরমে নয় ভারী মেকআপগরমে ভারী মেকআপ ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ করে ব্রণ বা ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই হালকা মেকআপ বা মিনিমাল মেকআপ ব্যবহার করা ভালো।৮. ক্যাপ ও সানগ্লাস ব্যবহার করুনবাইরে বের হলে ক্যাপ, হ্যাট, সানগ্লাস ও ছাতা ব্যবহার করলে সূর্যের সরাসরি আলো থেকে ত্বককে বাড়তি সুরক্ষা দেওয়া যায়। খুব দরকার ছাড়া দিনের বেলা ঘরের বাইরে না বের হওয়াই ভালো।আরও যাফল ও সবজি ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট দেয়। এসব ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেলে ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র থাকে।
তকের যত্নে কাঁচা হলুদের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। ভারতীয় উপমহাদেশে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি যুগ যুগ ধরে রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনেকেই বলেন, এটি ত্বক ফর্সা করে, ব্রণ দূর করে, এমনকি ত্বক কয়েক শেইড উজ্জ্বল করে তোলে। কিন্তু সত্যিই কি কাঁচা হলুদ ত্বক ফর্সা করে? নাকি এটি শুধুই একটা প্রচলিত ধারণা? আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো কাঁচা হলুদের আসল কার্যকারিতা!কাঁচা হলুদে কী আছে?হলুদের প্রধান উপাদান হলো কারকিউমিন (Curcumin), যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রোপারটিজযুক্ত। এটি ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে এবং ব্রণ, দাগ-ছোপ কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।সত্যিই কি কাঁচা হলুদ ত্বক ফর্সা করে?অনেকেই মনে করেন, কাঁচা হলুদ সরাসরি ত্বক ফর্সা করে। বিয়ের আগে হলুদের উপটান মুখ, হাত-পায়ে লাগানোর একটি চল ছিলো এককালে! এখনও অনেকে হলুদের ফেইসপ্যাক ব্যবহার করেন। তবে সত্যটা হলো, হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এটি ত্বকের মেলানিন লেভেল কমিয়ে ত্বক ফর্সা করে না!হলুদের কার্যকারিতাত্বকের কালচে দাগ হালকা করতে পারেসাময়িকভাবে ত্বক গ্লোয়ি দেখাতে পারেব্রণ বা ফুসকুড়ির সমস্যা কিছুটা কমাতে পারেতবে এটি স্বাভাবিক ত্বকের রঙ স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারে নাকাঁচা হলুদ ব্যবহারের সঠিক উপায়যদি আপনি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করতে চান, তাহলে এটি সরাসরি ফেইসে অ্যাপ্লাই এর আগে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।অ্যালোভেরা জেল, দুধ বা টকদইয়ের সাথে মিক্স ব্যবহার করুন – এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করবে।অতিরিক্ত সময় ধরে লাগিয়ে রাখবেন না – বেশি সময় থাকলে ত্বকে হলুদ দাগ বসে যেতে পারে।সপ্তাহে ১/২ বার ব্যবহার করুন – প্রতিদিন ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হতে পারে।সংবেদনশীল ত্বকের জন্য আগে প্যাচ টেস্ট করুন – কারণ কিছু মানুষের ত্বকে এটি র্যাশ বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।সাবধানতাহলুদের প্যাক অ্যাপ্লাই এর পরপরই সরাসরি সূর্যালোক এড়িয়ে চলুন। অনেক সময় কাঁচা হলুদ ব্যবহারের ফলে ত্বক হলুদ বর্ণ ধারণ করতে পারে, যা সহজে উঠতে চায় না। এছাড়া, অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করাই ভালো। যদি হলুদ থেকে ফেইসে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন দেখা দেয়, তাহলে স্কিনকেয়ারে এই উপাদানটি এড়িয়ে চলাই বেটার।তাহলে, বুঝতেই পারলেন কাঁচা হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এটি ত্বকের প্রকৃত রঙ বদলে ফেলার কোনো ম্যাজিকাল উপাদান নয়। সুস্থ, সুন্দর, উজ্জ্বল ত্বক পেতে সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান। ব্রাইটেনিং এর জন্য স্কিনকেয়ার রুটিনে ভিটামিন-সি, আলফা আরবুটিন যুক্ত প্রোডাক্ট ইনক্লুড করতে পারেন। ত্বকের যত্নে আপনি কি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করেন? আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে কমেন্টে শেয়ার করুন!
তকের কালচে দাগ, ব্রণের দাগ বা রোদের কারণে হওয়া পিগমেন্টেশন দূর করতে দামী স্কিনকেয়ারের পিছনে টাকা খরচ করার আগে জেনে নিন—সঠিক একটি উপাদান ব্যবহার করলেই ত্বকের দাগছোপ হবে অনেকটাই কম! আজ জানাবো এমন কিছু শক্তিশালী উপাদানের কথা, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ও দাগ দূর করতে কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিকভাবেও কিন্তু এগুলো এখন প্রমাণিত।ত্বকের দাগছোপ কমিয়ে আনবো কীভাবে?স্কিনকেয়ারে অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস ব্যবহার এখন নতুন কিছু নয়! অনেকেই এখন সিরাম বা অ্যাম্পুল ব্যবহার করছেন। কিন্তু ত্বকের প্রয়োজন অনুসারে সঠিক উপাদান বেছে নেওয়া খুবই জরুরি। ত্বকের দাগছোপ দূর করতে কোন কোন উপাদান ম্যাজিকের মতো কাজ করে, চলুন দেখে নেই এখনই।১. ভিটামিন সি (Ascorbic Acid)ভিটামিন সি হলো ত্বকের জন্য অন্যতম শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে আপনি পাবেন ইয়াংগার লুকিং স্কিন। ভিটামিন সি মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। নিয়মিত ভিটামিন সি সিরাম বা ক্রিম ব্যবহার করলে দাগছোপ দ্রুত হালকা হয়ে যাবে। সকালে সানস্ক্রিন ব্যবহারের আগে ভিটামিন সি সিরাম অ্যাপ্লাই করতে পারেন, এতে ভালো ফলাফল পাবেন।২. গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বয়স ২০ এর বেশি হলে সাপ্তাহিক স্কিনকেয়ার রুটিনে গ্লাইকোলিক অ্যাসিড যোগ করতে পারেন। গ্লাইকোলিক অ্যাসিড হল AHA (Alpha Hydroxy Acid), যা ত্বকের মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। এটি হাইপার পিগমেন্টেশন আর সানবার্ন কমিয়ে স্কিন ইভেন টোনড করতে হেল্প করে। এই উপাদানটি দাগছোপ হালকা করে এবং সেই সাথে ত্বককে মসৃণ করে। বডির বিভিন্ন এরিয়া যেমন- হাঁটু, আন্ডারআর্ম, কনুই- এগুলো দাগমুক্ত রাখতে এই উপাদানটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।৩. নিয়াসিনামাইডনিয়াসিনামাইড বা ভিটামিন বি৩ ত্বকের দাগছোপ কমাতে খুবই কার্যকর। এটি ত্বকের মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে, হাইপারপিগমেন্টেশন কমায় ও ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। এছাড়া এটি ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম সিক্রেশন কমিয়ে আনে, ব্রণ আর ব্রণের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।৪. কোজিক অ্যাসিডকোজিক অ্যাসিড এক ধরনের ন্যাচারাল স্কিন লাইটেনিং ইনগ্রেডিয়েন্ট, যা ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে হাইপারপিগমেন্টেশন ও ব্রণের দাগ হালকা করে। এটি অনেক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টে এখন ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে স্পট ট্রিটমেন্ট হিসেবে।৫. আলফা আরবুটিনজেন্টল কিন্তু পাওয়ারফুল ব্রাইটেনিং এজেন্ট হিসেবে এর কদর আছে। যারা সেনসিটিভ স্কিন নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য আলফা আরবুটিন সবচেয়ে সেইফ। এটি ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে দাগছোপ হালকা করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এটি নিয়াসিনামাইডের সাথে ব্যবহার করা হলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। ধৈর্য সহকারে টানা কয়েক মাস ব্যবহার করলে নিজেই ত্বকের উজ্জ্বলতা দেখে চমকে যাবেন!তাহলে বুঝতেই পারছেন, স্কিনকেয়ার রুটিনে এই উপাদানগুলোর একটি যোগ করলেই ত্বকের দাগছোপ কমতে শুরু করবে! তবে দ্রুত ফল পেতে হলে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক, কারণ এসব উপাদান ত্বককে সূর্যরশ্মির প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। তাহলে আজ এই পর্যন্তই!
