BDBOYS...
BDBOYS...
গল্পঃ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকেলেখিকাঃ সালমা চৌধুরী.................................................................................................................................................................মাহমুদা খানের ধমক খেয়ে মেঘ কেঁপে ওঠে, ভয়ে সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দিয়েছে৷ মেঘ ভয় পেলেও আবিরের মনে কিঞ্চিৎ ভয় বলতে নেই। ফুপ্পির ঝা*ড়ি খেয়েও আবির কল দিয়েই যাচ্ছে। মেঘ ফোন সাইলেন্ট করে রেখেছে ঠিকই কিন্তু আবিরের অনাবশ্যক কলে বুকের ভেতরটা অবিচ্ছিন্নভাবে কম্পিত হচ্ছে। বাহির থেকে আলোকসজ্জার ঝলমলে আলো রুমে প্রবৃত্ত হচ্ছে। মেঘ ঘাড় ঘুরিয়ে বন্যার দিকে একপলক তাকালো, বন্যা গভীর ঘুমে নিমগ্ন পরপর তাকালো ফুপ্পির দিকে, ফুপ্পির ভারী নিঃশ্বাসের শব্দে বুঝা যাচ্ছে ওনিও ঘুমে। মেঘ বুকের উপর ফোন চেপে অতি সন্তর্পণে বন্যার পাশ দিয়ে নেমে উদগ্রীব পায়ে বারান্দায় গিয়ে কল রিসিভ করল। আবির তৎক্ষনাৎ অনচ্ছ কন্ঠে শুধালো,” তোর কি আমার জন্য একটু মায়াও হয় না?”আবিরের কথা শুনে মেঘ বিহ্বল, ভড়কে গেছে কিছুটা। কপাল কুঁচকে ভারী স্বরে বলল,” আমি কি করলাম!”” সন্ধ্যা থেকে কেউ আমাকে একটা কল পর্যন্ত দিল না। কেউ না দিলেও তুই তো একটা কল দিতে পারতি নাকি?”” আমি তো আপনার কলের অপেক্ষায় ছিলাম। অপেক্ষা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে পরেছি বুঝতেই পারি নি।”“বাহ! কি দায়িত্বশীল বউ আমার। ”মেঘ সহসা ঠোঁট বাঁকালো, সদাজাগ্রত চোখে আলোকসজ্জার লাল, নীল আলোর পানে তাকিয়ে মোলায়েম কন্ঠে শুধালো,” বাসায় কখন আসছেন? খেয়েছেন?”“কিছুক্ষণ আগে। আমার শ্বশুর বিয়েতে যে পরিমাণ জামাই আদর করেছে রাতে আর কিছু খেতে হবে না।”“কোথায় গিয়েছিলেন?”“এখন বলবো না। ”“আচ্ছা, ঘুমান তাহলে। ”“শুন”“জ্বি”“চল ছাদে যাই।”“না।”“কেনো?”” আম্মুরা বলেছে বিয়ের রাতে বড় জামাইয়ের মুখ দেখতে নেই, এতে নাকি জামাইয়ের অমঙ্গল হয়।”” ঠিক আছে, দেখলাম না মুখ। একটু কথা তো বলতে পারি। ”“আব্বাজান নিষেধ করেছেন, দেখাসাক্ষাৎ ও করা যাবে না। ”আবির ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে রাগান্বিত কন্ঠে বলল,“কেউ আমাকে কিছু বলতে পারছে না তাই তোকে কুসংস্কার বুঝাচ্ছে আর তুইও বোকার মতো সেসব মানতেছিস।”মেঘ নিশ্চুপ, আবির দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করে আহ্লাদী কন্ঠে বলল,” চল না ছাদে।”মেঘ অত্যন্ত ধীর কন্ঠে বলল,” একটু বুঝার চেষ্টা করুন,আমি যেতে পারবো না। আপনি যেন রুমে না আসেন তারজন্য আব্বাজান ফুপ্পিকে আমার সাথে থাকতে বলেছেন। এখন আমি বের হলে খবরই আছে। আপনি ঘুমান, প্লিজ।”আবির ঢোক গিলে ভ্রু বাঁকিয়ে আবেগতাড়িত কন্ঠে বলল,“I miss you. I need you. Believe me, I badly want you, Sparrow.”আবিরের কন্ঠে আবেগপ্রবণ, অস্বাচ্ছন্দ্যকর কথাগুলো শুনে মেঘের গা শিউরে উঠছে। এ যাবৎ কালে আবিরকে এতটা ব্যাকুল হতে কখনো দেখেনি সে। মেঘ নিস্পৃহায় দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঠোঁট কামড়ে বিড়বিড় করল,“আমাকে তো খুব বলতেন সহিষ্ণু হতে হবে, ধৈর্যশীল হতে হবে তাহলে আজ আপনার এই অবস্থা কেনো?এত অধৈর্য হয়ে উঠেছেন কেনো আপনি?”” আর কত ধৈর্য ধরবো? এতদিন যাবৎ অফিসিয়াল বিয়ের অপেক্ষায় ছিলাম, করলাম তো অফিসিয়াল বিয়ে। আত্মীয় স্বজন, এলাকাবাসী সবাই জানলো তো। তাহলে এখন আমার বউ আমাকে দিচ্ছে না কেনো? মানলাম কাল অনুষ্ঠান শেষে বাসর হবে। কিন্তু দেখা তো করতে দিবে! কথা তো বলতে দিবে! আমাদের মাঝে কংক্রিটের দেয়াল সৃষ্টির কি দরকার ছিল? ”“জানি না। আমার ঘুম পাচ্ছে, ঘুমাবো। আপনিও ঘুমান।”“বুকের ভেতর আগুন জ্বললে ঘুমাবো কিভাবে?”মেঘ মুচকি হেসে বলল,” এক বোতল ঠান্ডা পানি খেয়ে ঘুমিয়ে পরেন ।”মেঘ কল কেটে রুমে চলে গেছে। আবির কপালে কয়েকস্তর ভাঁজ ফেলে বিড়বিড় করল,” এত কাহিনী করবে জানলে কমিউনিটি সেন্টার থেকেই পালাতাম৷ ”মেঘ ভোরবেলা উঠে আবারও ঘুমিয়েছে তাই সকালে ঘুম একটু দেরিতে ভেঙেছে। আশেপাশে বন্যা, ফুপ্পি কেউই নেই। আবিরের কথা মনে পড়তেই সঙ্গে সঙ্গে ফোন হাতে নিল। মেঘ আনমনেই নেট অন করে ফেসবুকে ঢুকলো। অকস্মাৎ আবিরের পোস্ট দেখে চমকে উঠল। গতকাল বিয়ের বেশকয়েকটা ছবি আবির রাতেই তার আইডি থেকে পোস্ট করে ক্যাপশন লিখেছে,প্রিয় সহধর্মিণী,আমার অলীক কল্পনার সঙ্গী তুমি, গোধূলি লগ্নে বাড়ি ফেরার একান্ত অভিপ্রায়। তুমি আমার স্নিগ্ধ সকালের সুললিত গন্ধরাজ, পড়ন্ত বিকেলের একগুচ্ছ বাগানবিলাস। আমার শূন্য হৃদয়ের পূর্ণতা তুমি, ব্যাকুল হৃদয়ের নির্জন নির্মলা। নীল দিগন্তের উড়ন্ত মেঘেরা জানে, কত স্বপ্ন উড়িয়েছি বেনামি খামে। তোমার মায়াবী মুখের পানে চেয়ে, ভুলেছি সব যাতনা আনমনে। তোমার ঠোঁটের ঐ স্নিগ্ধ হাসি দেখে, আমার হৃদয়ের অন্তরালে নিরবচ্ছিন্ন বিক্ষোভ চলে। তুমি আমার অবসন্ন মস্তিষ্কের প্রবলতা, নব্য স্বপ্ন দেখার অদম্য স্পৃহা। তোমাকে হাসাতে চেয়ে, বহুবার কেঁদেছি আড়ালে। তুমি আমার অপেক্ষার শেষ প্রহর, ১৬ বছরের প্রতীক্ষার অমূল্য পুরস্কার। তোমাকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় নি আমি, দিয়েছি আবিরের বউয়ের স্বীকৃতি। আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, ভালোবাসি আর আমৃত্যু ভালোবেসে যাব।ইতি,তোমার আকাঙ্ক্ষিত স্বামীমেঘ ক্যাপশন পড়ে ৫ মিনিটের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। ৫ মিনিট পর মনোযোগ দিয়ে ছবিগুলো দেখতে লাগল। গতকাল পার্লার থেকে সেজে যাওয়ার পর থেকে নিজেকে কেমন লাগছে সেটা দেখার সুযোগ ই পায় নি, বিয়ের ছবি পর্যন্ত দেখে নি তবে কয়েক ঘন্টায় আবিরের মুখ থেকে হাজারখানেক প্রশংসা সহ আবিরের দুর্বৃত্ত কথা শুনতে হয়েছে। সুযোগ পেলেই মেঘের কানের কাছে ফিসফিস করে নিজের অব্যক্ত অনুভূতি জাহির করেছে আর মেঘ শুধু আবিরের পাগলামিই দেখে গেছে। এমনকি কবুল বলার সময় আবিরের অস্থিরতা দেখে মেঘ নির্বাক ছিল, নিষ্পলক চোখে কেবল তাকিয়েই ছিল। মিনিমাম লাজলজ্জা বিসর্জন দিয়ে আবির উচ্চশব্দে বলছিল,“পৃথিবীর যা কিছুর বিনিময়েই হোক, আমি সবকিছু দিতে রাজি হয়েই মেঘকে বউ হিসেবে কবুল করলাম।আলহামদুলিল্লাহ কবুল, কবুল কবুল।”যেখানে একবার কবুল করলাম কিংবা আলহামদুলিল্লাহ কবুল বললেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায় সেখানে আবির বলেই যাচ্ছিলো। আবিরের কাণ্ড দেখে কাজী সাহেবও না হেসে পারলেন না। কাজীর মুখে হাসি দেখে আবির পরপর উদ্বিগ্ন কন্ঠে শুধালো,” আমাদের বিয়ে হয়েছে তো?”কাজী সাহেব উঠে যেতে যেতে বললেন,” আলহামদুলিল্লাহ, এতদিনে পরিপূর্ণ হয়েছে।”“আলহামদুলিল্লাহ। ”কাজী চলে যেতেই আবির মেঘের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলে উঠল,“এই ভরাট মজলিসে সবাইকে সাক্ষী রেখে আমি আবির তার মেঘকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছি। মেঘ কি আবিরকে স্বামী হিসেবে কবুল করছে?”মেঘ আবিরের ঝলমলে চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট চেপে হেসে মোলায়েম কন্ঠে জবাব দিয়েছিল,” কবুল করলাম, আলহামদুলিল্লাহ কবুল, কবুল কবুল।”আবিরের পাগলামি সেখানেই থামেনি। গতকাল বাসায় ফেরার সময় আবির হঠাৎ ই মেঘের কানে ফিসফিস করে বলছিল,” চিরদিনের জন্য শ্বশুর বাড়িতে চলে যাচ্ছিস এবার একটু কান্না কর। মানছি একই বাড়িতে যাচ্ছিস তাই বলে কাদঁবি না?”মেঘ ভেঙচি কেটে বলেছিল,“আপনার যদি এতই শখ থাকে তাহলে আপনি কান্না করেন।”প্রতিত্তোরে আবির বলেছিল,“তুই নববধূর মতো কান্নায় ভেঙে পড়বি, নতুন জামাইদের মতো আমি তোকে সান্ত্বনা দিব। এটা আমার জীবন থেকে মিস হয়ে গেল। এক কাজ করি, চল দুজন একসঙ্গে কান্না শুরু করি।”গতকাল আবিরের আজগুবি কথা শুনে মেঘ কপাল কুঁচকালেও আজ কথাগুলো মনে করে আনমনে হেসে ফেলল। পুনরায় ছবি দেখায় মনোযোগ দিল। নিজের পড়নের মেরুন রঙের বিয়ের বেনারসি, গা ভর্তি ভারী গহনা, মাথায় ঘোমটা সহ চোখধাঁধানো আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জা দেখে মেঘ নিজেই লজ্জায় পড়ে যাচ্ছে। সেই সাথে রাজোচিত শেরওয়ানিতে আবিরকে যেন রাজপুত্রের মতো লাগছে। গতকাল আবিরের অযাচিত দুষ্টামির জন্য সামনাসামনি ঠিকমতো দেখতেই পারে নি তবে আজ ছবিগুলো খুব ভালো করে দেখছে। আয়নায় দু’জনের মুখ দেখা, মেঘের কপালে আবিরের চুমু দেয়া, একে অপরের চোখে চোখ রেখে নিগূঢ় ঘোরে বন্দি থাকা, বরণের ছবি সহ আরও ২-৩ টা ছবি আপলোড করেছে। মেঘ সবগুলো ছবি দেখা শেষে কৌতূহল বশত কমেন্টস দেখতে গেল। আবিরের বন্ধু, ছোট ভাই, বড় ভাই, রাকিব, সাকিব, তানভির, মাইশা আপু সহ সবাই নিজেদের মতো অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি উস্কানিমূলক মন্তব্যও করেছে। কারো কারো মন্তব্য দেখে মেঘ বেশ বিস্মিত হচ্ছে। এরমধ্যে বন্যা আসছে। মেঘের লাজুক হাসি দেখে মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করল,“হাসছিস কেন? ভাইয়ার পোস্ট দেখে?”মেঘ কপাল কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,” তুই কিভাবে জানিস?”” শুধু আমি না বাড়ির সবাই এখন ভাইয়ার পোস্ট নিয়ে গবেষণা করছে, নিচে গেলেই বুঝতে পারবি।”মেঘ শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,” তুই খেয়েছিস?”“না। তোকে ডাকতেই আসছিলাম, তুই ফ্রেশ হয়ে আয় একসাথে খাব।”“আচ্ছা। ”বন্যা মীমের রুমে চলে গেছে। ইদানীং মেঘ ব্যস্ত থাকায় বন্যার মীম আর আইরিনের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছে। দু’জনেই তানভিরের কথা জানে তাই তানভিরের হাত থেকে বন্যাকে সবসময় প্রটেক্ট করে। ড্রয়িং রুমে সোফায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে আবির। রান্না ঘরে রান্নার আয়োজন চলছে, ইকবাল খান ছাদ থেকে নেমে আবিরকে এভাবে বসে থাকতে দেখে কিছুটা উদ্বিগ্ন কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,“কিরে আবির, এভাবে বসে আছিস কেন?”আবির চোখ খুলে কাকামনিকে একপলক দেখে পূর্বের অবস্থায় থেকে উত্তর দিল,” আমার মনটা খুব খারাপ। ”ইকবাল খান নেমে এসে আবিরের পাশে বসতে বসতে শুধালেন,” মন খারাপ কেনো? বিয়ে তো সবাই মেনেই নিয়েছে। তাহলে মন খারাপ কেনো থাকবে?”আবির তপ্ত স্বরে বলতে শুরু করল,” মন খারাপ থাকবে না কেন? মানুষ এলাকা ছেড়ে দু-এক বছর বাহিরে থাকলেই কথা,আচরণ, চলাফেরা সব বদলে যায় সেখানে ২০-৩০ বছর ঢাকা শহরে থেকে এখনও গ্রামের কি সব আজগুবি নিয়মনীতি পালন করছে। বিয়ের পর বউ আলাদা কেনো থাকবে? এতবছর অপেক্ষা করে, নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করে, আল্লাহ র কাছে চাইতে চাইতে মেঘকে পেয়েছি, কেউ কি জানে সেটা? কিছুদিন যাবৎ এই বাড়ির প্রতিটা মানুষ আমার ইমোশন নিয়ে প্রতিনিয়ত খেলতেছে তারপরও আমি চুপ করে আছি। আমি যদি ঘুনাক্ষরেও এসব টের পেতাম তাহলে মেঘকে নিয়ে আগেই পালিয়ে যেতাম। তোমরা যা করছো তা আমি কখনো ভুলবো না৷ আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”ইকবাল খান শীতল কন্ঠে বললেন,” এভাবে বলছিস কেনো, একেক এলাকার একেক রীতি। একটু আধটু মেনে নিতেই হবে।”আবির কিছু বলার আগেই পেছন থেকে আলী আহমদ খান গুরুগম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলেন,” তোমার নিন্দা জানানো শেষ হলে বাহিরে আসো, কাজ আছে।”আলী আহমদ খানের কন্ঠ শুনে আবির চমকে উঠে পেছনে তাকালো। আব্বুর রাগী রাগী চোখমুখ দেখে নিজের মুখ চেপে ধরল। আলী আহমদ খান কখন এসেছে আর ঠিক কতটুকু কথা শুনেছে এটা ভেবেই আঁতকে উঠছে আবির। ইকবাল খানের সাথে আবিরের ফ্রেন্ডলি সম্পর্ক হওয়ায় যা ইচ্ছে বলে দিতে পারে কিন্তু আব্বুর সামনে সে যথাসাধ্য ভদ্র থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু আজ এভাবে ধরা পড়ে যাবে সেটা কল্পনাও করতে পারে নি। আবির মাথা নিচু করে দাঁত দিয়ে জিভ কামড়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেছে। ইকবাল খান আলী আহমদ খানের মুখের পানে চেয়ে মলিন হাসলেন আলী আহমদ খানও নিঃশব্দে হেসে বেড়িয়ে গেছেন।কিছুক্ষণের মধ্যেই মেঘ নিচে নামলো। মেঘকে দেখেই রাকিব অকস্মাৎ বলে উঠল,“এইযে ভাবি, আমার বন্ধুর ১৬ বছরের অব্যক্ত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশে লেখা খোলা চিঠি পড়ে আপনার অনুভূতি কি?”মেঘ শাড়ির আঁচল টেনে মাথায় দিয়ে চিবুক নামিয়ে লাজুক হাসলো। রিয়া রাকিবকে উদ্দেশ্য করে বলল,” ভাইয়া সবেত প্রকাশ করেছে, মেঘকে অনুভব করার সময় দাও। বিয়ের ঘোরটা আগে কাটুক তারপর জিজ্ঞেস করো।”” ঠিক আছে জান। তুমি যা বলবে তাই হবে৷ ”রিয়া ঠোঁট বেঁকিয়ে রাগী স্বরে বলল,” হঠাৎ এত ভালোবাসা কোথা থেকে আসছে?”“রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের পানে তাকিয়ে কল্পনা করে আবির যেভাবে চিঠিটা লিখছিল সেটা দেখে আমারও খুব ইচ্ছে হয়েছিল তোমাকে নিয়ে একটা চিঠি লেখার। কিন্তু বিশ্বাস করো‘তুমি ফাল্গুনের সেই রক্তিম শিমুল ফুল, আমার হৃদয়ের..’এরপর আর কিছু ভেবেই পাচ্ছিলাম না। ৩০ মিনিট ভেবেছি, তানভিরকে নিয়ে গবেষণা করেছি কিন্তু লাইনটা আর সম্পূর্ণ করতে পারি নি। তারপর মনে হলো, কবিতা আর চিঠি লেখার থেকে সকাল সন্ধ্যা ‘বাবু খাইছো?’ জিজ্ঞেস করাটা খুব সহজ সমাধান। ”রিয়া বিরক্ত হয়ে বলল,” তুমি আসলেই একটা আনরোমান্টিক।”রাকিব হেসে উত্তর দিল,” বিয়ে করেছি ৬ মাস হতে চলল, এখনও আমি কত রোমান্টিক দেখেছো? তুমি বললে শিমুল ফুল না দিতে পারলেও কচুরিফুল ঠিকই দিতে পারবো। আর কি চাও? ”রিয়া রাগান্বিত কন্ঠে হুঙ্কার দিল,” তুমি আপাতত চোখের সামনে থেকে যাও।”“আজকাল ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই। নিজের বিয়ে করা বউও বলে আমি নাকি আনরোমান্টিক। ধিক্কার জানায়। ”“কাকে ধিক্কার জানাচ্ছো?”“নিজেকেই।”রিয়া সহসা হাসতে শুরু করেছে, সেই সাথে মেঘও হাসছে। আবির এসে রাকিবের কাঁধে হাত রেখে ধীর কন্ঠে জানতে চাইল,” কি হচ্ছে এখানে?”আবিরের কন্ঠ শুনে মেঘ আড়চোখে তাকালো।আবিরকে এক পলক দেখেই লজ্জায় নুইয়ে পড়েছে। গতকালও এত লজ্জা পায় নি যতটা লজ্জা আজ পাচ্ছে, অবিলম্বে ঘোমটা টেনে মুখ ঢাকার চেষ্টা করল।রাকিবের সাথে দু একটা কথা বলে, আবির মেঘের সামনে এসে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত কোমল কন্ঠে বলল,“আসসালামু আলাইকুম। ”লজ্জায় আড়ষ্ট মেঘ ঠান্ডা কন্ঠে বলল,“ওয়ালাইকুম আসসালাম। ”“শুভ সকাল, বউ।”“শুভ সকাল। ”রাকিব গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,” তোর বউ এটা আমরা সবাই জানি তাই বলে সারাদিন বউ বউ করবি?”” ভাবছি, কিছুদিন দিনরাত এক করে শুধু বউ ই ডাকব।”মাহমুদা খান মালিহা খানের রুম থেকে বেড়িয়ে আসতে আসতে ভারী কন্ঠে বললেন,” আবির তোর কি কোনো কাজ নেই? সকাল সকাল মেঘকে জ্বালাচ্ছিস কেনো?”আবির কপাল কুঁচকে, ঠোঁট বেঁকিয়ে শক্ত কন্ঠে বলল,” আমি কোথায় জ্বালিয়েছি? এতক্ষণ কাজ করে কেবল ই আসলাম। ফুপ্পি তোমার আমার সাথে কিসের শত্রুতা বলো তো, আব্বুর সাথে তুমিও এমন আচরণ শুরু করেছো কেনো? তোমাদের থেকে তো আমার শ্বশুরই ভালো, মেয়ে খেয়েছে কি না দেখতে আমাকে জোর করে পাঠিয়েছেন। আর তোমরা?”মাহমুদা খান রাশভারি কন্ঠে বললেন,” ভাইজান খুব সহজে মেনে নিয়েছে তো তাই কিছু বুঝতে পারছিস না, ভাইজানের ধমক না শুনা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছিস না। তাই না? তোর আচরণে কোনো কারণে ভাইজান যদি রেগে যান, বাড়ি ভর্তি মেহমানের সামনে চিৎকার চেঁচামিচি করেন বিষয়টা কি ভালো লাগবে? তার থেকে ওনি শান্ত আছেন তুইও একটু শান্ত থাক। ”“ঠিক আছে, থাকলাম শান্ত।”আবির মুখ ফুলিয়ে শ্বাস ছেড়ে মেঘের দিকে তাকিয়ে ব্যস্ত কন্ঠে বলল,” বউ তুমি খেয়ে নেও হ্যাঁ, তোমার ফুফু শ্বাশুড়িটা ভালো না। একদম মহিলা হি*টলা*রের মতো আচরণ করছেন। আমি এখন পালায়। ”আবির এক দৌড়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেছে, রাকিবও হাসতে হাসতে চলে গেছে। মাহমুদা খান হেসে বললেন,” মেঘ, খেতে বস। আমি ওদের ডেকে নিয়ে আসি।”একটু পরেই সবাই খেতে নেমেছে। মেঘকে দেখেই জান্নাত বলে উঠল,“তুমি আমার স্নিগ্ধ সকালের সুললিত গন্ধরাজ, পড়ন্ত বিকেলের একগুচ্ছ বাগানবিলাস।”পাশ থেকে আইরিন বলল,” ভাবি এইটা না, আমার ঐ লাইনটা বেশি ভালো লেগেছে।নীল দিগন্তের উড়ন্ত মেঘেরা জানে, কত স্বপ্ন উড়িয়েছি বেনামি খামে।”রিয়া মৃদুহেসে বলল,” তোমরা শুধু শুধু মেঘকে জ্বালিয়ো না। মেঘ আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, ভালোবাসি আর আমৃত্যু ভালোবেসে যাব। তুমি একদম মন খারাপ করবে না কেমন!”ওদের দুষ্টামিতে মেঘ চোখ তুলে তাকাতেই পারছে না। এরমধ্যে মালা এসে একটা চেয়ার টেনে বসলো। আইরিন মজার ছলে জিজ্ঞেস করল,” মালা আপু, আপনার কোন ডায়লগ টা ভালো লেগেছে?”“কিসের ডায়লগ?”” আবির ভাইয়া মেঘ ভাবিকে নিয়ে ফেসবুকে খোলা চিঠি লিখেছে। আপনি দেখেন নি?”মালা আইরিনকে দেখে পরপর মেঘের লজ্জামাখা আদলের পানে তাকালো। মনে মনে বিড়বিড় করল,“আমাকে ব্লক করে রাখলে কিভাবে দেখবো।”আইরিন আবার জিজ্ঞেস করল,“দেখেন কি?”মালা বিরক্ত হয়ে বলল,” খেয়াল করি নি।”আবারও মনে মনে বিড়বিড় করল,” এসব আজাইরা ভালোবাসা দেখলেই শরীর টা জ্বলে। ”বউভাত উপলক্ষে মেঘ আজ অফ হোয়াইট রঙের মধ্যে গোল্ডেন স্টোনের একটা গর্জিয়াছ লেহেঙ্গা পড়েছে। আবির মেঘের সাথে ম্যাচিং করে অফ হোয়াইট রঙের স্যুট পড়েছে। বাকিরাও যে যার মতো সেজেছে। মালা আজ হুট করে একটা গর্জিয়াছ শাড়ি পড়েছে। মালার সাজ দেখে সাকিব মেকি স্বরে বলল,“ছ্যাঁকা খেয়ে মানুষকে ঘরের দরজা বন্ধ করে সপ্তাহব্যাপী বা মাসব্যাপী কাঁদতে দেখেছি অথচ তুই তা না করে নাচতে নাচতে বিয়ে খেতে চলে আসছিস। তোর কি মিনিমাম লজ্জা নেই?”“লাজ লজ্জা ধুয়ে কি শরবত খাবো নাকি? আর একটা কথা শুনে রাখ, আমি চাইলেই আবির ভাইয়াকে বিয়ে করতে পারতাম কিন্তু আমি মেঘের মতো এত উন্মাদ না যে আমার আবির ভাইকেই লাগবে। ”সাকিব ফিক করে হেসে বলল,“কথায় আছে, পাগলের সুখ মনে মনে। আর কি কি বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিস জানাইস আমাকে। প্রয়োজনে আমি আরও কিছু এড করে দিব। আর রইল বাকি মেঘবতীর পাগলামির কথা, আবির ভাইয়া দেশে আসছেই মেঘকে পাগল করতে। ১৪ বছর তো একায় পাগলামি করে গেল। ভাইয়ার কি ইচ্ছে হয়না মেঘবতী তার জন্য একটু পাগলামি করবে, বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকবে, তাকে দেখার জন্য বা একটু কথা বলার জন্য উতলা হয়ে থাকবে, তার দিকে কেউ তাকালে অগ্নিকন্যার রূপ নিবে, মূল কথা ভাইয়াকে পাগলের মতো ভালোবাসবে। মেঘবতীর মনে প্রবল প্রমত্ততা জাগাতে ভাইয়া ই সব করেছে। তাই তোর চোখে মেঘবতী উন্মাদ হলে আবির ভাইয়া তার গুরু।”মালা রাগে কটমট করে চলে যেতে নিলে অলক্ষিতভাবে লিমনের সাথে ধাক্কা খেল। মালা মাথায় হাত দিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে হুঙ্কার দিল,” আপনি কি চোখে দেখেন না?”লিমন মালার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল” মাঝে মাঝে একটু কম ই দেখি। ”মালা রাগে ফোঁস ফোঁস করে চলে গেছে। মাইশা আপু আর ওনার হাসবেন্ড আজ দুপুরেই আসছেন। আবির কল দিতে দিতে অনেক কষ্টে আপুকে রাজি করিয়েছে। মেঘ আপুকে দেখেই আহ্লাদী কন্ঠে বলল,” আপু মনে আছে তো, বাবুকে কিন্তু সর্বপ্রথম আমার কোলে দিতে হবে।”“হ্যাঁ গো মনে আছে। দোয়া করো, বাবু সুস্থভাবে হলে তোমার কোলেই প্রথমে দিব।”মেঘ এক গাল হেসে বলল,“ঠিক আছে।”আবির মেঘের দিকে তাকিয়ে কিছু ভেবে আনমনে হাসলো। মেঘ বিষয়টা খেয়াল করে জিজ্ঞেস করল,“হাসছেন কেন?”” এমনিতেই। ”“বলুন।”“রাতে বলব।”“না, এখনই বলুন।”“I love you. I want to hug you. I wanna kiss you.”মেঘ সঙ্গে সঙ্গে আবিরের হাতে চিমটি কেটে ব্যস্ত কন্ঠে বলল,” চুপ করুন।”” এখন তো চুপ করতেই বলবি। অফিসিয়াল বিয়ের ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে অথচ এখনও অফিসিয়াল আলিঙ্গনটায় করতে পারলাম না।”মেঘ নিজের কপাল চাপড়ে বিড়বিড় করল,” এত নির্লজ্জ কবে হলেন আপনি?”” তোকে বিয়ে করার পর । ”সারাদিনের অনুষ্ঠান শেষে বিকেলের দিকে অনেক আত্মীয় স্বজনই চলে গেছেন। এশা পর্যন্ত সবাই মোটামুটি ব্যস্ত ছিল। এশার নামাজ পড়ে মোজাম্মেল খান আর আলী আহমদ খান একসাথে চা খেতে বসেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে আবির আর ইকবাল খানও এসেছেন। তানভির, সাকিব,রাকিব, আরিফ মিলে বাসরঘর সাজাচ্ছে। গতকাল তানভির বোনের পক্ষে থাকলেও আজ সে আবিরের পক্ষে। আবির নামাজ থেকে এসেই নিজের রুমে চলে গেছে। ভুল করেও কেউ যেন লাল গোলাপ না লাগায় তারজন্যই মূলত দেখতে গেছে। ফুল কিনতে যাওয়ার আগেই তানভিরদের বার বার বলে দিয়েছে ভুলেও যেন লাল গোলাপ না আনে। মিনহাজ মেঘকে লাল গোলাপ দেয়ার মতো বিশাল অপরাধের শাস্তিস্বরূপ আবির সেই রাগ মিনহাজের উপর না দেখিয়ে গোলাপের উপর দেখাচ্ছে। বিয়ে উপলক্ষে আবিরের রুম সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়েছে। আবিরের শৈশব-কৈশোরের যত স্মৃতি ছিল, সব সরিয়ে একদম ফাঁকা করে দিয়েছে৷ বিয়ের ঝামেলা মিটলে প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র এনে রুম সাজানো হবে। গায়ে হলুদের দিন থেকে আবির আব্বু চাচ্চুর মুখোমুখি বসে নি। অবশেষে আজ আবির আব্বুর চাচ্চুর পাশে গিয়ে বসেছে।মোজাম্মেল খান চিন্তিত স্বরে বললেন,” কিছু বলবে?”“জ্বি।”“বলো।”” আপনাদের পরিকল্পনার বাহিরে আমি যে কাজগুলো করতে বলেছিলাম সেগুলোর খরচ জানতে চাচ্ছিলাম। আমি পেমেন্ট দিয়ে দিচ্ছি সম্ভব হলে রাতে বা সকালের মধ্যে পরিশোধ করে দিবেন। ”আলী আহমদ খান ঠান্ডা কন্ঠে বললেন,” তোমার দিতে হবে না।”” আব্বু, আমি আগেই বলে রেখেছিলাম। অন্ততপক্ষে আমার পরিকল্পনাগুলোর টোটাল পেমেন্ট আমি করব।”মোজাম্মেল খান আস্তে করে বললেন,” আচ্ছা তুমিই করো। কিন্তু এত তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। ইমারজেন্সি সবার পেমেন্ট করে ফেলেছি। আর যারা নেয় নি তাদের কাল পরশুর মধ্যে দিয়ে দিব।”“আমি হিসাবটা দেখতে চাচ্ছিলাম, চাচ্চু।”” আমার কি কপাল, মেয়ের জামাই কত সুন্দর করে চাচ্চু বলে ডাকছে।”আবির মৃদু হেসে মেকি স্বরে বলল,“মেঘের মতো আমিও কি আব্বাজান বলে ডাকবো?”আলী আহমদ খান, মোজাম্মেল খান এবং ইকবাল খান তিনজনেই একসঙ্গে হেসে উঠলেন। প্রায় এক ঘন্টা যাবৎ চারজন মিলে হিসাব করছে। এদিকে জান্নাত আর রিয়া মিলে মেঘকে সাজাচ্ছে আর বাসরের নিয়মকানুন শিখিয়ে দিচ্ছে। মেঘের মনে ভয়, লজ্জা, আতঙ্কের সাথে সাথে এক অজানা ভালোলাগাও কাজ করছে। রাত ১০ টার পর পর ওদের সাজানো শেষ হয়েছে। আবিরের নিষেধাজ্ঞা থাকায় লাল গোলাপ ছুঁয়েও দেখেনি। গাদা, বেলি, কাঠগোলাপ, ৩-৪ রঙের জারবেরা, জিনিয়া সহ যে যে ফুল পেয়েছে সব দিয়েই সাজিয়েছে। সাজানো শেষেই মেঘকে নিয়ে বিছানার মাঝ বরাবর বসিয়েছে। মেঘের সামনে ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে একটা লাভ এঁকে তাতে A আর M লিখেছে। তারপর শুরু হয়েছে দল ভাগাভাগি, কয়েকজন আবিরের পক্ষে থাকলেও বেশিরভাগই মেঘের পক্ষে। তানভির আজ আবিরের পক্ষে শুনে বন্যা রাগী রাগী মুখ করে বলল,” আপনি দু’মুখো সাপের মতো আচরণ করছেন কেনো?”তানভির হেসে বলল,” বোনের বিয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই বোন শ্বশুরবাড়িতে চলে যায়। ভাগ্য ভালো আমার বোন আমার চোখের সামনে আছে। বনুর শ্বশুর বাড়ি অন্য কোথাও হলে আজকের বাসরঘর সাজানো অসম্ভব ছিল। তাছাড়া বড় ভাই হয়ে ছোট বোনের বাসর আটকানো টা তেমন শোভা পায় না।”বন্যা আর কিছু বলে নি। এদিকে আবিরদের হিসাব নিকাশের এক পর্যায়ে মোজাম্মেল খান বললেন,” অনেক তো হিসেব দেখলে এখন বরং যাও তুমি। ”আবির ঘাড় ঘুরিয়ে মালিহা খানকে উদ্দেশ্য করে বলল,” আম্মু, তোমাদের যা যা নিয়মকানুন আছে তাড়াতাড়ি শেষ করো। আমার ঘুম পাচ্ছে। ”মোজাম্মেল খান অকস্মাৎ কাশতে শুরু করলেন।ইকবাল খান আবিরের হাত চেপে বিড়বিড় করে বলল,“বাবা-চাচারা আছে, কথাবার্তা একটু সাবধানে বল।”আবির ভ্রু কুঁচকে মনে মনে বিড়বিড় করল,” গত দু’রাতে একফোঁটাও ঘুমাতে পারি নি। এখন বিয়ে করেছি বলে কি ঘুম পেলেও বলা যাবে না?”আবির নিশ্চুপ দেখে মোজাম্মেল খান স্বাভাবিক কন্ঠে বললেন,” বাকিগুলো সকালে দেখে নিও।”আবির তপ্ত স্বরে বলল,“আর কিছু দেখতে হবে না। যা লাগবে তানভিরকে বললেই হবে। ”মাহমুদা খান এসে মৃদুস্বরে বললেন,” আবির, তুই এখন রুমে যেতে পারিস।”আবির হঠাৎ ই কেমন যেন লজ্জা পাচ্ছে। লজ্জায় উঠে যেতে পারছে না। আলী আহমদ খান অকস্মাৎ বকে উঠলেন,” এত লজ্জা পেতে হবে না, যাও। ”আবির মাথা নিচু করে উঠে রুমের দিকে চলে গেছে। রুমের সামনে যথারীতি দু’দল মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। তানভির আবিরের দলের হওয়া স্বত্তেও ওরা জোরপূর্বক তানভিরকে রুমের ভেতরে রেখেছে। আবির দরজা থেকে উঁকি দিয়ে বিছানাটা দেখে নিল। মাথায় ঘোমটা দিয়ে নববধূ বিছানায় বসে আছে। আবির বাকিদের উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,“কি চাই?”“তেমন কিছু না। ”রাকিব আবিরের পাশ থেকে বলে উঠল,” আজ যত ইচ্ছে দে আমি বারণ করব না। কারণ, বাসর আমিও সাজিয়েছি তাই ভাগ আমিও পাবো। ”আবির রাকিবের দিকে তাকিয়ে হাসলো। আইরিন অকস্মাৎ বলে উঠল,” ভাইয়া তাড়াতাড়ি টাকা দিয়ে আমাদের বিদায় করো।”আবির শান্ত কন্ঠে বলল,“তোরা কত চাস সিদ্ধান্ত নিয়ে তানভিরের কানে কানে বল।”আইরিন, জান্নাত, রিয়া, মীম, বন্যা ফিসফিস করে কিছুক্ষণ ভেবে চিন্তে তানভিরকে জানালো। আবির সঙ্গে সঙ্গে বলল,” সিদ্ধান্ত ফাইনাল?”“হ্যাঁ।”“এখন সামনে থেকে সরো।”” কেনো সরবো? আগে টাকা দিবে তারপর যাব।”আবির তপ্ত স্বরে বলল,“আমি যেতে বলি নি আপু, সরতে বলেছি। বউ না দেখে আমি তোমাদের কিছু দিতে পারছি না ।”“বউ দেখে ফেললে তো শেষ ই।”“তোমরা যেমন আমাকে বিশ্বাস করতে পারছো না তেমন আমিও পারছি না। আমার বউ এর জায়গায় অন্য কাউকে যে বসিয়ে রাখো নি তার কি গ্যারেন্টি আছে? তোমাদের সহজ সমাধান দিয়েছি, তোমাদের এমাউন্ট আমি না জানলেও তানভির জানে। আমার বউ ঠিকঠাক থাকলে তোমরা তোমাদের প্রাপ্য পেয়ে যাবে। আগে বউ দেখব তারপর টাকা দিব। এখন তোমরা ভেবে দেখো। ”“ঠকাবে না তো?”” তোমরা আমাকে না ঠকালে আমিও তোমাদের ঠকাবো না। ”“ঠিক আছে। ”ওরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই আবিরকে রুমে ঢুকতে দিয়েছে। আবির রুমে ঢুকেই মেঘকে উদ্দেশ্য করে সালাম দিলো। মেঘ কাঁপা কাঁপা গলায় সালামের উত্তর দিয়েছে। এতক্ষণ যাবৎ মেঘ শান্ত থাকলেও এখন আর শান্ত থাকতে পারছে না, আবির যত কাছাকাছি আসছে মেঘের শরীরের প্রতিটা শিরা-উপশিরার রক্ত সঞ্চালন তত বেড়ে যাচ্ছে, ঢোক গিলে বার বার নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। আবির কিছুটা ঝুঁকে খুব যত্নসহকারে আস্তেধীরে মেঘের ঘোমটা উঠালো, লজ্জায় রাঙা মেঘের নামানো চিবুক দেখে কিঞ্চিৎ ভ্রু কুঁচকালো। আবির সহসা দু’আঙুলে মেঘের চিবুক উঠালো। আবিরের শক্ত হাতের কোমল স্পর্শে মেঘের শীর্ণ অধর থরথর করে কাঁপছে, হৃদয়ের তোলপাড়ে নিঃশ্বাস এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, ঘন ঘন পল্লব ঝাপ্টে নিভু নিভু চোখে আবিরের দিকে তাকাতেই আবির সহসা বুকের বা পাশে হাত রেখে নেশাক্ত কন্ঠে বলল,“হায়! মাশাআল্লাহ। ”সঙ্গে সঙ্গে বিছানার উপর লাভ লেখা অংশে ধপ করে পড়ে গেছে। মীম, আদি,আইরিন কিছুটা আতঙ্কিত হলেও বাকিরা আবিরের কাণ্ড দেখে মুচকি মুচকি হাসছে। মেঘ কিঞ্চিৎ ভ্রু কুঁচকে আবিরের মুখের দিকে তাকালো। আবির আচমকা কাত হয়ে মেঘের দিকে ঘুরে হাতের উপর মাথা রেখে মৃদুগামী কন্ঠে বলল,“অবশেষে, আবিরের একান্ত চাঁদআবিরের রুমে দীপ্তি ছড়াচ্ছে।”মেঘ লজ্জায় চোখ সরিয়ে করে ফেলেছে। আবির পকেটে হাত দিয়ে যতগুলো ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট পেয়েছে সব মেঘের হাতে মুষ্টিবদ্ধ করে দিয়েছে। রিয়া হাসিমুখে বলল,” ভাইয়া আপনার চাঁদকে সারাজীবনের জন্য আপনার রুমে রেখে গেলাম। আপাতত আমাদের দিক টা একটু ভাবুন।”আবির মেঘের দিকে তাকিয়ে মোলায়েম কন্ঠে বলল,” ওরা কিছু চাচ্ছে, দিব?”মেঘ কিছুই বলছে না, চুপচাপ বসে নিজের হৃৎস্পন্দন গুনছে। আইরিন সঙ্গে সঙ্গে বলল,” এটা কিন্তু কথা ছিল না। তুমি বলেছো ভাবিকে দেখেই দিয়ে দিবে। ”আবির মেঘের দিকে তাকিয়ে থেকেই ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠল,” আমি আমার বউয়ের অনুমতি ব্যতীত কিছু দিতে পারছি না, সরি। ”সবাই মেঘকে রিকুয়েষ্ট করছে কিন্তু মেঘ মুখ ফুটে কিছু বলতেই পারছে না। আবির মৃদু হেসে পুনরায় প্রশ্ন করল,” কি হলো? দিয়ে দিব?”মেঘ ঘাড় কাত করে সম্মতি জানালো। আবির সঙ্গে সঙ্গে বিছানা থেকে উঠে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,” তোমাদের এমাউন্ট কত ছিল আমি জানি না আর জানতেও চাই না। আমার বউ যেহেতু সম্মতি দিয়েছে তাই তোমরা যা চেয়েছো তার ডাবল পাবে। ”তানভিরের দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বলল,” তানভির, ওদের এমাউন্ট বুঝিয়ে দিবি।”“জ্বি ভাইয়া।”জান্নাত, রিয়া একসঙ্গে বলে উঠল,“ইসস, এত বড় মিস্টেক কিভাবে করলাম। আগে জানলে আরও বেশি চাইতাম। ”আইরিন বলল,” আমরা এখন নতুন করে এমাউন্ট চাইবো।”আবির মুচকি হেসে বলল,” সুযোগ একবার ই দিয়েছি সেই সুযোগ আর পাবে না। এখন সবাই যাও এখান থেকে।”রাকিব আবিরের কানে কানে ফিসফিস করে কিছু বলেই দৌড়ে বেড়িয়ে গেছে। বাকিরাও যে যার মতো চলে গেছে। বন্যা মেঘের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বেড়িয়েছে। তানভির আগেই বেড়িয়ে গিয়েছিল, আবির দরজা বন্ধ করতে যাবে অকস্মাৎ তানভির হাজির হলো। আবির শক্ত কন্ঠে বলল,“আবার কি?”তানভির মেঘকে এক পলক দেখে নিল। মেঘ মাথা নিচু করে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। তানভির গলা খাঁকারি দিয়ে অত্যন্ত কোমল কন্ঠে বলল,” ভাইয়া, আমার বোনটা কিন্তু এখনও ছোট। তোমার অনাবশ্যক ভালোবাসাকে একটু কন্ট্রোলে রেখো, প্লিজ।”
গল্পঃ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকেলেখিকাঃ সালমা চৌধুরী..................................................................................................................................................................আবির ভ্রু গুটিয়ে সরাসরি তানভিরের চোখের দিকে তাকিয়ে কর্কশ গলায় বিড়বিড় করল,” তুই না আমার সম্বন্ধী?”তানভির নিঃশব্দে হেসে অত্যন্ত ধীর কন্ঠে বলল,“তুমি না আমার ভাই? তাছাড়া পুরো পৃথিবী জানে তুমি আমার বন্ধু টাইপের ভাই তাই আমার সবদিক থেকে পারমিশন আছে।”আবির দাঁতে দাঁত চেপে বলল,” জ্বি ভাই, বুঝতে পেরেছি। বলছিলাম কি ভাই আপনি পারমিশন দিলে আমি আপনার বোনের সাথে একান্তে কিছুটা সময় কাটাতাম। পারমিশন দিবেন, ভাই?”“জ্বি ভাই, আপনার জন্যই এত আয়োজন। বেস্ট অফ লাক, বাই। ”তানভির চলে যাচ্ছে, আবির মুচকি হেসে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। দরজা বন্ধের শব্দে মেঘের শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠেছে, মাথা নিচু করে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়লো। আবির আড়চোখে মেঘের দিকে তাকালো, ঠোঁটে লেগে আছে দুষ্টু হাসি। ধীর পায়ে এগিয়ে গেল মেঘের কাছে, আবিরের তৃপ্ত দুচোখ চকচক করছে। উৎকণ্ঠায় মেঘের চিবুক নেমে গলায় ঠেকেছে, ক্ষীণ বক্ষের তীব্র কম্পনে শরীর ঘেমে একাকার অবস্থা। আবির আগপাছ না ভেবেই আচমকা মেঘের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরেছে। অপ্রত্যাশিত ঘটনায় মেঘ চমকে উঠে, বুকের ভেতর পর্যন্ত স্তব্ধ হয়ে গেছে। মেঘ সঙ্গে সঙ্গে চোখ বন্ধ করে ফেলেছে, হাত-পা সহ সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। আবির অকস্মাৎ জামা-কাপড়ের উপর দিয়ে মেঘকে জড়িয়ে ধরে পেটে মুখ গুঁজল। আবিরের অবাঞ্ছিত স্পর্শে মেঘের জোড়াল বক্ষস্পন্দন আরও বেশি জোড়ালো হতে শুরু করেছে, নিরবে ঢোক গিলে এলোমেলো নিঃশ্বাস ছাড়ছে। আবির ভয়ঙ্কর আবেশে আবদ্ধ, সুদীর্ঘ অবকাশের অস্ফুট প্রণয়ের অফিসিয়াল অনুমোদন পেয়েছে আজ। মেঘের শরীর থেকে আসা বিমুগ্ধকারী ঘ্রাণটা আবিরের নাসারন্ধ্রের সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ে তোলপাড় চালাচ্ছে, আবির এক মনে সেই ঘ্রাণটা উপলব্ধি করছে। মেঘের অভিমানে নাক ফুলানো, গায়ের তীব্র গন্ধ, দরদী স্পর্শ, আহ্লাদী কন্ঠের আবদার পূরণের পরিপূর্ণ অধিকার পেয়েছে আজ। এই মেঘ একান্ত আবিরের, পৃথিবীর আর কারো সাধ্য নেই যে আবিরের কাছ থেকে তার মেঘকে দূরে সরাবে। আজ ছোট্ট মেঘের আদুরে কন্ঠে বলা কথাগুলো আবিরের খুব মনে পড়ছে, অকস্মাৎ পেট থেকে মুখ সরিয়ে ঘাড় কিছুটা ঘুরিয়ে মেঘের অভিমুখে তাকালো। মেঘের বন্ধ চোখের পাতা আর কম্পিত অধর দেখে আবির আনমনে হেসে অত্যন্ত মোলায়েম কন্ঠে বলল,” তুমি আমার বহু প্রতীক্ষিত একান্ত অভিলাষ,হৃদয়ের মনিকোঠায় সঙ্গোপনে রাখার নির্মম প্রয়াস। আমার অবিচ্ছেদ্য প্রণয়ের উত্তাপ তুমি,সকাল- সন্ধ্যা সর্বনাশের কারণটাও শুধু তুমি।”মেঘের সংকোচ কোনোভাবেই কাটছে না, চোখ খুলে আবিরের দিকে তাকাতেও পারছে না। আবির মুচকি হেসে ডাকল,“ওগো অপরূপা,চেয়ে দেখো না মনোরমা। ”মেঘ কিংকর্তব্যবিমুঢ়, আবিরের একের পর এক ভাবপ্রবণ কথা শুনে মেঘের অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। বুকের ভেতরে চলমান ইতস্ততা কাটিয়ে চোখ পিটপিট করে তাকাল । আবিরের সঙ্গে চোখাচোখি হতেই আবির অকস্মাৎ স্ব শব্দে হেসে উঠল। আবিরের প্রাণোচ্ছল হাসি দেখে মেঘ না হেসে পারল না। আবির হাসি থামিয়ে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে তপ্ত স্বরে শুধালো,” আমাকে পেয়ে খুশি তো?”মেঘ মাথা দুলিয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,” আলহামদুলিল্লাহ, অনেক খুশি। আপনি?”আবির আবারও মৃদু হাসলো। মেঘের কোল থেকে উঠে মুখোমুখি বসল। লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে মেঘের হাতটা শক্ত করে ধরে কোমল কন্ঠে বলতে শুরু করল,” আলহামদুলিল্লাহ আজ আমি খুব খুশি। কারণ আমার স্পেরোকে দেয়া কথা আজ পরিপূর্ণভাবে রাখতে পেরেছি। ছোট্ট স্পেরোর সেই আহ্লাদী কন্ঠে বলা কথাটা, “আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে না” স্পেরো ভুলে গেলেও আমি ভুলতে পারি নি। গত ১৬ টা বছর আমি শুধু এই একটা কথার জোরেই সব বিপত্তিতে টিকে ছিলাম। আজ আমার স্পেরোকে আবারও বলতে চাই, আমি ছেড়ে যায় নি কোথাও যায় নি। তোমার আবির তোমারই আছে। তুমি সেদিন শুধু বলেছিলে, “ছেড়ে যেও না” অথচ আমি বুঝেছিলাম “তোমাকে ছেড়ে বাঁচতে পারবো না”। শেষ বিকেলে পাখিদের বাড়ি ফেরার তাড়া দেখে তুমি আবেগী কন্ঠে বলেছিলে, ” ওদের মতো আমারও যদি আলাদা একটা বাড়ি থাকতো৷” আর আমি ভেবেছিলাম, “যেকোনো মূল্যেই হোক তোমাকে তোমার স্বপ্নের বাড়ি উপহার দিব” একবার খেলতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছিলাম বলে তুমি শীতল কন্ঠে বলেছিলে, “খেলতে না গেলে তো ব্যথা পেতে না” আমি মনে মনে বলেছিলাম, ” আজকের পর খেলতে যাব না” । জ্বরের ঘোরে আমার হাতটা আঁকড়ে ধরে তুমি বলেছিলে, “আমার কাছে থাকো” “আমিও থেকে গেলাম”। কোনো একদিন কোনোকারণে বাসায় আমাকে বকা দিচ্ছিলো দেখে তুমি সবার সামনে আমার হাতটা শক্ত করে ধরে বলেছিলে, ” আবির ভাইয়া শুধু আমার তোমরা কেউ কিছু বলতে পারবে না।”“আমি আবির সেদিনই তোমার হয়ে গিয়েছিলাম”নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম বাঁচলে তোমার সাথেই বাঁচবো। ”মেঘ অবিশ্বাস্য চোখে আবিরের অভিমুখে চেয়ে আছে, অতর্কিতেই বেড়েছে বুকের ভেতরের ধুকপুক শব্দ। আবিরের কথাগুলো শুনে মেঘের চক্ষুদ্বয় কোটর ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে চাইছে। ফর্সা,লাজুক আদল মুহুর্তেই পরিবর্তন হয়ে গেছে, নাকের ডগায় মুক্তোর মতো বিন্দু বিন্দু ঘাম চিকচিক করছে। মেঘের উদ্বেজিত মনোভাব চোখে মুখে ফুটে উঠছে। যেই আবিরের প্রণয়ে আসক্ত মেঘ, সেই আবির মেঘের কাছেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল এতগুলো বছর। এটা ভেবেই মেঘের মস্তিষ্কের নিউরনে অনুরণন শুরু হয়েছে। মেঘ অসহায় মুখ করে আবিরের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,” আমি আপনাকে এতকিছু বলেছিলাম?”আবির মেঘের দু’হাত নিজের দু গালে রেখে নিঃশ্বাস টেনে বলল,“হুমমমমমমম”“আমার মনে নেই কেনো?”” কারণ তখন তুমি অনেক ছোট ছিলে। ”” আপনি কখনো বলেন নি কেনো?”” ভালোবাসা মুখে বলে হয় না পাগলি, তোমাকে নিজ থেকে অনুভব করতে হতো। আর আমি সেই অপেক্ষাতেই ছিলাম। ”মেঘ কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করল,” আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন কেনো?”” শুনতে খারাপ লাগছে?”“কেমন যেন অস্বস্তি লাগছে। আপনার মুখে তুই টায় মানায়। ”” অভ্যাস করো, এখন থেকে তুমিটায় বেশি শুনতে হবে।”“কেনো?”আবির মৃদুস্বরে বলল,” আমার সম্বন্ধী আমাকে ভয়ঙ্করভাবে ওয়ার্নিং দিয়েছে, বিয়ের পর তোমার সাথে তুই তুকারি করলে আমার নামে মা*ম*লা দিবে। তানভিরের এসব তুই তুকারি একদম পছন্দ না, ওর সাথে কথা বললে সচরাচর তোমাকে তুই বলে সম্বোধন করি না তারপরও ভুলে যদি বলে ফেলি তখন দেখা যায় রাগে সারাদিন আমার সাথে কথায় বলে না। গতকাল রাতে আমাকে লাস্টবারের মতো ওয়ার্ন করেছে যেন কোনোভাবেই তুই না বলি। পার্সোনালি ঘরে দরজা বন্ধ করে তুই বললেও আমার সম্বন্ধী,বাবা মা, শ্বশুর- শ্বাশুড়ি কিংবা কোনো আত্মীয়ের সামনে কোনোভাবেই তুই বলতে পারবো না। ”মেঘ অভিনিবিষ্টের ন্যায় চেয়ে থেকে শান্ত কন্ঠে শুধালো,” আপনি ভাইয়াকে ভয় পান?”“না। তোমাকে ভয় পায়। ”“মানে?”আবির মেঘের হাত গাল থেকে নামিয়ে বুকের উপর রেখে বলতে শুরু করল,” তোমাকে হারানোর ভয়ে আমার এইযে এইখানটা বারংবার কেঁপে উঠে। আবিরকে ধ্বংসের একমাত্র অস্ত্রই মেঘ। তানভির সহ আমার কাছের মানুষজন খুব ভালোভাবে জানে আমার জীবনে তোমার অস্তিত্ব ঠিক কতোখানি জুড়ে। আমাকে কোনোকিছুতে রাজি করাতে ব্যর্থ হলেই ইচ্ছেকৃত তোমার নাম নেয়। কারণ তারা জানে, তুমি আমার একমাত্র দূর্বলতা। এইযে তুমি কতশত কুসংস্কার মানো, কিছু হবে না জেনেও আবেগে নাচো। আমিও ঠিক তেমন, তোমার নামে কিছু শুনলে বুঝে না বুঝে রিয়েক্ট করি, নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। অন্ততপক্ষে তোমাকে নিয়ে তানভিরের সাথে আমি কোনোরকম অসদ্ভাবে জড়াতে চাই না তাই ও যা বলেছে আমি মেনে নিয়েছি।”আবিরের উৎকণ্ঠা দেখে মেঘ প্রতিনিয়ত আশ্চর্যের চূড়ায় পৌছে যাচ্ছে। মেঘ নির্বাক চোখে তাকিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে আবিরকে দেখছে। আবির কয়েক মুহুর্ত মেঘের মায়াবী আদলে চেয়ে থেকে আনমনে হেসে বলল,” ম্যাম, এভাবে তাকিয়ে আমাকে আগেভাগেই দূর্বল করে দিবেন না। আপনার সাথে আমার অনেক কথা আছে। ”আবিরের কথায় মেঘের ভাবনার সুতো ছিঁড়েছে, কপালে ভাঁজ ফেলে মৃদুস্বরে বলল,” কি কথা?”“আগে নামাজ পড়ে রবের কাছে শুকরিয়া আদায় করি তারপর বলবো। যাও, ফ্রেশ হয়ে ওজু করে আসো।”আবির মেঘের হাত ছেড়ে বিছানা থেকে নামছে। এত কথোপকথনের ভিড়ে রিয়া আর জান্নাতের শিখিয়ে দেয়া নিয়মকানুনের কথা মেঘ ভুলেই গিয়েছিল। মেঘ ঝটপট বিছানা থেকে নেমে আবিরের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে নিল কিন্তু সালাম করার আগেই আবির মেঘের দুই বাহু ধরে উঠিয়ে আলতোভাবে বুকে জড়িয়ে মোলায়েম কন্ঠে বলল,“তোমার অবস্থান আমার পায়ে নয় হৃদয়ে। আজকের পর কোনোদিন পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার চেষ্টাও করবে না। মনে থাকবে?”“জ্বি।”আবির মেঘকে ছেড়ে ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে ব্যালকনির দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে কিছু একটা করছে। এদিকে মেঘ মনে মনে হাবিজাবি ভাবছে আর ব্যস্ত হাতে গহনা খুলছে। গলার একটা গহনাকে খুলতে গিয়ে চুলে টান পড়তেই মেঘ ব্যথায় ‘উফফ’ করে উঠেছে। আবির সহসা ফোন টেবিলের উপর রেখে মেঘের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল,” কি হয়েছে?”” চুলে টান লাগছে। ”” হাত সরাও, আমি দেখছি। ”মেঘ ভ্রু কুঁচকালো, তবে নিষেধ করল না। আবির খুব মনোযোগ দিয়ে মেঘের চুল সরিয়ে গহনা খুলে দিয়েছে। মাথায় লাগানো ক্লিপগুলো খুলতে খুলতে কর্কশ কন্ঠে বিড়বিড় করল,” আগেই বলেছি রাতে এত সাজগোছ করতে হবে না তারপরও কেউ কথা শুনে না। ”আবিরের ঠান্ডা কন্ঠের অভিযোগে সম্বিত ফিরল মেঘের। চোখ ঘুরিয়ে আবিরকে এক পলক দেখে হালকা করে কেশে শীতল কন্ঠে ডাকল,” আবির ভাই..”অকস্মাৎ আবিরের সুপ্ত ক্রোধ চোখে ভেসে উঠেছে, মেঘের দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙাতেই মেঘ দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল,” মজা করেছি। ”আবির প্রতিত্তোরে কিছুই বলল না। মেঘ ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসতেই আবির চুপচাপ ওয়াশরুমে চলে গেছে। যথারীতি দু’জন একসঙ্গে দু রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিয়েছে। নামাজ শেষ করে আবির মেঘের কপালে দীর্ঘ চুমু খেয়ে মেঘকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আবিরের সারাদিনের সব দুষ্টামি, খুনসুটি হঠাৎ ই পরিবর্তন হয়ে গেছে। কেমন যেন নিশ্চুপ হয়ে গেছে। আবিরের বুকের উপর মাথা থাকায় মেঘ স্পষ্টভাবে আবিরের হৃৎস্পন্দন টের পাচ্ছিল। মেঘ হঠাৎ ই তটস্থ কন্ঠে শুধালো,” কি হয়েছে আপনার? আপনি কি কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত?”আবির ঘন ঘন ঢোক গিলছে, মেঘকে বিছানার পাশে বসিয়ে আবির ফ্লোরে বসল । মেঘ ব্যাকুল কন্ঠে বার বার প্রশ্ন করছে, আবির উত্তর না দিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলো। আবির আচমকা বসা থেকে উঠে ওয়ারড্রব থেকে একটা ছোট বক্স বের করল। ‘Abir’ নাম লেখা একটা ডিজাইনিং লকেট বের করে মেঘের গলায় পড়িয়ে দিতে দিতে মৃদু স্বরে বলল,” এটা বাসর রাতের গিফট।”মেঘ তৎক্ষনাৎ লাফিয়ে উঠে বালিশের নিচ থেকে একটা ঘড়ির বক্স বের করে আবিরকে দিয়ে বলল,” এটা আপনার জন্য। ”আবির কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করল,” বাসর রাতে গিফট দিতে হয় এটা তোমাকে কে বলেছে?”“রিয়া আপু , জান্নাত আপু তাছাড়া আমার বান্ধবীরাও বলেছে। ”“আর কি কি বলেছে? ”” আরও অনেক কিছু ।”আবির ভ্রু গুটিয়ে ধীর হস্তে কপাল চাপড়ে শক্ত কন্ঠে বলল,” ইসস! আমার বউটাকে ওরাই নষ্ট করছে।”মেঘ ঠোঁট কামড়ে বিড়বিড় করল,” মোটেই না।”আবির ঘড়িটা দেখে মুচকি হেসে বলল,” পড়িয়ে দাও।”“এখন?”“হুমমমম।”মেঘ ঘড়িটা পড়িয়ে দিয়ে আহ্লাদী কন্ঠে শুধালো,“পছন্দ হয়েছে?”” হুমমমমমমম। আমার একমাত্র বউয়ের দেয়া গিফট পছন্দ তো হবেই। ”আবির তপ্ত স্বরে ফের বলল,“তোমার জন্য আরও সারপ্রাইজ আছে।”“কি?”আবির একটা অ্যালবাম বের করে মেঘের হাতে দিল। অ্যালবামের সর্বপ্রথম ছবিটা আবির আর মেঘের বিয়ের। দু’জন পাশাপাশি বসা, মেঘ ঘাড় কাত করে আবিরের বাইসেপে রেখেছে আবির মেঘের মাথায় উপর নিজের মাথা কাত করে রেখেছে। দু’জনের এক হাত সামনের দিকে । আবিরের হাতের তালুতে মেহেদী দিয়ে লেখা ‘মেঘের আবির’ আর মেঘের হাতে লেখা ‘আবিরের মেঘ’। মেঘ ছবিটা দেখে মৃদু হেসে অ্যালবাম খুলেছে। মেঘের জন্মের পর আবিরের প্রথম কোলে নেয়ার ছবি, মেঘের ছয় মাস, এক বছর, দুই বছর বয়স থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত আবিরের সাথে যতছবি ছিল সবই অ্যালবামে আছে। মেঘ মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছবিগুলো দেখছে, আবির পাশে দাঁড়িয়ে ছবিগুলোর বর্ণনা দিচ্ছে। ছোটবেলার ছবিগুলো ফ্যামিলি অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। কোন ছবি কখন, কি অবস্থায় কাকে দিয়ে উঠিয়েছিল সবই আজ নির্দ্বিধায় বলছে। মেঘ নিস্তব্ধ হয়ে ছবিগুলো দেখছে আর আবিরকে দেখছে। মাঝখানে ৯ বছরের একসাথে ছবি না থাকলেও লাস্ট ২ বছরের ছবিতেই তার উসুল তুলে ফেলেছে। যার মধ্যে হাতে গুনা কয়েকটা ছবি মেঘ নিজের ইচ্ছেতে তুলেছিল বাকি সব আবিরের পার্সোনাল ফটোগ্রাফার তুলে দিয়েছে। অ্যালবাম দেখা শেষ হতেই মেঘ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো। আবির মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করল,“রাগ করেছো?”মেঘ ঠোঁট ফুলিয়ে চেয়ে আছে। আবির নিরেট কন্ঠে বলল,” রাগ করো না, প্লিজ। এটা দেখে রেগে গেলে পরের গুলো তো বলতেই পারব না।”” পরে কি?”আবির একটা চাবির গোছা মেঘের হাতে দিয়ে বলতে শুরু করল,” আজ থেকে এই চাবির গোছাটা তোমার। এখানে আমার রুমের প্রতিটা তালাবদ্ধ জিনিসের চাবির পাশাপাশি আমার অফিসের সব চাবি আছে। তুমি আমার অর্ধাঙ্গিনী তাই আজ থেকে আর কোনো লুকোচুরি নয়। আমার যা কিছু আছে সবকিছুতে তোমার অধিকার আছে।”মেঘ আজ হতবিহ্বল। যে আবির নিজের জিনিসপত্র কখনো কাউকে ছুঁতে দেয় না, রুমে ঢুকতে দেয় না, সব কিছুতে তালা দিয়ে রাখে সে আজ নিজের হাতে সব দায়িত্ব মেঘকে দিয়ে দিচ্ছে। আবিরের এত পরিবর্তন মেঘ স্তব্ধ চোখে কেবল দেখেই যাচ্ছে। আবির অকস্মাৎ মেঘের মুখোমুখি দাঁড়ালো। আচমকা ধপ করে মেঘের পায়ের কাছে বসে পরেছে, আবিরের গায়ে যেন পা না লাগে তারজন্য মেঘ সঙ্গে সঙ্গে পা সরিয়ে থমথমে কন্ঠে শুধালো,“কি হয়েছে আপনার?”আবির পেছন থেকে একটা সুন্দর গিফট বক্স বের করে মেঘের হাতে দিল। মেঘ ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,” কি এটাতে?”“দেখো।”বক্স খুলতেই ২ টা ব্যাংক চেক চোখে পরেছে, মেঘ এমাউন্টও ঠিকমতো খেয়াল করে নি। কৌতূহল বশত চেক তুলে বিস্ময় সমেত তাকালো । বক্সে স্বর্ণের বেশ কিছু গহনা। মেঘ বার বার আবিরের দিকে তাকাচ্ছে, আবিরের ঠোঁটে মলিন হাসি। মেঘ গহনা গুলো তুলে বিছানার পাশে রাখছে। কাগজের মতো কিছু লাল ফিতা দিয়ে প্যাঁচানো দেখে মেঘ স্বাভাবিকভাবে খুলতে নিল, খুলতেই দেখল এটা একটা দলিল। কিছুটা পড়ার পড় বুঝতে পারলো কোনো একটা জায়গা আবির মেঘের নামে করে দিয়েছে। মেঘ আশ্চর্য নয়নে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,” এসবের মানে কি?”আবির মুচকি হেসে বলল,” Sparrow’s Dreamhouse তোমার বাড়ি, একান্তই তোমার। সেখানে আমার কোনো অধিকার নেই।”মেঘ কিঞ্চিৎ রাগী স্বরে বলল,” অধিকার যদি না ই থাকবে তাহলে আমার বাড়ি আপনি আমাকে না জানিয়ে কেনো করেছেন? আগে আমাকে বললেন না কেনো?”” শুরুতে জানানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না।”“কেনো?”” সময় টা ছিল ডিসেম্বর মাস, মাইশা আপুর বিয়ে থেকে মালার কারণে তোমাকে জোর করে নিয়ে আসছিলাম। আমি অফিস থেকে এসে তোমাকে সময় নিয়ে বুঝাতে চেয়েছিলাম মালার সাথে আমার কিছুই নেই অথচ তুমি আমার আসা পর্যন্ত জাস্ট ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে পারলে না। আমাকে গুরুত্ব না দিয়ে মিনহাজদের গুরুত্ব দিয়েছিলে। তারজন্য তোমার প্রতি অভিমান হয়েছিল। সেই অভিমান তোমার আব্বুর কথায় জেদে পরিণত হয়েছিল। ওনার মেয়েকে রাণীর মতো রাখতে গেলে আগে রাণীর স্বপ্নগুলো পূরণ করা জরুরি ছিল। সেই রাতেই ৩-৪ দিনের জন্য চলে গেলাম, দিনরাত এক করে সবকিছু রেডি করে আসছি। যেদিন বাসার কাজ শুরু করব তার আগের দিন থেকে আপনাকে এতমতে রিকুয়েষ্ট করলাম কিন্তু তুমি এতটায় জেদি যে কোনোভাবেই যেতে রাজি হলে না। তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েও দিতে পারলাম না তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বাসার কাজ পুরোপুরি শেষ করেই জানাবো।”মেঘ শক্ত কন্ঠে বলল,” ইশশ! মিস করলাম।”“বাকিগুলো দেখে শেষ করো।”মেঘ আবারও বক্স হাতে নিল। কিছু চিরকুট, আবিরের অফিসের কিছু ডকুমেন্টসের সাথে কয়েকটা ৫০০ আর ১০০০ টাকার বান্ডিল। এত এত টাকার বান্ডিল দেখে মেঘ আশ্চর্যান্বিত নয়নে তাকিয়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠে শুধালো,“এত টাকা কার?”আবির মোলায়েম কন্ঠে বলল,“তোমার। ”“মানে? এত টাকা দিয়ে আমি কি করব?”” এগুলো সব কাবিনের।”মেঘ ধীর কন্ঠে বলতে শুরু করল,” আমি যতদূর শুনেছি, কাবিন বউয়ের পরিবার অথবা বউয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী দিতে হয়। আমি বউ হয়ে বলছি, আমার কাবিনের কোনো প্রয়োজন নেই। আমি আপনাকে চেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ আপনাকে পেয়ে গেছি। আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই। আপনার এত এত গিফট, টাকা, ব্যাংক চেক এসবের কোনো কিছুই চাই না। বিয়েতে কাবিন যদি আবশ্যক হয় তবে আমি কাবিন হিসেবে আপনাকে চাইব, আমৃত্যু শুধু আপনাকেই চাইব।”মেঘের দুচোখ ছলছল করছে, নিজেকে সংযত করতে তাড়িত শ্বাস টানলো। আবির দুর্বোধ্য নেত্রে মেঘের মায়াবী আননে চেয়ে আছে। অল্পতে লজ্জায় আড়ষ্ট হওয়া মেয়েটার অদম্য কন্ঠের আকাঙ্ক্ষা শুনে আবির শীতল চোখে চেয়ে মুচকি হাসলো। মেঘ এতক্ষণ কি বলেছে নিজেও জানে না, আবিরের অন্যরকম চাহনিতে কিছুটা লজ্জা পেয়েছে। আবির চোখমুখ গুটিয়ে শান্ত কন্ঠে শুধালো,” যা দিয়েছি সবকিছু সহ আবির যদি তোমার হয় তাহলে কাবিন নিয়ে কি তোমার আর কোনো আপত্তি আছে?”মেঘ সঙ্গে সঙ্গে আবিরের দিকে তাকিয়ে শ্বাস ছেড়ে ঠোঁট ফুলিয়ে নিষ্পাপ কন্ঠে বলে উঠল,” আমার আবির হলেই হবে।”আবির ভ্রু উঠাতেই মেঘ থতমত খেয়ে বলল,” সরি সরি সরি, আপনাকে হলেই হবে। ”“আমি তো তোমার ই। বাকি যা দিয়েছি ঐ সবও তোমার। এগুলোর পর কাবিন হিসেবে তোমার কি আমার কাছে আর কিছু চাওয়ার আছে? ”মেঘ সাবলীল ভঙ্গিতে বলল,” আমার আর কিছুই লাগবে না।”“মনে কষ্ট থাকবে না তো?”মেঘ একগাল হেসে বলল,” আমার মনে কষ্টের ছিটেফোঁটাও নেই কারণ আপনাকে পেয়ে গেছি যে।”আবির অনুগ্র হেসে টেবিলের উপরে রাখা একটা বই থেকে কাগজ এনে মেঘের হাতে দিল। তেমন একটা গুরুত্ব না দিয়েই মেঘ জিজ্ঞেস করল,” কি এগুলো?”“পড়ো।”মেঘ বিড়বিড় করে পড়ছে, কিছুটা পড়তেই বুঝতে পারলো এটা কাবিননামার কপি। মেঘ সঙ্গে সঙ্গে নিচে তাকালো। বরের স্বাক্ষরের জায়গায় ‘সাজ্জাদুল খান আবির’ লেখা আর কন্যার স্বাক্ষরের জায়গায় ‘মাহদিবা খান মেঘ’ বিবাহ রেজিস্ট্রী করার তারিখ: ০৩/০২/২০– যা আজ থেকে আরও তিন বছর আগের। এটা দেখে মেঘ বিস্তীর্ণ চোখে তাকিয়ে এক হাতে নিজের মুখ চেপে ধরেছে। মেঘের হাত থরথর করে কাঁপছে, কান দিয়ে গরম হাওয়া বের হচ্ছে, মস্তিষ্কে বিদ্যমান স্নায়ুগুলো ধপধপ করে কাঁপছে, বুকের ভেতরটা দুরু দুরু কেঁপেই চলেছে, নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। মেঘ শশব্যস্ত চোখে আবিরের দিকে তাকালো। আবির নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে মেঘকে দেখছে আর নিজের বুকে হাত রেখে অনুচ্চ স্বরে দোয়া পড়ছে। মেঘের গলায় আটকানো নিঃশ্বাস টা অতি সন্তর্পণে বেড়িয়ে আসছে, মুখ ফুলিয়ে শ্বাস টেনে জিভ দিয়ে ঠোট ভিজিয়ে থমথমে কন্ঠে প্রশ্ন করল,” এগুলো কি সত্যি? ”আবির ঢোক গিলে ধীরস্থির কন্ঠে বলল,“হুমমমমমমম। আইনের চোখে আমাদের বিয়ের তিনবছর পূর্ণ হয়ে গেছে, গতকাল চতুর্থ বছরে পদার্পণ করেছি। তোমাকে আগেই বলেছিলাম, তুমি আমারই। কেউ তোমাকে আমার থেকে আলাদা করতে পারবে না। কেউ যদি আমার সাথে ঝামেলা করতেও চাইতো, আমি সরাসরি কাবিননামা দেখিয়ে দিতাম।”মেঘ ভাবনাচিন্তা ছাড়াই আচমকা বলে উঠল,” এটা কিভাবে সম্ভব?”আবির শক্ত কন্ঠে বলতে শুরু করল,” আমি দেশ ছাড়ার মাসখানেক আগে তানভিরকে তোমার ব্যাপারে সব বলেছিলাম। সে আমার আবেগ, অনুভূতি দেখে প্রথমদিকে মেনে নিলেও পরবর্তীতে ওর মনে কিছুটা খটকা সৃষ্টি হয়েছিল কারণ শত হলেও সে তোমার আপন ভাই। তোমার প্রতি তার দায়িত্ব, ভালোবাসা অন্য লেবেলের যেটা আমার প্রতি হাজার থাকলেও তোমার সমান নয়। বলতে গেলে তানভির, আমি দুজনেই তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক। মজার ছলেই হোক কিংবা গভীর চিন্তা থেকেই, তানভির একদিন হুট করে বলে বসে,” ভাইয়া, তুমি বনুকে এখন পছন্দ করো মানলাম, আমি ওকে দেখেও রাখলাম কিন্তু ৭ বছর পর তোমার মন মানসিকতা যে এরকম থাকবে তার কি গ্যারেন্টি আছে? তখন যদি বনুর প্রতি এখনকার মতো অনুভূতি না থাকে?”তানভিরের কথা শুনে আমার মনে চিন্তন জাগে৷ আমি নিজেও কখনো সেভাবে ভেবে দেখি নি তাই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম তোমাকে বিয়ে করব। কেনো সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি নিজেও জানি না শুধু মনে হয়েছিল তানভির যা বলেছে একদম ঠিক বলেছে। তানভির মজার ছলে বললেও আমি দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারছিলাম না। তানভিরকে জানানোর পর সে খুব রিকুয়েষ্ট করেছে যেন বিয়ের ঝামেলা না করি, ও এমনিতেই এসব বলেছিল আরও অনেককিছু। আমার মাথায় তখন কিছুই ঢুকছিল না, আমার কাছের বন্ধুর বাবা কাজী তাই তৎক্ষনাৎ খোঁজ নিলাম। তোমার বয়স অনেক কম ছিল, তখন তোমার আমার প্রতি তীব্র ঘৃণাও ছিল সব মিলিয়ে তখন বিয়ে সম্ভব ছিল না৷ তাছাড়াও কিছু নিয়মনীতি ছিল যার কারণে আংকেল কোনোভাবেই রাজি হয়তেছিল না৷ কিন্তু তখন আমার একটায় জেদ ছিল যেভাবেই হোক বিয়ে আমার করতেই হবে। আংকেলকে বিস্তারিত বুঝিয়ে খুব কষ্টে রাজি করিয়ে, রাকিব, তানভির আর সুজনের উপস্থিতিতে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে দেশ ছাড়ি।”আবির দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে পুনরায় বলতে শুরু করল,” বিশ্বাস করো, আমি তখন কোনোকিছু ভাবি নি, এতকিছু বুঝি নি। শুধু বুঝেছিলাম তোমাকে আমার লাগবে সেটা যেকোনো মূল্যেই হোক। মস্তিষ্কে শুধু একটা চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, তোমাকে বৈধতার চাদরে মোড়ানো। পাওয়া না পাওয়ার মাঝে আমি তখন বাস্তবিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম, ভবিষ্যতে কি হবে বা হতে পারে সব ভুলে গিয়েছিলাম। বিয়ে পরিপূর্ণ হবে না জেনেও আবেগের তাড়নায় বিয়ে করেছিলাম৷”নিশ্চুপ মেঘ এবার মুখ খুলল। কিছুটা বিস্মিত হয়ে জানতে চাইল,” আমার সাইন কে দিয়েছিল?”“তুমি। ”“কিভাবে? আমি তো এসবের কিছুই জানতাম না।”“মনে আছে তানভির একদিন ঘুরতে নিয়ে তোমাকে বিয়ের কথা বলেছিল?”“হ্যাঁ, মনে আছে৷ আমাকে এমন ই একটা কাগজে সাইন করতে বলেছিল। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম এটা কিসের কাগজ? ভাইয়া বলেছিল বিয়ের। আমি তখন সেভাবে গুরুত্ব ই দেয় নি, ভেবেছিলাম ভাইয়া মজা করছে।”আবির কপাল গুটিয়ে জানতে চাইল,” কেনো আমার নাম বলেছিল মনে নেই?”“হ্যাঁ, এটাও মনে আছে। বিয়ের কথা বলায় আমি যখন হাসছিলাম তখন ভাইয়া জিজ্ঞেস করছিল আমাকে যার তার কাছে বিয়ে দিলে আমার আপত্তি আছে কি না। আমিও সুন্দর করে বলেছিলাম, কোনো আপত্তি নেই তুমি যাকে বলবা তাকেই বিয়ে করে নিব। আমার সত্যি ই তখন কোনো আপত্তি ছিল না কারণ তখন আমার জীবনে আপনি ছিলেন না। আমার চোখে আমার ভাই ই সবার সেরা ছিল, সে যা বলতো আমি সবকিছু মেনে নিতাম। ভাইয়া তখন আপনাকে বিয়ে করার কথা বলেছিল আর আমি ভাইয়ার কথায় আপনাকে বিয়ে করতেও রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম ভাইয়া মজা করছে তাই যা বলেছিল সবেতেই হ্যাঁ হ্যাঁ করে সাইনও করে দিয়েছিলাম। তারপর ভাইয়ার সাথে এ বিষয়ে আমার আর কোনোদিন কথা হয় নি। ভাইয়া কিছু বলে নি আর আমি তো সেই ঘটনা বেমালুম ভুলেই গিয়েছিলাম। ”আবির মলিন হেসে বলল,” ঐদিন ই তোমার আমার সাথে বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। তানভিরের সাথে সাথে সেখানে কাজী সাহেব, সুজনরাও উপস্থিত ছিল তাছাড়া ফোনে আমিও ছিলাম।”