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য অনেকেই নিয়মিত ব্যবহার করেন ইনস্টাগ্রাম। তবে অনেক ব্যবহারকারী অজান্তেই এমন কিছু কাজ করেন, যা প্ল্যাটফর্মটির নিয়ম ভঙ্গ করে। এর ফল হিসেবে অ্যাকাউন্টে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই কিছু সাধারণ ভুল সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি।ফেক ফলোয়ার ব্যবহার করাঅনেকে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় কৃত্রিম ফলোয়ার বাড়ানোর চেষ্টা করেন। বিভিন্ন বট বা অচেনা অনলাইন সার্ভিসের মাধ্যমে ফলোয়ার কিনে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। কিন্তু এই ধরনের কার্যক্রম প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার বিরুদ্ধে। সিস্টেমে ধরা পড়লে অ্যাকাউন্টের রিচ কমে যেতে পারে, সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধতাও আরোপ হতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া শেয়ার করাঅন্যের তৈরি ছবি, ভিডিও বা গান নিজের নামে বা অনুমতি ছাড়া পোস্ট করাও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। মূল নির্মাতা অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়। একই ধরনের অভিযোগ বারবার হলে অ্যাকাউন্টের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।নিষিদ্ধ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করাসব হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। কিছু হ্যাশট্যাগ অপব্যবহার বা অনুপযুক্ত কনটেন্টের কারণে নিষিদ্ধ তালিকায় পড়ে। সেগুলো ব্যবহার করলে পোস্টের দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে এবং অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।অশালীন বা ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রকাশ করাঘৃণাত্মক বক্তব্য, অশালীন ছবি বা বিতর্কিত কনটেন্ট শেয়ার করার ব্যাপারে প্ল্যাটফর্মটি খুবই কঠোর। এই ধরনের পোস্ট করলে তা দ্রুত মুছে ফেলা হয় এবং ব্যবহারকারীকে সতর্ক করা হয়। নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা একাধিকবার ঘটলে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।স্প্যাম ধরনের আচরণ করাএকই মন্তব্য বারবার করা, অল্প সময়ে অনেক পোস্টে লাইক দেওয়া বা অকারণে প্রচুর ডাইরেক্ট মেসেজ পাঠানোকে স্প্যাম হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া ফলোয়ার বাড়ানোর আশায় তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে লগইন করাও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের কাজ নিয়মিত হলে অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট জমা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সেটি হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপদ থাকতে হলে নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কী পোস্ট করছেন, কোথায় মন্তব্য করছেন এবং কোন ধরনের টুল ব্যবহার করছেন এসব বিষয়ে সচেতন থাকলে নিজের অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন নিরাপদ রাখা সম্ভব।
সাইবার স্পেসে প্রতিনিয়ত নানাবিধ হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা। ভুক্তভোগী অনেক নারী বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। এ ধরনের অপরাধীরা অনেক সময় এসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন বড় অঙ্কের টাকা। গত এক বছরে এমন সাইবারের ফাঁদে পড়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি নারী।অসংখ্য ঘটনার মধ্যে সাইবারের ফাঁদে পড়েন মধ্যবয়সি এক নারী। ফেসবুকে পরিচয় হয় আশরাফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। পরিচয়ের ছয় মাস পর তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে।নিয়মিত ভিডিওকলে কথা হয় মেসেঞ্জারে। এক পর্যায়ে ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন আশরাফ। কথোপকথনের এক পর্যায়ে সে স্ক্রিন রেকর্ডারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই নারীর অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ধারণ করে রাখে মোবাইলে। পরে এসব ভিডিও ও ছবি ওই নারীর কাছে পাঠায়।ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নারী পুলিশের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের ফেসবুক পেজে অভিযোগ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আশরাফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮১৩ নারী সাইবারে অভিযোগ করেন। এর মধ্যে অভিযোগ নেওয়া হয় ৪৮০টির।সমাধান করা হয়েছে ১৬৩টি এবং অভিযোগ মুলতবি রয়েছে ৩১৭টি। এগুলোর মধ্যে ১২ হাজার ৬৩২টি অভিযোগ টেলিফোনের মাধ্যমে সমাধান করেছে সিআইডি।সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সাইবারে নানা ধরনের হয়রানির ক্ষেত্রে নারীদের অভিযোগগুলো তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ওই নারীদের আইনানুগ সহায়তা দেওয়া হয়।পুলিশ সদর দপ্তরের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে সাইবারের ফাঁদে পড়ে পুলিশের কাছে ৯ হাজার ১৬৫ জন নারী প্রতিকার চান। ভুক্তভোগী এসব নারীর ৪ হাজার ১৩৪ (৪৫ শতাংশই) ডক্সিংয়ের (বিনা অনুমতিতে স্পর্শকাতর ছবি-ভিডিও, তথ্য প্রভৃতি প্রকাশ করা) শিকার হন। ইমপারসোনেশন ৫৩০ (৬.০০ শতাংশ), আইডি হ্যাক ১ হাজার ৩৯৩ (১৭.০০ শতাংশ), ব্ল্যাকমেইলিং ১ হাজার ৭২৪ (১৮.০০ শতাংশ), সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ করেন ৮৭৩ (৯.০০ শতাংশ), আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো ২৫৬ (৩.০০), মোবাইল হ্যারেজমেন্ট ২৪১ (২ শতাংশ) এবং অন্যান্য ১৪ জন। সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীদের তথ্য আদানপ্রদানে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সাপোর্ট সেন্টার থেকে। হয়রানির বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এখান থেকে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও আইনগত পরামর্শও দেওয়া হয়। সম্প্রতি কণা (ছদ্মনাম) নামের ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গোপনে ধারণ করা তার কিছু গোসলের ছবি কে বা কারা তারই নামে খোলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ফেক আইডি থেকে তাকে পাঠিয়েছে। আইডিতে মেসেজ দিয়ে সেসব ছবি কীভাবে পেয়েছে ও আইডি পরিচালনাকারী ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। সে ছবিগুলো ডিলিট করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ভুয়া আইডির পরিচালনাকারী কণাকে জানায় যে- সে তার কাছেরই কেউ এবং কণা যখন গোসল করছিল তখন সে ছবিগুলো ধারণ করেছে। এসব ছবি সে ডিলিট করে দিতে রাজি আছে যদি কণা নিজের আরও কিছু আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও নিজে ধারণ করে তাকে পাঠায় কিংবা বড় অঙ্কের টাকা দেয়। এ প্রস্তাবে কণা রাজি না হয়ে আইনি আশ্রয় নেওয়ার কথা জানায়। এতে অপরাধী ক্ষিপ্ত হয়ে কণার গোসলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় কণা তার অভিভাবককে জানান এবং তার বাবাকে নিয়ে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর কিছু আচরণবিধি মানা দরকার। বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী একজন নারী সাইবার স্পেসে হয়রানির শিকার হন বা তাকে যখন নানাভাবে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয় অথবা ব্যক্তিগত ছবি ধারণ, অশ্লীল অডিও-ভিডিও ধারণ করে সেটিকে ছড়িয়ে দেওয়া বা হুমকি দেওয়া হয়। এটি ছড়িয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা দেখি এর মধ্য দিয়ে কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থায় একজন নারী সামাজিক জীবনে নানা ধরনের ক্ষতি ও প্রশ্নের সম্মুক্ষীণ হন।যারা এ সাইবার স্পেসকে নিজের উদ্দেশ্যে বা অন্যকে হেয় করার জন্য ব্যবহার করে সেটি কখনো কখনো সমাজজীবন বা ব্যক্তিজীবনের ওপর তার প্রভাব তৈরি করতে চায়। এ ধরনের অপরাধীকে সাইবার অ্যাক্ট বা প্রচলিত আইনে বিচার করা সম্ভব, যদি একজন ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও বন্ধুত্ব তৈরিসহ সব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত।সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
ফেসবুক–ইনস্টাগ্রামের বাইরে আপনার তথ্য কে শেয়ার করছে, জানবেন যেভাবেফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীরা যখন এসব প্ল্যাটফর্মের বাইরে অন্য অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন, তখনও তাদের কিছু কার্যকলাপসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কাস্টমাইজ করা ও লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্যই এসব তথ্য ব্যবহার করা হয়।ধরা যাক, আপনি কোনো অনলাইন স্টোরে জুতা খুঁজেছেন। সেই ওয়েবসাইট যদি আপনার কার্যকলাপের তথ্য ফেসবুকের সঙ্গে শেয়ার করে, তাহলে পরে Facebook বা Instagram–এ একই ধরনের জুতার বিজ্ঞাপন দেখতে পারেন।তবে ব্যবহারকারীদের জন্য এই তথ্য দেখা ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগও রেখেছে মেটা।‘ইওর একটিভিটিজ অফ মেটা টেকনোলজিস’ কীমেটার ‘Your Activity Off Meta Technologies’ ফিচারটি দেখায়—কোন কোন ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা প্রতিষ্ঠান আপনার কার্যকলাপের তথ্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে শেয়ার করেছে।এই টুলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা—নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা অ্যাপ বিচ্ছিন্ন করতে পারেনআগের সব কার্যকলাপ মুছে ফেলতে পারেনভবিষ্যতে তথ্য শেয়ার বন্ধ করতে পারেনতথ্য ডাউনলোড করে অফলাইনে পর্যালোচনা করতে পারেনএ ছাড়া ফেসবুকের প্রাইভেসি চেক-আপ টুল ব্যবহার করে কে কী তথ্য দেখতে পাচ্ছে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।যেভাবে দেখবেন কোন ওয়েবসাইট তথ্য শেয়ার করছেফেসবুক (ওয়েব সংস্করণ)১. প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করে Settings & Privacy থেকে Settings-এ যান।২. Account Center নির্বাচন করুন।৩. Your Information and Permissions-এ ক্লিক করুন।৪. এরপর Your Activity Off Meta Technologies নির্বাচন করুন।ফেসবুক অ্যাপ১. হ্যামবার্গার (তিন দাগ) মেনুতে ট্যাপ করুন।২. Account Center-এ গিয়ে একইভাবে Your Information and Permissions নির্বাচন করুন।৩. তারপর Your Activity Off Meta Technologies এ ট্যাপ করুন।ইনস্টাগ্রাম (অ্যাপ বা ওয়েব)১. প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ/ক্লিক করুন।২. Settings থেকে Account Center-এ যান।৩. Your Information and Permissions নির্বাচন করে৪. Your Activity Off Meta Technologies এ প্রবেশ করুন।যেভাবে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন করবেনRecent Activity অংশে গেলে বিজ্ঞাপনদাতা, ব্র্যান্ড বা ওয়েবসাইটের তালিকা দেখা যাবে।যেটি বিচ্ছিন্ন করতে চান সেটি নির্বাচন করে Disconnect বাটনে ক্লিক করুন এবং নিশ্চিত করুন।একাধিক অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে মূল স্ক্রিনে গিয়ে Disconnect Specific Activity নির্বাচন করুন। এরপর প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টগুলো বেছে নিয়ে Continue ও Confirm চাপুন।প্রাইভেসি সুরক্ষায় নিয়মিত এ সেটিংসগুলো পর্যালোচনা করা উপকারী।
ভালোবাসা বা প্রেম কেবল কিছু শব্দে আবদ্ধ একটি পরিধি নয়। এটা অন্তর্নিহিত ব্যাপার। উপলব্ধির আস্তরণ দিয়ে যখন কোনো অন্তরসুধা উপলব্ধি করা যায়, আর একে যদি ভালোবাসা বলে, তাহলে আমি প্রগাঢ় উচ্চারণে সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলতে চাই, আমি তোমাকে ভালোবাসি নবধারার সেতা (নীলবর্ণ) ...।বলতে ইচ্ছা করে—ফাগুনের এই গোধূলির ক্ষণেইচ্ছেডানা মেলে দিয়ে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়েআসতে চাই যে তোমার কাছেকেন দাও বাধা মোরে?ফাগুনের এই আগুনে বসন্তের এই নবগগনেভুবনতলে হাতে হাত রেখে হাঁটতে চাই যে অচেনা পথেপুষ্পরথী ওই বেলি ফুল খোঁপায় গুঁজতে ইচ্ছা করে।অভিযোগ–অনুযোগের পর্দা সরিয়ে চলো একই আকাশ দেখি ওই মেঘটাকে সরিয়ে.... ।
তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে বলেই—আমি ইচ্ছা করেই আর সেরে উঠি না।লোকে বলে, জ্বর হলে শরীর পুড়ে যায়, কষ্ট হয়; কিন্তু আমার কাছে এই জ্বর যেন এক অদ্ভুত আশীর্বাদ। কারণ, আমি জানি, তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে বলেই আমার শরীরের জ্বরটা এভাবে বেড়ে যায়। শরীর খারাপটা আসলে একটা উসিলা মাত্র। আমার আসল অসুখ তো তোমাকে ঘিরেই।যখন তুমি কপালে হাত রেখে খুব আলতো করে জিজ্ঞাসা করো– ‘এখন কেমন লাগছে?’ তখন মনে হয়, ওইটুকু আদরের জন্য আমি দীর্ঘ এক জীবন জ্বরের ঘোরেই কাটিয়ে দিতে পারি।দুনিয়াতে কত রকমের ওষুধ আছে—কেউ বলে প্যারাসিটামল, কেউ বলে বিশ্রাম, কেউ বলে ডাক্তারের পরামর্শ। কিন্তু, তোমার হাতের ওই শীতল পরশটার চেয়ে বড় কোনো ধন্বন্তরী আজও কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি।তুমি যখন কাছে থাকো, পরম মমতায় এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দাও, তখন নিজের এই অসুস্থতাকেও খুব সুন্দর মনে হয়। মনে হয়, কষ্টেরও একটা কোমল রং আছে, আর তার নাম তুমি। সুস্থ হয়ে গেলে তুমি আবার ব্যস্ত হয়ে পড়বে, নিজের দুনিয়ায় হারিয়ে যাবে। আমার খবর নেবে না, জ্বর মেপে দেখবে না, কপালে হাত রাখবে না। তাই কখনো কখনো মনে হয়—এই জ্বর থাকুক না একটু, এই অজুহাতে যদি তোমাকে আরও কিছুটা সময় পাওয়া যায়!তবে জানো,সত্যি বলতে—আমি জ্বর চাই না,আমি চাই তোমাকে।আমি চাই,সুস্থ দিনের বিকেলে,কোনো অজুহাত ছাড়াই,তুমি এসে পাশে বসো,আর জিজ্ঞাসা করো—‘এখন কেমন লাগছে?’