মেঘ হা হয়ে আবিরের দিকে তাকিয়ে আছে। আবির গলা খাঁকারি দিয়ে আবারও বলতে শুরু করল,” আমি সাইন করায় দিনই তোমাকে বউ হিসেবে কবুল করেছিলাম কিন্তু তোমারটা বাকি ছিল। তোমাকে বিস্তারিত বুঝানোর পরিস্থিতি ছিল না তাই তানভির যেভাবে পেরেছে ম্যানেজ করেছে। আমার কথা ছিল, যেহেতু তোমার সাথে তখন মানসিক বা শারীরিক কোনো সম্পর্কে আমি জড়াবো না তাই শুধু আইনী কাজ টা সম্পন্ন করে রাখবো। বাসায় এসে যেভাবেই হোক তোমাকে পটিয়ে, বাসার সবার অনুমতি নিয়ে তোমাকে বিয়ে করব। আমি নির্বোধ ছিলাম কারণ আমি তখনও আবেগে গা ভাসাচ্ছিলাম। আমাদের বিয়ে আইনী ভাবে নিবন্ধিত হয়ে গিয়েছিল, আমার এত বছরের ভালোবাসাকে আইনী স্বীকৃতি দিতে পেরে মনে সুখের হাওয়া বইছিল। আমার আকাশে বাতাসে বিয়ের আমেজ ছিল কিন্তু সেই আমেজ বেশিদিন থাকলো না। মাস তিনেকের মধ্যে ফুপ্পির কথা জানতে পারি আর তখনই আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তানভিরের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ভীত হয়ে আমি আইনী স্বীকৃতির জন্য জোরাজোরি করেছিলাম কিন্তু ফুপ্পির কথা শুনে সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। যেখানে ফুপ্পির প্রেমের সম্পর্ক জেনেও মানে নি সেখানে আমি কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলেছি। আমার বিয়েটা কোন লেবেলের অপরাধের কাতারে পড়বে সেটা ভেবেই আঁতকে উঠছিলাম। এত বছরে নিজের মনে জমে থাকা স্বপ্নগুলোকে পিণ্ডীভূত করে যে কাঁচের বাড়িটা বানিয়েছিলাম সেই বাড়িটা মনের ভেতরে ঘটে যাওয়া আকস্মিক ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছিল। নিজের সাজানো স্বপ্ন ভাঙার সাথে সাথে ভেঙেছিল তোমাকে দেখার সব আকাঙ্ক্ষা। নিজের আক্ষেপে নিজেই পুড়ছিলাম। কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছিল পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় কিন্তু শেষ সময়েও তোমাকে দেয়া কথাটা আমার কানে বাজছিলো, “আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে না” সেই আদুরে আনন আমাকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে টেনে এনেছিল। শুধুমাত্র তোমার কথা ভেবে নতুনভাবে নিজেকে তৈরি করছিলাম, কিন্তু বুকে ছিল আকাশ সমান ভয়। বাসায় বিয়ের কথা জানলে তোলপাড় শুরু হবে এটা খুব ভালোই বুঝেছিলাম, তোমাকে নিয়ে আলাদা থাকার যোগ্যতাও আমার ছিল কিন্তু তুমিই যে আমার ছিলে না। তুমি এমনিতেই ৭-৮ বছর যাবৎ আমার সাথে কথা বলছিলে না। ঐ অবস্থায় কোনোক্রমে যদি শুনতে পারতে যে তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেছে তখন আব্বু চাচ্চু কি করতো জানি না কিন্তু তুমি হয় আমাকে খু*ন করতে, নয়তো নিজে সু*ই*সাই*ড করতে আর না হয় লাস্ট অপশন ছিল ডি*ভো*র্স। তোমার জেদকে আমি বরাবর ই ভয় পায়, তখনও খুব ভয় পেয়েছিলাম। তুমি ভুলক্রমে কিছু বললেও সেটা তুমি করেই ছাড়তে৷ বাসায় ফিরে ৩ মাস কিংবা ৬ মাসের মধ্যে বিয়ে করার স্বপ্ন আড়ালেই হারিয়ে গেল। সেই থেকে আমার আতঙ্ক শুরু হলো, তানভির, রাকিব দু’জনকে খুব জোর করে বললাম ভুল করেও যেন বিয়ের টপিক না উঠায়, বিয়ের কথা যেন মন থেকে ভুলে যায়। অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে ৬ মাস আগে দেশে ফিরলাম, তখন সব ভুলে তোমাকে আমার প্রেমে পড়তে বাধ্য করলাম। প্রতিনিয়ত নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে তোমাকে অনুভব করাতে লাগলাম। আলহামদুলিল্লাহ বছরখানেকের মধ্যে আমি সফলও হয়ে গেলাম। আমার এক্সিডেন্টের পর তোমার আবেগ জড়ানো কথাগুলো শুনে তোমার ভালোবাসার পুরোপুরি নিশ্চয়তা পেয়েছিলাম। বাসার পরিস্থিতি, তোমার পরিস্থিতি দেখে তখন দ্বিতীয়বার উপলব্ধি করেছিলাম আমি আবেগের বশে ঠিক কত বড় ভুলটা করেছিলাম। আম্মুর বার বার জানতে চাওয়া, আমার কোনো পছন্দ আছে কি না, আব্বুর একই প্রশ্ন পরোক্ষভাবে জিজ্ঞেস করা সেই সাথে তোমার অতিরিক্ত যত্নে আমি পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছিলাম৷ তখন বুঝেছিলাম, আমার বাবা মা আমাকে খুব ভালোবাসে, তাদের ইচ্ছাশক্তি এতটায় প্রবল যে আমি চাইলে তারা পৃথিবীর সবকিছু আমার সামনে হাজির করতে পারে সেখানে তোমাকে আমার সাথে বিয়ে দেয়া তেমন কোনো বিষয় ই না। বরং তোমাকে চাইলে আব্বু আম্মু খুশিই হতো। কিন্তু ওনারা তো জানতো না যে আমি ওনাদের হৃদয় আগেই ভেঙে ফেলেছি আর না তুমি কিছু জানতে। ঐ পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমার বিয়ের কথা বলাটা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না আর না সম্ভব ছিল বিয়ের ঘটনা লুকিয়ে নতুন করে বিয়ে করা। তাছাড়া তখনও তোমার স্বপ্নের বাড়ি গিফট করা বাকি, তোমাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করাটাও বাকি ছিল। গত রমজানের আগে হুট সবার সামনে একদিন আমার বিয়ের কথা উঠল, তোমার আব্বু আগুনে ঘি ঢালার মতো কোথাকার কোন মেয়ের কথা বলল। আমি মেজাজ হারিয়ে বললাম ১ বছর বিয়েই করব না। আমি তাদের কিভাবে বুঝাতাম আমি যে তোমাকে বিয়ে করে ফেলেছি। তারপর রাকিবের বিয়ে ঠিক হলো, তখনও আব্বু আমাকে কথা শুনালো। এমনকি আমার নিজেরও খারাপ লাগছিল কারণ আমি যখন থেকে তোমাকে ভালোবাসি তারপর থেকেই বলছিলাম আমি যেভাবেই হোক রাকিবের আগে বিয়ে করব৷ বিয়ে করেও ছিলাম কিন্তু কাউকে বলতে পারছিলাম। আবেগ আর কষ্টগুলো নিজের ভেতর চাপিয়ে রাখতে রাখতে আর পারছিলাম না। রাকিবের গায়ে হলুদের রাতে ফুপ্পিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে শুধু একটা কথায় বলছিলাম,‘আমি ভুল করেছি, খুব বড় ভুল করেছি। সেই ভুলের শাস্তিস্বরূপ মেঘকে আমার থেকে কেড়ে নিও না। আমি মেঘকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।’ফুপ্পি নিরূপায় ছিল, আমার কান্না দেখে তবুও কয়েকবার আব্বুকে বলার চেষ্টা করেছে কিন্তু সাহস করে বলে উঠতে পারে নি। তারপর শুরু হলো তোমার আব্বুর ছেলে দেখা, বাধ্য হয়ে বাসায় রাগারাগি করলাম। তোমার বাসার কাজ শেষ করতে প্রজেক্টের দায়িত্ব নিয়ে দেশের বাহিরে গেলাম। বিয়ের কথা বাসায় বলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমার পুরোপুরি টার্গেট ছিল ১ তারিখ তোমাকে প্রপোজ করবো, রাতে বাসায় বিয়ের কথা বলব, বাসায় মানলে ২ তারিখ ধুমধাম করে গায়ে হলুদ হবে, না মানলে তোমাকে নিয়ে বাড়ি ছাড়বো। মাঝখান থেকে তুমি ৩ দিন আগে প্রপোজ করতে বের হয়ে সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছিলে। তবে যাই হোক রবের কাছে হাজারো শুকরিয়া যে কোনো ঝামেলা ছাড়ায় তোমাকে পেয়ে গেছি।”মেঘ হতবিহবল, পাথরের মতো বসে আবিরের মুখের পানে চেয়ে আছে। কিছু জিজ্ঞেস করা বা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। আবির দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখল। মেঘের হাত থেকে কাগজ নিতে নিতে মেঘের মসৃণ গালে চুমু খেয়ে হঠাৎ ই পুরু কন্ঠে বলে উঠল,” বউ, আমি তোমাকে ৫ মিনিট দিচ্ছি। এরমধ্যে টাশকি খাওয়া মুড থেকে বেড়িয়ে রোমান্টিক মুডে আসো। আমার বুকের ভেতর প্রেম ভালোবাসা ফুটন্ত গরম পানির মতো টগবগ করতেছে। তুমি রোমান্টিক মুডে না আসলে আমার অন্তর পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। তুমি কি তাই চাও?”মেঘ নির্বাক চোখে আবিরের দিকে তাকালো। আবির নিঃশব্দে হেসে চোখ টিপলো। আবিরের নির্লজ্জ মার্কা কথা আর কাণ্ড দেখে মেঘ না পারতেও কিঞ্চিৎ হাসল।★সকালে নাস্তার টেবিলে আবির আর মেঘ ব্যতীত সকলেই উপস্থিত, বন্যাও আজ সবার সাথে খেতে বসেছে। ইকবাল খান ধীর কন্ঠে শুধালো,“আবির আর মেঘ কি এখনও উঠে নি?”মালিহা খান মীমকে উদ্দেশ্য করে বলল,” মীম, দেখে আয় তো।”মীম সঙ্গে সঙ্গে উঠে গেল। আবিরের রুমের দরজায় ডাকতে গিয়ে খেয়াল করল দরজা খোলা, রুমে মেঘ আবির কেউ নেই। মীম রুমের ভেতরে ঢুকে ভালোভাবে দেখল। সহসা বাহিরে এসে উচ্চস্বরে বলল,” ভাইয়া, আপু কেউ ই রুমে নেই।”আলী আহমদ খান সঙ্গে সঙ্গে তানভিরের দিকে তাকালেন। তানভির আতঙ্কিত কন্ঠে বলল,” আমি সত্যিই কিছু জানি না। ”
পদ্মজা রান্নাঘরে জুলেখা বানুকে দেখে অবাক হলো। অচেনা হলেও সালাম দিল, ‘ আসসালামু আলাইকুম।’জুলেখা তীক্ষ্ণ চোখে পদ্মজার দিকে তাকালেন। অবহেলার স্বরে বললেন, ‘ওয়ালাইকুম আসসালাম।’রিনু ছিল রান্নাঘরে। পদ্মজা রিনুর দিকে তাকিয়ে ইশারায় প্রশ্ন করলো, অচেনা মহিলাটি কে? রিনু হেসে বললো, ‘মৃদুল ভাইজানের আম্মা।’পদ্মজার ঠোঁটে হাসি ফুটলো। জুলেখার দিকে এক পা এগিয়ে এসে বললো, ‘ দুঃখিত! চিনতে পারিনি। আপনি প্লেট ধুচ্ছেন কেন? রাখুন। আমি ধুয়ে দিচ্ছি।’জুলেখা মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনি চুপচাপ প্লেট ধুয়ে, চুপচাপ বেরিয়ে গেলেন। মুখের প্রতিক্রিয়াতে পদ্মজার প্রতি ছিল অবজ্ঞা,ঘৃণা। পদ্মজা মনে মনে আহত হয়। জুলেখার দৃষ্টি ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়ার মতো ছিল। পদ্মজা জুলেখার যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো। রিনু পদ্মজার পাশ ঘেঁষে দাঁড়ায়। ফিসফিসিয়ে বললো, ‘আমার মনডা কয়,এই বেডির উপর জিনের আছড় আছে!’পদ্মজা রিনুর দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালো। বললো, ‘উনি আমাদের বাড়ির মেহমান! মুখে লাগাম দাও রিনু। পূর্ণার জন্য খাবার নিতে পারবো?’লতিফা শাড়ির আঁচল দিয়ে হাত মুছতে মুছতে রান্নাঘরে ঢুকলো। পদ্মজার প্রশ্নের জবাবে বললো, ‘হ পদ্ম, নিতে পারবা। খাড়াও আমি দিতাছি। তুমি খাইবা কখন?’‘পূর্ণা আর আমার খাবার একসাথেই দিয়ে দাও বুবু।’‘দিতাছি। রিনু জলদি ওই বাডিডা(বাটি) দে।’রিনুর বদলে পদ্মজা এগিয়ে দিলো। খাবার নিয়ে উপরে যাওয়ার সময় পদ্মজাকে দেখে জুলেখা হাতের গ্লাস শব্দ করে টেবিলে রাখলেন। পদ্মজা বুঝতে পারে,জুলেখার ঘৃণা ও বিরক্তির কারণ! বোধহয় গতকালের অপবাদ তিনি শুনেছেন। পদ্মজার ভয় হয়। পূর্ণার বিয়েটা হবে তো? জুলেখাকে দেখে মনে হচ্ছে,বিয়ের কথা বলার অবস্থাতেও তিনি নেই। জুলেখার কপাল আর ভ্রুযুগলে পদ্মজার চোখ আটকে যায়। যেন হেমলতার কপাল আর ভ্রু দেখছে সে। হুবহু একরকম! পদ্মজার বুকটা হুহু করে উঠে। সে দুই চোখ মেলে জুলেখার কপালের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চোখের দৃষ্টিতে যেন জন্ম জন্মান্তরের দুঃখ। পদ্মজাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জুলেখা উঠে চলে যান। পদ্মজার সম্বিৎ ফিরলো। সে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে তৃতীয় তলায় চলে আসে। পূর্ণা দুই হাতে একটা বালিশ জড়িয়ে ধরে পরম আবেশে ঘুমাচ্ছে। জুলেখার কপাল,ভ্রু দেখে জেগে উঠা ব্যথা পূর্ণাকে দেখে আরো বেড়ে যায়। হেমলতার যৌবনকাল পূর্ণার বর্তমান রূপের প্রতিচ্ছবি। সেই মুখ,সেই ঠোঁট,সেই গাল। নাকের পাটা মসৃণ। এতো মিল দুজনের! পদ্মজা পূর্ণার মাথায় হাত রেখে হেমলতার কথা ভাবে।পুরনো স্মৃতিগুলো চোখের পাতায় জ্বলজ্বল করছে। পদ্মজা পূর্ণার মুখের দিকে তাকিয়ে অস্পষ্ট স্বরে উচ্চারণ করলো, ‘আম্মা।’তার দুই চোখ জলে ভরে উঠে। পূর্ণা কী কখনো জানবে? পদ্মজা পূর্ণার ঘুমন্ত মুখ দেখে বহুবার আম্মা বলে কেঁদেছে! সে মনকে বুঝিয়েছে, এইতো আম্মা আছে! আমার সামনেই আছে! আমি এতিম নই!পদ্মজা হাতের উল্টোপাশ দিয়ে চোখের জল মুছলো। পূর্ণা এতো আরাম করে ঘুমাচ্ছে যে পদ্মজার ঘুম ভাঙাতে মায়া হচ্ছে। কিন্তু বেলা করে খাওয়া তার একদম পছন্দ না। খেয়ে না হয় আরো ঘুমানো যাবে। পদ্মজা পূর্ণার চোখেমুখে স্নেহের পরশ বুলিয়ে ডাকলো, ‘পূর্ণা? পূর্ণা? এই পূর্ণা?’পূর্ণা ধীরে,ধীরে চোখ খুললো। পদ্মজা বললো, ‘সূর্য কখন উঠেছে খবর আছে? নামাযের তো নামগন্ধও নেই। যা দ্রুত হাত-মুখ ধুয়ে আয়।’পূর্ণা অন্যদিকে ফিরে চোখ বুজলো। সে ঘুমে বিভোর। পদ্মজা আবার ডাকলো। জোর করে তুলে কলপাড়ে পাঠালো। পূর্ণা ঘুমিয়ে,ঘুমিয়ে কলপাড়ে গেল। ফিরে এলো সতেজ হয়ে। ঘরে প্রবেশ করেই সোজা লেপের ভেতর ঢুকে পড়লো। পদ্মজাকে আহ্লাদী স্বরে বললো, ‘খাইয়ে দাও আপা।’পদ্মজা বিনাবাক্যে খাইয়ে দিল। পূর্ণা না বললেও খাইয়ে দিত। খাওয়ার মাঝে পূর্ণা কথা বলতে চেয়েছিল। পদ্মজা নিষেধ করে। খাওয়ার মাঝে কথা বলা ভালো না বলে চুপ করিয়ে দেয়। খাওয়া শেষে পদ্মজা বললো, ‘ শেষরাতে কোথা থেকে ফিরছিলি?’পূর্ণা চোখ বড়বড় করে তাকায়। তার হেঁচকি উঠে যায়। পদ্মজা পানি এগিয়ে দিল। তাকিয়ে রইলো সরু চোখে। পূর্ণা পানি পান করে মিনমিনিয়ে বললো, ‘আর যাব না।’পদ্মজা গুরুজনদের মতো বললো, ‘বাড়তি কথা না বলে প্রশ্নের উত্তর দেয়া বাধ্যতা।’পূর্ণা ভয়ে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। সে ঢোক গিলে নতজানু হয়ে বললো, ‘মৃদুল যে…উনার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।’‘সে ডেকেছিল?’‘হু।’‘আর তুইও চলে গেলি?’পূর্ণার মনে হচ্ছে সে ফাঁসির দঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। যেকোনো মুহূর্তে ঝুলে যাবে। পদ্মজা বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। ঘরের দুই দিকে জানালা আছে। পূর্ব দিকের জানালা খোলা। উত্তর দিকেরটা বন্ধ। সে উত্তর দিকের জানালা খুলতে খুলতে বললো, ‘ বিয়ের আগে মাঝরাতে দেখা করা কী ঠিক হলো? মৃদুল এখনো পর-পুরুষ। বিয়েও ঠিক হয়নি। যখন এসে শুয়েছিস তখন টের পেয়েছি। তার আগে টের পেলে কানে ধরে ঘরে নিয়ে আসতাম।’পূর্ণা অপরাধী কণ্ঠে বললো, ‘আপা,আর যাব না। ক্ষমা করে দাও।’পদ্মজা পূর্ণার পাশে এসে বসে। পূর্ণার হাতের উপর নিজের এক হাত রেখে বললো, ‘বিয়ের পর আমার বোনের জীবনে হাজার জ্যোৎস্না আসুক।’পূর্ণা তার অন্য হাত পদ্মজার হাতের উপর রাখলো। তারপর পদ্মজার চোখের দিকে তাকিয়ে ডাকলো, ‘আপা।’‘কী?’‘তোমাকে কে মেরেছে? কেন মেরেছে? তুমি রাতে কেন কেঁদেছো?’পদ্মজা তার হাত সরিয়ে নেয়। চোখমুখে কাঠিন্য ভাব চলে আসে। কণ্ঠে গাম্ভীর্যতা রেখে পদ্মজা বললো, ‘প্রশ্ন করতে নিষেধ করেছিলাম।’পূর্ণা চোখ নামিয়ে বললো, ‘আপা,আমি জানতে চাই।’পদ্মজা দাঁড়িয়ে পড়লো। বললো, ‘বাড়ি ফিরে যা। মৃদুলের আম্মা-আব্বা আসছে। যখন তোকে প্রয়োজন হবে ডেকে পাঠাব। তার আগে যেন এই বাড়ির আশেপাশেও না দেখি।’পদ্মজা ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হয়। পূর্ণা তার পায়ের উপর থেকে দ্রুত লেপ সরাল। তারপর দৌড়ে পদ্মজার সামনে এসে দাঁড়াল। অনুরোধ করে বললো, ‘আপা,আপা দোহাই লাগে বলো। আমি তোমার সব কথা শুনি। কিন্তু এইটা শোনা সম্ভব হচ্ছে না।’‘পূর্ণা!’পূর্ণা আচমকা পদ্মজার দুই পা জড়িয়ে ধরলো। কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো, ‘আপা,পায়ে পড়ছি আমাকে সব বলো। তোমার গালের ক্ষত,গলার দাগ আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমি শান্তি পাচ্ছি না। কে তোমাকে এত কষ্ট দিয়েছে? কে এতোবড় দুঃসাহস দেখিয়েছে? আমি তার কলিজা ছিঁড়বো।’পূর্ণার চোখের জল পদ্মজার পায়ে পড়ে। পদ্মজা পূর্ণাকে টেনে তুললো। পূর্ণার কাজল নয়ন দুটি জলে টুইটুম্বুর। যেন স্বচ্চ কালো জলের পুকুর।পদ্মজা পূর্ণার চোখের জল মুছে দিয়ে বললো, ‘কাঁদুনি।’পূর্ণা পদ্মজাকে জড়িয়ে ধরে। পদ্মজার শরীরে সে মা,মা গন্ধ খুঁজে পায়। সেই ছোটবেলা থেকেই পদ্মজা তার জীবন,তার আনন্দ। পদ্মজার গলার কালসিটে দাগটা যেন তারই বুকের আঘাত। রক্তক্ষরণ হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। পদ্মজা পূর্ণাকে অপেক্ষা করতে বলে,নিজের ঘরে যায়। আলমগীরের দেয়া খাম নিয়ে ফিরে আসে। দরজা বন্ধ করে পূর্ণাকে নিয়ে বিছানার উপর বসলো। এরপর বললো, ‘আমি জানি,আমার বোন বড় হয়েছে। সেই সাথে ধৈর্য্য,জ্ঞানও বেড়েছে। আমি একটা কারণেই তোকে সব জানাব,যাতে সাবধান থাকতে পারিস। আমি চাই, সব জানার পর তুই নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিবি না। আমি যেভাবে বলবো,সেভাবে চলবি। রাজি?’পূর্ণা বুঝতে পারছে সে ভয়াবহ কিছু জানতে চলেছে। উত্তেজনায় তার গায়ের পশম দাঁড়িয়ে পড়েছে। পূর্ণা বললো, ‘রাজি।’পদ্মজা হাতের খামটা পূর্ণার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো, ‘তিনটে চিঠি আছে। তিনটাই আলমগীর ভাইয়ার লেখা। আমি গতকাল পড়েছি। মন দিয়ে পড়বি। অনেক কিছু জানতে পারবি। আর যতটুকু বাকি আছে আমি বলব।’পূর্ণা প্রবল আগ্রহ নিয়ে খাম খুলে তিনটে চিঠি বের করলো। পদ্মজার কথামতো প্রথম একটা চিঠির ভাঁজ খুললো।——বোন পদ্মজা,সালাম নিও। তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই আমার। সেদিনের রাতে তোমার আগমন আমার জীবনে নিয়ে এসেছে আনন্দ। পৌঁছে দিয়েছে আলোর জগতে। যে জগতে বাঁচার জন্য পিছনের প্রতিটি মুহূর্ত অসহনীয় যন্ত্রণায় কাটিয়েছি। জানি না এতো পাপ করার পরও করুণাময় কেন আমার প্রতি এতো উদার হলেন! তিনি চেয়েছিলেন বলেই, তুমি ফেরেশতার মতো হাজির হয়েছিলে। বাঁচিয়েছিলে আমাকে আর রুম্পাকে। যখন তুমি এই চিঠি পড়ছো,তখন তোমার অবস্থা কী আমি জানি না। হয়তো সব জেনে গিয়েছো নয়তো এখনো অন্ধকারে ডুবে আছো। যদি অন্ধকারে ডুবে থাকো তাহলে আমি তোমাকে আলোর সন্ধান দেব। সব জানার পর সিদ্ধান্ত তোমার। চিঠিটা বোধহয় বড় হয়ে যাবে। এক পৃষ্ঠাতে হবে না। ধৈর্য্য ধরে সবটুকু পড়ো। আমি তোমাকে একটা তিক্ত দীর্ঘ গল্প শোনাবো। গল্পটার কেন্দ্রবিন্দু আমির হলেও জড়িয়ে আছি অনেকেই।যখন আমিরের জন্ম হয় কাকি আম্মার পর সবচেয়ে বেশি খুশি হই আমি। কাকি আম্মা বড় দুঃখী ছিলেন। কাকা মারধর করতেন খুব। নিজ চোখে কাকি আম্মাকে বিবস্ত্র করে মারতে দেখেছি। আমার ছোট মন লজ্জায় মিইয়ে গিয়েছিল। লুকিয়ে কেঁদেছিলাম। কিন্তু কাকা বা আব্বা কাউকে একটুও মায়া দেখাতে দেখিনি,লজ্জা পেতে দেখেনি। তাদের চোখেমুখে সর্বক্ষণ হিংস্রতা ছিল। আমি খুব ভয় পেতাম আব্বাকে। ভীতু ছিলাম। আমার কাছে আমার আব্বা,কাকাই ছিল ভূত,রাক্ষস। আমার আম্মা সবসময় পাথরের মতো নিশ্চুপ। তার অনুভূতি অসাড়। কাকি আম্মা ছিলেন আমার মা। তিনি বহুবার আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটা ছেলের জন্য আক্ষেপ করেছেন। কাকি আম্মা বলতেন,সেই ছেলে এসে নাকি কাকি আম্মার সব দুঃখ ঘুচে দিবে। যখন সেই ছেলেটা এলো আমি অনেক খুশি হই। এবার বুঝি কাকি আম্মার কষ্ট কমবে। কাকি আম্মা বলেছিলেন, আমির হবে পুলিশ। সব অন্যায়কারীকে শাস্তি দিবে আর আমি হবো শিক্ষক। শুধু কাকি আম্মার না আমারও ইচ্ছে ছিল আমি শিক্ষক হবো। ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়াবো। সব বাচ্চাদের আদর্শ হবো। সবাই দেখে সালাম দিবে,সম্মান করবে। সারাক্ষণ হাতে একটা বই নিয়ে হাঁটবো। এই স্বপ্ন নিয়েই পড়তে থাকি স্কুলে। এর মাঝে আব্বা একটা বাচ্চাকে নিয়ে আসে। বলে, সে নাকি আমাদের আরেক ভাই। তার নাম রাখে রিদওয়ান। আমরা চার ভাই হয়ে যাই। আমি,জাফর,রিদওয়ান,আমির একসাথে এক স্কুলে পড়েছি। রিদওয়ান,আমির এক শ্রেণির ছিল। ছোট থেকেই আমিরের শরীরে ছিল অবাক করার মতো শক্তি। ওর মেধা ছিল ধারালো। আমরা সবাই ধরেই নিয়েছিলাম,আমির পুলিশ হবে। অনেক বড় পুলিশ হবে। পুরো দেশ চিনবে। ঠিক তখনই আমাকে আর জাফরকে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয় অভিশপ্ত এক কালো জীবনের সামনে। যে জীবনে টাকা, নারী আর রক্তের খেলা চলে। আমাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়,নারী হচ্ছে ভোগের বস্তু। পাতালঘরে বনেদি ঘরের দুই-তিনজন পুরুষের দেখাও মিলে। তারা দুজন নারীকে আমাদের সামনে কুৎসিত ভাবে আঘাত করে। আব্বা,কাকা উপভোগ করে সেই দৃশ্য। সেই অসহায় দুই নারীর চিৎকারে কলিজা ছিঁড়ে যায় আমার। আব্বা আর কাকার পায়ে পড়েছি যাতে তাদের ছেড়ে দেয়। কিন্তু ছাড়েনি। রক্ত দেখে জাফর জ্ঞান হারায়। ও রক্ত সহ্য করতে পারতো না। রক্তে খুব ভয় ছিল জাফরের। একটা তেরো বছরের মেয়েকে বাঁধা অবস্থায় আমার হাতে তুলে দেয়া হয়। আব্বা আমাকে বুঝায়,মেয়েটার সাথে কী করতে হবে! জানতে পারি, বাড়ির পিছনে জঙ্গলে অবস্থিত এই পাতালঘর অনেক বছরের পুরনো। আমাদের বংশের প্রতিটি পুরুষের একমাত্র পেশা পতিতাবৃত্তি ও নারী ধর্ষণ। আমাদের অঢেল সম্পদ পতিতাবৃত্তির টাকায় করা। নারী বিক্রির টাকায় করা! একরকম বাধ্য হয়েই আমাকে অভ্যস্ত করে দেওয়া হয় এই পথে। ঘৃণায় বমি করেছি অনেকবার। ধর্ষণের পর কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হতো মেয়েগুলোকে। আমার জীবন হয়ে উঠে দূর্বিষহ।তবে ঘরে ফিরে শান্তি লাগতো। আমির ছিল সেখানে। আমিরের দুষ্টুমি আমাকে খুব হাসাতো। আমিরের একটা দোষ ছিল,ও রিদওয়ানকে খুব অত্যাচার করতো। দুজনের সম্পর্ক ছিল সাপে-নেউলে। সে যাই হোক, আমিরের সঙ্গ ছিল শান্তির! ওর চঞ্চলতা,সাহসিকতা ছিল মুগ্ধ করার মতো। আমার সেই শান্তিও একদিন নষ্ট হয়ে যায়। যেদিন নানাবাড়ি থেকে ফিরে পাতালঘরে প্রবেশ করে রিদওয়ান আর আমিরের উপস্থিতি দেখি! আমির তখন পুরোদমে পনেরো বছরের একটা মেয়েকে পেটাচ্ছিল! আমিরের চোখেমুখের হিংস্রতা আমাকে অবাক করে দেয়। আমি কিছুতেই মানতে পারছিলাম না,আমার প্রিয় ভাইয়ের এই রূপ! এই জীবন!এর পরের কথাগুলো তোমার জন্য খুব কষ্টের হবে পদ্মজা। দয়া করে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিয়ে আবার পড়া শুরু করো।——পূর্ণা থামে। তার শরীর কাঁপছে। অস্বাভাবিকভাবে কাঁপছে। সে ছলছল চোখে পদ্মজার দিকে তাকায়। তার চোখে খুব ভয়,ঘৃণা। সে স্পষ্ট স্বরে উন্মাদের মতো ডাকলো, ‘আপা…এই আপা।’পদ্মজা পূর্ণার এক হাত শক্ত করে ধরলো। বললো, ‘ভাইয়া আমাকে যা বলেছেন,তাই কর। প্রাণভরে নিঃশ্বাস নে।’পূর্ণার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। তার মাথা ভনভন করছে। শরীর যেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। সে পদ্মজার এক হাত শক্ত করে ধরে জোরে নিঃশ্বাস নিল। বুকে অপ্রতিরোধ্য তুফান বয়ে যাচ্ছে! আমির তার কাছে আপন বড় ভাই। সম্মানীয় বড় ভাই! এই ব্যথা সহ্য করতে পারবে না সে। পুরো শরীরে তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে।
স্বাধীনতা মহান আল্লাহর নিয়ামত। আরবি ভাষার প্রবচন-‘দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ’। জন্মভূমি মক্কার প্রতি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অপরিসীম ভালোবাসার কথা বিশ্ববাসীর জানা। প্রতিপক্ষ মুশরিকদের হিংস্রতার শিকার হয়ে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যেতে বাধ্য হন। তিনি যখন মদিনার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তখন পেছন ফিরে প্রিয় মাতৃভূমির দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, ‘হে প্রিয় জন্মভূমি মক্কা আমার! যদি তোমার অধিবাসীরা আমাকে বাধ্য না করত আমি কোনো দিন তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।’ জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা আমরা পেয়েছি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে। সে অর্থে জন্মভূমিকে ভালোবাসা রসুলের সুন্নত। তাফসিরে কুরতুবির বর্ণনা অনুযায়ী-যখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করছিলেন তখন তাঁর চোখ সজল হয়ে উঠেছিল। দেশের জন্য, জন্মভূমির জন্য তাঁর দরদ ও ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। পরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রিয় হাবিবের মাধ্যমে মক্কাকে মুশরিকদের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে, স্বাধীনতা দিয়ে ধন্য করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় আছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনাকেও খুব ভালোবাসতেন। কোনো সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকালে মদিনার সীমান্তে ওহুদ পাহাড় চোখে পড়লে নবীজির চেহারায় আনন্দের আভা ফুটে উঠত এবং তিনি বলতেন, ‘এ ওহুদ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও ওহুদকে ভালোবাসি (বুখারি, মুসলিম)।’বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে। মানুষ হত্যাকে ইসলামে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে তারা জঘন্য অপরাধী। গণহত্যা আরও বড় অপরাধ। আল্লাহতায়ালার যত সৃষ্টি রয়েছে এর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হচ্ছে মানুষ। মানবসৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করেছেন এবং মানুষকে এই জমিনে তাঁর প্রতিনিধি বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন তারা বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গাহাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা প্রতিনিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না (সুরা বাকারা, আয়াত ৩০)।’মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই আল্লাহ মানুষকে তাদের দান করেছেন সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।’ সুরা তিন, আয়াত ৪। শুধু তা-ই নয়, আল্লাহর সুস্পষ্ট বাণী হচ্ছে, এই বিশ্বজগতের সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন কেবল মানুষেরই জন্য। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তিনিই সেই সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য জমিনের সবকিছু (সুরা বাকারা, আয়াত ২৯)।’ আল্লাহ যেমন ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি মানবজাতির সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছেন। একজন মানুষের জীবন, সম্পদ, মানসম্মান আল্লাহর কাছে এত দামি যে কোরআন ও হাদিসে এসব বিষয়ের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল কোরআনে একজন মানুষ হত্যা করাকে গোটা মানবজাতিকে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।হিজরতের পর মদিনায় হজরত আবুবকর (রা.) ও বেলাল (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তাঁদের মনে প্রিয় স্বদেশ মক্কার স্মৃতিচিহ্ন জেগে উঠেছিল। তাঁরা জন্মভূমি মক্কার কথা স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়ে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের মনের এ দুরবস্থা দেখে প্রাণভরে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমরা মক্কাকে যেমন ভালোবাসি মদিনার ভালোবাসা তার চেয়েও বেশি আমাদের অন্তরে দান করুন। বুখারি।’ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে স্বদেশকে ভালোবেসে আমাদের জন্য দেশপ্রেমের আদর্শ রেখে গেছেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি কেউ তোমাদের কোনো উপকার করে তবে তাকে প্রতিদান দেবে। যদি প্রতিদান দিতে না পার তবে তার জন্য এমনভাবে দোয়া করবে, যেন তোমাদের মন সাক্ষ্য দেয়, হ্যাঁ তোমরা তার প্রতিদান দিয়ে দিয়েছ (আবু দাউদ)।’ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর তবে তা শেষ করতে পারবে না (সুরা নাহল আয়াত ১৭)।’ আল্লাহর দেওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নেয়ামত হলো স্বাধীনতা। বাংলাদেশের মানুষ দুই যুগের দীর্ঘ সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আল্লাহর এ নেয়ামত অর্জন করেছে। আমাদের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর কাছে এই দিনে আমরা তাঁদের জন্য দোয়া করব। আল্লাহ তাঁদের বেহেশতের সুশীতল স্থানে ঠাঁই দিন।লেখক : ইসলামিক গবেষক
আমার প্রায় লেখাগুলোই শুরু হয় আমাদের জ্ঞানহীনতার আহাজারি দিয়ে। ব্যাপারটা একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সত্যি কথা এটাই যে মুসলিম হিসেবে যা জানার কথা ছিল ক্লাস ফোর-ফাইভে, সেটা আমি জেনেছি অনার্স পরীক্ষা দেবার পর! এরকম ইসলামের খুব বেসিক কিন্তু একেবারেই অজানা একটা বিষয় হল সুন্নাত।সুন্নাত শব্দটার সরল অর্থ পথ, নিয়ম বা রীতি। সুন্নাতুল্লাহ মানে আল্লাহর রীতি। সুন্নাতুর রসুল মানে রসুল(সাঃ) এর পথ, তাঁর রীতি। কিন্তু ইসলামি পরিভাষায় সুন্নাত শব্দটি বিভিন্ন শাখার স্কলাররা বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করেছেন। যেমন –১. ফিক্হ (ইসলামি আইন) শাস্ত্রে সুন্নাত বলতে বোঝায় এমন কাজ যা করা ভাল কিন্তু তা করতে মানুষ বাধ্য নয়। যেমন ফজরের ফরযের আগের দুই রাকাত নামাজ সুন্নাত। এটা কেউ না পড়লে পাপী হবেনা কিন্তু পড়লে অনেক অনেক সাওয়াব – আসমান এবং জমিনের মাঝে যা কিছু আছে তার থেকে এ দু’রাকাত নামায উত্তম বলে রসুল(সাঃ) আমাদের জানিয়ে গেছেন। এই ‘সুন্নাত’ মুস্তাহাব/মানদুব/পছন্দনীয়/Recommended এর সমার্থক শব্দ।২. হাদীস শাস্ত্রে রসুল(সাঃ) এর কথা, কাজ, মৌন সম্মতির পাশাপাশি অভ্যাস, দৈহিক বৈশিষ্ট্য অথবা জীবনবৃত্তান্ত – যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবই সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন তিনি লাউ খেতে ভালোবাসতেন এটা সুন্নাত, ঘুমের সময় তার হালকা নাক ডাকার শব্দ হত সেটাও সুন্নাত আবার তিনি মাথায় পাগড়ি পড়তেন এটাও সুন্নাত।৩. উসুলুল ফিক্হ (ইসলামি আইনের মূলনীতি) শাস্ত্রে সুন্নাত বলতে বোঝায় রসুল(সাঃ) এর কথা – আদেশ, উৎসাহ, অনুমোদন, অপছন্দ বা নিষেধ; তাঁর কাজ যা অন্যদের জন্য অনুকরণযোগ্য এবং তাঁর মৌন সম্মতি (কারণ কোন খারাপ কাজ হবে আর তিনি চুপ করে থাকবেন তা হবার নয়) সবকিছুর সমন্বয়কে।ভিন্ন ভিন্ন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন পটভূমিতে সুন্নাত শব্দের চলের ফলে আমরা প্রায়ই ভুল বুঝাবুঝির শিকার হই। খুব প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা –১. কুর’আনের সব আদেশ মানা বাধ্যতামূলক কিঃআল কুর’আনের সব আদেশ মুসলিমদের উপর ফরয নয়। যেমন সুরা বাক্বারার ২৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন – “…আর তোমরা বেচা-কেনা করার সময় সাক্ষী রাখ…” আল্লাহর এই আদেশটি অবশ্য পালনীয় নয় বরং মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়। আল্লাহ তার অসীম করুণায় এটা আমাদের উপর ফরয করে দেননি, দিলে দৈনন্দিন জীবন যাপনে আমাদের অনেক অসুবিধা হত।কুর’আন যেহেতু রসুল(সাঃ) এর উপর নাযিল হয়েছিল তাই এর বিধানগুলো কিভাবে মানতে হবে তা জানার জন্য আমাদের যেতে হবে রসুল(সাঃ) এর কাছে। কুর’আনের কোন আদেশের মর্যাদা কী তা ফকীহ আলিমরা সেই বিষয়ের উপর কুর’আন এবং হাদিসের সমস্ত সূত্র এক করে গবেষণা করে বের করেন। যেমন উল্লেখিত আয়াত রসুল(সাঃ) এর উপর নাযিল হওয়া সত্ত্বেও তিনি অনেক সময় সাক্ষী ছাড়াই কেনাকাটা করতেন। তার এ আচরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে এটা অবশ্য করণীয় নয়।২. হাদিসের আদেশ কি মানলেও চলে, না মানলেও চলেঃকোন ব্যাপারে রসুল(সাঃ) এর আদেশ মানা বাধ্যতামূলক হতে পারে যদিও হয়ত সে ব্যাপারে কুর’আন থেকে সরাসরি কোন বিধান নেই। যেমন রসুল(সাঃ) বলেছেন –“গোঁফ ছেঁটে রাখ এবং দাড়িকে ছেড়ে দাও”এখানে দাড়ির ব্যাপারে রসুল(সাঃ) “আমার প্রভু আমাকে আদেশ করেছেন” – এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন। এটি সহ দাড়ির ব্যাপারে অন্যান্য সব হাদিস একসাথে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে দাড়ি রাখা প্রত্যেক মুসলিম পুরুষের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক।অনেকে মনে করেন দাড়ি রাখা রসুলের সুন্নাত। এখানে সুন্নাত বলতে বুঝিয়েছে রসুল(সাঃ) এর একটি অভ্যাসকে। কিন্তু এই অভ্যাস আসলে ‘করলে ভালো না করলে ক্ষতি নেই’- এমন স্ট্যাটাসের না। এটা ফরয যা করতে প্রত্যেক মুসলিম বাধ্য। যদি কেউ দাড়ি না রাখে তবে তার জন্য তাকে রসুল(সাঃ), প্রকারান্তরে আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করায় পরকালে শাস্তি পেতে হবে।৩. সব সুন্নাতই কি অনুকরণীয়ঃযেসব সুন্নাত রসুল(সাঃ) এর অভ্যাসগত বা জীবন যাপনের সাথে সম্পর্কিত তার সব কিছু মানতে মুসলিম বাধ্য নয়। যেমন রসুল(সাঃ) ঘুমানোর সময় তার নাক ডাকতো। এখন আমাদেরও নাক ডাকতে হবে এমনটা জরুরী নয়। ঠিক তেমন রসুল(সাঃ) যে ধরণের পোষাক পরতেন তা তিনি আমাদের জন্য অনুকরণীয় করেননি। করলে দেখা যেত শীতের দেশের মুসলিমরা কিংবা আমাদের মত পানির দেশের মুসলিমরা সে ধরণের পোশাক পরতে না পারার কারণে সাওয়াবের দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই তিনি পোশাকের একটি রূপরেখা দিয়ে দিলেন। সে রূপরেখা মেনে চললে পৃথিবীর যে কোন এলাকার মুসলিম নিজেকে আবৃত করতে পারবে, পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলাচল করতে পারবে আবার রসুল(সাঃ) এর আদেশ মানার মাধ্যমে পূণ্যার্জনও করতে পারবে।৪. রসুলের আনুগত্য কি বাধ্যতামূলকঃমানুষ হিসেবে রসুল(সাঃ) এর কিছু কাজ আমাদের জন্য অনুকরণীয় নয় বটে কিন্তু রসুল হিসেবে তার সব কাজই আমাদের জন্য অনুকরণীয়। কিছু কিছু ব্যাপারে তার অনুকরণ করাটা পছন্দনীয় এবং বাঞ্চনীয় – যেমন তার চারিত্রিক শিষ্টাচার। আবার কিছু কিছু ব্যাপারে তাকে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আসলে তিনি যত আদেশ দিয়েছেন তা যদি অন্য কোন কথা বা কাজ দিয়ে লঘু না করে থাকেন তবে সেটা আমাদের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক। এটা সময় বা পরিবেশের সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল নয়। যেটা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বদলে যেতে পারে সেটা আমাদের উপর বাধ্য করা হয়নি। সত্যি কথা বলতে গেলে ইসলামটা আসলে রসুলের আনুগত্যের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষের জীবনে ইসলামের রূপটা কেমন হবে তার জ্বলন্ত উদাহরণ রসুল(সাঃ)। এ কারণেই আল্লাহ কুর’আন আকাশ থেকে পৃথিবীতে ঠাস করে ফেলে দেননি, একজন মানুষ নবীর উপর নাযিল করেছেন। এতে কুর’আনের তাত্বিক ও ব্যবহারিক ব্যাখ্যা সমেত মানব্জাতির কাছে আল্লাহর পুরো মেসেজটাই কিয়ামাত পর্যন্ত সংরক্ষণ করা গেছে। আর মূলতঃ এই কারণে হাফ-কাফির / ফুল-কাফির / ওরিয়েন্টালিস্ট / মুক্তমনাদের আক্রমণের কেন্দ্র ক্বুর’আন নয়, সুন্নাতুর রসুল। সুন্নাত আছে মানে কুর’আন যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যাখ্যা করার দরজা বন্ধ। সুন্নাত নেই মানে ‘মারি তো গন্ডার লুটি তো ভান্ডার’।৫. নামাযে টুপি পড়া কি সুন্নাতঃপাগড়ি বা টুপি জাতীয় পোশাক পড়া ছিল রসুল(সাঃ) এর অভ্যাস। কিন্তু তিনি সহিহ হাদিসে নামাযের পড়ার সাথে টুপির বিষয়টা সম্পর্কযুক্ত করেননি। নামাযের সময় ভালো পোশাক পরতে আদেশ দেয়া হয়েছে কুর’আনে কারণ অজ্ঞ মুশরিকরা নগ্নদেহে কাবা ঘর তাওয়াফ করত। এর বিরুদ্ধাচারণ করতে বলা হয়েছে ইসলামে। আমরা কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গেলে বা গুরুত্বপূর্ণ কোন মানুষের সাথে দেখা করতে হলে আমাদের সবচেয়ে ভালো পোশাক পড়ে যাই। একজন মুসলিমের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্ত্বা আল্লাহ, সবচেয়ে দামী জায়গা মসজিদ – তাই সে সেখানে সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে দামী পোশাক পড়ে যাবে এটাই কাম্য। কারো যদি টুপি পড়ার অভ্যাস থাকে সে অবশ্যই টুপি পড়ে নামায পড়তে পারে। কারো যদি অভ্যাস না থাকে কিন্তু শুধু নামাযের জন্য টুপি পড়ে তবে সেটা ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক আছে যতক্ষণ না সে মনে করছে এই টুপি পড়ায় বাড়তি কোন সাওয়াব আছে। পাগড়ি বা টুপি পড়ায় যদি বাড়তি কোন সাওয়াব থাকতো তবে তা রসুল(সাঃ) বলে যেতেন। যেহেতু তিনি তা বলে যাননি সেহেতু কেউ যদি ভাবে ‘টুপি/পাগড়ি পড়লে সাওয়াব হয়’ অথবা ‘টুপি/পাগড়ি নামাযের একটি অংশ’ তবে সেটা হবে বিদ’আত। এখানে কাজটা অভ্যাসগত সুন্নাত অথচ কাজের সাথে মিশে থাকা বিশ্বাসটা বিদ’আত। কোনটায় সাওয়াব হবে সেগুলো খুব স্পষ্টভাবে কুর’আন এবং সুন্নাহতে বলে দেয়া আছে – আমার মনে করাকরির কোন স্থান ইসলামে নেই।৬. সুন্নাতি লেবাস কিঃরসুল(সাঃ) তোফ মানে ঢিলেঢালা লম্বা জামা পড়তেন যার দৈর্ঘ্য ছিল হাটু থেকে গোড়ালির মাঝামাঝি পর্যন্ত। এখন কেউ একটা পাঞ্জাবি পড়ল যা হাটু পর্যন্ত। আর আমি একটা তোফ পড়লাম যা প্রায় গোড়ালি ছুঁই-ছুঁই। এখন যদি আমি মনে করি এটা পড়ে আমি একটু বেশি সাওয়াব পাচ্ছি তবে সেটা হবে বিদ’আত। কারণ জামার ধরণ বা দৈর্ঘ্যের সাথে সাওয়াবের কোন সম্পর্ক আল্লাহ বা তার রসুল(সাঃ) করেননি। আমাদের দেশে সুন্নাতি লেবাসের যে ধারণাটি প্রচলিত আছে তা আসলে সুন্নাতি লেবাসের একটা রূপ মাত্র, পুরো চিত্রটা নয়।তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে দেয়া উচিত। রসুল(সাঃ) কে ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ। যে কেউ রসুল(সাঃ)কে ভালোবেসে শরিয়াতের সীমার মধ্যে কিছু করলে সেটা সে যাই করুক না কেন সেজন্য সে সাওয়াব পাবে। তবে সে সাওয়াব হবে ‘রসুল কে ভালোবাসা’-এই মূলনীতির আওতায়। অর্থাৎ কেউ যদি সবসময় টুপি পড়ে থাকে তবে সে রসুল(সাঃ) কে ভালোবেসে অনুকরণ করার কারণে সাওয়াব পাবে, কিয়ামাতের বিপদে রসুলের সান্নিধ্য পাবে। কেউ যদি লাউ খেতে ভালোবাসে এজন্য যে রসুল(সাঃ) তা ভালোবাসতেন তবে রসুল(সাঃ) কে ভালোবাসার কারণে সে সাওয়াব পাবে – ‘লাউ খাওয়া’ এ কাজটির কারণে সাওয়াব পাবেনা।সাধু সাবধানঃআমাদের দেশের তথাকথিত সচল-আলোকিত শ্রেণীর মানুষের গা-জ্বালা করা দু’টি ব্যাপার আছে – দাড়ি ও টুপি। প্রথমটি ফরয এবং দ্বিতীয়টি সুন্নাত। কারো যদি এ দু’টি দেখে গা জ্বালা করে তবে বুঝতে হবে তার গা-জ্বালার আসল কারণ ইসলাম। দাড়ি-টুপি ইসলামের বাহ্যিক প্রতীকগুলোর মধ্যে দু’টি উল্লেখযোগ্য প্রতীক।আমরা আসলে ‘পা-ঝাড়া’ মুসলিম। সপ্তাহে একদিন সামাজিকতার খাতিরে জুম’আর নামায পড়তে আমরা মসজিদে যাই। সেখান থেকে বের হয়ে প্রথম যে কাজটা করি তা হলো গোটানো প্যান্টটা ঝেড়ে ছেড়ে দেই গোড়ালির নিচে। এই পা ঝাড়ার সময় যতটুকু ইসলাম ভুল করে মসজিদ থেকে পায়ে লেগে গিয়েছিল সেটুকু ঝেড়ে ফেলে দিলাম। এই আমরা কথায় কথায় ছাগু বলি, রাজাকারের কার্টুন আঁকার সময় দাড়ি আর টুপি আঁকি। সাকা চৌধুরী তো বিখ্যাত রাজাকার – তার মত মাকুন্দ রাজাকারের কোন ক্যারিকেচার কেন কেউ কখনো আঁকলোনা? কারণটা খুব স্পষ্ট – যাতে দাড়ি আর টুপি তথা ইসলামকে রাজাকারের প্রতিশব্দ করে ফেলা যায়। আজ সেটা খুব সফলভাবে করা গেছে। যে মুসলিম নিজের ধর্মের প্রতীক প্রকাশে লজ্জা পাবে এমন মুসলিমই তো শয়তান চেয়েছিল। নিজের ইসলামকে কাফিরদের মন মত করে সাজিয়ে নেবে এমন মুসলিমের পরিকল্পনাই তো কাফিররা করেছিল। রজম, চার বিয়ে আর মেয়েদের পর্দার মত ‘নোংরা’ (নাউযুবিল্লাহ) সুন্নাত মুসলিমরা ঝাড় দিয়ে পরিষ্কার করে খাটের তলায় লুকোবে আর হাত কাঁচু-মাচু করে বলবে – না, না এসব আসল ইসলাম নয় – এমন মুসলিমদের স্বপ্নই দেখেছে কাফিরেরা, আজীবন।ইসলাম মানে আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তার পুরোটাই মেনে নেয়া। যেটুকু আমার ভাল লাগে বা যেটুকু আমার বুঝে আসে বা যেটুকু মানলে আলোকিত সচল হওয়া যাবে, সুশীল সমাজ ভাল বলবে শুধু সেটুকু মানার নাম ইসলাম নয়। আমাদের মত সুশীল/সচল হবার দৌড়ে মত্ত আপাত মুসলিমদের আল্লাহ খুব বড় একটা ধাক্কা দিয়েছেন এভাবে –“…..তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান কর? সুতরাং তোমাদের যারা এরকম করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে হীনতা এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে।………” [সূরা বাক্বারা, ২ : ৮৫]আবার বলি। শ্যাম এবং কূল দুটো একসাথে রাখার কোন সিস্টেম ইসলামে নাই। বাঁশি সহ শ্যামকে ওয়াক-আউট না করাতে পারলে ইসলাম থাকবেনা। একটা মানুষ হয় মুসলিম নাহয় কাফির – মাঝামাঝি কিছু নেই। আর মুসলিম মানে সুন্নাতের কাছে আত্মসমর্পণ। একজন কত ভালো ভাবে আত্মাকে সমর্পণ করতে পারলো সেটা দিয়ে নির্ধারিত হবে সে কোন গ্রেডের মুসলিম। পা-ঝাড়া মুসলিম হয়ে এপারে জানাজাটুকু মিললেও ওপারে কিন্তু কেবলই কাঁচকলা।
আলেম সমাজ একমত যে বুখারী ও মুসলিম বিশুদ্ধ কিতাব। এ দু’টি কিতাবকে একত্রে ‘ছহীহায়ন’ তথা বিশুদ্ধ দু’খানা কিতাব বলা হয়। বুখারী ও মুসলিমের বিশুদ্ধতার বিষয়ে মনীষীদের সুচিন্তিত অভিমত নিম্নে প্রদত্ত হ’ল-ছহীহ বুখারী :১. জমহূর মুহাদ্দিছীনে কেরামের মতে,أصح الْكتب بعد كتاب الله الصحيح البخارى- ‘আল্লাহর কিতাব কুরআনুল কারীমের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হ’ল ছহীহুল বুখারী’।[1]২. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী ইমাম নববী সহ অসংখ্য মুসলিম মনীষী বলেছেন,اتفق العلماء رحمهم الله على أن أصح الكتب بعد القرآن العزيز الصحيحان البخاري ومسلم وتلقتهما الأمة بالقبول وكتاب البخاري أصحهما وأكثرهما فوائد ومعارف ظاهرة وغامضة- ‘জমহূর ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কুরআনুল কারীমের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হ’ল ‘ছহীহায়ন’ তথা ছহীহ বুখারী ও ছহীহ মুসলিম। আর ছহীহ বুখারী হ’ল উভয় কিতাবের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম, অধিক উপকারী, সুপরিচিত ও সূক্ষ্ম’।[2]৩. হাফেয মূসা ইবনে হারূণ বলেন,لو أن أهل الاسلام اجتمعوا على أن ينصبوا آخر مثل محمد بن إسماعيل ما قدروا عليه- ‘যদি সকল মুসলমান একত্রিত হয়ে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত ছহীহ আল-বুখারীর মতো উঁচু মানের ও বিশুদ্ধ কিতাব সংকলন করতে চেষ্টা করে, তবুও তারা তা করতে সক্ষম হবে না’।[3]৪. হাফেয আবু ইয়ালা আল-খলীলী স্বীয় ‘ইরশাদ’ গ্রন্থে লিখেছেন,رحم الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل فَإِنَّهُ ألف الْأُصُول يَعْنِي أصُول الْأَحْكَام من الْأَحَادِيث وَبَين للنَّاس وكل من عمل بعده فَإِنَّمَا أَخذه من كِتَابه كمسلم بن الْحجَّاج ‘আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রহঃ)-এর প্রতি রহম করুন। কেননা তিনি ইলমে হাদীছের হুকুম-আহকাম তথা মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন ও তাঁর পরে যারা একাজ করবে তাদের প্রত্যেকের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। বস্ত্তত তাঁর সংকলিত ছহীহ বুখারী থেকে অন্যান্য মুহাদ্দিছ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। যেমন ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)।[4]৫. ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেন, ما فى هذه الكتب كلها أجود من كتاب البخارى- অর্থাৎ ‘হাদীছের এসব কিতাবের মধ্যে ছহীহ আল-বুখারী অপেক্ষা অধিক উত্তম আর কোন কিতাব নেই’।[5]৬. আবূ জা‘ফর মাহমূদ ইবনে আমর আল-আকীলী বলেন, لما ألف البُخَارِيُّ كتاب الصَّحِيْح عرضه على أَحْمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين وعَلى بن الْمَدِينِيّ وَغَيرهم فاستحسنوه وشهدوا لَهُ بِالصِّحَّةِ الا فِي أَرْبَعَة أَحَادِيث- অর্থাৎ ইমাম বুখারী (রহঃ) ছহীহ আল-বুখারীর পান্ডুলিপি আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আহমাদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ সমকালীন জগদ্বিখ্যাত মনীষীগণের নিকট পেশ করেন। তাঁরা একে উত্তম বলে অভিহিত করেন এবং মাত্র চারটি হাদীছ ব্যতীত সকল হাদীছের বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি প্রদান করেন। অবশ্য ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর শর্তে ঐ চারটি হাদীছও ছহীহ’।[6]৭. আবু যায়েদ আল-মারওয়াযী বলেন,كنت نَائِما بَين الرُّكْن وَالْمقَام فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَنَامِ فَقَالَ لي يَا أَبَا زيد إِلَى مَتى تدرس كتاب الشَّافِعِي وَلاَ تدرس كتابي، فَقلت يَا رَسُول الله وَمَا كتابك قَالَ جَامع مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل- অর্থাৎ আমি রুকনে ইয়ামানী ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝামাঝি স্থানে ঘুমন্ত ছিলাম। এ সময় আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বলছেন, হে আবু যায়েদ! শাফেঈর কিতাবের দারস আর কতদিন দিবে, আমার কিতাবের দারস দিবে না? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনার কিতাব কোনটি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারীর জামি‘ তথা ছহীহ বুখারী।[7]ছহীহ মুসলিম :এ বিশ্বে ইলমে হাদীছের যতগুলো কিতাব সংকলিত হয়েছে, তন্মধ্যে দু’টি কিতাবকে ওলামায়ে কেরাম ‘ছহীহায়ন’ তথা ‘বিশুদ্ধতম দু’টি কিতাব’ বলে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এ ছহীহায়নের একটি হ’ল ছহীহ মুসলিম। অধিকাংশ মুহাদ্দিছীনে কেরাম ছহীহায়নের ছহীহ বুখারীকে সর্বাধিক বিশুদ্ধতম বলে অভিমত পোষণ করলেও আবু আলী নিসাপুরীসহ মুসলিম বিশ্বের ও পাশ্চাত্যের কিছু সংখ্যক মনীষী অভিমত পোষণ করেছেন যে, أَن كتاب مُسلم أفضل من كتاب البُخَارِيّ ছহীহ মুসলিম ছহীহ বুখারীর চেয়ে উত্তম।[8]১. হাফেয ইবনে মান্দাহ (রহঃ) বলেন,سمعت أبا علي الحسين بن علي النيسابوري، يقول: ما تحت أديم السماء أصح من كتاب مسلم بن الحجاج في علم الحديث অর্থাৎ আমি আবু আলী নিসাপুরীকে বলতে শুনেছি, এ আকাশের নীচে ছহীহ মুসলিমের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ ইলমে হাদীছের কোন কিতাব নেই’।[9]২. হাফেয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন,حصل لمسلم في كتابه حظ عظيم مفرط لم يحصل لأحد مثله অর্থাৎ ‘ইমাম মুসলিম (রহঃ) তাঁর ছহীহ মুসলিমের কারণে এত দ্রুততার সাথে এমন মহান সৌভাগ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন যে, এত দ্রুততার সাথে ঐ স্তরে পেঁŠছা কারোর পক্ষে সম্ভব নয়’।[10]৩. হাফেয মুসলিম ইবনে কুরতুবী (রহঃ) ছহীহ মুসলিম সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, لم يضع أحد فى الإسلام مثله অর্থাৎ ‘ইসলামে এরূপ গ্রন্থ কেউ রচনা করতে সক্ষম হয়নি’।[11]৪. আবু সাঈদ ইবনে ইয়া‘কূব বলেন,رأيت فيما يرى النائم كأن أبا على الزغورى يمضى فى شارع الحيرة وفى يده جزء من كتاب مسلم يعنى ابن الحجاج، فقلت له ما فعل الله بك؟ قال نجوت بهذا وأشار إلى ذلك الجزء. অর্থাৎ ‘প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ আয-যাগূরীকে যেন স্বপ্নে দেখলাম, তিনি নিসাপুরের ‘হিরাত’ নামক রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন এবং তাঁর হাতে রয়েছে ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের সংকলিত হাদীছগ্রন্থ ছহীহ মুসলিমের একটি খন্ড। আমি তাঁকে বললাম, আল্লাহ তা‘আলা আপনার সাথে কি আচরণ করেছেন? তখন তিনি ছহীহ মুসলিমের খন্ডটির দিকে ইশারা করে বললেন, এর বদৌলতে আমি (জাহান্নাম থেকে) নাজাত পেয়েছি’।[12]ইমাম মুসলিম (রহঃ) তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ ছহীহ মুসলিম সংকলনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। হাদীছের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে শুধু নিজের অভিমত ও দৃষ্টিকোণকেই প্রাধান্য দেননি; বরং তৎকালীন জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিছগণের অভিমত ও পরামর্শানুযায়ী হাদীছ লিপিবদ্ধ করেছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন,لَيْسَ كُلُّ شَيْءٍ عِنْدِيْ صَحِيْحٌ وَضَعْتُهُ ها هنا إنما وضعت ها هنا مَا أَجْمَعُوْا عَلَيْهِ অর্থাৎ শুধু আমার নিজস্ব অভিমতের ভিত্তিতে বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে এ কিতাবে হাদীছ সন্নিবেশ করিনি; বরং যে সকল হাদীছের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সমকালীন মুহাদ্দিছগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন ঐ সকল হাদীছও লিপিবদ্ধ করেছি’।[13]ছহীহ মুসলিমের পান্ডুলিপি বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য যে সকল মনীষীর নিকট পেশ করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে আবু যুর‘আ অগ্রগণ্য, যিনি হাফেযুল হাদীছ নামে খ্যাত। মাক্কী ইবনে আবদান বলেন,سمعت مسلما يقول : عرضت كتابى هذا المسند على أبى رزعة فكل ما أشار على فى هذا الكتاب ان له علة وسببا تركته وكل ما قال : أنه صحيح ليس له علت فهو الذى أخرجت.‘আমি ইমাম মুসলিম (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি এ কিতাব (ছহীহ মুসলিম) আমার শ্রদ্ধেয় উস্তায প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আবু যুর‘আ-এর নিকট উপস্থাপন করেছি। অতঃপর যে হাদীছের মধ্যে ত্রুটি আছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, আমি নিঃসংকোচে তা পরিত্যাগ করেছি। আর যে সকল হাদীছ বিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত বলে অভিমত পোষণ করেছেন, সে সকল হাদীছ আমি এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছি’।[14]ছহীহ মুসলিম সংকলনান্তে ইমাম মুসলিম (রহঃ) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন,ما وضعة فى هذا المسند شيئا الا بحجة ولا اسقطة شيئا منه الا بحجة. অর্থাৎ বিশুদ্ধতার অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কোন হাদীছ আমি এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করিনি এবং অশুদ্ধতার অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কোন হাদীছ আমি পরিত্যাগও করিনি’।[15]ইমাম মুসলিম (রহঃ) স্বীয় অমর সংকলন ছহীহ মুসলিমের বিশুদ্ধতার প্রতি সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে দাবী রেছেন,لو أن أهل الحديث يكتبون مائتي سنة الحديث فمدارهم على هذا المسند অর্থাৎ ‘যদি মুহাদ্দিছগণ দু’শত বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ও কঠোর সাধনা করে ইলমে হাদীছের কোন গ্রন্থ সংকলন করেন তবুও এ গ্রন্থের ওপর তাঁদেরকে নির্ভর করতে হবে’।[16]– ক্বামারুয্যামান বিন আব্দুল বারীপ্রধান মুহাদ্দিছ, বেলটিয়া কামিল মাদরাসা, জামালপুর। [1]. আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (হানাফী), উমদাতুল ক্বারী (বৈরূত : দারু এহইয়াইত তুরাছিল আরাবী, তাবি), ১/৫ পৃঃ; জালালুদ্দীন জালালাবাদী; মিফতাহুল উলূম ওয়াল ফুনূন (হাটহাজারী, চট্টগ্রাম, তাবি), পৃঃ ৫৮; মান্না আল-কাত্ত্বান, তারীখুত তাশরীয়িল ইসলামী (রিয়ায : মাকতাবাতুল মা‘আরিফ ১৯৯৬ ইং/১৪১৭ হিঃ), পৃঃ ৯৪।[2]. শরহে মুসলিম লিন নববী, ১/১৫ পৃঃ, সাইয়েদ ছিদ্দীক হাসান কানুহী, আল-হিত্তাহ ফী যিকারিছ ছিহাহ সিত্তাহ, (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলয়িয়্যাহ, ১৯৮৫ ইং), পৃঃ ১৬৮; হাজী খলীফা, কাশফুয যুনূন (বৈরূত : দারু ইহইয়ায়িত তুরাছিল আরাবী, ১/৫৪১ পৃঃ; তাদবীবুর রাবী, পৃঃ ৬৭।[3]. হাফেয জালালুদ্দীন আল-মিযযী, তাহযীবুল কামাল ফী আসমাইর রিজাল, (বৈরূত : মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ ১৯৯২ইং), ২৪/৪৫৭; হাফেয শামসুদ্দীন আয-যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, (বৈরূত : মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১৯৯৬ইং/১৪১৭ হিঃ), ১২/৪৩৪ পৃঃ।[4]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, হুদা আস-সারী মুক্বাদ্দামাতু ফাতহিল বারী (রিয়ায : মাকতাবাতু দারিস সালাম, ১৯৯৭ইং/১৪১৮ হিঃ), পৃঃ ১৪।[5]. শাববীর আহমাদ উছমানী, মুক্কাদ্দামাতু ফাতহিল মুলহিম (দেওবন্দ : মাকতাবাতুল আশরাফিয়া, ১৯৯৯ ইং), ১/৯৭ পৃঃ; তাদবীবুর রাবী, পৃঃ ৭০।[6]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, তাহযীবুত তাহযীব (বৈরূত : দারু ইহইয়াইত তুরাছ আল-আরাবী, ১৯৯৩ ইং/১৪১৩ হিঃ), ৫/৩৭ পৃঃ; হুদা আসসারী মুক্বাদ্দামাতু ফাতহিল বারী, পৃঃ ৯।[7]. হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, মুকাদ্দামাতু ফাতহিল বারী (বৈরূত : ইহয়াইত তুরাছিল আরাবী, তাবি), ১/৪৭৮; আত-তুহফাতু লি তালিবিল হাদীছ, পৃঃ ৮।[8]. হুদা আস-সারী, পৃঃ ১৩; সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৫৬৭ পৃঃ; তারীখুত তাশরীঈল ইসলামী, পৃঃ ৯৪; শরহে ছহীহ মুসলিম নববী, ১/১৫ পৃঃ।[9]. তাযকিরাতুল হুফফায, ২/৫৮৯ পৃঃ; তারীখু বাগাদাদ, ৩/১০১ পৃঃ; শাযারাতুয যাহাব, ২/১৪৪ পৃঃ।[10]. তাহযীবুত তাহযীব, ৫/৪২৭ পৃঃ; মুকাদ্দামাতু ফাতহিল মুলহিম, ১/৯১ পৃঃ; সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৫৬৭ পৃঃ।[11]. হায়াতুল মুছান্নিফীন, পৃঃ ৫৫; হুদা আস-সারী বারী, পৃঃ ১৬।[12]. বুস্তানুল মুহাদ্দিছীন, পৃঃ ২৩২।[13]. আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরফুদ্দীন নববী, শরহে ছহীহ মুসলিম (দারুত তাহাভী, তা.বি), ১/১৬ পৃঃ; আল-হিত্তাহ ফী যিকরিছ ছিহাহ সিত্তাহ, পৃঃ ২০১; তাদরীবুর রাবী, পৃঃ ৭৩।[14]. আল্লামা শাববীর আহমাদ ওছমানী, ফাতহুল মুলহিম, (দেওবন্দ : মাকতাবাতুল আশরাফিয়া, ১৯৯৯ খ্রিঃ), ১/১০১ পৃঃ; মিফতাহুল উলূম ওয়াল ফুনূন, পৃঃ ৫৮।[15]. তাযকিরাতুল হুফফায, ২/৫৮৯ পৃঃ; কাশফূয যুনূন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনূন, ১/৫৫৫ পৃঃ।[16]. শরহে ছহীহ মুসলিম, ১/১৬ পৃঃ; মুকাদ্দামাতু ছহীহ মুসলিম লি নববী, ১/১৩ পৃঃ।
ঘটনাবলি১২৪১ - লিইয়েগনিটয যুদ্ধে মোঙ্গল বাহিনী পোলিশ এবং জার্মান সেনাদের পরাজিত করে। ১৪১৩ - পঞ্চম হেনরি ইংল্যান্ডের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। ১৪৪০ - ক্রিস্টোফার ডেনমার্কের রাজা হন। ১৪৮৩ - প্রথম অ্যাডওয়ার্ড চতুর্থ অ্যাডওয়ার্ডকে ইংল্যান্ডের পরবর্তী রাজা হিসেবে নির্বাচিত করেন। ১৭৮৩ - টিপু সুলতান ব্রিটিশদের কাছ থেকে বেন্দোর দখল করে নেন। ১৭৫৬ - নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা বা মির্জা মুহাম্মাদ সিরাজ-উদ-দৌলা রাজ্যভার গ্রহণ করেন। ১৮৭২ - স্যামুয়েল আর পার্সি গুঁড়া দুধ প্যাটেন্ট করেন। ১৯১৮ - লাটভিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৯২৮ - তুরস্কে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৪০ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘অপারেশন ওয়েসেরুবুং’ জার্মানরা ডেনমার্ক ও নরওয়ে আক্রমণ করে। ১৯৪৫ - যুক্তরাষ্ট্রে আণবিক শক্তি কমিশন গঠন করা হয়। ১৯৪৮ - বায়তুল মোকাদ্দাসারের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত দিরইয়াসিন গ্রামে ইসরাইলিরা ব্যাপক গণহত্যা চালায়। ১৯৫৭ - সুয়েজখাল সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়। ১৯৬৫ - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৭৪ - দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীকে প্রত্যর্পণের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ১৯৯১ - জর্জিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। ১৯৯৭ - বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আইসিসি ট্রফিতে স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। ১৯৯৮ - সৌদি আরবে হজের শেষ দিনে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১৫০ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়। জন্ম ১২৮৭ - ইংল্যান্ডের রাজা চতুর্থ অ্যাডওয়ার্ড। ১৮০৬ - ইসাম্বারড কিংডম ব্রুনেল, ইংরেজ প্রকৌশলী ও ক্লিফটন সাসপেনশন ব্রিজ পরিকল্পক। ১৮২১ - ফরাসি কবি শার্ল বোদলেয়ার। ১৮৩০ - এয়াড্বেয়ারড মুয়ব্রিডগে, ইংরেজ ফটোগ্রাফার ও সিনেমাটোগ্রাফার। ১৮৩৫ - বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপল্ড। ১৮৬৫ - এরিক লুডেন্ডোরফ, জার্মান জেনারেল ও রাজনীতিবিদ। ১৮৬৭ - ক্রিস ওয়াটসন, চিলির বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ও ৩য় প্রধানমন্ত্রী। ১৮৭২ - লিও বলুম, ফরাসি আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী। ১৮৮২ - ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজসেবক মহিমচন্দ্র দাশগুপ্ত। ১৮৯৩ - রাহুল সাংকৃত্যায়ন ভারতের সুপণ্ডিত ও স্বনামধন্য পর্যটক। ১৯০১ - পল উইলিয়ামস, মার্কিন অভিনেতা ও পরিচালক। ১৯২৫ - রোকনুজ্জামান খান বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিকে ও সাংবাদিক। ১৯২৬ - হিউ হেফ্নার, মার্কিন প্রকাশক এবং প্লেবয় পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক। ১৯৩৮ - ভিক্টর চেরনোম্যরডিন, রাশিয়ান ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও ৩০তম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৮ - জয়া বচ্চন, ভারতীয় অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ। ১৯৫৩ - ভবানীপ্রসাদ মজুমদার, ভারতীয় বাঙালি কবি ও ছড়াকার। ১৯৫৭ - সেভে বালেস্টেরস, স্প্যানিশ গল্ফ খেলোয়াড় ও স্থপতি। ১৯৬৬ - সিনথিয়া নিক্সন, মার্কিন অভিনেত্রী। ১৯৭৫ - রবি ফাওলার, সাবেক ইংরেজ ফুটবলার ও ম্যানেজার। ১৯৮৫ - আন্তোনিও নকেরিনো, ইতালিয়ান ফুটবলার। মৃত্যু ৫৮৫ - সম্রাট জিমু, জাপানি সম্রাট। ৪৯১ - যেনো, বাইজেন্টাইন সম্রাট। ১৫৫৩ - ফ্রাঁসোয়া রাবলে, ফরাসি সন্ন্যাসী ও পণ্ডিত। ১৫৫৭ - মিকায়েল আগ্রিকলা, ফিনিশ যাজক ও পণ্ডিত। ১৬২৬ - ফ্রান্সিস বেকন, ইংরেজ দার্শনিক। ১৭৫৪ - ক্রিস্টিয়ান উলফের, জার্মান দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ। ১৭৫৬ - নবাব আলীবর্দী খাঁ, বাংলা, বিহার, ওড়িশার নবাব। ১৮৮২ - ডান্টে গ্যাব্রিয়েল রসেটি, ইংরেজ চিত্রশিল্পী, চিত্রকর ও কবি। ১৮৮৯ - মাইকেল ইউজিনে শেভরেউল, ফরাসি রসায়নবিদ ও শিক্ষাবিদ। ১৯৩৬ - ফেরডিনান্ড টনিয়েস, জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক। ১৯৪৫ - ডিয়েট্রিখ বোনহোফের, জার্মান যাজক ও ধর্মতত্ত্ববিদ। উইলহেম কানারিস, জার্মান নৌসেনাপতি। ১৯৫৯ - ফ্র্যাংক লয়েড রাইট, মার্কিন স্থপতি, ইন্টেরিওর ডিজাইনার, লেখক ও শিক্ষক। ১৯৭০ - প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি রসায়ন বিজ্ঞানী জ্ঞানেন্দ্রনাথ রায়। ১৯৮০ - মোহাম্মদ বাকির আল-সাদর, ইরাকি দার্শনিক। ১৯৯৩ - ইরানের বিখ্যাত শিল্পী ও লেখক সাইয়্যেদ মোর্তজা আয়ুবী শাহাদাত। ২০০১ - শাকুর রানা, পাকিস্তানি আম্পায়ার। ২০০৯ - শক্তি সামন্ত, ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক। ২০১১ - সিডনি লুমেট, মার্কিন পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার। ২০২১ - পবিত্র মুখোপাধ্যায়, বাঙালি কবি।