সে আজ অনেক বছর আগেকার ঘটনা। আমার এক ডাক্তার বন্ধু সদ্য মেডিকেল কলেজ থেকে বেরিয়ে উত্তর বাংলার এক শহরে প্র্যাকটিস শুরু করেছে, তখনকার কথা। আমার ডাক্তার বন্ধুর মুখেই শুনেছিলাম সেই কাহিনি।নতুন জায়গায়, নতুন পরিবেশে জমিয়ে বসতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, সময় লাগে। আমার বন্ধুটির উৎসাহ বা ধৈর্যের অভাব ছিল না। নতুন ডাক্তারের কাছে চট করে কোনো রোগী আসে না, পুরোনো ডাক্তারদেরই সবার পছন্দ। তবে আমার বন্ধুটি শিশুচিকিৎসায় সসম্মানে পাশ করেছিল, সোনার মেডেল পেয়েছিল। সে বুদ্ধি করে তার নেমপ্লেটে নামের পাশে এম বি বি এস, ডি সি এইচ (গোল্ড মেডেলিস্ট) কথাটা জুড়ে দিয়েছিল, ফলে দু-চারজন করে রোগী আসতে শুরু করেছিল।এভাবে কিছুদিন কাটবার পর এল শীত। উত্তরবঙ্গের হাড়-কাঁপানো শীত। সন্ধের পর রাস্তা ফাঁকা, দরজা-জানালা বন্ধ করে সবাই আশ্রয় নিয়েছে ঘরের ভেতর। নেহাত দায় না ঠেকলে কেউ আর পথে বেরোয় না।সেদিন রাত তখন প্রায় দশটা। মফস্সল শহরে ওটা কম রাত নয়, তার ওপর ঠান্ডার জন্য শীতকালে সবাই তাড়াতাড়ি কাজকর্ম সেরে শুয়ে পড়ে। ডাক্তার ন-টার মধ্যে খাওয়া সেরে বিছানায় লেপের তলায় বেশ আয়েশ করে একটা মেডিক্যাল জার্নাল পড়ছিল। আমেরিকায় ফিলাডেলফিয়ায় একজন শল্যচিকিৎসক কেমন করে একটা দুরূহ অপারেশন করেছিলেন তার বিবরণ ছিল ওই জার্নালে, সেটা পড়তে পড়তে সে তন্ময় হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ বাইরের দরজায় ঘন ঘন কড়া নাড়ার শব্দে ডাক্তার চমকে উঠল। এই অসময়ে কে এল! নিশ্চয়ই জরুরি কেস।আগেই বলেছি, আমার ডাক্তারবন্ধু ছিল খুব করিতকর্মা, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার জন্য আলস্যকে সে কখনো প্রশ্রয় দিত না। তাড়াতাড়ি গায়ে একটা গরম চাদর জড়িয়ে সে সদর দরজা খুলল, তারপরই ভীষণ চমকে দু-পা পিছিয়ে এল। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি সুন্দরী অল্পবয়সি বউ, মাথার সিঁদুর জ্বলজ্বল করছে। বউটির মুখ কিন্তু উৎকণ্ঠায় আর দুশ্চিন্তায় ভীষণ ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে।‘ডাক্তারবাবু, আমার মেয়ের খুব অসুখ,’ বউটি ব্যাকুল কণ্ঠে বলে উঠল, ‘আপনি শিগগির চলুন।’‘কোথায় আপনাদের বাড়ি?’ ডাক্তার জিজ্ঞেস করল।‘বেশি দূর নয়, আপনি আর দেরি করবেন না,’ বউটির গলা থেকে যেন কাকুতি ঝরে পড়ছে।‘ঠিক আছে, আপনি ভেতরে এসে বসুন,’ ডাক্তার বলল, ‘আমি তৈরি হয়ে নিচ্ছি।’‘আমি এখানেই ভালো আছি, আপনি তাড়াতাড়ি করুন।’বউটি ভেতরে আসতে অনিচ্ছুক বলে মনে হল ডাক্তারের। ওই ঠান্ডায় তার গায়ে একটা সুতোর চাদর পর্যন্ত নেই, খালি পা, অথচ চেহারা দেখে মনে হয় ভালো ভদ্র পরিবারের বউ। ডাক্তার তবু ইতস্তত করছিল, ভাবছিল বউটিকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা ঠিক হবে কি না, কিন্তু বউটিই বলে উঠল, ‘আমার জন্য আপনি ব্যস্ত হবেন না, তাড়াতাড়ি চলুন।’অগত্যা ডাক্তার ভেতরে গিয়ে গায়ে একটা গরম ওভারকোট চাপিয়ে বেরিয়ে এল, হাতে ব্যাগ, তাতে কিছু দরকারি ওষুধপত্তরও আছে।‘আপনাকে একটা চাদর দেব?’ ডাক্তার আমতা আমতা করে বলল।‘বললাম তো, আমার জন্য আপনাকে ব্যস্ত হতে হবে না,’ একটু অসহিষু; কণ্ঠেই জবাব দিল বউটি, ‘চলুন।’দরজায় তালা লাগিয়ে ডাক্তার বেরিয়ে পড়ল। বউটি আগে আগে যাচ্ছে আর তার পেছনে ডাক্তার। বউটি খুব তাড়াতাড়ি হাঁটছে।রাস্তা নির্জন, অন্ধকার, গা ছমছম করে। বউটি এই রাতে একা ডাক্তারের খোঁজে বেরিয়েছে, বাড়িতে কি পুরুষমানুষ নেই! এই ঠান্ডার রাতে এমন একা কেউ ছেড়ে দেয় ঘরের বউকে! ডাক্তারের খুব খারাপ লাগছিল।যাহোক বেশ খানিকটা যাবার পর একটা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল বউটি, তারপর ডাক্তারকে লক্ষ করে বলল, ‘সদর দরজা খোলা আছে, আপনি ভেতরে যান, আমি আসছি।’সে গেটের পাশ দিয়ে অন্ধকারে কোথায় যেন গেল।বউটির কথাই ঠিক। সদর দরজা ভেজানো ছিল, ঠেলতেই খুলে গেল। প্রথমেই একটা ঘর, প্রায় অন্ধকার, তার পরের ঘরে আলো জ্বলছে। ডাক্তার এগিয়ে গেল। একটা খাটে বছর দেড়েকের একটি মেয়ে নিঃঝুমের মতো শুয়ে আছে। ফর্সা গায়ে রং, কোঁকড়ানো চুল, ভারি মিষ্টি মুখ কিন্তু জ্বরে বেঁহুশ, মুখ আগুনের মতো লাল।মেয়েটির মাথার সামনে একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক আর একজন বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন, বোধ হয় ওর দাদু-দিদিমা। বৃদ্ধা মেয়েটির কপালে জলপট্টি দিচ্ছেন আর ভদ্রলোক পাখার হাওয়া করছেন। দু-জনের মুখে ফুটে উঠেছে অসীম উৎকণ্ঠা। ডাক্তারের জুতোর শব্দে দু-জনেই মুখ তুলে তাকালেন।‘ডাক্তারবাবু এসে গেছেন!’ ভদ্রলোক উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন, তাঁর মুখে ফুটে উঠল একটা নিশ্চিন্ততার ছাপ।ডাক্তার ব্যাগ থেকে স্টেথিসকোপ বের করে মেয়েটির বুক-পিঠ পরীক্ষা করল, জ্বর দেখল এক-শো পাঁচ। নিমুনিয়া, তবে ভাগ্য ভালো তখনও মারাত্মক আকার নেয়নি। মেয়েটিকে সে তক্ষুনি একটা ইঞ্জেকশন দিল। একটা প্রেসক্রিপশন লিখে বুড়ো ভদ্রলোকের হাতে সেটা দিয়ে বলল, ‘সকালে এই ইঞ্জেকশন আর ট্যাবলেটগুলো আনিয়ে রাখবেন। আমি আজ রাতের মতো ওষুধ দিয়ে যাচ্ছি, দু-ঘণ্টা অন্তর খাওয়াবেন। আমি সকালে আবার আসব।’‘ও ভালো হয়ে যাবে তো?’ বুড়ো ভদ্রলোক ব্যাকুল কণ্ঠে বলে উঠলেন।‘হ্যাঁ,’ ডাক্তার হাসিমুখে জবাব দিল, ‘ঠিক সময়ে ওষুধ পড়েছে, আর দেরি হলেই ভয় ছিল।’ঠিক সেইসময় হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকল একজন সুপুরুষ যুবক, উদ্ভ্রান্তের মতো তার চেহারা। ডাক্তারকে দেখে সে বলল, ‘ও আপনি এখানে, আমি আপনার ঘরে তালা দেখে ভাবলাম রোগী দেখতে গেছেন, আরও দু-জন ডাক্তারবাবুর কাছে ছুটে গেলাম, তাঁরা এই ঠান্ডায় আসতে রাজি হলেন না।’‘তুই ওঁকে খবর দিসনি!’ বুড়ো ভদ্রলোক এবার অবাক হয়ে বললেন, ‘তবে কে ওঁকে ডেকে আনল?’‘তাই তো!’ যুবক এবার বলল, ‘আপনাকে কে খবর দিল?’‘কেন, মেয়েটির মা,’ ডাক্তার জবাব দিল, ‘তিনি গিয়ে বললেন মেয়ের খুব অসুখ এখুনি যেতে হবে। এত রাতে উনি একা ছুটে এসেছেন দেখে আমিও কম অবাক হইনি, গায়ে একটা চাদর পর্যন্ত ছিল না।’‘ওর মা!’ অস্ফুট কণ্ঠে বললেন বুড়ো ভদ্রলোক।তখুনি ডাক্তারের চোখে পড়ল দেওয়ালে টাঙানো একটা ছবির দিকে। হাসি হাসি মুখে সেই বউটি তার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন খুব খুশি হয়েছে তার ওপর।