মেষ রাশি: বন্ধুদের সঙ্গে আজকের দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। আর্থিক দিক থেকে আজকের দিনটি খুব একটা ভালো নয়। আত্মীয়দের সঙ্গে আজ আপনার কোথাও ছোট সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে আপনি দৈনিক কাজের সূচি থেকে বিরতি পাবেন। মন থেকে সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। প্রেমের জন্য এই দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। কর্মক্ষেত্রের দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। আজ আপনি নিজের জন্য কিছুটা সময় পাবেন। সেই সময়ে আপনি একটি বই পড়তে পারেন অথবা গান শুনতে পারেন। আজকের দিনটি আপনার বিবাহিত জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত হবে।প্রতিকার: আর্থিক দিক থেকে উন্নতির লক্ষ্যে দৈনন্দিন শিবলিঙ্গের অভিষেক ঘটান।বৃষ রাশি: কোথাও অর্থ বিনিয়োগ করার আগে আজ অবশ্যই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করুন। পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সঙ্গে আজকের দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। প্রেমের জীবনে আজ আপনি একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি কাজ সর্তকতার সঙ্গে করুন। সামগ্রিকভাবে দিনটি অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে অতিবাহিত হওয়ায় আপনি নিজের জন্য সময় পাবেন না। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে।প্রতিকার: ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে উন্নতির লক্ষ্যে অবশ্যই অভাবী শিশু কন্যাদের উদ্দেশ্যে দুধের প্যাকেট দান করুন।মিথুন রাশি: শরীরের প্রতি অবশ্যই যত্নশীল হন এবং শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া এড়িয়ে চলুন। নিজের ওজনকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এই রাশির কিছু জাতক-জাতিকা আজ চাকরি পেতে পারেন। যার ফলে তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। বন্ধুদের কাছ থেকে আজ আপনি একটি কাজে সাহায্য পেতে পারেন। প্রেমের জীবনে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। কর্মক্ষেত্রে দিনটি খুব একটা খারাপ কাটবে না। যাঁরা কিছুদিন ধরে অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে ছিলেন তাঁরা আজ নিজেদের জন্য অবসর সময় পাবেন। বিবাহিত জীবনে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে নিজেরাই তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।প্রতিকার: প্রেমের জীবন সুখকর করে তোলার লক্ষ্যে পকেটে একটি সুগন্ধি রুমাল রাখুন।কর্কট রাশি: প্রত্যেকের সঙ্গে আজ অবশ্যই ঠান্ডা মাথায় কথা বলুন। আপনার নামে একটি ভুল সিদ্ধান্ত আজ আপনাকে বিপরীতভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যার ফলে আপনার মানসিক চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি আজ একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন এবং অর্থ সঞ্চয় সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পাবেন। সেগুলিকে সঠিকভাবে কাজে লাগালে আপনার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরনো বন্ধুদের কাছ থেকে আজ আপনি একটি কাজে সাহায্য পেতে পারেন। প্রেমের জন্য এই দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। আপনি আজ খুব সহজে কিছু নতুন জিনিস শিখতে পারবেন। পরিবারের সব থেকে ছোট সদস্যকে নিয়ে আপনি আজ একটি পার্কে অথবা শপিং মলে যেতে পারেন। বিবাহিত জীবন নিঃসন্দেহে সুখের হবে।প্রতিকার: শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে দুধ এবং দই খান।সিংহ রাশি: কাউকে অর্থ ধার দেওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন। পাশাপাশি, যদি ঋণ দিতেই হয় সেক্ষেত্রে লিখিত প্রমাণ রাখুন। সন্তানদের স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই নজর দিন। বিদেশে পেশাগত যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। প্রেমের জীবনে আজ আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার আজ কোথাও আনন্দদায়ক সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। বিবাহিত জীবনে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে নিজেরাই তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে একজন কন্যাকে ক্ষীর অথবা পায়েস খেতে দিন।কন্যা রাশি: মন থেকে অবশ্যই সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। আর্থিক দিক থেকে আজকের দিনটি খুব একটা খারাপ নয়। যাঁদের সঙ্গে আপনার অত্যন্ত কম সাক্ষাৎ হয় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেমের জীবনে আজ আপনি একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। আপনার নেওয়া একটি দৃঢ় পদক্ষেপ আজ ইতিবাচক ফলপ্রদান করবে। বিবাহিত জীবনে অবশ্যই কিছুটা সময় দিন।প্রতিকার: শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে গম, গোটা লাল মসুর এবং লাল রঙের সিঁদুর মিশিয়ে সূর্যস্নান করুন।তুলা রাশি: কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ এবং বাড়িতে চলা একটি বিরোধের কারণে আজ আপনার মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠবে। প্রত্যেকের সঙ্গে অবশ্যই ঠান্ডা মাথায় কথা বলুন। আর্থিক দিক থেকে আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। এই রাশির কিছু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের একটি পুরস্কার গ্রহনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে অত্যন্ত খুশি হবেন। কর্মক্ষেত্রে দিনটি দুর্দান্তভাবে অতিবাহিত হবে। আপনি আজ আপনার একটি অসুবিধার কথা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন। যার ফলে বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: আর্থিক দিক থেকে উন্নতির লক্ষ্যে আপনার ক্রয়ক্ষমতা অনুসারে সোনা কিনে তা পরিধান করুন।বৃশ্চিক রাশি: মন থেকে সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। মন ভালো রাখার জন্য আজ আপনি কিছু আকর্ষণীয় বই পড়তে পারেন। দীর্ঘস্থায়ী লাভের জন্য আপনি আজ কোনও শেয়ারে অথবা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। বাবা মায়ের স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই নজর দিন। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে আজ আপনি কোথাও পিকনিকে যেতে পারেন। সেখানে গিয়ে কিছু মূল্যবান স্মৃতির সঞ্চয় ঘটবে। কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি কাজ সতর্কতার সঙ্গে করুন। আজ নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে আপনার মধ্যে থাকা ঘাটতিগুলি পূরণ করার চেষ্টা করুন। এর ফলে আপনার ব্যক্তিত্বে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিবাহিত জীবন নিঃসন্দেহে সুখের হবে।প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে গরুকে খাবার খেতে দিন।ধনু রাশি: নিজের উপার্জন ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবশ্যই চেষ্টা করুন। বিদেশে থাকেন এমন একজন আত্মীয়ের কাছ থেকে আজ আপনি একটি উপহার পেতে পারেন। যার ফলে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। প্রেমের জীবনে আজ আপনি একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। আজ আপনার সঙ্গে একটি আকর্ষণীয় ঘটনা ঘটতে পারে। সামগ্রিকভাবে দিনটি খুব একটা খারাপ কাটবে না। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: আর্থিক দিক থেকে উন্নতির লক্ষ্যে বৃহন্নলাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন।মকর রাশি: শরীর নিয়ে অযথা চিন্তা করবেন না। কারণ, আজ আপনি শারীরিক দিক থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবেন। আপনার আজ জমি সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কোনও নতুন প্রকল্পে অংশগ্রহণ করার আগে সমস্ত তথ্য ভালোভাবে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। নিজের মূল্যবান জিনিসপত্রগুলি আজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রাখুন। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এবং কেরিয়ারে উন্নতির লক্ষ্যে ময়ূরের পালক বাড়িতে রাখুন।কুম্ভ রাশি: মন থেকে সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। শরীরের প্রতি অবশ্যই যত্নশীল হন। বাবার কাছ থেকে পাওয়া একটি পরামর্শকে কর্মক্ষেত্রে সঠিকভাবে কাজে লাগালে আপনার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে ঠান্ডা মাথায় সেটিকে সমাধানের চেষ্টা করুন। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সংযত হয়ে কথা বলুন। আপনি আজ ভাই-বোনের সঙ্গে বাড়িতে একটি সিনেমা কিংবা প্রতিযোগিতা দেখতে পারেন। বিবাহিত জীবনে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলেও পরে তা ঠিক হয়ে যাবে।প্রতিকার: শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে শোয়ার ঘরে ক্রিস্টালের বল রাখুন।মীন রাশি: এই রাশির কিছু জাতক-জাতিকা আজ চাকরি পেতে পারেন। যার ফলে তাঁরা আর্থিক দিক থেকে লাভবান হবেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আজ আপনি আপনার একটি সমস্যার কথা ভাগ করে নিতে পারেন। আপনার অহঙ্কার মানসিকতাকে অবশ্যই দূরে সরিয়ে রাখুন। প্রেমের জীবনে আজ আপনি একটি চমকের সম্মুখীন হবেন। আপনি আজ অবসর সময়ে একটি ওয়েব সিরিজ দেখতে পারেন। বিবাহিত জীবনে সুখ এবং শান্তি বজায় থাকবে।প্রতিকার: দাম্পত্য জীবন সুখকর করে তোলার লক্ষ্যে খাবারে জাফরানের ব্যবহার করুন।
পিএসএলে আজ দুটি ম্যাচ। আছে আইপিএল। রাতে আছে ইউরোপা ও কনফারেন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল।পিএসএলইসলামাবাদ-লাহোরবেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টসকরাচি-পেশোয়াররাত ৮টা, টি স্পোর্টসআইপিএলকলকাতা-লক্ষ্ণৌরাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২ইউরোপা লিগবোলোনিয়া-অ্যাস্টন ভিলারাত ১টা, সনি স্পোর্টস ১পোর্তো-নটিংহামরাত ১টা, সনি স্পোর্টস ২ফ্রাইবুর্গ-সেল্তা ভিগোরাত ১টা, সনি স্পোর্টস ৫কনফারেন্স লিগশাখতার-আলকমাররাত ১টা, সনি স্পোর্টস ৩
Muthu Alias Kaattaan (2026) – বিস্তারিত তথ্যদক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা প্রেমীদের জন্য ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত সিনেমা “Muthu Alias Kaattaan”। অ্যাকশন, ড্রামা এবং গ্রাম্য ব্যাকড্রপের শক্তিশালী গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।সিনেমার সংক্ষিপ্ত তথ্যমুভির নাম: Muthu Alias Kaattaanরিলিজ সাল: ২০২৬ভাষা: তামিলধরন: অ্যাকশন, ড্রামাপরিচালক: (তথ্য আপডেট অনুযায়ী যোগ করতে পারেন)অভিনয়ে: (হিরো, হিরোইন, ভিলেন – নাম যোগ করা যেতে পারে) গল্পের সারাংশ“Muthu Alias Kaattaan” সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে এক রহস্যময় চরিত্র মুথুকে ঘিরে, যাকে স্থানীয় মানুষ কাট্টান নামে চেনে। সে একদিকে সাধারণ গ্রামবাসীর মতো জীবন যাপন করে, অন্যদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক ভয়ংকর শক্তিতে রূপ নেয়।গ্রামের মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুথুর লড়াইই মূলত এই সিনেমার কেন্দ্রবিন্দু। ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় তার অতীত, কেন সে এমন হলো, এবং কীভাবে সে “কাট্টান” নামে পরিচিত হলো।কেন দেখবেন এই সিনেমা?দারুণ অ্যাকশন সিন – দক্ষিণী স্টাইলে ভরপুর ফাইটিং ইমোশনাল গল্প – পরিবার, প্রতিশোধ এবং ন্যায়বিচারের মিশেল গ্রাম্য পরিবেশ – বাস্তবধর্মী লোকেশন ও কালচার ম্যাস ডায়লগ – দর্শকদের উত্তেজিত করার মতো সংলাপশেষ কথা“Muthu Alias Kaattaan (2026)” এমন একটি সিনেমা যা অ্যাকশন প্রেমীদের জন্য অবশ্যই দেখার মতো। শক্তিশালী গল্প, দারুণ পারফরম্যান্স এবং দক্ষিণী সিনেমার আসল স্বাদ—সবকিছুই এই মুভিতে পাওয়া যাবে।Total Size..480p= 2.05 GB720p= 3.75 GB1080= 8.17 GB Download Link ⬇ Download 420p Quality ⬇ Download 720p Quality ⬇ Download 1080p Quality
মূল তথ্য: চক্র সিজন ২স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম: iScreen (আইস্ক্রিন)পরিচালক: ভিকি জাহেদমুক্তির তারিখ: ২৬ মার্চ, ২০২৬ধরণ: সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার / মিস্ট্রি / প্যারানরমালমুখ্য অভিনয়শিল্পী: তৌসিফ মাহবুব এবং তাসনিয়া ফারিণ।গল্প ও প্রেক্ষাপটপ্রথম সিজনের পর থেকেই দর্শকদের মনে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন ছিল। সিজন ২-এ মূলত সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা হবে।আসল ঘটনার অনুপ্রেরণা: সিজন ১-এর মতো সিজন ২-এর গল্পও ঢাকার একটি সত্য ও রহস্যময় ঘটনা (আদম পরিবারের ঘটনা) থেকে অনুপ্রাণিত বলে জানা গেছে।কাহিনি সংক্ষেপ: সিজন ২-এ হোমায়রা (তাসনিয়া ফারিণ) এবং তার সাথে ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনাগুলোর গভীর রহস্য উন্মোচিত হবে। এতে দেখানো হবে কীভাবে একটি পরিবার ক্রমাগত অন্ধকার ও অতিপ্রাকৃত বিষয়ের দিকে ধাবিত হয় এবং এর পেছনে আসলে কোনো মানুষের হাত নাকি অলৌকিক কিছু কাজ করছে।কেন এটি নিয়ে এত আলোচনা?ভিকি জাহেদের পরিচালনা: তার সিগনেচার 'টুইস্ট' এবং ডার্ক আবহ এই সিরিজের মূল আকর্ষণ।শ্যুটিং সেটের রহস্য: শিল্পী ও কলাকুশলীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শ্যুটিং চলাকালীন সেটে অনেক অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।পারফরম্যান্স: তৌসিফ এবং ফারিণের রসায়ন এবং তাদের চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর সিরিজটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।দ্রষ্টব্য: আপনি যদি সিজন ১ দেখে না থাকেন, তবে সিজন ২ শুরু করার আগে আইস্ক্রিনে গিয়ে প্রথম সিজনটি দেখে নেওয়া জরুরি, কারণ গল্পের প্রতিটি ধাপ একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।Download Link.......Download 480p QualityDownload 720p QualityDownload 1080p Quality
শর্টকাট (২০২৫) - মূল তথ্যপ্ল্যাটফর্ম: বংগো (BongoBD)মুক্তির তারিখ: ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ধরণ: ড্রামা / থ্রিলার (Web Film)পরিচালক: মজিদুল ইসলাম স্বাধীনঅভিনয় শিল্পী (Cast)এই ওয়েব ফিল্মটিতে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় বেশ কয়েকজন মুখ অভিনয় করেছেন:শিমুল শর্মা (Shimul Sharma) - প্রধান চরিত্রে।লামিমা লাম (Lamima Lam) - প্রধান নারী চরিত্রে।আরো রয়েছেন বংগোর নিয়মিত বেশ কিছু পার্শ্ব অভিনেতা।গল্পের সারসংক্ষেপ (Storyline)"শর্টকাট" মুভিটির মূল প্রেক্ষাপট হলো বর্তমান তরুণ প্রজন্মের দ্রুত ধনী হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা।গল্পে দেখা যায়, মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের এক যুবক (শিমুল শর্মা) কঠোর পরিশ্রমের বদলে অল্প সময়ে এবং সহজ উপায়ে অর্থাৎ "শর্টকাট" পথে অনেক টাকা আয় করতে চায়। কিন্তু এই সহজ রাস্তাটি তাকে এমন এক অন্ধকার পথে বা অপরাধ জগতে নিয়ে যায়, যেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তার এই সিদ্ধান্তের ফলে সে এবং তার পরিবার কীভাবে বিপদে পড়ে, তা নিয়েই মুভিটির কাহিনী এগিয়েছে।Download Link.....Download 720p QualityDownload 1080p QualityDownload 4k Quality
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ৭২ দিন আগে জাতীয় দলের প্রধান কোচ অটো আদ্দোকে ছাঁটাই করেছে ঘানা। গতকাল রাতে জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে হারের অল্প সময় পরই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে কোচ ছাঁটাই করায় এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়ল আফ্রিকার দেশটি।জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য ভালোই খেলেছে ঘানা। ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে ১-১ গোলে সমতায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি, দেনিজ উনদাভের গোলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দলটিকে।জার্মানির বিপক্ষে হার ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ঘানার। গতকাল রাতের ম্যাচটিসহ এ নিয়ে টানা ৪ ম্যাচ হারল তারা। চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে উড়ে গিয়েছিল ৫-১ গোলে। এর আগে গত নভেম্বরে দুই এশিয়ান প্রতিপক্ষ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরেছিল তারা। আর এসব হারের জেরেই শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে হলো আদ্দোকে।ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (জিএফএ) বিবৃতিতে জানায়, ‘দলের জন্য অবদান রাখায় আমরা আন্তরিকভাবে অটো আদ্দোকে ধন্যবাদ জানাই এবং তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য শুভকামনা রইল। ব্ল্যাক স্টারসের নতুন টেকনিক্যাল পরিকল্পনা বা দিকনির্দেশনা যথাসময়ে জানানো হবে।’ ৫০ বছর বয়সী আদ্দো ঘানার জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন ২০২৪ সালের মার্চ থেকে। এর আগে ২০২২ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রথম মেয়াদে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অধীনে ঘানা ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও অংশ নেয়।যেখানে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারলেও পরের ম্যাচে একই ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। যদিও শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার দেশটিকে। এই বিশ্বকাপেই প্রথম ঘানাইয়ান হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ—দুই দায়িত্বেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কীর্তি গড়েন আদ্দো।এরপর ২০২৪ সালের মার্চে দায়িত্ব নিয়ে ঘানাকে আরও একটি বিশ্বকাপে পৌঁছে দেওয়ায় ভূমিকা রাখেন এই কোচ। যদিও তাঁর অধীনে ঘানা গত বছরের আফ্রিকা কাপ নেশনসে অংশ নিতে ব্যর্থ হয়।পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ঘানা জায়গা পেয়েছে ‘এল’ গ্রুপে। যেখানে আছে ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড ও পানামাও। ঘানা তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ জুন টরন্টোতে পানামার বিপক্ষে। যদিও সেই ম্যাচে আদ্দো নন, ডাগআউটে দাঁড়াবেন অন্য কেউ।
অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য একই সময়ে দুটি বড় সূচি—ইংল্যান্ডে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড, আর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। দ্য হানড্রেডে খেললে এক মাসেই প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ, বিপরীতে দেশের হয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ।টাকা বনাম টেস্ট, আর ফ্র্যাঞ্চাইজি বনাম দেশের প্রতিনিধিত্ব—এই দ্বিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটারদের। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, তাঁর দলের ক্রিকেটাররা টাকার লোভ ছেড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজই বেছে নিয়েছেন। তবে ক্লাব বনাম দেশ বিতর্কে ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রাধান্য পেতে পারে বলে সতর্কও করে দিয়েছেন তিনি।পিঠের চোট সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা কামিন্স এখন আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। মে মাসে আইপিএল শেষ করে জুন–জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে সানফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের হয়েও খেলার কথা।অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে কামিন্সের পরের ব্যস্ততা আগস্টের বাংলাদেশ সিরিজ ঘিরে। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই ব্যস্ততার ভারসাম্যের বিষয়ে তাঁকে বিজনেস অব স্পোর্ট পডকাস্টে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল।জবাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর আর্থিক আকর্ষণ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে টেস্ট ক্রিকেট খুব ভালো সমর্থন পায়, টেস্টে গ্রীষ্মে প্রচুর দর্শক হয় এবং অনেক মনোযোগ থাকে। কিন্তু অন্য সব আন্তর্জাতিক দলের ক্ষেত্রে বিষয়টি এক নয়। প্রতিটি দেশের চ্যালেঞ্জ কিছুটা ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ায় আমরা যখন টেস্ট বা ওয়ানডে দল নির্বাচন করি, তখন দেখি যে কীভাবে সেরা খেলোয়াড়দের দলে পাওয়া যায়, কারণ অন্য জায়গায়ও তাদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’উদাহরণ হিসেবে কামিন্স বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ও দ্য হানড্রেডের সূচির সংঘাতের প্রসঙ্গ টানেন।অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের ব্যস্ততা শুরু হবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে। তার আগে ২১ জুলাই ইংল্যান্ডে শুরু হবে এক শ বল ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার জন্য টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা হানড্রেডের নিলামে নাম দেননি বলে জানান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক, ‘উদাহরণস্বরূপ, এই মৌসুমের দ্য হানড্রেডের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে। আমাদের যারা ওই টেস্ট সিরিজে খেলবে, তারা সবাই দ্য হানড্রেডের নিলাম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এটি চিরকাল এমন থাকবে না।’দ্য হানড্রেডে না খেলায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আট কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে কামিন্স বলেন, ক্লাব বনাম দেশ দ্বন্দ্বের বিষয়টি এখন ‘টেনশনের’ পর্যায়ে আছে, ‘আমাদের কিছু খেলোয়াড় ২০ দিনের কাজের বিনিময়ে পাঁচ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ ফিরিয়ে দিচ্ছে স্রেফ বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য। তাই আমি মনে করি এটি (ক্লাব বনাম দেশ দ্বন্দ্ব) একটি দুশ্চিন্তার জায়গা।’তবে এই মুহূর্তে দেশের খেলাকে প্রাধান্য দিলেও আর্থিক কারণে বিষয়টি ভবিষ্যতে অন্য রকমও হতে পারে বলে মনে করেন কামিন্স, ‘আমাদের ছেলেরা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার জন্য এতটাই উদ্গ্রীব যে তারা সানন্দে সেটি ছেড়ে দিচ্ছে, তবে এমনটা সব সময় চলবে, এটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি অনন্য সম্মান প্রদর্শন করতে যাচ্ছে তাঁর ক্লাব ইন্টার মায়ামি। ক্লাবের নতুন ‘নু স্টেডিয়াম’–এর একটি গ্যালারির নামকরণ করা হচ্ছে এই তারকার নামে। এখন থেকে স্টেডিয়ামটির একটি গ্যালারি ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।সাধারণত অবসরের পর বা অতীতে অবদানের কথা মাথায় রেখে কোনো খেলোয়াড়ের নামে গ্যালারি বা স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়। তবে ৩৮ বছর বয়সী ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক মেসির ক্ষেত্রে সেই প্রথা ভেঙেছে ক্লাবটি।এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘ঐতিহ্যগতভাবে সম্মাননা দেওয়া হয় অতীতের অবদানকে মাথায় রেখে। এগুলো তৈরি হয় নস্টালজিয়া থেকে। স্মৃতি থেকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি বর্তমানের কথা ভেবে নেওয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে যা ঘটছে, তা থেকে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবার লিও যখন মাঠে নামে, আমরা যা অনুভব করি, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।’বিবৃতিতে আরও লেখা হয়েছে, ‘কাউকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ সব সময় কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি টানা নয়। কখনো কখনো এটি হলো আপনি যে অনন্য কিছুর সাক্ষী হচ্ছেন, সেটি উপলব্ধি করা।’এর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন মেসি। নিজের নামাঙ্কিত গ্যালারির সামনেই নিয়মিত ম্যাচ খেলবেন এই কিংবদন্তি। স্টেডিয়ামের লোয়ার বোলের ১১৭-১২১ নম্বর সেকশন এবং আপার বোলের ২১৭-২৩৩ নম্বর সেকশন নিয়ে গঠিত হবে এই ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’।আগামী ৪ এপ্রিল মেজর লিগ সকারে অস্টিন এফসির বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে নতুন এই স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করবে ইন্টার মায়ামি। উদ্বোধনী ম্যাচে যাঁরা ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’–এ বসে খেলা দেখবেন, তাঁদের জন্য বিশেষ কিছু চমক এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।২০২৩ সালের গ্রীষ্মে যোগ দেওয়ার পর থেকে ইন্টার মায়ামিকে বদলে দিয়েছেন মেসি। তাঁর নেতৃত্বে ক্লাবটি এ পর্যন্ত লিগস কাপ (২০২৩), সাপোর্টার্স শিল্ড (২০২৪) এবং এমএলএস কাপ (২০২৫) জিতেছে। পাশাপাশি এক মৌসুমে এমএলএসে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়ার রেকর্ডও গড়েছে তাঁর দল।নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে মেসির নামে স্ট্যান্ড।নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে মেসির নামে স্ট্যান্ড।এক্স/নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজএখন পর্যন্ত মায়ামির হয়ে ৯৪ ম্যাচ খেলে ৮২ গোল করেছেন মেসি। গোলে সহায়তা করেছেন ৫৩টি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুবার এমএলএসে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।মেসির জন্য যদিও এই সম্মান নতুন নয়। এর আগে গত বছরের জুনে তাঁর শৈশবের ক্লাব নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজও তাদের স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছিল মেসির নামে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গভবনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সঙ্গে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী অধ্যাপিকা রেবেকা সুলতানা।প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। এসময় তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন করার পরে কিছুক্ষণ খেলা দেখে বঙ্গভবনে আসেন প্রধানমন্ত্রী।গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম সাক্ষাৎ।
ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির অবস্থা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘প্রচুর সহায়তার’ প্রয়োজন। চীন ও জাপানের মতো দেশগুলো এতে যুক্ত হলে বিষয়টি ‘ভালো হবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই জলপথের গুরুত্ব তুলনামূলক কম, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর মতো ‘আমরা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করি না’।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতিতে তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো যুদ্ধবিরতি চাই না। আপনারা জানেন, যখন আপনি অপর পক্ষকে আক্ষরিক অর্থেই নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন আপনি যুদ্ধবিরতিতে যেতে পারেন না।’সূত্র: আল–জাজিরা
গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাব দিয়েছে ইরান। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ইরানের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। খবর আল জাজিরার।ধোঁয়া উঠছে কাতারের দোহা শহরের আকাশে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পরের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্সধোঁয়া উঠছে কাতারের দোহা শহরের আকাশে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পরের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্সআন্তর্জাতিক ডেস্কগত বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের বুশেহর অঞ্চলে আসালুয়েহ বন্দরের উপকূলে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ও উত্তরাঞ্চলের বন্দর আনজালি এলাকায় নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালায় ইসরাইল। ইরানের সাউথ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র। যেখানে ইরান ও কাতার উভয় দেশের গ্যাস উত্তোলন-বিষয়ক স্থাপনা রয়েছে। এতে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর গ্যাসক্ষেত্র লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেয়। কাতারও এই হামলার নিন্দা জানায়। দেশটি এক বিবৃতিতে বলে, জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করা পুরো অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি তেল স্থাপনার কাছের এলাকায় থাকা মানুষদের সতর্ক করে বলেছেন যে, তারা যেন দ্রুত সেই এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, সতর্কবার্তার পর রাতেই কাতার, সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। হামলায় কাতারের রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্র, আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাসক্ষেত্র ও বাব তেলক্ষেত্র এবং সৌদি আরবের দুটি তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, কাতার জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তাদের রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্রে আগুন ধরে যায়। এতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের হাবশান গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। তেহরান মূলত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করলেও জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলা চালাচ্ছে, যা তেলসমৃদ্ধ আরব দেশগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এই হামলার সময় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিভিন্ন আরব ও ইসলামিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করছিলেন, যেখানে যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কাতারের উত্তর উপকূলে রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে কাতারএনার্জি জানায় যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি দল দ্রুত কাজ শুরু করে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘নৃশংস ইরানি হামলা’ বলে নিন্দা জানায় এবং বলে, এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। পরে তারা জানায়, কাতারে থাকা ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এবং তাদের স্টাফদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১. সানস্ক্রিনসূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে ট্যান, দাগ ও আগাম বার্ধক্য তৈরি করতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে অন্তত এসপিএফ-৪০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। ভালো সানস্ক্রিন একবার ব্যবহার করলে ৬ ঘণ্টা সুরক্ষিত থাকা যায়।২. শরীর ও ত্বক হাইড্রেটেড রাখুনগরমে শরীর দ্রুত পানি হারায়। তাই দিনে পর্যাপ্ত পানি খাওয়া এবং ত্বকে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা দরকার। আপনি যদি এসি ঘরে কাজ করেন, তাহলে ২–৩ ঘণ্টা পরপর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।৩. হালকা ও মৃদু ক্লিনজারঘাম, ধুলা ও সানস্ক্রিন ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। তাই দিনে অন্তত দুইবার মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা ভালো। বাইরে থেকে এসে আর রাতে ঘুমানোর আগে ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।৪. ত্বককে ‘শান্ত’ রাখুনগরমে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা লালচে ভাব হতে পারে। এ জন্য অ্যালোভেরা, শসা বা ঠান্ডা উপাদানযুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক আরাম পায়। শিট মাস্ক বা ফেস মিস্ট ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করলে তা ত্বকে ঠান্ডা ও আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। বিশেষ করে রোদে থাকা ত্বকের জন্য এটি বেশ উপকারী।৫. অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসকালে ত্বকে ভিটামিন ‘সি’ সিরাম ব্যবহার করলে পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকে। রোদে ক্লান্ত বা নিস্তেজ হয়ে পড়া ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।৬. এক্সফোলিয়েশনঘাম ও আর্দ্রতার কারণে ত্বকে যে মৃত কোষ জমে যায়, তা দূর করার জন্য সপ্তাহে ১-২ বার এক্সফোলিয়েট করা ভালো। এক্সফোলিয়েট করার সবচেয়ে পরিচিত উপায় হলো স্ক্র্যাবিং করে ত্বকের মৃতকোষগুলো তুলে ফেলা।৭. গরমে নয় ভারী মেকআপগরমে ভারী মেকআপ ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ করে ব্রণ বা ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই হালকা মেকআপ বা মিনিমাল মেকআপ ব্যবহার করা ভালো।৮. ক্যাপ ও সানগ্লাস ব্যবহার করুনবাইরে বের হলে ক্যাপ, হ্যাট, সানগ্লাস ও ছাতা ব্যবহার করলে সূর্যের সরাসরি আলো থেকে ত্বককে বাড়তি সুরক্ষা দেওয়া যায়। খুব দরকার ছাড়া দিনের বেলা ঘরের বাইরে না বের হওয়াই ভালো।আরও যাফল ও সবজি ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট দেয়। এসব ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেলে ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র থাকে।
তকের যত্নে কাঁচা হলুদের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। ভারতীয় উপমহাদেশে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি যুগ যুগ ধরে রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনেকেই বলেন, এটি ত্বক ফর্সা করে, ব্রণ দূর করে, এমনকি ত্বক কয়েক শেইড উজ্জ্বল করে তোলে। কিন্তু সত্যিই কি কাঁচা হলুদ ত্বক ফর্সা করে? নাকি এটি শুধুই একটা প্রচলিত ধারণা? আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো কাঁচা হলুদের আসল কার্যকারিতা!কাঁচা হলুদে কী আছে?হলুদের প্রধান উপাদান হলো কারকিউমিন (Curcumin), যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রোপারটিজযুক্ত। এটি ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে এবং ব্রণ, দাগ-ছোপ কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।সত্যিই কি কাঁচা হলুদ ত্বক ফর্সা করে?অনেকেই মনে করেন, কাঁচা হলুদ সরাসরি ত্বক ফর্সা করে। বিয়ের আগে হলুদের উপটান মুখ, হাত-পায়ে লাগানোর একটি চল ছিলো এককালে! এখনও অনেকে হলুদের ফেইসপ্যাক ব্যবহার করেন। তবে সত্যটা হলো, হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এটি ত্বকের মেলানিন লেভেল কমিয়ে ত্বক ফর্সা করে না!হলুদের কার্যকারিতাত্বকের কালচে দাগ হালকা করতে পারেসাময়িকভাবে ত্বক গ্লোয়ি দেখাতে পারেব্রণ বা ফুসকুড়ির সমস্যা কিছুটা কমাতে পারেতবে এটি স্বাভাবিক ত্বকের রঙ স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারে নাকাঁচা হলুদ ব্যবহারের সঠিক উপায়যদি আপনি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করতে চান, তাহলে এটি সরাসরি ফেইসে অ্যাপ্লাই এর আগে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।অ্যালোভেরা জেল, দুধ বা টকদইয়ের সাথে মিক্স ব্যবহার করুন – এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করবে।অতিরিক্ত সময় ধরে লাগিয়ে রাখবেন না – বেশি সময় থাকলে ত্বকে হলুদ দাগ বসে যেতে পারে।সপ্তাহে ১/২ বার ব্যবহার করুন – প্রতিদিন ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হতে পারে।সংবেদনশীল ত্বকের জন্য আগে প্যাচ টেস্ট করুন – কারণ কিছু মানুষের ত্বকে এটি র্যাশ বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।সাবধানতাহলুদের প্যাক অ্যাপ্লাই এর পরপরই সরাসরি সূর্যালোক এড়িয়ে চলুন। অনেক সময় কাঁচা হলুদ ব্যবহারের ফলে ত্বক হলুদ বর্ণ ধারণ করতে পারে, যা সহজে উঠতে চায় না। এছাড়া, অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করাই ভালো। যদি হলুদ থেকে ফেইসে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন দেখা দেয়, তাহলে স্কিনকেয়ারে এই উপাদানটি এড়িয়ে চলাই বেটার।তাহলে, বুঝতেই পারলেন কাঁচা হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এটি ত্বকের প্রকৃত রঙ বদলে ফেলার কোনো ম্যাজিকাল উপাদান নয়। সুস্থ, সুন্দর, উজ্জ্বল ত্বক পেতে সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান। ব্রাইটেনিং এর জন্য স্কিনকেয়ার রুটিনে ভিটামিন-সি, আলফা আরবুটিন যুক্ত প্রোডাক্ট ইনক্লুড করতে পারেন। ত্বকের যত্নে আপনি কি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করেন? আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে কমেন্টে শেয়ার করুন!
তকের কালচে দাগ, ব্রণের দাগ বা রোদের কারণে হওয়া পিগমেন্টেশন দূর করতে দামী স্কিনকেয়ারের পিছনে টাকা খরচ করার আগে জেনে নিন—সঠিক একটি উপাদান ব্যবহার করলেই ত্বকের দাগছোপ হবে অনেকটাই কম! আজ জানাবো এমন কিছু শক্তিশালী উপাদানের কথা, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ও দাগ দূর করতে কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিকভাবেও কিন্তু এগুলো এখন প্রমাণিত।ত্বকের দাগছোপ কমিয়ে আনবো কীভাবে?স্কিনকেয়ারে অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস ব্যবহার এখন নতুন কিছু নয়! অনেকেই এখন সিরাম বা অ্যাম্পুল ব্যবহার করছেন। কিন্তু ত্বকের প্রয়োজন অনুসারে সঠিক উপাদান বেছে নেওয়া খুবই জরুরি। ত্বকের দাগছোপ দূর করতে কোন কোন উপাদান ম্যাজিকের মতো কাজ করে, চলুন দেখে নেই এখনই।১. ভিটামিন সি (Ascorbic Acid)ভিটামিন সি হলো ত্বকের জন্য অন্যতম শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে আপনি পাবেন ইয়াংগার লুকিং স্কিন। ভিটামিন সি মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। নিয়মিত ভিটামিন সি সিরাম বা ক্রিম ব্যবহার করলে দাগছোপ দ্রুত হালকা হয়ে যাবে। সকালে সানস্ক্রিন ব্যবহারের আগে ভিটামিন সি সিরাম অ্যাপ্লাই করতে পারেন, এতে ভালো ফলাফল পাবেন।২. গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বয়স ২০ এর বেশি হলে সাপ্তাহিক স্কিনকেয়ার রুটিনে গ্লাইকোলিক অ্যাসিড যোগ করতে পারেন। গ্লাইকোলিক অ্যাসিড হল AHA (Alpha Hydroxy Acid), যা ত্বকের মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। এটি হাইপার পিগমেন্টেশন আর সানবার্ন কমিয়ে স্কিন ইভেন টোনড করতে হেল্প করে। এই উপাদানটি দাগছোপ হালকা করে এবং সেই সাথে ত্বককে মসৃণ করে। বডির বিভিন্ন এরিয়া যেমন- হাঁটু, আন্ডারআর্ম, কনুই- এগুলো দাগমুক্ত রাখতে এই উপাদানটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।৩. নিয়াসিনামাইডনিয়াসিনামাইড বা ভিটামিন বি৩ ত্বকের দাগছোপ কমাতে খুবই কার্যকর। এটি ত্বকের মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে, হাইপারপিগমেন্টেশন কমায় ও ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। এছাড়া এটি ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম সিক্রেশন কমিয়ে আনে, ব্রণ আর ব্রণের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।৪. কোজিক অ্যাসিডকোজিক অ্যাসিড এক ধরনের ন্যাচারাল স্কিন লাইটেনিং ইনগ্রেডিয়েন্ট, যা ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে হাইপারপিগমেন্টেশন ও ব্রণের দাগ হালকা করে। এটি অনেক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টে এখন ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে স্পট ট্রিটমেন্ট হিসেবে।৫. আলফা আরবুটিনজেন্টল কিন্তু পাওয়ারফুল ব্রাইটেনিং এজেন্ট হিসেবে এর কদর আছে। যারা সেনসিটিভ স্কিন নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য আলফা আরবুটিন সবচেয়ে সেইফ। এটি ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে দাগছোপ হালকা করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এটি নিয়াসিনামাইডের সাথে ব্যবহার করা হলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। ধৈর্য সহকারে টানা কয়েক মাস ব্যবহার করলে নিজেই ত্বকের উজ্জ্বলতা দেখে চমকে যাবেন!তাহলে বুঝতেই পারছেন, স্কিনকেয়ার রুটিনে এই উপাদানগুলোর একটি যোগ করলেই ত্বকের দাগছোপ কমতে শুরু করবে! তবে দ্রুত ফল পেতে হলে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক, কারণ এসব উপাদান ত্বককে সূর্যরশ্মির প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। তাহলে আজ এই পর্যন্তই!
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য অনেকেই নিয়মিত ব্যবহার করেন ইনস্টাগ্রাম। তবে অনেক ব্যবহারকারী অজান্তেই এমন কিছু কাজ করেন, যা প্ল্যাটফর্মটির নিয়ম ভঙ্গ করে। এর ফল হিসেবে অ্যাকাউন্টে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই কিছু সাধারণ ভুল সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি।ফেক ফলোয়ার ব্যবহার করাঅনেকে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় কৃত্রিম ফলোয়ার বাড়ানোর চেষ্টা করেন। বিভিন্ন বট বা অচেনা অনলাইন সার্ভিসের মাধ্যমে ফলোয়ার কিনে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। কিন্তু এই ধরনের কার্যক্রম প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার বিরুদ্ধে। সিস্টেমে ধরা পড়লে অ্যাকাউন্টের রিচ কমে যেতে পারে, সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধতাও আরোপ হতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া শেয়ার করাঅন্যের তৈরি ছবি, ভিডিও বা গান নিজের নামে বা অনুমতি ছাড়া পোস্ট করাও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। মূল নির্মাতা অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়। একই ধরনের অভিযোগ বারবার হলে অ্যাকাউন্টের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।নিষিদ্ধ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করাসব হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। কিছু হ্যাশট্যাগ অপব্যবহার বা অনুপযুক্ত কনটেন্টের কারণে নিষিদ্ধ তালিকায় পড়ে। সেগুলো ব্যবহার করলে পোস্টের দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে এবং অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।অশালীন বা ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রকাশ করাঘৃণাত্মক বক্তব্য, অশালীন ছবি বা বিতর্কিত কনটেন্ট শেয়ার করার ব্যাপারে প্ল্যাটফর্মটি খুবই কঠোর। এই ধরনের পোস্ট করলে তা দ্রুত মুছে ফেলা হয় এবং ব্যবহারকারীকে সতর্ক করা হয়। নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা একাধিকবার ঘটলে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।স্প্যাম ধরনের আচরণ করাএকই মন্তব্য বারবার করা, অল্প সময়ে অনেক পোস্টে লাইক দেওয়া বা অকারণে প্রচুর ডাইরেক্ট মেসেজ পাঠানোকে স্প্যাম হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া ফলোয়ার বাড়ানোর আশায় তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে লগইন করাও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের কাজ নিয়মিত হলে অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট জমা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সেটি হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপদ থাকতে হলে নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কী পোস্ট করছেন, কোথায় মন্তব্য করছেন এবং কোন ধরনের টুল ব্যবহার করছেন এসব বিষয়ে সচেতন থাকলে নিজের অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন নিরাপদ রাখা সম্ভব।
সাইবার স্পেসে প্রতিনিয়ত নানাবিধ হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা। ভুক্তভোগী অনেক নারী বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। এ ধরনের অপরাধীরা অনেক সময় এসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন বড় অঙ্কের টাকা। গত এক বছরে এমন সাইবারের ফাঁদে পড়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি নারী।অসংখ্য ঘটনার মধ্যে সাইবারের ফাঁদে পড়েন মধ্যবয়সি এক নারী। ফেসবুকে পরিচয় হয় আশরাফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। পরিচয়ের ছয় মাস পর তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে।নিয়মিত ভিডিওকলে কথা হয় মেসেঞ্জারে। এক পর্যায়ে ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন আশরাফ। কথোপকথনের এক পর্যায়ে সে স্ক্রিন রেকর্ডারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই নারীর অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ধারণ করে রাখে মোবাইলে। পরে এসব ভিডিও ও ছবি ওই নারীর কাছে পাঠায়।ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নারী পুলিশের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের ফেসবুক পেজে অভিযোগ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আশরাফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮১৩ নারী সাইবারে অভিযোগ করেন। এর মধ্যে অভিযোগ নেওয়া হয় ৪৮০টির।সমাধান করা হয়েছে ১৬৩টি এবং অভিযোগ মুলতবি রয়েছে ৩১৭টি। এগুলোর মধ্যে ১২ হাজার ৬৩২টি অভিযোগ টেলিফোনের মাধ্যমে সমাধান করেছে সিআইডি।সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সাইবারে নানা ধরনের হয়রানির ক্ষেত্রে নারীদের অভিযোগগুলো তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ওই নারীদের আইনানুগ সহায়তা দেওয়া হয়।পুলিশ সদর দপ্তরের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে সাইবারের ফাঁদে পড়ে পুলিশের কাছে ৯ হাজার ১৬৫ জন নারী প্রতিকার চান। ভুক্তভোগী এসব নারীর ৪ হাজার ১৩৪ (৪৫ শতাংশই) ডক্সিংয়ের (বিনা অনুমতিতে স্পর্শকাতর ছবি-ভিডিও, তথ্য প্রভৃতি প্রকাশ করা) শিকার হন। ইমপারসোনেশন ৫৩০ (৬.০০ শতাংশ), আইডি হ্যাক ১ হাজার ৩৯৩ (১৭.০০ শতাংশ), ব্ল্যাকমেইলিং ১ হাজার ৭২৪ (১৮.০০ শতাংশ), সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ করেন ৮৭৩ (৯.০০ শতাংশ), আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো ২৫৬ (৩.০০), মোবাইল হ্যারেজমেন্ট ২৪১ (২ শতাংশ) এবং অন্যান্য ১৪ জন। সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীদের তথ্য আদানপ্রদানে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সাপোর্ট সেন্টার থেকে। হয়রানির বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এখান থেকে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও আইনগত পরামর্শও দেওয়া হয়। সম্প্রতি কণা (ছদ্মনাম) নামের ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গোপনে ধারণ করা তার কিছু গোসলের ছবি কে বা কারা তারই নামে খোলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ফেক আইডি থেকে তাকে পাঠিয়েছে। আইডিতে মেসেজ দিয়ে সেসব ছবি কীভাবে পেয়েছে ও আইডি পরিচালনাকারী ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। সে ছবিগুলো ডিলিট করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ভুয়া আইডির পরিচালনাকারী কণাকে জানায় যে- সে তার কাছেরই কেউ এবং কণা যখন গোসল করছিল তখন সে ছবিগুলো ধারণ করেছে। এসব ছবি সে ডিলিট করে দিতে রাজি আছে যদি কণা নিজের আরও কিছু আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও নিজে ধারণ করে তাকে পাঠায় কিংবা বড় অঙ্কের টাকা দেয়। এ প্রস্তাবে কণা রাজি না হয়ে আইনি আশ্রয় নেওয়ার কথা জানায়। এতে অপরাধী ক্ষিপ্ত হয়ে কণার গোসলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় কণা তার অভিভাবককে জানান এবং তার বাবাকে নিয়ে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর কিছু আচরণবিধি মানা দরকার। বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী একজন নারী সাইবার স্পেসে হয়রানির শিকার হন বা তাকে যখন নানাভাবে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয় অথবা ব্যক্তিগত ছবি ধারণ, অশ্লীল অডিও-ভিডিও ধারণ করে সেটিকে ছড়িয়ে দেওয়া বা হুমকি দেওয়া হয়। এটি ছড়িয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা দেখি এর মধ্য দিয়ে কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থায় একজন নারী সামাজিক জীবনে নানা ধরনের ক্ষতি ও প্রশ্নের সম্মুক্ষীণ হন।যারা এ সাইবার স্পেসকে নিজের উদ্দেশ্যে বা অন্যকে হেয় করার জন্য ব্যবহার করে সেটি কখনো কখনো সমাজজীবন বা ব্যক্তিজীবনের ওপর তার প্রভাব তৈরি করতে চায়। এ ধরনের অপরাধীকে সাইবার অ্যাক্ট বা প্রচলিত আইনে বিচার করা সম্ভব, যদি একজন ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও বন্ধুত্ব তৈরিসহ সব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত।সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
ফেসবুক–ইনস্টাগ্রামের বাইরে আপনার তথ্য কে শেয়ার করছে, জানবেন যেভাবেফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীরা যখন এসব প্ল্যাটফর্মের বাইরে অন্য অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন, তখনও তাদের কিছু কার্যকলাপসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কাস্টমাইজ করা ও লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্যই এসব তথ্য ব্যবহার করা হয়।ধরা যাক, আপনি কোনো অনলাইন স্টোরে জুতা খুঁজেছেন। সেই ওয়েবসাইট যদি আপনার কার্যকলাপের তথ্য ফেসবুকের সঙ্গে শেয়ার করে, তাহলে পরে Facebook বা Instagram–এ একই ধরনের জুতার বিজ্ঞাপন দেখতে পারেন।তবে ব্যবহারকারীদের জন্য এই তথ্য দেখা ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগও রেখেছে মেটা।‘ইওর একটিভিটিজ অফ মেটা টেকনোলজিস’ কীমেটার ‘Your Activity Off Meta Technologies’ ফিচারটি দেখায়—কোন কোন ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা প্রতিষ্ঠান আপনার কার্যকলাপের তথ্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে শেয়ার করেছে।এই টুলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা—নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা অ্যাপ বিচ্ছিন্ন করতে পারেনআগের সব কার্যকলাপ মুছে ফেলতে পারেনভবিষ্যতে তথ্য শেয়ার বন্ধ করতে পারেনতথ্য ডাউনলোড করে অফলাইনে পর্যালোচনা করতে পারেনএ ছাড়া ফেসবুকের প্রাইভেসি চেক-আপ টুল ব্যবহার করে কে কী তথ্য দেখতে পাচ্ছে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।যেভাবে দেখবেন কোন ওয়েবসাইট তথ্য শেয়ার করছেফেসবুক (ওয়েব সংস্করণ)১. প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করে Settings & Privacy থেকে Settings-এ যান।২. Account Center নির্বাচন করুন।৩. Your Information and Permissions-এ ক্লিক করুন।৪. এরপর Your Activity Off Meta Technologies নির্বাচন করুন।ফেসবুক অ্যাপ১. হ্যামবার্গার (তিন দাগ) মেনুতে ট্যাপ করুন।২. Account Center-এ গিয়ে একইভাবে Your Information and Permissions নির্বাচন করুন।৩. তারপর Your Activity Off Meta Technologies এ ট্যাপ করুন।ইনস্টাগ্রাম (অ্যাপ বা ওয়েব)১. প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ/ক্লিক করুন।২. Settings থেকে Account Center-এ যান।৩. Your Information and Permissions নির্বাচন করে৪. Your Activity Off Meta Technologies এ প্রবেশ করুন।যেভাবে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন করবেনRecent Activity অংশে গেলে বিজ্ঞাপনদাতা, ব্র্যান্ড বা ওয়েবসাইটের তালিকা দেখা যাবে।যেটি বিচ্ছিন্ন করতে চান সেটি নির্বাচন করে Disconnect বাটনে ক্লিক করুন এবং নিশ্চিত করুন।একাধিক অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে মূল স্ক্রিনে গিয়ে Disconnect Specific Activity নির্বাচন করুন। এরপর প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টগুলো বেছে নিয়ে Continue ও Confirm চাপুন।প্রাইভেসি সুরক্ষায় নিয়মিত এ সেটিংসগুলো পর্যালোচনা করা উপকারী।
ভালোবাসা বা প্রেম কেবল কিছু শব্দে আবদ্ধ একটি পরিধি নয়। এটা অন্তর্নিহিত ব্যাপার। উপলব্ধির আস্তরণ দিয়ে যখন কোনো অন্তরসুধা উপলব্ধি করা যায়, আর একে যদি ভালোবাসা বলে, তাহলে আমি প্রগাঢ় উচ্চারণে সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলতে চাই, আমি তোমাকে ভালোবাসি নবধারার সেতা (নীলবর্ণ) ...।বলতে ইচ্ছা করে—ফাগুনের এই গোধূলির ক্ষণেইচ্ছেডানা মেলে দিয়ে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়েআসতে চাই যে তোমার কাছেকেন দাও বাধা মোরে?ফাগুনের এই আগুনে বসন্তের এই নবগগনেভুবনতলে হাতে হাত রেখে হাঁটতে চাই যে অচেনা পথেপুষ্পরথী ওই বেলি ফুল খোঁপায় গুঁজতে ইচ্ছা করে।অভিযোগ–অনুযোগের পর্দা সরিয়ে চলো একই আকাশ দেখি ওই মেঘটাকে সরিয়ে.... ।
তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে বলেই—আমি ইচ্ছা করেই আর সেরে উঠি না।লোকে বলে, জ্বর হলে শরীর পুড়ে যায়, কষ্ট হয়; কিন্তু আমার কাছে এই জ্বর যেন এক অদ্ভুত আশীর্বাদ। কারণ, আমি জানি, তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে বলেই আমার শরীরের জ্বরটা এভাবে বেড়ে যায়। শরীর খারাপটা আসলে একটা উসিলা মাত্র। আমার আসল অসুখ তো তোমাকে ঘিরেই।যখন তুমি কপালে হাত রেখে খুব আলতো করে জিজ্ঞাসা করো– ‘এখন কেমন লাগছে?’ তখন মনে হয়, ওইটুকু আদরের জন্য আমি দীর্ঘ এক জীবন জ্বরের ঘোরেই কাটিয়ে দিতে পারি।দুনিয়াতে কত রকমের ওষুধ আছে—কেউ বলে প্যারাসিটামল, কেউ বলে বিশ্রাম, কেউ বলে ডাক্তারের পরামর্শ। কিন্তু, তোমার হাতের ওই শীতল পরশটার চেয়ে বড় কোনো ধন্বন্তরী আজও কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি।তুমি যখন কাছে থাকো, পরম মমতায় এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দাও, তখন নিজের এই অসুস্থতাকেও খুব সুন্দর মনে হয়। মনে হয়, কষ্টেরও একটা কোমল রং আছে, আর তার নাম তুমি। সুস্থ হয়ে গেলে তুমি আবার ব্যস্ত হয়ে পড়বে, নিজের দুনিয়ায় হারিয়ে যাবে। আমার খবর নেবে না, জ্বর মেপে দেখবে না, কপালে হাত রাখবে না। তাই কখনো কখনো মনে হয়—এই জ্বর থাকুক না একটু, এই অজুহাতে যদি তোমাকে আরও কিছুটা সময় পাওয়া যায়!তবে জানো,সত্যি বলতে—আমি জ্বর চাই না,আমি চাই তোমাকে।আমি চাই,সুস্থ দিনের বিকেলে,কোনো অজুহাত ছাড়াই,তুমি এসে পাশে বসো,আর জিজ্ঞাসা করো—‘এখন কেমন লাগছে?’