‘ওই তো,’ ছবিটার দিকে আঙুল দেখিয়ে ডাক্তার বলে উঠল, ‘উনিই তো আমাকে নিয়ে এলেন, গেট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে বললেন, দরজা খোলা আছে ভেতরে যান, আমি আসছি।’ঘরে সবাই যেন স্তম্ভিত, যুবকটি হঠাৎ দু-হাতে মুখ ঢেকে ফেলেছে। ব্যাপার কী বুঝতে না পেরে ডাক্তার এর ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে।‘ওটা আমার পুত্রবধূর ছবি,’ বুড়ো ভদ্রলোক একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘গত বছর এই সময় আমাদের ছেড়ে স্বর্গে গেছে।’ডাক্তার হতভম্ব!মেয়ের কঠিন অসুখে মৃত মায়ের আত্মা স্থির থাকতে পারেনি, মানুষের দেহ ধরে এসেছিল সময়মতো চিকিৎসার জন্য ডাক্তারকে নিয়ে যেতে। সন্তানের প্রতি এমন ভালোবাসা মায়ের পক্ষেই সম্ভব।মেয়েটি ভালো হয়ে উঠেছিল। আর ওই ঘটনার পর ডাক্তারের পসার এত বেড়ে গিয়েছিল যে তাকে আর কখনো রোগীর জন্য বসে থাকতে হয়নি। তার নামই হয়ে গিয়েছিল ধন্বন্তরী ডাক্তার। অথচ তার মূলে ছিল এক মৃত মায়ের স্নেহ আর উৎকণ্ঠা, অসুস্থ মেয়েকে বাঁচাবার জন্য অন্য জগৎ থেকে ছুটে আসতেও তার আটকায়নি।
আজিকের রোদ ঘুমায়ে পড়িয়া ঘোলাট-মেঘের আড়ে,কেয়া-বন পথে স্বপন বুনিছে ছল ছল জল-ধারে।কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝ্ঝুম নিরালায়,ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে অস্ফুট কলিকায়!বাদলের জলে নাহিয়া সে মেয়ে হেসে কুটি কুটি হয়,সে হাসি তাহার অধর নিঙাড়ি লুটাইছে বনময়।কাননের পথে লহর খেলিছে অবিরাম জল-ধারাতারি স্রোতে আজি শুকনো পাতারা ছুটিয়াছে ঘরছাড়া!হিজলের বন ফুলের আখরে লিখিয়া রঙিন চিঠি,নিরালা বাদলে ভাসায়ে দিয়েছে না জানি সে কোন দিঠি!চিঠির উপরে চিঠি ভেসে যায় জনহীন বন বাটে,না জানি তাহারা ভিড়িবে যাইয়া কার কেয়া-বন ঘাটে!কোন্ সে বিরল বুনো ঝাউ শাখে বুনিয়া গোলাপী শাড়ী, –হয়ত আজিও চেয়ে আছে পথে কানন-কুমার তারি!দিকে দিগেনে- যতদূর চাহি, পাংশু মেঘের জালপায়ে জড়াইয়া পথে দাঁড়ায়েছে আজিকার মহাকাল।গাঁয়ের চাষীরা মিলিয়াছে আসি মোড়লের দলিজায়, –গল্পের গানে কি জাগাইতে চাহে আজিকার দিনটায়!কেউ বসে বসে বাখারী চাঁচিছে, কেউ পাকাইছে রসি,কেউবা নতুন দোয়াড়ীর গায়ে চাঁকা বাঁধে কসি কসি।কেউ তুলিতেছে বাঁশের লাঠিতে সুন্দর করে ফুলকেউবা গড়িছে সারিন্দা এক কাঠ কেটে নির্ভুল।মাঝখানে বসে গাঁয়ের বৃদ্ধ, করুণ ভাটীর সুরে,আমীর সাধুর কাহিনী কহিছে সারাটি দলিজা জুড়ে।লাঠির উপরে, ফুলের উপরে আঁকা হইতেছে ফুল,কঠিন কাঠ সে সারিন্দা হয়ে বাজিতেছে নির্ভুল।তারি সাথে সাথে গল্প চলেছে- আমীর সাধুর নাও,বহুদেশ ঘুরে আজিকে আবার ফিরিয়াছে নিজ গাঁও।ডাব্বা হুঁকাও চলিয়াছে ছুটি এর হতে ওর হাতে,নানান রকম রসি বুনানও হইতেছে তার সাথে।বাহিরে নাচিছে ঝর ঝর জল, গুরু গুরু মেঘ ডাকে,এ সবের মাঝে রূপ-কথা যেন আর রূপকথা আঁকে!যেন ও বৃদ্ধ, গাঁয়ের চাষীরা, আর ওই রূপ-কথা,বাদলের সাথে মিশিয়া গড়িছে আরেক কল্প-লতা।বউদের আজ কোনো কাজ নাই, বেড়ায় বাঁধিয়া রসি,সমুদ্রকলি শিকা বুনাইয়া নীরবে দেখিছে বসি।কেউবা রঙিন কাঁথায় মেলিয়া বুকের স্বপনখানি,তারে ভাষা দেয় দীঘল সূতার মায়াবী নকসা টানি।বৈদেশী কোন্ বন্ধুর লাগি মন তার কেঁদে ফেরে,মিঠে-সুরি-গান কাঁপিয়ে রঙিন ঠোঁটের বাঁধন ছেঁড়ে।আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন ছল ছল জলধারে,বেণু-বনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে।
মন টেকে না ইট পাথরের এই শহরে আরপাইনা শান্তি খুলে রেখেও অট্টালিকার দ্বারসবুজ ঘেরা গ্রামে গিয়ে শান্তি খুঁজে পাইগ্রামের সাথে শহরের যে তুলনা আর নাই।গাছের ডালে দোয়েল কোয়েল গায়-যে কতো গানসেই গানেতে ভরে উঠে ক্লান্ত দেহের প্রাণ।নদীর ধারে জেলের জালে ওঠে তাজা মাছমাছের স্বাদে মন চায় আমার থাকি বারো মাস।আম গাছেতে ধরে আছে কত শত আমজামের ডালে ঝুলে থাকে মিষ্টি কালো জাম।বিলের ধারে পদ্ম ফোটে সৌন্দর্যের নেই জুড়িনৌকা নিয়ে সারাদিন তাই এদিক ওদিক ঘুরি।রাস্তার পাশে স্বর্ণ লতা গাছের সাথে বায়শিকড় ছাড়া কেমনে বাঁচে বোঝা বড় দায়।ডালে ডালে লাল জিলাপির কোনো অভাব নাইযখন খুশি সবাই মিলে পেড়ে এনে খাই।মাচার নিচে লাউয়ের সারি আরো কতো কিছুদাদু যখন তুলে আনে হাটি পিছু পিছু।মাঠে ঘাটে ছেলে মেয়ে খেলে মিলে মিশেশহরেতে নেই-কো সুযোগ মরি যেন বিষে।তাজা গরুর খাটি দুধে দাঁতে লাগে সরগরুর লাথি খেয়েও তবে করে না যে ডর।ফুল বাগানে ফোটে কতো গোলাপ জবা বেলীভোমরা দেখলে মন চায় আমার দুটি পাখা মেলি।গ্রামের মানুষ সহজ সরল দেখায় না যে দামআহা! এত সুন্দর কেন সবুজের এই গ্রাম।
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনিছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলশুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবেতারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমীআর এলোনাপঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুরতোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবোসেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমরখেলা করে!নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো? আমার মাথা এ ঘরের ছাদফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায়তিন প্রহরের বিল দেখাবে?একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনোলাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরাভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছিভিতরে রাস-উৎসবঅবিরল রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরাকত রকম আমোদে হেসেছেআমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি!বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন, আমরাও…বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুইসেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসবআমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা!বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল,যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবেসেদিন আমার বুকেও এ-রকম আতরের গন্ধ হবে!ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠেয়ে প্রাণ নিয়েছিদূরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীল পদ্মতবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধএখনো সে যে-কোনো নারী।কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখে না!