সে আজ অনেক বছর আগেকার ঘটনা। আমার এক ডাক্তার বন্ধু সদ্য মেডিকেল কলেজ থেকে বেরিয়ে উত্তর বাংলার এক শহরে প্র্যাকটিস শুরু করেছে, তখনকার কথা। আমার ডাক্তার বন্ধুর মুখেই শুনেছিলাম সেই কাহিনি।নতুন জায়গায়, নতুন পরিবেশে জমিয়ে বসতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, সময় লাগে। আমার বন্ধুটির উৎসাহ বা ধৈর্যের অভাব ছিল না। নতুন ডাক্তারের কাছে চট করে কোনো রোগী আসে না, পুরোনো ডাক্তারদেরই সবার পছন্দ। তবে আমার বন্ধুটি শিশুচিকিৎসায় সসম্মানে পাশ করেছিল, সোনার মেডেল পেয়েছিল। সে বুদ্ধি করে তার নেমপ্লেটে নামের পাশে এম বি বি এস, ডি সি এইচ (গোল্ড মেডেলিস্ট) কথাটা জুড়ে দিয়েছিল, ফলে দু-চারজন করে রোগী আসতে শুরু করেছিল।এভাবে কিছুদিন কাটবার পর এল শীত। উত্তরবঙ্গের হাড়-কাঁপানো শীত। সন্ধের পর রাস্তা ফাঁকা, দরজা-জানালা বন্ধ করে সবাই আশ্রয় নিয়েছে ঘরের ভেতর। নেহাত দায় না ঠেকলে কেউ আর পথে বেরোয় না।সেদিন রাত তখন প্রায় দশটা। মফস্সল শহরে ওটা কম রাত নয়, তার ওপর ঠান্ডার জন্য শীতকালে সবাই তাড়াতাড়ি কাজকর্ম সেরে শুয়ে পড়ে। ডাক্তার ন-টার মধ্যে খাওয়া সেরে বিছানায় লেপের তলায় বেশ আয়েশ করে একটা মেডিক্যাল জার্নাল পড়ছিল। আমেরিকায় ফিলাডেলফিয়ায় একজন শল্যচিকিৎসক কেমন করে একটা দুরূহ অপারেশন করেছিলেন তার বিবরণ ছিল ওই জার্নালে, সেটা পড়তে পড়তে সে তন্ময় হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ বাইরের দরজায় ঘন ঘন কড়া নাড়ার শব্দে ডাক্তার চমকে উঠল। এই অসময়ে কে এল! নিশ্চয়ই জরুরি কেস।আগেই বলেছি, আমার ডাক্তারবন্ধু ছিল খুব করিতকর্মা, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার জন্য আলস্যকে সে কখনো প্রশ্রয় দিত না। তাড়াতাড়ি গায়ে একটা গরম চাদর জড়িয়ে সে সদর দরজা খুলল, তারপরই ভীষণ চমকে দু-পা পিছিয়ে এল। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি সুন্দরী অল্পবয়সি বউ, মাথার সিঁদুর জ্বলজ্বল করছে। বউটির মুখ কিন্তু উৎকণ্ঠায় আর দুশ্চিন্তায় ভীষণ ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে।‘ডাক্তারবাবু, আমার মেয়ের খুব অসুখ,’ বউটি ব্যাকুল কণ্ঠে বলে উঠল, ‘আপনি শিগগির চলুন।’‘কোথায় আপনাদের বাড়ি?’ ডাক্তার জিজ্ঞেস করল।‘বেশি দূর নয়, আপনি আর দেরি করবেন না,’ বউটির গলা থেকে যেন কাকুতি ঝরে পড়ছে।‘ঠিক আছে, আপনি ভেতরে এসে বসুন,’ ডাক্তার বলল, ‘আমি তৈরি হয়ে নিচ্ছি।’‘আমি এখানেই ভালো আছি, আপনি তাড়াতাড়ি করুন।’বউটি ভেতরে আসতে অনিচ্ছুক বলে মনে হল ডাক্তারের। ওই ঠান্ডায় তার গায়ে একটা সুতোর চাদর পর্যন্ত নেই, খালি পা, অথচ চেহারা দেখে মনে হয় ভালো ভদ্র পরিবারের বউ। ডাক্তার তবু ইতস্তত করছিল, ভাবছিল বউটিকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা ঠিক হবে কি না, কিন্তু বউটিই বলে উঠল, ‘আমার জন্য আপনি ব্যস্ত হবেন না, তাড়াতাড়ি চলুন।’অগত্যা ডাক্তার ভেতরে গিয়ে গায়ে একটা গরম ওভারকোট চাপিয়ে বেরিয়ে এল, হাতে ব্যাগ, তাতে কিছু দরকারি ওষুধপত্তরও আছে।‘আপনাকে একটা চাদর দেব?’ ডাক্তার আমতা আমতা করে বলল।‘বললাম তো, আমার জন্য আপনাকে ব্যস্ত হতে হবে না,’ একটু অসহিষু; কণ্ঠেই জবাব দিল বউটি, ‘চলুন।’দরজায় তালা লাগিয়ে ডাক্তার বেরিয়ে পড়ল। বউটি আগে আগে যাচ্ছে আর তার পেছনে ডাক্তার। বউটি খুব তাড়াতাড়ি হাঁটছে।রাস্তা নির্জন, অন্ধকার, গা ছমছম করে। বউটি এই রাতে একা ডাক্তারের খোঁজে বেরিয়েছে, বাড়িতে কি পুরুষমানুষ নেই! এই ঠান্ডার রাতে এমন একা কেউ ছেড়ে দেয় ঘরের বউকে! ডাক্তারের খুব খারাপ লাগছিল।যাহোক বেশ খানিকটা যাবার পর একটা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল বউটি, তারপর ডাক্তারকে লক্ষ করে বলল, ‘সদর দরজা খোলা আছে, আপনি ভেতরে যান, আমি আসছি।’সে গেটের পাশ দিয়ে অন্ধকারে কোথায় যেন গেল।বউটির কথাই ঠিক। সদর দরজা ভেজানো ছিল, ঠেলতেই খুলে গেল। প্রথমেই একটা ঘর, প্রায় অন্ধকার, তার পরের ঘরে আলো জ্বলছে। ডাক্তার এগিয়ে গেল। একটা খাটে বছর দেড়েকের একটি মেয়ে নিঃঝুমের মতো শুয়ে আছে। ফর্সা গায়ে রং, কোঁকড়ানো চুল, ভারি মিষ্টি মুখ কিন্তু জ্বরে বেঁহুশ, মুখ আগুনের মতো লাল।মেয়েটির মাথার সামনে একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক আর একজন বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন, বোধ হয় ওর দাদু-দিদিমা। বৃদ্ধা মেয়েটির কপালে জলপট্টি দিচ্ছেন আর ভদ্রলোক পাখার হাওয়া করছেন। দু-জনের মুখে ফুটে উঠেছে অসীম উৎকণ্ঠা। ডাক্তারের জুতোর শব্দে দু-জনেই মুখ তুলে তাকালেন।‘ডাক্তারবাবু এসে গেছেন!’ ভদ্রলোক উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন, তাঁর মুখে ফুটে উঠল একটা নিশ্চিন্ততার ছাপ।ডাক্তার ব্যাগ থেকে স্টেথিসকোপ বের করে মেয়েটির বুক-পিঠ পরীক্ষা করল, জ্বর দেখল এক-শো পাঁচ। নিমুনিয়া, তবে ভাগ্য ভালো তখনও মারাত্মক আকার নেয়নি। মেয়েটিকে সে তক্ষুনি একটা ইঞ্জেকশন দিল। একটা প্রেসক্রিপশন লিখে বুড়ো ভদ্রলোকের হাতে সেটা দিয়ে বলল, ‘সকালে এই ইঞ্জেকশন আর ট্যাবলেটগুলো আনিয়ে রাখবেন। আমি আজ রাতের মতো ওষুধ দিয়ে যাচ্ছি, দু-ঘণ্টা অন্তর খাওয়াবেন। আমি সকালে আবার আসব।’‘ও ভালো হয়ে যাবে তো?’ বুড়ো ভদ্রলোক ব্যাকুল কণ্ঠে বলে উঠলেন।‘হ্যাঁ,’ ডাক্তার হাসিমুখে জবাব দিল, ‘ঠিক সময়ে ওষুধ পড়েছে, আর দেরি হলেই ভয় ছিল।’ঠিক সেইসময় হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকল একজন সুপুরুষ যুবক, উদ্ভ্রান্তের মতো তার চেহারা। ডাক্তারকে দেখে সে বলল, ‘ও আপনি এখানে, আমি আপনার ঘরে তালা দেখে ভাবলাম রোগী দেখতে গেছেন, আরও দু-জন ডাক্তারবাবুর কাছে ছুটে গেলাম, তাঁরা এই ঠান্ডায় আসতে রাজি হলেন না।’‘তুই ওঁকে খবর দিসনি!’ বুড়ো ভদ্রলোক এবার অবাক হয়ে বললেন, ‘তবে কে ওঁকে ডেকে আনল?’‘তাই তো!’ যুবক এবার বলল, ‘আপনাকে কে খবর দিল?’‘কেন, মেয়েটির মা,’ ডাক্তার জবাব দিল, ‘তিনি গিয়ে বললেন মেয়ের খুব অসুখ এখুনি যেতে হবে। এত রাতে উনি একা ছুটে এসেছেন দেখে আমিও কম অবাক হইনি, গায়ে একটা চাদর পর্যন্ত ছিল না।’‘ওর মা!’ অস্ফুট কণ্ঠে বললেন বুড়ো ভদ্রলোক।তখুনি ডাক্তারের চোখে পড়ল দেওয়ালে টাঙানো একটা ছবির দিকে। হাসি হাসি মুখে সেই বউটি তার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন খুব খুশি হয়েছে তার ওপর।‘ওই তো,’ ছবিটার দিকে আঙুল দেখিয়ে ডাক্তার বলে উঠল, ‘উনিই তো আমাকে নিয়ে এলেন, গেট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে বললেন, দরজা খোলা আছে ভেতরে যান, আমি আসছি।’ঘরে সবাই যেন স্তম্ভিত, যুবকটি হঠাৎ দু-হাতে মুখ ঢেকে ফেলেছে। ব্যাপার কী বুঝতে না পেরে ডাক্তার এর ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে।‘ওটা আমার পুত্রবধূর ছবি,’ বুড়ো ভদ্রলোক একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘গত বছর এই সময় আমাদের ছেড়ে স্বর্গে গেছে।’ডাক্তার হতভম্ব!মেয়ের কঠিন অসুখে মৃত মায়ের আত্মা স্থির থাকতে পারেনি, মানুষের দেহ ধরে এসেছিল সময়মতো চিকিৎসার জন্য ডাক্তারকে নিয়ে যেতে। সন্তানের প্রতি এমন ভালোবাসা মায়ের পক্ষেই সম্ভব।মেয়েটি ভালো হয়ে উঠেছিল। আর ওই ঘটনার পর ডাক্তারের পসার এত বেড়ে গিয়েছিল যে তাকে আর কখনো রোগীর জন্য বসে থাকতে হয়নি। তার নামই হয়ে গিয়েছিল ধন্বন্তরী ডাক্তার। অথচ তার মূলে ছিল এক মৃত মায়ের স্নেহ আর উৎকণ্ঠা, অসুস্থ মেয়েকে বাঁচাবার জন্য অন্য জগৎ থেকে ছুটে আসতেও তার আটকায়নি।
আজিকের রোদ ঘুমায়ে পড়িয়া ঘোলাট-মেঘের আড়ে,কেয়া-বন পথে স্বপন বুনিছে ছল ছল জল-ধারে।কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝ্ঝুম নিরালায়,ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে অস্ফুট কলিকায়!বাদলের জলে নাহিয়া সে মেয়ে হেসে কুটি কুটি হয়,সে হাসি তাহার অধর নিঙাড়ি লুটাইছে বনময়।কাননের পথে লহর খেলিছে অবিরাম জল-ধারাতারি স্রোতে আজি শুকনো পাতারা ছুটিয়াছে ঘরছাড়া!হিজলের বন ফুলের আখরে লিখিয়া রঙিন চিঠি,নিরালা বাদলে ভাসায়ে দিয়েছে না জানি সে কোন দিঠি!চিঠির উপরে চিঠি ভেসে যায় জনহীন বন বাটে,না জানি তাহারা ভিড়িবে যাইয়া কার কেয়া-বন ঘাটে!কোন্ সে বিরল বুনো ঝাউ শাখে বুনিয়া গোলাপী শাড়ী, –হয়ত আজিও চেয়ে আছে পথে কানন-কুমার তারি!দিকে দিগেনে- যতদূর চাহি, পাংশু মেঘের জালপায়ে জড়াইয়া পথে দাঁড়ায়েছে আজিকার মহাকাল।গাঁয়ের চাষীরা মিলিয়াছে আসি মোড়লের দলিজায়, –গল্পের গানে কি জাগাইতে চাহে আজিকার দিনটায়!কেউ বসে বসে বাখারী চাঁচিছে, কেউ পাকাইছে রসি,কেউবা নতুন দোয়াড়ীর গায়ে চাঁকা বাঁধে কসি কসি।কেউ তুলিতেছে বাঁশের লাঠিতে সুন্দর করে ফুলকেউবা গড়িছে সারিন্দা এক কাঠ কেটে নির্ভুল।মাঝখানে বসে গাঁয়ের বৃদ্ধ, করুণ ভাটীর সুরে,আমীর সাধুর কাহিনী কহিছে সারাটি দলিজা জুড়ে।লাঠির উপরে, ফুলের উপরে আঁকা হইতেছে ফুল,কঠিন কাঠ সে সারিন্দা হয়ে বাজিতেছে নির্ভুল।তারি সাথে সাথে গল্প চলেছে- আমীর সাধুর নাও,বহুদেশ ঘুরে আজিকে আবার ফিরিয়াছে নিজ গাঁও।ডাব্বা হুঁকাও চলিয়াছে ছুটি এর হতে ওর হাতে,নানান রকম রসি বুনানও হইতেছে তার সাথে।বাহিরে নাচিছে ঝর ঝর জল, গুরু গুরু মেঘ ডাকে,এ সবের মাঝে রূপ-কথা যেন আর রূপকথা আঁকে!যেন ও বৃদ্ধ, গাঁয়ের চাষীরা, আর ওই রূপ-কথা,বাদলের সাথে মিশিয়া গড়িছে আরেক কল্প-লতা।বউদের আজ কোনো কাজ নাই, বেড়ায় বাঁধিয়া রসি,সমুদ্রকলি শিকা বুনাইয়া নীরবে দেখিছে বসি।কেউবা রঙিন কাঁথায় মেলিয়া বুকের স্বপনখানি,তারে ভাষা দেয় দীঘল সূতার মায়াবী নকসা টানি।বৈদেশী কোন্ বন্ধুর লাগি মন তার কেঁদে ফেরে,মিঠে-সুরি-গান কাঁপিয়ে রঙিন ঠোঁটের বাঁধন ছেঁড়ে।আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন ছল ছল জলধারে,বেণু-বনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে।
মন টেকে না ইট পাথরের এই শহরে আরপাইনা শান্তি খুলে রেখেও অট্টালিকার দ্বারসবুজ ঘেরা গ্রামে গিয়ে শান্তি খুঁজে পাইগ্রামের সাথে শহরের যে তুলনা আর নাই।গাছের ডালে দোয়েল কোয়েল গায়-যে কতো গানসেই গানেতে ভরে উঠে ক্লান্ত দেহের প্রাণ।নদীর ধারে জেলের জালে ওঠে তাজা মাছমাছের স্বাদে মন চায় আমার থাকি বারো মাস।আম গাছেতে ধরে আছে কত শত আমজামের ডালে ঝুলে থাকে মিষ্টি কালো জাম।বিলের ধারে পদ্ম ফোটে সৌন্দর্যের নেই জুড়িনৌকা নিয়ে সারাদিন তাই এদিক ওদিক ঘুরি।রাস্তার পাশে স্বর্ণ লতা গাছের সাথে বায়শিকড় ছাড়া কেমনে বাঁচে বোঝা বড় দায়।ডালে ডালে লাল জিলাপির কোনো অভাব নাইযখন খুশি সবাই মিলে পেড়ে এনে খাই।মাচার নিচে লাউয়ের সারি আরো কতো কিছুদাদু যখন তুলে আনে হাটি পিছু পিছু।মাঠে ঘাটে ছেলে মেয়ে খেলে মিলে মিশেশহরেতে নেই-কো সুযোগ মরি যেন বিষে।তাজা গরুর খাটি দুধে দাঁতে লাগে সরগরুর লাথি খেয়েও তবে করে না যে ডর।ফুল বাগানে ফোটে কতো গোলাপ জবা বেলীভোমরা দেখলে মন চায় আমার দুটি পাখা মেলি।গ্রামের মানুষ সহজ সরল দেখায় না যে দামআহা! এত সুন্দর কেন সবুজের এই গ্রাম।
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনিছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলশুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবেতারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমীআর এলোনাপঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুরতোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবোসেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমরখেলা করে!নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো? আমার মাথা এ ঘরের ছাদফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায়তিন প্রহরের বিল দেখাবে?একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনোলাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরাভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছিভিতরে রাস-উৎসবঅবিরল রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরাকত রকম আমোদে হেসেছেআমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি!বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন, আমরাও…বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুইসেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসবআমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা!বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল,যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবেসেদিন আমার বুকেও এ-রকম আতরের গন্ধ হবে!ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠেয়ে প্রাণ নিয়েছিদূরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীল পদ্মতবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধএখনো সে যে-কোনো নারী।কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখে না!
1️⃣ ৮ টাকা → ১২ মিনিটমেয়াদ: ১২–২৪ ঘণ্টাকোড: *121*08#2️⃣ ১৪ টাকা → ২২ মিনিটমেয়াদ: ১ দিনকোড: *121*014#3️⃣ ১৮ টাকা → ২৮ মিনিটমেয়াদ: ১ দিনকোড: *121*18#4️⃣ ২৩ টাকা → ৩৫–৪০ মিনিটমেয়াদ: ২ দিনকোড: *121*23# বা *123*23# 📞 ৭ দিনের মিনিট অফার৭৮ টাকা → ১০০ মিনিট৯৭ টাকা → ১৩০ মিনিট১২৯ টাকা → ১৮০ মিনিট১৩৯ টাকা → ২২০ মিনিট 📞 ৩০ দিনের মিনিট অফার১৬৯ টাকা → ২০০ মিনিট২০৯ টাকা → ২৫০ মিনিট৩১৯ টাকা → ৫০০ মিনিট৫০৯ টাকা → ৮০০ মিনিট৬২৯ টাকা → ১০০০ মিনিট ✅ সব এয়ারটেল অফার দেখতে ডায়াল করুন:*121#✅ মিনিট চেক কোড:*778*5#
বাংলাদেশের জনপ্রিয় হরর স্টোরিটেলিং প্ল্যাটফর্ম Bhoot.com আবারও শ্রোতাদের সামনে নিয়ে এসেছে এক শিহরণ জাগানো গল্প—Episode 322, যার কেন্দ্রবিন্দু “পিশাচিনী”। এই এপিসোডটি শুধু একটি ভূতের গল্প নয়, বরং অজানা অন্ধকার জগতের এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতগল্পের সারসংক্ষেপEpisode 322–এ মূল গল্পটি একটি রহস্যময় নারী চরিত্রকে ঘিরে, যাকে “পিশাচিনী” বলা হয়। ধীরে ধীরে গল্পে উঠে আসে—একটি অভিশপ্ত পরিবেশঅস্বাভাবিক আচরণএবং এমন কিছু ঘটনা যা সাধারণ যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় নাগল্পের চরিত্ররা প্রথমে বিষয়টিকে কাকতালীয় ভেবে উড়িয়ে দিলেও, সময়ের সাথে তারা বুঝতে পারে—এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং অতিপ্রাকৃত শক্তির উপসকেন এই এপিসোডটি বিশেষ?Bhoot.com–এর এই এপিসোডটি অন্যগুলোর থেকে আলাদা কয়েকটি কারণে:গভীর ভয়াবহতা: গল্পের পরিবেশ এতটাই ডার্ক যে শুনতে শুনতে গা শিউরে ওঠেরিয়াল ফিলিং: গল্পটি এমনভাবে বলা হয়েছে যেন বাস্তব ঘটনার মতো মনে হয়ধীরে ধীরে ভয় তৈরি: হঠাৎ জাম্প স্কেয়ার নয়, বরং ধীরে ধীরে টেনস্টোরিটেলিং স্টাইলএই এপিসোডে বর্ণনাকারীর ভয়েস মডুলেশন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড ব্যবহার সত্যিই প্রশংসনীয়।শ্রোতা যেন নিজেই গল্পের ভেতরে ঢুকে যায়—এমন অনুভূতি তৈরি হয Download link............................................................................................................................................................................ ⬇ Download
👻 Bhoot.Com – রহস্য, ভয় আর অজানা জগতের এক অসাধারণ যাত্রাবর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ভৌতিক ওয়েব সিরিজগুলোর মধ্যে **Bhoot.com** একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। যারা রহস্য, থ্রিলার এবং ভূতের গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একেবারে পারফেক্ট একটি বিনোদনের মাধ্যম।🔍 Bhoot.Com কী?**Bhoot.Com** হলো একটি বাংলা হরর-ভিত্তিক ওয়েব সিরিজ বা গল্পের সংগ্রহ, যেখানে প্রতিটি পর্বে নতুন নতুন ভৌতিক ঘটনা, অদ্ভুত রহস্য এবং অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এই সিরিজটি মূলত এমন কিছু ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্কিত হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে অজানা ও ভয়ঙ্কর দিক।🎬 গল্পের বৈশিষ্ট্যBhoot.Com-এর প্রতিটি এপিসোডে আপনি পাবেন—* 👁️🗨️ রহস্যময় ঘটনা* 🕯️ অতিপ্রাকৃত শক্তির উপস্থিতি* 🧠 মনস্তাত্ত্বিক টানটান উত্তেজনা* 💀 হঠাৎ চমকে দেওয়ার মতো দৃশ্যএই সিরিজের গল্পগুলো এমনভাবে সাজানো হয়, যা দর্শককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে।😱 কেন Bhoot.Com এত জনপ্রিয়?Bhoot.Com জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—* বাস্তবতার সাথে মিল রেখে গল্প তৈরি* সহজ ভাষায় উপস্থাপন* কম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ গল্প* ভয় এবং থ্রিলের নিখুঁত মিশ্রণবিশেষ করে রাতের নিরিবিলি পরিবেশে এই সিরিজ দেখলে এর আসল মজা পাওয়া যায়।🎯 উপসংহারসব মিলিয়ে, **Bhoot.com** শুধু একটি ভৌতিক সিরিজ নয়, বরং এটি একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। যারা অজানা জগতের গল্প শুনতে বা দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি সিরিজ। Download Now
“Bhoot.com” হলো একটি জনপ্রিয় বাংলা হরর/ভৌতিক অডিও পডকাস্ট সিরিজ, যেখানে বিভিন্ন ভৌতিক ঘটনা, ভূতের অভিজ্ঞতা, কালো জাদু বা অদ্ভুত ঘটনার গল্পগুলোকে অডিও আকারে উপস্থাপন করা হয়। সিরিজটি মূলত RJ Russell এর ভয়ানক গল্প‑সংগ্রহ ও শ্রোতা পাঠানো অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তৈরি।Episode 311 এর বিস্তারিত (সারসংক্ষেপ)বিষয় বা গল্পের সংক্ষিপ্ত তথ্য:স্পেসিফিকলি এপিসোড 311‑এর গল্প শিরোনাম বা কাহিনীর বিষয়টি ওয়েবসাইটে আলাদা করে লেখা নেই, তাই আমরা শুধু জানি এটি সেই সিরিজের ধারাবাহিক এপিসোড যেখানে একটি হরর/ভৌতিক গল্প শোনানো হয় RJ Russell এর মাধ্যমে। সাধারণত এই সিরিজে মানুষের অভিজ্ঞতা, অদ্ভুত ঘটনা বা ভূতের গল্প থাকে।Download Link
বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খানের ভক্তদের জন্য বড় সুখবর। বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘মাতৃভূমি’ মুক্তির অপেক্ষায় থাকার মাঝেই নিজের পরবর্তী প্রজেক্ট নিয়ে মাঠে নামছেন এই মহাতারকা। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণী প্রযোজক দিল রাজু এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক বংশী পাইডিপল্লীর বিগ বাজেট অ্যাকশন সিনেমার শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ এপ্রিল। মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও এসআরপিএফ গ্রাউন্ডে বিশাল আয়োজনে এই সিনেমার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।সূত্রমতে, এই সিনেমার জন্য কোনো সাধারণ সেট নয়, বরং একটি আস্ত ‘মিনি সিটি’ বা ছোট শহর তৈরি করা হচ্ছে। সেটটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপের আবহ পাওয়া যায়। ছবির গল্পের প্রয়োজনে সেখানে হাইভোল্টেজ ও বড় মাপের অ্যাকশন সিক্যুয়েন্সের চিত্রায়ন করা হবে। সিনেমার সঙ্গে যুক্ত একজন ইনসাইডার জানিয়েছেন, সেট নির্মাণ থেকে শুরু করে অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি এবং কাস্টিং—সবই প্রায় চূড়ান্ত। একটি উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট হিসেবে পরিচালক বংশী পাইডিপল্লী সালমান খানকে সম্পূর্ণ নতুন এক লুকে পর্দায় হাজির করতে যাচ্ছেন।নাম ঠিক না হওয়া এই সিনেমাটিতে বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার নামী তারকাদের এক বিশাল সমাহার থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সালমানের অত্যন্ত প্রিয় একটি অ্যাকশন থ্রিলার স্ক্রিপ্ট এবং এর ভেতরের আবেগঘন গল্পই তাকে এই প্রজেক্টে যুক্ত হতে উৎসাহিত করেছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালে সিনেমাটি বড় পর্দায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সালমানের চিরচেনা বাণিজ্যিক ঘরানার সঙ্গে দক্ষিণী মেকিংয়ের মেলবন্ধনে তৈরি এই ছবিটি বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্টখ্যাত অভিনেতা আমির খান ৬১তম জন্মদিন পালন করেছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) কোনো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান ছাড়াই ঘরোয়া পরিবেশে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে নিজের বিশেষ এই দিনটি উদযাপন করেন তিনি। যদিও গত বছর ঘটা করে নিজের জন্মদিন পালন করেছিলেন আমির খান। সেই সঙ্গে সুখবর দিয়েছিলেন তার ভক্ত-অনুরাগীসহ সামাজিক মাধ্যম নেটিজেনদের। প্রেমিকা গৌরীকে সবার সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছিলেন জন্মদিনে। তবে এবারের জন্মদিনটি ছিল ব্যতিক্রম। মিস্টার পারফেকশনিস্ট অভিনেতা জন্মদিনের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন তার চর্চিত প্রেমিকা গৌরী স্প্রাট। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দুই সাবেক স্ত্রী রীনা দত্ত ও কিরণ রাও এবং তাদের সন্তানরা।আমিরের জন্মদিনের আয়োজনে শুরু থেকেই তার পাশে ছিলেন বান্ধবী গৌরী স্প্রাট। এবারের উদযাপনেও তাদের রসায়ন নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা গেছে, আমির খান কেক কাটার পর বান্ধবী গৌরীর মুখে কেকের টুকরো তুলে দিচ্ছেন। এ সময় তার দুই সাবেক স্ত্রী কিরণ রাও এবং রীনা দত্তকেও বেশ খোশমেজাজে দেখা গেছে। এমনকি অনুষ্ঠান শেষে কিরণ রাওকে আমির ও গৌরীর সঙ্গে একই গাড়িতে চড়ে বিদায় নিতে দেখা যায়।এদিকে বাবা আমির খানের জন্মদিনে উপস্থিত ছিলেন তিন সন্তান— জুনায়েদ খান, আজাদ খান ও ইরা খান। মেয়ে ইরাকে মজার ছলে বাবার মুখে কেক মাখিয়ে দিতে দেখা যায়। সেই অনুষ্ঠানে বলি অভিনেতা ভিকি কৌশল, রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজা এবং প্রযোজক রিতেশ সিদ্ধাওয়ানিও আমিরকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হয়েছিলেন।উল্লেখ্য, মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান এখন তার বড় ছেলে জুনায়েদ খানের প্রথম সিনেমা ‘একদিন’ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আগামী ১ মে মুক্তি পেতে যাওয়া এ সিনেমায় জুনায়েদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাঁই পল্লবী। এর পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবে ‘লাহোর ১৯৪৭’ সিনেমার কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন অভিনেতা। সানি দেওল অভিনীত এ সিনেমাটি আগামী ১৩ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তিনি অভিনয় দক্ষতা দিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে তার পারফরম্যান্স নিয়ে কম কটাক্ষ সইতে হয়নি।১৫ মার্চ ছিল এই অভিনেত্রীর ৩৩তম জন্মদিন। ৩৩ বছর বয়সে এসে এই নায়িকার সম্পত্তির পরিমাণ আকাশছোঁয়া, যা অনেক সিনিয়র অভিনেত্রীকেও টেক্কা দিচ্ছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আলিয়া ভাটের বর্তমান মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫৫০ কোটি টাকারও বেশি। আয়ের দিক থেকে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, কারিনা কাপুর ও জুহি চাওলার মতো প্রথম সারির তারকাদেরও।সফল এই অভিনেত্রী প্রতিটি সিনেমার জন্য বর্তমানে ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। পাশাপাশি ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বা বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য তার পারিশ্রমিক প্রায় ২ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক একাধিক ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করছেন তিনি।মুম্বাইয়ের পালি হিলসে রণবীর কাপুরের সঙ্গে যৌথভাবে আলিয়ার রয়েছে ৩৫ কোটি টাকার বাড়ি 'বাস্তু'। এছাড়া পুণেতে ১৩ কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও লন্ডনেও তার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। দম্পতির সংগ্রহে আছে ল্যান্ড রোভার, অডি আর৮ এবং মার্সিডিজ বেঞ্জের মতো নামী ব্র্যান্ডের দামি সব গাড়ি।
बस.. तुम से मिलने की देर थी,बस.. तुम से मिलने की देर थी।सितारे सितारे,मिले हैं सितारे।तभी तो हुए हैं,नज़ारे तुम्हारे।सितारे सितारे,मिले हैं सितारे।तभी तो हुए हैं,नज़ारे तुम्हारे।बस.. तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी।बस.. तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी।जिस पे रखे तुमने क़दम,अब से मेरा भी रास्ता है।जैसे मेरा तुम से कोई,पिछले जनम का वास्ता है।जिस पे रखे तुमने क़दम,अब से मेरा भी रास्ता है।जैसे मेरा तुम से कोई,पिछले जनम का वास्ता है।अधूरे अधूरे,थे वो दिन हमारे।तुम्हारे बिना जो,गुज़ारे थे सारे।सितारे सितारे,मिले हैं सितारे।तभी तो हुए हैं,नज़ारे तुम्हारे।बस.. तुम से मिलने की देर थी,बस.. तुम से मिलने की देर थी।बस.. तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी,तुम से मिलने की देर थी। English Version.......................................................................................................................................................................Bas.. Tum Se Milne Ki Der ThiBas.. Tum Se Milne Ki Der ThiSitaare SitaareMile Hain SitaareTabhi Toh Huye HainNazaare TumhareSitaare SitaareMile Hain SitaareTabhi Toh Huye HainNazaare TumhareBas.. Tum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der Thi..Bas.. Tum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der Thi..Jis Pe Rakhe Tum Ne QadamAb Se Mera Bhi Raasta HaiJaise Mera Tum Se KoiPichhle Janam Ka Vaasta HaiJis Pe Rakhe Tum Ne QadamAb Se Mera Bhi Raasta HaiJaise Mera Tum Se KoiPichhle Janam Ka Vaasta HaiAdhoore AdhooreThhe Vo Din HumareTumhare Bina JoGuzaare Thhe Saare..Sitaare SitaareMile Hain SitaareTabhi Toh Huye HainNazaare TumhareBas Tum Se Milne Ki Der ThiBas Tum Se Milne Ki Der ThiBas Tum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der ThiTum Se Milne Ki Der Thi..