1️⃣ ৮ টাকা → ১২ মিনিটমেয়াদ: ১২–২৪ ঘণ্টাকোড: *121*08#2️⃣ ১৪ টাকা → ২২ মিনিটমেয়াদ: ১ দিনকোড: *121*014#3️⃣ ১৮ টাকা → ২৮ মিনিটমেয়াদ: ১ দিনকোড: *121*18#4️⃣ ২৩ টাকা → ৩৫–৪০ মিনিটমেয়াদ: ২ দিনকোড: *121*23# বা *123*23# 📞 ৭ দিনের মিনিট অফার৭৮ টাকা → ১০০ মিনিট৯৭ টাকা → ১৩০ মিনিট১২৯ টাকা → ১৮০ মিনিট১৩৯ টাকা → ২২০ মিনিট 📞 ৩০ দিনের মিনিট অফার১৬৯ টাকা → ২০০ মিনিট২০৯ টাকা → ২৫০ মিনিট৩১৯ টাকা → ৫০০ মিনিট৫০৯ টাকা → ৮০০ মিনিট৬২৯ টাকা → ১০০০ মিনিট ✅ সব এয়ারটেল অফার দেখতে ডায়াল করুন:*121#✅ মিনিট চেক কোড:*778*5#
Bhoot.com Episode 325 – রক্ত লাল আকাশের নিচে এক অশুভ উপস্থিতিহরর সিরিজ Bhoot.com আবারও ফিরেছে নতুন আতঙ্ক নিয়ে।Episode 325 এইবার দর্শকদের নিয়ে যায় এমন এক অন্ধকার জগতে, যেখানে আকাশ পর্যন্ত যেন ভয় ছড়িয়ে দিয়েছে। শুরুতেই অশুভ সংকেতএপিসোড শুরু হয় এক ভয়ংকর দৃশ্য দিয়ে—লাল রঙে ঢেকে যাওয়া আকাশ, চারপাশে কবর, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক রহস্যময় ছায়া।তার মুখ দেখা যায় না…কিন্তু তার উপস্থিতিই যেন ভয় ছড়িয়ে দেয় চারদিকে।অজানা শক্তির আগমনগল্প যত এগোয়, ততই পরিষ্কার হয়—এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।এই জায়গায় এমন কিছু আছে, যা মানুষের বাইরে।কবরের চারপাশে অদ্ভুত নড়াচড়া, বাতাসের হঠাৎ পরিবর্তন, আর দূরে শোনা যায় অজানা শব্দ…সব মিলিয়ে পরিবেশ হয়ে ওঠে ভয়ংকর।ভয় ও সাসপেন্সের খেলাEpisode 325-এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর tension build-up।প্রতিটি মুহূর্তে মনে হবে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।দর্শককে একদম শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে এই এপিসোড।কেন এই এপিসোড শুনবেন?ইউনিক horror atmospherecinematic red lighting effectintense suspensemind-blowing twist endingবাস্তব নাকি কল্পনা?এই গল্প কি শুধুই বানানো?নাকি এর পেছনে আছে কোনো বাস্তব ঘটনার ছায়া?এই প্রশ্নই দর্শকদের মনে ভয় আর কৌতূহল দুটোই তৈরি করে।শেষ কথাBhoot.com Episode 325 শুধু একটি হরর এপিসোড নয়—এটি এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা, যা আপনাকে রাতের অন্ধকারে একা থাকতে ভয় পাইয়ে দেবে।...................................................................................................................................................................... ⬇ Download Now
Bhoot.com Episode 324 – কবরস্থানের অন্ধকার রহস্যহরর জগতের জনপ্রিয় সিরিজ Bhoot.com আবারও ফিরেছে এক নতুন ভয়ের গল্প নিয়ে।Episode 324 এইবার দর্শকদের নিয়ে যায় এক ভয়ঙ্কর কবরস্থানে, যেখানে প্রতিটি ছায়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অজানা আতঙ্ক।গল্পের শুরু – মৃত্যুর নীরবতাএই এপিসোডের শুরুতেই দেখা যায় এক পুরনো কবরস্থান।চারপাশে কুয়াশা, শুকনো গাছ, আর নিস্তব্ধ পরিবেশ—যেন সময় থেমে আছে।একটি রহস্যময় কালো ছায়া ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসে…কে সে? মানুষ নাকি অন্য কিছু?কবরের ভেতরের গল্পEpisode 324-এর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো—এখানে মৃতরা শুধু স্মৃতি হয়ে থাকে না।গল্পের মাঝে এমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা বুঝিয়ে দেয় এই জায়গা অভিশপ্ত।কিছু অদ্ভুত শব্দ, হঠাৎ বাতাসের পরিবর্তন, আর অদৃশ্য উপস্থিতি—সব মিলিয়ে পরিবেশটা হয়ে ওঠে ভয়ংকর।ভয়, সাসপেন্স ও টুইস্টএই এপিসোডে suspense ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে।দর্শক বুঝতেই পারে না পরের মুহূর্তে কী ঘটবে।শেষে এমন একটি টুইস্ট আছে, যা পুরো গল্পের ধারণা বদলে দেয়।কেন শুনবেন Episode 324?কবরস্থান ভিত্তিক ইউনিক হরর থিমডার্ক ও cinematic ভিজ্যুয়ালভয় ধরানো সাউন্ড ডিজাইনঅপ্রত্যাশিত endingবাস্তব নাকি কল্পনা?অনেকেই মনে করেন, এই ধরনের গল্প বাস্তব ঘটনার ছায়া থেকে তৈরি।Episode 324-এও সেই রহস্য লুকিয়ে আছে।হয়তো সবটাই কল্পনা…অথবা, হয়তো সত্যি কিছু লুকিয়ে আছে এই কবরস্থানের অন্ধকারে।শেষ কথাBhoot.com Episode 324 শুধু একটি গল্প নয়—এটি একটি অনুভূতি, একটি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।যারা হরর ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই মিস না করার মতো একটি এপিসোড।................................................................................................................................................................... ⬇ Download Now
👻 Bhoot.com Episode 323 – ভয়ের এক নতুন অধ্যায়হরর প্রেমীদের জন্য আবারও ফিরে এসেছে জনপ্রিয় সিরিজ Bhoot.com, আর এর Episode 323 যেন ভয় আর রহস্যের এক নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এই এপিসোডে এমন কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে যা আপনার মনে প্রশ্ন জাগাবে—ভূত কি সত্যিই আছে?🔥 গল্পের শুরুEpisode 323 শুরু হয় এক ভয়ঙ্কর পরিবেশ দিয়ে—ঘন জঙ্গলের মাঝে এক অদ্ভুত নীরবতা। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে শুরু করে। একজন রহস্যময় ব্যক্তির উপস্থিতি পুরো গল্পটিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।😱 ভয় আর রহস্যের মিশ্রণএই এপিসোডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সাসপেন্স। প্রতিটি দৃশ্য এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন দর্শক শেষ পর্যন্ত না দেখে থাকতে না পারে।হঠাৎ শব্দ, অদৃশ্য উপস্থিতি, আর অজানা শক্তির খেলা—সব মিলিয়ে এটি একদম থ্রিলিং অভিজ্ঞতা।🎧 কেন এই এপিসোডটি আলাদা?গল্পের গভীরতা অনেক বেশিভয় পাওয়ার মতো বাস্তবসম্মত পরিবেশচমৎকার সাউন্ড ইফেক্টশেষে রয়েছে টুইস্ট, যা আপনাকে অবাক করে দেবে🧠 কি সত্যিই বাস্তব ঘটনা?অনেকেই মনে করেন, এই ধরনের গল্প বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। Episode 323-তেও সেই ছাপ স্পষ্ট।এটি শুধুই কল্পনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে সত্যি কিছু—সেটা ভাবার বিষয়।🎯 শেষ কথাBhoot.com Episode 323 শুধু একটি হরর গল্প নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা।যারা ভয় পেতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি এপিসোড।....................................................................................................................................................................... ⬇ Download Now
বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খানের ভক্তদের জন্য বড় সুখবর। বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘মাতৃভূমি’ মুক্তির অপেক্ষায় থাকার মাঝেই নিজের পরবর্তী প্রজেক্ট নিয়ে মাঠে নামছেন এই মহাতারকা। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণী প্রযোজক দিল রাজু এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক বংশী পাইডিপল্লীর বিগ বাজেট অ্যাকশন সিনেমার শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ এপ্রিল। মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও এসআরপিএফ গ্রাউন্ডে বিশাল আয়োজনে এই সিনেমার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।সূত্রমতে, এই সিনেমার জন্য কোনো সাধারণ সেট নয়, বরং একটি আস্ত ‘মিনি সিটি’ বা ছোট শহর তৈরি করা হচ্ছে। সেটটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপের আবহ পাওয়া যায়। ছবির গল্পের প্রয়োজনে সেখানে হাইভোল্টেজ ও বড় মাপের অ্যাকশন সিক্যুয়েন্সের চিত্রায়ন করা হবে। সিনেমার সঙ্গে যুক্ত একজন ইনসাইডার জানিয়েছেন, সেট নির্মাণ থেকে শুরু করে অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি এবং কাস্টিং—সবই প্রায় চূড়ান্ত। একটি উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট হিসেবে পরিচালক বংশী পাইডিপল্লী সালমান খানকে সম্পূর্ণ নতুন এক লুকে পর্দায় হাজির করতে যাচ্ছেন।নাম ঠিক না হওয়া এই সিনেমাটিতে বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার নামী তারকাদের এক বিশাল সমাহার থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সালমানের অত্যন্ত প্রিয় একটি অ্যাকশন থ্রিলার স্ক্রিপ্ট এবং এর ভেতরের আবেগঘন গল্পই তাকে এই প্রজেক্টে যুক্ত হতে উৎসাহিত করেছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালে সিনেমাটি বড় পর্দায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সালমানের চিরচেনা বাণিজ্যিক ঘরানার সঙ্গে দক্ষিণী মেকিংয়ের মেলবন্ধনে তৈরি এই ছবিটি বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্টখ্যাত অভিনেতা আমির খান ৬১তম জন্মদিন পালন করেছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) কোনো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান ছাড়াই ঘরোয়া পরিবেশে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে নিজের বিশেষ এই দিনটি উদযাপন করেন তিনি। যদিও গত বছর ঘটা করে নিজের জন্মদিন পালন করেছিলেন আমির খান। সেই সঙ্গে সুখবর দিয়েছিলেন তার ভক্ত-অনুরাগীসহ সামাজিক মাধ্যম নেটিজেনদের। প্রেমিকা গৌরীকে সবার সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছিলেন জন্মদিনে। তবে এবারের জন্মদিনটি ছিল ব্যতিক্রম। মিস্টার পারফেকশনিস্ট অভিনেতা জন্মদিনের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন তার চর্চিত প্রেমিকা গৌরী স্প্রাট। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দুই সাবেক স্ত্রী রীনা দত্ত ও কিরণ রাও এবং তাদের সন্তানরা।আমিরের জন্মদিনের আয়োজনে শুরু থেকেই তার পাশে ছিলেন বান্ধবী গৌরী স্প্রাট। এবারের উদযাপনেও তাদের রসায়ন নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা গেছে, আমির খান কেক কাটার পর বান্ধবী গৌরীর মুখে কেকের টুকরো তুলে দিচ্ছেন। এ সময় তার দুই সাবেক স্ত্রী কিরণ রাও এবং রীনা দত্তকেও বেশ খোশমেজাজে দেখা গেছে। এমনকি অনুষ্ঠান শেষে কিরণ রাওকে আমির ও গৌরীর সঙ্গে একই গাড়িতে চড়ে বিদায় নিতে দেখা যায়।এদিকে বাবা আমির খানের জন্মদিনে উপস্থিত ছিলেন তিন সন্তান— জুনায়েদ খান, আজাদ খান ও ইরা খান। মেয়ে ইরাকে মজার ছলে বাবার মুখে কেক মাখিয়ে দিতে দেখা যায়। সেই অনুষ্ঠানে বলি অভিনেতা ভিকি কৌশল, রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজা এবং প্রযোজক রিতেশ সিদ্ধাওয়ানিও আমিরকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হয়েছিলেন।উল্লেখ্য, মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান এখন তার বড় ছেলে জুনায়েদ খানের প্রথম সিনেমা ‘একদিন’ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আগামী ১ মে মুক্তি পেতে যাওয়া এ সিনেমায় জুনায়েদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাঁই পল্লবী। এর পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবে ‘লাহোর ১৯৪৭’ সিনেমার কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন অভিনেতা। সানি দেওল অভিনীত এ সিনেমাটি আগামী ১৩ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তিনি অভিনয় দক্ষতা দিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে তার পারফরম্যান্স নিয়ে কম কটাক্ষ সইতে হয়নি।১৫ মার্চ ছিল এই অভিনেত্রীর ৩৩তম জন্মদিন। ৩৩ বছর বয়সে এসে এই নায়িকার সম্পত্তির পরিমাণ আকাশছোঁয়া, যা অনেক সিনিয়র অভিনেত্রীকেও টেক্কা দিচ্ছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আলিয়া ভাটের বর্তমান মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫৫০ কোটি টাকারও বেশি। আয়ের দিক থেকে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, কারিনা কাপুর ও জুহি চাওলার মতো প্রথম সারির তারকাদেরও।সফল এই অভিনেত্রী প্রতিটি সিনেমার জন্য বর্তমানে ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। পাশাপাশি ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বা বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য তার পারিশ্রমিক প্রায় ২ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক একাধিক ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করছেন তিনি।মুম্বাইয়ের পালি হিলসে রণবীর কাপুরের সঙ্গে যৌথভাবে আলিয়ার রয়েছে ৩৫ কোটি টাকার বাড়ি 'বাস্তু'। এছাড়া পুণেতে ১৩ কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও লন্ডনেও তার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। দম্পতির সংগ্রহে আছে ল্যান্ড রোভার, অডি আর৮ এবং মার্সিডিজ বেঞ্জের মতো নামী ব্র্যান্ডের দামি সব গাড়ি।
बस.. तुम से मिलने की देर थी,बस.. तुम से मिलने की देर थी।सितारे सितारे,मिले हैं सितारे।तभी तो हुए हैं,नज़ारे तुम्हारे।सितारे सितारे,मिले हैं सितारे।तभी तो हुए हैं,नज़ारे तुम्हारे।बस.. तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी।बस.. तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी।जिस पे रखे तुमने क़दम,अब से मेरा भी रास्ता है।जैसे मेरा तुम से कोई,पिछले जनम का वास्ता है।जिस पे रखे तुमने क़दम,अब से मेरा भी रास्ता है।जैसे मेरा तुम से कोई,पिछले जनम का वास्ता है।अधूरे अधूरे,थे वो दिन हमारे।तुम्हारे बिना जो,गुज़ारे थे सारे।सितारे सितारे,मिले हैं सितारे।तभी तो हुए हैं,नज़ारे तुम्हारे।बस.. तुम से मिलने की देर थी,बस.. तुम से मिलने की देर थी।बस.. तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी। English Version.......................................................................................................................................................................Bas.. Tum Se Milne Ki Der ThiBas.. Tum Se Milne Ki Der ThiSitaare SitaareMile Hain SitaareTabhi Toh Huye HainNazaare TumhareSitaare SitaareMile Hain SitaareTabhi Toh Huye HainNazaare TumhareBas.. Tum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der Thi..Bas.. Tum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der Thi..Jis Pe Rakhe Tum Ne QadamAb Se Mera Bhi Raasta HaiJaise Mera Tum Se KoiPichhle Janam Ka Vaasta HaiJis Pe Rakhe Tum Ne QadamAb Se Mera Bhi Raasta HaiJaise Mera Tum Se KoiPichhle Janam Ka Vaasta HaiAdhoore AdhooreThhe Vo Din HumareTumhare Bina JoGuzaare Thhe Saare..Sitaare SitaareMile Hain SitaareTabhi Toh Huye HainNazaare TumhareBas Tum Se Milne Ki Der ThiBas Tum Se Milne Ki Der ThiBas Tum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der Thi..