Song : Amra ShobaiWeb Series : Montu Pilot season 3Singer : Ishan Mitra (Male version)Composition : Amit ChatterjeeLyricist : Debaloy BhattacharyaProgramming : Shubhro BhattacharyaLabel : SVF Music.................................................................................................................................................................আমরা সবাই সবাই শুধু হেরে যাইশুধু কিছু রঙ ছড়াই,স্মৃতির শহর শহর মাটি আর খড়আহত নগর তোকে চায়।হারায় হারায় সব এমনি হারায়স্বপ্নে দাঁড়ায় চেনা মুখ,এ তুমি আজ আজ বৃষ্টির সাজসেজেছ হারাবার মতই ..ভেসে যায়, ভেসে যায় সীমানা ছাড়ায়যারা ভালবেসেছিল বন্দর,যদি সে আবার আবার, শুধু একবারফিরে তাকাবার মতই।প্রান্তরে প্রান্তরে কেউ কোনও অন্তরেকেটেছে নিজের হাতে শেষ পরিখা,আমরা সবাই সবাই গল্প সাজাইঅল্প বাঁচার প্রয়োজন,এ তুমি কার কার চেয়েছ আবারদু’হাতে তোমার আয়োজন।হারায় হারায় সব এমনি হারায়স্বপ্নে দাঁড়ায় চেনা মুখ,এ তুমি আজ আজ বৃষ্টির সাজসেজেছ হারাবার মতই ..আমরা সবাই সবাই শুধু হেরে যাইশুধু কিছু রঙ ছড়াই,স্মৃতির শহর শহর মাটি আর খড়আহত নগর তোকে চায়।
Song : Raat Kototuku DewalerWeb Series : Montu Pilot season 3Singer : Ishan MitraComposition : Amit ChatterjeeLyricist : Debaloy BhattacharyaProgramming : Atanu MitraLabel : SVF Music.......................................................................................................................................................................রাত কতটুকু দেওয়ালেরতার আশা ছিল খেয়ালে,কার তাতে কী এসে যায়, হারালে।ক্ষত যা ছিল গোলাপেরবাকি যা কিছু প্রলাপের,কার তাতে কী ক্ষতি হয়, ফুরোলে।এই চলে যাওয়া আলেয়ার মত মৃত নদীখাতেবিষাদ বাগান জুড়ে আগুন ছড়ায় নিজে হাতে,যত পায়রা মরেছে রোজ পুড়ে যাওয়া পালকের শোকেতাদের মৃত ছায়া আকাশে প্রচার করে তোকে।রাত কতটুকু দেওয়ালেরতার আশা ছিল খেয়ালে,কার তাতে কী এসে যায়, হারালে।ক্ষত যা ছিল গোলাপেরবাকি যা কিছু প্রলাপের,কার তাতে কী ক্ষতি হয়, ফুরোলে।আমরা ফিরব এই মৃত শহরে ভুল বিশ্বাসেখুঁজে গেছি কাকে বলে নিশ্বাস আমাদেরই লাশে,আমরা শিখেছি এক আলপথে হাত ধরে থাকাআমরা থেকেছি এক গলিপথ ভালবেসে একা।রাত কতটুকু দেওয়ালেরতার আশা ছিল খেয়ালে,কার তাতে কী এসে যায়, হারালে।
১.কি করে একটি কাচা ডিমকে না ভেংগে কংক্রিটের ফ্লোরে ফেলতে পারবেন?উত্তরঃ আপনি যে ভাবে ইচ্ছে ফেলতে পারেনlll, কেননা ডিম যেভাবেই পরুক কংক্রিটের ফ্লোর কখনো ভাংবে না।২.শুইতে গেলে দিতে হয়lll, না দিলে ক্ষতি হয়,কালিদাস পন্ডিত কয়lll, যাহা বুঝেছ, তাহা নয়।উত্তরঃ দরজার খিল৩.শহর থেকে এল সাহেবlll কোর্ট প্যান্ট পরে,কোর্ট প্যান্ট খোলার পরেlll চোখ জ্বালা করে।উত্তরঃ পেঁয়াজ৪.১০ জন মানুষ ১০ ঘন্টায় ইট দিয়ে একটি দেয়াল তৈরি করল, ঐ দেয়ালটি চার জন মানুষের তৈরি করতে কত সময় লাগবে?উত্তরঃ কোন সময়ই লাগবে নাlllকারণ দেয়ালটি অলরেডি তৈরি আছে।৫.বাংলা ধাঁধা উত্তর সহএকটা ঘড়ির উপর দিয়ে একটাঘোড়া চলে গেল, lllঘড়িটার কটা বাজবে।উত্তরঃ বারোটা।৬.পোলা কালে বস্ত্রধারীlll যৌবনে উলঙ্গ,বৃদ্বকালে জটাধারী,lll মাঝখানে সুড়ঙ্গ।উত্তরঃ বাঁশ৭.বাঘের মত লাফ দেয়,lll কুকুর হয়ে বসে,পানির মধ্যে ছেড়ে দিলেlll, ছোলা হয়ে ভাসে।উত্তরঃ ব্যাঙ৮.তোর দেশেতে সূর্য ওঠে সকাল বেলা ভোর বেলাতে বলতো দেহি কোন দেশেতে সূর্য ওঠে মাঝ রাতেতে।উত্তরঃ নরওয়ে।৯.কালিদাস পন্ডিতের ফাঁকি, আড়াইশ থেকে পাঁচ পঞ্চাশ গেলে আর কত থাকে বাকী।উত্তরঃ কিছুই না, শূন্য।
1️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা কাটলে সবাই খুশি হয়?উত্তর: কেক 🎂2️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা যতই ধোও ততই কালো হয়?উত্তর: ব্ল্যাকবোর্ড 🧑🏫3️⃣ ধাঁধা:একটা গাছ আছে, কিন্তু ফল নেই, ফুল নেই, তবু সবাই বসে থাকে। সেটা কী?উত্তর: চেয়ার (কারণ চেয়ারেরও “পা” থাকে) 🪑4️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা নিজের জায়গা থেকে না নড়েও সারা পৃথিবী ঘুরে আসে?উত্তর: ডাকটিকিট ✉️5️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা ভাঙলে শব্দ হয় না?উত্তর: প্রতিজ্ঞা / প্রতিশ্রুতি 🤫6️⃣ ধাঁধা:কোন জিনিসটা সকালে ৪ পা, দুপুরে ২ পা, আর রাতে ৩ পা?উত্তর: মানুষ (শিশু অবস্থায় হামাগুড়ি, বড় হলে হাঁটে, বুড়ো হলে লাঠি নেয়) 👴
১. দুই হাত আছে তার/ আরো আছে মুখ/ পা ছাড়াও জিনিসটার মনে বড় সুখ। বলো তো জিনিসটা কী?উত্তর : ঘড়ি।২. জিনিসটার এমন কী গুণ/ টাকা করে দেয় দ্বিগুণউত্তর : আয়নার সামনে টাকা ধরুন।৩. মানুষের পাঁচ আঙুল থেকেও নেই প্রাণ/ বল তো জিনিসটার কী নাম?উত্তর : দস্তানা।৪. ব্যবহারের আগে ভাঙতে হবে/ জিনিসটার উত্তর কে ক’বে?উত্তর : ডিম।৫. ঘাড় আছে, মাথা নেই/ ভেতরেরটা পেয়ে গেলেই ফেলে দিই? বলো তো কী?উত্তর : বোতল।৬. তোমাকে শুকিয়ে নিজে সে ভিজে/ উত্তরটা বলো দেখি/ চেষ্টা করে নিজেউত্তর : টাওয়েল বা গামছা।৭. বেড়ে যদি যায় একবার/ কোনোভাবেই কমে না আর?উত্তর : মানুষের বয়স।৮. জিনিসটা একেবারেই তোমার/ অথচ ব্যবহার করে অন্যে, বারবার?উত্তর : তোমার নাম।৯. সবাই তোমাকে ছেড়ে গেলেও সে যাবে না ছেড়ে/ চেষ্টা করে বলো দেখি, উত্তর কে পারে?উত্তর : তোমার ছায়া।১০. হাজার বছরের পুরোনো হয়েও বয়স তার এক মাস/ আমাদের মাথার ওপরই জিনিসটার বাস?উত্তর : চাঁদ।
স্বামী: জজ সাহেব, আমি আমার স্ত্রীর কাছে ডিভোর্স চাই, সে থালা-বাসন ছুড়ে মারে।জজ: সবে বাসন ছুড়ে মারতে শুরু করেছেন নাকি আগেও মারতেন।স্বামী: আগে থেকেই।বিচারক: তাহলে এত বছর পর ডিভোর্স কেন?স্বামী: কারণ এখন তার নিশানা একদম ঠিক জায়গায় লাগছে।
জলিল: ডাক্তার সাহেব, আমার সব কিছু ভুলে যাওয়ার রোগ হয়েছে।ডাক্তার: কবে থেকে এই সমস্যা হচ্ছে?জলিল: কোন সমস্যা?
প্রেমিকা: তুমি কি আমাকে ভালোবাস?প্রেমিক: একশ বার!প্রেমিকা: কিন্তু আমাকে তো পরোয়াই কর না তুমি!প্রেমিক: যে সত্যিকারের প্রেমে পড়ে সে কারো পরোয়া করে না।
মানুষের মুখে সাধারণত থাকে ৩২টি দাঁত। তাঁর মুখে রয়েছে ৪২টি দাঁত। একজন স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে তাঁর দাঁত ১০টি বেশি। এই অতিরিক্ত দাঁত নিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছেন মালয়েশিয়ার এক নাগরিক।৩৩ বছর বয়সী প্রাথাব মুনিয়ান্ডি রেকর্ড সংরক্ষণকারী এই সংস্থাকে জানান, কয়েক বছর আগে তিনি প্রথম বুঝতে পারেন, তাঁর দাঁতে কিছুটা অস্বাভাবিকতা রয়েছে।প্রাথাব বলেন, ‘২০২১ সালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চা পানের সময় আমি প্রথম বিষয়টি খেয়াল করি। তখন আমি তাঁদের জানাই, আমার মুখে মনে হয় অতিরিক্ত দাঁত গজাচ্ছে।’প্রাথাব বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে গুনে দেখি, তখন আমার ৩৮টি দাঁত ছিল। পরে দাঁতের এক্স-রে করে দেখা যায়, আরও ৪টি দাঁত ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে।’মালয়েশিয়ার এই নাগরিক বলেন, ‘২০২৩ সালের শুরুর দিকে আমি বুঝতে পারি, আমার মোট ৪২টি দাঁত। সৌভাগ্যবশত কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা ছাড়াই বেশির ভাগ দাঁত সোজাভাবে উঠেছে।’প্রাথাব জানান, অতিরিক্ত এই দাঁতগুলোর কারণে তাঁর কোনো সমস্যা হয় না। এমনকি তিনি নিজে থেকে না বললে বেশির ভাগ মানুষ টেরই পান না।প্রাথাব বলেন, ‘মানুষ সাধারণত খুব অবাক হয়। শুরুতে যে কারও পক্ষে বিষয়টি বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন কেউ জানতে পারে, আমার সাধারণ মানুষের তুলনায় ১০টি দাঁত বেশি আছে। সাধারণত একজন মানুষের ৩২টি দাঁত থাকে।’প্রাথাব বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদনের জন্য যে চিকিৎসকেরা তাঁর দাঁত পরীক্ষা করেছিলেন, তাঁরা আরও চমকপ্রদ খবর দিয়েছেন। তাঁর মাড়িতে নাকি আরও দুটি দাঁত ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে! একজন পুরুষের মুখে সবচেয়ে বেশি দাঁত থাকার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্ব রেকর্ডের খেতাব পেয়েছেন প্রাথাব।নারীদের মধ্যে এই রেকর্ডের অধিকারী ভারতের কল্পনা বালান। তাঁর দাঁতের সংখ্যা ৩৮।প্রাথাব বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি দাঁত থাকায় আমি একটি বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী, এটি ভাবতেই আমার কাছে দারুণ ও বিশেষ কিছু মনে হচ্ছে।’
একের পর এক পুরুষদের কাঁধে তুলে ছুড়ে ফেলছেন এক নারী। এভাবে একে একে তিনি ১০ জন পুরুষকে কাঁধের ওপর তুলে ছুড়ে ফেলেন, এ জন্য সময় নিয়েছেন মাত্র ৩৭ দশমিক ৪৪ সেকেন্ড।ওই নারীর নাম জিনা রুপেনটাল। তিনি জার্মানির একজন স্ট্রংওম্যান, অভিজাত অ্যাথলেট ও খেলাধুলাবিষয়ক বিজ্ঞানী। প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী নারীদের তালিকায় বর্তমানে জিনার অবস্থান চতুর্থ। তিনি একাধিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মালিক।আরও একটি রেকর্ড গড়তে জিনার পুরুষদের কাঁধের ওপর তুলে ছুড়ে মারার এই কাণ্ড এবং সে স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে জিনা এ কাজ করেন।সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ তাদের আনুষ্ঠানিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জিনার নতুন রেকর্ড গড়ার ভিডিও পোস্ট করেছে।একজন অ্যাথলেটের অসাধারণ শক্তি, গতি ও কৌশল প্রদর্শনের ওই ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়।এই চ্যালেঞ্জে জিনা অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পুরুষকে আলাদাভাবে তুলে তাঁর কাঁধের ওপর দিয়ে দ্রুত ছুড়ে দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি কাজটি সম্পন্ন করেছেন।গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তা বলেছেন, এ কাজ করতে কেবল শারীরিক শক্তিই নয়, বরং নিখুঁত সমন্বয় ও সহনশীলতার প্রয়োজন পড়ে। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে নিরাপদে তুলে নিয়ন্ত্রিত গতিতে ছুড়ে দিতে হয়েছে, যেন তা নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে পারে।এ কৃতিত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। কেউ কেউ মজার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।কেউ কেউ অ্যাথলেটের শক্তি ও দৃঢ় সংকল্পকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অনেকেই পারফরম্যান্সটিকে অনুপ্রেরণাদায়ক ও বিনোদনমূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।একজন মন্তব্য করেছেন, ‘পুরুষেরা তাঁদের কাজকে কতটা গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন, সেটা দেখে আমি মুগ্ধ।’আরেকজন লিখেছেন, ‘তাঁদের হাসি এবং তারপর আরও একবার ছুড়ে দেওয়ার জন্য তাঁদের দৌড়ে ফিরে আসা, এত মিষ্টি।’তৃতীয়জন লেখেন, ‘ছুড়ে দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানোর ধারণা আমার কাছে খুবই মজার লেগেছে।’
পৃথিবীর স্থলভাগের থেকেও অনেক অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ জলভাগ। জলের ওপরে যেমন হাজার হাজার সুউচ্চ পর্বত রয়েছে, তেমনি জলের নিচে রয়েছে গভীর সমুদ্র খাত। এরমধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর হচ্ছে এই মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ঠিক পূর্বে অবস্থিত।মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের নামকরণ করা হয়েছিল স্পেনের রাজা চতুর্থ ফিলিপের রানি মারিয়ানা এর নামে। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে অবস্থিত এই দ্বীপগুলো আসলে ডুবে থাকা ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির চূড়া। দ্বীপপুঞ্জের পূর্বদিকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে বিস্তৃত রয়েছে বিশ্বের গভীরতম সামুদ্রিক খাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (Mariana Trench)। প্রায় ২৫৫০ কিলোমিটার লম্বা এবং ৬৯ কিলোমিটার চওড়া এই ভয়ংকর গভীর খাতের নামও দ্বীপপুঞ্জের নাম অনুসারেই দেওয়া হয়। এর সবচেয়ে গভীর স্থানের নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ, যেখানে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী গভীরতা প্রায় ১০,৯৮৪ মিটার। তুলনায় বলা হয়, যদি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest) কে এখানে বসানো হয়, তাহলেও উপরে আরও প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা ফাঁকা থেকে যাবে। অর্থাৎ পৃথিবীর উচ্চতম শিখরও বিশ্বের গভীরতম খাতের গভীরতাকে পূরণ করতে পারে না।মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে তাপমাত্রা থাকে মাত্র ১ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, আর জলস্তম্ভের চাপ স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের প্রায় হাজার গুণ, প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে যার পরিমাণ প্রায় ৮ টন। গভীরতার সঙ্গে সঙ্গে এই চাপ আরও বাড়তে থাকে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে দুইটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে যখন একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যায়, তখনই সৃষ্টি হয় এমন গভীর সামুদ্রিক খাত।মারিয়া ট্রেঞ্চ এর গভীরতম অংশটির নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ। যেটি গুয়াম দ্বীপের ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। চ্যালেঞ্জার ডিপ নামটি রাখা হয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ HMS Challenger এর নামানুসারে কেননা এই জাহাজের নাবিকরা এই অংশটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেছিলেন।পৃথিবীর শীতলতম বিপজ্জনক স্থান এটি। সমুদ্রের গভীরতা যত বাড়তে থাকে পানির চাপ তত বাড়তে থাকে। ৩৬ হাজার ফুট গভীরে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে এর চাপের পরিমাণ প্রায় ৮ টন। পানির এই অতিমানবিক চাপ ইস্পাতকেও বেকিয়ে দিতে পারে অনায়াসে।১৮৭৫ সালে ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ HMS Challenger প্রথম মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা পরিমাপ করে। এরপর বহুবার এই অঞ্চল নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে গভীরতার পরিমাণও কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। যদিও অসংখ্য অভিযাত্রী পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর বিন্দুতে পৌঁছাতে পেরেছেন খুবই অল্প কয়েকজন।১৯৬০ সালে সুইস ও ইতালীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ব্যাথিস্কেপ Trieste এ চড়ে দুই অভিযাত্রী Jacques Piccard ও Don Walsh সফলভাবে নেমে যান মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরে। পাঁচ ঘণ্টার অবতরণের পর তারা প্রায় ১০,৯১৬ মিটার নিচে পৌঁছান এবং মাত্র কুড়ি মিনিট সেখানে অবস্থান করতে পারেন। চারদিকে ঘন সিল্টের মেঘের মতো কাদামাটি ও বালির স্তর থাকায় তারা কোনও ছবি তুলতে পারেননি। এই সিল্ট ক্লাউড আসলে আকাশের মেঘ নয়; এটি সমুদ্রতলে জমে থাকা বালি, কাদা ও ক্ষুদ্র উপকরণের ঘন স্তর, যা পানির প্রবাহে নড়াচড়া করে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি করে।গভীর অন্ধকার, প্রচণ্ড চাপ আর সিল্টের মেঘের কারণে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব বোঝা খুবই কঠিন। পিকার্ড দাবি করেছিলেন তিনি নাকি একটি ফ্ল্যাটফিশ দেখেছিলেন, তবে অধিকাংশ বিজ্ঞানী তা মানতে পারেননি। ফলে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশের জীবজগত এখনো মানুষের কাছে রহস্যময়ই রয়ে গেছে।
‘নিউটনের ভুল সূত্র’ গল্পের অমর বাবু চরিত্রটির কথা হয়তো অনেকেরই মনে আছে। হুমায়ূন আহমেদের এক অনবদ্য সৃষ্টি, যিনি সায়েন্সের প্রতি তীব্র মমত্ববোধ থেকে পরিবারের সান্নিধ্যও ছেড়ে দিয়েছিলেন। একসময় দেখা যেত পরিবারের ছেলে–মেয়েদের কেউ একজন পড়াশোনায় মনোযোগী হলেই অভিভাবকেরা ওই সন্তানকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ানোর জন্য খুব উৎসাহী হতেন। কিন্তু বর্তমান অবস্থা ভিন্ন। শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান না হওয়া, কারিগরি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা, ব্যবহারিক–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় হাতে–কলমে শিক্ষার দৈন্যদশা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের সুযোগ সেভাবে সৃষ্টি না হওয়া, ভালো ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা প্রভৃতি কারণে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।ব্যানবেইসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর হার ৪২ দশমিক ৮১ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিকে ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৫ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর হার ২৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিকে ১৭ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ পরিসংখ্যানে এটি স্পষ্ট যে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আরও জানা যায়, বিজ্ঞানাগার নেই প্রায় ২৯ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাধ্যমিকে প্রায় ২২ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিকে ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছে।ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় স্নাতক পর্যায়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ১১ শতাংশের মতো। এখানে উল্লেখ্য যে, মাধ্যমিকের তুলনায় উচ্চমাধ্যমিকে সিলেবাস ব্যাপক। অনেক শিক্ষার্থীই এ বিপুল সিলেবাসের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে ঝরে পড়ে.প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: ৪০০ নম্বরে বিভাজন ও প্রশ্নপত্রের কাঠামো যেভাবেএশিয়া মহাদেশের অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী দেশ সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশে বিজ্ঞান শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য আমাদের ইংরেজি শিক্ষাকেও সহজলভ্য করা উচিত। প্রতিটি স্কুল–কলেজে সপ্তাহে অন্তত এক দিন গ্রুপ করে শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ প্র্যাকটিস ক্লাস নেওয়া যেতে পারে। একই কথা আইসিটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অনেক কলেজে আইসিটি ল্যাব থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় না। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সব বিষয়ের শিক্ষকদের জন্যও আইসিটি জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করানো এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অভিভাবকেরাও এ দায় এড়াতে পারেন না। অনেক অভিভাবক সন্তানদের প্রতি সঠিকভাবে নজর না রাখার ফলে তারা মুঠোফোনের বিভিন্ন ক্ষতিকর অ্যাপের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হচ্ছে, মাদক গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তাভাবনা ছেড়ে দিচ্ছে। শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের করার জন্য দক্ষ শিক্ষকের অভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশে শিক্ষকদের উন্নত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের পথ সুগম নয়।ইউজিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ৬ হাজার ৪০০ শিক্ষক পিএইচডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও গবেষণার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি এখন একটি অপরিহার্য যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক। যাহোক, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী করার জন্য ভালো ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা একটি বড় বিষয়। স্কুল–কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীদের কর্মচঞ্চলতা, শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রাত্যহিক সমাবেশ অর্থাৎ পিটি বাধ্যতামূলক করা উচিত। স্কুলগুলোয় মোটামুটিভাবে পিটি হলেও কলেজগুলোয় হয় না বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে কলেজগুলোয়ও কর্মঘণ্টার মধ্যে পিটি সংযুক্ত করা আবশ্যক।শিক্ষার মানোন্নয়নে একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকে কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া উচিত। প্রাথমিক স্তরের শিশুদের প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের পাঠ্যসূচি পর্যাপ্ত থাকলেও শিশুদের হাতে–কলমে শেখানো হলে তারা উৎসাহী হতো, ক্লাস অনুযায়ী ছোট ছোট বিজ্ঞান প্রজেক্ট দেওয়া হলে তাদের মেধা আরও শাণিত হতো। শিশুরা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ খুশিমনে গ্রহণ করতে চায়। মাধ্যমিক স্তরের অনেক স্কুলেই নামমাত্র ল্যাবরেটরি আছে! যন্ত্রাংশ ব্যবহার না করতে করতে মরিচা ধরেছে, শিক্ষার্থীরা লিটমাস টেস্ট কী, তাই বুঝে না! কলেজ পর্যায়েও একই অবস্থা।শহরাঞ্চলের নামকরা কলেজের শিক্ষার্থীরা হয়তো ল্যাবের সুবিধা পেয়ে থাকে, কিন্তু মফস্সল অঞ্চলগুলোয় বা উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোয় ব্যবহারিক হাতে–কলমে করা হয় না বললেই চলে। অনেক কলেজে সল্ট অ্যানালাইসিস কখনো হয়েছে কি না সন্দেহ! পরীক্ষার সময়গুলোয় কোনো প্রকার ব্যবহারিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা ছাড়াই প্রায় পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। আসলে মুখস্থবিদ্যানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেই প্রথমে নজর দেওয়া উচিত। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের গবেষণায় যথাযথ প্রণোদনা, শিক্ষাছুটি ঝামেলাহীন করা ও আর্থিক অনুদান নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া স্কুল পর্যায়ের শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে—ব্যবহারিক–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় হাতে–কলমে পরীক্ষা করার সুযোগ সৃষ্টি করা, গণিত ও আইসিটির মতো বিষয়গুলোর মানোন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, বিজ্ঞানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজেক্টের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন। এ ক্ষেত্রে পুরস্কার হিসেবে বিজ্ঞানবিষয়ক জাদুঘর, গবেষণাকেন্দ্রে ভ্রমণের ব্যবস্থাসহ দেশ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিগুলোয় বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন অনুসন্ধানী বই, শিক্ষণীয় গল্প, বিভিন্ন বিজ্ঞানী–সম্পর্কিত বই ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিবিষয়ক বই অন্তর্ভুক্ত করা। এতে আমাদের অনেক শিক্ষার্থীরই হয়তো রবার্ট লুইস স্টিভেনসনের ‘ড. জেকিল অ্যান্ড মি. হাইড’ পড়ে আবিষ্কারের দিকে ঝোঁক সৃষ্টি হতে পারে বা এইচ জি ওয়েলসের ‘টাইম মেশিন’ পড়ে জগৎ সম্পর্কে ধারণা পরিশীলিত হতে পারে। এ ছাড়াপরিশেষে বলা যায়, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ ঘটানোর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানার্জনের জন্য আত্মসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী হবে। নৈতিক শিক্ষার জন্য ধর্মীয় জ্ঞানমূলক বই অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠন করা নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির’ জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগের আবেদন আহ্বান করেছে সরকার। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার, সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং সারা দেশে আধুনিক শরিয়াহ-সম্মত ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যাংকটি একজন দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব খুঁজছে। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি এই এমডি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত এমডি/সিইও ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির রূপান্তর ও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেবেন।তিনি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন। পাশাপাশি করপোরেট, এসএমই, রিটেইল, ট্রেজারি, কৃষি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ডিজিটাল ব্যাংকিংসহ সব কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন। একই সঙ্গে শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড ও শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স জোরদার করা, নতুন ইসলামী ব্যাংকিং পণ্য চালু করা এবং কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়াও তার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে। পদের জন্য প্রার্থীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, ব্যাংকিং, ম্যানেজমেন্ট বা বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে ন্যূনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং কোনো ব্যাংকের সিইও অথবা সিইও’র ঠিক নিচের পদে অন্তত দুই বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত সনদ যেমন সিএফএ, এফসিএ, সিএমএ, সিপিএ, এসিসিএ বা ইসলামী ফাইন্যান্স-সংক্রান্ত সনদধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগ্রহীদের আগামী ২৫ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদন করতে হবে। প্রার্থীর বয়স বিজ্ঞপ্তির তারিখ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৪৫ এবং সর্বোচ্চ ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।নির্বাচিত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে, যা কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য। আগ্রহী প্রার্থীদের বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত, কভার লেটার, শিক্ষাগত ও পেশাগত সনদের সত্যায়িত কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং পাসপোর্ট সাইজের সাম্প্রতিক রঙিন ছবি সংযুক্ত করে আবেদন পাঠাতে হবে। আবেদন পাঠানোর ঠিকানা- সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, কক্ষ নং ৩২৬, ভবন নং ৭, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। একই সঙ্গে আবেদনপত্রের পিডিএফ কপি ই-মেইল (ds.cbb@fid.gov.bd) করতে হবে।
"আস-সালামু আলাইকুম" আশা করি সকলেই ভালো আছেন।আজ আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি একটি সুন্দর ও কার্যকরী টাইম, ডেট এবং নামাজের সময়ের সিস্টেম, যা আপনার ওয়েবসাইটকে করবে আরও আকর্ষণীয় ও ব্যবহারবান্ধব।লাইভ টাইম ও ডেট – সবসময় আপডেট...এই সিস্টেমের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে রিয়েল-টাইমে বর্তমান সময় ও তারিখ দেখা যাবে। ব্যবহারকারীরা সহজেই জানতে পারবে বর্তমান সময় এবং দিন, যা তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য খুবই সহায়ক।বিশেষ সুবিধা...বাংলা ফরম্যাটে তারিখ ও সময়স্বয়ংক্রিয় আপডেটসুন্দর ডিজাইননামাজের সময় – প্রতিদিনের ইবাদতে সহায়ক...একজন মুসলিম হিসেবে নামাজের সময় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফিচারের মাধ্যমে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় সহজেই দেখা যাবে।এতে থাকছে....ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার সময়সহজ ও পরিষ্কার প্রদর্শনআপনি মাউস টাইমের উপরে রাখলে নামাজের সময় দেখাবে আবার মাউস সরালে আবার নরমাল সময় চলে আসবে।আকর্ষণীয় ডিজাইন...শুধু তথ্য নয়, এই সিস্টেমটি দেখতে খুবই সুন্দর। ক্লিন UI, আধুনিক ফন্ট এবং স্মার্ট লেআউট আপনার ওয়েবসাইটকে আরও প্রফেশনাল করে তুলবে।কেন এটি ব্যবহার করবেন?✔ আপনার ওয়েবসাইটকে আরও ইনফরমেটিভ করে✔ ভিজিটরদের জন্য উপকারী ফিচার✔ ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ✔ সম্পূর্ণ ফ্রি এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য..চলেন এইটা কিবাবে আপনার সাইটে বসাবেন।যদি তোমার Php সাইট থাকে...ধাপ ১: CPanel-এ লগইন করুনআপনার হোস্টিং প্রোভাইডারের CPanel-এ লগইন করুন।Dashboard-এ যান।ধাপ ২: File Manager এ যানFile Manager অপশন ক্লিক করুন।আপনার ওয়েবসাইটের public_html ফোল্ডারে প্রবেশ করুন।যদি এটি একটি সাবডোমেইন বা সাবফোল্ডারে থাকে, সেখানেও যেতে হবে।ধাপ 3: Header.php ফাইলে যাও তার পর কোড বসানোর স্থান খুঁজো। পরে যেখানে তুমি সময় দেখাতে চাও সেখানে কোড বসাও এবং Save দাও।আর যদি তোমার ওয়ার্ডপ্রেস থাক...ধাপ ১: Appearance → Theme Editor → header.phpheader.php ফাইল ওপেন করো।এখন যেখানে তুমি সময় দেখাতে চাও সেখানে কোড Paste করে Save করে দাও।Demo......Download Link....কোড ১ Download Link