Song : Amra ShobaiWeb Series : Montu Pilot season 3Singer : Ishan Mitra (Male version)Composition : Amit ChatterjeeLyricist : Debaloy BhattacharyaProgramming : Shubhro BhattacharyaLabel : SVF Music.................................................................................................................................................................আমরা সবাই সবাই শুধু হেরে যাইশুধু কিছু রঙ ছড়াই,স্মৃতির শহর শহর মাটি আর খড়আহত নগর তোকে চায়।হারায় হারায় সব এমনি হারায়স্বপ্নে দাঁড়ায় চেনা মুখ,এ তুমি আজ আজ বৃষ্টির সাজসেজেছ হারাবার মতই ..ভেসে যায়, ভেসে যায় সীমানা ছাড়ায়যারা ভালবেসেছিল বন্দর,যদি সে আবার আবার, শুধু একবারফিরে তাকাবার মতই।প্রান্তরে প্রান্তরে কেউ কোনও অন্তরেকেটেছে নিজের হাতে শেষ পরিখা,আমরা সবাই সবাই গল্প সাজাইঅল্প বাঁচার প্রয়োজন,এ তুমি কার কার চেয়েছ আবারদু’হাতে তোমার আয়োজন।হারায় হারায় সব এমনি হারায়স্বপ্নে দাঁড়ায় চেনা মুখ,এ তুমি আজ আজ বৃষ্টির সাজসেজেছ হারাবার মতই ..আমরা সবাই সবাই শুধু হেরে যাইশুধু কিছু রঙ ছড়াই,স্মৃতির শহর শহর মাটি আর খড়আহত নগর তোকে চায়।
Song : Raat Kototuku DewalerWeb Series : Montu Pilot season 3Singer : Ishan MitraComposition : Amit ChatterjeeLyricist : Debaloy BhattacharyaProgramming : Atanu MitraLabel : SVF Music.......................................................................................................................................................................রাত কতটুকু দেওয়ালেরতার আশা ছিল খেয়ালে,কার তাতে কী এসে যায়, হারালে।ক্ষত যা ছিল গোলাপেরবাকি যা কিছু প্রলাপের,কার তাতে কী ক্ষতি হয়, ফুরোলে।এই চলে যাওয়া আলেয়ার মত মৃত নদীখাতেবিষাদ বাগান জুড়ে আগুন ছড়ায় নিজে হাতে,যত পায়রা মরেছে রোজ পুড়ে যাওয়া পালকের শোকেতাদের মৃত ছায়া আকাশে প্রচার করে তোকে।রাত কতটুকু দেওয়ালেরতার আশা ছিল খেয়ালে,কার তাতে কী এসে যায়, হারালে।ক্ষত যা ছিল গোলাপেরবাকি যা কিছু প্রলাপের,কার তাতে কী ক্ষতি হয়, ফুরোলে।আমরা ফিরব এই মৃত শহরে ভুল বিশ্বাসেখুঁজে গেছি কাকে বলে নিশ্বাস আমাদেরই লাশে,আমরা শিখেছি এক আলপথে হাত ধরে থাকাআমরা থেকেছি এক গলিপথ ভালবেসে একা।রাত কতটুকু দেওয়ালেরতার আশা ছিল খেয়ালে,কার তাতে কী এসে যায়, হারালে।
১.কি করে একটি কাচা ডিমকে না ভেংগে কংক্রিটের ফ্লোরে ফেলতে পারবেন?উত্তরঃ আপনি যে ভাবে ইচ্ছে ফেলতে পারেনlll, কেননা ডিম যেভাবেই পরুক কংক্রিটের ফ্লোর কখনো ভাংবে না।২.শুইতে গেলে দিতে হয়lll, না দিলে ক্ষতি হয়,কালিদাস পন্ডিত কয়lll, যাহা বুঝেছ, তাহা নয়।উত্তরঃ দরজার খিল৩.শহর থেকে এল সাহেবlll কোর্ট প্যান্ট পরে,কোর্ট প্যান্ট খোলার পরেlll চোখ জ্বালা করে।উত্তরঃ পেঁয়াজ৪.১০ জন মানুষ ১০ ঘন্টায় ইট দিয়ে একটি দেয়াল তৈরি করল, ঐ দেয়ালটি চার জন মানুষের তৈরি করতে কত সময় লাগবে?উত্তরঃ কোন সময়ই লাগবে নাlllকারণ দেয়ালটি অলরেডি তৈরি আছে।৫.বাংলা ধাঁধা উত্তর সহএকটা ঘড়ির উপর দিয়ে একটাঘোড়া চলে গেল, lllঘড়িটার কটা বাজবে।উত্তরঃ বারোটা।৬.পোলা কালে বস্ত্রধারীlll যৌবনে উলঙ্গ,বৃদ্বকালে জটাধারী,lll মাঝখানে সুড়ঙ্গ।উত্তরঃ বাঁশ৭.বাঘের মত লাফ দেয়,lll কুকুর হয়ে বসে,পানির মধ্যে ছেড়ে দিলেlll, ছোলা হয়ে ভাসে।উত্তরঃ ব্যাঙ৮.তোর দেশেতে সূর্য ওঠে সকাল বেলা ভোর বেলাতে বলতো দেহি কোন দেশেতে সূর্য ওঠে মাঝ রাতেতে।উত্তরঃ নরওয়ে।৯.কালিদাস পন্ডিতের ফাঁকি, আড়াইশ থেকে পাঁচ পঞ্চাশ গেলে আর কত থাকে বাকী।উত্তরঃ কিছুই না, শূন্য।
1️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা কাটলে সবাই খুশি হয়?উত্তর: কেক 🎂2️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা যতই ধোও ততই কালো হয়?উত্তর: ব্ল্যাকবোর্ড 🧑🏫3️⃣ ধাঁধা:একটা গাছ আছে, কিন্তু ফল নেই, ফুল নেই, তবু সবাই বসে থাকে। সেটা কী?উত্তর: চেয়ার (কারণ চেয়ারেরও “পা” থাকে) 🪑4️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা নিজের জায়গা থেকে না নড়েও সারা পৃথিবী ঘুরে আসে?উত্তর: ডাকটিকিট ✉️5️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা ভাঙলে শব্দ হয় না?উত্তর: প্রতিজ্ঞা / প্রতিশ্রুতি 🤫6️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা সকালে ৪ পা, দুপুরে ২ পা, আর রাতে ৩ পা?উত্তর: মানুষ (শিশু অবস্থায় হামাগুড়ি, বড় হলে হাঁটে, বুড়ো হলে লাঠি নেয়) 👴
১. দুই হাত আছে তার/ আরো আছে মুখ/ পা ছাড়াও জিনিসটার মনে বড় সুখ। বলো তো জিনিসটা কী?উত্তর : ঘড়ি।২. জিনিসটার এমন কী গুণ/ টাকা করে দেয় দ্বিগুণউত্তর : আয়নার সামনে টাকা ধরুন।৩. মানুষের পাঁচ আঙুল থেকেও নেই প্রাণ/ বল তো জিনিসটার কী নাম?উত্তর : দস্তানা।৪. ব্যবহারের আগে ভাঙতে হবে/ জিনিসটার উত্তর কে ক’বে?উত্তর : ডিম।৫. ঘাড় আছে, মাথা নেই/ ভেতরেরটা পেয়ে গেলেই ফেলে দিই? বলো তো কী?উত্তর : বোতল।৬. তোমাকে শুকিয়ে নিজে সে ভিজে/ উত্তরটা বলো দেখি/ চেষ্টা করে নিজেউত্তর : টাওয়েল বা গামছা।৭. বেড়ে যদি যায় একবার/ কোনোভাবেই কমে না আর?উত্তর : মানুষের বয়স।৮. জিনিসটা একেবারেই তোমার/ অথচ ব্যবহার করে অন্যে, বারবার?উত্তর : তোমার নাম।৯. সবাই তোমাকে ছেড়ে গেলেও সে যাবে না ছেড়ে/ চেষ্টা করে বলো দেখি, উত্তর কে পারে?উত্তর : তোমার ছায়া।১০. হাজার বছরের পুরোনো হয়েও বয়স তার এক মাস/ আমাদের মাথার ওপরই জিনিসটার বাস?উত্তর : চাঁদ।
স্বামী: জজ সাহেব, আমি আমার স্ত্রীর কাছে ডিভোর্স চাই, সে থালা-বাসন ছুড়ে মারে।জজ: সবে বাসন ছুড়ে মারতে শুরু করেছেন নাকি আগেও মারতেন।স্বামী: আগে থেকেই।বিচারক: তাহলে এত বছর পর ডিভোর্স কেন?স্বামী: কারণ এখন তার নিশানা একদম ঠিক জায়গায় লাগছে।
জলিল: ডাক্তার সাহেব, আমার সব কিছু ভুলে যাওয়ার রোগ হয়েছে।ডাক্তার: কবে থেকে এই সমস্যা হচ্ছে?জলিল: কোন সমস্যা?
প্রেমিকা: তুমি কি আমাকে ভালোবাস?প্রেমিক: একশ বার!প্রেমিকা: কিন্তু আমাকে তো পরোয়াই কর না তুমি!প্রেমিক: যে সত্যিকারের প্রেমে পড়ে সে কারো পরোয়া করে না।
মানুষের মুখে সাধারণত থাকে ৩২টি দাঁত। তাঁর মুখে রয়েছে ৪২টি দাঁত। একজন স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে তাঁর দাঁত ১০টি বেশি। এই অতিরিক্ত দাঁত নিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছেন মালয়েশিয়ার এক নাগরিক।৩৩ বছর বয়সী প্রাথাব মুনিয়ান্ডি রেকর্ড সংরক্ষণকারী এই সংস্থাকে জানান, কয়েক বছর আগে তিনি প্রথম বুঝতে পারেন, তাঁর দাঁতে কিছুটা অস্বাভাবিকতা রয়েছে।প্রাথাব বলেন, ‘২০২১ সালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চা পানের সময় আমি প্রথম বিষয়টি খেয়াল করি। তখন আমি তাঁদের জানাই, আমার মুখে মনে হয় অতিরিক্ত দাঁত গজাচ্ছে।’প্রাথাব বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে গুনে দেখি, তখন আমার ৩৮টি দাঁত ছিল। পরে দাঁতের এক্স-রে করে দেখা যায়, আরও ৪টি দাঁত ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে।’মালয়েশিয়ার এই নাগরিক বলেন, ‘২০২৩ সালের শুরুর দিকে আমি বুঝতে পারি, আমার মোট ৪২টি দাঁত। সৌভাগ্যবশত কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা ছাড়াই বেশির ভাগ দাঁত সোজাভাবে উঠেছে।’প্রাথাব জানান, অতিরিক্ত এই দাঁতগুলোর কারণে তাঁর কোনো সমস্যা হয় না। এমনকি তিনি নিজে থেকে না বললে বেশির ভাগ মানুষ টেরই পান না।প্রাথাব বলেন, ‘মানুষ সাধারণত খুব অবাক হয়। শুরুতে যে কারও পক্ষে বিষয়টি বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন কেউ জানতে পারে, আমার সাধারণ মানুষের তুলনায় ১০টি দাঁত বেশি আছে। সাধারণত একজন মানুষের ৩২টি দাঁত থাকে।’প্রাথাব বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদনের জন্য যে চিকিৎসকেরা তাঁর দাঁত পরীক্ষা করেছিলেন, তাঁরা আরও চমকপ্রদ খবর দিয়েছেন। তাঁর মাড়িতে নাকি আরও দুটি দাঁত ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে! একজন পুরুষের মুখে সবচেয়ে বেশি দাঁত থাকার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্ব রেকর্ডের খেতাব পেয়েছেন প্রাথাব।নারীদের মধ্যে এই রেকর্ডের অধিকারী ভারতের কল্পনা বালান। তাঁর দাঁতের সংখ্যা ৩৮।প্রাথাব বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি দাঁত থাকায় আমি একটি বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী, এটি ভাবতেই আমার কাছে দারুণ ও বিশেষ কিছু মনে হচ্ছে।’
একের পর এক পুরুষদের কাঁধে তুলে ছুড়ে ফেলছেন এক নারী। এভাবে একে একে তিনি ১০ জন পুরুষকে কাঁধের ওপর তুলে ছুড়ে ফেলেন, এ জন্য সময় নিয়েছেন মাত্র ৩৭ দশমিক ৪৪ সেকেন্ড।ওই নারীর নাম জিনা রুপেনটাল। তিনি জার্মানির একজন স্ট্রংওম্যান, অভিজাত অ্যাথলেট ও খেলাধুলাবিষয়ক বিজ্ঞানী। প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী নারীদের তালিকায় বর্তমানে জিনার অবস্থান চতুর্থ। তিনি একাধিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মালিক।আরও একটি রেকর্ড গড়তে জিনার পুরুষদের কাঁধের ওপর তুলে ছুড়ে মারার এই কাণ্ড এবং সে স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে জিনা এ কাজ করেন।সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ তাদের আনুষ্ঠানিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জিনার নতুন রেকর্ড গড়ার ভিডিও পোস্ট করেছে।একজন অ্যাথলেটের অসাধারণ শক্তি, গতি ও কৌশল প্রদর্শনের ওই ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়।এই চ্যালেঞ্জে জিনা অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পুরুষকে আলাদাভাবে তুলে তাঁর কাঁধের ওপর দিয়ে দ্রুত ছুড়ে দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি কাজটি সম্পন্ন করেছেন।গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তা বলেছেন, এ কাজ করতে কেবল শারীরিক শক্তিই নয়, বরং নিখুঁত সমন্বয় ও সহনশীলতার প্রয়োজন পড়ে। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে নিরাপদে তুলে নিয়ন্ত্রিত গতিতে ছুড়ে দিতে হয়েছে, যেন তা নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে পারে।এ কৃতিত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। কেউ কেউ মজার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।কেউ কেউ অ্যাথলেটের শক্তি ও দৃঢ় সংকল্পকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অনেকেই পারফরম্যান্সটিকে অনুপ্রেরণাদায়ক ও বিনোদনমূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।একজন মন্তব্য করেছেন, ‘পুরুষেরা তাঁদের কাজকে কতটা গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন, সেটা দেখে আমি মুগ্ধ।’আরেকজন লিখেছেন, ‘তাঁদের হাসি এবং তারপর আরও একবার ছুড়ে দেওয়ার জন্য তাঁদের দৌড়ে ফিরে আসা, এত মিষ্টি।’তৃতীয়জন লেখেন, ‘ছুড়ে দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানোর ধারণা আমার কাছে খুবই মজার লেগেছে।’
পৃথিবীর স্থলভাগের থেকেও অনেক অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ জলভাগ। জলের ওপরে যেমন হাজার হাজার সুউচ্চ পর্বত রয়েছে, তেমনি জলের নিচে রয়েছে গভীর সমুদ্র খাত। এরমধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর হচ্ছে এই মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ঠিক পূর্বে অবস্থিত।মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের নামকরণ করা হয়েছিল স্পেনের রাজা চতুর্থ ফিলিপের রানি মারিয়ানা এর নামে। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে অবস্থিত এই দ্বীপগুলো আসলে ডুবে থাকা ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির চূড়া। দ্বীপপুঞ্জের পূর্বদিকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে বিস্তৃত রয়েছে বিশ্বের গভীরতম সামুদ্রিক খাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (Mariana Trench)। প্রায় ২৫৫০ কিলোমিটার লম্বা এবং ৬৯ কিলোমিটার চওড়া এই ভয়ংকর গভীর খাতের নামও দ্বীপপুঞ্জের নাম অনুসারেই দেওয়া হয়। এর সবচেয়ে গভীর স্থানের নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ, যেখানে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী গভীরতা প্রায় ১০,৯৮৪ মিটার। তুলনায় বলা হয়, যদি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest) কে এখানে বসানো হয়, তাহলেও উপরে আরও প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা ফাঁকা থেকে যাবে। অর্থাৎ পৃথিবীর উচ্চতম শিখরও বিশ্বের গভীরতম খাতের গভীরতাকে পূরণ করতে পারে না।মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে তাপমাত্রা থাকে মাত্র ১ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, আর জলস্তম্ভের চাপ স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের প্রায় হাজার গুণ, প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে যার পরিমাণ প্রায় ৮ টন। গভীরতার সঙ্গে সঙ্গে এই চাপ আরও বাড়তে থাকে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে দুইটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে যখন একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যায়, তখনই সৃষ্টি হয় এমন গভীর সামুদ্রিক খাত।মারিয়া ট্রেঞ্চ এর গভীরতম অংশটির নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ। যেটি গুয়াম দ্বীপের ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। চ্যালেঞ্জার ডিপ নামটি রাখা হয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ HMS Challenger এর নামানুসারে কেননা এই জাহাজের নাবিকরা এই অংশটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেছিলেন।পৃথিবীর শীতলতম বিপজ্জনক স্থান এটি। সমুদ্রের গভীরতা যত বাড়তে থাকে পানির চাপ তত বাড়তে থাকে। ৩৬ হাজার ফুট গভীরে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে এর চাপের পরিমাণ প্রায় ৮ টন। পানির এই অতিমানবিক চাপ ইস্পাতকেও বেকিয়ে দিতে পারে অনায়াসে।১৮৭৫ সালে ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ HMS Challenger প্রথম মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা পরিমাপ করে। এরপর বহুবার এই অঞ্চল নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে গভীরতার পরিমাণও কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। যদিও অসংখ্য অভিযাত্রী পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর বিন্দুতে পৌঁছাতে পেরেছেন খুবই অল্প কয়েকজন।১৯৬০ সালে সুইস ও ইতালীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ব্যাথিস্কেপ Trieste এ চড়ে দুই অভিযাত্রী Jacques Piccard ও Don Walsh সফলভাবে নেমে যান মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরে। পাঁচ ঘণ্টার অবতরণের পর তারা প্রায় ১০,৯১৬ মিটার নিচে পৌঁছান এবং মাত্র কুড়ি মিনিট সেখানে অবস্থান করতে পারেন। চারদিকে ঘন সিল্টের মেঘের মতো কাদামাটি ও বালির স্তর থাকায় তারা কোনও ছবি তুলতে পারেননি। এই সিল্ট ক্লাউড আসলে আকাশের মেঘ নয়; এটি সমুদ্রতলে জমে থাকা বালি, কাদা ও ক্ষুদ্র উপকরণের ঘন স্তর, যা পানির প্রবাহে নড়াচড়া করে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি করে।গভীর অন্ধকার, প্রচণ্ড চাপ আর সিল্টের মেঘের কারণে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব বোঝা খুবই কঠিন। পিকার্ড দাবি করেছিলেন তিনি নাকি একটি ফ্ল্যাটফিশ দেখেছিলেন, তবে অধিকাংশ বিজ্ঞানী তা মানতে পারেননি। ফলে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশের জীবজগত এখনো মানুষের কাছে রহস্যময়ই রয়ে গেছে।
‘নিউটনের ভুল সূত্র’ গল্পের অমর বাবু চরিত্রটির কথা হয়তো অনেকেরই মনে আছে। হুমায়ূন আহমেদের এক অনবদ্য সৃষ্টি, যিনি সায়েন্সের প্রতি তীব্র মমত্ববোধ থেকে পরিবারের সান্নিধ্যও ছেড়ে দিয়েছিলেন। একসময় দেখা যেত পরিবারের ছেলে–মেয়েদের কেউ একজন পড়াশোনায় মনোযোগী হলেই অভিভাবকেরা ওই সন্তানকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ানোর জন্য খুব উৎসাহী হতেন। কিন্তু বর্তমান অবস্থা ভিন্ন। শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান না হওয়া, কারিগরি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা, ব্যবহারিক–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় হাতে–কলমে শিক্ষার দৈন্যদশা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের সুযোগ সেভাবে সৃষ্টি না হওয়া, ভালো ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা প্রভৃতি কারণে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।ব্যানবেইসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর হার ৪২ দশমিক ৮১ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিকে ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৫ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর হার ২৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিকে ১৭ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ পরিসংখ্যানে এটি স্পষ্ট যে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আরও জানা যায়, বিজ্ঞানাগার নেই প্রায় ২৯ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাধ্যমিকে প্রায় ২২ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিকে ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছে।ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় স্নাতক পর্যায়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ১১ শতাংশের মতো। এখানে উল্লেখ্য যে, মাধ্যমিকের তুলনায় উচ্চমাধ্যমিকে সিলেবাস ব্যাপক। অনেক শিক্ষার্থীই এ বিপুল সিলেবাসের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে ঝরে পড়ে.প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: ৪০০ নম্বরে বিভাজন ও প্রশ্নপত্রের কাঠামো যেভাবেএশিয়া মহাদেশের অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী দেশ সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশে বিজ্ঞান শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য আমাদের ইংরেজি শিক্ষাকেও সহজলভ্য করা উচিত। প্রতিটি স্কুল–কলেজে সপ্তাহে অন্তত এক দিন গ্রুপ করে শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ প্র্যাকটিস ক্লাস নেওয়া যেতে পারে। একই কথা আইসিটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অনেক কলেজে আইসিটি ল্যাব থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় না। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সব বিষয়ের শিক্ষকদের জন্যও আইসিটি জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করানো এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অভিভাবকেরাও এ দায় এড়াতে পারেন না। অনেক অভিভাবক সন্তানদের প্রতি সঠিকভাবে নজর না রাখার ফলে তারা মুঠোফোনের বিভিন্ন ক্ষতিকর অ্যাপের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হচ্ছে, মাদক গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তাভাবনা ছেড়ে দিচ্ছে। শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের করার জন্য দক্ষ শিক্ষকের অভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশে শিক্ষকদের উন্নত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের পথ সুগম নয়।ইউজিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ৬ হাজার ৪০০ শিক্ষক পিএইচডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও গবেষণার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি এখন একটি অপরিহার্য যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক। যাহোক, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী করার জন্য ভালো ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা একটি বড় বিষয়। স্কুল–কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীদের কর্মচঞ্চলতা, শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রাত্যহিক সমাবেশ অর্থাৎ পিটি বাধ্যতামূলক করা উচিত। স্কুলগুলোয় মোটামুটিভাবে পিটি হলেও কলেজগুলোয় হয় না বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে কলেজগুলোয়ও কর্মঘণ্টার মধ্যে পিটি সংযুক্ত করা আবশ্যক।শিক্ষার মানোন্নয়নে একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকে কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া উচিত। প্রাথমিক স্তরের শিশুদের প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের পাঠ্যসূচি পর্যাপ্ত থাকলেও শিশুদের হাতে–কলমে শেখানো হলে তারা উৎসাহী হতো, ক্লাস অনুযায়ী ছোট ছোট বিজ্ঞান প্রজেক্ট দেওয়া হলে তাদের মেধা আরও শাণিত হতো। শিশুরা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ খুশিমনে গ্রহণ করতে চায়। মাধ্যমিক স্তরের অনেক স্কুলেই নামমাত্র ল্যাবরেটরি আছে! যন্ত্রাংশ ব্যবহার না করতে করতে মরিচা ধরেছে, শিক্ষার্থীরা লিটমাস টেস্ট কী, তাই বুঝে না! কলেজ পর্যায়েও একই অবস্থা।শহরাঞ্চলের নামকরা কলেজের শিক্ষার্থীরা হয়তো ল্যাবের সুবিধা পেয়ে থাকে, কিন্তু মফস্সল অঞ্চলগুলোয় বা উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোয় ব্যবহারিক হাতে–কলমে করা হয় না বললেই চলে। অনেক কলেজে সল্ট অ্যানালাইসিস কখনো হয়েছে কি না সন্দেহ! পরীক্ষার সময়গুলোয় কোনো প্রকার ব্যবহারিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা ছাড়াই প্রায় পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। আসলে মুখস্থবিদ্যানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেই প্রথমে নজর দেওয়া উচিত। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের গবেষণায় যথাযথ প্রণোদনা, শিক্ষাছুটি ঝামেলাহীন করা ও আর্থিক অনুদান নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া স্কুল পর্যায়ের শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে—ব্যবহারিক–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় হাতে–কলমে পরীক্ষা করার সুযোগ সৃষ্টি করা, গণিত ও আইসিটির মতো বিষয়গুলোর মানোন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, বিজ্ঞানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজেক্টের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন। এ ক্ষেত্রে পুরস্কার হিসেবে বিজ্ঞানবিষয়ক জাদুঘর, গবেষণাকেন্দ্রে ভ্রমণের ব্যবস্থাসহ দেশ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিগুলোয় বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন অনুসন্ধানী বই, শিক্ষণীয় গল্প, বিভিন্ন বিজ্ঞানী–সম্পর্কিত বই ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিবিষয়ক বই অন্তর্ভুক্ত করা। এতে আমাদের অনেক শিক্ষার্থীরই হয়তো রবার্ট লুইস স্টিভেনসনের ‘ড. জেকিল অ্যান্ড মি. হাইড’ পড়ে আবিষ্কারের দিকে ঝোঁক সৃষ্টি হতে পারে বা এইচ জি ওয়েলসের ‘টাইম মেশিন’ পড়ে জগৎ সম্পর্কে ধারণা পরিশীলিত হতে পারে। এ ছাড়াপরিশেষে বলা যায়, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ ঘটানোর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানার্জনের জন্য আত্মসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী হবে। নৈতিক শিক্ষার জন্য ধর্মীয় জ্ঞানমূলক বই অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠন করা নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির’ জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগের আবেদন আহ্বান করেছে সরকার। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার, সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং সারা দেশে আধুনিক শরিয়াহ-সম্মত ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যাংকটি একজন দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব খুঁজছে। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি এই এমডি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত এমডি/সিইও ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির রূপান্তর ও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেবেন।তিনি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন। পাশাপাশি করপোরেট, এসএমই, রিটেইল, ট্রেজারি, কৃষি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ডিজিটাল ব্যাংকিংসহ সব কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন। একই সঙ্গে শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড ও শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স জোরদার করা, নতুন ইসলামী ব্যাংকিং পণ্য চালু করা এবং কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়াও তার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে। পদের জন্য প্রার্থীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, ব্যাংকিং, ম্যানেজমেন্ট বা বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে ন্যূনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং কোনো ব্যাংকের সিইও অথবা সিইও’র ঠিক নিচের পদে অন্তত দুই বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত সনদ যেমন সিএফএ, এফসিএ, সিএমএ, সিপিএ, এসিসিএ বা ইসলামী ফাইন্যান্স-সংক্রান্ত সনদধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগ্রহীদের আগামী ২৫ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদন করতে হবে। প্রার্থীর বয়স বিজ্ঞপ্তির তারিখ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৪৫ এবং সর্বোচ্চ ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।নির্বাচিত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে, যা কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য। আগ্রহী প্রার্থীদের বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত, কভার লেটার, শিক্ষাগত ও পেশাগত সনদের সত্যায়িত কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং পাসপোর্ট সাইজের সাম্প্রতিক রঙিন ছবি সংযুক্ত করে আবেদন পাঠাতে হবে। আবেদন পাঠানোর ঠিকানা- সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, কক্ষ নং ৩২৬, ভবন নং ৭, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। একই সঙ্গে আবেদনপত্রের পিডিএফ কপি ই-মেইল (ds.cbb@fid.gov.bd) করতে হবে।
"আস-সালামু আলাইকুম" আশা করি সকলেই ভালো আছেন।আজ আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি একটি সুন্দর ও কার্যকরী টাইম, ডেট এবং নামাজের সময়ের সিস্টেম, যা আপনার ওয়েবসাইটকে করবে আরও আকর্ষণীয় ও ব্যবহারবান্ধব।লাইভ টাইম ও ডেট – সবসময় আপডেট...এই সিস্টেমের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে রিয়েল-টাইমে বর্তমান সময় ও তারিখ দেখা যাবে। ব্যবহারকারীরা সহজেই জানতে পারবে বর্তমান সময় এবং দিন, যা তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য খুবই সহায়ক।বিশেষ সুবিধা...বাংলা ফরম্যাটে তারিখ ও সময়স্বয়ংক্রিয় আপডেটসুন্দর ডিজাইননামাজের সময় – প্রতিদিনের ইবাদতে সহায়ক...একজন মুসলিম হিসেবে নামাজের সময় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফিচারের মাধ্যমে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় সহজেই দেখা যাবে।এতে থাকছে....ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার সময়সহজ ও পরিষ্কার প্রদর্শনআপনি মাউস টাইমের উপরে রাখলে নামাজের সময় দেখাবে আবার মাউস সরালে আবার নরমাল সময় চলে আসবে।আকর্ষণীয় ডিজাইন...শুধু তথ্য নয়, এই সিস্টেমটি দেখতে খুবই সুন্দর। ক্লিন UI, আধুনিক ফন্ট এবং স্মার্ট লেআউট আপনার ওয়েবসাইটকে আরও প্রফেশনাল করে তুলবে।কেন এটি ব্যবহার করবেন?✔ আপনার ওয়েবসাইটকে আরও ইনফরমেটিভ করে✔ ভিজিটরদের জন্য উপকারী ফিচার✔ ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ✔ সম্পূর্ণ ফ্রি এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য..চলেন এইটা কিবাবে আপনার সাইটে বসাবেন।যদি তোমার Php সাইট থাকে...ধাপ ১: CPanel-এ লগইন করুনআপনার হোস্টিং প্রোভাইডারের CPanel-এ লগইন করুন।Dashboard-এ যান।ধাপ ২: File Manager এ যানFile Manager অপশন ক্লিক করুন।আপনার ওয়েবসাইটের public_html ফোল্ডারে প্রবেশ করুন।যদি এটি একটি সাবডোমেইন বা সাবফোল্ডারে থাকে, সেখানেও যেতে হবে।ধাপ 3: Header.php ফাইলে যাও তার পর কোড বসানোর স্থান খুঁজো। পরে যেখানে তুমি সময় দেখাতে চাও সেখানে কোড বসাও এবং Save দাও।আর যদি তোমার ওয়ার্ডপ্রেস থাক...ধাপ ১: Appearance → Theme Editor → header.phpheader.php ফাইল ওপেন করো।এখন যেখানে তুমি সময় দেখাতে চাও সেখানে কোড Paste করে Save করে দাও।Demo......Download Link....কোড ১ Download Link